Home "ধারাবাহিক গল্প "চিরদিনই তুমি যে আমার চিরদিনই তুমি যে আমার পর্ব-০৫

চিরদিনই তুমি যে আমার পর্ব-০৫

0
1

#চিরদিই_তুমি_যে_আমার
#নূরা_ফাতেহা
||০৫||

পুরুষ, তুমি আসলেই কতটা নির্বোধ! নারীর দেহটুকু ছুঁয়ে ভেবেছো, তার সমস্ত ভালোবাসাও বুঝি তোমার মুঠোয় এসে ধরা দিয়েছে। অথচ তুমি বুঝতেই পারোনি একটি নারীর দেহ পাওয়া আর তার মন পাওয়া, এই দুটির মাঝখানে আকাশ-পাতাল দূরত্ব। নারীর দেহ তো একজন ধ’র্ষ’কও স্পর্শ করতে পারে। একজন লম্পটও অধিকারহীনভাবে তার শরীরের সীমারেখা লঙ্ঘন করতে পারে। কিন্তু তার মন? সেই মনটাকে স্পর্শ করবে কী দিয়ে? শক্তি দিয়ে?
অধিকার দেখিয়ে? নাকি পুরুষত্বের দম্ভ দিয়ে?
না, কোনোভাবেই নয়। কারণ নারীর দেহ স্পর্শ করা যায় হাত বাড়িয়ে, কিন্তু তার মন স্পর্শ করতে হলে আগে ছুঁতে হয় তার বিশ্বাস। তার অভিমান বুঝতে হয়, তার নীরবতার ভাষা পড়তে হয়, তার ভয়কে নিজের বুকের ভেতর জায়গা দিতে হয়। তার অশ্রু ঝরার আগেই বুঝতে হয় কোথায় সে ভেঙে যাচ্ছে! দেহের কাছে পৌঁছানো যায় জোর করে, কিন্তু মনের দরজা কখনো জোরে খোলা যায় না। একজন নারী তার দেহ হয়তো পরিস্থিতির কাছে সমর্পণ করতে পারে, কিন্তু তার মনকে কখনোই বন্দি করা যায় না। সেই মন কেবল তাকেই আপন করে নেয়, যার স্পর্শে তার শরীর নয় তার আত্মা কেঁপে ওঠে। তাই পুরুষ, নারীর দেহ পেয়ে নিজের জয় ঘোষণা করো না। দেহ পাওয়া কোনো বিজয় নয়। বিজয় তখনই, যখন একজন নারী পৃথিবীর সমস্ত পুরুষের ভিড় সরিয়ে নিজের মনের দরজাটা কেবল তোমার জন্য খুলে দেয়।

কথাটা ভেবে তারীন একজোড়া তপ্ত বায়ু ফেলল। বাগানের এক বেঞ্চে বসে আছে সে। ঘরে বসে থাকতে ভালো লাগছিলো না। তখনি আযরাফের ফুফাতো বোন মায়া এসে উপস্থিত হলো সেথায়। বেঞ্চে বসে পড়ল। অতঃপর জিজ্ঞেস করে উঠল,

—” শরীর খারাপ লাগছে ভাবী?”

—”নাহ!”

—”তাহলে এখানে চুপটি করে বসে আছো যে।”

—”এমনি ভালো লাগছিলো না। তোমার স্কুল নেই?”

—”আছে একটু পরে যাবো। ভিতরে চলো সবাই নাস্তা নিয়ে অপেক্ষা করচ্ছে তোমার জন্য।”

—”আমার এখন খেতে ইচ্ছে করচ্ছে না। তুমি যাও।”

মায়া আর জোড় করল না। সে বসা থেকে উঠে বাড়ির ভিতরে গিয়ে বলল,

—”ভাবী আসছে না ওনার নাকি খেতে ইচ্ছে করচ্ছে না।”

আযরাফ দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বলল,

—”আচ্ছা তুই খেতে বস। আর ফুপিআম্মা আমাকে প্লেটে খাবার বেড়ে দেও। আমি খাবার নিয়ে যাচ্ছি।”

অতঃপর লোকসানা চৌধুরী খাবার টা প্লেটে দিতেই। আযরাফ সেই গুলো নিয়ে বাগানে চলে গেলো। তারীন এক দৃষ্টিতে ঘাসের দিকে তাকিয়ে আছে। আযরাফ ডেকে উঠল,

—”তারীন।”

আপন মনে মেয়েটা জবাব দিলো,

—”হুম!”

—”এসো খাবে।”

—”ইচ্ছে করচ্ছে না।”

—”আমি খাইয়ে দিবো। তবুও না।”

—”ঘরে দম বন্ধ লাগছে।”

—”ঘুরতে নিয়ে যাবো। আগে দুটো মুখে তুলো তারপর।”

আযরাফ তার পাশে বসল। রুটির ছিঁড়ে একটু মাংসের সাথে মাখিয়ে তারীনের মুখের সামনে ধরল। তারীন কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে অতঃপর ছোটো করে মুখ খুলে হা করল। তারীন হা করতে আযরাফ টুপ করে খাবার টা তার মুখে পুরে দিলো। আযরাফ পানির বোতলের ক্যাপ টা খুলে দিয়ে পানিটা এগিয়ে দিয়ে বলল,

— “নেও পানিটা খাও। নয়তো গলায় আটকাবে।”

তারীন পানির বোতলটা নিয়ে ঢকঢক করে পানি খেলো। আযরাফা আরেকটু লোকমা তার মুখে তুলে দিলো। এইভাবে এক এক করে সবটুকু খাবার শেষ করিয়ে মুখটা মুছিয়ে দিলো। কপালে আলতো করে চুমু খেয়ে বলল,

—”ঘরে চলো রেডি হবে। তোমায় নিয়ে ঘুরতে যাবো।”

—”আমার একটা কথা রাখবেন?”

—”বলো! শুনচ্ছি।”

—”আমাকে একটু সময় দিবেন। আমি চাইলেও ওকে ভুলতে পারচ্ছি না।”

—”ঠিক আছে দিলাম সময়। তবে তুমি শুধু আমাতেই সীমাবদ্ধ থেকে অন্য কোনো পুরুষের কাছে নয়। কারণ আযরাফ চৌধুরী তার প্রাণের চেয়েও প্রিয় শ্রাবণকন্যাকে অন্য কারও সাথে দেখতে পারবে না। আমি মৃত্যু ও বরণ করব সেচ্ছায়। তবুও তুমি অন্য কারও এইটা মানতে পারবো না। তুমি ভালোবেসো না,তবুও তুমি আমার স্ত্রী তাকবে। আমার হৃদয়ে আর আমার পাশে তোমার স্থান বুঝেছো। আর আমৃত্যু এইটাই বহন করতে হবে। এই পরিচয় থেকে তোমার মুক্তি নেই।”

—”আমি যদি কখনো ভালোবাসতে না পারি?”

—”পারবে।”

—”কি করে এতোটা নিশ্চিত হচ্ছেন?”

—”কারণ আমার যত্ন, আমার স্নেহ, আমার মায়া আমার ভালোবাসা সবগুলো তোমাকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রাখবে। তখন তুমি নিজেই ভুলে যাবে, পূর্বে কোনো এক জনকে ভালোবেসেছিলে। আর আমি অপেক্ষা আছি সেই দিনের।”

তারীন তাকিয়ে রইলো তার পানে। দুইজনের চোখে চোখে হাজারো কথা হচ্ছে। কিন্তু মুখে কোনো কথা হলো না অবশেষে নীরবতা ভেঙে আযরাফ বলল,

—”যাও রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নেও দুইজন একটু ঘুরে আসি।”

তারীন ধীরপায়ে চলে গেলো। আযারাফ ও তাই করল, প্লেট আর পানির বোতল নিয়ে ভিতরে ঢুকল। এঁটো প্লেটগুলো রেখে কিছু ফল খেলো। তারপর সে গাড়ির কাছে গেলো। অপেক্ষা করচ্ছে তারীনের বের হওয়ার। ও বের হলে ওকে নিয়ে গ্রামের কোনো রির্সোটে যাবে দুইদিনের জন্য। এইটাই আপাতত প্ল্যান।

গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল আযরাফ। সকালের আকাশ আজ অস্বাভাবিকভাবে শান্ত। গত রাতের বৃষ্টির পর চারপাশ ধুয়ে-মুছে যেন নতুন রূপ পেয়েছে। গাছের পাতায় এখনো ছোট ছোট জলকণা আটকে আছে। মাঝে মাঝে হালকা বাতাস বয়ে গেলে সেগুলো টুপটাপ করে নিচে পড়ে, ভেজা মাটির গন্ধ আরও তীব্র করে তুলছে।

অথচ আযরাফের ভেতরটা শান্ত নয়। বরং তার বুকের কোথাও একটা অস্থিরতা ক্রমশ জেঁকে বসছে।

তারীনকে সময় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সে। কিন্তু সময় দেওয়া যে এত কঠিন হবে, তা হয়তো সে নিজেও উপলব্ধি করেনি। মেয়েটির চোখে এখনো অন্য কারও ছায়া। এই সত্য আযরাফকে ভেতর থেকে পুড়িয়ে দেয়।

তবুও আজ সে কোনো প্রশ্ন করবে না, কোনো চাপও সৃষ্টি করবে না। শুধু চায়, মেয়েটি তার পাশে থাকুক, তার সঙ্গে কথা বলুক এবং ধীরে ধীরে নিজের ইচ্ছায় তাকে চিনে নিক।

কিছুক্ষণ পর বাড়ির দরজা খুলে তারীন বেরিয়ে এলো। হালকা রঙের একটি সালোয়ার-কামিজ পরেছে সে। চুল খোলা; ভেজা নয়, তবে পুরোপুরি শুকায়ওনি। মুখে কোনো প্রসাধন নেই। চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।

আযরাফের দৃষ্টি তার মুখে স্থির হয়ে গেল। মেয়েটিকে দেখে তার বুকের ভেতরটা অদ্ভুত কোমলতায় ভরে উঠল।

তারীন গাড়ির কাছে এসে দাঁড়াতেই আযরাফ দরজা খুলে দিলো।

— “উঠো।”

তারীন কোনো কথা না বলে গাড়িতে উঠে বসল।

আযরাফও ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসল। ইঞ্জিন স্টার্ট করল। কিন্তু গাড়ি ছাড়ার আগে একবার পাশ ফিরে তাকাল তারীনের দিকে। মেয়েটা জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে চোখে-মুখে তার আগের মতোই শুণ্যতা। এতো শূণ্যতা কিসের তার? শুধু মাত্র ওই ছেলেকে পাইনি বলে তাই! কিন্তু ওই ছেলেটা তো তারীনের নখের যোগ্য ও না। যখন তারীন সত্যটা জানবে, তখন কী করবে? কি করে সামলাবে তাকে এই ভেবেই পাগল প্রায় সে। গাড়ি চালাতে শুরু করল। কিছুদূর যাওয়ার পরও দুজনের মধ্যে কোনো কথা হলো না।

রাস্তার দুপাশে গ্রামের সবুজ ধানক্ষেত। কোথাও কৃষক জমিতে কাজ করছে, কোথাও ছোট ছোট ছেলেমেয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে। দূরে কয়েকটা তালগাছের মাথা বাতাসে দুলছে। তারীন চুপচাপ সেসব দেখছিল। কিছুদূর যাওয়ার পরও তাদের মধ্যে কোনো কথা হলো না। রাস্তার দুপাশে বিস্তৃত সবুজ ধানক্ষেত।

তারীন নীরবে সেসব দৃশ্য দেখছিল। হঠাৎ সে বলল,

— “কোথায় যাচ্ছি আমরা?”

— “রিসোর্টে।”

— “কেন?”

— “তুমি বলেছিলে ঘরে দম বন্ধ লাগে। তাই ভাবলাম দুদিন অন্য কোথাও থাকি।”

তারীন কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল,

— “দুদিন?”

— “হুম।”

—”আপনার কলেজ?”

আযরাফ মৃদু হেসে বলল,

— “দুদিনের জন্য অন্য একজন ক্লাস নেবে।”

তারীন এবার তার দিকে তাকিয়ে বলল,

— “আপনি আমার জন্য এত কিছু করছেন কেন?”

প্রশ্নটা শুনে আযরাফ কিছুক্ষণ নীরব রইল। প্রশ্নটি শুনে আযরাফ কিছুক্ষণ নীরব রইল। তারপর চোখ না সরিয়েই বলল,

— “কারণ তুমি আমার কাছে অধিক ‘গুরুত্বপূর্ণ।’

তারীন আবার মুখ ফিরিয়ে নিল। এই কথাগুলো শুনলে তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা ভার জমে।

আযরাফ তা বুঝতে পারে। তাই আর কিছু বলল না।

প্রায় এক ঘণ্টা পর গাড়ি একটা নিরিবিলি রাস্তায় ঢুকল। রাস্তার দুপাশে বিশাল গাছ। সামনে ছোট্ট একটা সাইনবোর্ড দেখা গেল।

তারীন জানালা দিয়ে তাকিয়ে রইল। কিছুদূর এগিয়ে গাড়ি থামল একটা শান্ত, সবুজে ঘেরা রিসোর্টের সামনে।
চারপাশে গাছপালা, ছোট ছোট কটেজ, মাঝখানে একটা পুকুরের মতো জলাশয়। পানির ওপর কয়েকটা সাদা শাপলা ভেসে আছে। জায়গাটার পরিবেশ এতটাই নিরিবিলি যে শহরের কোনো শব্দ এখানে এসে পৌঁছায় না।

তারীন চারপাশে তাকাল। আযরাফ ও তার পাশে এসে দাঁড়াল। অতঃপর জিজ্ঞেস করল,

— “কেমন লাগছে?”

তারীন ধীরে বলল,

— “শান্ত।”

— “তোমার এই শান্তিটুকুই দরকার।”

— “আপনি কি সত্যিই আমাকে সময় দেবেন?”

— “হুম যদি তুমি আমার সাথে বেইমানি না করো। এই আযরাফ চৌধুরী পৃথিবীর সবকিছু সহ্য করে নিবে কিন্তু বেইমানি না। আন্ডারস্ট্যান্ড! মাই হার্ট।”

তারিন কিছু বলল না শুধু চারপাশে চোখ বুলাচ্ছিলো। আযরাফ এসে তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল। তারীন তখন বলে উঠল,

—”আপনি কথা দিয়েছিলেন?”

—”আমি তো বলেছি দৈ’হি’ক মিলন করবো না। কিন্তু তোমায় জড়িয়ে ধরতে পারবো না তা তো বলিনি কুচুপু।”

তারীন কয়েক মুহূর্ত নিশ্চুপ হয়ে রইল। আযরাফের বাহুর বন্ধনে দাঁড়িয়ে থাকলেও তার ভেতরটা কেমন যেন শক্ত হয়ে আছে। এই মানুষটির স্পর্শে এখনো তার মনে ভালোবাসার চেয়ে অস্বস্তিই বেশি জন্ম নেয়। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, আজকের আযরাফ যেন আগের সেই আযরাফ নয়। অন্তত এই মুহূর্তে সে কোনো জোর করছে না, কোনো প্রশ্নও ছুড়ে দিচ্ছে না।

তারীন ধীরে ধীরে বলল,

— “আপনি সবকিছুর অর্থ নিজের মতো করে নির্ধারণ করে নেন।”

আযরাফ তার কাঁধের ওপর থুতনি রেখে মৃদুস্বরে বলল,

— “কারণ তোমার নীরবতার মানে আমি খুঁজতে শিখেছি, তারীন।”

— “আমার নীরবতার মানে সবসময় আপনার পছন্দের হবে না।”

আযরাফ এবার তাকে ছেড়ে দিল। সামনে এসে দাঁড়িয়ে মেয়েটির চোখের দিকে তাকাল।

— “জানি।”

তারীনের ভ্রু কুঁচকে গেল। তারপর সে বলল,

— “জানেন?”

— “হুম। তোমার নীরবতার ভেতরে আমার জন্য রাগ আছে, অভিমান আছে, ভয় আছে। হয়তো ঘৃণাও আছে। সবকিছু আমি জানি। শুধু একটা জিনিস জানি না। একদিন এই নীরবতার ভেতরে আমার জন্য একটুখানি মায়া জন্মাবে কি না।”

তারীন চোখ নামিয়ে নিল। কথাটা কেন যেন বুকের কোথাও গিয়ে বিঁধল। আযরাফ আর তাকে কিছু বলল না। রিসোর্টের কর্মচারী এসে তাদের লাগেজ নিয়ে গেল। আযরাফ কটেজের চাবি নিয়ে তারীনের দিকে তাকাল। অতঃপর আগলে ধরে বলল,

— “চলো।”

তারীন ধীরপায়ে হাঁটতে লাগল। কটেজটা বেশ সুন্দর। সামনে ছোট্ট বারান্দা। বারান্দার একপাশে কাঠের চেয়ার, অন্য পাশে টবভর্তি ফুল। ভেতরে ঢুকতেই তারীন থমকে দাঁড়াল। ঘরটা বড়, জানালার ওপাশে সবুজ গাছপালা দেখা যাচ্ছে। পাশে ছোট্ট একটা বসার জায়গা। আর ঘরের একপাশে একটি বড় বিছানা।

বিছানাটার দিকে তাকিয়েই তারীনের মুখটা শক্ত হয়ে গেল।
বিছানাটির দিকে তাকিয়েই তারীনের মুখ শক্ত হয়ে গেল।
আযরাফ তার দৃষ্টি অনুসরণ করল। সে বুঝতে পারল মেয়েটার অস্বস্তির কারণ।

— “তুমি বিছানায় ঘুমাবে।”

তারীন অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল,

— “আর আপনি?”

আযরাফ বারান্দার দিকে তাকিয়ে বলল,

— “আমি সোফায় থাকব।”

তারীন যেন কথাটি বিশ্বাস করতে পারল না। সে মৃদু স্বরে বলল,

— “সত্যি?”

আযরাফ মৃদু হেসে বলল,

— “তোমাকে সময় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। সেই সময়ের অর্থ তোমাকে অস্বস্তিতে ফেলা নয়।”

তারীন কিছু বলল না। আযরাফ জানালাটা খুলে দিল। সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থেকে ভেজা মাটির গন্ধ আর ঠান্ডা বাতাস ঘরে ঢুকে পড়ল।

— “তোমার ভালো লাগছে?”

তারীন জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,

— “হুম।”

— “তাহলে আজ কোনো নিয়ম নেই। তুমি যা করতে চাও করবে।”

— “আমি যদি একা থাকতে চাই?”

আযরাফ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে মাথা নাড়িয়ে বলল,

— “থাকবে।”

— “আপনি রাগ করবেন না?”

— “তোমার ওপর রাগ করার অধিকার আমি অনেক আগেই হারিয়েছি।”

তারীন এবার অবাক হয়ে তাকাল। আযরাফ মুখ ফিরিয়ে নিল। কথাটা বলার পর তার নিজের বুকের ভেতরেও যেন ভারী কিছু নেমে এলো। কিছুক্ষণ নীরবতার পর সে বলল,

— “আমি নিচে গিয়ে জামা-কাপড় আর খাবারের ব্যবস্থা করছি। তুমি চাইলে একটু বিশ্রাম নাও।”

এই বলে আযরাফ বেরিয়ে গেল। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা কানে আসতেই তারীন ধীরে ধীরে বিছানায় বসে পড়ল।
অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছে তার। এই মানুষটাকে সে ভালোবাসে না। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ কানে আসতেই তারীন ধীরে ধীরে বিছানায় বসে পড়ল। তার ভেতরে অদ্ভুত এক অনুভূতি জাগল। এই মানুষটিকে সে ভালোবাসে না।বরং তার উপস্থিতিই কখনো কখনো তাকে দমবন্ধ করে দেয়। তবুও আজ প্রথমবার মনে হলো, আযরাফ হয়তো সত্যিই বদলানোর চেষ্টা করছে।

কিন্তু একটা ভুল কি এত সহজে মুছে যায়? তারীন জানে না। সে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। দূরে পুকুরের পানিতে বাতাসের ঢেউ উঠছে। শাপলাগুলো ধীরে ধীরে দুলছে। প্রকৃতি কত সহজে শান্ত হতে পারে!

কিন্তু! মানুষের মন কেন পারে না?

—————————–

ঘন্টা খানিকবাদে ফিরল সে। তারীন বলল,

—”এতো দেরি হলো যে?”

—”ড্রেসগুলো আনতেই টাইম লাগল। এখানে ড্রেস আর দুই প্যাকেট বিরিয়ানি আছে খেয়ে নেও।”

—”আপনি খাবেন না?”

— “খাবো।”

—”আগে তুমি ফ্রেশ হয়ে নেও তারপর।”

তারীন আর দেরি করল না দ্রুত ফ্রেশ হতে চলে গেলো আর আযরাফ বারান্দায় চলে গেলো পকেট হতে সিগারেট বের করে মুখে গুঁজে দিয়ে, লাইটার বের করে আগুন ধরিয়ে একটা টান দিলো। অতঃপর ধোঁয়া গুলো নিক্ষেপ করল শূন্যে।

চলবে,,