গল্পের নাম— #স্নিগ্ধ_প্রেমাবেশ #সূচনা_পর্ব
কলমে— #জেরিন_আক্তার
নামকরা বিজনেস ম্যান “তাহসীর চৌধুরী শ্রাবণ”কে কল দিয়ে, হিয়া গড়গড় করে বলল, -“আস্সালামুআলাইকুম জামাইজান। কি অবস্থা ভুলে গিয়েছেন আমাকে? আমি যে আপনার অপেক্ষায় থাকি বোঝেন না? নাকি অন্য কোনো মেয়ের সাথে সংসার শুরু করলেন।”
এপাশে থাকা পুরুষ এই কথাগুলো শুনে চোয়ালে শক্ত করে বলল,
-“রং নাম্বার।”
হিয়া মাথা নাড়িয়ে বলল,
-“না না রং নাম্বার না।”
-“আর ইউ সিরিয়াস?”
-“হুমম। জামাইজান।”
হিয়া কল কেটে দিয়ে বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বলল,
-“কাকে না কাকে কথাগুলো বললাম, আল্লাহ মাফ করে দিও।”
পাশে থেকে নেহা হেসে বলল,
-“ভাই যদি কলটা পুলিশের কাছে যায় তাহলে কি হবে রে? জেলে ঢুকিয়ে দিবে।”
হিয়া বোতল থেকে পানি খেয়ে বলল,
-“জীবনে এরকম কোনো ফাজলামো করিনি। যদি সত্যি সত্যিই পুলিশের কাছে যায় তাহলে কি হবে?”
রাসেল মশকরা করে বলল,
-“এগুলো বাদ দে, যদি লোকটা বুড়ো হয়। তাহলে হিয়ার বুড়ো জামাই হবে।”
হিয়া রাসেলের দিকে বোতল ছুড়ে মেরে বলল,
-“চুপ করবি। জাস্ট মজা ছিলো। আর আমার বাবা কি বুড়ো লোকের সাথে বিয়ে দিবে অসম্ভব।”
নেহা ভাবুক গলায় বলল,
-“ধর, লোকটার বউ আছে। আর এখন লোকটাকে যে কথাগুলো বললি তা তার বউও শুনে নিয়েছে তাহলে কি হবে ভাব। লোকটার আজকে বউয়ের হাতে মার খেতে খেতেই জীবন যাবে।”
হিয়ার নাম্বারে আবার কল এলো এই নাম্বার থেকে। হিয়া কলটা ধরে স্বাভাবিক গলায় বলল,
-“হ্যালো হ্যা জামাইজান বলুন!”
ফোনের ওপাশে থেকে কথায় কথায় রেগে যাওয়া সুদর্শন পুরুষ, দেশের টপ বিজনেসম্যানদের মাঝে একজন “তাহসীর চৌধুরী শ্রাবণ” চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
-“তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে না তুমি সিরিয়াস। ডু ইউ ইভেন নো হু ইউ’ভ কল্ড অ্যান্ড হু ইউ’আর টকিং টু?” —(তুমি কি আদৌ জানো তুমি কাকে ফোন করেছো আর কার সঙ্গে কথা বলছো?)
হিয়া দমে যাওয়ার পাত্রী নয়। স্বীকারই করবে না যে চিনে না। ও সাথে সাথে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে দিলো,
-“উফ কি রাগ আপনার। রেগে গেলে আপনার ভয়েস যা লাগে। মারাত্মক লাগে। আপনার রাগই যে কত সুন্দর লাগছে, না জানি দেখতে আরও কত সুন্দর হবেন। অবশ্য সুন্দর হতেই হবে। দেখতে হবে তো আমারই জামাইজান।”
রিনি, রাসেল, সাথী মুখ টিপে হাসছে। হিয়া পরপর বলল,
-“ভালোবাসার মানুষের উপরে রাগ দেখাতে হয়না বুঝলেন। ভালো করে কথা বলতে হয়। এতে সম্পর্ক আর গভীর হয়। আর আমি সিরিয়াস বুঝলেন। কোথায় আছেন এসে তাড়াতাড়ি আমাকে নিয়ে যান। নাহলে বুড়ো হয়ে যাচ্ছেন তো। তখন তো আমার বাবা আপনার সাথে আমার বিয়ে দিবে না।”
সবই ঠিক আছে কিন্তু বুড়ো বলাটা বাড়াবাড়ি হয়ে গেলো না। শ্রাবণ কিছুই বলতো না কিন্তু বুড়ো শোনার পরে এই মেয়েকে ছাড়ার পাত্র ও নয়। ও তপ্ত শ্বাস ছেড়ে দাঁত চেপে বলল,
-“তোমার সিরিয়াস বের করছি।”
বলে ফোনটা কেটে দিলো। হিয়া হাফ ছেড়ে বলল,
-“যা ভালো লাগলো না। এই লোক রাগী। রাগী লোক আমার একদম পছন্দ না।”
রাসেল হেসে হেসে বলল,
-“আল্লাহ ওর কপালে রাগী একটা জামাই দিও।”
শ্রাবণ নিজের এসিস্টেন্ট রনিকে এমার্জেন্সি কেবিনে আসতে বলল। রনি এসে বলল,
-“স্যার, সব রেডি। আপনি গেলেই মিটিং শুরু হবে।”
শ্রাবণ রাগী কণ্ঠে বলল,
-“কোনো মিটিং হবে না।”
-“স্যার কোনো প্রবলেম হয়েছে?”
-“তোমাকে একটা নাম্বার দিয়েছি। ট্র্যাক করো, এক ঘন্টার মধ্যে এই মেয়েকে আমার সামনে আনো। মেয়েটার ফাজলামো করা বের করছি।”
-“স্যার কি হয়েছে যদি বলতেন?”
শ্রাবণ চোখ গরম করে তাকালো। রনি বলল,
-“সরি স্যার, এক্ষুনি যাচ্ছি।”
রনি বেরিয়ে গেলো। নাম্বারটা ট্র্যাক করতেই লোকেশন এলো একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির অতঃপর সেখানে বেরিয়ে গেলো। ভার্সিটির সামনে এসে রনি শ্রাবণকে কল দিলো,
-“হ্যালো স্যার!”
-“বলো!”
-“স্যার লোকেশনটা একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির, আমরা এসেছি এখানে। কিন্তু ভিতরে গিয়ে একটা মেয়েকে কিভাবে আনবো?”
শ্রাবণ দাঁত চেপে বলল,
-“ইডিয়েট, একটা মেয়েকে তুলে আনার কারণ পাচ্ছো না? ছেলে হলে তো এতক্ষনে এনে হাজির করতে, বলতেও হতো না। তোমাদের নিয়ে যে কি করবো।”
-“স্যার দেখছি কি করা যায়। আগে মেয়েটাকে বের করে নেই।”
-“ইমিডিয়েট করো!”
রনি সাথে ২ জন লোক নিয়ে ভার্সিটির ভিতরে ঢুকতে নিলে দারোয়ান ওকে জিজ্ঞাসা করে,
-“ভিতরে যাচ্ছেন কেনো?”
রনি উত্তরে বলল,
-“এখানে ডিপার্টমেন্ট প্রধান যিনি তার সাথে দেখা করতে চাই। আমার বোনকে ভর্তি করতো তো সেই ব্যাপারে কথা বলবো।”
-“ওহ, তাহলে ভিতরে যান।”
হিয়া, নেহা, রাসেল, সাথী ওরা মাঠেই বসেছিলো। রনি মাঠের এক কোণে দাড়িয়ে আছে। নাম্বারটার লোকেশন ঠিক মাঠের মাঝখানেই দেখাচ্ছে। আর মাঠে স্টুডেন্ট বসে আছে দুই জায়গায়। একটা জায়গায় শুধু ছেলে। আর একটা জায়গায় তিনজন মেয়ে আর দুজন ছেলে। রনি সাহস নিয়ে দুজন লোক নিয়ে এগিয়ে গেলো। এবং হিয়াদের গ্রূপের সামনে এসে বলল,
-“এক্সকিউজ মি!”
রাসেল বলল,
-“জি বলুন!”
রনি সেই নাম্বারটায় কল দিলো। সাথে সাথে হিয়ার ফোন বেজে উঠল। রনি শিওর হলো ওই মেয়েটাই। ভাবলো—এই মেয়ে স্যারের সাথে কি কোনো ঝামেলা করেছে নাকি? কিন্তু দেখে তো মনে হচ্ছে না। এরা স্টুডেন্ট স্যারের সাথে কি নিয়ে ঝামেলা করবে।
রনি ভাবাভাবি বাদ দিয়ে নাম্বারটা দেখিয়ে হিয়াকে বলল,
-“আচ্ছা, এই নাম্বারটা আপনার?”
হিয়া বলল,
-“হ্যা আমার। কেনো কি হয়েছে?”
-“একটু আগে এই নাম্বার থেকে কল দিয়ে স্যারকে কি বলছেন?”
রাসেল বিড়বিড় করে বলল,
-“হিয়া তু্ই যাকে কল দিয়েছিস মনে হয় সেই লোক কোনো নামিদামি মানুষ। সেই মনে হয় লোক পাঠিয়েছে।”
হিয়া রাসেলের কথা শুনে রনিকে বলল,
-“কই কাকে কি বলেছি?”
রনি বলল,
-“কিছু না বললেই কি আমরা এখানে এসেছি। আসুন আমাদের সাথে, স্যার আপনার সাথে কথা বলবে।”
হিয়া নাক-মুখ কুঁচকে বলল,
“আপনি বলবেন আর আমি যাবো? না জানি কোন বুড়ো কে কল দিয়েছি।”
চলবে….

