ভালোবাসার উল্টো পিঠে পর্ব-১৩+১৪

0
531

#ভালোবাসার_উল্টো_পিঠে
#তেরো

প্রজ্ঞা জামান দৃঢ়তা

ডক্টর হুমায়রা রিদ্ধির পাশে বসে তার হাতের উপর হাত রাখলেন। রিদ্ধি অনেকক্ষণ ধরে কাঁদছে। ডক্টর তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টাও করলেন না। তিনি চাইছেন সে কাঁদুক। ভেতরের সব যন্ত্রণা অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ুক।

অনেকক্ষণ পর ধীরে ধীরে যখন কান্না থেমে এলো। ডক্টর তার দিকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিলেন। চুপচাপ সে পানি নিয়ে সবটুকু এক নিশ্বাসে শেষ করে ফেলল। কান্নার বেগ কমে এসেছে।

কিছুক্ষণ নীরবে কেটে যাওয়ার পর তিনি রিদ্ধিকে বললেন, “আজ কি তুমি কিছু বলতে চাও?”

রিদ্ধি ধীরে ধীরে মাহিদের সাথে তার সম্পর্কের শুরুটা বলল।

“আচ্ছা রিদ্ধিমা আপনি কী জানেন এ পৃথিবীতে কোনো আপন মানুষই সারাজীবন কাছে থাকে না?”

রিদ্ধি ডক্টরের দিকে চমকে তাকাল। হুমায়রা সেটা বুঝতে পেরে বললেন, ” আমি আপনাকে পাঁচটা টাস্ক দেব। এর মধ্যে আপনি প্রতিটির ফলাফল প্রতিদিন আমাকে মেইল করবেন। আমি আজ আপনাকে বেশি
কিছু বলব না। শুধু বলব নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন। যে আসছে তার কথা ভাবুন। তাকে নিয়ে প্লানিং করুন। দেখবেন জীবনে কোনো কষ্টই বড় বলে মনে হচ্ছে না। যখন ভাববেন আপনি একটা মানুষকে ক্যারি করছেন। তাকে আপনার ভেতরে বড় করছেন। তখন আপনার মনে হবে আপনি তাদের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী যারা আপনাকে ঠকিয়েছে।

একবার ভেবে দেখুন তো আল্লাহ আপনাকে কতটা ক্ষমতা দিয়েছেন।”

রিদ্ধির হাতে ফাইলটা দিলেন তিনি। আজকের মতো সেশন এখানেই শেষ করলেন। তিনি জানেন যে গোড়া থেকে ভেঙে গেছে তাকে একদিনে নতুন করে গড়ে নেয়া সম্ভব নয়। তাই তিনি ধীরে ধীরে তাকে সব সমস্যা থেকে বের করবেন বলে ঠিক করেছেন।

রিদ্ধির সাথে সেই মেয়েটা এসেছে যে তার দেখাশোনা করে। আজ সে জানতে পেরেছে মেয়েটা একজন নার্স তার যত্ন নেয়ার জন্য নাজিফাকে রাখা হয়েছে।

এখানেও সে রিদ্ধির সাথে এসেছে। রিদ্ধি বের হয়ে যাবে এমন সময় ডক্টর হুমায়রা বললেন, “শুনুন রিদ্ধিমা? জীবন অনেক কঠিন। এখানে ভেঙে পড়া মানুষদের কোনো জায়গা নেই। এ দুনিয়া ভেঙে পড়া মানুষদের আরও ভেঙে গুড়িয়ে দেয়।

তার চেয়ে বরং নিজেকে যত তাড়াতাড়ি নিজের জন্য তৈরি করতে পারবেন ততই আপনার জন্য মঙ্গল।”

রিদ্ধি পেছনে মোড়ে ডক্টরকে একবার দেখলেন কী জানি হয়তো একটু হাসার চেষ্টাও করল। কিন্তু এত সহজে কী তার মুখে হাসি ফুটে!

রিদ্ধি চলে যাওয়ার পর সেই ছায়া মানবও তার পিছু পিছু চলে গেল।

★★★

সাতদিন পর।

রিদ্ধির মন আজ আগের থেকে একটু ভালো। ডক্টর হুমায়রার দেয়া টাস্ক গুলো আসলেই কাজে দিচ্ছে। সকালে ভোরে উঠে মেডিটেশন করে, তারপর হালকা এক্সারসাইজ প্রেগন্যান্ট অবস্থা যেগুলো করা যায় তেমন। একটা খাতায় একটা চার্ট তৈরি করে। সেখানে প্রতি ঘন্টার হিসাব রাখছে। যেমন কখন মন খারাপ করছে, কখন মন ভালো লাগছে। মন খারাপ বা ভালো দুটোর কারণ কী সেটা লিখে ডক্টরকে পাঠাচ্ছে। প্রতি ঘন্টায় একবার অন্তত হাসির চেষ্টা করছে। সত্যি বলতে এই টাস্ক গুলো আসলেই তাকে একটু হলেও ভালো রাখছে। অতীতে মন যাচ্ছে না। নিজেকে নিয়ে একটু-আধটু ব্যস্ত আছে।

★★★

রিতি মাহিদের প্রথম স্ত্রী। তারা এখন একসাথে সেই বাসায় রয়েছে। দুজনেই চেষ্টা করে যাচ্ছে কীভাবে রিদ্ধিকে খুঁজে বের করা যায়। জরিনাকে খুঁজছে কিন্তু পাচ্ছে না। কারণ জরিনা তার বাসা পাল্টে ফেলেছে। তাদের ধারণা রিদ্ধি জরিনার কাছেই আছে। অথচ তারা জানে না রিদ্ধি এখন তাদের থেকে অনেক দূরে।

★★★

রিদ্ধি বিকেলে ঘুমিয়েছিল হঠাৎ একটা স্বপ্ন দেখে উঠে বসল। স্বপ্নটা এমন যে, একটা কালো রঙের জামায় পা থেকে মাথা পর্যন্ত কেউ তাকে ডাকছে। আমার দিকে আসো, আমার দিকে আসো।”

ঘুম ভেঙেই উঠে বসল। পুরো শরীর ঘামে ভিজে গেছে। ভয়, আতংক সব যেন একসাথে চেপে ধরেছে। সাইড টেবিল থেকে পানির গ্লাস নিয়ে পানি খেয়ে গ্লাসটা রাখতে গেলেই দেখল টেবিলের উপর সেদিন নাফিজার রেখে যাওয়া সেই গিফট বক্সটা রাখা আছে। সেটা খোলার জন্য হাতে নিল।

বক্সটা খুলে সে অবাক হয়ে গেল। এটায় একটা পবিত্র কোরান রয়েছে। সে ভাবল কেউ তাকে কোরান কেন উপহার দেবে! তারপর দেখল একটা চিরকুট লেখা রয়েছে।

“যদি মনে হয় তুমি হেরে গেছো। যদি মনে হয় তুমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছো না। যদি মনে হয় তোমার সমস্যার সমাধান এ পৃথিবীর কোনো মানুষের কাছে নেই। তবে তুমি এই পবিত্র গ্রন্থ খুলে দেখো। আমি কথা দিচ্ছি তোমার প্রতিটি যন্ত্রণার, প্রতিটি অভিযোগের উত্তর এখানে দেয়া আছে।”

রিদ্ধি অবাক হয়ে চিরকুটটা পড়ছে, একবার, দু’বার, বারবার!

চলবে।

#ভালোবাসার_উল্টো_পিঠে
#চৌদ্দ
প্রজ্ঞা জামান দৃঢ়তা

ঝলমলে সোনালী রোদ্দুর্র জানালা গেলে মুখের উপর এসে পড়ায় রিদ্ধির ঘুম ভেঙে গেল। সারারাত ঘুমাতে পারেনি। দিনদিন শরীর ভারি হয়ে যাচ্ছে। তার সাথে ভেতরে থাকা প্রাণটা নানা রকম দুষ্টুমিতে তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।

রিদ্ধি তার সাথে কথা বলে। তার দুষ্টুমিতে রিদ্ধির মন সুখের ভরে যায়। মরে যাওয়ার আগেও মানুষের নতুন করে বাঁচতে ইচ্ছে করে।

কিন্তু যতই নিজেকে বুঝাতে চেষ্টা করে। বারবার মনে হয়ে যায় মাহিদের প্রতারণার কথা। সে ভাবে এ পৃথিবীতে শুধু মানুষই বোধহয় এতটা নিখুঁত অভিনয় করতে পারে। নয়তো মাহিদকে কেন সে চিনতে পারেনি।

স্কুলে লুকিয়ে নাম না লিখে ফুল দেয়া। চিরকুট লেখা
প্রতিটি চিরকুটে নিজের পরিচয় গোপন রেখে সবসময় তাকে কতটা চায় তা জানাত। আজ কোথায় গেছে সে ভালোবাসা! কোথায় গেছে সেই পাগলামি। তবে কী সব অভিনয়! অভিনয় নয়তো আর কি হতে পারে। কোনোদিন সে বুঝতে পারবে একটা মেয়ে যখন ঘর ছেড়ে আসে তখন তাকে কত কি পেছনে ফেলে আসতে হয়! কত স্মৃতি মুছে ফেলতে হয়! যে জানত তবে কী সে কোনোদিন এটা করতে পারত?

নানা ভাবনায় আবার রিদ্ধির মন বিষিয়ে উঠেছে। ডুকরে কাঁদতে ইচ্ছে করছে তাও পারছে না। হঠাৎ সেই বক্সের দিকে নজর পড়ল। কী যেন মনে করে ওযু করে এসে কোরান খুলে বসে পড়ল। পড়তে পড়তে একটা আয়াতে চোখ আটকে গেল। যার বাংলা অর্থ এই যে;

অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং ধৈর্য ধারণে প্রতিযোগিতা কর।” (সূরা আলে ইমরান ২০০ আয়াত)

এই আয়াতটা পড়ে কোরান বন্ধ করে ভাবতে লাগল। একটু আগে তার মনে যা নিয়ে অশান্ত ছিল। তা কী করে কুরআন বুঝে গেল! তারপর সেই চিরকুটটার কথা মনে পড়ে গেল। তোমার সব সমস্যার সমাধান এই পবিত্র কুরআনে আছে। তারপর একের পর এক পড়ে যেতে লাগল। যেন আজ তার মনের সব অজানা প্রশ্নের উত্তর জানতেই হবে।

তারপর আবার থমকে গেল।

অর্থাৎ “আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্যে মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদেরকে জেনে নেই এবং আমি তোমাদের অবস্থা পরীক্ষা করি।” (সূরা মুহাম্মাদ ৩১ আয়াত)

রিদ্ধির পুরো শরীরের পশম দাঁড়িয়ে গেছে। জীবন একটা পরীক্ষা মাত্র? তার পুরো জীবনটাই কী তবে পরীক্ষা ছিল! ধৈর্যই কী তবে জীবনকে সুন্দর করে তোলে! হঠাৎ ফোনের শব্দে ভাবনায় ব্যাঘাত ঘটে। কোরান বন্ধ করে যত্ন করে বক্সে রেখে ওঠে গেল।

ফোন দেখে বুঝতে পারল আজ ডক্টর হুমায়রার সাথে সেশন রয়েছে। সে তো কোরআনে এতটাই মশগুল ছিল যে ভুলেই গিয়েছিল সেটা। ফোনটা সেদিন নাফিজা তাকে এনে দিয়েছে। সে নিতে চায়নি। যার কথা বলার কেউ নেই। সে ফোন দিয়ে করবেটা কী! কিন্তু নাফিজা অনেক করে বুঝিয়ে বলেছে সে যখন ইচ্ছে ডক্টর হুমায়রার সাথে কথা বলতে পারবে। তাছাড়া ফোনে যা ইচ্ছে দেখতে পারবে এতে অন্তত সময় কেটে যাবে। তাই সে নিল। একটাবারও জিজ্ঞেস করল না। ফোনটা কে দিয়েছে। নাফিজা অবাক হয়ে যায় এ মেয়েটা এখানে এসেছে প্রায় দু’মাস হতে চলল। অথচ একটা বার এটা কার বাড়ি, কে তাকে বলেছে দেখাশোনা করতে কিছুই জিজ্ঞেস করেনি।

নাফিজা ভাবে পৃথিবীতে অনেক রকম মানুষ দেখেছে। এই মেয়েটা একটু বেশি অদ্ভুত! হয়তো জীবনের কাছ থেকে ধোঁকা খেয়েই এমন পাথর হয়ে গেছে।

ডক্টর হুমায়রাকে আসছি বলে টেক্সট করে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিল রিদ্ধি। বাড়িটা অনেক বড়। সে দোতলায় থাকে। এই পর্যন্ত তিনদিন বাইরে গিয়েছে। গার্ডস, কাজের সাহায্যকারি, দারোয়ান, বাদে তেমন কাউকে কখনো চোখে পড়েনি। অবশ্য সে কোনোদিকে তাকায়ও না। তার ভাবনা এখন থেমে গেছে। কে আছে, কে নেই, কী হচ্ছে, কী হবে এসব ভাবতে আর ইচ্ছে করে না। শুধু শুধু ভেবে কী হবে। হতে পারে সে কোনো ভালো মানুষের কাছে আছে। নয়তো কোনো খারাপ মানুষের কাছে। যে তাকে কোনো প্রয়োজনে আশ্রয় দিয়েছে। জীবনের সবচেয়ে খারাপ রূপ দেখা শেষ। এখন আর কিছুতেই ভয় করে না।

নাফিজাকে নিয়ে বাইরে এসে দেখল আগে থেকেই তাদের জন্য গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। চুপচাপ ওঠে বসল।

★★★

আগের বার যখন ডক্টর হুমায়রার চেম্বারে এসেছিল তখন রিদ্ধির অবস্থা বিধ্বস্ত ছিল। কোনোকিছুর দিকে তাকানোর সুযোগ হয়নি। তাই হয়তো বুঝতে পারেনি ডক্টর হুমায়রার কালো বোরখায় আবৃত। শুধু ফর্সা সুন্দর হাসি-হাসি মুখখানা দেখতে পাচ্ছে।

রিদ্ধিকে দেখে নিজেই এগিয়ে এসে বললেন, “আসসালামু আলাইকুম।”

“ওয়ালাইকুম আসসালাম।”

“কেমন আছেন রিদ্ধিমা?”

“জি ভালো। আপনি? ”

“আলহামদুলিল্লাহ।”

দুজনে মুখোমুখি বসল। নাফিজা করিডরে রিদ্ধির জন্য অপেক্ষা করছে। ডক্টর জানেন তার সামনে পেশেন্টের মুখ থেকে কথা বের করতে পারবেন না।

“তারপর রিদ্ধিমা এখন কেমন ফিল করছেন?”

“ভালো ডক্টর।”

“হোম ওয়ার্ক গুলো দেখতে পারি?”

রিদ্ধিমা ব্যাগ থেকে নোট প্যাড বের করে দেখাল।

ডক্টর তা দেখে মিষ্টি হেসে বললেন, “খুব ভালো উন্নতি হয়েছে। আই হোপ সামনে আরও ভালো হবে। কিন্তু রিদ্ধিমা এখানে আপনি ‘ফিয়ার’ কেন লিখেছেন? আপনি কি নিয়ে ভয় পেয়েছেন?”

নোটে মার্ক করা জায়গাটা দেখালেন তিনি।

রিদ্ধি অস্বস্তি নিয়ে বলল, “আসলে আমি একটা স্বপ্ন দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম তাই।”

“কেমন স্বপ্ন?”

“কালো জামায় আবৃত একজন লোক আমার দিকে আসছে।”

“সে কী আপনার কোনো ক্ষতি করেছে?”

“না।”

ডক্টর হেসে বললেন, “তবে ভয় কেন পাচ্ছেন? হতে পারে সে আপনার দিকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসছে।”

রিদ্ধি ভাবল হুম এটা আসলেই হতে পারে। সে কেন এমন করে ভাবল না। আসলে সব খারাপ দেখতে দেখতে এখন ভালোও খারাপ মনে হচ্ছে।

“জানি না ডক্টর। অল্পতেই ভেঙে পড়ছি।”

ডক্টর বললেন, “যখন তুমি কষ্ট পেতে পেতে ভেঙে পড়ো। সেই যন্ত্রণা থেকে বের হওয়ার সব চেষ্টা করো কিন্তু তাও সেসব তোমার পিছু ছাড়ে না।
যখন মনে হয় তুমি কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছো না। তবে মনে রেখো এমন কেউ আছেন যিনি জানেন কোনটা তোমার জন্য ভালো আর কোনটা মন্দ। ধৈর্য ধরো তার কাছে সব যন্ত্রণা তুলে ধরো। তার ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত করো। যখন তুমি তার হয়ে যাবে, তখন দেখবে তিনি তোমার জন্য এ দুনিয়ার সব খুশি তোমার পায়ের কাছে এনে ফেলছেন।
এটাই তো হয় যা আমরা বুঝতে পারি না কিংবা বুঝতে চাই না।”

রিদ্ধি বারবার আওড়াল,”ধৈর্য,ধৈর্য,ধৈর্য। আজ সকাল থেকে এই শব্দটাই কেন আমার কাছে ঘুরে ফিরে আসছে?”

ডক্টর হুমায়রা তা শুনে বললেন, “রিদ্ধিমা তুমি কী জানো? তোমার যা চাই তার জন্য যদি চেষ্টা করো তবে এই দুনিয়া তা তোমাকে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়। ব্যস তোমায় আল্লাহর নিকট চাইতে হবে। তার জন্য নিজেকে উৎসর্গঃ করতে হবে।”

“এমনটা সত্যি হয় ডক্টর?”

“অবশ্যই হয় রিদ্ধিমা। আল্লা তা’আলা যা তোমার কাছ থেকে দূরে করে দিয়েছেন তার জন্য ধৈর্য ধরো। আর যা তোমায় দিয়েছে তার মধ্যে নিজের ভালো থাকা খোঁজার চেষ্টা করো। দেখবে জীবন সহজ হয়ে যাবে। যা তোমার জন্য ক্ষতিকর তা তুমি না চাইলেও তোমার নিকট থেকে চলে যাবে।”

আজ রিদ্ধির মন অনেকটা হালকা হয়ে গেছে। অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছে।

সে চলে যাওয়ার সময় ডক্টর তার হাতে একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে বললেন,”তোমার জন্য উপহার। আমি বিশ্বাস করি এই উপহার পরলে তোমাকে সবচেয়ে বেশি সুন্দর দেখাবে।”

তার বলা দেখে রিদ্ধি বারন করতে পারল না। সে চলে যাওয়ার পর মেরুন রঙের শার্ট, নিল জিন্স পরা স্মার্ট একজন এসে ডক্টরের সামনে দাঁড়িয়েছে। শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গুটানো যা তার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ডক্টর বললেন, “শাহান ও একদম ঠিক হয়ে যাবে। কোনো চিন্তা করিস না।”

শাহান তার কথায় খুশি হলো বলে মনে হলো না। তার মুখখানা তখনও গম্ভীর।

চলবে