#ভালোবাসার_মৌসুম
#aroshi_jahan_isha
পর্ব ১৪
চৌধুরী নিবাসে আজ আত্মীয় স্বজন হতে পাড়া প্রতিবেশীতে ভরপুর। সবার মুখে শুধু একটাই কথা
“আহারে মেয়েটা এতো অল্প বয়সে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করবে তা কি কেউ ভেবেছিলো!
আল্লাহ মেয়েটাকে জান্নাত নসীব করুক।
এই মাইরা কথা বল!কি হয়েছে তোর?
নীলিমা কাঁদতে কাঁদতে মাইরার বাহুতে বার কয়েক ধাক্কা দিলো,এতেও কাজ হলো না।মেয়েটা পাথরের মুর্তির নায় শান্ত হয়ে বসে আছে,আর তার সামনেই তানিশার নিথর দেহ খানা।তাহসিন চৌধুরী খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে কাদছে লোকে বলে পুরুষ মানুষদের নাকি কাঁদা শোভা পায় না, যদিও তাহসিন চৌধুরীও তাই ভাবতো,তবে আজ সে বুঝেছে পুরুষ মানুষের কষ্ট হয় তারাও কাঁদতে জানে তবে সবার আড়ালে। তাইতো তিনি দু-হাতে চোখের পানি মুছে তানিশার হাত খানা ধরলো,শান্ত কন্ঠে বললো,
আম্মু ভালো থেকো তুমি, তোমার বাবা তোমাকে আর কটা দিন নিজের ছায়ায় রাখতে পারলো না।ক্ষমা করো।আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না তিনি ভান ভাষা ঢেউয়ের মতো মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।মাইরা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো।
তন্ময় তাহসিন চৌধুরী কে সরিয়ে নিলো,খানিকক্ষণ বাদেই একমাত্র বোনের জানাযা।তিন্নি কাঁদছে রুবি ও কাঁদছে।সব আত্মীয় স্বজনরা মেয়েটা অকাল মৃত্যুতে কাদছে।তন্ময়ের ফুপু জেবা এবং তার পরিবার কানাডা থেকে আসবে। তবে তার আগেই দাফন করা হবে মেয়েটাকে।
সময় মতো মাগরিবের নামাজের পর দাফন করা হলো,সব কাজ শেষ করে সবাই যে যার পথ ধরে চলে গেলো।রয়ে গেলো তন্ময়, বড্ড অভিমান জমেছে আজ তার তানিশার প্রতি।
__তুই খুব সেলফিশ বোন,তুই আমার বোন হবার যোগ্য না বুঝলি।আমার বোন এতো ভিতু হতে পারে না,।তুই আমার বোন হলে আমাকে সবকিছু বলতি।কিন্তু না তুই বললি না।কাকে বললি ওই স্টুপিড মাইরাকে।যে মেয়েটা পৃথিবীর সবচাইতে বোকা তাকে বললি,আমাকে বললে কি এমন ক্ষতি হতো রে,আমি তোর ভাই ছিলাম তবে কেনো বললি না।বল চুপ করে আছিস কেনো ব,,,ওহ সরি তুই তো আর কথা বলবি না।
“তন্ময় কাঁচা মাটির কবরের পাশে বসলো জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লো,দু ফুটা অশ্রু বোধহয় ঝড়ে পরলো তবে অন্ধকারে তা দেখা গেলো না।
কে জানে কতোক্ষণ এভাবে বসে রইলো সে,
ভাইয়া আপনি এখনো এখানে!
নীলিমা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো, তার পাশে আহির।
তন্ময় ফিরে চাইলো নীলিমার পানে,অতঃপর আবারও বোনের কবরের পাশে মাথা এলিয়ে দিলো,
মিস্টার তন্ময় আপনার ওয়াইফ,,,,,,,
আহির কথা শেষ করার আগেই তন্ময় তীক্ষ্ণ কন্ঠে বললো,
ওর নাম আমার সামনে নিবেন না প্লিজ,নীলিমা যাও তোমরা এখান থেকে আমি আসছি।
নীলিমা চুপচাপ আহিরের পানে চাইলো, আহির ইশারা দিলো এখান থেকে চলে যাওয়াই ভালো।
রাত তখন ১১ টা বোধহয়,
জেবা আর তার ছেলে জাহিদ আর মেয়ে জাহানারা।এসেছে মাএ।ভাইঝির লাশ দেখতে না পাড়ায় ভদ্রমহিলা যেনো আরও বেশি কষ্ট পেলো।ভাইকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।মাইরা নীলিমার কোলে মাথা রেখে সুফায় শুয়ে আছে।গায়ে তার ১০২°জ্বর
তন্ময় বাড়ি ফিরে একবার সবার পানে চাইলো, অতঃপর হুট করে মাইরার হাত ধরে টানতে টানতে রুমের দিকে হাটা ধরলো। জেবা ভাই-এর ছেলের এহেম কান্ডে থমকালো অবাক হয়ে শুধালো,
বাবা তন্ময় তুমি ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো,
তন্ময় জেবার পানে চেয়ে বললো,কথা আছে ওর সাথে, নাকি আমার বউ এর সাথে আমি কথাও বলতে পারবো না।
না বাবা আমি সেভাবে বলি নি!
তন্ময় আর কিছু শুনার বা বলার প্রয়োজন মনে করলো না।মাইরার হাত ধরে রুমে গিয়ে দড়জা বন্ধ করে দিলো,মাইরা কেবল ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।
তন্ময় বরাবরই শান্ত প্রকৃতির মানুষ, তবে আজ তাকে শান্ত লাগছে না।নীল চোখের মনি গুলো আজ বড্ড ভয়ঙ্কর ঠেকলো মাইরার কাছে।
সব কিছু জানতে তুমি তাই না?
“মাইরা শুকনো ঢোক গিললো,
ক-কি জানতাম!
তন্ময় রেগে গেলো মেয়েটা মিথ্যা বলছে,মাইরার মুখ চেপে ধরলো,
মাইরা ছটফট করে ওঠলো, গাল বোধহয় দাঁতে লেগে কেটে গেলো।
ছা_ছাড়ুন লাগছে আমার,
চুপ একদম চুপ,খুনি কোথাকার!
মাইরা তন্ময়ের পানে চাইলো,অতঃপর শান্ত কন্ঠে বললো, আমি খুনি!
হ্যাঁ তুই খুনি আমার বোনের খুনি তুই,সব জানতিস না তুই,তাহলে কেনো আমাকে সবকিছু বললি না।কেনো!
An’s me!
মাইরা কেঁপে ওঠলো,
তন্ময় মাইরার চুলের মুঠি শক্ত করে চেপে ধরলো।
মাইরা ব্যথায় চোখ বন্ধ করে নিলো,
তন্ময় ফের বললো,
এই মেয়ে আমি তো তোমাকে ভালো মনে করেছিলাম,বিশ্বাস করেছিলাম,আর ভাল,,,
আর কি?মাইরার শান্ত কথা শুনে তন্ময় মাইরা করে ধাক্কা দিলো,মেয়েটা বেলেন্স হারিয়ে আলমারির কর্ণারে গিয়ে পড়লো, কপাল বেয়ে দু ফুটা রক্ত বের হলো,
দড়জার সামনে দাড়িয়ে এতোক্ষণ সবাই সবকিছু শুনছিলো,মাইরার চিৎকারে তাহসিন চৌধুরী চিন্তিত হলো,আহির আর সে মিলে দড়জা ভেঙে ভেতরে আসতেই আঁতকে উঠলো,
মেঝেতে জ্ঞানহীন ভাবে পড়ে আছে মাইরা,কপাল চুইয়ে রক্ত পরছে।
নীলিমা কাঁদতে কাঁদতে মাইরার কাছে গেলো,কয়েকবার ডাকলো না মেয়েটার সাড়াশব্দ নেই।
স্যার দেখুন না ও কথা বলছে না কি হয়েছে আমার মাইরার।দেখুন আহির স্যার ওকে এক্ষুনি হাসপাতাল নিতে হবে।
তন্ময় চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে,তাহসিন চৌধুরী ছেলের গালে সজোরে একটা থাপ্পড় বসালো,
তাতে তন্ময়ের হেলদোল নেই।
আহির আর নীলিমা মাইরা কে নিয়ে হাসপাতালে গেলো,তাহসিন চৌধুরী ও সঙ্গে গেলো,তন্ময় কেবল চেয়ে রইলো সবার পানে।সবাই ঘড় ছেড়ে বের হতেই ড্রেসিন টেবিলের আয়নায় ফুলদানি ছুড়ে ফেললো,সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলো কাঁচের টুকরো।
তন্ময় বেলকনিতে গিয়ে হাঁটুতে মুখ গুজে ফুপিয়ে কেঁদে ওঠলো,
নীলিমা যখন কল দিয়ে বললো,তানিশা আর নেই,পৃথিবীটা বোধহয় থমকে গেছিলো,যদিও হাসপাতালে নিয়ে গেছিলো,ডাক্তার রা পরিক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে জানতে পারলো মৃত ব্যক্তি প্রেগন্যান্ট ছিলো।তন্ময় থমক গেছিলো।মাইরার জ্ঞান ফেরার পর মেয়েটা পাগলের মতো কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলো,নীলু ওর বাচ্চা আর ও না হতে পারে না ও আমাদের ছেড়ে যেতে পারে না।
তন্ময় তখন বুঝতে পারলো,মাইরা সব জানে।তন্ময় তখন নিজেকে শান্ত রেখে ডাক্তার কে বলেছিলো প্রেগ্ন্যাসির কথা কাউকে না জানাতে।ডক্টর তন্ময়ের বন্ধুর বাবা ছিলো বিধায় কাউকে জানায় নি।
তন্ময় আকাশের পানে চেয়ে বললো,
বোকা ফুল তোমাকে আমি বিশ্বাস করেছি আজও করি তবে কেনো আমার থেকে সত্যি টা লুকিয়ে ছিলে কেনো?আমি তোমার উপর রেগে আছি খুব খুব রেগে আছি!
চলবে…….

