অপরিচিতা ভালোবাসা পর্ব-৬(লাস্ট)

0
1773

#অপরিচিতা_ভালোবাসা

পর্ব-৬(লাস্ট)

#ফাবিহা_নওশীন

রাফি বর্ণার দুবাহু ঝাকিয়ে বলছে,
—-তুমি ভাবছো তুমি তোমার বোনকে ভালো রাখার জন্য নিজের ভালোবাসা উৎসর্গ করছো।ও ভালো থাকবে।কিন্তু না তুমি তোমার বোনের জীবন নষ্ট করছো,নিজের বোনকে ধোকা দিচ্ছো।
কারণ আমি কোনোদিনও ওকে ভালোবাসতে পারবোনা।

বর্ণা রেগে গিয়ে বললো,
—-কেন পারবেনা?আমার বোনের কিসের কমতি আছে?তুমি আমাকে ভুলে যাবে।রুপা আপুকে বিয়ে করবে আর ভালো থাকবে।রাফি রুপা আপুকে যদি তুমি কখনো কষ্ট দেও তাহলে আমি তোমাকে কখনও ক্ষমা করবোনা।

রাফি চিতকার করে বললো,
—-হোয়াট দ্যা হেল আর ইউ?তুমি কি তোমার কথা পাল্টাবে না?প্রথম দিন থেকেই একি কথা বলে যাচ্ছো।
তুমি আমাকে ভালোবাসো আমি তোমাকে।তাহলে মাঝখানে রুপাকে কেন ফাসাচ্ছো?হোয়াই?ওর লাইফটা নষ্ট হয়ে যাবে।কজ আমি ওকে কখনোই ভালোবাসতে পারবোনা।ঘর বাধার সবচেয়ে বড় উপাদান ভালোবাসা সেটাই যদি না থাকে তবে কিসের ঘর?জোর করে ভালোবাসা হয়না ডেম ইট।৩টা লাইফ তুমি নষ্ট করে দিচ্ছো।

বর্ণা বুঝতে পারছে ও ভুল কিন্তু রুপার জন্য কিছুই বলতে পারছেনা।বর্ণা কাদতে কাদতে বললো,
—-রাফু আপু তোমাকে অনেক ভালোবাসে।এক বছর যাবত তোমাকে ভালোবাসে।বিয়েটা না হলে আপুর কি হবে আমি ভাবতে পারছিনা।

—-আর তুমি?আমি?আমাদের ভালোবাসা?সেটা তো দুদিনের নয়।দু বছরের।

—-আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো কিন্তু আপু…

—-শাট আপ,,তোমার আপুর এই একপাক্ষিক ভালোবাসায় যদি বিয়ে করে তবে আজীবন কাদতে হবে বুঝতে পারছো তুমি?কিন্তু এখন যদি বিয়েটা ভাংগে তাহলে কিছুদিন কষ্ট পাবে।

—-আমি কিছুই জানি না।তুমি আপুকে বিয়ে করে নেও।

রাফির মাথা গরম হয়ে গেলো।তারপর রাগে গজগজ করতে করতে বললো,
—-বেশ।তুমি যখন বুঝতে চাইছোনা।এক আগুনে তিনজনকে জ্বালাতে চাইছো ইটস ওকে।আমি রুপাকে বিয়ে করে নিবো।কিন্তু রুপা যদি অসুখী হয় তাহলে এর জন্য শুধুমাত্র তুমি দায়ী থাকবে আর কেউনা।

রাফি ঘুরে কয়েক কদম গিয়ে আবার ফিরে এলো।
তারপর শীতল কণ্ঠে বললো,
—-আজকে ভাবো।ভাবার পর যদি মনে হয় তুমি ভুল করছো তবে এসো।বিয়ের আসরে আমি অপেক্ষা করবো তোমার জন্য।আমার বিশ্বাস তুমি আসবে।রুপা আর আমার সাথে এতবড় অন্যায় তুমি হতে দেবেনা।
রাফি বর্ণার হাতে হাত রেখে বললো।

তারপর চলে গেলো পিছনে একবার ফিরে তাকালো না।বর্ণা রাফির যাওয়ার দিকে চেয়ে রইলো।তারপর ধপ করে মাটিতে বসে পড়ল।দু’হাতে মুখ চেপে কাদছে।
আমি এখন কি করবো?মাবুদ তুমি বলে দেও আমি এখন কি করবো?

রুপার চোখ বেয়ে পানি পড়ছে।এতদিনের তিল তিল করে সাজানো স্বপ্ন সব এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো।যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে সে তার ছোট বোনের স্বপ্নে বিভোর।কি করে মেনে নিবে এসব?এতবড় ধোকা!!

বর্ণা চোখ মুছতে মুছতে নিজের রুমে গিয়ে দাড়াতেই রুপাকে দেখতে পেলো।রুপার চোখ বেয়ে পানি পড়ছে।চোখগুলো ফুলে লাল হয়ে আছে।দৃষ্টি মেঝেতে স্থির।

বর্ণা তাড়াতাড়ি নিজের চোখের পানি মুছে রুপার কাছে গিয়ে বিচলিত কন্ঠে বললো,
——আপু কি হয়েছে?কাদছিস কেন?এখনো জেগে আছিস।

রুপা চোখ তুলে শান্ত দৃষ্টিতে বর্ণার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলো।তারপর বলল,
—-কি করে পারলি এত বড় ধোকা দিতে?

বর্ণার বুক ছ্যাত করে উঠলো রুপার কথা শুনে।ভয়ে ঢুক গিলে বললো,
—-কিহহহ বলছিস আপু?

রুপার মাথা গরম হয়ে গেলো।চেচিয়ে দাতে দাত চেপে বললো,
—-আবার নাটক করিস?নির্লজ্জ বেহায়া মেয়ে।ছিহ।তোকে আমি কখনো সৎ বোনের চোখে দেখিনি।আপন বোনের চেয়ে বেশি ভেবেছি আর তুই আমার সাথে এত বড় গেইম খেললি?লজ্জা করলোনা?

বর্ণা বললো,
—-আপু কি করেছি?তুই আমাকে ভুল বুঝছিস।

রুপা বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেলো।
—-আমি সব ঠিক ভাবছি।আমি তোকে আর রাফিকে দেখেছি কিছুক্ষণ আগে বাইরে সো এসব ভালো মানুষি তোর কাছে রেখে সব সত্যি করে বল।

বর্ণা ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে যাচ্ছে।রুপা কি সব শুনে ফেলেছে।সবটা জেনে গিয়েছে।রুপার কাছে গিয়ে ওর কাধে হাত রেখে বললো,
—-আপু তুই যা ভাবছিস তেমন কিছু না।আগামীকাল তোর বিয়ে এখন গিয়ে শুয়ে পড়।

রুপা সর্বশক্তি দিয়ে বর্ণাকে থাপ্পড় মারলো।বর্ণা গালে হাত দিয়ে নির্বাক হয়ে রুপার দিকে চেয়ে আছে।রুপা জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।রাগে ওর শরীর কাপছে।চোখমুখ লাল হয়ে গেছে।
—-তুই এখন সব কিছু বলবি নয়তো বর্ণা আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবেনা।আজকে তুই আমার সেই রুপ দেখবি যা আগে কখনো দেখিস নি।সত্যি করে বল কি চলছে?

বর্ণা গালে হাত দিয়ে চোখের পানি ফেলছে।কি করে বলবে রুপাকে এসব।রুপা সব জানতে পারলে কি রিয়েক্ট করবে।

রুপা আবারো চেচিয়ে উঠলো,
—-বলবি!!

তারপর বর্ণা প্রথম থেকে একে একে সব ঘটনা বলল।রাফির সাথে ফেসবুকে পরিচয়,বন্ধুত্ব, প্রেম।রুপার কাছে রাফির ছবি দেখা।রাফি আর রুপার বিয়ের কথা জানা।তারপর বর্ণার সিদ্ধান্ত।রাফিকে এভয়েড করা।ওদের ব্রেকাপ সবকিছু বললো।রুপা এসব শুনে কিছু সময়ের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল।

তারপর রুপা কাদতে কাদতে বললো,
—-তুই আমার বোন না।তুই আজ থেকে আমার কেউনা।তুই একটা ধোকা বাজ,ঠকবাজ।আমার চোখের সামনে যেনো তোকে আর না দেখি।তাহলে আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ হবেনা।আমি আমার লাইফ নষ্ট করার অধিকার কিংবা আমার লাইফ নিয়ে তামাশা করার অধিকার কাউকে দেইনি।তোকে যেনো আর আমার আশেপাশে না দেখি।

রুপা অগ্নি দৃষ্টি নিয়ে এসব বলে বর্ণার রুম ত্যাগ করলো।বর্ণা স্থির হয়ে বসে আছে।
রুপা আজ প্রথম ওর সাথে এমন বিহেভ করলো।।ওকে ভুল বুঝলো।
কি করবে?একদিকে রুপা আরেকদিকে রাফি।

রাফির চোখে ঘুম নেই।বর্ণা কি সিদ্ধান্ত নিবে।বর্ণা কি আসবে নাকি রুপার সাথেই কবুল বলতে হবে।উফফ কি যন্ত্রণা,মাথা ফেটে যাচ্ছে রাফির।বর্ণার সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।তবে রাফির মনে হচ্ছে বর্ণা সঠিক সিদ্ধান্ত নিবে।নিজের মনকে শান্তনা দিয়ে ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেলো।

বর্ণা সকাল থেকে অনেক চেষ্টা করেছে রুপার সাথে কথা বলার কিন্তু রুপা বরাবরই এড়িয়ে যাচ্ছে।নয়তো বর্ণাকে যা ইচ্ছে তাই বলছে।তবুও বর্ণা বারবার চেষ্টা করছে কথা বলার কিন্তু পারছেনা।হতাশ হয়ে নিজের রুমে বসে আছে।
—-আমাকে মাফ করো রাফু।তুমি হয়তো এই বিশ্বাসে স্থির হয়ে আছে তোমার বাণু আসবে।কিন্তু আমি তা পারলাম না রাফু।আপুকে কিছুতেই আর কষ্ট দিতে পারবোনা।এমনিতেই আপু অনেক কষ্ট পেয়েছে।আমার সাথে কথা পর্যন্ত বলছেনা।আপু সব জেনে যখন তোমাকে বিয়ে করতে চাইছে তখন আমার কি বলার আছে।তবে তুমি…
তুমি কি আমাকে কখনো ক্ষমা করবে?
কখনো আমাকে ক্ষমা করো না।আমি একটা খারাপ মেয়ে।আমি কেন তোমাকে ভালোবাসতে গিয়েছিলাম কেন তোমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম।আমি কি জানতাম না সুখ আমার জন্য নয়।তবুও কেন লোভী হয়ে পরেছিলাম তোমাকে নিজের করে চেয়েছিলাম? কেন কেন?

বর্ণা কাদতে কাদতে বসে পড়ল।হটাৎ দরজা বন্ধ করার শব্দ পেলো।বাইরে থেকে কেউ দরজা লক করে দিয়েছে।বর্ণা তাড়াতাড়ি চোখের পানি মুছে দরজার সামনে গিয়ে বললো,
—-কে?দরজা কে বন্ধ করলো?

রুপা বললো, আমি।চুপচাপ বসে থাক।আমি না চাওয়া পর্যন্ত তুই এই ঘরের বাইরে আসবি না।এটা আমার তোর কাছে শেষ অনুরোধ।

বর্ণা থমকে গেলো।রুপা ওকে আটকে রাখছে।কেন?রুপা কি ভেবেছে বর্ণা ওর বিয়ে ভেঙে দেবে?
বর্ণার বুক ফেটে যাচ্ছে কষ্টে।যে বোনের জন্য নিজের ভালোবাসা বিসর্জন দিলো সে ওকে ভয় পাচ্ছে যে ওর বিয়েতে ঝামেলা করবে।তাই রুম লক করে রেখেছে।কি অদ্ভুৎ?হাসবে না কাদবে বুঝতে পারছেনা।

.
.
রাফি স্টেজে বসে আছে।দরদর করে ঘামছে।বিয়ে করতে এসেছে সে নার্ভাসনেস থেকে নয় বরং আজ কি হতে যাচ্ছে সেটা ভেবেই।ওর ভাগ্যরেখা কোন দিকে যাচ্ছে।কে হতে যাচ্ছে ওর জীবন সঙ্গী?যাকে ভালোবাসে সে না যাকে কখনো ভালো বাসতে পারবেনা সে?
এসব ভেবেই রাফি ঘামছে।তার উপর বর্ণাকে সকাল থেকে ফোনে পাচ্ছেনা।কি চলছে মেয়েটার মাথায় বুঝতে পারছেনা।

কাজি বিয়ে পড়ানো শুরু করে দিয়েছে।রাফি বারবার আসেপাশে দেখছে।ওর অশান্ত চোখ এই মুহুর্তে বর্ণাকে খোজছে।একমাত্র বর্ণাকে দেখতে পেলেই ওর চোখ দুটো শান্ত হবে।
বারবার ফোনের দিকে তাকাচ্ছে।বর্ণার একটা কিল কিংবা মেসেজের আশায় কিন্তু সব আশায় পানি ঢেলে কাজি ওকে কবুল বলতে বলছে।ওর মাথায় যেনো বাজ পড়লো।বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে।তাহলে বর্ণা এলোনা।এতটা স্বার্থপর হতে পারলো বর্ণা।
রাফির প্রচুর অভিমান হচ্ছে। কিছু না ভেবেই কাপা কাপা গলায় কবুল বলে রেজিস্ট্রি পেপারে সাইন করে দিলো।
রাফির ভিতরটা চুরমার হয়ে গেলো।বর্ণা আর ওর ভালোবাসা সব শেষ হয়ে রুপা নামের অধ্যায় শুরু হলো।
রাফির অনুভুতিরা শূন্যে অবস্থান করছে।এই মুহুর্তে কিছুই অনুভব করতে পারছেনা।শুধু বুকের ভিতরে চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে।

??
রাফির রুমে যেতে ইচ্ছে করছে না।বাসর ঘরে যাওয়ার জন্য ছেলেরা উৎফুল্ল থাকলেও রাফির কাছে বিষ মনে হচ্ছে।সবাই ওকে ঠেলে রুমে পাঠালো।ওর মনে হচ্ছে সবাই ওকে জোর করে জাহান্নামে পাঠাচ্ছে।
রাফি রুমে গিয়ে কোনো দিকে না চেয়ে আলমারি থেকে নিজের ড্রেস নিয়ে চেঞ্জ করতে ওয়াশরুমে চলে গেলো।ফ্রেশ হয়ে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বারান্দায় গিয়ে বসে রইলো।ওর রুপার সাথে কোনো কথা বলতে ইচ্ছে করছে না যদিও রুপা নির্দোষ।ওর এখানে কোনো দোষ নেই তবুও ইচ্ছে করছে না।কেন জানি মনে হচ্ছে এই মেয়েটার জন্য বর্ণা ওকে ছেড়ে দিয়েছে।
রাফির একটা সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু রুমে সিগারেট নেই।আর এখন সিগারেট খেলে রুপা কি মনে করবে?
যা খুশি মনে করুক একটা সিগারেট খুব দরকার।কিন্তু কোথায় পাবে?রুম থেকে বের হলে সবাই ধরবে।আর এত রাতে দোকান খোলা নেই।কিছুই ভালো লাগছে না।মাথাটা শূন্য লাগছে।রাফি দু’হাতে মাথা চেপে ধরেছে।

—-রাফু!!

রাফি চমকে পিছু ফিরে তাকালো।লাল আর গোল্ডেন কালারের মিক্সিং লেহেঙ্গা পড়ে বউ সেজে বর্ণা দাঁড়িয়ে আছে।দু’হাতে লেহেঙ্গা ধরে রেখেছে।রাফি বুঝতে পারছেনা ওর সাথে কি হচ্ছে।

বর্ণা বিচলিত কন্ঠে বললো,
—-তোমার কি মাথা ধরেছে?আমি কি মাথা টিপে দেবো?ঘরে মাথা ব্যথার ওষুধ নেই?

বর্ণার কোনো কথাই রাফির কানে যাচ্ছেনা।ও ফ্যালফ্যাল করে বর্ণার দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। ভাবছে কল্পনা কিংবা স্বপ্ন দেখছে।বর্ণাকে পাশ কাটিয়ে রুমে গিয়ে খাটের দিকে তাকালো।বর্ণা রাফির পিছনে পিছনে রুমে গেলো।রাফি ওয়াশরুম চেক করছে।রাফি কি করছে বর্ণা কিছুই বুঝতে পারছেনা।
—-রাফু কি হয়েছে এমন করছো কেন?

রাফি বর্ণার দিকে ঘুরে বললো,
—–তুমি এখানে কি করে? কি হচ্ছে আমি তো কিছুই বুঝতে পারছিনা।তুমি কি আদোও এখানে আছো?না স্বপ্ন দেখছি?আমার বিয়ে কার সাথে হলো?তুমি এখানে হলে রুপা??

বর্ণা মুচকি হেসে বললো,
—-রিলেক্স।আমি বলছি সব।

ফ্ল্যাশব্যাক —
বর্ণাকে আটকে রেখে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর রুপা দু’জন মেয়েকে নিয়ে রুমে ঢুকে।রুপার হাতে কিছু শপিং ব্যাগ।রুপা রুমে এসে দরজা লক করে দেয় আর মেয়ে দুটোকে বলে,
—-এই যে কনে।তাড়াতাড়ি রেডি করিয়ে দিন।
বর্ণা অবাক হয়ে বললো,
—-এই আপু কি বলছিস?

রুপা চোখ গরম করে বললো,
—-একদম কথা বলবিনা।আজ আমার না তোর বিয়ে হচ্ছে।

বর্ণা কাদো কাদো হয়ে বললো,
—-আমি এটা করতে পারবোনা।

—-তাহলে তুই কি চাস আমি সারা জীবন অসুখী থাকি।এই বিয়ে হলে আমার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে।তুই কি সেটাই চাস?

—না আপু আমি চাই তুই ভালো থাক।সুখে থাক।

—-তাহলে বিয়েটা করে নে।তুইও ভালো থাক।আমাকেও ভালো থাকতে দে।বাড়ির কাউকে এখন কিছু বলতে হবেনা।পরে আমি সব ম্যানেজ করে নিবো।

—-কিন্তু আপু আমার খুব ভয় লাগছে।

—-ভয় অয়াস না।আমি আছি তুই রেডি হয়ে নে।বাকিটা আমি দেখছি।

বর্ণা রুপাকে জড়িয়ে ধরলো তারপর কেদে দিলো।
—আপু তুই অনেক ভালো।

—-হুম কিন্তু তোর মতো অতিরিক্ত ভালো নই।আর অতিরিক্ত ভালো হওয়া উচিত না।শোন কাউকে সে জিনিস দান করা উচিত যে জিনিস হতে সে লাভবান হয়।এমন কিছু দান করা উচিত না যা থেকে সে কষ্ট পাবে।তুই রাফিকে দান করেছিস কিন্তু এতে আমার খুশী নেই।এমন বোকামি আর করবিনা।আমার জন্য অনেক কষ্ট পেয়েছিস।আমাকে ক্ষমা করে দিস।

—-আপু কি বলছিস?তোর কোনো দোষ নেই।তুই তো জানতি না।আর আজ তোর জন্যই আমি রাফিকে পাচ্ছি।

তারপর বর্ণাকে রেডি করে রুপার জায়গায় বসানো হয়।যদিও ব্যাপারটা এতটা সহজ ছিলো না।রুপার ফ্রেন্ডরা পদে পদে সাহায্য করেছে।বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর রুপা বাড়িতে সবটা জানিয়ে দিয়েছে।
রুপা বলেছে ওর অন্য জায়গায় পছন্দ আছে।তাই বিয়ে করেনি।বর্ণাকে জোর করে,ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ের আসরে বসিয়ে দিয়েছে।

~বর্তমান ~
সব শুনে রাফি বর্ণাকে জড়িয়ে ধরে আছে।বর্ণাও জড়িয়ে ধরলো।এর আগেও রাফি ওকে জড়িয়ে ধরেছিলো কিন্তু বর্ণা রাফিকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়েছিলো।আজ আর সরাচ্ছেনা।কেননা আজ রাফি বোনের হবু বর না।নিজের বর।বর্ণা কাদছে।বর্ণা নিজের কাধে গরম পানি অনুভব করছে।তারমানে রাফিও কাদছে।দুজনেই কাদছে।হারিয়ে ফিরে পাওয়ার কান্না।তাদের চোখের পানি একে অপরের মনের ভাব প্রকাশ করায় ব্যস্ত।
বর্ণা মাথা তুলে বললো, রাফু আ’ম সরি।আমাকে মাফ করে দিও।আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি।

রাফি বর্ণার চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো,
—-কষ্ট দেওয়ার শোধ পরে নেওয়া যাবে।আমি তোমাকে পেয়েছি,আমার অপরিচিতাকে সারাজীবনের জন্য পেয়েছি এতেই আমি হ্যাপি।আই লাভ ইউ।(বর্ণার কপালে ঠোঁট ছুইয়ে)

—-আই লাভ ইউ টু রাফু।

..

রুপা বারান্দায় দাঁড়িয়ে কফিতে চুমুক দিতে দিতে ভাবছে,
“আমার আজ কেন একটুও কষ্ট হচ্ছে না।আগে তো রাফিকে না পাওয়ার কথা ভাবলেই কষ্টে বুক ফেটে যেতো তবে আজ আমি এত স্বাভাবিক কেন?
কেননা আমার ভালোবাসার মানুষগুলো ভালো আছে তাই।আমি চাই ওরা ভালো থাকুক।আমি যাকে ভালোবাসি তারমধ্যে আমার সুখ নিহিত না যে আমাকে ভালোবাসে তার মধ্যে আমার সুখ নিহিত?”

রুপা মুচকি হেসে ফোন হাতে নিলো।যার অর্থ ও ওর প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছে।
কাউকে ফোন করতেই অপর পাশে থেকে সাথে সাথে ফোন পিক হয়ে গেলো। কিন্তু কোনো কথা বলছেনা।রুপা শুধু নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে।

রুপা শান্তস্বরে বললো,
“আসফি আমি বিয়েটা করিনি।”

অপরপাশ থেকে দ্রুত বলে উঠলো,
—-বিয়ে করিস নি মানে কি রুপো?

—-না করিনি।

দুজনের মাঝেই নীরবতা।
রুপা বললো,
—-বিয়ে করবি আমায়?

আসফি উৎফুল্ল হয়ে বললো,
—-যদি তুই বলিস,,তবে এক্ষুনি বিয়ে করতে রাজি।

—-এক্ষুনি কি করে করবি?তুই তো ঢাকায় আর আমি কুমিল্লা।

আসফি আমতা আমতা করে বললো,
—–আমি তোদের এলাকায় আছি।তোর বিয়ের কথা শুনে এসেছিলাম কিন্তু তোদের বাড়িতে যাওয়ার সাহস হয়নি।কি করে তোর বিয়ে দেখতাম বল।যাকে ভালোবাসি তাকে অন্য কারো হতে দেখার সাহস আমার হয়নি।

—–কিহ!!তুই এখানে? তাহলে দেরি কিসের চলে আয়।বিয়ে কাল করবো।তার আগে অন্তত একদিন চুপিচুপি প্রেম করতে চাই।

বলেই রুপা হেসে দিলো। আসফি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেনা।আসফি তাড়াতাড়ি সিএনজি তে উঠে রওয়ানা দিলো।গন্তব্য তার প্রেয়সী রুপো।

সমাপ্ত…

(গল্পটা অন্যরকম ছিলো কিন্তু আমি আর আগাতে চাইছিনা তাই এভাবেই হ্যাপি ইন্ডিং দিয়ে শেষ করে দিলাম।ধন্যবাদ।)