Second marriage পর্ব – ১৩+১৪

0
1924

গল্পঃ Second_marriage
পর্ব – ১৩+১৪
লেখিকাঃ Ritiva_Jahan_Riti

এরপরেরদিন ছেলে পক্ষ থেকে হলুদ হল কিন্তু রিতির একটু অসুস্থ হওয়ার কারণে সে হলুদে যেতে পারে নি….
যদিও যাওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল আর বলছিলো তারপরও কেও ওকে অসুস্থ অবস্থায় নেওয়ার জন্য রাজি হয় নি…..
আর আয়ান রিতিকে অসুস্থ একা রেখে কিভাবে যায়….
তাই আয়ান ও যায় নি….
অনেক বলা সত্ত্বেও রিতি doctor এর কাছে যেতে রাজি হয় নি….
এতটুকু অসুস্থতার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়া ওর রিতির অসহ্য লাগছিল….
তাই আয়ান চেয়েও নিতে পারে নি…..
সারাক্ষন রিতির সেবা করল….
রিতির ভালো না লাগায় ওকে ছাদে নিয়ে গেল আর ইশিকাকেও ডাকল….
আয়ান, রিতি আর আয়ান বসে ছাদে গল্প করছিল…..
ইশিকার পরেরদিন বিয়ে হওয়ায় ও তাড়াতাড়ি যেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে….
আর রিতি আয়ানের বুকে মাথা রেখে দোলনায় ঝুলে…..
কথা বলতে বলতে কখন চোখ লেগে আসে নিজেও জানে না…..
আয়ান রিতির কপালে একটি চুমু দিয়ে ওকে কোলে করে নিচে নিয়ে যায়…..
পরেরদিন বিয়ের কাজে লেগে যায়….
বিয়ের দিন…..
সবকিছু প্রায় ভালো মতই সম্পন্ন হয়….
কিন্তু অনেক মহিলাই আয়ানকে রিতির পিছনে ঘুরতে দেখে আর তার খেয়াল রাখতে দেখে বাজে কথা বলে…..
অবশ্য তার কারণটা আয়েশাই….
প্রায় সব মহিলারা যখন একসাথে তখন রিতির ব্যাপারে খুব খারাপ কথা বলে….
বিশেষ করে আয়েশা…..
আরিয়ান তাদের কথা শুনে নেয় তাই বলে…..
আরিয়ানঃ এই ডাইনি আন্টিরা আমার আম্মু ব্যাপারে খারাপ কিছু বলবেন না….
একটি মহিলাঃ মা না বল শত মা….
আয়েশাঃ এই ছেলে ভাষা শিখ নি বেয়াদব….
আরিয়ানঃ আমার মার ব্যাপারে কিছু বললে আমি সহ্য করবো নাকি….
আর আপনাকে বলছি দেখে বেয়াদব বলছেন আর আপনারা যে আমার মাকে নিয়ে কথা বলছেন….
আপনাদের কি বলবেন…..
আয়েশা ঠাসস করে আরিয়ানকে একটি থাপ্পড় দিল…..
অনেকটা জোরে দেওয়ায় আরিয়ান জোরে কান্না করে দেয়….
আরিয়ানের কান্না শুনে সবাই এসে সেখানে উপস্থিত হল ইশিকা ও নীলও(ইশিকার বর) স্টেজ থেকে সেখানে গেল…..
আয়ান আর রিতি আরিয়ানের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে জিজ্ঞাসা করছে যে ও কাঁদছে কেন….
রিতি আরিয়ানের গাল থেকে হাত সরিয়ে দেখে ওর গালে থাপ্পড়ের দাগ বসে আছে….
রিতিঃ বাবু এরকম কে করেছে…
থাপ্পড় দিয়েছে কে তোমায়….
আরিয়ানঃআম্মু যান এ আন্টিরা তোমার ব্যাপারে খারাপ খারাপ কথা বলছিল আমি মানা করছি তারপর এই ডাইনি আন্টিটা আমায় থাপ্পড় মেরেছে….(কান্না করতে করতে)
রিতিঃএসব এর মানে কি….(দাড়িয়ে)
কয়েকটি মানুষের কথা –
– নাটক করা লাগবে না মনে হয় আপন নিজের গর্ভের ছেলে যে এরকম নাটক করছো….
– আরে কিরকম মেয়েকে বলছেন প্রথম বিয়ে ভাংগার পরে আবার বিয়ে করল এখন আবার অন্য স্বামীকে পিছন পিছন ঘুরাচ্ছে…..
– হে আমরা তো এক স্বামীকে পিছনে ঘুরাতে পারলাম না আর তুমি দ্বিতীয় বিয়ে হয়েও ঘুরাও বাবাহ….
-আসলেও কি চরিত্রহীনা কাজ করেছে যে স্বামী তাকে ছেড়ে গেল…
– এর উপরে মা হতে পারবে না
-আল্লাহ কোন পাপের ফল ই দিয়েছে…
-হে নাহলে বিয়ে ভাংগার পর এভাবে সেজে আসে মানুষ যে অন্য পুরুষরা তাকায় থাকবে…
আয়েশাঃ আসলে এরকম মেয়েরাই সমাজের নাম খারাপ করে…
এসব শুনে দুই পরিবারের সবার মাথা খারাপ হয়ে গেল নিধি আর মাহি তো মহিলাদের থাপ্পড় দিতে এগিচ্ছিল কিন্তু বিয়ে বাড়ি দেখে আমান থামায় দেয়….
আর আজ আয়ান ই না রাফি ও তাদের চুপ করাতে আগায় আর কিছু বলতে চায় কিন্তু আজ যে বলার সেই তাদের চুপ করাল….
রিতিঃ আচ্ছা তাই নাকি…
তাহলে আপনাদের হিসেবে যাদের বিয়ে একবার ভাংলো তাদের একঘরোয়া হয়ে থাকা উচিত তাই তো….
আর আমার মনে হয় আপনাদের এ যুগে না জন্মে আদি যুগে জন্ম নিলে ভালো হত….
আর বিয়ে ভাংলে সবসময় মেয়েদেরই কেন দোষ থাকবে…
আর দোষ যারই থাকুক মেয়েরাই কেন সইবে….
এই আমাদের সমাজের আধুনিকতা…
বাহ….
রেপ হলে মেয়েদের দোষ তারা এসব ড্রেস পরে দেখে রেপ হয়,
কই বোরকা পরলেও যে ছেলেদের নজর এরায় না কেন….
সংসারে অশান্তি হলে মেয়েদের দোষ সে সংসার সামলায় নি কেন….
আর বিয়ে ভাংলেও মেয়েদেরই দোষ….
বিয়ে কেন ভাংলো তা কেও জানতে চাবে না কারণ মেয়ের দোষ বের করতে তার বাধা পরে যাবে তাই না….
আর আপনারাও তো মহিলা একজন নারী হয়ে অন্য নারীর ব্যাপারে এসব বলতে কি একটুও দ্বিধা করে না….
যদি ভবিষ্যত এ আপনাদের সাথে এরকম হয় তখন….
অভিশাপ দিচ্ছি না কিন্তু কারো কষ্টের সময় তাকে আরও কষ্ট দেওয়া বন্ধ করুন….
কারণ মনের কষ্ট মুখের অভিশাপ থেকেও বেশি ক্ষতিকর….
আর বাচ্চা না হওয়া যদি পাপের ফল হয় তাহলে কত অপরাধীরা গর্ভবতী কিভাবে হয়….
আর শুধু গর্ভে ধারণ করলেই মা হয় না…
মা হওয়ার জন্য মমতা লাগে….
আর আমার আমার ছেলের জন্য যথেষ্ট মমতা আছে….
আর যদি আজ আমার নিজের বাচ্চাও হত তবে আরিয়ানই আমার প্রথম সন্তান হত….
আর কে বলল শত মা ভালোবাসতে জানে না….
হয়তো অনেকে আসলেই ভালোবাসে না কিন্তু যারা তাদের ভালবাসে আপনাদের মহিলাদের কথা শুনে তারাও তাদের ভালবাসা ভুলে যায়….
সন্তানকে ভালোবাসতে মন লাগে আর মমতা লাগে….
আর কি বললেন আমি সেজেগুজে অন্য পুরুষদের দেখাচ্ছি তাই না….
আমি সেজেছি আমার জন্য আর আমার স্বামীর জন্য অন্য কারো জন্য নয়….
তারা তাকালে তাদের চোখ বন্ধ করুন আমি তাদের জন্য কেন নিজেকে পাল্টাবো যেখানে আমি কিছু খারাপ করি নি….
আর আপনি যে আমাকে বলছেন আপনি কি সাজেন নি….
আর আপনাদের কি বলছি আমিও তো আগে আপনাদের মতই ভাবতাম যে আমার বিয়ে ভেংগে গেছে তাই আমার হয়তো আর হাসি খুশি থাকার অধিকার নেই, কাওকে আবার ভালবাসার অধিকার নেই, আবার আগের মত কারো সাথে মিশার অধিকার নেই…
কিন্তু না আমার অধিকার আছে কারণ আমার জীবন এখনও বাকি আছে…..
আর কত মানুষ আছে যারা আমাকে এখনও ভালবাসে….
আর যদি আমি আসলেও কোন পাপ করে থাকি তাহলে আল্লাহ কখনও আমাকে আজ এত সুখ দিত না….
যানেন আজ আমি আমার প্রত্তাক্ত স্বামীকে মন থেকে ধন্যবাদ দিতে চাই কারণ সে যদি আমায় সেদিন না ছাড়ত তবে আজ এত সুখ আমার ভাগ্যে জুটতো না….
কয়েকটি বছরের কষ্টের বিনিময়ে যে আল্লাহ এত বছরের সুখ লিখে রেখেছে তা আমার জানা ছিল না…..
সেদিন ডিভোর্সের এর পর ভেবেছিলাম হয়ত আমার জীবন এখানেই শেষ কিন্তু ভুলে গিয়েছিলাম….
খারাপ কিছু হলেই যে জীবন শেষ হবে তা নয় হয়ত আরো ভালো কিছু আমার জন্য অপেক্ষায় আছে…
আর জানেন রাফির সাথে বিয়ে হয়ে একটি জিনিস ভালো হয়েছে আমি একটি মা পেয়েছি….(রাফির মার দিকে তাকিয়ে)
আর পাপের ফল যদি হয় তাহলে আমার নিজেকে এত সুখী মনে হয় কেন….
আল্লাহ আমায় একটি বা দুটি নয় তিন তিনটি মা দিয়েছে….(নিজের মা আর শাশুড়ি মা দিকে তাকিয়ে)
দুটি বাবা দিল একজন অন্যজন থেকে বেশি আদর করে….(নিজের বাবা আর শশুরবাবার দিকে তাকিয়ে)
একটি ভাই বিয়ের আগে আর অন্য ভাই পরে সবসময় রক্ষা করে…….( আমান আর রাহাতের দিকে তাকিয়ে)
একটি বড় বোনের মত ভাবি যে সবসময় এত কেয়ার করে……(নিধির দিকে তাকিয়ে)
একটি ছোট বোন যে সবসময় মন ভালো করার দায়িত্ব নেয়…..(ইশিকার দিকে তাকিয়ে)
আর একটি না তিনটি ছেলে আছে আমার যারা সবসময় আমার মন জুড়ে রাখে…..(আরিয়ান,নিশান আর মাহিনের দিকে তাকিয়ে)
আর এরকম সারাজীবনের সাথী আমার ভাবি, বন্ধবী যাই বলি যে সব দুঃখে কষ্টে আমার সাথে ছিল….
জীবনের প্রতিটি ধাপে কখনো আমার পাশ ছাড়ে নি আমার জানু……(মাহির দিকে তাকিয়ে)
আর সবচেয়ে বেশি যে আমাকে তার জীবন থেকেও বেশি আলগে রেখেছে….
যে আমায় আবার নিজের জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে….
আমায় আবার বিশ্বাস করা ভালবাসা শিখিয়েছে….
যার জন্য আজ এত সুখ পেয়েছি…
আমার জীবনের প্রতিটি কষ্টের দাহ সে তার ভালবাসা দিয়ে মুছে দিয়েছে….
এককথায় যে আবার আমায় জীবন দিয়েছে আমার স্বামী….. (আয়ানের দিকে তাকিয়ে)
রিতি সবার দিকে তাকিয়ে বলার পর সবাই একটি মুচকি হাসি দেয়…
তাদের ভয় খারাপ লাগাটা নিমিশেই দূর হয়ে যায়….
শুনুন আমি বলছি না যে শুধু মেয়েদের উপরি এসব হয় ছেলেদেরও অনেককিছু সহ্য করা লাগে…
কিন্তু যা সত্তি আমরা যতই সমানতার কথা বলি আমাদের সমাজের কিছু লোক আজও সব দোষ মেয়েদের ই দেয়…
কিন্তু এছাড়াও এরকম লোক আছে যারা সত্যি যাচাই করে কথা বলে…
কারো জিবনে দখল দেয় না…
সমাজকে উন্নতি করার চেষ্টা করে তাদের মধ্যে একজন হন….
সবাই মাথা নিচু করে আছে তারা হয়ত তাদের ভুল বুঝতে পারল…
রিতিঃআর আয়েশা তুমি আমায় চরিত্রহীন বলছ….
আয়েশাঃ যা সত্যি তাই বলছি…
সবার সামনে স্বামীর সাথে এত ঘষাঘষির কি দরকার…
রিতিঃএকটু হেসে…
আচ্ছা নিজের স্বামীর সাথেই করেছি…
আমরা বিয়ের পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ,
তোমার মত কোন অপবিত্র কাজ করি নি,
তোমার মত জেনেশুনে বিবাহিত পুরুষের সাথে affair করি না,
না কারো সংসার ভেংগেছি….
আমি চাইলে এ কথা আগেও বলতে পারতাম যখন আমার সংসার ভেংগেছিলে,
কিন্তু কারো অপমান করতে চাইনি বলে বলি নি…
আর আমাকে বলছো যদি ওদিন ডিভোর্স পেপারে সাইন না করতাম তাহলে গর্ভে সন্তান নিয়ে কি করতে….
এরপর কাওকে খারাপ বলার আগে নিজেকে দেখে নিও…
বলেই আয়ানের হাত ধরে চলে যেতে নিলে আবার ফিরে তাকায়….
রিতিঃ Opps…sorry…
একটা জিনিস ভুলেই গেছিলাম….
আয়েশাকে একটা ঠাসসস করে থাপ্পড় মারল আর আয়েশা গালে হাত দিয়ে রিতির দিকে তাকালো….
রিতিঃ এটা আমার বাচ্চার গায়ে হাত তুলার জন্য…..
সবাই রিতির জন্য একটি হাত তালি দিল….
রাহাত আর আমান সিটি বাজাতে ব্যস্ত….
কিন্তু কিছুক্ষন এগোতেই রিতি হঠাৎ করে মাথা ঘুড়িয়ে পরে যেতে নেয় তখন আয়ান এসে রিতিকে ধরে ফেলে….
কিন্তু রিতির অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় সবাই অনেক ভয় পায়….
রাফি একবার এগিয়ে এসেও আবার তার পা পিছিয়ে নেয়…
আয়ান বারবার রিতিকে উঠানোর চেষ্টা করছে কিন্তু রিতি উঠছে না…
আরিয়ান ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করতে লাগল…
আয়ান যেন পাগল হয়ে গেছে….
যদি তার রিতির কিছু হয়ে যায়….
আয়ান রিতিকে কোলে তুলে নেয় হাসপাতালে যাওয়ার জন্য…..
(বিঃদ্রঃ দয়া করে ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন)
#Second_marriage
part: 14
writer: রীতিভা জাহান রীতি
.
আয়ান যেন পাগল হয়ে গেছে….
যদি তার রিতির কিছু হয়ে যায়….
আয়ান রিতিকে কোলে তুলে নেয় হাসপাতালে যাওয়ার জন্য…..
তখনই একজন মহিলা বলে সে ডাক্তার…
তাই হলে একটি রুম ছিল….
ওখানে ওকে নেওয়া হল কিন্তু মানুষ থাকতে মানা করল তাই সবাই বাইরে ছিল আর আয়ান ডাক্তারের বলা ওষুধ আনতে গেল আরিয়ানের কান্না দেখে ডাক্তার ওকে থাকার পারমিশন দিল….
কিন্তু তাও কিছুক্ষন চেকাপের পর যখন বারবার আরিয়ান রুমে আসার জন্য কাঁদছিল তখন….
আরিয়ানঃ আন্টি আমার মার কিছু হয়নি তো…. (কান্না করতে করতে)
ডাক্তারঃ না বাবা তোমার মার কিছু হয় নি কিন্তু হবে…
আরিয়ানঃ মানে….
ডাক্তারঃ তোমার জন্য তোমার আম্মু ছোট বাবু গিফট আনবে…
আরিয়ানঃ সত্যি…
নাচা শুরু করল…
রিতি ওঠে দেখে আরিয়ান ওর পাশে….
রিতিঃ বাবু তোমার কি গালে বেশি ব্যাথা করছে…
আরিয়ান রিতিকে জরিয়ে ধরল রিতি অনেকটা অবাক হল…
আরিয়ানঃ মা তুমি আমাকে ছোটো বাবু গিফট করছো…(রিতিকে ছেড়ে)
রিতিঃ কি বলছো বাবু এটা সম্ভব না তো…
ডাক্তারঃ এটা সত্যি
You’re pregnant…. (হাসি দিয়ে)
রিতি চোখে পানি নিয়ে পেটে হাত দিয়ে আরিয়ানকে জরিয়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না শুরু করে দেয়…
আয়ান তখনই এসে ওদের কান্না করতে দেখে ভয় পেয়ে যায়…
আয়ানঃ কি হয়েছে তোমরা কান্না করছো কেন….
বল কি হয়েছে…
ডাক্তার সব ঠিক আছে তো…. (ডাক্তারের কাছে যেয়ে)
রিতি সব ঠিক আছে….
(পাশে যেয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করল)
আরিয়ানঃবাবা যানো আমি বড় ভাইয়া হব,
আম্মু আমাকে একটি বাবু গিফট করছে…
আয়ান এ কথা শুনে রিতির দিকে তাকায় রিতি চোখে পানি নিয়ে হাসি দিয়ে হ্যাঁ সূচকভাবে মাথা নাড়ায়…
আয়ান খুশিতে রিতিকে কোলে তুলে নেয়….
রিতিঃকি করছ কি নামাও….
আরিয়ান আর ডাক্তার দেখছে…
ডাক্তারঃ আমার কোন সমস্যা নেই,
আমি যেয়ে সবাইকে যানাচ্ছি…
আরিয়ানঃ মা আমি পারলে আমিও তোমাকে কোলে ওঠাতাম কিন্তু পারব না তো তাই বাবাই উঠাক…হি..হি…
রিতিঃবাবা ছেলে দুজন ই পাগল…
আয়ানঃ আপনি যেয়েন না আমি আমার স্টাইলে বলব…(ডাক্তারকে উদ্দেশ্যে করে)
আরিয়ান গেট খুলো…
আরিয়ান গেট খুলার পর আয়ান রিতিকে কোলে নিয়েই হলে যেয়ে চিল্লানো শুরু করল….
আর পুরো হলে ওকে কোলে নিয়ে ঘুরে ঘুরে বলতে লাগল,
আয়ানঃ সবাই শুন….
সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে হা….
রিতি লজ্জায় শেষ….
আয়ানঃ সবাই শুন আমি আবার বাবা হতে যাচ্ছি,
আরিয়ান, নিশান আর মাহিন বড় ভাই,
আম্মু আর মা তোমরা দাদি আর নানি…
আব্বু আর বাবা তুমরা দাদা আর নানা,
রাহাত ভাইয়া তুমি মামা,
আমান ভাইয়া বড় বাবা,
নিধি ভাবি বড় মা,
মাহি ভাবি মাহি হবা তুমি,
আর ইশিকা তুই আবার ফুপি হবি….
রিতিঃ আরে কি করছ নামাও না আমার লজ্জা লাগছে,
প্লিজ…
আয়ানঃ আমার বউ ই তো…
সমস্যা কোথায়…(করুণাময় ভাবে তাকিয়ে)
রিতিঃ প্লিজ আয়ান আমার খুব লজ্জা পাচ্ছে…..
আয়ান না চেয়েও নামিয়ে দিল আর সবাই এসে রিতিকে জরিয়ে ধরল মাহি তো রিতিকে জরিয়ে কান্না করে দিল,
দিবে না কেন রিতির প্রতি মূহুর্তের কষ্ট ও তো অনুভব করেছিল…
সবার খুশি যেন কয়েকগুন বেড়ে গেল……
আর মধ্যে রাফি এসে বললঃ
রাফিঃ এটা সম্ভব না…..

আমরা আগেই সব টেস্ট করেছিলাম রিতি মা হতে পারবে না……
ও কনসিভ করার ক্ষমতা নেই…..
থাকলে ও আগেই মা হতে পারত…..
রাফির কথা শুনে সবার মুখ নিমিষেই মলিন হয়ে গেল….
আয়ান রাফির সামনে এসে বললঃ
আয়ানঃ Look bro…..(রাফির সামনে এসে কাঁধে হাত রেখে বলল)
এটা আমাদের family matter….
so don’t interfere ….
আপনি শুধু আমার বোনের শশুর বাড়ির লোক….
বিয়ে খান, মজা করুন আর যান এসব ব্যাপারে মাথা খাটিয়েন না…..
আমার বউ আমি বুঝবো,
বাচ্চা হলেও তো আমাদেরই হবে,
না আপনি আমার কিছু হন না আমার বউ এর তাই আপনার এতো চিন্তার দরকার কি……
Be Cool ok bro….(একটি হাসি দিয়ে চলে গেল
)
আর সে হাসিটি রাফির রাগ,জিদ,বিরক্তি আরও বাড়িয়ে দিল….
তারপর আয়ান রিতির সামনে এসে দেখে রিতির চোখে পানি….
সবাই ওকে সান্তনা দিচ্ছে…
সবাই বলছে কিছু হবে না এটা খুশির খবর খুশি হোক…
কিন্তু রিতির মনে তো ভয় রয়েই গেল….
কারণ এত বড় একটি খুশি পেয়ে হারালে যে সে ভেংগে যাবে……
আয়ান এসে রিতির চোখ মুছে সবার সামনেই বুকে জরিয়ে নেয়…..
তখনই নীল একটা সিটি মারে….
নীলঃ ওয়াও,
ওয়াট আ কিউট জোরি…..
ইশিকাঃ নীলের পেটে কোনি মেরে,
হম শিখো শিখো না হলে পরে খবর আসে,
নীলঃ ….
নিধিঃ মা আয়ান আর আমান কি আপন ভাই….
মাঃ হ্যাঁ অবশ্যই কেন মা হঠ্যাৎ এ প্রশ্ন….
নিধিঃ তো কি করব….
ছোট ভাই এত রোমান্টিক আর আপনার বড় ছেলে…..
আমানঃ
মাহিঃ জানু তুই কি লাকি,
কিন্তু তুই আমার সাথে চিটিং করসোস…
আমার দুলাভাই এতো রোমান্টিক আর তুই আমারে কি বলদা সাথে ঝুলাই দিসোস…..
ভাবতাসি ডিভোর্স দিয়ে #Second_marriage করেই ফেলি….
রাহাতঃ
দুলাভাই আপনি সবার সামনে এতো ভালবাসা দেখায়েন না তো কত ঘর ভাংবেন আপনি….
নীলঃআমার তো বিয়ে হওয়া মাত্রই warning চলে আসছে….
রিতি সবার কথা শুনে হেসে দিল আর লজ্জাও পেল…..
আর তার সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গার মানে আয়ানের বুকে মুখ লুকালো….
আর আয়ানো শক্ত করে জরিয়ে ধরে….
রিতি আর আয়ানকে এভাবে দেখে রিতি রাগে ফুলতে থাকে….
সে হাতের মুঠো করে সেখান থেকে চলে যায়…..
এদিকে বিদায়ের সময় আসলে ইশিকা বলে যায় যে সে ফেরাতে নিজের বাসায় আসলে খুশির খবর শুনতে চায়….
আর আশা করি তাই আসবে….
ইশিতার বিদায়ের পর রিতি বাসায় এসে কানের দুল খুলছে আয়নার সামনে….
কানের দুল খুলছে না তো কিছু একটা ভাবছে…..
আয়ান রুমে এসে অনেকক্ষণ যাবৎ তা খেয়াল করল…..
তারপর যেয়ে রিতিকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরল…..
আর রিতির কাধে মাথা রেখে বলল….
আয়ানঃ কি ভাবছে আমার বউটা…
রিতিঃ ভাবছি এত সুন্দর সপ্ন যদি ভেংগে যায়….
সপ্নটি যদি শুধু কিছু মূহুর্তের জন্য হয়……
আয়ানঃ তাও আমাই তোমায় ততোটাই ভালবাসবো যতটা আজ বাসি…(রিতিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে)
শুধু তুমি না ভাংলেই হবে….
রিতিঃসবাই কত খুশি সবার কত মন খারাপ হবে….
আয়ানঃতুমি খুশি থাকলে সবাই খুশি থাকবে বুঝলা…..
আর ডাক্তার বলেছে না যে তুমি প্রেগন্যান্ট এছাড়াও হোম টেস্ট তো করেছ না পসিটিভ আসছে তো ভয় কিসের….
রিতিঃযানি না কেন জানি এক অজানা ভয় মনে জায়গা করে আছে…..
মা তো আছি ই…..
আরিয়ান যেদিন আমায় মা ডেকেছিল সেদিনই মা হয়ে গেছিলাম….
এজন্য এটা সত্য না নহলেও হয়তো ভাংবো না….
কিন্তু যখন ডাক্তার বলল আমার পেটে আরেকটি ছোট প্রাণ আছে তখন কিরকম একটি অনুভূতি হল তা বুঝিয়ে বলা সম্ভব নয়….
আর যখন আরিয়ান এত খুশি ছিল ছোট বাবুর কথা শুনে যদি সত্যি না হয় তাহলে…..
আয়ান একটু হেসে রিতির হাতটা তার ধরে নিজের পেটে রেখে…..
এক মা থেকে কেও ভালো বলতে পারবে না যে তার সন্তান কি অবস্থায় আছে….
নিজে একটু অনুভব কর তো কেও আছে নাকি…..
রিতি হ্যাঁ সুচকভাবে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল আর রিতির চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি পরে গেল…
আয়ান রিতির হাত ছেড়ে আলতো করে রিতির চোখের পানি মুছে গালে একটি ভালবাসার স্পর্শ দেয়…..
আয়ানঃযা হবে ভালোর জন্যই হবে….
আর কালই আমরা Hospital এ যাবো টেস্ট করাতে কেমন…..
রিতিঃ ঠিক আছে……
আয়ানঃ আসো তোমাকে কে ঘুম পারায় দি…..
রিতি একটি হাসি দিয়ে আয়ানের বুকের মাঝে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যায়…..
এদিকে,
রুদ্র (রাফির ছোট ভাই) রাফিকে অনেক্ষণ যাবৎ খুজছে কিন্তু পাচ্ছে
না…..
রুদ্রঃমা ভাইয়াকে দেখেছো…..
রাফির মাঃ ওর খবর আমি এতবছর রেখেছি যা এখন রাখব….(বিরক্তি নিয়ে)
রুদ্রঃ মা তুমি এখন কি রিতির কথা বাদ দিবা সে তো এখন এত খুশি আছে তার জীবনে….
তুমি এক্টি ভুলের জন্য ভাইয়াকে আর কত শাস্তি দিবা….
আর এছাড়াও সে মিমের ভাইয়ের বিয়েতে আয়েশা ভাবিকে কত শুনালো…..
ও আপনাদের বলাই হয়নি….
মিম রুদ্র এর বউ,
আর নীলের খালাত বোন….
রিতির ডিভোর্স এর এক বছর পর তাদের বিয়ে হয়….
মাঃ তোদের মত স্বার্থপর ছেলেরা থাকতে আর কি লাগে…
আয়েশার সাথে যা করেছে তার যোগ্য ছিল…
আর যাকে আজ নাম ধরে ডাকছিস সে তোকে একসময় নিজের বাচ্চার মত আদর করত….
তার জন্যই একসময় ভাবি মা ভাবি মা করে ঘর উঠাতি….
সেই তোর জ্বর হলে সারারাত জেগে তোর সেবা করত….
আর তুই ও রিতির মা না হতে পারার কতাহ শুনে আশে পাশের মানুষের কথা শুনে ওর আর রাফির ডিভোর্সের পর ওর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিলি….
তোদের এত শিক্ষিত করে লাভ কি হল যেখানে মানুষের অযোগ্যতাকে তার উপর কলংক করে ফেলিস….
যাই হোক আজ আমি অনেক খুশি আমার মেয়ে মা হতে যাচ্ছে তাই তোদের সাথে কথা বলে নিজের মুখ নষ্ট করতে চাই না….
যেতে নিলেও পিছনে ফিরে তাকিয়ে তোর ভাই ছাদে…..
বসে বসে সিগারেট খাচ্ছে……
বলেই আবার চলে গেল….
রুদ্র কিছু না বলেই ছাদে চলে গেল…..
রাফির সামনে যেয়ে দাড়ালো….
রুদ্রঃভাইয়া তুই কি করছিল….
এতগুলো সিগারেট…. (আশে পাশে সিগারেট দেখে)
ছাড় এটা এখন নিচে চল….(হাত থেকে সিগারেট নিয়ে)
রাফিঃছেড়ে কি করব…..
আর যে ছাড়িয়েছিল সে তো আর নেই….
জানিস আগে অনেক সিগারেট খেতাম কিন্তু রিতি আমাকে তার ভালবাসা দিয়ে সিগারেট ছাড়িয়ে ছিল….
আজ তো ও অন্যকারো…..
রুদ্রঃভাইয়া তুই এখনও…..
রাফিঃ হম এখনও ভালবাসি….
রুদ্রঃ তাহলে আয়েশা ভাবিকে বিয়ে করলি কেন…..
রাফিঃ আমি সন্তানের লোভে এতই অন্ধ হয়ে গেছিলাম যে রিতিকে অবহেলা করতে শুরু করি….(কান্না শুরু করে)
ওর যে বাচ্চামি গুলোকে আগে ভালবাসতাম তাকে বিরক্ত লাগতো….
বলে না মন খারাপ সময়ে যে কাছে থাকে তখন তাকে খুব আপন মনে হয় তাই আয়েশাকে মনে হয়েছিল….
আয়েশা মেচুরিটি খুব ভাল লাগত….
কিন্তু তখনও আমাদের কোনো affair ছিল না। কিন্তু একদিন বিজনেস এর মিটিং এ ঢাকার বাইরে যাওয়ার পর খুব ড্রিঙ্ক করার ফলে ওদিন আমার থেকে ভুল হয়ে যায়….
আর যেদিন রিপোর্ট দিয়েছিল যে রিতি মা হতে পারবে না তার কয়েকদিন পর জানতে পারি আয়েশা প্রেগন্যান্ট।আমার বাচ্চা ওর পেটে….
তাই রিতিকে ডিভোর্স দিয়ে আয়েশাকে বিয়ে করি….
কিন্তু বিয়ের পরো রিতিকে খুব মিস করতাম….
পুরো ঘরে যে ওর স্মৃতি জুড়ে আছে….
তারপরও ভেবেছিলাম একসময় না একসময় ওকে ভুলে যাবো…..
কিন্তু যখন ওর বিয়ের কথা শুনি বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে…..
খুব কষ্ট হয় সেদিন….
ভাবতেই জানটা বেরিয়ে যাচ্ছিল যে এখন থেকে রিতি অন্য কারো…..
তারপর রিতিকে যেদিন আবার নীলের engagement এ দেখি সেদিন ওকে দেখে চিনাই যাচ্ছিল….
তখন ভাবলাম হয়ত আজও রিতি আমায় ভালবাসে…..
সে আমার জায়গা অন্য কাওকে দিতে পারবে না…..
কিন্তু হলুদের দিন আমার ধারণা একদম ভুল প্রমাণিত হল….
ওর দিক থেকে নজর সরাতে পারছিলাম না আমার সেদিনের কথা মনে পরে গেল যেদিন ওকে নিজের বউ বানিয়ে ছিলাম….
তুই জানিস যখনই ওই আয়ানকে রিতিকে ছুতে দেখতাম আমার জান জ্বলে উঠত….
কিন্তু আমার চেয়েও কিছু করার ছিল না কারণ আমিই রিতিকে দূরে সরিয়েছি….
কিন্তু আজ….
আজ যা হল তা শুনে জানো আকাশ ভেংগে পরল আমার মাথায়….
রিতিকে যে কারণে ছেড়েছিলাম সে কারণ টাই বৃথা ছিল….
কিন্তু আমরা তো সব টেস্ট করিয়েছিলাম তাহলে কিভাবে…..
কিছু মাথায় ডুকছে না….
আমার সত্যি বের করতেই হবে…..
চলবে….