#আমার_গল্পে_তুমি
#সুমাইয়া_সুলতানা_সুমী(writer)
#১৩_পর্ব
,
আরে আপনি দেখি বাড়ির মধ্যে চলে আসছেন যান যান বাইরে যান এবাড়ির কেউই এখন বাথরুম পরিষ্কার করাবে না আপনি বরং অন্য বাড়ি দেখুন।
হোয়াট?? হাও ডেয়ার ইউ তোমার সাহস কী করে হলো আমার সাথে এভাবে কথা বলার ড্যামেইট।
আরে ব্যাস আমাদের দেশটা দেখি অনেক উন্নত হয়ে গেছে আজকাল ডোম রাও ইংরেজি তে কথা বলে, কিন্তু আপনার গলাটা না কেমন যেনো চেনা চেনা লাগছে ঠিক আমার ওই রাগী বসটার মতো।
তুমি কখনোই শুধরাবে না,,, এই বলে আর্দ্র নিজের মুখ থেকে ফেনা নিয়ে ইয়ানার সারা মুখে ফেনা দিয়ে মাখিয়ে দিলো।
আরে এটা কি করলেন আপনি??
এইতো এখনতো ঠিকি চিনতে পেরেছো, এতোক্ষণ নাটক টা না করলেই পারতে,,
মা মা,, ভাবি কোথায় থাকো সব আমার রুমের শাওয়ার অফ হলো কীভাবে??
কিরে এতো চেঁচাচ্ছিস কেনো,,,সেকিরে তুই এমন অর্ধেক গোসল করে ঘুরে বেড়াচ্ছিস কেনো??
আর ইয়ানা তুমিতো দেখি গোসল না করেই হাতে মুখে ফেনা নিয়ে রেখেছো।
স্টপ , তোমরা একটু চুপ করবে,, আমার রুমের শাওয়ার চলছেনা কেনো কে অফ করেছে??
আহ আর্দ্র এতো রেগে যাচ্ছিস কেনো দেখছি আমরা এতো চেঁচানোর কি আছে, তুই রুমে যা আমরা দেখছি।
আর শোনো ভাবি তোমার এই টিউশন টিচার কে বলে দাও যেনো পরবর্তী তে আমার সাথে যেনো লাগতে না আসে, এখন তো শুধু ফেনায় মুড়ায়ছি এরপর,,, থাক বললাম না,, আমি রুমে যাচ্ছি যলদি কল ঠিক করো আমি শাওয়ার নেবো।
হমমমম আমার বয়েই গেছে ওনার সাথে লাগতে আর আমাকে কিছু বললে আমি ছেড়ে দেবো নাকি।
এই তোমরা একটু বলবা কি হয়েছে আমার রুমে শাওয়ারটা হঠাৎ করে অফ হয়ে গেলো কেনো?? অনিক ও দরজা দিয়ে মুখ বার করে বলল ওর গায়েও ফেনা।
নিন এটারই বাকি ছিলো,,, কিচ্ছু হয়নি তুমি রুমে যাও মনে হয় কেউ ভুল করে লাইন অফ করে দিয়েছে।
অন্তরা তুমি রুমে গিয়ে অনিককে পানি দাও আমি রহিমকে(কাজের লোক) বলছি ছাঁদে গিয়ে দেখে আসতে,, আর ইয়ানা তুমিও গিয়ে মুখটা ধুয়ে নাও।
ঠিক আছে আন্টি।
,,,,,,,,,,
এর মাঝে কেটে গেছে আরো কয়েকটা দিন এখনতো ওবাড়ির সবার সাথে ইয়ানার বেশ মিল হয়ে গেছে সবাই ইয়ানাকে বেশ ভালোবাসে শুধু মাএ আর্দ্র বাদে,, অনিক তো ইয়ানাকে ছোট বোন বলে আর ইয়ানা অনিককে এতো ঝুঁকি নিয়ে বাঁচিয়েছে সেটা জানার পরতো এখন সবাই আরো বেশি করে ইয়ানাকে চোখে হারায়, পরশতো তার কিউটিপাই বলতে অঙ্গান ইয়ানা বেশির ভাগ সময় এবাড়িতেই কাটায়।
আরে ইয়ানা থাক তুমি রান্না করছো কেনো তুমি আমাদের গেস্ট যাও ডয়িং রুমে গিয়ে পরশের সাথে বসে কার্টুন দেখো।
আপু আমি কি ছোট নাকি যে কার্টুন দেখবো,, আর সারা সপ্তাহে এই একটা মাএ দিনেই ছুটি পাই তাই দিনটা শুয়ে বসে থেকে নষ্ট করতে চাইনা,, ওহ হ্যাঁ আম্মু তোমাদের জন্য তিলের নারু দিয়েছে ব্যাগে রেখেছি দাঁড়াও আমি এক্ষুনি আনছি।
আরে আস্তে যাও ইয়ানা পরে যাবে তো,, এই মেয়েটাও না বড্ড বেশিই ভালো।
,,,,,
এ বাড়ির কারো দেখছি সময়ের কোনো জ্ঞানই নেই সেই কখন কফি চেয়েছি এখনো আসার নামে খোঁজ নেই আমাকেই কিচেনে গিয়ে দেখে আসতে হবে কফি কতদূর।
এই কিউটিপাই আস্তে আসো নইলে চাচ্চুর সাথে বিশাল সংঘর্ষণ হবে,, এই এই যাহ বলতে বলতে ধাক্কা লেগেই গেলো,,, কান হাত দিয়ে বসে থাকি এখনি শুধু হবে দু পক্ষের বিশাল লড়াই।
তোমার নাম মিস বকবক এর সাথে চলন্ত ট্রেন রাখাও উচিত ছিলো,, এটা বাড়ি এখানে একটু আস্তে হাঁটতে পারো না?? না সেই ঘুরেফিরে আমার উপরেই পরবে।
এই শুনুন আমার মাথাটা কি আপনার কাছে নারকেল মনে হয় যে আমি ইচ্ছে করে লোহার সাথে ধাক্কা মারবো যেনো ফেঁটে যায়,,, আপনার গায়ে গোশত বদলে শুধু হাড় মনে হয়,, উফ আমার কপালটা আলু হয়ে গেলো।
তোমার সাথে ফাও পেচাল পারার সময় আমার নেই সরো সামনে থেকে,, ভাবি আমার কফিটা কোথায়।
আমার ও যেনো ওনার সাথে কথা বলার জন্য ঘুম নেই হুম??
একি চাম্প তুমি এভাবে কানে হাত দিয়ে বসে আছো কেনো?? এদিকে যে ফোন বাজছে শুনতে পাচ্ছো না??
ওহ তোমাদের ঝগড়া শেষ?? আচ্ছা আমি ফোনটা ধরছি,, হ্যালো পরশ স্পিকিং।
,,,,,,,,,,,, ওপাশে।
কিহ কবে??
,,,,,,,,,,
আচ্ছা আমি সবাইকে বলে আসছি,,, না কাউকে ফোন দেবো না আমি এখন রাখছি।
কে ফোন দিয়েছিলো চাম্প??
সরো সরো মাম্মাম কে বলতে হবে যে লিজা পিজ্জা আসছে,,
এই লিজা পিজ্জা টা আবার কে?? কি জানি হবে হয়ত কেউ,, যায় নারু গুলো নিয়ে আপুকে দিয়ে বাড়ি যায় অনেক্ক্ষণ হলো আসছি।
এই নাও আপু নারু আমি তাহলে যায় বলো অনেকক্ষণ হলো আসছি এবার বাড়ি না গেলে আম্মু রাগ করবে।
সেকি এখনি চলে যাবা?? না না এখন যাওয়া হবে না আমার কথায় যেমন এসেছো তেমনি আমার কথায় যাবা ওকে।
কিন্ত,,,,
কোনো কিন্তু নয় চুপ করে বসে থাকো।
সে নাহয় থাকলাম,, আচ্ছা আপু এই লিজা পিজ্জা টা কে??
তোমাকে নিশ্চয়ই পরশ বলেছে?? এটাকে নিয়ে যে কি করি আসলে লিজা হলো আমার শশুর মশায়ের একমাএ বন্ধুর একমাএ মেয়ে আর তোমার বস মানে আর্দ্রর বন্ধু।
বাবাহ ওনার আবার বন্ধুও আছে?? ভাবা যায়।
তোমার এতো ভাবা লাগবে না তুমি বরং এই কফিটা আর্দ্র কে দিয়ে আসো অনেকক্ষণ আগে কফি চেয়েছে এবার না দিলে তুলকালাম বাঁধাবে।
তুমি কি আমাকে মারার প্ল্যান করেছো আমার এতো তারাতারি মরার সখ নেই তোমার দেবর কে তুমিই কফি দিয়ে আসো আমি পারবো না বাবা।
প্লিজ বাবু একটু দিয়ে আসো আমি রান্নাটা নামিয়ে আবার রুমে যেতে হবে তোমার ভাইয়া ডাকছে।
আমি যাবো???
হুুমম তুমিই যাবে আর আমার দেবর বাঘ না ভাল্লুক যে তোমাকে খেয়ে ফেলবে,, এই নাও কফি আর যাও দিয়ে আসো, আমার অনেক কাজ আছে,, মা ও নেই যে ওনাকে বলবো।
কি আর করার ইয়ানা শেষ মেষ এই ছিলো তোর কপালে যাহ আবার একটা ঝড় সামলানোর জন্য তৈরি হয়।
,,,,,,,,,,,
এই যে মিস্টার এই নিন আপনার কফি এখানে রেখে গেলাম।
আস্তে আমি কাজ করছি দেখতে পারছো না,, চুপচাপ কফি রেখে চলে যাও।
আমার এখানে থাকার কোনো ইচ্ছে নেই হুমম??
ইয়নার কথায় আর্দ্র রেগে বিছানা থেকে নেমে ইয়ানার একদম কাছে এসে ইয়ানাকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে বলল।
মিস বকবক তোমার এই বকবকানি আমার সামনে একদম দেখাবে না নয়ত।
ত,,,তো নয়ত ক,,কি কি করবেন।
কি করবো সেটা সময় হলেই বুঝবে,,।
ক,,কিচ্ছু করতে পারবেন না, আর আপনি আমার এতো কাছে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো দূরে যান আমার কেমন যেনো লাগছে।
কেমন লাগছে?? মুখটা আরো এগিয়ে এনে ভ্রু কুঁচকে বলল আর্দ্র।
সেটা আপনাকে বলবো কেনো আপনি সরুন তো সামনে থেকে দূর যান একদম অনেক দূরে এভাবে হুটহাট আমার কাছে আসবেন না।
এই শোনো তোমার মতো মেয়ের প্রতি আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই ওকে সো অন্যকিছু ভাবা বাদ দাও।
আমি মোটেও অন্য কিছু ভাবছি না আপনি বরং অন্য কিছু মিন করছেন।
বাদ দাও তোমার সাথে কথা বলার ইচ্ছে আমার নেই,, গেট আউট,, আর হ্যাঁ যাওয়ার আগে দরজাটা দিয়ে যাবে।
পারবো না পারলে নিজে দরজা দিয়ে আসেন ওফ আজকে একটুর জন্য হাঁটুফেল থুরি হার্টফেল করছিলাম,,।
চলবে,,,,,,,??