মেঘ ভাঙ্গা রোদ্দুর পর্ব-৩৯+৪০ এবং বোনাস পর্ব

0
735

#মেঘ_ভাঙ্গা_রোদ্দুর। [৩৯]

আমি বিংশ শতাব্দীর মানুষ, কিন্তু এখনো আমি কৃত্রিম আলোয় ডুবে যাই নি।আর সবার মতো ফ্লোরোসেন্ট আলো আমাকে ভোলাতে পারে নি।আদিম সেই চন্দ্রালোকিত শিহরণের কথা।
অনাদিকাল ধরে শরীরে এক আশ্চর্য শিহরণ বোধ করে।
আমি সেই মানুষগুলোর একজন, যারা এখনো আকাশ দেখতে ভুলে যায় নি।এখনো যারা রোমাঞ্চ খোঁজে জোছনায়, পূর্ণিমায়।

ফোনের অপর পাশ থেকে কথাগুলা বলল রাহনাফ। রাহনাফের কথা শুনে মেহেরের মনে হীম শীতল শিহরণ বয়ে যায়। অধোর কাঁপছে, কথাগুলো গলায় এসে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে আছে। কথাগুলো যে তাকে ঘিরেই বলা হয়েছে এটা বুঝতে অসুবিধা হয়নি মেহেরের। মেহেরকে এমন চুপচাপ দেখে ওপাশ থেকে রাহনাফ বলে উঠে,

– লেখিকার মন খারাপ বুঝি।

স্মিত হাসে মেহের। সে রাহনাফের কথার কোন জবাব দিচ্চে না। ইচ্ছে করেই দিচ্ছে না। সারাদিন একটি বারের জন্যে মেহেরের খোজ নেয়নি সে। আর এখন জ্যোৎস্নাময় রাতে রোমান্টিক কথা বললেই সব ভুলে যাবে। মোটেও না। দূর আকাশের ওই চাদের দিকে তাকায় মেহের। লম্বা করে শ্বাস টেনে বলে,

– আকাশের ওই মিটিমিটি তারার সাথে কইবো কথা।তোমার স্মৃতির পরশভরা অশ্রু নিয়ে গাঁথবো মালা নাই-বা তুমি এলে।

মেহেরের এমন অভিমানী কথা শুনে মৃদু হাসে রাহনাফ। অতঃপর বলে,

– অভিমানীনি।

কোন জবাব দেয়না মেহের। মোবাইলে কানের কাছে ধরে বসে থাকে। ওপাশ থেকে রাহনাফও তাই। কেউ কোন কথা বলছে না। এভাবেই চলছে সময়।

– নিচের দিকে তাকাও লেখিকা সাহেবা। প্রায় ঘন্টা খানেক পা বলে রাহনাফ। মোবাইলটা তখনো মেহেরের কানের কাছেই ছিলো। রাহনাফ কথা বলছে না দেখে সে মোবাইল কানের কাছে ধরে দু-চোখ বন্ধ করে রেখেছে। দু-চোখে নেমে আসছে রাজ্যের ঘুম। হঠাৎ করেই রাহনাফের কন্ঠ শুনতে পেয়ে চমকে উঠে সে। এপাশ ওপাশ তাকিয়ে মোবাইলের দিকে তাকায়। রাহনাফ এখনো কে কাটে নি, মানে মোবাইল থেকে আওয়াজ আসছে। আরো একবার পরখ করে নিল সে মোবাইলটা। তারপর বলল,

– রাহনাফ আপনি এখনো কল কাটেন নি।

– নিচে তাকাও।

– কেন! কি আছে নিচে।

– তাকালেই দেখতে পাইবা। তাকাও!

রাহনাফের কথা মত নিচের দিকে তাকায় মেহের। মেহেরের বারান্দা বরাবর নিচে তাকাতেই অবাক হয়ে যায় সে। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় রাহনাফের হাসি মুখটা জ্বলমল করছে। গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাহনাফ। কিন্তু রাহনাফ তো তার বাড়িতে! তাহলে সে এখানে কি করছে! এটা তার মনের ভুল নয়তো। নিজের হাতে চিমটি কাটে মেহের। ব্যাথা লাগছে। তার মানে সত্যিই রাহনাফ এখানে। আনমনে হেসে উঠে মেহের। অধোরে হাসি ঝুলিয়ে বলে উঠে,

– রাহনাফ আপনি এখানে!!

স্মিত হাসে রাহনাফ। অতঃপর বলে,

– বাহিরে আসতে পারবে।

– এখন অনেক রাত। কেউ দেখতে পেলে বদনাম হবে।

– বদনাম হলে হোক না! মন কুটিরে জায়গা করে দিব তোমায়। বলতে ইচ্ছে করলেও সেটা মুখে প্রকাশ করল না রাহনাফ কল কেটে মোবাইলটা পকেটে পুরে মেহেরের রুমের দিকে অগ্রসর হতে লাগল। সামনে তাকা দেয়াল ডেঙ্গিয়ে মেহেরের রুমে চলে আসে রাহনাফ। মেহের প্রথমে ভয় পেলেও পরে সে নিজেকে সামলে নেয়। মেহের ও রাহনাফ দুজনে মিলে মেহেরের বারান্দায় জ্যোৎস্না বিলাস করছে। রাহনাফের কাঁধে মেহেরের মাথা। আর রাহনাফ এক হাতে মেহেরকে আগলে ধরে অন্য হাতে মেহেরের এক শক্ত করে ধরে রেখেছে। কিছুক্ষণ পর রাহনাফ তার পকেট থেকে একটা রিং বের করে মেহেরের হাতে পরিয়ে দিয়ে হাতের উল্টোদিকে আলতো করে নিজের অধোর ছুঁইয়ে দেয়। লজ্জা পেয়ে মেহের রাহনাফের বুকে মুখ লুকার। স্মিত হাসে রাহনাফ। আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,

– ও আকাশ প্রদীপ জ্বেলোনা, ও বাতাস আঁখি মেলো না
আমার প্রিয়া লজ্জা পাচ্চে যে।

৪৯
– আজ বৃষ্টির মাঝে সকাল সাজে, মেঘের শবদ্দ খানেতে বাজে। কিছু বিরহের স্মৃতি বুকের মাঝে প্রণয় সৃষ্টি করে রাহির। মনের ভিতরে কষ্টের ঘন্টা বাঝতে শুরু করে। তার জীবনটা কেন প্রেমহীন, কেন তার জিবনে প্রিয় মানুষের ভালোবাসা নেই। চোখ মেলে জানালার থাই গ্লাসের দিকে তাকায় রাহি। বৃষ্টির ফোটা গ্লাসের উপর পরে সেটা শিড় বেয়ে নিচে পরে যাচ্ছে। বাহিরে থাকা গাছগুলাকে আজ সতেজ লাগছে। বিছানা ছেড়ে উঠে জানালার কাছে যায় সে। জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টিকে ধরার ব্যার্থ চেষ্টা করে। হাত থেকে বৃষ্টির ছিটা এসে তার মুখে পরছে। আজ সকালটা বেশ অন্যরকম লাগছে রাহির। সুন্দর স্মৃগ্ধ বেশ ফুরফুরে সকাল। বৃষ্টির পানি গায়ে মাখছে রাহি। ইশ কতদিন এমনটা খেলা হয় না। এর আগের বছর যখন রাহি বৃষ্টিতে ভিজত তখন তার মা তাকে কত বকাঝকা করবো। তাই চুপিচাপি বৃষ্টিতে ভিজতো। মা যখন কিছু বলতো তখনি সে তার বাবার পাশে গিয়ে লুকাতো। অতীতের কথা মনে পড়তেই দু-চোখ অশ্রুতে ভরে উঠে তার। মাস কয়েকের মাঝে তার জিবন কতটা বদলে গেছে। কত বড় হয়ে গেছে রাহি। ভাবতেই স্মিত হাসে সে। ইশ এসব ভাবতে গিয়ে সে ভুলেই গিয়েছে তার বাবার কথা। রাহিকে হসপিটালে যেতে হবে।সৈয়দ নওশাদকে সুস্থ করে তুলার জন্যে ফিজিওথেরাপি দেওয়া হয় । জানালা ছেড়ে এসে ওয়াশরুমে ডুকে পরে।

ড্রয়িংরুমে পা রাখতেই থমকে যায় রাহি। চারিদিকে স্তব্ধ, শূন্যতা অনুভব করে সে। সামনে থাকা লোকটাকে দেখে যতটা না রাগ হচ্ছে তার চেয়ে বেশী ঘৃনা হচ্চে। রাগে নিজের হাতের শক্ত মুঠি করে নেয় সে। নাক ফুলিয়ে দাত কটমট করে দু-পা সামনে এগিয়ে লোকটার নিকটে চলে আসে। আর তখনি সে খেয়াল করে সুফায় বসপ আছে রাহনাফ। নিচের দিকে তাকিয়ে বড় বড় করে শ্বাস ত্যাগ করছে সে। দু-হাতে শক্তকরে কুশন জড়িয়ে রেখেছে। দেখে মনে হচ্ছে এই কুশন খুন করার মতো অপরাধ করেছে তাই তার উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যে তাকে এভাবে শাস্তি দিচ্চে রাহনাফ। রাহি তার দৃষ্টি সড়িয়ে তার দাদির দিকে নিক্ষেপ করে। দাদি তখন ড্রয়িংরুমের এক কোনে জড়সড় হয়ে দাড়িয়ে আছে। রাহি তার রাহনাফকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে,

– রাহনাফ তুমি এখানে!

মাথা তুলে সামনে তাকায় রাহনাফ। তার চোখের দিকে তাকাতেই একটু পিছনের দিকে ঝুকে পরে রাহি। রাহনাফের চক্ষুদ্বয় লাল বর্ণ ধারন করেছে। মনে হচ্ছে কেউ ওর চোখে লাল মরিচ গুলিয়ে রেখেছে। চোয়ালগুলো শক্ত। ঘারের রগগুলো স্পষ্ট দেখতে পাচ্চে রাহি। রাহি কিছুটা ঘাবড়ে যায়। সে বলে,

– রাহনাফ তুমি ঠিক আছো তো। কি হয়েছে তোমার? তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?

রাহির প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করে উঠে দাঁড়ায় রাহনাফ। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আফিয়া আহমেদের দিকে কঠিন দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রাহিকে বলে উঠে,

– আমার তোমাকে কিছু বলার আছে রাহি।

– হ্যাঁ বল না কি বলতে চাও।

রাহির দৃষ্টি তখন রাহনাফের দিকে। আর রাহনাফ এখনো কঠিন দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রেখেছে আফিয়া আহমেদের দিকে।আফিয়া আহমেদ করুন চোখে রাহনাফের দিকে তাকিয়ে দুইদিকে মাথা নাড়িয়ে না করে। রাহনাফ যেন রাহিকে কিছু না বলে। রাহনাফ তার দৃষ্টি সড়িয়ে রাহিকে বলে,

– কোথায় যাচ্ছ এখন।

– হসপিটালে, বাবার কাছে।

– তাহলে চল, যেতে যেতে বলা যাক।

– হুম চল। অতঃপর রাহি আর রাহনাফ দুইজনেই চলে যেতে নেয়। মেইন ডোরের কাছে আসতেই আফিয়া আহমেদ পিছন থেকে রাহিকে ডাক দেয়। দাঁড়িয়ে যায় রাহি। পিছনের দিকে ঘুরে দাঁড়াতেই সে বলে উঠে,

– এখনো আমার উপর রেগে আছিস তুই মা।

বড় করে শ্বাস ত্যাগ করে রাহি। অতঃপর বলে,

– তুমি আমার মা। আমাকে জন্ম দিয়েছো লালন পালন করে বড় করে তুলেছো। আমি কি করে তোমার উপর রেগে থাকবো মা। এটা তোমার বাড়ি তুমি চলে এসেছো ভালো হয়েছে।

– আমাকে নিয়ে যাবি না নওশাদের কাছে।

– এইকয়দিন তুমি কোথায় ছিলে মা, যখন আমার বাবা হাসপাতালে মৃত্যর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। কোথায় ছিলে তুমি। বাবার পাশে না থেকে কোথায় উধাও হয়ে গিয়েছিলে তুমি। স্ত্রী হিসাবে কি এটা কোমার কর্তব্যের মধ্যে পরে না।

– আমায় নওশাদের কাছে নিয়ে চল। কান্নামিশ্রত কন্ঠ আফিয়ার।

রাহি কিছু বলে না। নিঃপলক তাকিয়ে থাকে রাহনাফের দিকে।

চলবে,,,,,

#মেঘ_ভাঙ্গা_রোদ্দুর। [৪০]

হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরে রুমের ভিতরে নিজেকে বন্ধ করে রেখেছে রাহি। আফিয়া আহমেদ এখনো হসপিটালেই রয়েছে। তিনি নওশাদের সাথেই থাকতে চান। রাহিও তার সাথে কোন কথা বলে নি। তাকে হসপিটালে রেখে চলে এসেছে বাড়িতে। সেই বাড়িতে আসার পর থেকেই নিজেকে রুমের ভিতরে আটকে রেখেছে। বিছানায় উবু হয়ে শুয়ে কাঁদছে রাহি। তার ভাবতেও অবাক লাগছে আফিয়া আহমেদ তার মা।তাকে মা বলে স্বীকার করতে ঘৃণা হচ্ছে তার। আপসোস হচ্ছে আজ নিজের ভাগ্যের উপর। মেহের তার বোন কিন্তু মা-টা কেন তার হলো না। মেহেরের উপর হিংসে হচ্ছে রাহির। কারন মেহেরের এমন একটা মা আছে যাকে নিয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে বাচা যায়। আজ রাহির মনে হচ্ছে এই বাড়ি গাড়ি অর্থ প্রতিপত্তির পরিবর্তে যদি সৈয়দা মাহবুবা তার মা হতো তাহলে সে হত পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান ব্যাক্তি। যার কাছে এমন একজন সম্মানিত, প্রতিষ্ঠিত মা আছে। কিন্তু আফসোস সব থেকেও আজ রাহির কিছুই নেই। যা আছে সবই এক একটা মুখোশ। মুখোশের আড়ালে থাকা লোকটা চেনতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে তার। বিছানা ছেড়ে ওয়াশরুমে চলে যায় রাহি। শাওয়ার ছেড়ে দিয়ে শাওয়ারের নিচে বসে থাকে সে। সব সময়ের মত আজও হট শাওয়ার নিচ্ছে সে। কিন্তু প্রতি দিনের মত আজ তার শরীর সতেচ হচ্চে না। কারন আজ ক্লান্তিটা তার মনের। এই ক্লান্তি কোন দিন দূর হবে না। শাওয়ারের নিচে বসে কাঁদতে থাকে রাহি। চোখের পানিগুলো শাওয়ারের পানির সাথে মিশে যাচ্ছে তাই হয়তো তার কান্নাটা দেখা যাচ্ছে না। দরজার ওপাশ থেকে রাহির দাদি এসে দরজা ধাক্কাচ্ছে। সেই হসপিটাল থেকে এসে রুমের দরজা বন্ধ করে রেখেছে। এখনো খোলার কোন নামই নেই। লাঞ্চটাও এখনো করা হয়নি কারোর। ভিতর থেকে রাহির কোন রিসপন্স না পেয়ে দাদি সার্ভেন্ট ডাকে। দাদির ডাকে তিনজন সার্ভেন্ট এসে হাজির হয় রাহির রুমের সামনে। দাদির মুখ থেকে সব কথা শুনে সার্ভেন্টরা খুব ভয় পেয়ে যায়। কিছুূদিন আগেও রাহি সুইসাইড করতে যাচ্ছিল আর আজও রুমের দরজা লক করে রেখেছে। আচ্ছা এটা নতুন কোন বিপদের সংকেত নয় তো! সার্ভেন্টরা দ্রুত রাহির রুমের দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা সকলে ব্যার্থ, কেউই দরজা ভাঙতে পারে না তাই তারা স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে দরজা খুলে রুমে প্রবেশ করে। পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে রাহিকে কোথাও দেখতে পায়না। ওয়াশরুম থেকে পানি পরার শব্দ ভেসে আসে সকালের কানে। রাহি ওয়াশরুমে। সবাই রুম থেকে বের হয়ে যায়। দাদি গিয়ে ওয়াশরুমের দরজায় লক করে। কিছুক্ষণ পর রাহি ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসে। তখন তার গায়ে শুধু মাত্র টাওয়াল ছাড়া অন্য কিছুই ছিলো না। চুলগুলো কোমড় পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়া আছে, সেখান থেকে চুইয়ে চুইয়ে পানি পরছে রাহির কোমড়ে। রাহি গিয়ে বিছানায় বসে পরে। দাদি অন্য আর একটা টাওয়াল নিয়ে এসে রাহির চুলগুলো মুছে দিতে থাকে। রাহি নিঃপলক তাকিয়ে থাকে সামনের দিকে। দাদি রাহিকে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকে, রাহি তার দাদির করা প্রশ্নের কোন জবাব দেয় না। সে মূর্তির মত হয়ে বসে থাকে।

– কি হয়েছে দাদুভাই! কেন এমন পাগলামি করছিস? আমাকে বল কি হয়েছে। আফিয়া কিছু বলেছে!

রাহি এবারও কোন জবাব দেয় না। সে দাদিকে জড়িয়ে ধরে হাউমাও করে কাঁদতে থাকে। দাদি রাহির মাথার হাত বুলিয়ে দেয়। আর জানতে চায় কি হয়েছে রাহির। রাহি কেন এত কষ্ট পাচ্ছে।

এক পর্যায়ে দাদিকে ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় রাহি। ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে ড্রেসটা পরিধান করে নেয়। রুমে এসে ড্রেসের সাথে ম্যাচিং করে একটা হিজাব পরে নেয়। দাদি আড় চোখে মেহেরকে দেখছে আর জিগ্যেস করছে কোথায় যাচ্ছে সে। কিন্তু রাহি এবারও কোন জবাব না দিয়ে পার্স নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।

আজ বাড়ির গাড়ি নিয়ে আসে নি রাহি। বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে আসলে সাথে ড্রাইভারকেও আনতে হবে। রাহি ড্রাইভিং জানে না। তাই সে সিদ্ধান্ত নেয় লোকাল গাড়িতে করে তার গন্তব্যে ফিরবে। বাস স্টপে এসে গাড়ির জন্যে অপেক্ষা করছে রাহি। এভাবে কোন দিন কোথাও যাওয়া হয়নি তাই একটু আনইজি ফিল করছে রাহি। এত মানুষের আনাগোনায় জার্ণি করার তার পক্ষে বেশ কষ্টকর। আর এই গরমের মাঝে বাস স্টান্ড দাঁড়িয়ে যে কতটা কষ্টের যে জার্ণি করে সেই জানে। বাস ছেড়ে রিক্সায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাহি। রিক্সার দিকে দু কদম এগোতেই তার মোবাইলে রিংটোন বেজে উঠে। ব্যাগে থেকে মোবাইলটা বের করে দেখতে পায় রাহনাফ কল করেছে। মোবাইলের স্কিনের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। কল রিসিভ করবে কি করবে না সেটাই ভাবছে রাহি। কলটা কেটে যায়। অধোর কামড়ে শ্বাস ত্যাগ করে সে। কিছুক্ষণের মধ্যে আবার কল করে রাহনাফ। রাহি এবার কল রিসিভ করে নরম সূরে বলে উঠে,

– আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি রাহনাফ। তুমি কোন চিন্তা করো না। আফিয়া আহমেদ তার কৃতকর্মের সাজা পাবে। উচিৎ সাজা পাবে। উপরের দিকে তাকিয়ে অধোর কামড়ায় রাহি। ওপাশ থেকে রাহনাফ বলে উঠে,

– তুমি যা করছো ভেবে করছো তো রাহি। দেখ উনি কিন্তু তোমার মা। আর মায়ের সাথে,,,,

– তাহলে কেন তুমি আমাকে সবটা বললে। কেন আমায় এমন জঘন্য কাজের ব্যাপারে অবগত করলে রাহনাফ। এখন আমার নিজের প্রতি ঘৃনা হচ্ছে। কথাগুলো বলার সময় রাহির গলার স্বর ধরে আসছিলো।

– আই এম সরি রাহি।

– তুমি কেন সরি বলছো রাহনাফ। তুমি তো কোন অন্যায় করো নি। তাহলে সরি বলার কথা আসে কোথা থেকে। যে অন্যায় করেছে সে তো মাথা উচু করে বাচছে। আচ্ছা এখন কোথায় আছো তুমি? বের হতে পারবে! না মানে যদি একটু দরকার ছিলো। প্রসঙ্গ পাল্টাতে বলে রাহি।

– কোথায় আসতে হবে বল!

– লোকেশন দিয়ে দিচ্ছি চলে এস।

রাহি কল কেটে দেয়। মোবাইল টিপতে টিপতে রাস্তা ক্রশ করছে এমনি সময় কেউ একজন রাহির হাত ধরে টান দিয়ে নিজের কাছে টেনে নেয়। রাহি গিয়ে লোকটার বুকের উপর পরে। নিমিষেই সব কিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। রাহি লোকটাকে ধাক্কা দিয়ে কিছুটা দূরে সরিয়ে দেয়। ঘটনাক্রমে লোকটা দু-পা পিছিয়ে যায়। রাহি ক্রোধান্বিত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে লোকটার দিলে, অতঃপর বলে,

– আপনার সাহস হয় কি করে আমাকে জড়িয়ে ধরার। আমি আপনাকে, লোকটার গায়ে হাত তুলতে গেলে সে রাহির হাত ধরে বলে,

– হ্যালো মিছ ধানি লংকা, আপনাকে জড়িয়ে ধরার কোন ইন্টারেস্ট নেই আমার ওকে। আর একটু হলে গাড়ি চাপা পড়তেন। আপনাকে বাঁচিয়ে দিলাম। এবার ধন্যবাদ দিয়ে কেটে পরুন।

লোকটার কথাশুনে ভ্রু কুচকে ফেলে রাহি। তাকে পা থেকে মাথা অব্ধি অবলোকন করে নেয়। দেখতে সুন্দর সুশ্রী, বাইশ থেকে তেইশ বছরের কোন যুবক হবে আর কি! পরনে হলুদ টিশার্ট আর কালো রংয়ের প্যান্ট। মাথায় কুঁকড়ানো চুল। রাহি বাকা চোখে যুবকটার দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। হলুদ টিশার্ট না হয়ে যদি হলুদ পাঞ্জাবি হত তাহলে একে হয়তো হিমুর থেকে আলাদা করা মুশকিল হয়ে যেত। যুবকটার ড্রেসের কম্বিনেশন দেখে মনে হচ্চে সে হিমুর ছোট ভাই। আচ্ছা হিমুর কি কোন ভাই ছিলো! আমার জানা নেই।তবে আমার মতে হিমুর যদি কোন ছোট ভাই থেকে থাকে তাহলে এই যুবকটাই হিমুর ছোট ভাই হবে। রাহির ভাবনার মাঝেই যুবকটা ওর সামনে তুরি বাজিয়ে বলে,

– কোথায় হাড়িয়ে গেলেন মেডাম। তাড়াতাড়ি ধন্যবাদ বলুন আর ফটাফট এখান থেকে বিদায় হোন।

– আমি কেন আপনাকে ধন্যবাদ দিতে যাব।

– এই যে, আমি আপনাকে বাঁচিয়ে দিলাম।

– এটা আপনার দায়িত্ব। কে যেন বলেছে, কোথাও একাকি কোন সুন্দরি মেয়ে দেখলে তাহলে তার দায়িত্ব নিতে শিখুন। আপনিও তাই করেছেন তাহলে ধন্যবাদ কেন দিবো। বলেই ভুবন ভুলানো হাসি হাসে মেহের আর চলে যাওয়ার জন্যে সামনের দিকে এক পা বাড়ায়। তখন পিছন থেকে যুবকটা বলে উঠে,

– তিনি আরো বলেছেন, মেয়েটার দায়িত্ব নিন, মেয়েটা যদি আপনাকে ধন্যবাদ না দিয়ে চলে যায় তহালে ধরে নিন মেয়েটা পটে গেছে। বলেই যুবকটা চোখ টিপ দেয়। রাহির চোখ বড় বড় হয়ে যায়। হা হয়ে তাকিয়ে থাকে সে যুবকটার দিকে।

চলবে,,,,,,,

#মাহফুজা_আফরিন_শিখা।

#মেঘ_ভাঙ্গা_রোদ্দুর।
#বোনাস_পার্ট।

৫০,
কলেজের অনুষ্ঠান শেষে আজ দুদিন হলো কলেজে যায় না মেহের। বেশীর ভাগ সময় সে নিজের রুমের ভিতরে কাটায়। ইদানিং সে রাহিকে খুব মিছ করে কিন্তু মুখে বলে উঠতে পারে না। দ্বিধাবোধ করে সে। সৈয়দা মাহবুবাও আজ বাসায়। ইচ্চে করেই ছুটি কাটিয়েছেন তিনি। কোন কাজে মন বসাতে পারছেন না সৈয়দা মাহবুবা। তার কেন জানি মনে হচ্ছে এক বিশাল ঝড় আসতে চলেছে তাদের জিবনে। ছাদে দাড়িয়ে অতিতের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা ভাবছেন তিনি। এখন আর কোন কিছুতে পিছ পা হবেন না সৈয়দা মাহবুবা। এখন আর কোন কিছুকে ভয় করেন না তিনি। সমাজের নিয়মের বাইরে গিয়ে সে তার পরিচয় গড়ে তুলেছেন। হয়েছেন একজন সিঙ্গেল মাদার। যাকে সমাজ এখন স্বীকৃতি দিয়েছে। একজন স্বাধীন আত্নপরিচয় সম্পন্ন সু-প্রতিষ্ঠিত নাগরিক হিসাবে। আজ তার নিজেরই একটা পরিচয়। এত কিছু এমনি এমনি হয়নি। সমাজের মানুষের অবহেলা লাঞ্ছিনা আর কটু কথা শুনতে হয়েছে। তবুও সৈয়দা মাহবুবা হাল ছাড়েন নি। সে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে দেখিয়েছেন, মেয়েরা চাইলে সব করতে পারে। একটা চলতে পারে বাচতে পারে। হয়েছেন হাজারো অবহেলিত নারীর অহংকার। যাকে দেখলে অবহেলিত নারীরা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। চসমাটা উচু করে শাড়ির আচল দিয়ে চোখ মুছে নিলেন সৈয়দা মাহবুবা। নিচের দিকে তাকাতেই দেখতে পান রাহনাফকে। রাহনাফকে দেখে বেশ অবাক হোন সৈয়দা মাহবুবা। কেননা রাহনাফ আজ বড় গাড়ি থেকে নামছে। তারপর হাতে একটা ব্যাগ ঝুলিয়ে সদর দরজা দিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করছে সে। সৈয়দা মাহবুবা ছাদ থেকে মেনে আসেন। বসার ঘরে আসতেই দেখতে পান সেখানে আগ থেকে মৌ আর আলিহান বসে ছিলো। রাহনাফও ওদের সাথে যোগ দেয়। সৈয়দা মাহবুবা গিয়ে মৌ-য়ের পাশে বসেন। মৌ উঠে দাঁড়িয়ে বলে,

– তোমরা কথা বল আমি তোমাদের জন্যে চা করে নিয়ে আসছে।

চলে যেতে নেয় মৌ। তখন পিছন থেকে রাহনাফ বলে উঠে,

– মেহেরকে একটু ডেকে দাও।

মৃদু হাসে মৌ। মাথা নাড়িয়ে চলে যায় সে রান্নাঘর। চুলায় মৃদু আচে গরম পানি বসিয়ে দিয়ে সে চলে যায় মেহেরের রুমে। মেহের বিছানায় উবু হয়ে মোহাম্মাদ জাফর ইকবাল স্যারের, রবন নগরী বইটা পড়ছিল তখনি রুমের মধ্যে আগমন ঘটে মৌ-য়ের। বই পড়ায় মেহেরের মনোযোগ এতটাই যে সে মৌ-য়ের উপস্থিত টের পেলো না। মৌ গিয়ে সোজা মেহেরের উপর শুয়ে পরে তারপর বইটা নিয়ে সে পড়তে থাকে। পড়ার ভান করে আর কি! মেহের বিছানায় শুয়ে পড়ে আর মৌ মেহেরের উপর শুয়ে বই পড়ার ভান করে। এভাবে কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পর মেহের একটু উঁচু হয়ে বলে,

– বিয়ের পর তোর ওয়েট বেড়েছে দেখছি। বোন আমার উপর থেকে সরে যা আমি ভর্তা হয়ে যাচ্ছি। করুন সূর মেহেরের।

মৌ কিছু না বলে উঠে বসে। তারপর সে মেহেরকে টেনে তুলে বসিয়ে দেয়। বসতে পেরে মেহের বুকের উপর হাত রেখে বড় বড় করে শ্বাস নেয়। অতঃপর বলে, দিন দিন মুটি হয়ে যাচ্ছিস। বইটা পাশে রাখে মৌ। অতঃপর সে মেহেরের দিকে তাকিয়ে বলে,

– আমার কাছ থেকে ট্রেনিং নিতে পারিস।

– কিসের! ভ্রুযুগলে কিঞ্চিৎ ভাজ ফেলে প্রশ্ন করে মেহের।

– কিভাবে শুঁটকি টি ভুটকি হওয়া যায়। মৌ আরো কিছু বলতে যাবে তখন মনে পরে সে চা বসিয়ে দিয়ে এসেছে। তড়িৎগতিতে উঠে দাঁড়ায় মৌ। মেহের দিকে তাকিয়ে কোন রকমে বলে, রাহনাফ এসেছে তোকে ডাকছে। তারপর সে চলে যায় রান্নাঘরে। মেহের মৌ-য়ের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর সেও চলে যায় বসার ঘরে।

বসার ঘরে মাদুর পেতে তার চারিপাশে বসে আছে সবাই। রাহনাফ মাদুরের উপর একটা নকশা রাখে। আলিহান সুধায় এটা কিসের নকশা। দেখে মনে হচ্ছে কোন প্রোপার্টির! আলিহান নকশাটা হাতে নিয়ে ভালো করে খুটিয়ে নাটিয়ে দেখে নেয়। নকশাটা দেখা শেষ হলে সে অবাক চোখে রাহনাফের দিকে তাকিয়ে বলে,

– এই নকশাটা তোর কাছে কি করে? তুই জানিস এটা নিয়ে কত ঝামেলা চলছে। কিছুূদিন আগেও খান আর শিকদার পরিবারের সাথে এই জমি নিয়ে ঝামেলা করে দুই পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়। সেখানে খান পরিবারের একজন আহত হয়।

– হ্যাঁ জানি আমি। এই জমির প্রকৃত মালিক আরওয়ান শিকদার মানে আমার বাবা। আমার বাবার অনুপস্থিতিতে এটা খান পরিবার দখল করে চাইছিলো। তাই এত ঝামেলা। এখন এই জমির অংশীদার আমি। আমি এখানে একটা এনজিও গড়ে তুলতে চাই সেইজন্য এখানে আসা। আন্টি আপনি অনুমিত দিলে আমি আপনাকে কিছু বলতে চাই।

সৈয়দা মাহবুবা আলিহানের দিকে এক পলক তাকিয়ে আবার রাহনাফের দিকে তাকায় অতঃপর বলে,

– কি বলতে চাও বলো।

– আন্টি আমি এই জমিতে women Association in Bangladesh [WAB] নামে একটা সংস্থা গড়তে চাই। যে সংস্থান সভাপতি হবেন আপনি। আন্টি আপনি আমার দেখা একটা ideal woman. যার কাছ থেকে প্রত্যেকটা নারীর কিছু না কিছু শিখার আছে। সমাজ রাষ্ট্র এবং পরিবারের অবহেলিত নারী গুলো আপনাকে অনুসরণ অনুকরণ করে বড় হোক। আন্টি আপনি একজন সাকসেসফুল নারী। যার জীবনের গল্প শুনলে হয়তো প্রত্যেকটা অবহেলিত নারী নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখবে।

সৈয়দা মাহবুবা অবাক হয়ে রাহনাফের বলা কথাগুলো শুনছে। তিনি কিছু বলার আগে পাশ থেকে মেহের বলে উঠে,

– এটি কি ধরনের সংস্থা।

সকল ধরনের বৈষম্যমুক্ত একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা, যেখানে কোন নারী পেছনে পড়ে থাকবে না। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সংস্থাটি যে মিশন বা অভীষ্ট অবলম্বন করবে তা হলো, সমাজ রূপান্তরের চালিকাশক্তি ও পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে নারীর সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে সকল ক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ত করা। [WAB] বৈষম্যহীনতা, বৈচিত্র্যময়তা ও ধর্মনিরপেক্ষতা সংস্থার সকল কর্মকাণ্ডে এই তিনটি দিক অনুসরণ করবে। প্রধান কর্মসূচি চারটি, যার আওতায় তার যাবতীয় প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হয়। এগুলো হলো ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, নীতি সংস্কার ও গণউদ্যোগ। এভাবেই এগিয়ে যাবে আমাদের সংস্থা।

তারপর রাহনাফ আরো কয়েকটা জমির নকশা দেখায় যেখানে সে তার বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য একটা আশ্রম খুলতে চাই। আহনাফের কর্মকাণ্ড ও তার উদ্যোগে সকালে তার জন্য প্রাউড ফিল করে। মেহের মনে তার জন্যে সম্মানটা আরো দ্বিগুণ বেড়ে যায়। সকল আলোচনা সেরে সবাই একসাথে লাঞ্চ করতে বসে। আর তখনি মৌ খাবার সামনে গিয়ে গলগল করে বমি করে দেয়। আলিহান উঠে মৌ-কে ধরে তাদের রুমে নিয়ে যায়। রাহনাফ ও আলিহানের পিছু যায় যদি ওদের কিছু প্রয়োজন হয়। সৈয়দা মাহবুবা সেই জায়গাটা পরিষ্কার করতে তাকে মেহের তাকে সাহায্য করতে চাইলে সে মেহেরকেও মৌ-য়ের কাছে পাঠিয়ে দেয়।

বমি করে ক্লান্ত শরীরে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। মাথাটা ঝিমঝিম করছে অস্থির লাগছে তার। ডক্টর কে কল করে আলিহান। মিনিট বিশেক এরমধ্যে ডক্টর চলে আসে এবং মৌকে চেকআপ করে দেখে নেয়। তারপর সে আলিহানের সামনে গিয়ে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়, অতঃপর বলে

– কনগ্রেচুলেশন মিস্টার আলিহান। আপনি বাবা হতে চলেছেন।

ডাক্তারের কথাশুনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যায় আলিহান। নিষ্পলক তাকিয়ে থাকে মৌ-য়ের দিকে। মৌয়ের চোখে অশ্রুর ভিড়। তবে এই অশ্রু দুঃখের নয় আনন্দের, আনন্দ অশ্রু এটা! রাহনাফ গিয়ে আলিহান কে জড়িয়ে ধরে তারপর তার পিঠে হাত বুলিয়ে কংগ্রেজুলেশন জানায়। আলিহান কোন প্রতিক্রিয়া করে না। সে আগের ন্যায় দাঁড়িয়ে নিষ্পলক তাকিয়ে আছে মৌ-য়ের মুখ পানে। রাহনাফ আলিহানকে ছেড়ে দিয়ে ডক্টরকে এগিয়ে দিতে যায়। মেহের ওদের স্পেস দিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে আসে। সবাই চলে যাওয়ার পর আলিহান ধীর পায়ে মৌ য়ের পাশে বসে গিয়ে। মৌ আবেশে তার চোখদুটি বন্ধ করে নেয়। আলিহান মৌ-য়ের এক হাত তার হাতের মুষ্ঠিতে আবদ্ধ করে নিয়ে অন্যহাত মৌ-য়ের গালে রাখে। চোখ মেলে তাকায় মৌ। আলিহান বলে উঠে,

– সবকিছু কেমন স্বপ্নের মত লাগছে। আচ্ছা ঘুম ভেঙে গেলে সব আবার আগের মত হয়ে যাবে তাইনা মৌ। মৌ আমি ঘুমাতে চাই, স্বপ্ন দেখতে চাই। আমার ঘুম ভাঙিয়ে দিও না মৌ।

– আলিহান, আলিহান এটা স্বপ্ন নয় সত্যিই। তুমি বাবা হতে চলেছ আর আমি মা।

আলিহান মৌ-য়ের পেটের উপর হাত রেখে সেই হাতে আলতো করে চুমু খায়। স্মিত হাসে মৌ। আলিহান মৌ-য়ের পাশে শুয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে। মৌ আলিহানের বুকে মাথা রেখে শুয়ে থাকে। আর আলিহান মৌ-য়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।

চলবে,,,,,,

#মাহফুজা_আফরিন_শিখা।