😠 Ragging To Loving 😍
Part::1
Writer:: Ridhira Noor
সন্ধ্যা হতে চলেছে। আকাশে লাল কমলা রং ধারণ করেছে লাল মেঘের আভা ভেসে উঠেছে আকাশে। সূর্য প্রায় ডুবুডুবু। _____ কলেজ থেকে খানিক দূরে রহিম চাচার চায়ের দোকান। রাস্তাটি প্রায় নির্জন। হাতে গোনা কয়েকজন মানুষই দেখা যায় এসময়। শাফি সুমন সাব্বির মারুফ চার বন্ধু রহিম চাচার চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেয় এই সময়।
সুমনঃঃ- রহিম চাচা প্রতিদিনের মতো চার কাপ চা বানাও। তোমার চা না লাজাওয়াব।
শাফিঃঃ- চাচা তোমার কোন মেয়ে আছে?
রহিম চাচাঃঃ- না বাবা আমার খালি দুইডা পোলা আছে।
শাফিঃঃ- আহা (দুঃখ প্রকাশ করে)
মারুফঃঃ- কেন রে? চাচার মেয়েকে দিয়ে তুই কি করবি?
শাফিঃঃ বিয়ে করে ফেলতাম। চাচা এমন সুস্বাদু চা বানায় চাচার মেয়ে হলে তো আরও সুস্বাদু চা বানাতো। তাহলে সারাদিন চা খেতে পারতাম।
রহিম চাচা সহ সবাই হাসিতে মেতে উঠল। তারা চা খেয়ে রওনা দিল। সূর্য ডুবে সন্ধ্যা নেমে এলো। চারপাশে অন্ধকার। শুধু রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের ঘোলাটে কমলা বাতি জ্বলছে। চার বন্ধু হাসাহাসি করে হেটে যাচ্ছে। হঠাৎ এক বাইক ফুল স্পীডে এসে তাদের চারপাশে ঘুরে তাদের পিছনে গিয়ে ব্রেক লাগায়। তারা পিছনে ফিরে তাকায়। বাতির ঘোলাটে আলো পিছন থেকে পড়ায় চেহারা তেমন একটা বোঝা যাচ্ছে না। এক আবছা ছায়া ভেসে উঠছে। তারা ধীরে ধীরে ছায়াটির দিকে এগিয়ে এলো। খানিকটা দূরে গিয়ে দাঁড়াল। বাইক রাইডার বাইক থেকে নেমে হেলমেট খুলতে মাথার এলোমেলো চুলগুলো থরথর করে কোমর অবধি পড়ল।
সাব্বিরঃঃ- এটা তো মেয়ে। কিন্তু চেহারা দেখা যাচ্ছে না। (তারা মেয়েটিকে উঁকি মেরে দেখছে। কিন্তু কোন একটা লাভ হলো না)
মেয়েটি হেলমেট খুলে রেখে ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে এলো। বাতির আলোয় এখন মেয়েটিকে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু মুখে রুমাল বাঁধা। ছেলেগুলো মাথা থেকে পা অবধি দেখতে লাগলো। ব্লাক জিন্স ব্লাক জ্যাকেট ব্লাক সু তার উপর চুল ছাড়া মুখে রুমাল বাঁধা।
শাফিঃঃ- উফফ আজ তো পুরো পার্টি চলবে বন্ধু। নির্জন রাস্তা একা এক মেয়ে। তাও এত হট।
তাদের কানে কানে ফিসফিস করে। চারজন এক পৈশাচিক হাসি দিয়ে মেয়েটির দিকে এগিয়ে এলো। তার চারপাশে তারা চারজন ঘুরতে লাগলো।
সুমনঃঃ- কি হয়েছে ম্যাডাম। কোন হেল্প লাগবে?
মারুফঃঃ- হেল্প লাগলে বলুন আমরা আছি তো। (তার দিকে একটু ঝুকে) মানে হেল্প করতে। (বলে হাসতে লাগলো)
মেয়েটিঃঃ- (হালকা হাসলো) একচুয়ালি হেল্প আমার না তোমাদের লাগবে। (পকেটে হাত দিল)
ছেলেগুলো হাসতে লাগলো। “আমাদের হেল্প?” তাচ্ছিল্য হাসি দিল। তার কয়েক সেকেন্ড পরই ছেলেগুলোর সামনে সব ঘোলাটে হয়ে অন্ধকার চেয়ে গেল। পনেরো মিনিট পর তাদের মুখে পানি ছুড়ে মারতেই তাদের জ্ঞান ফিরে এলো। জ্ঞান ফিরতেই তারা দেখা তাদের হাটু গেড়ে বসিয়ে একটি লম্বা বাঁশের সঙ্গে হাত বেঁধে চারজনকে একসাথে বাঁধা হলো। তাদের সামনে কয়েকটি মেয়ে একই পোশাক পরিধান করা। বাইকের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
২য় মেয়েঃঃ- হেই সবাই সুন্দর করে পোজ দাও। একটা সেলফি তুলি। (ছেলেগুলো কে। তারা আহত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।)
৩য় মেয়েঃঃ- শুরু হয়ে গেল। (মাথায় হাত দিয়ে)
১ম মেয়েঃঃ- আরে ইয়ার পুরি পিকচার আভি বাকি হেই। (ছেলেগুলোর সামনে গিয়ে দাঁড়াল) তারপর বল এখন কার হেল্প লাগবে? আমার নাকি তোমাদের?
মারুফঃঃ- আমাদের এভাবে বেঁধে রেখেছ কেন?
৪র্থ মেয়েঃঃ- তোমাদের পুতুলের মতো করে সাজিয়ে শোকেসে সাজিয়ে রাখব। তারপর মন ভরে দেখব।
মেয়েগুলো ফিক করে হেসে দিল।
২য় মেয়েঃঃ- নাইস জোক ইয়ার।
১ম মেয়েঃঃ- আচ্ছা থাম তোরা। এবার তোমরা বল। বাবা মা তোমাদের কলেজে কেন পাঠায়? (কোন সাড়া শব্দ নেই। এবার জোরে চেচিয়ে বলে) বল কেন পাঠায়?
ছেলেগুলোঃঃ- প…প… পড়ালেখা করতে।
১ম মেয়েঃঃ- যাহ্ কি বল! পড়ালেখা করতে? আরে না! তোমাদের তো র্যাগিং করার জন্য পাঠায়। পড়ালেখা করার হলে তিন বছর একই ক্লাসে থাকতে না। আর তোমরা দেখি ____কলেজে অনেক ফেমাস র্যাগিং এর জন্য। তা তোমাদের বাবা মা জানে তোমাদের কীর্তির কথা। (ছেলে গুলো মাথা নিচু করে আছে) খুব শখ না র্যাগিং করার। র্যাগিং করবি না র্যাগিং করবি! তোদের মতো কিছু ছাত্রদের কারণে অন্যান্য ছাত্র ছাত্রীদের উপর কি প্রভাব পড়ে জানিস? র্যাগিং করে তোরা যে মজা পাস এই মজা যে কারো জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে তা কখনো ভেবে দেখেছিস? র্যাগিং ততক্ষণ সীমাবদ্ধ থাকে যতক্ষণ তা শুধু মজায় থাকে। যখন তা কারো সম্মানে আঘাত হানে তখন সেটা র্যাগিং নয় হ্যারেসিং। র্যাগিং করার খুব শখ। গার্লস লেটস স্টার্ট।
মেয়েগুলো লাঠি দিয়ে তাদের মারতে লাগলো। লাঠির আঘাতে ছেলেগুলো চিৎকার করতে লাগলো।
১ম মেয়েঃঃ- আরে কি করছিস? মাথা খারাপ নাকি তোদের। এদের নরম শরীরে এভাবে আঘাত দিচ্ছিস।(ছেলেগুলো হাসি মুখে তার দিকে তাকাল) এমন জায়গায় মার হারামজাদা গুলোকে যাতে কাউকে বলতেও না পারে দেখাতেও না পারে।
ছেলেগুলোর মুখে আতঙ্কের চাপ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। ভয়ে এক ঢোক গিলতে লাগলো। ওই দিকে ব্যান্ড বাজা শুরু। মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে গেল।
৩য় মেয়েঃঃ- ওই কি খায় রে এগুলো। গন্ডারের চামড়া। হাত ব্যাথা হয়ে গেল।
১ম মেয়েঃঃ- আসল গেম এখনো বাকি। র্যাগিং কি তা একটু বুঝিয়ে দিই।
কিছুক্ষণ পর গান শুরু হলো। বেবি ডল সং। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন শাফি সুমন সাব্বির মারুফ মেয়েলি কাপড় পড়ে মেকআপ করে নাচছে। ২য় মেয়েটি ভিডিও করছে। আর সবাই সমানে হেসে যাচ্ছে।
৩য় মেয়েঃঃ- ইয়ার তুই ঠিক বলেছিস। এদের পুতুলের মতো তো সাজিয়েছিস এবার শোকেসে সাজিয়ে রাখ। দেখতে জোস লাগছে।
১ম মেয়েঃঃ- অনেক হয়েছে। নাও কাম টু দ্যা পয়েন্ট। (ভিডিও করা মোবাইলটা হাতে নিয়ে) এখন তোমাদের কি করতে হবে বুঝতে পেরেছ নিশ্চয়।
ছেলেগুলো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আর মাথা নাড়িয়ে সায় দিল।
১ম মেয়েঃঃ-স্কুল লাইফ , কলেজ লাইফ , ভার্সিটি লাইফ এসব আর চেয়েও ফিরে পাওয়া যায় না। তো এই সময়টুকু জীবনের বেস্ট মোমেন্ট তৈরি কর। যা পরবর্তীতে মনে করছে মুখে হাসি ফুটবে মনে অনুতপ্ত নয়। তাই নিজের জীবনকে গুছিয়ে নাও। এসব খামখেয়ালি না করে প্রতিটা মুহূর্তকে সুন্দর করে তোল আর ভবিষ্যৎ জীবন গড়তে পড়ালেখার দিকে দেখ। তোমাদের বাবা মা দিনরাত পরিশ্রম করে তোমাদের স্কুল কলেজে পাঠায় যাতে তারা তোমাদের জীবনের উন্নতির শিকরে দেখতে পায়। তাদের মনে এভাবে আঘাত দিও না।
ছেলেগুলো অনুতপ্ত হয়ে আহত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। হয়তো নিজেরা বুঝতে পারছে তাদের ভুলটা।
১ম মেয়েঃঃ- আগে এই কথাগুলো বুঝালে তোমাদের মাথায় ঢুকত না। তাই আগে শাস্তি দিলাম।
তাদের দিকে তাকিয়ে চলে গেল। বাইক নিয়ে চলে গেল।
.
.
.
চলবে
😠 Ragging To Loving 😍
Part:: 2
Writer:: Ridhira Noor
ঘরে নিস্তব্ধ পরিবেশ। কোন সাড়া শব্দ নেই। ঘড়ির টিকটিক শব্দ শোনা যাচ্ছে। আম্মু রান্নাঘরে আব্বু আর তন্বি ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছে।
আব্বুঃঃ- কি হয়েছে? ঘরে এত শান্তি কেন? (ফিসফিস করে)
তন্বিঃঃ- এটা তুফান আসার আগের নিরবতা। (ফিসফিস করে)
হঠাৎ রান্নাঘর থেকে খালি পাত্রের আওয়াজ আসছে। আব্বু আর তন্বি হাত দিয়ে কান চেপে ধরল।
তন্বিঃঃ- বলেছিলাম না তুফান আসার আগের নিরবতা।
আম্মুঃঃ- ঘড়ি দেখেছ? রাত ৯ টা বাজতে চলল। এই মেয়েটা এখনো এলো না। কোচিং শেষ হয় ৭ টায়। ওইখান থেকে আসতে বড়জোর ১৫-২০ মিনিট লাগে। কিন্তু না বান্ধবীদের সাথে যখন একবার হাটা ধরে আসার নাম গন্ধ নেই। অন্যদিন ৮ টায় চলে আসে। আজ না জানি কোথায় আছে। আসুক আজ ঘরে। (রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল)
ঠিক তখনই কলিং বেল বেজে উঠল। আম্মু ঝাড়ু হাতে নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো।
আব্বুঃঃ- আরে একটু আগেই তো ঘর ঝাড়ু দিলে।
তন্বিঃঃ- আব্বু এটা ঘর ঝাড়তে নয় আপুকে ঝাড়তে নিয়েছে।
আম্মু তাদের দিকে তাকিয়ে আবার ফিরে ঝাড়ু হাতে নিয়ে দরজা খুলল। দরজা খুলতেই চোখ দুটো ছানাবড়া হয়ে গেল। অনেক্ষণ কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে আব্বু আর তন্বি বেরিয়ে এলো। তাদের চোখ যেন কপালে। মাথা থেকে পা অবধি তাকাল। চুলগুলো এলোমেলো চশমা এক কানে ঝুলছে অন্য কানের নিচে জুতা হাতে জুতা একটা ছিড়া। দেখে মনে হচ্ছে পাবনা থেকে কোন পাগল পালিয়ে এসেছে।
তন্বিঃঃ- এই কি অবস্থা তোর?
নূরঃঃ- আম্মু রেএএএএ।
পুষ্পঃঃ- (পিছন থেকে বলল) ভ্যায়ায়া আর কইস না বোন। কুত্তা দৌঁড়ানি দিছে। তাও তোর বজ্জাতনি বোনের জন্য। (নূরের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকাল)
আম্মু হাতের ঝাড়ু ফেলে ফিক করে হেসে দিল। নূর করুণ দৃষ্টিতে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। হাসতে হাসতে তাদের ভিতরে নিয়ে গেল। নূর ওই একই পাগলের মতো অবস্থায় বসে আছে।
আব্বুঃঃ- এখন বল কি হয়েছে?
পুষ্প তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নূরের দিকে তাকিয়ে আছে। নূর জোর পূর্বক হাসি দিয়ে এক ঢোক গিলল।
নূরঃঃ- এভাবে তাকাস কেন? ভয় লাগে তো।
তন্বিঃঃ- কি হয়েছে তা কি বলবে না কি এভাবে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকবে।
.
.
.
.
পুষ্প নূর আলিফা সিমা আমরিন মেহের এক সাথে গল্প করছিল আর হাটছিল। নূর দেখে রাস্তার ওই পাড়ে এক ব্যক্তি হাওয়া মিঠাই বিক্রি করছে। তারা হাওয়া মিঠাই কিনল। পাশে এক কুকুর শুয়ে ছিল। নূর ভালো করে জানে পুষ্প মেহের কুকুর ভয় পায়। সে এক দুষ্টু হাসি দিয়ে কুকুরটিকে জাগাতে লাগলো। এই দিকে পুষ্প মেহের নূরকে বোকা দিতে লাগলো। নূর কুকুরটিকে হাওয়া মিঠাই দেখাতে লাগলো। কুকুরটিকে রাগে ঘেউ করে উঠল। চেহারা দেখতে বেশ ভয়ংকর লাগছে। নূর পাশে তাকিয়ে দেখে পুষ্প মেহের দৌড় দিছে আলিফা সিমা আমরিন তারাও তার থেকে দূরে গিয়ে দাঁড়াল। নূর একবার কুকুরটির দিকে তাকাল। দেখেই বুকের ভেতর ধুকপুক করে উঠলো। এক চিৎকার দিয়ে লে দৌড়। রাস্তার মোড়ে দুই রাস্তা এলো। আলিফা সিমা আমরিন দিল এক দিকে দৌড়। পুষ্প মেহের আরেক দিকে দৌড়। নূর গেল পূষ্পর দিকে।
নূরঃঃ- আম্মুউউউউরেরেরেএএএএএ।
পুষ্পঃঃ- আআআআ ফকিন্নি দূরে গিয়ে মর কুকুরটা তোর পিছনে।
মেহেরঃঃ- এএহেহে কুকুর কামড় দিলে ১৪ টা ইঞ্জেকশন দিবে। আম্মু গো কই তুমি?
পুষ্পঃঃ- এখন আমাদের পিছনে এলি কেন? যাহ কুকুরটাকে জড়িয়ে ধর।
দৌড়াতে দৌড়াতে নূরের জুতা ছিড়ে গেল সে পড়তে গেলেই পুষ্প এসে ধরে ফেলে। তার হাতের সব পড়ে যায়। মেহের নূরের ব্যাগ নিল।
মেহেরঃঃ- জুতা হাতে নিয়ে দৌড়া ফকিন্নি।
লে আবার দৌড়। হাওয়া মিঠাই পড়ে যাওয়ায় কুকুরটি থেমে যায় আর হাওয়া মিঠাই খেতে থাকে। এদিকে ওদের আর পায় কে? এক দৌড়ে নূরের বাসায়।
.
.
.
তন্বি আম্মু আব্বু তো এদিকে হাসতে হাসতে শেষ। নূর ঠোঁট উল্টিয়ে সবার দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকাতে লাগলো।
পুষ্পঃঃ- থাপরাইয়া তোর দাঁত সব ফালায় দিব। একে তো তোর জন্য পুরো এক ঘন্টা দৌড়ালাম। এতো যদি ম্যারাথন রেসে দৌড়াতাম তাহলে নিশ্চিত প্রথম পুরষ্কার পেতাম।
মেহেরঃঃ- (ব্যাগ ছুড়ে মারল নূরের কোলে) নে ফকিন্নি। একে তো নিজের ব্যাগ নিলাম তার উপর তোর ব্যাগও নিতে হলো।
নূরঃঃ- কেউ ভালবাসে না আমাকে। এই জীবন রেখে কি লাভ। আমি যাচ্ছি লালালালালালা।
তন্বিঃঃ- কই যাস।
নূরঃঃ- (সম্পুর্ন না ঘুরে শুধু ঘাড় ফিরিয়ে বলল) হাত মুখ ধুতে।
সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে দিল।
মেহেরঃঃ- আচ্ছা আন্টি আমরা এখন যায়।
আম্মুঃঃ- যাবি মানে? আগে কিছু খেয়ে যা।
পুষ্পঃঃ- আন্টি আপনার মতো আমাদের আম্মুরাও ঝাড়ু নিয়ে বসে আছে। তাদেরও এই কাহিনিটা শোনাতে হবে। না হলে ঘরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিবে।
আম্মু হেসে তাদের বিদায় দিল।
পরের দিন সকালে আমরিন নূরকে কল দিল।
আমরিনঃঃ- নূর কি বাচ্চি। তোর জন্য দৌড়াতে দৌড়াতে এখন আমার পায়ে ব্যাথা করছে।
নূরঃঃ- হ্যাঁ হলে মিষ্টি খাওয়াবো। তোরা কই দৌড়াছিস? কুকুর তো আমাদের পিছনে ছিল।
আমরিনঃঃ- আমরা অন্য রাস্তায় দৌড় দিতে সামনে আরও দুই তিনটা কুকুর ছিল। দৌড়াতে গিয়ে সিমার ক্যান্ডি ফ্লস গিয়ে পড়ল কুকুর গুলোর সামনে। আমাদের হাতেও ছিল এবার কুকুর গুলো আমাদের তাড়া করছে। ভাগ্য ভালো ছিল আমাদের বাসা কাছেই ছিল। না হলে ১৪ টা ইঞ্জেকশন……
নূরঃঃ- ভালো হয়েছে। আর শোন আজ ভার্সিটির প্রথম দিন। কিন্তু আমি যাব না। আমার পায়ের অবস্থাও খারাপ।
আমরিনঃঃ- সেজন্যই কল দিছি। বাকিরাও যাবে না। তাই কালই যাব সবাই। আচ্ছা রাখি।
বিকালে নূর ছাদে বসে ছিল। এমন সময় তন্বি দৌড়ে এলো তার কাছে। আর কয়েকটি চকোলেট দিল।
নূরঃঃ- বাহ্! এমনিতেই চকোলেটের জন্য ঝগড়া করিস আজ নিজ থেকে চকোলেট দিলি।
তন্বিঃঃ- কারণ আজ আমি অনেক খুশি। জানো কলেজে আজ যা হয়েছে আমি তো অবাক। কালকে তোমাকে বলেছিলাম না আমাদের কলেজে চার বখাটে ছেলে জুনিয়রদের র্যাগিং করে। আর আমাকে সবার সামনে নাচতে বলল। আর আমি কান্না করতে করতে বাসায় চলে এলাম।
নূরঃঃ- হ্যাঁ তো কি হয়েছে? (চকোলেট খেতে খেতে)
তন্বিঃঃ- যা দেখেছি তা আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। তারা কলেজের মাঠে SORRY লেখা একটা বড় ব্যানার লাগলো। আর তাদের কীর্তির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাইল। স্যার ম্যাডাম থেকে শুরু করে পিওন আংকেল সহ সব স্টুডেন্টদের কাছে ক্ষমা চাইল। আমার কাছে এসে আমাকেও সরি বলল। তারপর কি বলেছে জানো?
নূরঃঃ- আমি কি করে জানব?
তন্বিঃঃ- বলেছে এখন থেকে আর কারো র্যাগিং করবে না। আর পরিক্ষায় ভালো মার্ক পেয়ে পাস করে দেখাবে। ভাবতে পার ৩ বছর ধরে একই ক্লাসে থাকা ছাত্র যাদের টিচাররা সহ ভয় পেত এখন তারা কতটা বদলে গেল। (এক রাশ হাসি দিল।) কিন্তু আমি ভাবছি এক রাতে ওরা এতটা পরিবর্তন কিভাবে হলো?
নূরঃঃ- তো ভালো না। ওরা শুধরে গেল। আগার পরিবর্তন সে কুচ আচ্ছা হো তো পরিবর্তন আচ্ছে হ্যায়। সার্ফ এক্সেল পরিবর্তন আচ্ছে হ্যায়।
তন্বিঃঃ- ওইটা দাগ আচ্ছে হ্যায় বলে।
নূরঃঃ- তুই এখানে দাগ কই দেখলি?
নূর আর তন্বি ফিক করে হেসে দিল।
.
.
.
.
চলবে
বিঃদ্রঃ ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 😊