Arrange Marriage part-01+02

0
408

Ayesha
#ArrangeMarriage

পর্ব-1+2

পাত্র পক্ষের সামনে মাথা নিচু করে বসে আছি।। সবাই নানা রকমের কথা বার্তা বলছে আমার কানে কিছুই ঢুকছে না, শুধু মনে হচ্ছে আমি কি আমার বাবা মার এত টাই বুঝা ছিলাম যে 17বছর বয়সে মেয়েকে বিদায় করতে উঠে পরে লেগেছে, সবাই আমাকে বলছে দেখতে আসলেই কি বিয়ে হয়ে যায় নাকি, ছেলেটা ভালো দেখে যাক আর বিয়ে তো এখনি দিচ্ছি না, যাক আরো কিছু বছর তারপর দেখা যাবে।। কিন্ত আমার মন তো মানতে নারাজ কেন মনে হচ্ছে এই দেখাই নাকি শেষ দেখা,, না জানি এর কপালেই না ঝুলতে হয়,, এইসব ভাবছি এমন সময় বাবা বললেন আয়েশা,আমি কিছুটা চমকে যেয়ে একটু উচ্চ সরেই বলে ফেললাম হ্যাঁ
বাবা: ছেলে তোমার সাথে আলাদা ভাবে কথা বলতে চায় তুমি কি বল?
( আমি না চাইলেও কি সব থেমে আছে) আমি হালকা করে মাথা নাড়ালাম
বাবা: যাও ওকে নিয়ে ছাদে যাও, ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল যাও বাবা।।

আমি আয়েশা এইবার ইন্টার 2ন্ড ইয়ারে পড়ছি। আমরা 2বোন ছোট বোনের নাম খাদিজা। ও 9 এ পড়ে।।
আমাদের পরিবার টা যৌথ পরিবার। আমার বাবার 2ভাই আমার কাকা আমরা এক সাথেই থাকি। কাকার 2ছেলে মেয়ে।। বড় আপু (মুনা) আমার থেকে 1বছরের বড় আর সায়েম আমার 2বছরের ছোট। বাবা মা 2জনেই টিচার কাকা ব্যাবসা করেন চাচী বাড়িতে টিউশন পড়ান।।
বাবা মনে করতেন আমি কোনো কাজের না হাত ধুয়ে ভাত খেতে চিনি না তাই আমাকে কলেজের ভর্তি হওয়ার পরে মেসে দেন নি কিন্ত আমার তো খারাপ লাগছে এটা ভেবেই আমার বাবার কখন মনে হলো মেয়ে এত বড় হয়ে গেছে যে বিয়ে দেয়া লাগবে।।
আর ওই ছেলের ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা নাম টা পর্যন্ত না।

হটাৎ সিড়ির সাথে হূচোট খেলাম পরে যাই যাই অবস্থা তাড়াতাড়ি রেলিং ধরে রক্ষা পাই।।
আমি আগে আগে যাচ্ছি সিড়িতে উটতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে, শাড়ি পরে ছাদে যাওয়া টা আমার বেশ ঝামেলায় লাগছে শাড়ি টা হালকা উচু করে সিড়ি দিয়ে উঠছি।।
উনি আমার পিছনে মনে হতেই হুচোট খাবার কথা মনে হয়ে গেল মনে মনে বেশ লজ্জা পেলাম উনি কি ভাবছেন আল্লাহ।।
শাড়ির কুচি ধরবো না মাথার কাপড় ঠিক করবো এই করতে করতে মাথা থেকে কাপড় পরে গেলো, আমি তারাতারি আঁচল খুঁজছি কিন্ত হাতে খুঁজে পাচ্ছিও না।।
উনি পিছন থেকে বলছেন এখানে আমি আর তুমি ছাড়া কেউ নেই এইভাবে থাকো সমস্যা নেই আমি কিছু মনে করব না,, এইভাবে তোমাকে বেশ সুন্দর লাগছে।।
এটাই উনার মুখ থেকে শুনা আমার প্রথম কথা আমি কিছু বললাম না কারণ এইটা আমি নিজেও জানি।।
উনি: এর মধ্যে কোনো কারসাজি নেই তো?
আমি: এইবার একটু অবাকই হলাম আমি মুখ হালকা পিছনে দিকে ফিরে উনাকে বললাম কারসাজি মানে?
উনি: না মানে পার্লার থেকে
আমি উনাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম না এইসব কিছু না
উনি:আমি মজা করেছি
আমি: হুহ
ছাদের দরজা টা খুলতে পারছি না।। যং পরে যাওয়ায় কিছু টা কষ্ট হচ্ছে, ছেলে নিজ থেকেই বললো দাও আমাকে আমি খুলছি।। উনি একটু জোড়ে চাপ দিতেই খুলে গেল।
এইবার উনি আমার সামনে হাঁটছে বেশ হ্যান্ডসাম দেখতে লম্বা অনেক খানি প্রায় 6ফিট আমি উনার বুক সমান হবো পিছন থেকে ভালই লাগছে আমি ভাবছি বেশ ভালই হবে বুকে মাথা রাখা যাবে কোথাও গেলে কাধে মাথা রেখে আরামসে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া যাবে, ও গড কি সব ভাবছি আমি।।
এখনও তাকে সামনে থেকে দেখতে পারিনি হুমায়ূন আহমেদ ঠিকই বলছেন মেয়েরা বিয়ের কথা শুনলে খুশি কিন্ত বাইরের মানুষকে বুঝায় সে খুব কষ্ট পাচ্ছে তার সত্যি প্রমাণ আমি পাচ্ছি।। উনি ছাদের রিলিং ধরে বেশ একটা ভাব নিয়েই দাড়িয়ে।।
উনি: বেশ সুন্দর তোমাদের ছাদ টা তেমন বড় না হলেও দেখতে অসাধারণ আমি শুধু মাথা নাড়ালাম
উনি: রাতে এখানে বসে কফি খেতে বেশ মজা পাওয়া যাবে কি বল?
আমি: আমি কখনো রাতে ছাদে আসিনা
উনি: কেন? ভয় করে?
আমি: না তা না, আমার মা মনে করেন রাতে বের হলে জীন পরি ধরতে পারে
উনি: জ্বিন রা কাদের ধরে জানো?
আমি: কাদের?
উনি:হেসে হেসে বললেন সুন্দরী দের
আমি: জানি
উনি: তাই? তোমার কি নিজেকে সুন্দর মনে হয়?
আমি: জ্বী না
উনি: জীন পরীরা সুন্দর মেয়েদের ধরে তুমি তো সুন্দরী না
আমি: হুম
উনি:সো তোমাকে ধরবে না চিন্তা করো না
আমি: হুম
উনি: তুমি কি শুধু হূ হু করছো কিছু বলো
আমি চুপ আছি
উনি: বুঝছি লজ্জা পাচ্ছো ঠিক আছে আমি স্টার্ট করি। I am fahad, I’m a graduate of Law. কিছুক্ষন চুপ থেকে Actually I was filing norbous এই মুহূর্তে কিছু মাথায় আসছে না,,
এইবার তুমি তোমার সম্পর্কে কিছু বল

Ayesha
#ArrangeMarriage

পর্ব-2

এবার তোমার সম্পর্কে কিছু বল
আমি: আমি আয়েশা এইবার hsc দিব
ফাহাদ: গ্রুপ?
আমি: আর্টস
ফাহাদ: এইম কি?
আমি: নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নিজে কিছু করা?
ফাহাদ: এখন কি অন্যের পায়ে ভর দেয়া?
আমি: চুপ আছি
ফাহাদ: তুমি কি বিরক্ত হচ্ছো?
আমি: না
ফাহাদ: তাহলে কম কথা বল?
আমি: তাও না
ফাহাদ: ঠিক আছে ব্যাপার না মানিয়ে নিব
আমি: আমি কিছুটা চমকে যেয়ে উনার দিকে মুখ তুলে তাকালাম কিন্ত আমি তাকানোর আগেই উনি মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে খুব ভালো করে চারপাশ দেখছেন।। কপাল টাই খারাপ এইবার ও দেখতে পারলাম না
ফাহাদ: অনেক্ষন হলো এবার আমাদের যাওয়া দরকার।।
আমি: জ্বী
ফাহাদ: চলো
আমরা নিচে নেমে আসলাম আমি আমার রুমে চলে গেলাম উনি বসার ঘরে গেলেন।

আমি বার বার উনার কথা গুলো ভাবছি, হটাৎ মাথায় আসলো উনি উকিল হায় আল্লাহ আমি তো জীবনেও ভাবিনি কোনো উকিল বাবু আমার কপালে জুটবে। ।

বুবু (মুনা আপু) এসে আমার কাঁধে হাত দিতেই আমি চমকে উঠলাম আমার পাশে বসতে বসতেই বললো
বুবু: কিরে
আমি: কি?
বুবু: কি কথা বললি?
আমি: তুমি কিন্ত বড় বোন মাথায় রেখো
বুবু: হু হু এখন বড় বোন হয়ে গেলাম, এতদিন আমার সাথে ঝগড়া করার সময় মনে ছিল না!
আমি: দেখ বুবু আমি কিন্ত তোমার সাথে কখনো ঝগড়া করিনি তুমি আমার কথা গুলো ঐভাবে নিতে।।
বুবু: থাক বাদ দে এইবার বল কি বলল?
আমি: তেমন কিছুই না hi hlw এই সবই
বুবু: কি মনে হলো পছন্দ?
আমি: আমি কি করে বলবো (মুখ ঘুরিয়ে নিলাম)
বুবু: উত্তেজিত হয়ে তুই কি করে বলবি মানে আরে গাঁধী কথায় কি মনে হয়েছে?
আমি: কিছুই না
বুবু: উঠতে উঠতে বললো তোকে দিয়ে কিছুই হবে না যা মুড়ি খা।। বুবু চলে গেল।।

এমন সময় মা ডাকছে, উনারা চলে যাচ্ছে বিদায় জানাতে।।।
ফাহাদের মা, বাবা, মামা, ওর বোন ফারিয়া আর ওকে নিয়ে 5জন এসেছিল।।।
আমি খুব আসা নিয়ে এইবার গেলাম এবার তাকে দেখবোই ।।
বাইরে বের হলাম ওর মা আমার মাথায় হাত দিয়ে বলছে ভালো থাকো মা আবার দেখা হবে বলে একটা মোটা ব্যান্ডেল হাতে দিল আমি নিতে চাইনি তাও জোর করেই দিল,
মা:সালাম কর
আমি সালাম করলাম। উনার সাথে থাকা ফাহাদের মামা,বাবা র সাথে আমার বাবা মা কাকা, চাচীকে ও সালাম করলাম।।
ওর বোন আমার গা ঘেসে বলবো ভাবি ইউ আর সো সুইট।। খুব পছন্দ হয়েছে।। খুব তারাতারি আবার দেখা হচ্ছে।। মেয়ে টা বেশ মিশুক ওর ভাইও তাই।। ফারিহার কথায় বুঝতে বাকি নেই কি হবে।। কিন্ত সে কোথায় তাকে তো দেখছি না ফারিয়া কানে কানে বললো
ফারিহা: কাকে খুঁজছ? হু?
আমি: কাকে খুজবো?
ফারিহা: ভাইয়া বাইরে আছে ওয়েট করছে আমাদের জন্য।।। এবার তাহলে আসি।।

আমি তাদের তাদের বিদায় দিয়ে রুমে আসতে আসরের আযান পরলো আমি চেঞ্জ করে অজু করে নামাজ পড়ে নিলাম।।

খুব ক্লান্ত লাগছে, শুয়ে শুয়ে ভাবছি, ওর কি আমাকে পছন্দ হয়েছে? বিয়ে টা কি হয়ে যাবে? তার চেয়ে বড় কথা আমার কি ওকে পছন্দ হয়েছে? না না ওকে আমার কিছুতেই পছন্দ হয় নি দেখে তো মনে হয় 22/23বছরের খোকা বাবু কিন্ত গ্রাজুয়েট তো এমনি এমনি করে ফেলি নি কম হলেও বয়স 26 কি 27 হবে।। তারমানে আমার থেকে 10বছরের বড়, এই যুগে এত ডিসটেন্স রেখে কেউ বিয়ে করেনা, সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। আমার ফ্রেন্ডস দের মধ্যে আমাকেই ফার্স্ট দেখতে আসছে আর আমার বিয়ে হয়ে গেলে কি হবে, ওরা লেখা পড়া করবে আমি সংসার সামলাবো ওরা চাকরি করবে আমি বাচ্চা কোলে নিয়ে বলবো না বাবু কাদে না, ওরা বিয়ে করবে তখন আমি আমার বাচ্চা কাচ্চা স্কুলে ভর্তি করবো বাহ আয়েশা বাহ তুই তো এগিয়ে যাবি ডোন্ট ওরি তুই মরবি ও তারাতারি এইসব ভাবতেই কান্না আসছে।। ওই বুড়া বুড়া দেখতে ছেলেকে আমি কিছুতেই বিয়ে করবো না কিছুতেই না ।। এই বিয়ে যে করেই হোক আটকাতে হবে।।
বিছানায় গা হেলাতেই রাজ্যের ঘুম এসে চোখে পরলো। আমি ঘুমিয়ে গেলাম।।

হটাৎ মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি 8টা বেজে গেছে আমি 4ঘণ্টা ঘুমালাম আশ্চর্য।। এর মধ্যেই মা বললো
মা: নে কথা বল
আমি: কে?
মা: দেখ কে
আমি: হ্যালো
ওপাশ থেকে কোনো কথা আসছে না আবার হ্যালো বললাম আবার চুপ কিচ্ছু শুনা যাচ্ছে না, মা আমার রুম থেকে চলে গিয়েছে আমি মাকে চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে ডাকছি মাআআআআ মাআআআআ
মা: কি হয়েছে? এইভাবে ডাকছিস কেন? বড় কম হোস নি এখনও কোনো কিছু নিজে করতে শিখলি না
আমি: এইজন্য অন্যের বাড়িতে পাঠিয়ে শিখাবে? (কাদো কাদো ভাবে বললাম)
মা: বাচ্ছামি ভাব টা ছাড় বড় হয়েছিস।।
আমি: বড় আর হতে দিলে কই? আমার এখনও 18 বছর হয় নি তোমরা আমাকে অন্যের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছ আমি কি তোমাদের কাছে এতটাই বুঝা ছিলাম যে একটা 27বছরের বুড়ার কাছে বিয়ে দেয়া লাগবে? আর শুনেছি ছেলে নাকি লয়ার, লয়াররা বড় মাপের লায়ার হয়ে থাকে, জানো মা এরা মারাত্মক রকমের মিথ্যেবাদী হয়, কেস জিতার জন্য অনেক মিথ্যা বলে, বাইরে মিথ্যা বলতে বলতে কখন ঘরে শুরু করবে ঠিক নেই, আচ্ছা মা তুমি কি চাও তোমার মেয়ে কে মিথ্যে বলে কেউ ঠকাক? মা আমার কথা পাত্তা না দিয়ে বললো
মা: লেখা পড়া শেষ করেছে বয়স তো হবেই আর ছেলের বুদ্ধি আছে দেখবি কিছুদিন পরে অনেক বড় লইয়ার হয়ে যাবে।।
আমি: উপরে আল্লাহ আছেন এইসব সহ্য করবেন না।।
মা: ডাকলি কেন সেটা বল

এই এক মা যার কাছে আমার কোনো কথার কোনো দাম নেই, আমার সব কথাই তার কাছে ফালতু, না হয় এমন ইমোনশন কথা শুনে কোন মার মন খারাপ না হতো আর তিনি কি সুন্দর বলছে কি হয়েছে বল।।

আমি: কার সাথে কথা বলার জন্য ফোন দিয়ে গেছ? কেউ তো কথাই বলছে না।।
মা: আবার ফোন দে
আমি: কি? আমি কেন ফোন দিব যার আমাকে দরকার সে দিবে
মা: যা বলছি তা কর
আমি ফোন হাতে নিয়ে দেখছি লাইন কাটে নি
আমি: মা
মা: কি
আমি: এখনও লাইনে
মা আমার হাত থেকে ফোন টা নিয়ে তারাতারি লাইন কেটে দিল
মা: তোর কি আক্কেল কোনোদিন হবে? ছেলেটা কি ভেবেছে?
আমি: ছেলে টা মানে?
মা: ফাহাদ
আমি : আমি অবাক হয়ে আছি
মা আমার উপর রাগ দেখিয়ে ফোনটা বিছানায় গেলে চলে গেল।। আবার ফোন বাজছে আমি তুলছি না, বাজতে বাজতে কেটে গেল আবার ফোন দিল
ফোনটা হাতে নিয়ে রিসিভ করবো না করবো না করতে করতে রিসিভ করেই ফেললাম, কানে ধরতেই ওপাশ থেকে

ফাহাদ: হ্যালো
আমি: চুপ করে আছি
ফাহাদ: হ্যালো? কথা বল?
আমি চুপ করেই আছি
ফাহাদ: রিভেঞ্জ নিচ্ছ?

চলবে,