#হৃদমাঝারে_তুমি_ছিলে❤
পর্ব ৩১+৩২
#কায়ানাত_আফরিন❤
সাড়ে এগারোটার সময় নিজের খালামণির বাসায় গরম গরম ভাতের সাথে ইলিশ মাছের তরকারি খেতে মগ্ন আয়াত। বোঝা মুশকিল যে এটা কি সকালের খাবার খাচ্ছে নাকি দুপুরের? ডাইনিং টেবিলের এক পাশে চিন্তায় বিভোর হয়ে বসে আছেন শারমিন আর রাহেলা বেগম। নুহাশ গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করতে গিয়েছে শপিংয়ে যাবে বলে। এদিকে আয়াতের মুখে ক্লান্তিমাখা ছাপ। গতরাতে দেড়টার দিকে রেডিও সেন্টার থেকে বাড়ি এসে ভেবেছিলো সকাল পর্যন্ত শান্তির ঘুম দিবে কিন্ত সে ভাগ্য আর জোটেনি। হুট করেই কল এসেছে যে ওর শো এর জন্য একজন কোম্পানি স্পন্সার করবে। মিটিং সকাল ৯ টায় । এদিকে বাবার সাথে ব্যবসার কাজ শেখা আবার এই জবটি রীতিমতো ক্লান্ত করে তুলছে আয়াতকে। আজ নুহাশের বিয়ের শপিংয়ের জন্য সবাই একসাথে শপিং করতে যাবে বিধায় আয়াত বাংলা মটর থেকে সরাসরি খালামণিদের বাসায় এসে পড়লো।
আয়াত খেতে খেতে মিহি কন্ঠে বলে ওঠলো,
–রান্নাটা বেশ মজার হয়েছে খালামণি।
–সকালে তুই কিছু খাসনি…………তাই না !
প্রশ্ন করলেন শারমিন বেগম।বিনিময়ে আলতো হেসে আবার প্লেটে মনোযোগ দিলো আয়াত। শারমিন আর রাহেলা বেগম যা বোঝার বুঝে গিয়েছেন। কপালে বিরক্তি চেপে বসালেন রাহেলা বেগম। ছেলের এসব খামখেয়ালিপনা তিনি মেনে নিতে পারছেন না।তাই ক্ষুন্ন কন্ঠে বলে ওঠলেন,
–এত বড় হয়ে গিয়েছিস কবে নিজের খেয়াল রাখা শিখবি বলতো? আমি তোকে বারবার বলেছি এসব রেডিও স্টেশনের আর.জে এর কাজ ছেড়ে দে। তোর বাপের ব্যবসা আছে। তোরা ভাই-বোন মিলে সুন্দরমতো সামলাবি। কিন্ত ছেলে কি আমার কথা শুনে? আগে পড়াশুনা ছেড়ে বন্ধুদের নিয়ে দেশ ঘুরেছিস আর এখন আবার কাজের চাপে দম নিতে পারিস না।
বিনিময়ে আয়াত নীরব থাকলো। খালামণির উদ্দেশ্যে ব্যস্ত ভঙ্গিতে বললো,
–খালামণি , পানি দাও তো।
শারমিন বেগম সবিনয়ে তা করলেন। আয়াত আজ তৃপ্তি সহকারে খেয়েছে । হয়তো পেটে ক্ষুধা ছিলো বিধায় খাবারটি আরও সুস্বাদু লাগছে। এমনিতেও ইলিশের তরকারি আয়াতের বেজায় প্রিয়। বেসিন থেকে হাত ধুয়ে আয়াত বলে উঠলো,
–তাড়াতাড়ি চলো। নুহাশ ভাই বোধ হয় বাহিরে ওয়েট করছে।
এই কথাটি বলে সদর দরজার দিকে চলে যেতেই মুখোমুখি হলো মাইশার। মেয়েটা আজ কালো সালোয়ার কামিজ পড়েছে নরমাল কারুকাজের। হালকা কোকড়ানো চুলগুলো তুলি দিয়ে বাঁধা। লেয়ার কাট করার কারনে সামনে ছোট ছোট চুলগুলো সুন্দরভাবে কপালের ওপর পড়ে আছে। আয়াত কিছুক্ষণ সম্মোহনী দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে থাকলো। মেয়েটা ধীরে ধীরে আরও সুন্দর হয়ে যাচ্ছে। অন্যসময় হলে আয়াত নিজের খাপছাড়া কথা দিয়ে মাইশার তেরোটা বাজিয়ে দিতে কিন্ত এখন সেই সময়টা না। তাই স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে উঠলো,
–খালামণি , মাকে নিয়ে জলদি বাইরে আসো।
সম্মতি জানালো মাইশা। ছেলেটা কাজের চাপে একেবারেই নীরব হয়ে গিয়েছে তবুও সেই চোখজোড়ায় তাকালে এক অন্য ভালোলাগা কাজ করে ওর। কেমন যেন হিমশীতল এক অনুভূতি !
.
.
.
————————————————-
তপ্ত গরম চারিপাশে। সাথে তো রয়েছেই মানুষের জমজমাট ভীড়। বসুন্ধরা মার্কেটের উল্টোপাশে যেই ফার্নিচারের দোকানগুলো আছে , সেখানে গাড়ি থামালো নুহাশ।সাথে সাথেই বেরিয়ে পড়লো শারমিন, রাহেলা বেগম আর মাইশা। নুহাশের গাড়ির পেছনেই আয়াত নিজের বাইক থামালো। বেচারায় তপ্ত রোদে ঘামে একটু ভিজে গিয়েছে। মাইশা অসহনীয়চোখে চারিদিক তাকালো। আজ শনিবার আর এ কারনেই বোধহয় জামজটটা একটু বেশি। সামনে মেট্রোরেলের কাজ হওয়াতে রাস্তার পরিধি সাময়িক সময়ের জন্য কিছুটা ছোট হয়ে গিয়েছে। আয়াত অসহনীয় কন্ঠে মাইশাকে বলে উঠলো,
–মনে কি তোমার মায়া-মমতা নাই? তোমার সামনে এই হ্যান্ডসাম ছেলেটা গরমে অতীষ্ঠ হয়ে পড়েছে আর আমার সামনেই ঢকঢক করে পানি খাচ্ছো তুমি। তোমার তো গর্দান কেটে ফেলা উচিত।
অবাক হলো মাইশা। আসলে তেষ্টায কারনে পানি খাচ্ছিলো ও। তন্মধ্যে আয়াত এটা বলবে ও ভাবতে পারিনি। শারমিন বেগম চোখ গরম করে মাইশাকে বললো,
–আসলেই তো ! তুই এসির হাওয়া খেতে খেতে এসেও গরমের জন্য পানি খাচ্ছিস আর ভাব এই বেচারার কি অবস্থা ! ওকে পানিটা দিলে কি হতো? আবার এমন করলে সবার সামনেই তোর কান মলা দিবো কিন্তু !
এমতাবস্থা মাইশা এগিয়ে গেলো আয়াতের দিকে।চোখ জোড়া আম্মুর কড়া কথায় ক্রমশ ছোটহয়ে এসেছে। নিজের হ্যান্ডব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে বললো,
–এই নাও।
নির্বিকার ভাবে সেই পানি নিয়ে এক চুমুকেই শেষ করে ফেললো আয়াত। তারপর পকেট থেকে রুমাল বের করে সন্তর্পণে মুছে নিলো নিজের মুখটি। এদিকে সবাই রাস্তা পার হয়ে ওপারে শপিং সেন্টারে প্রবেশের জন্য উদ্যত হলো। নুহাশ গাড়িটা ইউ টার্ন মেরে মার্কেটের গ্যারেজে গাড়িটি পার্ক করার জন্য চলে গেলো। তবে আয়াত এখানকার এক পরিচিত দোকানের সামনেই নিজের বাইক রেখে এসেছে। পান্থপথের এই রাস্তাগুলো একটু বিপদজনক। এখানে প্রচন্ড গাড়ি চলাচল হয় বিধায় রাস্তাপার হওয়ার সময় একটু অসাবধান হলেই বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই রাস্তা পার হওয়ার সময় আয়াত চক্ষুঅগোচরে হাত আকড়ে ধরলো মাইশার।
ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে মাইশা যখন অবাক চাহিনীস্বরূপ আয়াতের দিকে তাকালো আয়াত শীতল কন্ঠে বললো,
–আমার দিকে না তাকিয়ে রাস্তাপারাপারে মনোযোগ দাও।
ছেলেটার কন্ঠে ওর জন্য হৃদয়ে টান অনুভব করলো মাইশা। যেন মাইশা অল্প বয়সী একটি কিশোরী। আয়াতের স্পর্শে যত্ন আছে। আছে কিছু অব্যক্ত কথা যা বিক্ষিপ্ত সুরে বলে ওঠে , ”আমি আমি তোমার পাশে।”
.
.
.
বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স এ প্রবেশ করতে এক শীতল হাওয়া সবাইকে আবদ্ধ করে নিলো। বাইরে থাকা তপ্ত গরমে জর্জরিত হয়ার পর এসির ঠান্ডা হাওয়ার সংস্পর্শে মুহূর্তেই সকলে শীতল হয়ে গিয়েছে। গ্রাউন্ড ফ্লোরের সেন্ট্রাল পয়েন্ট এ বেশ কয়েকটি মোবাইল আর বিউটি প্রোডাক্ট এর স্টল বসেছে। বলা বাহুল্য , আজ অর্পির পরিবারও আসবে শপিং করতে। সাথে শাওনও। শাওন প্রথমে আগ্রাহ্য করেছিলো যে ফ্যামিলি অনুষ্ঠানে ওর কাজ কি কিন্ত রাহেলা বেগমের কথা শাওন অমান্য করতে পারেনি।
কেননা রাহেলা বেগম শাওনকে নিজের আয়াতের থেকেও বেশি স্নেহ করেন। আয়াতের ভবঘুরে স্বভাব আর খামখেয়ালিতে শাওনই আয়াতকে সবসময় টেক কেয়ার করেছে। এমনকি শাওনের স্মোকের বদভ্যাসে সবাই একটু নাখোশ হলেও আয়াত ওকে সুযোগ দেয় মাঝে মাঝে। ওদের দুজনের পছন্দ , চলাফেরা সবকিছু ভিন্ন হলেও একে অপরের জন্য প্রাণ ছিটিয়ে দিতে পারবে দুজনে। কাকতলীয়ভাবে নুহাশ-মাইশা-আয়াত-রাহেলা আর শারমিন বেগম আইসক্রিমবারের সামনে অর্পি আর ওর পরিবারের সাথে শাওনকে পেয়ে গেলেন। শাওন মূলত ওদিকে আলাপ চালাচ্ছে আনান আর সামাদের সাথে। ওদেরকেও অর্পির সাথে আসতে দেখে খানিকটা অবাক হলো নুহাশ আর মাইশা। নুহাশ বিড়বিড়িয়ে মাইশাকে বললো,
–এই ব্যাটারিগুলা অর্পির সাথে কি করছে?
মাইশা তাজ্জব হয়ে বললো,
–ওমা ! তো অর্পির ফ্রেন্ডরা অর্পির সাথে থাকবে না?
–ওরা তো তোরও ফ্রেন্ড !
মুখ কালো করে ফেললো মাইশা।মনে মনে বললো,
–তোমারে কি করে বলি যে তোমার ভয়ে এগুলার একটা পিসও বরপক্ষে সামিল হবে না?
কথাটা মনের মধ্যেই চেপে রাখলো মাইশা। সবার সাথে কুশল বিনিময় সম্পন্ন হলো সুণিপুনভাবে। অর্পির সাথে অর্পির মা , সেভেনে পড়ুয়া ছোট বোন অরি এসেছে। সবার মুখে আনন্দের বিহঃপ্রকাশ থাকলেও অর্পি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে আছে। নুহাশের সাথে চোখাচোখি হলেই ওর শরীরে বারবার হিম ধরে যায়। জুয়েলারি কেনার সময় নুহাশ নির্বিকার ভঙ্গিমায় নানা অযুহাতে অর্পির সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছিলো কিন্ত অর্পি ততবারই আল্লাহ-আল্লাহ করে বেঁচে যায়। অর্পি এবার পৃথা আর মাইশাকে দেখে বললো,
–বইন আমারে বাঁচা , নুহাশ ভাই ফেবিকলের মতো আমার সাথে চিপক্যা চিপক্যা ঘুরতেসে।
পৃথা আজব ভঙ্গিতে অর্পির চশমা ঠিক করতে করতে মাইশাকে বললো,
–লে মাইশু ! এতদিন জানতাম এই মাইয়্যারা শুধু চোখে সমস্যা , মাথায় যে সমস্যা এটা কি আর জানতাম ! আরে ওই গবেট , তোর হবু জামাই তোর সাথে চিপক্যা ঘুরবো না তো কি আমার সাথে চিপক্যা ঘুরবো?
সামাদ চোখ গরম করে তাকাতেই জিভ কাটলো পৃথা। কানে হাত দিয়ে বললো,
–সরি জানু ! আমি তো জাস্ট কথার কথা বললাম।
এদিকে আনান মহাবেচারা তো পড়েছে মহা ফ্যাসাদে। এতক্ষণ অর্পির মতো নুহাশের চোখের আড়ালে ড়ালে ঘুরছিলো আনানও যাতে নুহাশ কোনোক্রমেই ওর সাথে কোনোরকম কথা না বলতে পারে। কিন্ত ভাগ্য বোধহয় ওর সঙ্গ দেয়নি। নুহাশের প্রখর ডাকে সাড়া দিতে হলো না চাওয়া সত্বেও। মিনমিনিয়ে বলে ওঠলো,
–ভাই কিছু বলবেন?
নুহাশ আয়াত আর শাওনের সাথে ওর জন্য শেরওয়ানি দেখতে মগ্ন। আনানের দিকে না তাকিয়েই বললো,
–কি ব্যাপার আনান? ইদানীং তোমায় তো দেখাই যায় না !
আনান মেকি হাসি দিয়ে বললো, ওইযে ভাই পড়াশুনার প্যারায় আছি।
–আল্লাহয় তোমায় তবে একটু দায়িত্বজ্ঞান দিয়েছে। এবার যে কথার জন্য ডেকেছি সেটা শুনো। আমার বিয়েতে ইভেন্টের সব কাজ তোমায় সামলানোর দায়িত্ব দিলাম।
আনানের মাথায় এবার যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। কোনোমতে শুকনো ঢোক গিলে বলে ওঠলো,
–কককি বললেন ভভাই? আমি এ কাজ করতে পারবো না।
–কিন্ত কেনো?
নুহাশ প্রখর কন্ঠে বলে ওঠলো।
–আমি তো কনেপক্ষের হবো ভাই। আমার ফ্রেন্ডের বিয়া, কত প্ল্যান আছে, জামাইয়ের জুতা চু……(নুহাশের চক্ষু ঘোরানো দেখতেই) ইয়ে মানে……..জুতা সাফ করবো। বরপক্ষের সেবা করবো।
–সেটা নাহয় বরপক্ষের লোক হয়েই করো। তাছাড়া আমাদের তো ডেস্টিনেশন ওয়েডিং হবে। সুতরাং ওদিকটা সামাদ আর এদিকটা নাহয় তুমি সামলে নাও।
বেচারা আনান শুধু পারছে না কাদতে। এদিকে শাওন, আয়াত দুজনেই মুখ টিপে হাসছে আনানের এই অবস্থা দেখে। শাওন তাই আয়াতকে মিনমিনিয়ে বললো,
–এই ছোকবায় বিয়ে করে যদি ১০ বাচ্চার বাপও হইয়া যায় না……..তবুও নুহাশ ভাইরে দেখলে বউয়ের আচঁলে মুখ লুকায় রাখবো।
.
.
.
.
সবার কেনাকাটা ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে। মাইশা এ পর্যন্ত যে কয়টি জামা নিলো সবই ছিলো আয়াতের পছন্দমতো। আয়াত একটাবারও সবার সামনে মুখফুটে কিছু বলেনি। বলেছে চোখের ইশারায়। মাইশা মানতে বাধ্য যে আয়াতের পছন্দ দুর্দান্ত। সাথে মাইশা অবাক না হয়েও যেন পারলো না আয়াতের গুপ্ত অ্যাক্টিং প্রতিভা দেখে। এই ছেলেকে দেখে কেউ কি বলবে যে সামনে সে যতটা ইনোসেন্ট সেজে থাকে , ভেতরে ভেতরে ততটাই লুচুবাঘ?মাইশা শুধু ভাবে………আয়াতের ভরসায় এ পর্যন্ত আম্মু বহুবার ওকে এদিক ওদিক পাঠিয়েছে যাতে কোনো ছেলের সাথে প্রেম না করতে পারে। এট এনি চান্স সত্য জেনে গেলে তো ওর আম্মু হার্টফেল করতো !!
সবশেষে এখন শুধু অর্পির গায়ে হলুদের শাড়ি কেনাটায় বাকি। লিফটের তিনতলায় শাড়ির মার্টের মধ্যে তাই চলে গেলো সবাই। আয়াত-শাওন-সামাদ-আনান-নুহাশ সবাই বাইরে এদিও ওদিক ঘোরাঘুরি করতে মগ্ন। আর বাকিরা সবাই শাড়ির দোকানে ঢুকেছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটা শাড়ি পছন্দ হলো সবার। তাই শারমিন বেগমের কথামতো মাইশার সাথে অর্পিকে চেন্জিং রুমে পাঠিয়ে দিলেন উনি। চেন্জিং রুমের সাইটটা একটু দূরে থাকায় বেশ নীরব। হঠাৎ শাড়ি পড়তে গিয়ে অর্পি ভেতর থেকে বলে উঠলো,
–মাইশু !
–কি হয়েছে?
–ব্লাউজ তো মা র কাছে। একটু নিয়ে আয় না?
বিরক্তির ভাঁজ পড়লো মাইশার মুখে। বিড়বিড় করে বলে উঠলো,
–তুই কস্মিককালেও ঠিক হবি না। দাঁড়া নিয়ে আসছি।
বেশকিছুক্ষণ পর দরজায় নক পড়লো অর্পি ধারনা করলো যে মাইশা হয়তো ব্লাউজ নিয়ে এসেছে তাই দরজা খুলতে হাত বাড়িয়ে দিতেই নুহাশ তৎক্ষণাৎ ভেতরে এসে দরজা লাগিয়ে দিলো। অর্পির তো এবার দমবন্ধ দমবন্ধ অবস্থা। আমতা আমতা করে বলে ওঠলো,
–আ-আ-পনি এখানে ক-কেনো?
দরজার সাথে ওকে মিশিয়ে ফেললো নুহাশ। চোখের চাহিনী তীব্র থেকেও তীব্রতর। এ দৃষ্টি দেখে অর্পি আগে ভয় পেলেও এখন কেমন যেন ঘোরে পড়ে যায়।কি আছে এতে যা ওকে ঘোরে ফেলে দেয়?নুহাশ শীতল কন্ঠে বললো,
–আমায় এড়িয়ে চলছো কেনো?
অর্পি নড়াচড়া করতেই নুহাশ শক্ত করে ওর বাহু চেপে ধরলো নুহাশ। ছেলেটার উষ্ণ নিঃশ্বাস অবাধ্যে ওর মুখশ্রীতে লেপ্টে যাচ্ছে। অর্পির শরীরে অদ্ভুদভাবে কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ভূমিকম্পের ন্যায় হয়তো ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে। কেমন যেন ঝিমানো অনুভূতি চারা দিয়ে উঠেছে ওর হৃদয়ে। জড়ানো সুরে তাই বলে ওঠলো,
–আপনার কাছে আসার ভয়েই এড়িয়ে চলছি…………এবার ছেড়ে দিন না?
–ছাড়বো না। কি করবে তুমি?
–আমি তবে সত্যিই অজ্ঞান হয়ে যাবো।
নুহাশ কিছু বলতে যাবে বাইরে কেউ নক করতেই তাই থেমে গেলো। মাইশা বলে ওঠলো,
–এই নে………তোর ব্লাউস এনেছি।
বেচারা অর্পি তো এবার পড়লো মহাফ্যাসাদে। এদিকে ভাই জ্বালাচ্ছে ওদিকে বোন প্যানপ্যান করছে। উত্তেজনা আর অস্থিরতা ওকে যেন ক্রমশ গ্রাস করে ফেলছে। এদিকে নুহাশেরও ছাড়ার কোনো নামগন্ধ নেই। বাইরে মাইশা আছে বিধায় কিছু বলতেও পারছে না । ভারক্রান্ত হয়ে কেঁদে দিতে ইচ্ছে করছে ওর। তপ্তশ্বাস নিয়ে তাই মিনমিনয়ে বললো,
–আল্লাহ আমায় উঠাইয়া নিয়া যাও !😫
.
.
.
.
.
#চলবে……….ইনশাআল্লাহ
———————————–