#চিরদিনই_তুমি_যে_আমার
#নূরা_ফাতেহা
||০৪||
রাতটা বেশ গভীর। জানালার বাইরে একটানা মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। টিপটিপ শব্দ ছাপিয়ে এখন হাওয়ার দাপট আর ভারী জলের পতন পুরো রাতটাকে যেন এক রহস্যময় চাদরে ঢেকে দিয়েছে।
ঘরের এক কোণে বিছানায় গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে তারীন। কালকের ধকল আর ভেজা চুলে থাকার কারণে ওর শরীরের জ্বরটা আচমকাই হু হু করে বেড়ে গেছে। কপালে হাত দিলে মনে হয় যেন তপ্ত চাটু। গা-হাত-পা যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছে, অথচ তারীনের মুখে কোনো শব্দ নেই। সে শুধু বালিশে মুখ গুঁজে পড়ে আছে।
আযরাফ ঘরের ভেতর পায়চারি করছে। তার মাথায় তীব্র অস্থিরতা। এমন বেপরোয়া লোকটার চোখেও এখন দুশ্চিন্তার স্পষ্ট ছাপ। সে বার পাঁচেক তাদের পারিবারিক ডাক্তারকে ফোন করেছে। কিন্তু ওপাশের ফোনটা বেজেই যাচ্ছে, কেউ তুলছে না। শেষবার রিং হয়ে কেটে যেতেই আযরাফ দাঁতে দাঁত চেপে ফোনটা বিছানায় ছুড়ে মারল। মেজাজ একবারে তুঙ্গে উঠে গেছে।
আর সময় নষ্ট না করে আযরাফ দ্রুত রুম থেকে বের হয়ে নিচে নেমে গেল। সোজা গিয়ে ধাক্কাল লোকসানা বেগমের ঘরের দরজায়।
— “ফুফু! ফুফু, ওঠো!”
লোকসানা বেগম ঘুমচোখে দরজা খুলতেই আযরাফ ওনার হাত ধরে টেনে ওপরে নিয়ে আসতে আসতে বলল,
— “তারীনের গা পুড়ে যাচ্ছে ফুফু। জ্বর মারাত্মক বেড়েছে। তুমি একটু ওর কাছে বসো, ভিজা কাপড় দিয়ে গা-হাত-পা মুছিয়ে দাও। আমি ওই ডাক্তার শা*লার ব্যা*টাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসছি। ফোন ধরছে না হা*রামজা*দা।”
লোকসানা বেগম আর কথা বাড়ালেন না। ভাইপোর অস্থিরতা দেখে উনি তড়িঘড়ি ঘরে ঢুকে তারীনের পাশে বসলেন। তোয়ালে পানিতে ভিজিয়ে তারীনের কপালে আর গায়ে দিতেই তারীন হালকা কোঁকায়া উঠল।
আযরাফ আলমারি থেকে গাড়ির চাবি আর একটা জ্যাকেট গায়ে চাপিয়ে নিল। যাওয়ার আগে একবার বিছানার কাছে এসে ঝুঁকল। তারীনের তপ্ত কপালে নিজের ঠোঁট দুটো ছোঁয়াল কয়েক সেকেন্ডের জন্য।
— “আমি আসছি, শ্রাবণকন্যা। কিচ্ছু হবে না তোমার।” খুব নিচু আর ভারী গলায় বলল সে।
তারপর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে আযরাফ দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল। বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি, আর আযরাফের গাড়িটা অন্ধকারের বুক চিরে তীব্র গতিতে ছুটে চলল ডাক্তারের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
———————–
বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি, আর আযরাফের কালো গাড়িটা জল-কাদা ছিটিয়ে অন্ধকারের বুক চিরে তীব্র গতিতে ছুটে চলেছে। চালকের আসনে বসে থাকা আযরাফের স্টিয়ারিং ধরা হাতদুটোর রগ ভেসে উঠেছে। চোখের মনি ধূসর থেকে যেন কুচকুচে কালো রক্তের রূপ নিয়েছে। মেজাজ তার একেবারে তুঙ্গে। ওদিকে নিজের বউ ঘরে তীব্র জ্বরে ছটফট করছে, আর এই ডাক্তারের বাচ্চা ফোন ধরার বিন্দুমাত্র সৌজন্য দেখাচ্ছে না!
মিনিট পনেরোর মধ্যেই ডাক্তার শফিক আহমেদের বাড়ির সামনে গিয়ে সজোরে ব্রেক কষল আযরাফ। গ্যারেজের ছাদের নিচে গাড়ি রেখে এক লাফে নেমে সোজা ডোরবেলে হাত চেপে ধরে রইল। একটানা বেল বাজার কর্কশ শব্দে রাতের নিস্তব্ধতা চুরমার হয়ে গেল।
বেশ কিছুক্ষণ পর ভেতরে আলো জ্বলল। বিরক্ত মুখে দরজা খুললেন চল্লিশোর্ধ্ব ডাক্তার শফিক। পরনে নাইট গাউন। দরজা খুলেই সামনে জলজ্যান্ত আযরাফ চৌধুরীকে কালবৈশাখীর রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি চমকে উঠলেন।
— “আরে আযরাফ সাহেব! এত রাতে? কী ব্যাপার, ওভাবে বেল বাজাচ্ছেন-”
ডাক্তার শফিকের কথা শেষ হওয়ার আগেই আযরাফ ওনার শার্টের কলার ধরে সোজা সামনের দিকে হ্যাঁচকা টান মারল।
— “ফোন তুলছিলেন না কেন, শফিক সাহেব?”— আযরাফের কণ্ঠের বিষাক্ত শীতলতা যেকোনো মানুষের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
ডাক্তার শফিক ঘাবড়ে গিয়ে ঢোক গিলে বললেন,
— “আরে ভাই, ফোন সাইলেন্ট ছিল! মানে আজ অনেকদিন পর বউকে নিয়ে একটু নিভৃতে সময় কাটাচ্ছিলাম, প্রেম-ভালোবাসার একটু সাহিত্য চর্চা হচ্ছিল বলতে পারেন তা এত রাতে আপনি-”
— “সাহিত্য চর্চা?! আপনার ভালোবাসা উদযাপনের জন্য আমি আমার বউকে ঘরে জ্বরে পু*ড়ে ম*রতে দেব? শা*লার ব্যাটা, ওদিকে আমার বউ জ্বরে অ*জ্ঞান হয়ে যাচ্ছে, আর আপনি এখানে সাহিত্য রচনা করছেন!” — আযরাফ দাঁতে দাঁত কিড়মিড় করে বলে উঠল।
কথাটা বলেই আযরাফ ডাক্তার শফিকের হাত ধরে সজোরে একটা মোচড় দিয়ে টেনে বাইরে নিয়ে এল।
— “আরে আরে! আযরাফ সাহেব, ছাড়ুন! আমার চশমাটা নিতে দিন, মেডিকেল ব্যাগটা নিতে দিন।”— ডাক্তার শফিক কঁকিয়ে উঠলেন।
— “ব্যাগ পেছনে আছে, চাকরকে বলুন নিয়ে আসতে।এক সেকেন্ড দেরি হলে আপনাকে ঘাড় ধরে টেনে নিয়ে যাব।”
ডাক্তার শফিক আর কোনো ত্যাড়ামি করার সাহস পেলেন না। আযরাফের চোখের ওই অ*দম্য হিং*স্র*তা দেখে তিনি বুঝে গেছেন, এই লোক এখন সত্যি সত্যি কিছু একটা ঘটিয়ে বসবে। ভেতরের ঘর থেকে ওনার স্ত্রী ভয়ার্ত মুখে উঁকি দিতেই ডাক্তার শফিক ব্যস্ত গলায় বললেন,
— “আমার ব্যাগটা দাও, জলদি!”
মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ডাক্তারকে একপ্রকার গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে বসিয়ে তীব্র গতিতে গাড়ি ছোটাল আযরাফ। বাড়িতে পৌঁছে ডাক্তারকে টেনেহিঁ*চড়ে সোজা দোতলার রুমে নিয়ে এল আযরাফ।
ঘরে তখন লোকসানা বেগম তারীনের গায়ে ভেজা তোয়ালে জলপটি দিচ্ছেন। তারীন তপ্ত গা নিয়ে আবোল-তাবোল ফিসফিস করছে, চোখ দুটো আধা বোজা।
আযরাফ ডাক্তারকে তারীনের বিছানার পাশে একপ্রকার ঠেলে দিয়ে বলল,
—”চেক করুন। আমার বউ যেন আধঘণ্টার মধ্যে সুস্থ বোধ করে। একটা ভুল প্রেসক্রিপশন হলে আপনার পুরো প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেব।”
ডাক্তার শফিক ভয়ে হাত-পা কাঁপিয়ে চটজলদি স্টেথোস্কোপ বের করে তারীনের বুক-পিঠ পরীক্ষা করতে লাগলেন। থার্মোমিটার মুখে দিয়ে মিনিটখানিক পর বের করে চক্ষু চড়কগাছ।
— “একশো চার ডিগ্রি জ্বর! অতিরিক্ত মা*নসিক ধা-ক্কা কারণে এমনটা হয়েছে আমি একটা হাই- ডোজের ইনজেকশন দিয়ে দিচ্ছি, আর একটা সাপোজিটরি দিতে হবে। সকালের মধ্যে জ্বর নেমে যাবে। তবে উনাকে একদম মানসিক চাপে রাখা যাবে না।”
ইনজেকশন দেওয়া শেষ হলে ডাক্তার শফিক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। আযরাফ ড্রাইভারকে ডেকে ডাক্তারকে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিল। ডাক্তার শফিক ঘর থেকে বের হওয়ার আগে আযরাফের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবলেন, এই লোক ভালোবেসে আগলে রাখতেও পারে, আবার সেই ভালোবাসার জন্য দুনিয়া ধ্বংসও করে দিতে পারে।
ডাক্তার চলে যাওয়ার পর লোকসানা বেগম আযরাফের মাথায় হাত রেখে বললেন,
— “ই*নজেকশন দিয়েছে, এবার ঘুমাবে। তুইও একটু জিরিয়ে নে বাবা।”
লোকসানা বেগম ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই আযরাফ বিছানার কাছে এগিয়ে এলো। তারীনের শরীরে হাত দিতেই আযরাফের ললাটে বিরক্তির স্পষ্ট ভাঁজ ফুটে উঠল। ফুফুকে বলে রাখা হয়েছিল হাত-পা ভিজা কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছিয়ে দিতে, কিন্তু উনি কেবল কয়েকবার কপালে জলপট্টি দিয়েই চলে গেছেন।
হালকা একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল আযরাফ। নিজের বউ, তার প্রতিটা দায়িত্ব আর খেয়াল রাখার দায়ভারও তো কেবল তারই। অন্য কারো ওপর ভরসা করাটাই ভুল।
সে বিন্দুমাত্র দেরি না করে আলতো করে বাহু জড়িয়ে অচেতন প্রায় তারীনকে কোলে তুলে নিল। তারীনের শিথিল শরীরটা আযরাফের বুকের ওপর ঢলে পড়ল। আযরাফ ধীর পায়ে তাকে সোজা ওয়াশরুমে নিয়ে গেল।
বাথরুমের কাচের দরজাটা বন্ধ করে আযরাফ শাওয়ারটা অন করে দিল। মুহূর্তের মধ্যে ঝরনার শীতল জলধারা ওপর থেকে তীব্র বেগে আছড়ে পড়তে লাগল দুজনের ওপর।
ঠান্ডা পানির স্পর্শ লাগতেই ঝিমিয়ে থাকা তারীন হালকা শিউরে উঠল, মৃদু কোঁকানির শব্দ বের হলো তার বন্ধ ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে। কিন্তু আযরাফ তাকে আলতো শক্তিতে নিজের চওড়া বক্ষপিঞ্জরের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে রাখল, যাতে পানির তোড়ে সে পড়ে না যায়।
ঝরনার পানি আযরাফের চুল, মুখ আর শার্ট ভিজিয়ে তারীনের কাপড়ে গিয়ে মিশছে। তারীনের ভেজা চুলগুলো আযরাফের বুকের সাথে লেপ্টে আছে। আযরাফ নিজের এক হাত দিয়ে তারীনের ভেজা মুখটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরল। ঝরনার পানি ঝরছে তাদের দুজনেরই ওপর, আর সেই অঝোর ধারার মাঝেই আযরাফ তারীনের কানের কাছে মুখ এনে খুব নিচু, ভারী আর গভীর কণ্ঠে ফিসফিস করে বলে উঠল,
— “তোমাকে ভালোবাসা যদি আমার পাপ হয়, শ্রাবণকন্যা, তবে সেই পাপ আমি বুকের ভেতর র”ক্তের মতো বয়ে ক’ব’র পর্যন্ত নিয়ে যাব। তোমার ভালোবাসা আমাকে যতবার ছিন্নভিন্ন করুক, ততবারই তোমার দিকেই হাত বাড়াব। তোমার মায়ায় বারবার ডুবে যাব, জেনেও যে প্রতিবার উঠে আসব আরও একটু মৃ’ত হয়ে। তবুও তোমাকেই চাইব। কারণ তোমার দেওয়া ক্ষ’তগুলোও আমার কাছে প্রিয় সেগুলো অন্তত প্রমাণ করে, একদিন তুমি আমাকে সত্যিই ছুঁয়েছিলে।”
কথা কটি শেষ করে আযরাফ ঝরনার ঝরতে থাকা জলের মধ্যেই তারীনের ভেজা কপালে দীর্ঘক্ষণ ঠোঁট চেপে ধরে রইল। তারপর পরম যত্নে তাকে তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে আবার শোবার ঘরের দিকে নিয়ে চলল।
শোবার ঘরে নিয়ে এসে তারীনকে ড্রেস পড়িয়ে দিয়ে নিজেও ফ্রেশ হয়ে ওর পাশে শুয়ে পড়ে কম্বলটা জড়িয়ে নিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরল। অতঃপর ঘুমের অতলে চলে গেলো।
————-
ভোর পাঁচটা।
জানালার ফাঁক গলে ভোরের আবছা, ধূসর আলোটা সবেমাত্র ঘরের মেঝের ওপর এসে পড়েছে। ঘরের ভেতরের শীতল নিস্তব্ধতা এখনো কাটেনি।
তারীনের বন্ধ চোখ জোড়া ধীরে ধীরে খুলল। মাথার ভেতর জমে থাকা সেই ভারী যন্ত্রণা আর তপ্ত ভাবটা এখন আর নেই জ্বরটা পুরোপুরি ছেড়ে গেছে। কিন্তু শরীরটা এখনো বিষণ্নতায় ভারী হয়ে আছে।
চোখ মেলতেই তারীনের দৃষ্টি আটকে গেল খুব কাছে থাকা একটা চেহারার ওপর। আযরাফ তাকে শক্ত করে এক হাতে জড়িয়ে ধরে বুকের সাথে চেপে শুয়ে আছে। নিজের দিকে তাকাতেই তারীন খেয়াল করল, তার গায়ের সেই ভেজা কাপড় বদলানো হয়েছে; পরণে এখন একটা হালকা মিষ্টি রঙের সুতি নাইটি। অবচেতন মনেই সে বুঝে নিল, গতকাল রাতের ঝড়ের পর এই লোকটাই তাকে বদলে দিয়েছে। ভেবেই তার ভেতরের অভিমান আর অস্বস্তি আবার জেগে উঠল।
ঠিক সেই মুহূর্তে আযরাফের ধূসর চোখ জোড়া খুলে গেল। সে তারীনের চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকাল। তারপর হাত দিয়ে তারীনের কপালটা স্পর্শ করে অত্যন্ত নিচু ও শান্ত কণ্ঠে বলল,
— “জ্বর কমেছে।”
তারীন ঝটকা মেরে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে মুখ ঘুরিয়ে নিল। তারপর ত্যক্ত ও বিষাদগ্রস্ত কণ্ঠে বলল,
— “হুম। কিন্তু আপনি আমাকে এভাবে ধরে আছেন কেন? ছেড়ে দিন। আপনাকে এভাবে ছুঁতে দেখলে আমার চরম ঘৃ*ণা লাগে!”
আযরাফ একটুও রাগল না, বা হাত সরিয়ে নিল না। বরং তারীনের থুতনিটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরে ঠোঁটের কোণে খুব ক্ষীণ, নির্লিপ্ত একচিলতে হাসি ফুটিয়ে শ্লথ ও গভীর স্বরে বলল,
— “ঘৃ’ণা করো, স্বর্ণলতা। তোমার সেই ঘৃণাটুকুও আমি সযত্নে বুকে ধারণ করবো। তবে একটা কথা মনে রেখো আমাকে এড়িয়ে যাওয়ার সাধ্য তোমার যতই থাকুক, আমার থেকে দূরে থাকার ভাগ্য তোমার নেই। তুমি যতবার ছুটে যেতে চাইবে, আমি ততবারই তোমাকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনব। কারণ তুমি যে আমার অভ্যাস নও, আমার নে’শা আর নে’শা থেকে মানুষ কখনো পালাতে পারে না, স্বর্ণলতা।”
কথা কটি শেষ করে আযরাফ তারীনের গালের পাশে জমে থাকা এলোমেলো চুলগুলো পরম মমতায় সরিয়ে দিয়ে তাকে আবার নিজের বুকের আরো কাছে টেনে নিল। কাচের জানালার বাইরে তখন ভোরের বৃষ্টিটা একদম থেমে গিয়ে পাতার ডগায় জমে থাকা জলের ফোঁটাগুলো টপটপ করে নিচে ঝরে পড়ছে।
চলবে,,

