Second marriage পর্ব – ১৫

0
1759

গল্পঃ Second_marriage
পর্ব – ১৫
লেখিকাঃ #Ritiva_Jahan_Riti
কিন্তু আজ….
আজ যা হল তা শুনে জানো আকাশ ভেংগে পরল আমার মাথায়….
রিতিকে যে কারণে ছেড়েছিলাম সে কারণ টাই বৃথা ছিল….
কিন্তু আমরা তো সব টেস্ট করিয়েছিলাম তাহলে কিভাবে…..
কিছু মাথায় ডুকছে না….
আমার সত্যি বের করতেই হবে…..
সকালে উঠেই আয়ান আর রিতি হাসপাতালে গেল টেস্ট করাতে…..
তারপর বাসায় এসে ইশিকা আর নীলের সাথে গল্প করল….
সন্ধ্যায় রিপোর্ট ডিলেভার হবে সবাই হাসি খুশি থাকলেও সবার মনে খুত খুত লেগেই আছে যে রিপোর্ট এ কি হবে….
অপেক্ষার প্রহর শেষ কনিংবেল বাজার সাথে সাথে সবাই দৌড়ে গেল দরজায়….
রিতি বাদে….
রিতির যেন পা নড়ছে না….
রিপোর্ট দেখে সবাই রিতির রুমে এলো…..
সবার সিরিয়াস এক্সপ্রেশন দেখে রিতির ভয় আরো বেড়ে গেল….
আয়ান এসে রিতির সামনে দাড়িয়ে মুখ গোমড়া করে রাখল….
রিতির তো ভয়ে কলিজার পানি শুকিয়ে আসছে…..
আয়ান হুট করে রিতিকে কোলে তুলে নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে বলল…..
আয়ানঃ yeaahhoooo…..
আমি বাবা হচ্ছি…..
রিতির জেনো তার কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না….
তারপর হঠাৎ করে….
কোলে থাকা অবস্থায় আয়ানের বুকে কিল ঘুষি মারা শুরু করল…..
রিতিঃ শয়তান, ইতর, বাদর….
কেও এওরকম করে নাকি…..
আমার জান বের হয়ে গেছিল….
তারপর সবাইকে দেখে থেমে যায়…
আয়ান ইশারা দিয়ে রাহাতকে অনুরোধ করে সবাইকে নিয়ে যেতে….
রাহাত ও সবাইকে নিয়ে যায়….
যাওয়ার আগে চোখ টিপ মেরে দরজা বন্ধ করে দেয়…..
আয়ান রিতিকে কোলের থেকে নামিয়ে কোমড় টেনে কাছে এনে বলে….
আয়ানঃ তো মেডাম কি যানো বলছিলেন…
আমি ইতর, বাদর তাই না….
দাড়ান দেখাচ্ছি….
ইতর আর বাদর কাকে বলে….
বলেই রিতি একপাশ থেকে চুল সরিয়ে সেখানে একটি আলতো করে চুমু দিতেই রিতি কেঁপে উঠলো….
আয়ান রিতির গলায় ডুবে যায়….
একের পর এক চুমু দিতে থাকে…
আএ রিতি এক হাত দিয়ে আয়ানের চুল মুঠি করে ধরে আর অন্যহাত দিয়ে আয়ানের শার্ট আঁকড়ে ধরে….
আয়ান গলা থেকে উঠে রিতির পুরো মুখে তার ছোয়া দেয়….
রিতি চোখ বন্ধ করে রাখে…
ঠোঁটে ঠোঁট দুটি লাগাতে যাবে তখনই….
আয়ানঃ উহ….ভুলেই গেছিলাম আমার জানি কি কাজ আছে আসি…..
রিতিকে ছেড়ে চলে যাচ্ছিল…
তখনই রিতি আয়ানের সামনে এসে কলার টান দিয়ে আয়ানকে কিছুটা নিচু করে ঠোঁটে আলতো করে একটি চুমু দিয়ে দেয়…..
তারপর ছেড়ে বলে…..
রিতিঃবাবুর দিতে মন চাচ্ছিল আমার না…
বলেই এক দৌড়…..
আয়ানঃ এই আস্তে দৌড়ায়ো না…..
একটু হেসে পাগলী একটা…..
রাতে ইশিকা তার শশুড়বাড়ি চলে যায়…
আগামীকাল রিশিপশন বলে সবাই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরে….
পরেরদিন রিশিপশনে….
যারা ওদিন রিতিকে কথা শুনিয়েছিল তারা তাদের ভুল বুঝে রিতির কাছে মাফ চেয়ে নেয়….
আর রিতিও তাদের মাফ করে দেয়…..
আয়ান সারাক্ষন রিতির সাথে থাকলেও রিতির পিপাসা লাগায় ওর জন্য জুস নিতে যায়….
সবাই জোড়ে গান চালিয়ে নাচছে….
রিতি একপাশে দাঁড়িয়ে সবার নাচ দেখছে আর হাত তালি দিচ্ছে…..
হঠাৎ করে রিতির মনে হল কে যানি রিতির মুখে হাত রেখে তাকে টান দিল…..
রিতি অনেক চেষ্টা করা সত্ত্বেও নিজেকে ছারাতে পারলো না….
তারপর একটি রুমে যেয়ে রুম বন্ধ করে দেয়…..
রিতির পিছন থেকে টান দেওয়ায় দেখেনি মানুষটিকে….
তাই যখন রিতিকে ছেড়ে দেয় তখন পিছনে ফিরে দেখলেই রিতি অবাক হয়ে যায়….
রিতিঃরাফি আপনি…..
রাফিঃ আপনি….
এখন তুমি থেকে আপনি হয়ে গেলাম….
রিতি কিছু না বলে যেতে নিলে রাফি হাত ধরে টান দেয়….
রিতিঃকি করছেন কি….
ছাড়ুন….
রাফিঃওহ….
আজ আমার ছোয়াতে তোমার এত সমস্যা…..
আগে তো সবসময় কাছে আসতে চাইতে…..
রিতিঃ কারণ তখন আপনাকে ভালবাসতাম….
রাফিঃএখন বাসো না….
রিতিঃ না…..
এখন আমার মনে শুধু আয়ানের নাম লেখা….
রাফির এ কথা শুনে রাগ উঠে গেল…
ও রিতির হাত শক্ত করে ধরে ফেলে….
এত জোরে ধরায় রিতি খুব ব্যাথা পায়….
আর হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে…
রাফিঃ তুমি শুধু আমার….
আর আমাকেই ভালবাসবা…..
রিতিঃ কি বলছেন এসব….
আমি এখন অন্য কারো বউ আপনার এসব বলতে লজ্জা লাগা উচিত…
আমি আপনার মতো না যে নিজের জীবন সংগীর বিশ্বাস ভাংব….(হাত ছাড়িয়ে)
রাফিঃ please রিতি আমাকে মাফ করে দেও…..
ফিরে আস আমার কাছে…..
রিতিঃ হাত ছাড়ুন….
আমার স্বামী আমার অপেক্ষা করছে….(যেতে নিয়ে)
রাফিঃ স্বামী তাই না….
তুমি শুধু আমার…..
আর আমারই থাকবে…..
আজকে আবার তোমাকে আমার নিজের করে নিব….
রাফি সামনে এগিয়ে আসে আর রিতি পিছাতে থাকে….
রিতিঃদেখেন খবরদার কাছে আসবেন না….
রাফি কথা শুনে না…..
রিতি আয়ানের নাম চিল্লাতে থাকে আর রুমে দৌরাতে থাকে যানো রাফি ওর কাছে না আসে….
দরজা খুলার চেষ্টা করেও পারে না….
শুধু হাজার চেষ্টার মাধ্যমে রিতি নিজেকে বাচাতে থাকে আর আয়ানের নাম চিল্লাতে থাকে…..
এদিকে আয়ান জুস নিয়ে এসে রিতিকে পায় না….
সবার কাছে জিজ্ঞাসা করার আর খবর নেওয়া আর খুজার পরও রিতিকে পাওয়া যায় না….
সবাই চিন্তায় এসে পরে তাই গান বন্ধ করে দেয়…
সাথে সাথে রিতির আওয়াজ ভেসে আসে সবার কানে….
রিতির চিৎকার শুনে আয়ানের ভয়ে জান শুকিয়ে যায়…
**নতুন নতুন রোমান্টিক গল্প পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ: “নিঃস্বার্থ ভালোবাসা”**
একদৌড় দেয় যেদিক থেকে রিতির আওয়াজ আসছে….
সবাই আয়ানের পিছনে যায়…..
আয়ান একটি দরজার সামনে এসে দেখে রিতির আওয়াজ ভিতর থেকে আসছে সাথে ভাংচুর এর আওয়াজ ও কিন্তু দরজা ভিতর থেকে লক….
আয়ানঃরিতি…
রিতি তুমি ভিতরে….
রিতিঃ আয়ান প্লিজ আমায় বাঁচাও….
আয়ান দরজা ভাংগার জন্য ধাক্কা মারে কিন্ত একা পারছে না তারপর রাহাত আর আমান ও এসে ধাক্কা মারে….
দরজা ভাংগার পর দেখে রাফি রিতির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছে আর রিতি নিজেকে বাঁচানোর জন্য জিনিস ছুড়ে মারছে…..
আয়ানকে দেখে রিতি ছুটে আয়ানকে জড়িয়ে ধরল…
আর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদা শুরু করল….
রিতিঃআয়ান ও….
ও আমার সাথে…..(কিছু বলার আগেই কাঁদার জন্যে নিশ্বাস ও নিতে পারছে না)
রাহাত যেয়েই রাফির কলার ধরে মুখে ঘুষি মারা শুরু করে…..
রাহাতঃ তোর মত জানোয়ারকে আমার আগেই শায়েস্তা করা উচিত ছিল….
তাহলে আজ এরকমকিছু হত না….
আয়ান রিতিকে ছাড়িয়ে দুই হাত দিয়ে কান্না মুছে মাহির কাছে দিয়ে রাহাত আর রাফির কাছে যেয়ে রাহাতে কাধে হাত রেখে….
আয়ানঃ ভাইয়া আপনি ওকে অনেক মেরেছেন….
রাহাতঃকি বলছো ও রিতির সাথে যা করল….
আয়ানঃ কথা থামিয়ে…
আপনি আপনার বোনের জন্য যা মারার মেরেছেন এখন আমার বউকে ছোয়ার চেষ্টা করার জন্য ওকে শাস্তি আমি দিব….
রাহাত সরে গেল….
আয়ান রাফিকে মারা শুরু করল….
আয়ানঃ Bloody hell….
How dare you to touch my wife….
i will kill you….
damn it….
আয়ান থামার নাম ই নিচ্ছে না আমান আর রাহাত যেয়ে ওকে থামালো….
তারপরও আয়ান থামছে না….
আমান আর রাহাত মিলে ওকে ধরে রাখল….
রাফির শরীরের বিভিন্ন আংশ থেকে রকত বের হচ্ছে…
রুদ্র এসে এসব দেখে রাফির কাছে গেল….
রুদ্রঃ ভাইয়া এসব কি…
তুমি….
রাফিঃ আমার রিতিকে লাগবে…..
আমি কিছু জানি না….
আয়ান এ কথা শুনে আবার রাফিকে মারার জন্য আগালো আর রাহাত ধরে ফেলে….
রিতি ভয়ে মাহির পিছনে লুকিয়ে আছে….
রুদ্রঃএসব কি বলছিস ভাইয়া তুই already আয়েশা ভাবির সাথে বিয়ে করছেন আর আরশি আপনাদের মেয়েও আছে….
রাফিঃ আরশি আমার মেয়ে না….
আয়েশা আর ওর ex-boyfriend এর মেয়ে….
রুদ্রঃকি বলছিস এসব ভাইয়া….
রাফিঃহ্যাঁ ঠিক বলছি….
রিতির প্রেগন্যান্সির কথা শুনে যেখানে আমরা দুজন টেস্ট করিয়েছিলাম সেখানে গেলাম…
সেখানে যেয়ে আগের রেকর্ড চেক করে দেখি রিতি মা ঠিকই হতে পারত কিন্তু আমি….
আমার বাবা হওয়ার ক্ষমতা নেই….
তখন মাথায় কিছুই ডুকছিল না কারণ আরশি আরশি তো আমার মেয়ে….
তাই আরশির মাথার চুল নিয়ে ডি এন এ টেস্ট করাই….
তখন রিপোর্ট এ জান্তে পাই আরশি আমার মেয়ে না….
এখানে আসার আগে বাসায় যাই তখন আয়েশাকে এসব এর মানে জিজ্ঞাসা করি প্রথম দিকে না বললেও পরে স্বীকার করে যে আরশি ওর এর ওর এক্স বয়ফ্রেন্ড এর মেয়ে…..
ওর বয়ফ্রেন্ড তার সন্তান না মানায় ও আমার সাথে সে রাত কাটায়…
আর রিপোর্ট ও ই চেঞ্জ করে আর আমায় বলে যে আরশি আমার মেয়ে…..
সবাই এ কথা শুনে অবাক হয়ে যায়…..
রাফিঃ প্লিজ রিতি আমার কাছে ফিরে এস….
প্লিজ…. (কান্না করতে করতে)
আয়ানঃ ওকে এখান থেকে নিয়ে যান….(রুদ্রকে উদ্দেশ্য করে)
নাহলে এখানে আমার হাত থেকে ওর খুন হয়ে যাবে….
রাফি যাওয়ার আগে রিতির দিকে তাকালে রিতি ভয়ে দৌড়ে আয়ানের বুকে জরিয়ে যায়….
আয়ানো রিতিকে বুকে নিয়ে রাফির দিকে রাগি লুক নিয়ে তাকালে রাফি সেখান থেকে চলে যায়…..
সবাই সেখান থেকে চলে যায়….
রাতে…
রিতি বারিন্দায় দাড়িয়ে চাঁদ দেখছে….
আয়ান পিছন থেকে এসে রিতিকে জরিয়ে ধরে আর পেটে দুই হাত আবদ্ধ করে….
আয়ান রিতির কাধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে ফেলে…
রিতিও আয়ানের হাত শক্ত কর ধরে….
আর আয়ানের হাতে কিছু ভিজা অনুভব করলে চোখ খুলে রিতিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দেখে রিতির চোখে পানি….
আয়ানঃকাঁদছো কেন….(চোখের পানি মুছে)
রিতিঃযদি আমাদের বাচ্চার কিছু হত…
আয়ানঃ আমি আমার রাণী আর আর আমার রাজকুমারি কারো কিছু হতে দিব না….
রিতিঃরাণী? রাজকুমারি?মানে…
আয়ান একটু হেসে রিতির মাথায় চুমু দিল….
আয়ানঃএই আমার রাণি….
আর হাঁটু গেড়ে বসে পেটে একটা চুমু দেয়….
আয়ানঃ এই আমার রাজকুমারী….
রিতিঃ যদি রাজকুমার হয়…
আয়ানঃ রাজকুমার তো আছেই এখন একটা রাজকুমারী হবে….(দাঁড়িয়ে)
আর আমি আমার রাজকুমারী আর তার আম্মুর সবসময় রক্ষা করব…
রিতিকে বুকে জরিয়ে নেয় আয়ান….
আজ ১ মাসের বেশি হল সে ঘটনার….
এ ১ মাস কিছু না হলেও আয়ান রিতিকে একা কোথাও যেতে দেয় না…
কিন্তু আজ হঠাৎ রিতির ফোনে ফোন আসল যে ডাক্তারের রাতে এপোয়েন্টমেন্ট টা চেঞ্জ করে দুপুরে দেওয়া হয়েছে….
আর ডাক্তার দুদিনের জন্য বাইরে যাবে তাই এখনই আসতে হবে….
রিতি জানতো যে আয়ানের অফিসে আজ জরুরি মিটিং আছে তাই আয়ানকে না ফোন দিয়ে ভাবিকে নিয়ে যায়….
কিন্তু কে জানতো তার জন্য এত বড় দুর্ঘটনা অপেক্ষা করছে…….
চলবে…..