#মিথ্যা_অপবাদ
#ফারজানা_আফরোজ
#পর্ব_২৩
(১৮+ এলার্ট)
ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্ব থেকে অন্য কিছুতে পরিণত হলো। একদিন তানিয়া নাহিদ ও আয়ানের সামনে আরিয়ান মানহা কে প্রপোজ করে। মানহাও অ্যাকসেপ্ট করে সেই প্রপোজ। সেইদিন থেকে মানহা হলো তানিয়ার চোখের বালি। মানহা কে সেইদিন থেকেই ঘৃনা করতে শুরু করে। তাই একদিন নাহিদের বাসায় গিয়ে তানিয়া নাহিদ কে বললো…..
—” মানহার এত বড় সাহস ও কিনা আমার আরুর দিকে নজর দিয়েছে আমি তো ওকে খুন করে ফেলবো।”
—” তুই যে আরিয়ানকে ভালোবাসিস এতদিন বললি না কেনো আরিয়ানকে?”
—” সময় আসলে ঠিকই বলতাম। কিন্তু মাঝ পথে এই মানহা কেনো আসলো?”
—” এখন কি করবি তুই?”
—” মানহা কে রাস্তা থেকে সরাতে হবে।”
—” তোকে একটা কথা বলা হয় নাই। মানহা কে আমি একটা সময় পছন্দ করতাম কিন্তু ওই মেয়ে আমায় রিজেক্ট করেছে।”
—” তুই বিয়ে করবি মানহাকে!”
—” শুন ওকে পছন্দ করতাম এই বলে বিয়ে অসম্ভব।”
—” শুন বিয়ে কি তুই সারাজীবনের জন্য করবি নাকি পরে ডিভোর্স দিয়ে দিবি।”
—” বিয়ে কোনো পুতুল খেলা না তানু, তাছাড়া মানহা জীবনেও রাজি হবে না।”
—” আমি যখন যা চাই তাই হয়। এখন বল তুই কি আমায় সাহায্য করবি কিনা ?”
—” মানহাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য সব কিছু করতে পারবো আমি।”
—” তাহলে প্ল্যান শুন।”
—” হুম।”
।।
।।
।।
।।
আরিয়ান পিছন থেকে মানহার দুই হাত তার হাতের মুঠোয় ধরে রেখেছে। মানহার চুল বার বার আরিয়ানের মুখে এসে পড়ছে। ওয়াচ টাওয়ারের একদম উপরে দাঁড়িয়ে আছে তারা। উপরের দিকটায় তারা দুজন ছাড়া আর কেউ নেই। এত উপর থেকে সব কিছু একদম পিচ্ছি পিচ্ছি লাগছে। মানহা ভয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে।
—” আমি থাকতে এত ভয় কিসের তোমার ?”
—” আমি উচুঁ জায়গা থেকে নিচে তাকাতে পারি বড্ড ভয় করে আমার।”
—” আমার মায়াবতী তো ভীতু না। আজ তার আরিয়ান তার পাশে আছে তাহলে কিসের এত ভয়?”
—” আমি জানি না কিছু। নিচের দিকে তাকালেই আমার আত্মা শুকিয়ে যায়। মনে হয় আমি পরে যাচ্ছি।”
—” এই পাগলী আমি আছি না। ভয় কিসের হুম? চোখ খুলে দেখো।”
—” পারবো না ভয় করছে।”
—” আমার কথা শুনবে না তুমি?”
—” এই তুমিই আমাকে কোনো একদিন হার্ট অ্যাটাক করিয়ে মারবে বলে দিলাম আমি।”
—” হাহাহা। যা বলছি তাই করো এখন।”
মানহা চোখ খুলে সামনে তাকিয়ে ভয়ে পিছন ফিরে আরিয়ানকে জড়িয়ে ধরে। আরিয়ান মানহার চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে মানহা কে উল্টো ঘুরিয়ে ধীরে ধীরে চোখ খুলতে বলে। মানহা আবারো চোখ খুললো। ভয়ে সে আরিয়ানের হাত খামচে ধরলো।
—” আহহ মেরে ফেলতে চাও নাকি?”
—” আমি মনে হয় এলিয়েন যার পাহাড়ে উঠার কোনো ইচ্ছা নাই।”
—” আকাশের দিকে তাকাও।”
মানহা আকাশের দিকে তাকালো। আকাশটা গাঢ় নীল হয়ে আছে তার মাঝে সাদা মেঘ। মানহা আকাশ দেখে খুশিতে নাচতে লাগলো…..
—” আজকের আকাশটা এতো সুন্দর কেনো?”
—” আজকের আকাশে তোমার আমার ভালোবাসা জড়িয়ে আছে তাই।”
মানহা বাঁকা চোখে তাকিয়ে বললো…..
—” সব সময় ফাইযলামি তাই না?”
—–” মোটেও না।”
আরিয়ান মানহার মাথা তার বুকে নিয়ে বললো…..
—” কান পেতে শুনো তো কিছু বুঝতে পারছো নাকি?”
—” ধুক ধুক শব্দ হচ্ছে।”
—” আরেহ পাগলী এইটা হার্ট বিট। তোমাকে এত কাছে পেয়ে স্পন্ধন বেড়ে যাচ্ছে।”
মানহা মুচকি হাসলো। আরিয়ান তখন মানহার মুচকি হাসি দেখে বললো…..
—-” ‘Dorothy Dix’ ঠিক বলেছেন ‘মহিলাদের অস্ত্রাগারে হাসির মতো আর কোনো বড় অস্ত্র নেই যার আগে সকল পুরুষ এতটা অসহায় হয়ে পরে’ তোমার ওই হাসিই আমাকে খুন করতে পারে।”
—” হিহিহিহি।”
–” আর হেসো না গো পাখি ।”
আরিয়ানের কথায় মানহা খিলখিল করে হাসতে থাকে। আরিয়ান তাকিয়ে থাকে মানহার দিকে……..
।।
।।
।।
এইভাবে চলতে থাকে অনেক মাস। নাহিদ ও তানিয়া কিছুই করতে পারছে না। হটাৎ একদিন তানিয়া নাহিদকে নিয়ে আরেকটা প্ল্যান করে…..
—” শুন আগামীকাল আমি মানহা কে একা আমার বাসায় আসতে বলবো। আরিয়ানের বার্থ ডে উপলক্ষে প্ল্যান করবো বলে ওকে নিয়ে আসবো। আমি ওর খাবারে ঘুমের ওষুধ আর নেশার ওষুধ মিশিয়ে দিবো পরে তোর আর ওর কিছু পিক তুলবো। মানহা কে এমন ভাবে ফাঁসাবো না মানহা নিজেই আরিয়ানের থেকে দূরে সরে যাবে।”
—” তাহলে আর বিয়ে কেনো করবো ? কালকেই না হয় ওর সাথে আমি….”
—” চুপ একদম চুপ। ওইসব কিছুই হবে না আর বিয়ে তো তোকে করতে হবে। আরিয়ান জানবে মানহা ওর সাথে বিশ্বাঘাতকতা করেছে। মানহা জানবে ওর ভিডিও আছে। সব শুধু প্ল্যান । তোর মাথায় যদি খারাপ উদ্দেশ্য থাকে তাহলে ঝেড়ে ফেলে দে এক্ষুনি ওকে।”
—” হুহহ ওকে।”
ওদের প্ল্যান মতো পরেরদিন মানহাকে নিয়ে আসে বাসায়। খাবারে কিছু একটা মিশিয়ে দেয় তানিয়া। মানহা প্রথম নেশার ঘোরে পাগলামি করে আর সেই পাগলামির সুযোগ নেয় তানিয়া। তানিয়ার কাজ শেষ হলে নাহিদকে বাসায় পাঠিয়ে দেয় তানিয়া। নাহিদ যে কি রকম ছেলে তানিয়া জানে তাই রীকস নিতে চায় না ও।……….
আরিয়ানের বার্থ ডে আরিয়ান মানহার ম্যাসেজের জন্য ওয়েট করছে কিন্তু মানহার কোনো খবর নেই। আরিয়ান মানহার ফোনে কল দিল কিন্তু বন্ধ। মানহার বাসায় যাওয়াটা ঠিক হবে না ভেবে সেই রাত আরিয়ানের ভালো ঘুম হলো না।
সকালে মানহার ঘুম ভেংগে যায় নিজেকে তানিয়ার বাসায় দেখে অবাক হয়।
—” তাহলে তোর ঘুম ভাঙলো।”
—” তানু কি হয়েছে আমার । আমি তোর বাসায় ছিলাম রাতে?”
—” এখনও কিছু হয় নাই তোর কিন্তু হবে!”
—” মানে?”
—” ছিঃ তুই এত খারাপ। গতকাল নাহিদের সাথে কি করেছিস তুই?”
—” কি করেছি আমি।”
—” তোর সামনে পিক গুলো রাখা দেখ।”
মানহা পিক গুলো দেখে আকাশ থেকে পড়ল মনে হয়…..
—–” এইগুলো কখন কিভাবে হলো? আমি কিছু জানি না তানু।”
মানহা কান্না করতে থাকে। তানিয়া তখন আবারো বলা শুরু করে…..
—” ছিঃ ছিঃ মানহা আরিয়ানকে এইভাবে ঠকানো ঠিক হয় নাই তোর। আরিয়ানের সাথে রিলেশন করে নাহিদের সাথে তুই ছিঃ বলতেও লজ্জা হয় আমার।”
—-” আমি এইসব কিছু জানি না তানু ট্রাস্ট মী।”
—” ছিঃ ছিঃ বেবি তুমি এতটা মিথ্যাবাদী আমার জানা ছিলো না।”
নাহিদ বাহির থেকে এসে বললো। মানহা রাগে নাহিদের কলার চেপে ধরে…..
—” তুমি এইসব করেছো আমার সাথে তাই না? তোমাকে আমি পুলিশে দিবো। আরিয়ান কে সব বলে দিবো আমি।”
—” তাহলে ভিডিও আমি ভাইরাল করে দিবো। আরিয়ানের ফোনে দিবো। তোমার ফ্যামিলির কাছে পাঠাবো। পরে কি আরিয়ান তোমায় মেনে নিবে বেবি? তোমার ফ্যামিলি কি মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারবে?”
মানহা নাহিদকে ছেড়ে দিয়ে আবারো কাঁদতে থাকে। তানিয়া তখন মানহা কে বললো…..
—” একটা সমাধান আছে যার ফলে তোর ভিডিও ভাইরাল করবে না নাহিদ।”
—” কি সমাধান?”
—” তুই নাহিদকে বিয়ে কর তাহলে তোর সব সমস্যা সমাধান হবে।”
—” অসম্ভব।”
—” তানু তাহলে আমি ভিডিও ভাইরাল করে দিবো।”
—-” ও যদি ওর সমস্যা না বুঝে আমার কি তাতে? তুই ভাইরাল করে দে নাহিদ।”
—” এইবার বুঝতে পারছি তুই আর নাহিদ মিলে আমার এত বড় সর্বনাশ করেছিস। ছিঃ তানু তোকে বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবতেও আমার লজ্জা করছে। এই জন্য তুই গতকাল আমাকে এইখানে নিয়ে এসেছিস ?”
—” বাহ তুই তো খুব চালাক মানহা। হুম সব প্লেন আমার। তুই আমার আরিয়ানকে কেরে নিচ্ছিস তোকে কি করে ছার দেই বল। ”
—” আরিয়ান তোর মানে?”
—” আমি আরিয়ানকে ভালোবাসি। কিন্তু তোর জন্য আরিয়ান আমার ভালোবাসা বুঝতে পারছে না তাই তোকে রাস্তা থেকে সরানোর জন্যই এই প্ল্যান আমার।”
—” তানু ডার্লিং ওতো রাজি হচ্ছে না তাহলে কি আমি ভিডিওটা ভাইরাল করে দিবো?”
—” নাহ তুমি এই কাজ করবে না । আমি রাজি তোমাকে বিয়ে করতে। আমার সর্বনাশ যেহেতু করে ফেলেছো আমি চাই না আমার এই শাস্তি আমার পরিবার বা আরিয়ান পাক। আমি রাজি তোমরা যা বলবে তাই করবো।”
—” তাহলে চল আমাদের সাথে। আরিয়ানের বার্থ ডে উপলক্ষে তুই আজ আরিয়ানকে ব্রেকআপ করার গিফট করবি। বেচারা বড্ড সারপ্রাইজ হবে হাহাহা।”
তানিয়া ও নাহিদ হাসতে থাকে। তানিয়া একটা শাড়ি মানহার হাতে দিয়ে পড়তে বলে। তিনজন যায় আরিয়ানের বার্থ ডে পার্টিতে……
গতকাল রাতেই তানিয়া সব কিছু রেডি করে রাখে। বার্থ ডে পার্টিতে আরিয়ান, আয়ান,নাহিদ,তানিয়া ও মানহা থাকবে আর আরিয়ানের রিলেটিভ। আরিয়ানের রিলেটিভ বলতে হৃদয় ওই থাকবে……
মানহা কে দেখে আরিয়ান দৌড়ে মানহার কাছে যায়……
—” ওই কোথায় ছিলে তুমি? জানো সারারাত ঘুম হয় নি আমার। তোমার চোখ মুখ এই অবস্থা কেনো?”
—” তেমন কিছু না। চলো কেক কাটা যাক।”
—” নাহ আগে বলো কি হয়েছে?”
—” আরিয়ান শুনো তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই। আমি তোমাকে ভালো ভালো ভালোবাসি না আমি নাহিদকে ভালোবাসি। আর আমরা কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ে করতে চাই।”
মানহার কথা শুনে আরিয়ান মানহাকে সজোরে থাপ্পড় মারে। থাপ্পড় খেয়ে মানহা নিচে পরে যায়। তানিয়া তখন আরিয়ানকে ধরে আর চোখে ইশারা করে নাহিদকে। নাহিদ গিয়ে মানহাকে জড়িয়ে ধরে…..
—” আরিয়ান তুই আমার হবু স্ত্রীর উপর হাত তুলতে পারিস না।”
—” নাহিদ তুই আমার সামনে থেকে চলে যা তানাহলে তুই যে আমার ফ্রেন্ড তা কিন্তু আমি ভুলে যাবো।”
নাহিদ মানহার কানের কাছে ফিসফিস করে বলে…..
—-” শুনো আরিয়ানের হাতে মার খাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নাই। তুমি পরিস্থিতি সামাল দেও। খবরদার আরিয়ান যেনো কিছু বুঝতে না পারে।”
নাহিদ চলে যায়। মানহা তখন আরিয়ানের সামনে গিয়ে সবার সামনে আরিয়ানকে চড় মারে। আরিয়ান গালে হাত দিয়ে মানহার দিকে তাকিয়ে থাকে…..
—” শুনো রিলেশন সবাই করে এই জন্য কি বিয়ে করতে হয়? তোমার অনেক টাকা ছিলো তাই তোমার সাথে রিলেশন করি কিন্তু আমি নাহিদকেই বেশি ভালোবাসি। কিছুদিনের মধ্যেই আমরা বিয়ে করবো। এসে খেয়ে যেও বিয়ে। আর শুনো আমার লাইফে একদম আসবে না । তোমার মত অশুভকে আমি আমার লাইফে দেখতে চাই না ওকে।”
মানহার খুব কষ্ট হচ্ছে কথাগুলো বলতে কিন্তু তবুও বলতে হচ্ছে। আরিয়ানের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। আয়ান তখন মানহাকে এসে বললো…..
—” তুমি ভুল বলছো। আরিয়ানের মত ছেলে হয় না। আরিয়ান যদি ভুল করে থাকে তাহলে নিজেরা কথা বলে ঠিক করে নাও। দূরে সরে যাওয়া কোনো সমাধান না মানহা।”
তানিয়া এইবার আয়ানের উপর ক্ষেপে গেলো। নাহিদকে ইশারা দিয়ে বললো আয়ানকে এইখান থেকে সরানোর জন্য……
—-” শুন আয়ান তুই কোনোদিন প্রেম করিসনি তাই বুঝবি না। এইখান থেকে যা আমাদের সমাধান আমরা খুঁজতে পারবো।”
আয়ান চলে যায়। মানহা আরিয়ানকে অনেক কটু কথা শুনায়। আরিয়ান রেগে গিয়ে মানহার বাহু শক্ত করে ধরে বললো…..
—” আমার সাথে এমন না করলেও পারতে তুমি? আজ থেকে এই আরিয়ানের জীবনে কোনো মেয়ে থাকবে না। মেয়ে মানেই বিশ্বাসঘতক। আমার সাথে এমন মিথ্যা অবিনয় না করলেও পারতে। আজ থেকে যদি আমি কাওকে ঘৃনা করি সেইটা একমাত্র তুমি। আমাকে অশুভ বলেছো না তুমি? আসল অশুভ তো তুমি। আজ থেকে তোমার ওই অশুভ মুখ আমি দেখতে চাই না। আর নাহিদ তুই আজ থেকে আমার কেউ না। আমার আশে পাশে যেনো তোকে আর না দেখি।”
আরিয়ান চলে যায় পিছনে হৃদয়। সব কিছুই হৃদয়ের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। আরিয়ান চলে যাওয়ার পর মানহা বসে পড়ে কাঁদতে থাকে। তানিয়া তখন মানহাকে বলে,…..
—” খুব ভালো অভিনয় করতে পারিস রে তুই? দেখ আরিয়ান কেমন চলে গেলো। এই তানিয়া যা চায় তা ভালোভাবে না পেলে এইভাবেই আদায় করে নেয়।”
—” কেনো করলে তোমরা আমার সাথে এমন। এই #মিথ্যা_অপবাদ নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব না আমার পক্ষে। আরিয়ান আমায় ভুল বুঝলো। আমার ভালোবাসার প্রতি কোনো বিশ্বাস কি ওর নেই?”
—” থাম তো তোর ওই সিনেমাটিক কথা শুনতে ইচ্ছুক না আমি। নাহিদ যা কিছু করবে এখন তুই কর আমি গিয়ে আরিয়ানকে বুঝিতে আসি। হাজার হোক হবু বর বলে কথা।”
তানিয়া চলে যায়। নাহিদ মানহাকে বাসায় পৌঁছে দিতে চেয়েছিলো কিন্তু মানহা যায়নি। ও নিজেই একা চলে যায়। কিছুদিন পর ওদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মানহা জানতে পারে ওর সাথে ওইসব কিছুই হয়নাই সব তানিয়ার প্ল্যান ছিল। সব জানা সত্বেও মানহা চুপ করে থাকে কেননা তার আর কিছুই করার নেই। সব শেষ এখন তার। নাহিদ এখন তার স্বামী। ওইদিনের পর থেকে আরিয়ানের সাথে মানহার আর যোগাযোগ ছিলো না। কিন্তু বর্তমানে সোনালীর মাধ্যমে তাদের আবারো যোগাযোগ হলো…….
মানহা এতক্ষণ আয়ানকে তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বলছিলো। নাহিদের সাথে কেনো ডিভোর্স হলো সব বললো। তার মেয়ে মাওয়ার কথা বললো। আরিয়ান এখন তার বোনের স্বামী সব কিছু বললো। আয়ানের রাগে চোখ লাল হয়ে আছে…..
—” তুমি এখন বলছো এই কথা? তোমার ভুলের জন্য আজ আরিয়ান তোমাকে ভুল বুঝে আছে।আমি আরিয়ানকে সব বলে দিবো।”
—” প্লিজ আরিয়ানকে কিছু বলো না। তোমাকে বিশ্বাস করে সব কিছু বলেছি আমি প্লিজ সেই বিশ্বাসের দাম দিও।”
আয়ান কিছুক্ষণ নিজেকে কন্ট্রোল করে মানহাকে বললো….
—” তোমার মেয়ে অনেক্ষণ ধরে একা আছে চলো দেখে আসি।”
—” হুম চলো।”
মানহা ও আয়ান রিসোর্টের ভিতরে চলে যায়।
অন্যদিকে আরিয়ান শাওয়ার নিয়ে ওয়াশ রুম থেকে বের হলো। সোনালী আরিয়ানকে দেখে ভ্যাবলা কান্তের মতো তাকিয়ে আছে…..
চলবে……
বানান ভুল হলে ক্ষমা করবেন।