
#তুমি_আমার_জিবন
#লেখিকা_তৃষা_খাতুন
পর্ব ১
হুট করে বিয়ে হয়ে যাবে আমার আজ ভাবতেই অবাক লাগে। কার সাথে বিয়ে হয়েছে তাকে কখনো দেখিনি কে সে ব্যাক্তি তাও জানি না শুধু নাম টা জানি আব্রাহাম ।আগে বিভিন্ন গল্পে পরেছি । এখন যে আমার সাথেই এমন হবে ভাবতে পারিনি।
বাসর ঘরে ঘোমটা দিয়ে বসে আছি। রাত আড়াইটা বাজে । এতো রাত হয়ে গেল এখনো বর আমার বাসর ঘরে আসলো না । অনেক ক্ষন ধরে বসে আছি ঘোমটা দিয়ে তার আসার নাম গন্ধ নেই । রাগে দুঃখে ঘোমটা টেনে খুলে ফেললাম।
ঘোমটা খুলে বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে উঠে দাঁড়িতে দরজা খুলে কেউ একজন প্রবেশ করল। সে দিকে তাকিয়ে দেখি এক সুদর্শন পুরুষ লম্বায় প্রায় ছয় ফুট দুই ইঞ্চি। ফর্সা মুখে কালো খোঁচা খোঁচা দাড়ি আছে । এই খোঁচা খোঁচা দাড়ি তে তাকে আর সুদর্শন লাগছে ।
তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম এক ধ্যানে । সে কখন যে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে সেদিকে খেয়াল নেই আমার। তার কথা শুনে আমার ধ্যান ভঙ্গ হয়।
“” আসসালামুয়ালাইকুম
তার কন্ঠ শুনে আমার বুকের ভিতর কেমন যেন করে উঠে। কাপা কাপা কন্ঠে তার সালামের উত্তর দিলাম,
“” ওয়ালাইকুম সালাম
“” আপনাকে অনেক ক্ষন অপেক্ষা করানোর জন্য দুঃখিত। আসলে আমার এক বন্ধুর বউ অসুস্থ সে হসপিটালে ভর্তি তার রক্ত প্রয়োজন। আর আমার রক্তের গ্রুপ আর তার বউ এর রক্তের গ্রুপ একই তাই আমাকে ফোন দিয়েছিল । আর ওখানে ই অনেক দেরি হয়ে যায়। তার জন্য অনেক অনেক সরি। আপনি প্লিজ রাগ করবেন না।
তার কথা শুনে আমি মুগ্ধ হয়ে যায়। এ যুগে এমন কয়টা মানুষ আছে যারা অন্যের বিপদে সাহায্য করে। তার কথা শুনে বললাম, আরে না , আমি রাগ করি নি।
“ হুম । কেমন আছেন।
“” ভালো আছি। আপনি।
“আলহামদুল্লিলাহ ভালো আছি।আসলে হুট করে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় আমাদের ভালো ভাবে পরিচিত হওয়া হয়নি। আমার নাম আব্রাহাম চৌধুরী। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জন শিক্ষক (এটা কাল্পনিক গল্প,তাই কাল্পনিক ভাবেই পড়ার অনুরোধ রইল)।
তার কথা শুনে আমি এবার আমার পরিচয় দি, আমার নাম আরহা জাহান আরু। আমি এবার ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি।
“ তুমি আমার অনেক ছোট, তাই তুমি করে বললাম। তোমার কি কোনো আপত্তি আছে, তোমাকে তুমি বলায়
“, আরে না আমার কেন আপত্তি থাকবে। আমার কোনো আপত্তি নেই, আপনি তুমি করে বলিয়েন।
তোমাকে অনেক ক্ষন অপেক্ষা করাইছি, বলেই দেওয়াল ঘড়িতে দেখি তিনটা বাজে। তুমি ওয়াশ রুমে জামা কাপড় চেঞ্জ করে শুয়ে পরো । আমি রুমে চেন্জ করে নিচ্ছি।
আব্রাহাম এর কথা শুনে তাকে বললাম, আসলে এখানে তো আমার জামা কাপড় নেই।
আরুর কথা শুনে আমার মনে পড়লো, আমাদের বিয়ে তো হুট করে হয়ে গেছে। তার জামা কাপড় তো কিছু কেনা হয় নি । কি করবো তাই ভাবছি ।এখন তো মা বা আহি কে ডাকতে পারবো না অনেক রাত হয়ে গেছে। সবাই এখন ঘুমে বিভোর হয়ে আছে। আরু আমার দিকে কেমন তাকিয়ে আছে আমি আমার। একটা টি শার্ট আর ট্রাউজার বের করে দিলাম ।
এই গুলো দিয়ে এ কয় ঘন্টা চালাও। সকালে শপিং এ যাবো নি । এখন কাউকে ডাকা যাবে না
আব্রাহাম এর হাত থেকে টি শার্ট আর ট্রাউজার নিয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হতে গেলাম
এদিকে আব্রাহাম আরুর যাওয়া দেখে মুচকি হাসি দিয়ে তার পোশাক নিয়ে বাইরের ওয়াশ রুমে ফ্রেশ হতে যায়। আরু ফ্রেশ হয়ে বের হতেই দেখে আব্রাহাম বিছানায় বসে আছে। দরজা খুললাম শব্দে আব্রাহাম সেদিকে তাকিয়ে দেখে
চলবে