আমার আসক্তি যে তুমি Part -11+12

0
3732

#আমার_আসক্তি_যে_তুমি
#Part_11_And_12
#Writer_Asfiya_Islam_Jannat
.
?
পাহাড় এখন সবুজে ভরে গেছে। সবুজ সতেজ পাহাড়ের নিচে সারি সারি গাছের মেলা। তাতে রয়েছে রঙে বেরঙের ফুল। মনে হচ্ছে যেন তারা রং বদলের খেলাতে মেতে উঠেছে। পাখিরাও যেন এতে আনন্দিত হয়ে মধুর সুরে গেয়েই চলেছে।
অন্যদিকে সবুজ পাহাড়ে বুক চিড়ে নেমে আসা ঝর্ণা থেকে অবিরাম পানি পড়ছে আর স্বচ্ছ পানিতে থৈ থৈ শব্দ সৃষ্টি করছে।
ঝর্ণার এই থৈ থৈ শব্দ বাতাসের শা শা শব্দের সাথে মিশে গিয়ে এক নতুন ধ্বনির সৃষ্টি করছে। যা বরাবরই আমার কানে এসে বারি খাচ্ছে।আমিও সেগুলো মন খুলে উপলব্ধি করছি।
বাস চলছে আপন গতিতে। সকলেই কিছু না কিছু করে চলেছে। কেউ আড্ডা দিয়ে চলেছে তহ, কেউ কানে ইয়ারফোন গুজে গান শুনছে, কেউ বা ফোনে তার কথার ভান্ডার শেষ করছে, কেউ বা পারি দিচ্ছে ঘুমের দেশে, আবার কেউ কেউ উপভোগ করছে এই প্রকৃতিটাকে।
আমিও প্রাণ ভরে এই প্রকৃতিটা দেখছি। সেই ছোট থাকতে বাবা,মার সাথে রাঙামাটি এসেছিলাম। আমি কি না খুশিই হয়েছিলাম তা বলার বাহিরে। ছোট থাকতে ঘুরার পাগল ছিলাম আমি তাই বাবা যখনই আর্মি থেকে ছুটি পেয়ে বাসায় আসতো তখনই আমাদেরকে এই প্রকৃতির মাঝে নিয়ে আসতো। তখন কি যে আনন্দ লাগতো আমার।কিন্তু তাদের যাওয়ার পরে যেন এই আনন্দ হারিতে গেল! সাথে হারিয়ে গেল আমার পাগলামিগুলা। সেই থেকে আর কোথাও ঘুরতে যাওয়া হই নি। আজ কত শত বছর পর যে ঘুরতে যাচ্ছি তার হিসাব নেই।
.
এইসব ভেবেই ভিতর থেকে এক দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে আসে। সাথে চোখে জল হয়ে বেড়িয়ে আসে কিছু না ভুলা স্মৃতিগুলা। কেউ দেখার আগেই তা মুছে নিলাম। পাশে তাকিয়ে দেখি ড. রিয়ান সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুঝে আছে। কানে ইয়ারফোন।
হুট করেই আমার জানার কৌতূহল জাগে তিনি এত মনোযোগ দিয়ে কি শুনছে!! তাই আমি আর আমার কৌতূহলকে বেশিক্ষন অপেক্ষা না করিয়ে তার কানের থেকে একটা ইয়ারফোন নিয়ে নিজের কানে গুজি। সাথে সাথে কানে ভেসে আসে
.
” Don’t you give up, nah-nah-nah
I won’t give up, nah-nah-nah
Let me love you
Let me love you”
.
আমি সাথে সাথে ইয়ারফোনটা খুলে ছিটকে দূরব স্বরে আসি। তখনই রিয়ান চোখ খুলে আমার দিকে তাকায়। আর ইয়ারফোন খুলে ফেলে। তখন আমি বলে উঠি।
.
— নাউজুবিল্লাহ আস্তাগফিরুল্লা!!!
.
— কি হইসে এমন করতাসো কেন?? ভ্রু কুচকিয়ে।
.
— এই আপনি এইসব লেং বেং কি শুনেন হ্যাঁ!! লজ্জা শরম বলতে কিছুই নাই আপনার?? কিসব বাজে গান শুনতাসেন। নাউজুবিল্লাহ!!
.
রিয়ান রিয়ানার কথা আগা মাথা কিছুই বুজতাসে না। কি বলতাসে ওই এইসব। পরে দেখে একটা ইয়ারফোন ওর দিকেই পড়ে আছে। রিয়ান কিছুটা আনতাজ করতে পেরে বলে।
.
— তুমি কি গানের কথা বলতাসো??
.
— হু। কিসব বাজে গান শুনেন আপনি!! লজ্জা করে না এমন বাজে গান শুনতে?
.
— এইখানে বাজে গান কই পাইলা?? অবাক হয়ে।
.
— কিসব বাজে কথা বলছিল গানে শুনেন নাই?? Let me love you বলতাসিলো। ছি ছি কিসব পঁচা কথা। আমার বলতেও লজ্জা করতাসে। হাত দিয়ে চোখ মুখ ঢেকে রেখে।
.
— তুমি কি বলতাসো তুমি জানোও?? এইটা জাস্টিন বিবারের মোস্ট পপুলার একটা গান। কোটি কোটি মানুষ এই গানটা পছন্দ করে আর তুমি কিনা কিসব বলছো। আড়চোখে তাকিয়ে।
.
আমি মুখের থেকে হাত সরিয়ে বলি।
— হু বুঝেছি।
.
— কি বুঝেছো?? সন্দেহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে।
.
— এইটাই যে সবাই আপনার মত লুচু বান্দর তাই এমম পঁচা পঁচা কথা বলা গান পছন্দ করেছে।
.
— কি আমি লুচু বান্দর?? অবাক হয়ে।
.
— হু!! লুচু নাম্বার ওয়ান।
.
— Are you out of your mind?? কি যাতা বলছো!! আমি লুচু কিভাবে হলাম??
.
— আপনি এই পঁচা গান এত মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন তাই আপনি লুচু।
.
— তাই নাকি!! তা লুচু উপাধি যখন দিয়েই দিয়েছ তাহলে তার মান রক্ষা করা উচিৎ। তাই না!! তহ কিছু লুচু গিরি দেখিয়েই দেই কি বলো?? আমার দিকে কিছুটা ঝুঁকে বাঁকা হেসে।
.
— ওই আপনি আমার সামনে আসেন কেন?? আমারে জানলা দিয়ে ফালাইয়া দিবেন বুঝি!! প্লিজ ফালাইয়েন না আপনারে আমি চকলেট দিমুনে।
.
আমার এমন বোকা টাইপ কথায় রিয়ান হেসে উঠে। আর আমি আবুলের মত তার হাসির দিকে তাকিয়ে থাকি। আজ প্রথম আমি তাকে হাসতে দেখলাম। তার হাসিটা বেশ লাগছে আমার কাছে। যেন হারিয়ে যাচ্ছি তার হাসিটাতে। তিনি হাসি বন্ধ করে বলে।
.
— ইউ আর জাস্ট ইম্পসিবল!! তোমার সাথে লুচু গিরি সম্ভবই না। তোমার সবকিছুতেই বাচ্চামো। বাচ্চা মেয়ে একটা। মুচকি হেসে।
.
— আপনাকে না হাসলে অনেক সুন্দর লাগে। বলেই মুখে হাত দিয়ে দিলাম। কেমনে জানি মুখ ফসকে বেড়িয়ে গেল।
আমার এই কথা শুনে সে আবারো মুচকি হেসে বলে।
.
— তাই বুঝি!!
.
আমি লজ্জায় শরমে কিছু বলতে পারলাম না। চোখ ঘুরিয়ে নিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইলাম। লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে আমার। ইশ কি লজ্জা আর লজ্জা!!
রিয়ানও আমার পরিস্থিতি বুঝতে পেরে আবার কানে ইয়ারফোন গুজে শুয়ে পড়ে।
.
??
.
প্রায় ঘন্টা খানিক আগেই রাতের খাবার সেরে ফেলা হয়েছে তাই এখন শরীরটা বার বার ঝিমুচ্ছে। তাই আমিও কিছুক্ষণ পরেই পাড়ি দেই ঘুমের রাজ্যে।
রিয়ানের প্রায় চোখটা লেগে গিয়েছিল ঠিক তখনই বাসটা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে আর তার বুকের উপর কিছু পড়তে সজাগ হয়ে উঠে সে। চোখ মেলে তাকাতেই দেখে রিয়ানার ঘাবটি মেরে শুয়ে আছে। এতে রিয়ানের মনের ভিতর এক ঝড় বইতে শুরু করলো। সব কেমন অগোছালো লাগতে লাগলো। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে রিয়ানাকে আলতো করে সরিয়ে দিতে নিল যাতে ওর ঘুম না ভাঙে।
কিন্তু রিয়ানা উষ্ণতা পেয়ে রিয়ানকে আরও শক্ত করে চেপে ধরে। এতে রিয়ানের মনে যেন প্রবল বেগে ঝড় বইতে শুরু করলো।
সে রিয়ানের দিকে তাকিয়ে থমকে গেল। চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে। কিছু চুল মুখের উপর এসে পড়েছে। এই আবছা অন্ধকারে চেহারা তেমন বুঝা যাচ্ছে না। কিন্তু রিয়ানের কাছে তাকে বেশ রূপবতী মনে হচ্ছে। রিয়ান আলতো হাতে চুল গুলো সরিয়ে দেয় তারপর নিজের সাথে রিয়ানাকে জরিয়ে নিতে গিয়েও থমকে যায়। কি যেন ভেবে সে হাত সরিয়ে নেয় আর রিয়ানাকে আলতো করে সরিয়ে সিটে ঠিক মত শুয়ে দেয় আর নিজের জেকেটটা ওর গায়ে জরিয়ে দেয়। রিয়ানাও জেকেটটি মুঠো করে আরামসে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ে।
রিয়ান কিছুক্ষণ রিয়ানার দিকে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নেয়। তারপর চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করে।
.
.
???
.
.
রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নের উকছুঁড়ি গ্রামে দাড়িয়ে আছি আমরা সবাই। গ্রামটি বেশ ভিতরে হওয়ায় এইখানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ভোর হয়ে যায়। চারপাশটা বেশ ছিমছাম। চারদিকে গাছ পালায় ঘেরা। এইখান একটু দূরেই নাকি একটি খোলা মাঠ আছে আমরা সেখানেই নিজেদের মেডিক্যাল ক্যাম্প বসাবো। বাস থেকে সকল জিনিস নামিয়ে সেই দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সকলেই সেই জিনিসগুলো গুছিয়ে নিচ্ছে।
আমিও তাদের সাথে কাজ করছি কিন্তু ড. রিয়ানের কাজ থেকে বেশ দুরত্বটা বঝিয়ে রেখে। সকালের কথাটা মাথায় আসতেই লজ্জায় কেন জানি মাথা কাটা যাচ্ছে।
সকালে যখন ঘুম থেকে উঠি তখন দেখি আমার গাঁয়ে তার জেকেট। আমি পাশে ফিরতেই দেখি রিয়ান উপর থেকে নিজের বেগ নামাচ্ছে। আমি চারপাশে চোখ বুলিয়ে দেখি আমরা এসে পড়েছি। সকলেই একেক করে নেমে চলেছে। আমি তাকে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সে গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠে।
.
— রাতে তুমি শীতে কাপছিলে আর বার বার আমার গায়ের কাছে এসে বসছিলে তাই তোমায় আমার জেকেটটা পড়িয়ে দেই। নাথিং এলস্।
[ রিয়ান ইচ্ছে করেই আসল ঘটনাটা এড়িয়ে যায়। তা না হলে দুইজনের মধ্যেই কেমন যেন এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়ে যেত আর তা স্বাভাবিক করা কাউরো পক্ষে সম্ভব হতো না।]
.
কেন জানি এইটা শুনার পর লজ্জা লাগছিল আমার। আমি আর কিছু না বলে মাথা দুলিয়ে তার হাতে জেকেটটা ধরিয়ে কোন মনে নিজের ব্যাগটা নামিয়ে নেমে আসি। আর সেই থেকে তার দিকে তাকাতেও লজ্জা লাগছিল তাই আমি তাকে এড়িয়ে চলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করি।
.
.
?
.
দুপুর ১ টা বাজে। দুপুরের খাবার খাওয়া আর একটু বিশ্রামের জন্য বিরতি দেওয়া হয়েছে। সকলেই খেয়ে এখন একটু বিশ্রাম নিচ্ছে। আমিও খেয়ে কিছুটা বিশ্রাম নেই। তারপর চারপাশটা দেখার জন্য জন্য একটু বের হই। কেন জানি গ্রামের দিকে যেতে ইচ্ছে করলো। তাই সেই দিকেই হাটা দিলাম।
গ্রামের ভিতরে আসতেই দেখি কয়েকটা বাচ্চা পোলাপাইন দৌড়ে একদিকে যাচ্ছে আর হৈ-হুল্লোড় করছে। আমার মনে কেন জানি কৌতূহল জাগে সেদিকে গিয়ে দেখার সেখানে কি হচ্ছে! তহ যেই ভাবা সেই কাজ। আমিও ছুটলাম তাদের পিছে। বেশ কিছুদূর আসতেই কানে একটা গান ভেসে আসে।
.
” Dekho Dekho Kya Woh Ped Hai, Chaadar Odhe Ya Khada Koi (2×)
Baarish Hai Ya Aasmaan Ne Chhod Diye Hai Nal Khule Kahin
Ho Hum Dekhe Yeh Jahaan Waise Hi Jaise Nazar Apani
Khulke Socho Aao, Pankh Jara Failaao
Rang Naye Bikhraao, Chalo Chalo Chalo Chalo Naye Khaab Bunle

Sa Pa Dha Re Ga Re Ga Ma Pa Sa
Bum Bum Bum, Bum Bum Bum Bole
Hey Bumchik Bole, Are Masti Mein Dole
[Bum Bum Bole, Masti Mein Dole
Bum Bum Bole, Masti Mein Tu Dol Re ](2×)
.
.
.
আমি সামনে অবাক হয়ে যাই। কেন না সামনে আর কেউ না বরং আবির। সে ছেলে মেয়েদের সাথে গান গাইছে আর খেলছে। ছেলে মেয়েরাও তার সাথে সমান তালে খেলেই চলেছে আর লাফালাফি করছে। বেশ ভালোই লাগছে এইসব দেখে।
আমি দেখতে দেখতে একদম সামনে এসে পড়লাম। গান ততক্ষণে শেষ গেছে। আবির এখন বাচ্চাদের মধ্যে চকলেট বিলিয়ে দিচ্ছি সে আমার দিকে উল্টো মুখ হয়ে থাকায় আমায় এতক্ষণ দেখে নি। আমি সামনে গিয়ে ওকে ডাক দেই।
.
— আবির!!
.
আবির পিছে ঘুরে আমাকে দেখে অবাক হয়ে যায়। সে আমার দিকে বিষ্ময়কর চোখে তাকিয়ে বলে।।
.
— আরেহ রিয়ু তুমি!! What a present surprise!!
[ বন্ধুত্বের আবির রিয়ানা কে রিয়ু বলেই ডাকে। ]
.
— হাম। তুমি এইখানে??
.
আবির সূর্যর হাতে চকলেট দিয়ে ইশার করে ওদের সকলকে দিয়ে দিতে। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলে।
— হুম। অনেক দিন ধরেই আসতে চাচ্ছিলাম কিন্তু ব্যস্ততার জন্য আশা হয়ে উঠে নি। এইবার ফ্রি হয়েছি তাই চলে আসলাম। তুমি তহ জানোই এইবার বন্যার জন্য দেশের কি অবস্থা!! বেশি করে এই গ্রাম্যঅঞ্চলের মানুষদের অবস্থা একদমই খারাপ। তাদের ফসল, গবাদিপশু সবই বন্যা ভেসে গেছে। এখন তাদের খাওয়ার জন্যও টাকা পয়সা নেই তাই আমি তাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে চেয়েছিলাম। তাই এইখানে আসা।
তাদের জন্য কিছু খাবার আর পোশাকের ব্যবস্থা করেছি। আমাকে এই কাজে আমার আরও অনেক ফ্রেন্ড সাহায্য করছে। তারা অন্য জেলায় গিয়েছে তাদের সাহায্য করতে।
.
— তুমি যে তাদের কথা ভেবে এইসব করছো তার জন্য আ’ম সিরিয়াসলি প্রাউড অফ ইউ। কয়েকজনেই বা করে এইসব!! তোমাকে নিজের বন্ধু হিসাবে পেয়ে সত্যি আমি অনেক লাকি।
.
— এতও তারিফ করো না রিয়ু। আকাশে উড়ে যাব যে!!
এই কথা শুনে দুইজনেই হেসে উঠি। তখন আবির আবার জিজ্ঞেস করে।
.
— তুমি এইখানে?
.
— মেডিক্যাল ক্যাম্পে এসেছি। তুমি যেমন এই গ্রামবাসীদের সাহায্যের জন্য আমরাও এসেছি তাদের সেবা করার জন্য।
.
— Ohh that is great. তা তোমাদের ক্যাম্প কোথায়?
.
— ওইদিকে। আর তুমি কোথা থাকছো?
.
— এই তহ পাশেই আমার এক বন্ধুর গেস্ট হাউস সেখানেই।
.
আরও কিছুক্ষণ কথা বলে বিদায় নিয়ে চলে আসি। এইদিকে যে অনেক কাজ রয়ে গেছে। এসে নিজের কাজে লেগে পড়ি। মাঝে একবার মি খারুস থুরি ড. রিয়ানকে খুঁজেছিলাম কিন্তু পেলাম না। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম যে সে গ্রামের ভিতরে গিয়েছে গ্রামে পরিস্থিতিটা দেখার জন্য। তাই আমিও আর কিছু না ভেবে কাজে লেগে পড়ি।
.
.
???
.
সব কিছু গুছিয়ে কাজ শেষ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। কাল থেকে সকল কিছু শুরু করা হবে। আজকের জন্য এইখানেই কাজ শেষ। তাই সকলেই তাবুতে গিয়ে রেস্ট নিচ্ছে। সকাল থেকে অনেক কাজ করায় সকলেরই শরীর ক্লান্ত তাই সকলেই একবারে খেয়ে শুয়ে পড়েছে। সাথে আমিও।
হুট করে ঘুমটা ভেঙে যায়। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি রাত ১০ টা বাজে। পাশে তাকিয়ে দেখি হিনা শুয়ে আছে। আসলে একটা তাবুতে দুইজন করে থাকতে দেওয়া হয়েছে। আর ভাগটা পড়ে হিনার সাথে।
আমার কেন জানি আর ঘুম আসছিল না তাই বেড়িয়ে পড়ি বাইরে একটু হাটাহাটির উদ্দেশ্যে। বের হয়েই আমি অবাক হয়ে যাই।
পুরো আকাশ জুড়ে তারার মেলা। পিটিপিটি আলোয় জলমল করে উঠেছে আকাশ। মাঝে এক বৃত্তাকার থালার মত চাঁদ। যার রশ্মি ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। আর তাতেই ফুটে উঠেছে এক রং তুলির গড়া মনোমুগ্ধকর এক জোৎস্না রাতের দৃশ্য।
আমি এর আগে কখনো এমন আকাশ দেখি নি। হয়তো শহরের সেই ব্যস্ততার ভিরে এই সুন্দরময় আকাশটা হারিয়ে গেছে। আমি মুগ্ধ হয়ে আকাশটাকে দেখেই চলেছি। একসময় তারা দেখতে দেখতে হাঁটা শুরু করি। সামনেই দেখি উঁচু টিলার মত একটা জায়গায়। আমি সেখানে গিয়ে উঠে বসি। আর দুই হাত পিছে ভর করে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। আর আনমনে গুনগুন করতে থাকি।
.
” আমার ভিনদেশি তারা
একা রাতেরই আকাশে
তুমি বাজালে একতারা
আমার চিলেকোঠার পাশে

ঠিক সন্ধ্যে নামার মুখে
তোমার নাম ধরে কেউ ডাকে
মুখ লুকিয়ে কার বুকে
তোমার গল্প বলো কাকে?

আমার রাত জাগা তারা
তোমার অন্য পাড়ায় বাড়ি
আমার ভয় পাওয়া চেহারা
আমি আদতে আনাড়ি।”
[বাকিটা নিজ দ্বায়িত্বে শুনে নিবেন]
.
গান শেষে যখন চুপ করে বসে থাকি তখন কাউরো আওয়াজে চমকে যাই হুট পিছে ঘুরতে নিলেই ভারসাম্য রাখতে না পেরে টিলা থেকে পড়ে যেতে নেই ঠিক তখনই কেউ আমার হাত টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসে। টানটা জোরে হওয়ায় আমি তার উপরে পড়ে যাই যার ফলে সে তাল সামলাতে না পেরে দুইজনই নিচে পড়ে যাই। দুইজনে গড়িয়ে পড়ি নিচে। সে নিচে পড়ে আর আমি তার উপরে। এতক্ষণ আমি ভয়ে চোখ খিঁচে বন্ধ করে ছিলাম। আমি পিটি পিটি করে চোখ খুলেই যাকে দেখতে পাই তাতে আমার চোখ ছানাবড়া। কেন না আমি যার উপর পড়েছি সে আর কেউ নয় বরং…


#চলবে