#বেপরোয়া_ভালবাসা
#পর্বঃ৪০
#লিখনীঃ মনা হোসাইন
বেশ অনেক্ষন পর আদি বাসায় ফিরল। ঘরে ঢুকে কিছুটা অবাকেই হল সে, কারন আদিবা তার বিছানায় বেশ আরাম করে ঘুমাচ্ছে…এই মেয়েটা বেশ অদ্ভুত প্রকৃতির।মাঝে মাঝে সিরিয়াস বিষয়কে গুরুত্ব দেয় না আবার অতিক্ষুদ্র বিষয়কে টেনে হিচড়ে বড় করে।
প্লেনে সারারাত ঘুমাতে ঘুমাতে এসেছে তারপরেও এত ঘুম?আদি সারারাতে একটুও ঘুমায় নি,কই তার তো ঘুম পাচ্ছে না বরং ইচ্ছে করছে আদিবার সাথে কথা বলতে এই ছয় বছরে কী কী ঘটেছিল জানতে…কিন্তু আদিবার কাছে এসবের গুরুত্ব কোথায়? আদি এতদিন কোথায় ছিল কিভাবে ছিল এসব কিছু কী তার জানার ইচ্ছে আছে? না নেই থাকলে কী এভাবে ঘুমাতে পারত? সে আদিকে এতটুকুও গুরুত্ব দেয়নি। ভেবেই মেজাজ খারাপ হল আদির. সিধান্ত নিল আবার বাইরে চলে যাবে কিন্তু দরজা পর্যন্ত এসে থমকে দাঁড়াল।
-“আচ্ছা মেয়েটার শরীর খারাপ করেনি তো…? এর আগে কখনো এত দূরের জার্নি করেনি খারাপ লাগারেই কথা। হয়ত মাথাব্যাথা করছে অথবা জ্বর এসেছে..
একবার ভেবে পরক্ষনেই আবার ভাবল।
-“শরীর খারাপ হোক,যা খুশি হোক তাতে আদির কী? যে মেয়ে তাকে ভালবাসে না তার জন্য চিন্তা করার মানেই হয় না।
ভেবে আবারও পা বাড়াল কিন্তু বাইরে যেতে পারল না আটকে গেল,
-“নাহ আমি ওকে এভাবে ফেলে যেতে পারি না। ও আমার বউ,আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষের উপড়ের সারির একজন। আমি ওকে ফেলে যেতে পারি না।
ভেবে ঘুরে ফিরত এসে আদিবার পাশে বসল।নিজের অজান্তেই হাত ছুঁয়াল আদিবার কপালে। সাথে সাথে শক্ত কন্ঠ ভেসে আসল,
-“মরিনি…এমন চুনোপুঁটিকে ফাঁসানোর জন্য আ*ত্মহ*ত্যার মত বৃহৎ ঘটনা ঘটানোর মত বোকা আমি নই।
আদিবা ঘুমায় নি,ঘুমার অভিনয় করছিল বুঝতে পেরে থতমত খেল আদি..তবে সাথে সাথেই নিজেকে সামলেও নিল। এই মেয়ের কাছে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করা যাবে না কিছুতেই না তাড়াতাড়ি কপাল থেকে হাত সরিয়ে নিল।
আদিবাও উঠে আদির মুখোমুখি বসল,
-“কী ভেবেছিলন?মরে গেছি?
-“আজব মরার কথা ভাবব কেন? দেখছিলাম জ্বর এসেছে কিনা..
-“ওহ তাই? কিন্তু এই যে বলছিলেন আপনি আমায় ভালবাসেন না তাহলে আমার জ্বর আসল কী আসল না তাতে আপনার কী..?
-“এখানে আমি ছাড়া আর আছে কে? ইচ্ছে না থাকলেও খেয়াল রাখতে হবে।
-“ভাঙবে তবু মচকাবে না বেয়াদব কোথাকার…
-” বিড়বিড় করে কী বলিস?
-“কিছু না সরুন ফ্রেশ হয়ে আসছি বাইরে এ যাব।
-“মানে…?
-“বাংলা বুঝেন না? বাইরে যাব বলেছি তাইবলে ভাব্বেন না আপনার মত হনুমানের সাথে ঘুরতে যাব। বাজার করতে হবে রুটি খেয়ে কতক্ষন থাকা যাবে?
-” খাওয়া পরে হবে আগে বল তুই আমায় কী বললি …?
-“আপনার কী মনে হয় উদাহরন টা যুক্তিযুক্ত হয় নি? হনুমানের বদলে ডাইনোসর বলব…?
-“সাহস বেড়ে গিয়েছে নাকি? অতীত মনে করাতে হবে..
-“ওয়েট ওয়েট আমি কিছুই ভুলি নি কিন্তু আপনি ভুলে যাবেন না আমরা এখন দেশে নেই তাও ভুলেও রেগে যাবার মত ভুল করবেন না। করলে ফেঁসে যাবেন।
-” মানে কী? কি বলতে চাইছিস তুই?
-“আপনার রাগ মানেই তো ওয়াশরুমে নিয়ে আটকে রাখা। আমার অবশ্য আপত্তি নেই এতদিন অভ্যাস হয়ে গিয়েছে কিন্তু ধরুন আপনি আমায় আটকে রেখে বাইরে চলে গেলেন এসে দেখলেন পা পিছলে পড়ে গিয়ে হাত পা ভেঙে গিয়েছে। কি সাংঘাতিক কান্ড হবে ভাবুন তো।
-“সাংঘাতিক হবে কেন বরং ভালই হবে।
-“জ্বি না আমি আমার কথা ভাবছি না এখানে তো আর কেউ নেই তাই আমার কিছু হলে দ্যা গ্রেট ত্যাড়া আদিকে আমার যত্ন নিতে হবে। খায়িয়ে দিতে হবে,কাপড় চোপড় ধুতে হবে,ঘর পরিষ্কার করতে হবে মোটকথা আমার সমস্ত কাজ করে দিতে হবে ব্যাপার টা সাংঘাতিক হবে নাকি ভাল হবে?
-“তুই দেখছি একদিনেই পকপক করা শিখে গেছিস আমাকে ত্যাড়া বলার সাহস পাস কোথায়..?
-“পকপক আমি আগে থেকেই পারি। কিন্তু আগে লোকের বাসায় আশ্রিতা থাকতাম তাই পকপক করার সাহস পেতাম না সংকোচ হত।
-“দাঁড়া তোর পকপক করা বের করছি
বলেই আদি এগিয়ে আসতে নিল সাথে সাথে আদিবা উঠে একছুটে ওয়াশরুমে চলে গেল… আদি বাইরে থেকে চেঁচিয়ে উঠল,
-“পালাবি কোথায়? ওয়াশরুমে কতক্ষন থাকতে পারবি…বের হতে হবে না? দেখবনি কে বাঁচায় তোকে?
আদিবা দরজার অপরপাশ থেকে জবাব দিল
-“আমি কী আপনাকে ভয় পাই নাকি? ত্যাড়া,অস*ভ্য,বদমাইশ ছেলে একটা…
-“কী বললি তুই..?
-“একদম ধমক দিবেন না।
-“একবার বের হ মে*রে ছাতু বানাব তোকে…
-“উস্টা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দিব আপনাকে। ভুলে যাবেন না এটা আমার শ্বশুরবাড়ি। আমি আর আশ্রিতা নই এটা আমারো বাড়ি।
আদিবার কথাটা কী আদির মন কাড়ল? হয়ত ! তাই তো বকা দেওয়ার বদলে মুচকি হেসে বলল,
-“ফ্রেশ হয়ে নিচে আয় …আমি গাড়ি বের করছি।
।
।
।
।
আদিবা ফ্রেশ হয়ে নিচে এসে দেখল আদি সত্যিই গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে..আদিবা গিয়ে আদির পাশে সিটে বসল। আদি ড্রাইভ করছে। আদিবা এদিক ওদিক তাকিয়ে চারপাশটা দেখছে আদিবার চোখ মুখে খুশি চিকচিক করছে…আদিবা কিছুক্ষন চুপচাপ থেকে আশ পাশটা দেখে হটাৎ প্রশ্ন করল
-“তা আপনি এখানে আসলেন কী করে?
আদি ড্রাইভে মনযোগ রেখেই জবাব দিল।
-“যাক আপনার তাহলে জানতে ইচ্ছে হল?
-“হবে না? আমি বাড়ি থেকে বেত হয়ে স্টেশনেও জায়গা পেলাম না আর আপনি বিদেশে চলে আসলেন। আসলেন তো আসলেন আবার বাড়ি গাড়িও করে ফেলেছেন। আলাদিনের চেরাগ পেয়েছিলেন নাকি?
-“নাহ আমি যখন বাসা থেকে বের হয়েছিলাম আমিও স্টেশনেই থাকতাম আর স্টেশনে লোকের মালামাল আনা নেয়ার কাজ করতাম। একদিন রাতে ট্রেন থেকে মাল আনতে গিয়ে দেখলাম একজন মধ্যবয়স্ক লোক সিটে বসে আছে। গিয়ে বললাম স্যার আপনার কী কোন ব্যাগ আছে? উনি জবাব দিলেন না ভাবলাম ঘুমিয়ে পড়েছেন আমি জাগানোর চেষ্টা করতেই ঢলে পড়লেন বুঝতে পারলাম উনি অসুস্থ তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। উনার সাথে কোন টাকা পয়সা ছিল না ট্রেনে কেউ উনাকে নেশা জাতীয় কিছু খায়িয়ে সব নিয়ে নিয়েছে। উনি হার্টের রোগী ছিলেন তাই এতে মারাত্নক অসুস্থ হয়ে পড়েন। উনার জ্ঞান ফিরছিল না সাথে ফোনও ছিল না তাই উনি কে কোথায় থাকেন কিছুই জানতে পারি নি। তাইবলে একজন মানুষ টাকার অভাবে চিকিৎসা পাবে না মানতে পারি নি। তুই হয়ত জানিস আমার একটা চেইন ছিল আমি সেটা বিক্রি করে উনার চিকিৎসা করি।
উনি যখন সুস্থ হলেন আমাকে কিছুতেই ছাড়তে চাইলেন না। নিজের বাসায় নিয়ে গেলেন। আমি রাজি ছিলাম না তাই তখন বললেন স্টেশনে কাজ না করে উনার বাসায় কাজ করতে। কারন আংকেল আন্টির বয়স হয়েছে তাছাড়া উনাদের ছেলে নেই তাই ব্যাংকের কাজ,বিল দেয়া এগুলো করার জন্য হলেও যেন থাকি আমি রাজি হলাম বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলাম।কিন্তু কয়েকমাস পরেই উনাদের দেশের বাইরে আসার সময় হয়ে গেল কারন তারা এখানেই স্যাটেল ছিলেন দেশে মাঝে মাঝে যেতেন। আংকেল আমাকে রেখে আসতে চান নি কোন মতেই। তাই তিনি লিগ্যালি আমাকে দত্তক নিলেন যেন তাদের ছেলের পরিচয়ে এদেশে সিটিজেনশীপ পাই। তারপর চলে আসলাম। পড়াশোনা শেষ করলাম কিছুদিন আগে আংকেল অফিসের সমস্ত দায়িত্ব আমায় বুঝিয়ে দিয়ে অবসর নিলেন। বললেন এখন থেকে আমি যেন সবকিছুর দেখাশোনা করি আর তাদের দায়িত্ব নেই। এসব সবকিছু আংকেল আন্টির আমি শুধু পাহারাদার। আমি অফিস জয়েন করেছি তিন মাস হয়েছে এর মধ্যে দেশে গিয়ে এক মাসের বেশি সময় থেকেছি। কাল থেকে অফিস জয়েন করতে হবে। অফিসের মালিক হিসেবে এত উদাসীন হওয়া ঠিক না।আংকেল অনেক আশা নিয়ে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
-“হাহ সবি কপাল…🥱
-“মানে..?
-“আপনি বাসা থেকে বের হয়েও কতকিছু পেলেন আর আমি সবকিছু হারালাম,না করতে পারলাম পড়াশোনা না হতে পারলাম কারো প্রিয়।
-“পড়াশোনা তুই কোনদিনি করতে চাস নি তোর উদ্দেশ্যই ছিল ঢং করা।
-“বাজে কথা বলবেন না। আপনি নিজে একটা ঢংবাজ আমি না। সারাক্ষন বাজে কথা বলতে থাকেন অসহ্যকর ছেলে একটা…
– “কী বললি তুই..?
বলেই আদি গাড়ি থামিয়ে দিল সাথে সাথাই আদিবা চোখ বন্ধ করে বলল,
-” দুঃখিত আপনার কাংখিত ব্যক্তি এই মুহূর্তে ঘুমিয়ে আছে অনুগ্রহ করে কিছুক্ষন পর আবার ট্রাই করুন।
।
।
।
চলবে…!!!
#বেপরোয়া_ভালবাসা
#পর্বঃ৪১
#লেখনীঃ মনা হোসাইন
-“এসেছিস থেকে কি করছিস, কি বলছিস কিছুই তো বুঝতে পারছি না..হটাৎ করে এত বদলে গেলি কি করে ..?
আদির কথায় আদিবা চোখ পিটপিট করে তাকাল…তারপর গাঁছাড়া ভাব নিয়ে জবাব দিল,
-“ওহ তারমানে মা*রবেন না? আমি আরও ভাবলাম মা*রবেন হয়ত,তাই অনুগ্রহ করে কিছুক্ষন পর ট্রাই করতে বলেছিলাম…
-“আবার ফাযলামি করছিস?
-“কই নাতো…
-” এমন অস্বাভাবিক আচারনের কারন কী..?মনে হচ্ছে যেন এই আদিবাকে আমি চিনিই না।
কথাটা শুনে আদিবা,আদির চোখে চোখ রেখে দৃঢ় অথচ শান্ত গলায় বলল,
-“আপনি এই আদিবাকে চিনেন খুব ভাল করেই চিনেন..আপনি সারাজীবন এই আদিবাকে নিয়েই স্বপ্নই দেখে এসেছেন। এতদিন যে আদিবাকে দেখতেন সেই আদিবাকে আপনি কখনো চান নি…
-“মানে?
-” কিছু না…
-“যা বলার সোজাসুজি বল ঘুরানো প্যাঁচানো কথা আমার ভাল লাগেনা।
-“আপনি এত পকপক করেন কি করে?এত কথা বাদ দিয়ে ড্রাইভ করুন..শপিং এ কখন যাব আর কখন ফিরব?
-“আমি আমার প্রশ্নের জবাব এখনো পাইনি..
-“আমিও জবাব দেইনি,দিবও না।
-“তুই কিন্তু বাড়াবাড়ি করছিস।
-“একদমি না বাড়াবাড়িটা আপনি করছেন বউকে তুই করে বলেন কিভাবে? সামান্য ভদ্রতাটুকুও শিখেন নি দেখছি…
-“তোকে এখন আমার আপনি করে বলতে হবে..?
-“বিয়ে যখন করেছেন আর পাঁচজন বউদের যে সম্মোধন করে আপনারো তাই করা উচিত।
-“আমি তোকে ভালবেসে বিয়ে করিনি তাই আমার কাছ থেকে এত কিছু আশা করিস না..
-“ভালবেসে করেন আর নাই করেন, করে যখন ফেলেছেন এখন আমাকে ভালবাসা বাধ্যতামূলক।
-“যদি না বাসি..?
-“বাসবেন না কেন?
আদিবার কথায় হাসি পেল আদির সে বহু কষ্টে হাসি চেপে বলল,
-“এখন পর্যন্ত ভালবাসা পাওয়ার মত কোন কাজ করেছিস? তারচেয়ে বড় কথা তুই আমার কাছ থেকে ভালবাসা পেতে চাস? তুই তো আমায় ঘৃনা করিস।
আদির কথায় গাঁ জ্বলে গেল আদিবার,এতকিছুর পরেও আদি ভালবাসার কথা স্বীকার করবে না?বেশ কতক্ষন স্বীকার না করে থাকতে পারে আদিবাও দেখবে। যতক্ষন না আদি নত স্বীকার করছে আদিবা তাকে একদম কাছে আসতে দিব না। আদির অহেতুক জেদ সে এবার ভেঙেই ছাড়বে মনে মনে সিধান্ত নিল।
-“কিরে কী ভাবিস..?
-“ভাবছি আমি আপনাকে ভালবাসব না অথচ আপনাকে ভালবাসতে বাধ্য করব।
-“জোর করে ভালবাসানো যায়..?
-“যাবে না কেন..?আপনি যদি জোর করে সব আদায় করতে পারেন আমি কেন পারব না..?
তাছাড়া ভাল না বাসলেও বউয়ের দায়িত্ব পালনে আপনি বাধ্য..
-“দায়িত্ব নিব না কখনো বলেছি নাকি দায়িত্ব নিতে আমার অসুবিধে নেই…আমি আমার দায়িত্ব পালন করব ইনফেক্ট একটু বেশিই ভালভাবে পালন করব।
-“সেটাই তাহলে এখন দাঁড়িয়ে আছেন কোন দুঃখে শুনি? গাড়ি স্টার্ট দিন শপিং মলে যেতে হবে। বউকে কিনা কাটা করে দেয়া ভাল বরের লক্ষন।
আদি এক গাল হেসে গাড়ি স্টার্ট দিল। গাড়িতে চলতে শুরু করেছে সাথে আদিবার মুখও। সে একনাগাড়ে কথা বলছে যেন মুখে খই ফুটছে,
-“জানেন আমি কখনো ভাবিনি আমার বিদেশে বিয়ে হবে।
-“তাহলে কী ভেবেছিলি? গ্রামে চেয়ারম্যানের ছেলের সাথে হবে?
-“বাহ আপনার স্মৃতি শক্তি তো চমৎকার আজও ভুলেন নি..?
-“ভুলার মত বিষয় হলে ভুলে যেতাম।
-“সেবার আপনি বাসা ছেড়ে না আসলে আমি এতদিনে অন্য কারো বউ থাকতাম।
-“সেই জন্যে তোর আমাকে ধন্যবাদ জানানো উচিত।
-“আপনার অ*ত্যাচা*রে অতিষ্ট হয়ে মা আমার বিয়ে দিতে চেয়েছিল। আর এখন ধন্যবাদ চাইছেন?
-“আমি এতদিন বাড়িতে থাকলে এই অ*ত্যাচার অব্যাহত থাকত ইনফেক্ট তোর বিয়েও হয়ে যেত।
-“ভালই তো হত চেয়ারম্যানের ছেলের তিন নাম্বার বউ হয়ে যেতাম এতদিনে।
-“কী? অন্যজনের বউ হওয়ার এত শখ?
-“তবে কী? সেদিন কী ভয় পেয়েছিলাম জানেন? এভাবে কেউ কাউকে শাস্তি দিতে পারে?
-“আমি পছন্দ করি না জেনেও অন্যছেলের সাথে সময় কাটাবি আর আমি চুপচাপ সহ্য করব..?
-“তাই বলে এভাবে হাত পা বেঁ*ধে অন্ধকারে সারারাত ফেলে রাখবেন…?
-“তুই একা ছিলি নাকি আমিও তো ছিলাম কই আমি তো সেন্সলেস হইনি সারারাত তোর পাশেই বসে ছিলাম।
-“আপনি ছিলেন…?
-“নাহ আমার ভূত ছিল। তবে আমার সিওর তুই সেদিন সেন্সলেস হোস নি ঘুমিয়েছিলি। বাসার কেউ সেটা বুঝে নি কিন্তু আমি তো সকাল পর্যন্ত তোর সাথেই ছিলাম তাই আমি জানি। তোর কোন শরীর খারাপ হয়নি।
আদির কথায় হি হি করে হেসে উঠল আদিবা..
-“কত হারামি তুই ভেবে দেখ। সেদিন যদি অভিনয় না করতি এতকিছু ঘটত না।সবাই ভাবে আমি জেদি কিন্তু তুই ঠিক কতটা জেদি সেটা আমি ছাড়া কেউ জানে না। তুই প্রকাশ করিস না কিন্তু মনে মনে নিজে যেটা ঠিক করিস সেটা করেই ছাড়িস।শাসন কিংবা আদর কোন কিছুতেই তোর সিধান্ত বদলায় না। সেদিন বাবা আমাকে মারছে দেখেও তুই কিছু বলিস নি চুপচাপ আমার মা*র খাওয়া দেখছিলি। কতটা পাষান আর নির্দয় তুই।
-“আফসোস, আপনি এই নির্দয়টাকেই ভালবাসেন।
-“আবার বাজে কথা বলিস আমি তোকে ভালবাসি না…কোনদিন বাসিও নি তোর প্রতি আমার যেটা আছে সেটাকে মোহ বলে। কোন না কোনদিন এই মোহ কেটে যাবে।
-“ওহ তাহলে বোধহয় আমার মনের ভুল।
-” হ্যা ভুলেই, তোর মত ডায়নীবুড়িকে কে ভালবাসবে..?
-“আর আপনার মত রাক্ষসকে কে বাসবে..? এমন একটা ভাব যেন আমি তার ভালবাসা পাওয়ার জন্য মরে যাচ্ছি..ভালবাসা ধুয়ে পানি খাব নাকি? আমি তো আপনার ঘাড়ে বসে খাব।সারাজীবন জ্বালাব দেখব কি করে এই মোহ কাটিয়ে আমাকে ডিভোর্স দেন।
-“ডিভোর্স তো আমিও দিব না। তুই আমাকে কী জ্বালাবি উল্টে আমি তোকে জ্বালাব সেজন্যেই তো বিয়ে করেছি…
-“সেটা তো সময় বলে দিবে কে কাকে জ্বালায়…
এরা দুজন ঝগড়া করতে করতেই গাড়ি এসে থামল শপিংমলের সামনে। আদিবা প্রয়োজনের চেয়ে অপ্রয়োজনীয় জিনিসেই কিনেছে বেশি যদিও আদি কয়েকবার বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করে ছিল কিন্তু কোন লাভ হয় নি।আদিবা তাকে হু*মকি দিয়ে সব কিনে নিয়েছে। বলেছে আদি যদি কিনতে না দেয় তাহলে সে সবার সামনে সিনক্রিয়েট করবে কান্নাকাটি করবে তাই আদি বাধ্য হয়ে সব কিনে দিয়েছে।
শপিং শেষ হতে হতে বেলা গড়িয়ে গেল। এত ঘুরাঘুরিতে আদি ক্লান্ত হয়ে পড়লেও আদিবার মুখে হাসি আদির পকেট ফাঁকা করতে পেরে নিজেকে বেশ বিজয়ী মনে হচ্ছে। আদিবা গাড়িতে বসে গুনগুন করে গান গাইছে আর আদি রাগে ফুঁসফুঁস করছে। হটাৎ আদিবা বলল,
-“আমার ক্ষুধা পেয়েছে। সন্ধ্যাও হয়ে এসেছে এখন গিয়ে রান্না করার এনার্জি নেই চলুন বাইরে থেকে খেয়ে যাই…
সাথে সাথে আদি সোজাসাপটা জবাব দিল
-“নাহ আমি বাইরের খাবার খাই না।
-“আজব খান না খাবেন…
-“নাহ খাব না,আমি বাইরে খাব না…
-“কেন খাবেন না?
-“আমার ইচ্ছা..
-‘আমি রান্না করতে পারব না।
-“আমি তো আগেই বলেছি বাসার কোন কাজেই তোকে করতে হবে না।
-“তাহলে বিয়ে করেছেন কেন বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ানোর জন্য?
-” নাহ, কেন করেছি যখন আদায় করব তখন বুঝতে পারবি।
-“কী আদায় করবেন?
আদি বাঁকা হাসল উত্তর দিল না।
।
।
।
বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়েই আদি রান্না করতে চেয়েছিল কিন্তু আদিবা করতে দেয় নি আদিবা নিজেই রান্নাবান্না করেছে।
খেয়ে দেয়ে আদিবা ঘরে গিয়ে শোয়ে পড়ল কিছুক্ষন পর সেখানে আদির আগমন ঘটল।ঘরে ঢুকে দেখল আদিবা আদির বিছানা দখল করে শুয়ে আছে। আদি এসে শান্তভাবে বিছানায় বসল সাথে সাথে আদিবা উঠে কর্কশ কন্ঠে বলল
-“খবরদার উল্টো পাল্টা কিছু করবেন না।
আদি ভ্রু কুচকে তাকাল,
-“উল্টো পাল্টা মানে..?
-“আপনি যা যা করেন সবি উল্টো পাল্টা।
-“তুই ভুলে যাচ্ছিস তুই আমার বউ আগে তাই যা যা উল্টো পাল্টা ছিল এখন সেগুলো ঠিক ঠাক হওয়ার কথা।
-“না হওয়ার কথা না।আপনি তো আমায় ভালবাসেন না তাহলে আমি কেন আপনাকে বাসতে যাব? যতদিন না দুজন দুজনকে ভালবাসতে পারছি কাছে আসবেন না।
-“তো তোকে ভালবাসতে কে বলেছে? তোর ভালবাসা তোর কাছে রেখে দে ভালবাসা দিয়ে আমার কাজ কী? আমার ভালবাসা টাসার দরকার নেই ভাই,আজ আমার বাসর রাত। কারোর কথায় আমি রাত টা নষ্ট করব না। একটুও বাঁধা দিবি তো ছাদে নিয়ে গিয়ে ধা*ক্কা দিয়ে সোজা নিচে ফেলে দিব।
-“ম ম মানে কী..?
-“কথায় আছে বাসর রাতে বিড়াল মারতে হয় তানাহলে বিড়ালকে বশে রাখা যায় না।
-“ক ক ক কি বুঝাতে চাইছেন?
আদিবার আমতা আমতা করছে দেখে আদির হাসি পেল সে। উঠে গিয়ে একটা বোয়াম এনে আদিবার দিকে এগিয়ে দিল…
আদিবা আদির দিকে অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে দেখে আদি বলল,
-‘কি হল নে…
-“কি এটা..?
-“নিয়ে দেখ
আদিবা কাঁপা কাঁপা হাতে বোয়াম টা হাতে নিয়ে বলল,
-“কি এটা ..?
-“আচার..
-“আচার? আচার দিয়ে কি হবে? আমি কী কখনো বলেছিলাম নাকি যে আমার আচার পছন্দ?
-“নাহ তবে আমি বলেছিলাম তোর বিয়েতে আমি আচার গিফট করব…
-“আচার আমার পছন্দ না।পৃথিবীর সব মেয়ে টক খেতে পছন্দ করে এটা আপনাকে কে বলেছে..?এসব দিয়ে মন জয় করা যাবে না।
আদিবার কথায় হা হা করে হেসে উঠল আদি। হাসতে হাসতে বলল,
-“আমি তোর মন দিয়ে কী করব? মন ধুয়ে পানি খাব? তুই মন থেকে চাইলেও আমার বউ না চাইলেও আমারেই বউ তাই মন জয়ের পিছনে সময় নষ্ট করতে পারছি না। আর আচারটা পছন্দের জন্য দেই নি খুব তাড়াতাড়ি আমি তোর আচার খাওয়ার কারন হব তাই দিয়েছি।
-“আপনার কথার মানে বুঝতে পারছি না।
-“লাইট টা অফ করি তারপর বুঝাচ্ছি।
আদি লাইট অফের কথা বলতেই আদিবা চেঁচিয়ে উঠল,
-“নাহ…আমি অন্ধকার ভয় পাই..
আদি বাঁকা হেসে জবাব দিল,
-“লাইট অন থাকলে আমার কোন অসুবিধে নেই কিন্তু তুই সহ্য করতে পারবি তো..?
-“ভাইয়া…🥺
-“ওই ভাইয়া বলিস কাকে? আমি তোর জামাই হই।
-“এটা কেমন সম্পর্ক? ভালবাসেন না অথচ নিজেকে জামাই দাবি করছেন?
-“তুই না প্রশ্ন করেছিলি বিয়ে করেছি কেন..? তাহলে শোন নিজেকে তোর জামাই দাবী করার জন্যই বিয়েটা করেছি বুঝেছিস? আর তুই এখন চুপচাপ বউয়ের দায়িত্ব পালন করবি। আজ যদি তুই কান্নাকাটি করে আমার মুড নষ্ট করিস আমি তোকে কি যে করব নিজেই জানি না।
-“ক ক কী করবেন..?
-“সেটা খোলে বলতে হবে..?
-“আ আ আমি বাসায় যাব.😭
-“কাঁদ,কাঁদ আর একটু চোখের পানি বের হোক শুধু,তারপর তোকে ছো*ট ছো*ট পি*স করে পার্সেল করে দেশে পাঠিয়ে দিব. চিন্তা করিস না এত ছোট ছোট পি*স করব যে বাসার কেউ তোকে চিনতেও পারবে না।
-“ভাইয়া…
-“আবার ভাইয়া বলিস? দাঁড়া মজা দেখাচ্ছি…
।
।
।
চলবে…!!
#বেপরোয়া_ভালবাসা
#পর্বঃ ৪২
#লিখনীঃ #মনা_হোসাইন
আদিবা অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে কিন্তু আদি তাতে কোন পাত্তা না দিয়ে এগিয়ে গিয়ে লাইট অফ করে দিল। সাথে সাথে আদিবার অন্তর আত্মা উড়াল দিল। এই ছেলেটা এত বেয়াদব কেন? আদিবার মনের অবস্থাটা একটাবার বুঝার চেষ্টা করবে না? যখন যা মন চায় তাই করবে? কিন্তু কেন? নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করছিল আদিবা কিন্তু উত্তর মিলানোর আগেই আদি এসে তার পাশে বসল।আদিবা ভয়ে পিছিয়ে বসল তার হাত পা অনবরত কাঁপছে।সে আপাতত এমন কিছুর জন্য প্রস্তুত না তাই আদিকে আটকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আদিবা ভয় ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছিল তখন আদি সাইড ল্যাম্প জ্বালিয়ে দিয়ে ধপাস করে শুয়ে পড়ল। আদিবা বেশ অবাক হল। তখনী দৃঢ় কন্ঠ ভেসে আসল,
-“শুয়ে পর। সকালে অফিসে যেতে হবে অনেকদিন যাইনি তাই এখন তোর সাথে সাপ লুডু খেলার ইচ্ছে নেই।
আদিবা অবাক চোখে তাকিয়ে আছে মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না।আদিবাকে চুপ থাকতে দেখে আদি আবার বলল,
-” আসলে কি বলতো জোর করে কিছু করে আমি “বাসর রাত” নামটার মানে বদলাতে চাই না। এই রাতে যা হয় দুজনের সম্মতিতে হয় তাই আজ তোর ছুটি। জোরাজোরি করার জন্য সারাজীবনটাই তো পড়ে আছে।
আদিবা চোখ বড়বড় করে আদির দিকে তাকাল। আদি চোখ বন্ধ করে উল্টো ঘুরে মিটমিট করে হাসছে..দেখে আদিবার গা জ্বলে উঠল।
-“আপনি ইচ্ছে করে এমন টা করেছেন তাই না?
আদির নির্ভেজাল উত্তর
-“কী করেছি? কিছু তো করলামি না।
-“ভয় দেখালেন কেন?
-“ভয় দেখাতে যাব কেন আমি অতিভদ্র একটা ছেলে তাই তোকে ছাড় দিলাম।
-“ভদ্র তাও আপনি পৃথিবীর নবম আশ্চর্য হয়ত এটাই।
-“আদিবা বেশি পক পক করিস না যথেষ্ট শান্ত আছি যদি উঠি তোর খবর আছে..
-“আমি আপনার সাথে ঘুমাব না
বলেই আদিবা বিছানা ছাড়তে চাইল কিন্তু আদির হাতে ধরা পড়ল।
-“তুই কতটা ইডিয়েট এবার বুঝেছিস তো..?
-‘মানে?
-“আমাকে বিরক্ত না করলে শান্তিতে ঘুমাতে পারতি কিন্তু তোর সেটা পছন্দ হল না। দুঃখজনক। যাইহোক বউ এখন চুপচাপ বউয়ের দায়িত্ব পালন করো তো।
বলেই আদি হ্যাচকা টানে আদিবাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল। আদিবা ভিরু চোখে আদিবার দিকে তাকাল। আদিবার কাঁপা কাঁপা ঠোঁট প্রমাণ করছে সে কিছু বলতে চায় কিন্তু আদি তাকে সেই সুযোগ দিল না।
আদি আদিবার চুলে মুখ ডুবাতেই আদিবা কেঁপে উঠল।ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত এই প্রথমবার আদিবা আদির প্রতি বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখাল। এতে আদি বেশ অবাকেই হল। সে মুখ তুলে আদিবাকে একবার দেখে নিল। না আদিবার চোখে ভয় কিংবা ঘৃনা নেই যা আছে লজ্জা আর সংকোচ। আদির সাহস যেন মূহুর্তেই বেড়ে গেল সে আলতো করে আদিবার মাঝে হারিয়ে যেতে লাগল আদিবাও তাকে বাঁধা দেয় নি।
।
।
।
বেশ কিছুক্ষন পর আদি ফ্রেশ হতে চলে গেল ফিরে এসে বেশ অবাক হল কারন আদিবা শুয়ে শুয়ে কাঁদছে। আদিবার কান্না আদির ভিতরটা ভেঙে দিল। এই প্রথমবার আদিবার কান্না আদিক্স ছুঁতে পারল আদি ব্যাস্ত গলায় বলল,
-“আমি তো আজ তোকে জোর করিনি তুই চাইলেই আমাকে আটকাতে পারতি…
আদির কন্ঠ শুনে আদিবা তাড়াতাড়ি চোখের পানি আড়ালের চেষ্টায় উঠে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়াল। কিন্তু আদি আবারো তাকে আটকে দিল।
আলতো করে বিছানায় বসিয়ে দিল,
-“ব্যাথা পেয়েছিস..?
আদিবা মুখে কিছু না বললেও না সূচক মাথা নাড়ল।
-“তাহলে রাগ করেছিস?
আদিবা আবারো মাথা নাড়ল।
-“তাহলে সমস্যাটা কোথায়? আমরা লিগ্যালি ম্যারিড। আমাদের মাঝে এমন কিছু ঘটবে এটাই তো স্বাভাবিক।
এতক্ষন পর আদিবার মুখে কথা ফুটল,
-“আমি তো আপনাকে কিছু বলি নি।
-“কাঁদছিস কেন..?
-“আপনার এতকিছু জেনে কি হবে..? আমি আপনাকে কী করে বলব এটা মন ভাংগার কান্না না। এতদিন ধরে যার জন্য অপেক্ষা করছিলাম তাকে নিজের করে পাওয়ার আনন্দের কান্না।আজ থেকে আপনি আমার শুধুই আমার।
(মনে মনে)
-“আদিবা…
-“আপনি ঘুমান আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
বলে আদিবা শান্তভাবে উঠে চলে গেল। আদি আদিবার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। তার ভিতরে এক প্রকার ঝড় বয়ে যাচ্ছে তবে কী সে মেয়েটার সাথে অন্যায় করল?
আদিবা ফিরে এসে দেখল আদি এখনো এভাবেই বসে আছে তার চোখ ছলছল করছে।আদিবা সাইড টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি নিয়ে আদির দিকে এগিয়ে দিল।
-“বলছিলেন সকালে অফিস আছে…ঘুমিয়ে পড়ুন।
আদি পানির গ্লাস হাতে নিয়ে আদিবার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,
-“আদিবা তোর কি মন খারাপ হয়েছে…যদি হয়ে থাকে আমি তার জন্য দুঃখিত আমি আর কখনো এমন কিছু করব না। প্লিজ মন খারাপ করে থাকিস না।
-“আপনার কেন মনে হচ্ছে আমি মন খারাপ করেছি? আমার মন খারাপ হবে কেন? আমার তো মনে হয় আজ রাতের বিড়ালটা আপনি নয় আমি মারতে পেরেছি।
-“মানে..?
-“আদিত্য চৌধুরীর মত ত্যাড়া একজন আজ আমার কাছে নত স্বীকার করেছে তার চোখ ছলছল করছে। তাই আমার মনে হয় এরপর থেকে আপনার বউ আপনার কথায় নয়,বরং আপনি আপনার বউয়ের কথায় চলবেন।
বলেই খিল খিল করে হেসে উঠল আদিবা। নিস্তব্ধ রাতে সেই হাসি অদ্ভুত রকমের মিষ্টি শুনাল। আদি নীরব চোখে তাকিয়ে আছে আদিবার হাসিমুখের দিকে। নিজেকে বড্ড বেশি সুখী মনে হচ্ছে আজ। নিজের উপড় নিজেরেই হিং*সা হচ্ছে। একদিনের ব্যবধানে জীবনে এত সুখ এসে ভীড় জমাতে পারে কে জানত। আদিকে দ্বিতীয় বারের মত অবাক করে দিয়ে আদিবা তার খুব কাছে এসে বলল,
-“এত কেবল শুরু আরও কতকিছু সহ্য করতে আপনার চিন্তায় করতে পারছেন না।আপনার চোখের পানি নাকের পানি এক করে ছাড়ব আমি।
।
।
।
চলবে..!!!