Second marriage পর্ব – ১১+১২

0
1997

গল্পঃ Second_marriage
পর্ব – ১১+১২111
লেখিকাঃ #Ritiva_Jahan_Riti
রিতিঃ ইসসস….
তার আমার সাথে কথা বলার ইচ্ছা নেই আমি কেন বলব….
তার আমাকে মনে করবে না আমি করব কেন…
আমাকে ছাড়া ঘুমাবে আর আমি রাত জেগে তার কথা মনে করব নাকি….
আসছে…..
কিন্তু এখন তো ওর বুক ছাড়া ওকে জরিয়ে না ধরলে ঘুম ও আসে না….
আচ্ছা সারাদিনে কি একটিবারও আয়ান আমায় মনে করে নি…..(নিজে নিজেই বলছে)
আর আয়ানের কথা ভেবেই মন খারাপ হয়ে গেল রিতির….
সারাটি রাত ঘুমাতে পারি নি সে….
শুধু বিছানার এপাশ ওপাশ করছে….
সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে আসল বাইরে….
এসে দেখে মাহি আগে থেকেই নাস্তা বানাচ্ছে তাই ওকে যেয়ে help করল….
মাহিঃ কিরে তোর চোখের নিচে কালো কেন সারারাত ঘুমাস নি…..
আয়ান জিজু ও তো নেই যে সারারাত জাগবি…
তাইলে ঘুমাস নি কেন….
(বলেই মিটি মিটি হাসছে)
রিতিঃ ওই শয়তান টার নাম আমার সামনে নিবি না….(রাগ দেখিয়ে)
মাহিঃ কেন গো….
রিতিঃ বলসি না নিবি না মানে নিবি না…..
মাহিঃআরে বলবি তো কি হয়েছে….
রিতিঃ জানিস কালকে থেকে আয়ায়ার পর একটি বার আমার খবর নেয় নি….
রাতে নাকি রাহাত ভাইয়াকে ফোন দিয়ে আরিয়ানের সাথে কথা বলেছে…..(কান্না করে দিল)
মাহিঃ আচ্ছা তো এ কাহিনী…. (রিতির পিছনে যেয়ে)
আমার জানুটা তাহলে শেষমেশ প্রেমে পরল….(পিছন থেকে রিতিকে জরিয়ে ধরে)
I am so happy for you janu….
রিতি মাহিকে ছাড়িয়ে পিছনে ফিরে….
রিতিঃ এরকম কিছু না…
একবার ভালবেসে কষ্ট পেয়েছি আর না…
বলেই চলে যেতে নেয়….
তখনই মাহি রিতির সামনে এসে দাঁড়ায়….
মাহিঃ দেখ রিতি সব মানুষ এক হয় না,
পৃথিবীতে কিছু মানুষ যদি বিশ্বাস ভাংগে তবে কিছু মানুষ সে বিশ্বাস গড়ে তুলে….
আর আমি যতটুকু তোকে যানি আয়ান জিজু তোর ভাংগা বিশ্বাস আর মন দুটোই জোরা লাগিয়ে দিয়েছে….
এখন এটা তোর উপর তুই কি তোর অতীত নিয়ে সে কষ্টে ভুগবি না জিজুর সাথে নতুন ভবিষ্যত গড়বি….
এক সময় রাফির উপর খুব জিদ উঠতো যে ও তোর life থেকে যেয়ে তোকে ভেংগে দিয়েছে….
কিন্তু আজ….
আজ তাকে ধন্যবাদ দিতে মন চাচ্ছে যে তার ছাড়ার কারণে তুই আয়ান জিজুকে পেলি…..
জিজু তোকে খুব ভালবাসে রে….
আর হে তুই যে জিজুকে ভালবেসে ফেলিছিস তাতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই…..
তোর থাকলে তুই নিজের মনের কাছে প্রশ্ন কর….
যে তোর মন কার রাফির নাকি আয়ানের…..
এইবার নিজের ব্রেইন না মন দিয়ে ভাবিস।
কারণ ভালবাসা ব্রেইন না মন দিয়ে হয়….
বলে মাহি নাস্তা নিয়ে সেখান থেকে চলে গেল….
রিতি আরিয়ানকে নাস্তা খাইয়ে নিজের রুমে এসে বারিন্দায় দাড়িয়ে আছে….
বারিন্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে….
বৃষ্টি হচ্ছে….
বৃষ্টির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে….
আর মাহির কথাগুলো ভাবছে….
রিতি-
মাহি যা বলেছে তা ভুল বলেনি….
কিন্তু সত্যি আমি আয়ানকে ভালবেসে ফেলেছি…..
কিভাবে বুঝবো…..
আচ্ছা চোখ দুটি বন্ধ করে দেখব….
কিন্তু এটা তো ফিল্মি তারিকা আসলে কি কাজ করবে….
করেই দেখি না…..
রিতি চোখ বন্ধ করে ফেলল….
হাল্কা হাল্কা বৃষ্টির পানি তার মুখে এসে পরছে….
সাথে সাথে তার সে বৃষ্টির দিনে আয়ানের প্রথম কাছে আসাটি মনে পরে যায়…..
আয়ানের প্রথম স্পর্শ,
আয়ানের ঠোঁটে তার ঠোঁট মিলিত হওয়া,
আয়ানের কাছে জরিয়ে থাকা….
মনে পরতেই চোখ খুলে লজ্জা পেয়ে গেল…..
তাহলে সত্যিই আমি আয়ানকে ভালবাসি….
না হলে এ বৃষ্টির মধ্যে রাফির সাথে হাজার স্মৃতি থাকা সত্ত্বেও আয়ানের সাথে সে একটি স্মৃতিই বা মনে পরবে কেন…..
আয়ানের সাথে প্রতিটি মূহুর্তে রিতির চোখের সামনে ভাসছে….
আর রিতি নিজেই লজ্জা পেয়ে হেসে দিচ্ছে…..
রিতি ফোন নিল আয়ানকে ফোন দিয়ে সব বলে দিবে….
রিতিঃনাহ….
এখন না কাল আসুক কাল surprise দিব…..
পরেরদিন…..
মাহিনের birthday party….
১২ বছরের হবে তাই মোটামুটি বড় করেই করছে….
পার্টিটা বাড়ির গার্ডেনেই হচ্ছে….
রিতির শশুড়বাড়ি থেকে সবাই আসছে কিন্তু আয়ানকে দেখা যাচ্ছে না….
কিন্তু রিতির চোখ তো আয়ানকেই খুঁজছে….
না পেয়ে লজ্জা নিয়েই মা কে জিজ্ঞাসা করতে হল…..
রিতিঃ মা আয়ান আসে নি…..
মাঃ হে এসেছে তো…..
কয়েকটা মেয়ে জিজু জিজু করে ওকে নিয়ে গেল….
ঔ যে ওদিকে…
(আংগুল দিয়ে ইশারা দিয়ে)
রিতি মা যেখানে বলল সেদিকে যেয়ে যা দেখল তা দেখে তো আয়ানকে খুন করতে মন চাচ্ছে তার…..
চারদিকে মেয়েরা আর আয়ান মাঝখানে একা ছেলে….
আরও সে বসে বসে হাসাহাসি করছে….
দেখেই রিতির মাথায় রক্ত উঠে গেল….
বেশিভাগ মেয়েরা প্রতিবেশি আর মাহির relative দেখে কিছু বলতেও পারছে না….
রিতি যেয়ে আয়ানকে বলল…..
রিতিঃ আয়ান আপনি এখানে আপনাকে কতক্ষন ধরে খুঁজছি….
আয়ান পাত্তা না দিয়ে মেয়েদের সাথেই কথা বলছে….
তাদের প্রশংসা করছে….
তাদের কত সুন্দর লাগছে….
আর মেয়েরাও আয়ানের প্রশংসার পুল বেধে দেয়….
রিতি অনেকবার ডাকলেও না শুনায় রিতি রাগে গজগজ করতে করতে চলে যায় সেখান থেকে….
আয়ানের একটু খারাপ লাগায় সে পিছন থেকে রিতিকে ডাকতে নেয় সে সময়ই রাহাত কোথা থেকে এসে আয়ানের মুখ চেপে ধরে….
মাহিঃ জিজু প্লান এ পানি ফেলার উপায় করতিছো নাকি….
আয়ানঃও কষ্ট পাচ্ছে…..(মুখটা কালো করে)
রাহাতঃ আরে ভাই তাহলেই তো বুঝবে যে কত ভালবাসে তোমাকে….
তাই বলে তো এত প্লান…
ওকে এখানে আনানো,
তোমার ফোন না দেওয়া,
ওর কথা না বলা,
আজ ওকে জেলাস করানো….
সব গুলো কি পানিতে ঢালবা নাকি….
এতো দিন তুমি যে কষ্ট পাইসো আর আমাকে দিয়ে যে কষ্ট করাইসো দুইটার ই ফল আজকে পাবা…..
মাহিঃ তুমি কি কষ্ট করলা….(রাহাতক
ে উদ্দেশ্য করে)
রাহাতঃ ইনি দুই মিনিট পর পর যে আমাকে কল দিয়ে রিতির কথা জিজ্ঞাস করতো….
ফোনে ভিডিও অন করে ইনাকে রিতিকে দেখানো…..
ইনি যানি রিতির সাথে কথা না বলে তা নিয়ে সারাদিন উনাকে বুঝানো কি তোমার কষ্ট মনে হয় না…..
এরকম আরো কয়দিন চললে তো আমার পাবনায় ভর্তি হতে হত….
আয়ান তখন রিতির কাছে না গেলেও বারবার চোখ রিতিকেই খুঁজছে….
না পেয়ে খুব ভয় পাচ্ছে ওর…
রাহাত ১ ঘন্টা পর আয়ানের অবস্থা দেখে যাইতে দেয়….
আয়ান পাগলের মত রিতিকে খুঁজছে….
কিন্তু পাচ্ছে না….
শেষ মেশ রিতির রুমে গিয়ে পেল….
রিতি অন্যদিক ফিরে চুল আছরাচ্ছিল….
আয়ানঃ ওফফফ শেষমেশ তোমায় পেলাম….(খুঁজতে খুঁজতে হাপিয়ে গেছে)
রিতি আয়ানের দিকে ফিরতেই আয়ান হা….
রিতিকে দেখে নিজেকে সামলাতে না পেরে ব্যালেন্স হারিয়ে পরে যেতে নিলেই দেয়াল ধরে ফেলে….
রিতি আয়ানকে এভাবে দেখে মুখে হাত দিয়ে হাসছে….
আয়ানের এ অবস্থা কেন তাই তো….
সে যে আজ এক পরিকে দেখছে…..
রিতি লাল সিঁদুর কালারের শাড়ি পরেছে….
এর মধ্যে হালকা আইমেকাপে গাড় কাজল….
লাল সিঁদুর কালারের লিপিস্টক….
হাল্কা মেকাপ…
দুইহাত ভরা চুরি,পায়ে নুপুর,কানেরদুল….
আজ অপ্সরিও ওকে দেখলেও লজ্জা পাবে….
আয়ান কিভাবে ঠিক থাকে ওকে দেখলে….
আয়ান হা করে তাকিয়ে আছে….
চোখে পলক ও পরছে না তার….
আজ প্রথম আয়ান রিতিকে সাজুগুজু দেখেছে….
বিয়ের দিনও রিতি সাজে নি….
দেখে চোখ সরাতে পারছে না আয়ান….
আয়ানের ঘোর ভাংগে রিতির নুপুরের আওয়াজে…
নুপুর আয়ানের পাশ কাটিয়ে দরজার দিকে যেতে নিলে আয়ান রিতির হাত ধরে ফেলে আর রিতিকে হাল্কা টান দিয়ে আয়ানের সামনে নিয়ে আসে….
আয়ানঃ কই যাচ্ছো….
রিতিঃপার্টিতে আর কই…..
আয়ানঃ ওখালে সব ছেলেদের heart attack দিবা নাকি…..
রিতিঃ তো আপনার জ্বলছে কেন….
যান ওই মেয়েদের কাছে….
আমায় দেখে ছেলেরা heart attack খেলে আপনার কি….( হাত ছাড়িয়ে)
আয়ানঃও হে তখন কি যানো বলছিলে….
রিতিঃ কখন…( বুঝেও না বুঝার ভান করে)
আয়ানঃ ওইযে যখন আমার শালিদের সাথে কথা বলছিলাম….
রিতিঃওহ তখন…
তখন তো কিছু বলার ছিল…
আয়ানঃআর তা কি….
রিতি একটি উঁচু হয়ে আয়ানের কানের কাছে গিয়ে আস্তে করে বলে…..
রিতিঃ I love you….
আয়ান অবাক হয়ে দারিয়ে থাকে…
রিতি আয়ানের কানে কথাটি বলার পর হাল্কা করে এক ফুঁ দিল আর আয়ান পুরা বরফ হয়ে গেল….
রিতি মুচকি একটা হাসি দিয়ে কান থেকে নিচে নেমে গলায় শার্টের কলারের একটি উপরে চুমু দিল সাথে সাথে আয়ান কেঁপে উঠল…
রিতি আয়ান থেকে একটু দূর সরে আসলে আয়ান গলায় যেখানে চুমু দিয়েছিল সেখানে হাত দিয়ে রিতি দিকে অবাক ভাবে তাকিয়ে থাকে…..
রিতিঃ এটা তখন বলতাম এখন না….
মুখ ভেংচি মেরে দরজার কাছে গিয়ে দরজা খুলতে নেয় তখনই আয়ান পিছন থেকে এসে দরজা লক করে দেয়….
আয়ানঃকোথাও যেতে দিচ্ছি না….
রিতি আয়ানের নিশ্বাস অনুভব করছে কারণ রিতি ঠিক একদম পিছনেই আয়ান….
রিতিঃ কেন…..
আয়ানঃ যা করেছে তার শাস্তি পেতে হবে তাই….
বলা মাত্রই রিতির চুলে মুখ গুজিয়ে ফেলল…..
রিতির চুলের ঘ্রাণ নিতে বড় নিশ্বাস নিচ্ছে আর নিশ্বাস ছাড়াটা রিতির কাধে যেয়ে লাগছে….
রিতি যেন ঘোরে চলে যাচ্ছে…..
তার নিশ্বাস ভারি হয়ে আসছে….
আয়ান মুখটা একটু উঠিয়ে রিতির সব চুল এক সাইডে সরিয়ে দিয়ে ঘাড়ে একটি চুমু খায়….
রিতির শরীরে যেন বিদ্যুৎ দৌড়াচ্ছে….
রিতি সাথে সাথে পিছনে ফিরেই আয়ানকে জরিয়ে ধরে পিঠের শার্ট আকঁড়ে ধরে….
আয়ান রিতিকে আরও নিজের সাথে মিশিয়ে তার গলায় ও ঘাড়ে এক্টার পর একটা চুমু খেতে থাকে….
তারপর রিতিকে কোলে তুলে বিছানায় নিয়ে শুয়ায় দেয়…..
রিতিকে শুয়িয়ে রিতির পায়ে কাছে যেয়ে নুপুর খুলে পায়ে একটু চুমু দেয়…
তারপর আস্তে আস্তে উপরে উঠে শাড়ির আঁচল সরিয়ে পেটে আরেকটি চুমু দেয়….
রিতি সাথেই বিছানার চাঁদরটি আঁকড়ে ধরে…..
আয়ান রিতির উপরে উঠে গলায় কয়েকটি চুমু দিতেই রিতি চাদরটি আরও জোরে আঁকড়ে ধরে….
আয়ান রিতির হাতটি চাদর থেকে ছাড়িয়ে নিজের মুঠোয় নেয়….
আর রিতির কপালে একটি চুমু দিতেই চোখ বন্ধ করে ফেলে….
আর রিতির কাঁপা ঠোঁটটি নিজের অধিনে করে ফেলে….
রিতির ঠোঁটের স্বাদে নিজেকে বিলিন করে ফেলে….
দুজনে সারারাত ভালবাসার সাগরে ভাসতে থাকে…..
সকালে…..
আগের মতই রিতি আয়ানের বুকে জরিয়ে ঘুমুচ্ছে…..
চলবে….
(বিঃদ্রঃ দয়া করে ভুল ত্রুটি মাফ করবেন
।আর হে গল্পটি যদি ভাবেন শেষ হয়ে গেছে।তো কাহানী আভি বাকি হে মেরে দোস্তো )
#Second_marriage
# part_12
#writer_ritiva_jahan_riti
সকালে……
আগের মতই রিতি আয়ানের বুকে জরিয়ে ঘুমুচ্ছে….
আয়ান আজও তাড়াতাড়ি উঠে তার ময়ূরীকে ঘুমে জরানো মায়াবি চেহেরা উপভোগ করছে….
হঠাৎ আরো কাছে গিয়ে মাথায় একটি ভালবাসার পরশ এঁকে দিল….
রিতির হালকা হালকা করে ঘুম ভেংগে যায়….
সে আস্তে আস্তে চোখ খুলে…
চোখ খুলে দেখে আয়ান রিতির দিকে তাকিয়ে আছে…..
আয়ান রিতিরকে দেখে একটি চোখ টিপ মারল….
রিতি একটি লজ্জা মাখা হাসি দিয়ে আয়ানের বুকে লুকিয়ে গেল….
আর আয়ানো তার সপ্নপরীকে তার বুকের মধ্যে লুকিয়ে ফেলে…..
রিতিঃ যাবে না বাইরে….( বুকে জরিয়ে থাকা অবস্থাতেই)
আয়ানঃ না…..(আরো শক্ত করে জরিয়ে)
রিতিঃ সবাই হয়তো চিন্তা করছে কাল রাতও party তে ছিলাম না…..
আয়ানঃ Don’t worry jan….
রাহাত ভাইয়া আর মাহি ভাবি সব সামলিয়ে নিবে….
রিতিঃ মানে….(আয়ানের বুক থেকে মাথা উঠিয়ে অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করল)
আয়ান একটু হেসে রিতিকে তাদের প্লান সব খুলে বলল….
রিতিঃশয়তান,ফাজিল,ইডিয়েট,স্টুপিড কেও এরকম করে নাকি….(আয়ানের বুকে কিল ঘুষি মারতে মারতে)
আয়ান রিতি যে বুকে ঘুষি মারছিল তখন হাত ধরে ফেলে…..
আর কোমড় টেলে কাছে টেনে নিয়ে আসে…..
আয়ানঃ প্লান না করলে কি ভালবাসা বুঝতে নাকি….
বলেই রিতির কাধে একটি চুমু দেয় আর রিতি শিহরিত হয়ে ওঠে……
আয়ান রিতির পুরো পিঠে হাত বুলাতে থাকে রিতির ঠোঁটের স্বাদ নিতে ব্যস্ত হয়ে পরে…..
রিতিও আয়ানের চুলে হাত দিয়ে চুলে হাত বুলাতে থাকে…..
তারপর……..
আর বলা যাবে না
রুম থেকে বের হয়ে দেখে মা বাবা আর রাহাত চা খাচ্ছে…..
আর বাচ্চারা পাশেই খেলছে….
বাবাঃ আরে আয়ান বাবা তুমি এতো সকালে উঠলা….
ঘুম ঠিক মত হয়েছে তো….
আয়ানঃ জ্বী বাবা…..
বাবাঃ কাল রাত কোথায় ছিলা পেলাম না যে….
আয়ান রিতির দিকে তাকালো আবার রাহাতের দিকে তাকালো রাহাত মুখ চেপে হাসছে….
মাহিনঃ হে ফুপ্পি তুমিও তো ছিলে না…
যানো আমি তোমাকে ছাড়া কেক কাটতে চাই নি বাবা জোর করে কাটিয়েছে…..
রিতি লজ্জা পেয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে…..
কি বলবে বুঝছে না…..
মাহিঃ নাস্তা রেডি সবাই এখানে এসো….
রিতি একটা সস্থির নিশ্বাস নিল….
সবাই নাস্তার টেবিলে গেল….
সবাই নাস্তা শেষে চলে গেল শুধু রাহাত, মাহি,রিতি আর আয়ান থাকলো…..
রিতি যেয়ে মাহিকে জরিয়ে ধরল…..
রিতিঃ You’re my lifesaver janu….
ummaah…. (গালে একটা কিস দিয়ে)
আয়ানঃমাহি ভাবি আপনি দেখি আমার সতিন হয়ে গেলেন….(মুখ বাকা করে)
আমি চাইলেও পাই না আর আপনি আমনি আমনি পাইতিসেন….
এটা ঠিক না….
রাহাতঃ আমি এত বছর সহ্য করছি আপনি তো মাত্র নতুন….
ওদের কথা শুনে রিতি আর মাহি হাসতিছে…..
কারো ইচ্ছা না থাকলেও আরিয়ান আর নিশানের স্কুল খোলা তাই তাদের বিকালে চলে আসতে হইল….
আস্তে আস্তে ৩ মাস চলে গেল……
এ ৩ মাসে আয়ান আর রিতির ভালবাসা একটুও কমে নি বরং কয়েকগুন বেড়ে গেছে…..
আজ ইশিকার হলুদ।সবাই হলুদের কাজে ব্যস্ত…..
কিছুক্ষনের মধ্যে ফাংশন শুরু হবে।
ইশিকা আর নিধি পার্লারে গেলেও রিতির কাজের জন্য যাওয়া হয় নি তাই রিতি নিজের রুমেই রেডি হচ্ছিল।আয়নার সামনে দাড়িয়ে কানেরদুল পরছিল তখনই আয়ান এসে পিছন থেকে রিতিকে জরিয়ে ধরে…..
রিতি আয়নার দিক তাকিয়ের আয়ানের সাথে কথা বলে….
রিতিঃআরে কি করছ….
আয়ানঃ রোমান্স করছি……
রিতিঃ আচ্ছা, আপনার বোনের যে আজ হলুদ তা খেয়াল আছে…
কই ছিলেন এতক্ষন….
আয়ানঃ এখন আমার বউ সবার খেয়াল রাখতে যেয়ে নিজে কিছু করে না তাইলে তো তার খেয়াল আমারই করতে হবে….
রিতিঃমানে…..
আয়ানঃমানে ঘরে বিয়ে সবাই এত সেজেগুজে আসছে আর তুমি এটা কি পরছো…..(রিতিকে ঘুরে)
রিতিঃএটাতে সমস্যা কি….(নিজের দিকে তাকিয়ে)
আয়ানঃ সমস্যা আছে….
আমার বউকে সবার থেকে সুন্দর লাগতে হবে…..(হাতে একটি বক্স দেয়)
রিতিঃএত বড় বক্স এখানে কি আছে….
এখানে কি আছে….
আয়ানঃ খুলে দেখেন মেডাম…..
রিতি বক্সটি খুলে হা হয়ে যায়…
বক্সে একটি মিষ্টি পিংকের মধ্যে গোল্ডেন বরডারের একটি লেহেনগা….
এক জোড়া হিল গোল্ডেন কালারের সান্ডেল….
আর একটি বক্সে ড্রেসের সাথে ম্যাচিং করে অনেক গুলো জুয়েলারি…..
আর অনেক গুলো মেকাপের জিনিস…..
রিতিঃঅবাক হয়ে….
এসব…
কিছু বলতে যাবে মুখ তুলে দেখে আয়ান নেই সামনে…..
আয়ান পিছন থেকে এসে চুলে কিছু মিষ্টি কালারের গোলাপ লাগিয়ে রিতির ঘাড়ে একটি চুমু দেয়….
আর আবার জরিয়ে ধরে….
আয়ানঃ আজকে এটা পড়ে আসবা….
রিতিঃ আচ্ছা ওদিন মাহিনের জন্মদিনে আমাকে সেজে বের হতে দেন নি ছেলেরা দেখবে বলে…
আজ আপনার জ্বলবে না…..
আয়ানঃ জ্বি না জ্বলবে না….
কারণ আজ তাদের জ্বলাবো….
রিতিঃ মানে….( আয়ানের দিকে ঘুরে)
আয়ানঃ মানে, mrs.wife…. (কোমড় টান দিয়ে কাছে এনে)
আজ সবাইকে দেখাব যে আমার এত সুন্দর বউ আছে আর সবাইকে জ্বলাবো…
হি…হি…
রিতিঃ তোমার কথা আমার মাথার উপর দিক দিয়ে গেছে….
আয়ানঃ আরে তোমার এত মাথা খাটানো লাগবে না গো জান,
তুমি শুধু রেডি হয়ে আসো….
রিতি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো…..
আয়ান রিতির কপালে একটি চুমু দিয়ে হাসি দিয়ে সেখান থেকে চলে গেল….
ছেলেপক্ষ থেকে সবাই এসে পড়েছে….
সবাই আয়ানকে জিজ্ঞাসা করছে রিতি কোথায়….
আয়ান সবাইকে উওর দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে….
আয়ান মাহি আর রাহাতের সাথে কথা বলছিল তখন পুরাই হা…..
চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে….
আসলে শুধু আয়ান না সেখানের সবাই হা হয়েই তাকিয়ে ছিল….
আজ অনেকে কত বছর পর রিতিকে সাজা দেখল…
আর অনেকে প্রথম….
এত সুন্দর লাগছে রিতিকে যে অপ্সরিরাও হার মানতে বাধ্য….
কেও চোখ ফিরাতে পারছে না….
রিতি সে লেগেংগার সাথে সাইড পাফ করে খোপা করে খোপায় আয়ানের দেওয়া ফুল গুলো লাগিয়েছে…
হাল্কা মেকাপ এর সাথে মিষ্টি গোলাপি আইমেকাপ, গোলাপি গালগুলো আর মিষ্টি গোলাপি লিপ্সটিক….
এক কথায় অসাধারণ লাগছে আজ রিতিকে….
সবাই ওর দিকে না তাকিয়ে যাবে কই….
কিন্তু যার দিকে তাকিয়ে আছে তার ই খেয়াল নেই…
লেহেংগার নিচ স্যান্ডেলেরসাথে বেজে যাওয়ায় তা ঠিক করতে সে ব্যস্ত তাই আশে পাশে তার কোন খেয়ালই নেই…..
আয়ান তা দেখে রিতির সামনে যেয়ে এক হাঁটু গেড়ে বসে যায় রিতি অবাক হয়ে উঠতে বলে কিন্তু কে শুনে কার কথা আয়ান রিতির লেহেংগার বেজে থাকা অংশ ঠিক করে দেয়….
আর উঠ দাঁড়ায়….
রিতিঃ কি করছিলে মানুষ কি বলবে….
আয়ানঃ বউ আমার আমার যা ইচ্ছা করব মানুষ যা বলার বলবে আমার কি…
রিতিঃ পাগল একটা…
আয়ানঃ হম…আমার ময়ূরীর জন্য পাগল….
আর…..(রিতির কানের কাছে গিয়ে)
আজ দেখে আরও বেশি পাগল হয়ে যাচ্ছি…..
ভাবছি আমরা আবার বিয়ে করলে মন্দ হয় না…..
**নতুন নতুন রোমান্টিক গল্প পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ: “নিঃস্বার্থ ভালোবাসা”**
রিতি লজ্জা মাখা একটি হাসি দিল তখন ই রাহাত একটি ছবি তুলে নিল……
ফ্লাসে দুজনের খেয়াল আসে যে সবাই তাদের দিকে তাকানো….
রিতি লজ্জা পেয়ে সেখান থেকে মাহির কাছে চলে যায়…..
এদিকে রাফি এগুলো দেখে রেগে লাল হয়ে যায়….
প্রথমে যখন এইতি আসে তখন সবার মত রাফিও রিতির থেকে চোখ সরাতে পারে না….
কিন্তু যখন দেখে আয়ান রিতির কাছে যেয়ে ওর লেহেংগা ঠিক করে দেয় আর এতো কাছাকাছি এসে কথা বলে তখন রাফি চোখ মুখ লাল হয়ে যায়….
হলুদের অনুষ্ঠানে সবাই এক এক করে নাচছে….
কিন্তু আয়ানের তার দিকে কোন খেয়ালই নেয় সে শুধু তার ময়ূরীকে দেখে মন ভরছে….
সবাই এ নিয়ে আয়ানের সাথে অনেক মজাও করছে…
রিতিও কিছুক্ষন পরপর লুকিয়ে লুকিয়ে আয়ানের দিকে তাকাচ্ছে আর চোখাচোখি হলে আয়ান রিতির দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ মারছে না হলে বিভিন্ন ইশারা দিচ্ছে…..
আর রিতি হাসি দিয়ে যাচ্ছে….
আয়ান রিতির থেকে চোখ সরানোর পর দেখে অনেক ছেলেই রিতির দিকে তাকিয়ে আছে আয়ানের তো মাথা গরম হয়ে যায় তখন…..
আয়ান DJ এর কাছে যেয়ে একটি গানের নাম বলে গানটি ছাড়তে….
DJ কথা অনুযায়ী গানটি ছাড়ে….
(ডুপাট্টা তেরা নো রাংদা হায়নি মেরা দিল মাংদা ♬….
শুনে নিয়েন কিন্তু )
আয়ান রিতিকে টেনে হলের মাঝখানে এনে dance শুরু করল।রিতি প্রথমে লজ্জা পেয়ে যেতে চাইলেও আয়ান যেতে দেয় নি তারপর রিতিও আয়ানের সাথে dance করল।ওদেরকে যেমন একেরকে অপরের সাথে মানাচ্ছিল তেমনই dance এর তাল ও perfect ছিল….
সবাই হাত তালি দিল আর বলল….
দুইজনের dance best ছিল…
এদিক দিয়ে রাফি ওদের দেখে রাহ কন্ট্রোল করতে না পেরে সেখান থেকে চলে গেল…..
এ ব্যাপারটি কারো চোখে না বাজলেও আয়েশার চোখে ঠিকই বাজলো….
রাফি যে রিতির দিকে তাকায় ছিল তাও আয়েশার চোখে এড়ায় নি….
কিন্তু আয়েশা সবার সামনে রাফিকে কিছু না বললেও রিতির সাথে কিছু একটা করার প্লান ঠিকই করে….
অন্যদিকে আয়ান আর রিতি dance শেষে আসলে রিতির সামনে একজন এসে দাঁড়ায়। সে যে তার চিরন্তন চেনা এক মানুষ….
রিতি মা বলেই তাকে জরিয়ে ধরে….
আয়ান বুঝে যায় যে তিনি রাফির মা…
রিতি প্রায়ই আয়ানের সাথে তাকে নিয়ে কথা বলতো…..
রাফির মাও রিতিকে জরিয়ে কান্না করে দিল…..
তারপর রিতি তাকে ছেড়ে-
রিতিঃ কেমন আছো মা….(কান্না করতে করতে)
রাফির মাঃ ভালো মা তুই কেমন আছিস….
আমাকে ভুলে গেছিস….
যে ভুল আমার ছেলে করেছে তার শাস্তি আমাকেও দিচ্ছিস…..
রিতিঃ না মা কি বলছ তোমাকে আমি ভুলতে পারি….
তুমি কখনোই আমাকে আপন মার থেকে কম আদর কর নি…..
আর দেখ সবার একটি বা দুটি মা থাকে আমার তিন তিনটি মা…(মুখ ভরা হাসি নিয়ে)
রাফির মাঃ হে রে মা জানিস তোকে খুব মিস করি….
একটা মেয়ের কত শখ ছিল আগে পূরণ হয় নি….
তারপর তোকে পেয়ে ভাবলাম আমার শখ আল্লাহ পূরণ করেছে….
কিন্তু….(মুখ মলিন হয়ে গেল)
যাই হোক তুই এখন খুশি তো….
রিতিঃ হ্যাঁ মা আমি খুব খুশিতে আছি….
রাফির মাঃ আর তুমি ওর স্বামী তাই না….(আয়ানকে উদ্দেশ্য করে একটি হাসি দিয়ে)
আয়ানঃ জ্বি, আর হে কে বলেছে আপনি আপনার মেয়েকে হারিয়েছেন রিতি সবসময় আপনার মেয়ে থাকবে….
আপনি যখন চান তখন দেখা করবেন ওর সাথে….
আর আমি আপনার জামাইবাবু….
হি….হি….
রাফির মাঃ যাক একসময় নিজেকে অপরাধী মনে হত যে আমি তোর জন্যে কিছু করতে পারলাম না….
তুই যে ভেংগে গেছিস, তোর জীবন এলোমেলো হওয়ার আরেকটি কারণ আমি কারণ ৪ বছর আগে তোর জন্য কিছুই করতে পারি নি….
কিন্তু আজ সব অপরাধবোধ শেষ হয়ে গেল….
আসার পর দেখলাম তোর বর তোকে কত ভালবাসে…
কারো কথায় কান না দিয়ে তোকে support করে….
তখন লেহেংগা ঠিক করা, তোর দিকে তাকিয়ে থাকা তোদের নাচ….
সব মিলিয়ে তোদের জুটি parfact….
বাবা আমার মেয়ের খেয়াল রাখবা তো… (আয়ানকে উদ্দেশ্যে করে)
আয়ানঃ নিজের জীবনের খেয়াল না রাখলে বাঁঁচবো কি করে….(রিতির দিকে তাকিয়ে)
চিন্তা করবেন না আন্টি সারাজীবন আপনার মেয়েকে আলগে রাখবো,
নিজের জীবন থেকেও বেশি ওকে ভালবাসবো…..(রাফির মা এর হাত ধরে তার দিকে তাকিয়ে)
রাফির মা আয়ানের হাতে রিতির হাত দিয়ে দুইজনকে জরিয়ে ধরল….
রাফি এতক্ষন এসব একটি দুই থেকেই দেখছিল….
পিলারের পাশে দাঁড়িয়ে এসব দেখে তার এতই রাগ উঠছিল যে তারকাটার সাথে হাত লেগে যে তার রকত পরছে সেদিকে তার কোন খেয়ালই নেই….
তারপর রাফির মা তাদের ছেড়ে চলে গেল…
আর রিতি আর আয়ান তাদের পরিবারের কাছে গিয়ে গল্পে জুড়ে গেল….
এরপরেরদিন ছেলে পক্ষ থেকে হলুদ হল কিন্তু রিতির একটু অসুস্থ হওয়ার কারণে সে হলুদে যেতে পারে নি….
যদিও যাওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল আর বলছিলো তারপরও কেও ওকে অসুস্থ অবস্থায় নেওয়ার জন্য রাজি হয় নি….
চলবে…..