Second marriage পর্ব – ১৬ শেষ

0
1808

গল্পঃ Second_marriage
পর্ব – ১৬ শেষ
লেখিকাঃ Ritiva_Jahan_Riti

কিন্তু কে জানতো তার জন্য এত বড় দুর্ঘটনা অপেক্ষা করছে…..
বাসা থেকে বের হয়ে দেখে গাড়ির টায়ার পাঞ্চার তাই ক্যাব নেওয়ার জন্য রাস্তায় বের হতেই নিধি ক্যাব নিতে সামনে যায়…..
রিতি সেখানে একা দাঁড়ায় থেকে।
হঠাৎ করে একটি গাড়ি এসে রিতিকে টান দিয়ে নিয়ে যায়…..
নিধি এটা দেখে অনেক্ষণ গাড়ির পিছনে দৌড়ায়….
কিন্তু গাড়ি ধরতে পারে না….
রিতি মুখ হাত দিয়ে কেও চেপে ধরে ও হাত বেধে দেয়….
শক্ত করে ধরে রাখায় রিতি নড়তে পারছে না….
একটু সামনে যেতেই রাস্তে খালি দেখে রিতিকে একটু ছাড় দেয়…..
রিতি পাশে তাকিয়ে দেখেই চোখ বড় বড় করে ফেলে….
কারণ অন্য কেও নয় সে ছিল রাফি….
রাফি রিতির মুখ খুলে দেয়….
রিতি সাহায্যের জন্য চিল্লাতে থাকে কিন্তু আশেপাশে কেউ না থাকায় কোন লাভ হয় না…
রিতিঃ তুমি….
তুমি আমাকে এভাবে কেন….
ছাড় আমাকে….
ছাড় বলছি….
নাহলে ভালো হবে না কিন্তু…
রাফিঃ Sorry জান তোমাকে এত কষ্ট দিলাম কিন্তু কি করব বল….
তোমাকে অন্য কারো সাথে সহ্যও করতে পারি না….
খুব ভালবাসি তোমায়…..
রিতিঃতোমার মুখ থেকে ভালবাসা শব্দ মানায় না রাফি….
এখন ছাড় আমায় নাহলে….
রাফিঃ ছাড়ছি না….
সারাজীবন তোমাকে নিজের ভালবাসার ঘরে আটকে রাখব…..
রিতিঃ রাফি তুমি হয়তো ভুলছো আমি এখন অন্য কারো স্ত্রী…..
আয়ান আমার স্বামী আর আমি ওকেই ভালোবাসি…
রাফির রাগ ওঠে গেল রিতির চুলের মুঠি ধরে বলল….
রাফিঃতুই শুধু আমার বুঝলি…
আর তোকে আমার করেই ছাড়বো….
তোর আর আয়ানের ভালবাসার সব অংশ আগে মিটিয়ে নি….
বিশেষ করে এই বাচ্চা….
তারপর আমরা দেশ ছেড়ে চলে যাবো…..
রিতি বাচ্চা শেষ করার কথা শুনে ভয় পেয়ে যায়….
রিতিঃ রাফি দোহাই লাগে আমার বাচ্চাকে কিছু কর না….(বলেই চোখ দিয়ে পানির বন্যা বইতে লাগল)কিন্তু রিতি সেখানে নাই তার মানে আয়ান যে হাস্পাতালে যাচ্ছে রিতি সেখানে….
আয়ানের মনের ভয় বেড়েই চলেছে….
আজ তার যে কোন মুল্যে রিতি আর তাদের বাচ্চাকে বাচাঁতেই হবে….
আয়ান দ্রুত স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে….
হাস্পাতালের সামনে এসে গাড়ি থেকে নেমেই দৌড়ে রিশেপনে যায়….
জিজ্ঞাসা করলে জানতে পায় রিতির অপরেশন ১৫ মিনিট আগেই শেষ……
১ বছর পর…..
আরিয়ানঃমা…..মা….
রিতিঃআরে বাবু তুমি স্কুল থেকে এত তাড়াতাড়ি….
যাও নি…
আর এতো রাগে কেন….
আরিয়ানঃ মা জানো আমার বন্ধুরা বলল যে আয়রা নাকি বড় হলে আমাদের ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাবে….
তাই আমি ক্লাস না করে তোমাকে জিজ্ঞাসা করতে এসে পরেছি….
মা আয়রা আমাদের ছেড়ে যাবে না তো….
আয়ানঃ ইসসস….
কেও চাইলেই কি আমার মেয়েকে নিতে পারবে নাকি…..
কেও নিবে না….
আয়রা কোথাও যাবে না….
হে আয়রা রিতি আর আয়ানের মেয়ে….
তাদের নাম মিলিয়েই আয়রার নাম রাখা হয়েছে….
তা আরিয়ান ই রেখেছে….
অপরেশন যখন হয়েছিল তাহলে কিভাবে তাই তো….
১ বছর আগে যখন আয়ান পুরো ভেংগে পরেছিল তখন রাফি আয়ানের সামনে এসে বসে….
১ বছর আগে হাস্পাতালে…..
আয়ান রাফির কলার ধরে মারতে যাবে তখনই ….
রাফিঃ চিন্তা কর না রিতি আর তোমাদের বাচ্চা দুজনই ঠিক আছে….
আয়ান মারতে গিয়েও নিজের হাত থামিয়ে অবাক হয়ে রাফির দিকে তাকিয়ে থাকে….
রাফিঃ চেয়েছিলাম যে বাচ্চাকে শেষ করে রিতিকে নিজের করে নিব….
কিন্তু ভুলে গিয়েছিলাম যে কাওকে খুন করে নিজে সুখি হতে পারবো না….
আর রিতির বাচ্চার কিছু হলে রিতি আমাকে সারাজীবন ঘৃণা করবে….
যাকে ভালবাসি তার ঘৃণা কিভাবে সহ্য করব বল….
তাই অপরেশন হতে দিই নি…
হয়তো আজ অবশনটা আমারই প্লান ছিল কিন্তু যখন বারবার রিতি মুখ থেকে শুনছিলাম যে “আয়ান আমার বাচ্চাকে বাঁচাও”
তখন আর এ কাজ করতে পারার সাহস পাচ্ছিলাম না….
আমি বুঝেছিলাম রিতি যেহেতু একসময় আমায় ভালবাসতো….
আর আমি ওর প্রথম ভালবাসা ছিলাম হয়তো আমি আবার ওর মন পেতে পারবো।
কিন্তু কিছুক্ষন আগে বুঝতে পারলাম যে ওর মনের রাজত্ব তুমি কেড়ে নিয়েছো….
এতে হাজার চেষ্টার সত্ত্বেও আমি ফিরত পাবো না….
তাই এ গুনাহ হতে দিলাম না….
রিতি ৪০৪ নাম্বার রুমে……
আমি গেলাম….
আয়ান ওঠে সোজা রিতির কাছে গেল…
রিতি আর তার বাচ্চা দুজনেই সুস্থ….
তারপর ৬ মাস পর তাদের কোলে আয়রা আসে……
আয়রা দেখে যেন সব কষ্ট ভুলে যায় সবাই বিশেষ করে রিতি…..
রিতি সাথে দেখা করতে রাফির পরিবারের সবাই এখনো আসে….
আয়েশাও….
হে রাফি আয়েশাকে মেনে নিজেছে….
যদিও তা শুধু বলার জন্য….
সে কখনও রিতি জায়গা অন্য কাওকে এখন আর দিতে পারবে না….
আর আশফিকে সে জন্ম না দিলেও ৩ টি বছর বাবার আদর দিয়েছে তাই আয়েশাকে মেনে নিলেও মাফ এখনও করে নি….
আয়েশা রিতির থেকে মাফ চাইলে রিতি আয়েশাকে মাফ করে দেয়…
এখন আয়েশা রিতির ভালো বান্ধবিও বটে…..
কিন্তু রাফি সেদিনের পর থেকে রিতির সামনে আসে নি….
যদিও রিতি মাফ করে দিয়েছে….
রিতি না সবাই রাফিকে সেদিনের পর মাফ করে দিয়েছিল…
কারণ রাফি নিজে ভুল করলেও নিজেই তা সুধরেছে….
কিন্তু রাফি আসি নি….

কারণ সে আবার রিতির প্রতি দূর্বল হতে চায় নি….
কিন্তু এখনও রাতে রিতির ছবি বুকে জরিয়ে ছাদে বসে কাঁদে সে….
রাফির রিতির সামনে আসতে চায় না বলে আয়ান আয়রাকে প্রায় রাফিদের বাসায় নিয়ে যায়….
প্রথম যখন আয়ান আয়রাকে রাফির কাছে দিয়েছিল….
সেদিন রাফি বাচ্চাটিকে বুকে জরিয়ে খুব কেঁদেছিল….
আজও সে আয়রার সাথে খেলা করতে যেয়ে পৃথিবীর সব ভুলে যায়….
রাফি আয়রাকে আশফি থেকে বেশিই ভালবাসে….
শুধু রাফিই না দুই পরিবারের সবার প্রাণ জুরে আছে আয়রা….
হবেই বা না কেন একটি মাত্র মেয়ে বলে কথা….
আরিয়ান,নিশান আর মাহিন তো সারাক্ষণ ওকে নিয়ে ঝগড়া করে….
সারাক্ষন সবার মধ্যে জুরে থাকে আয়রা….
চলুন ফিরে আসি বর্তমানে…..
রিতিঃ বাবা ছেলে দুজন এরকম….
আল্লাহ ই জানে আমার মেয়েটার ভবিষ্যত বরের কি হবে….(কাপড় গুছাচ্ছিল তখন)
আমান রুমে বাইরে দরজা খটখটিয়ে….
আমানঃআসব….
রিতিঃ হে ভাইয়া আসো প্রতিদিন জিজ্ঞাস করতে হয় নাকি….
আমানঃ আমার মামনিকে নিতে আসছি….
রাহাত পার্কে অপেক্ষা করছে…
ওকে নিয়ে ঘুরে ওই বাসায় নিয়ে আবার নিয়ে আসব….
রিতিঃ হি…হি এটা তো প্রত্যেক দিনের রুটিন বলতে হয় নাকি ভাইয়া….
ওকে রেডি করে রেখিছি…
আর এই যে সব জিনিস…(একটি ব্যাগ দিয়ে)
আর ভাইয়া মাহিকে বলেন এখানে নিল বক্সে মাহিনের জন্য গাজরের হালুয়া দিয়েছি….
আমানঃ আচ্ছা তাহলে আমি আমার Princess কে নিয়ে যাই….
চলো Princess বড় পাপার সাথে পার্কে যাবে….(আয়রাকে আয়ানের কোল থেকে নিয়ে)
আরিয়ানঃ বড় পাপা আমিও যাই…
এমনি এখন স্কুলেও যেতে পারবো না…
ওরা চলে গেল…
রিতি কাপড় গুছাচ্ছিল…
আয়ান এসে পিছন থেকে রিতিকে জরিয়ে ধরল….
আয়ানঃআচ্ছা জান….
রিতিঃ হম বল…
আয়ানঃ তোমার মনে হয় না আয়রা একা মেয়ে হওয়ায় সবাই ওকে নিয়ে বেশি টানাটানি করে…
রিতিঃএকটু হেসে…
আল্লাহ দেখ এ কথা কে বলছে….
আয়ানঃ আসলে….
আসলে আরিয়ান, মাহিন আর নিশান তিন ভাই এর এক বোন not fair…
একটা উপায় আছে এর….
রিতিঃআর তা কি…..(আয়ানের দিকে ঘুরে)
আয়ানঃশুনবা…(দুষ্টুমি হাসি দিয়ে)
আরেকটি বোন এনে দি তাহলেই তো হয়…..
আয়ান রিতির কোমড়ের দুই পাশে দুই হাত দিয়ে এক টানে নিজের সাথে মিশিয়ে ফেলে…..
রিতি লজ্জায় শেষ…..
লজ্জায় লাল হয়ে মাথা নিচু করে আছে….
আয়ানঃ উফফফ এভাবে লজ্জা পেও না তো…..
রিতিঃকেন….বিরক্ত হও বুঝি…(অভিমানি সুরে)
আয়ানঃ তোমার কোন কাজে আমি বিরক্ত হতে পারি নাকি….
কিন্তু এভাবে লজ্জা পেলে যে আবার তোমার প্রেমে পরে যায়…
একজনের প্রেমে পরতে পরতে হয়রান হয়ে গেছি….
রিতিঃএ একজনের প্রেমেই পরতে পারবা অন্য কারো প্রেমে পরলে তো খুন করে দিব….
আয়ানঃ এভাবে লজ্জামাখা হাসি দিলে প্রতিবারই মরে যাই….
মরা মানুষ কে আর কি মারবা….(কানের কাছে যেয়ে কথাটি বলল)
বলেই কানের পিছনে একটি চুমু দিতেই রিতি কেঁপে উঠল….
রিতিঃ কি করছো ছাড় কেও এসে পরবে….
আর অফিসেও যেতে হবে তোমার…(কথাটা একটু কষ্টে বলল কারণরিতির নিশ্বাস দীর্ঘ হয়ে আসছিল)
আয়ান কোন কথা না শুনে রিতির কানের পিছনে তার নাক ঘষা শুরু করে রিতির ঘ্রাণ উপভোগ করতে লাগল….
কানের পিছন থেকে আস্তে আস্তে নিচে নেমে গলায় এসে পৌঁছাল….
রিতির গলায় ঘাড়ে একের পর এক চুমু দিতে শুরু করল….
তারপর মুখ তুলে দেখে রিতির নিশ্বাস দ্রুত হয়ে গেছে….
আয়ানের যেন আরো নেশা লেগে গেল….
সে রিতির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল…..
আর অন্যহাত দিয়ে রিতির স্পর্শ অনুভবে ব্যস্ত হয়ে পরল….
রিতিও আয়ানের মাথার চুল মুঠোয় ধরে তার ঠোঁটের স্বাদ নিতে ব্যস্ত….
দুওজনে দুজনের ভালবাসার নেশায় ভাসতে থাকে…..
সবাই দোয়া করেন রিতি আর আয়ানের জন্য জানি আগামীবছর আরেকটি রাজ কন্যা হয় তাদের….
সমাপ্ত……