ওড়নার দোষ প্রথম অংশ

0
907

ওড়নার দোষ
প্রথম অংশ
লেখাঃ ইসরাত জাহান

ছোটবেলা থেকে রাজনীতিবিদের মাঝে থাকতে থাকতে নিজের মধ্যেও কেমন একটা রাজনীতি রাজনীতি গন্ধ ঢুকে গেছে আমার।সবকিছুতেই কেমন রাজনীতির গন্ধ লাগে। আর রাজনীতি গন্ধ থাকা মানে মনের মধ্যে একটা সন্দেহ সন্দেহ ভাব থাকা। এক কথায় সন্দেহবাতিক রোগ ধরে গেছে আমার।কে কখন কী রাজনীতি বুদ্ধি খাঁটিয়ে কী করে বসে তার ঠিক নেই।
তাই আমি সবসময় খুব সতর্কতার সহিত চলাফেরা করি।এইতো সেদিন একটা কফিশপে বসে আমি,আদনান,টুম্পা,নিলয় আর হাসান গল্প করছিলাম।আদনান সবার জন্য পাঁচটা কফি অর্ডার করল।দশ মিনিট পর কুটকুটে কালো দেখতে একটা ছেলে চারটা কফি নিয়ে এলো।আমি সবার কিনারাতে বসেছিলাম।ছেলেটা সবাইকে কফি দেওয়ার পর আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
“ও আরো একজনের কফি ছিল।স্যরি আমি ঠিক খেয়াল করিনি।আমি এখনি নিয়ে আসছি।”
কথাগুলো বলেই ছেলেটা দৌড়ে আরো এক কাপ কফি নিয়েলো।কফিটার দিকে পাঁচমিনিট তাকিয়ে থেকে আমি ওই ছেলেটাকে আবার ডেকে বললাম,
“চুমুক দাও কফিটা।”
“জ্বী ম্যাম…?”
“বাংলাতেই তো কথা বললে দেখলাম। আমিও তো বাংলাতেই বললাম।”
আদনান আমার পাশে বসেছিল।আমার হাতে কনুই দিয়ে ধাক্কা মেড়ে বলল,
“কী শুরু করেছিস?ও তোর কফিতে চুমুক দিবে কেন?”
আমি ক্ষিপ্তভাবে বললাম,
“ও সবার কফি আনলো অথচ আমাকে ওর খেয়াল হলোনা।আমি নিশ্চই ওরমত ব্ল্যাক ডায়মন্ড নই যে আমাকে দেখতে পাবেনা।”
ছেলেটা আতুকুতু ভাব নিয়ে তাকিয়ে বলল,
“ম্যাম আমি সত্যি আপনাকে ঠিক দেখতে পাইনি তখন।”
“বেশ করেছো এবার কফিটাতে একটু সুন্দর করে চুমুক দাও তো দেখি।”
টুম্পা আমার হাতে একটা চাপড় দিয়ে বলল,
“মেঘা একটু বেশি বেশি করছিস কিন্তু।”
এখানে এত কথা হতে দেখে শপের ম্যানেজার এগিয়ে এল।বলল,”কী হয়েছে কোনো সমস্যা?”
আমি তখন বললাম,
“সমস্যা হবে যদি আপনার এই কর্মচারী এই কফিটা চুমুক না দেয়।”
“মানে?”
“মানে এত বার বার এক্সপ্লেইন করতে পারবোনা।আগে ওকে এই কফিটা চুমুক দিতে বলেন।”
কর্মচারী ছেলেটা দুঃখীভাব করে তাকিয়ে আছে ম্যানেজারের দিকে।এদিকে আমার বন্ধুরাও জানে আমি কতটা জেদী।কফি ওকে না খাইয়ে আমি যে এখান থেকে যাবোনা সেটা ওর খুব ভালোভাবেই জানে।তাই নিলয় অনুরোধের সুরে কর্মচারী ছেলেটাকে বলল,
“ভাই তুমি ফ্রিতে এক কাপ কফি খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছো।আমার এই বন্ধুটি এতটায় উদার যে ও যেখানে যা খেতে বসে প্রথমে ও ওই খাবার বহনকারীকে আগে খেতে দেয় তারপর নিজে খায়।তাই তোমাকেও ও খেতে বলছে।তুমি খাও এবং আমার বন্ধুটিকে খাওয়ার সুযোগ করে দাও।”
সবাই তো নিলয়ের কথা শুনে একদম হা হয়ে গেল।আমি ধমকের সুরে বলে উঠলাম,
“কখনোই আমি ওর এঁটো কফি খাবোনা।এই কালামানিক তুমি কফিটা খাবে নাকি আমি পুলিশকে ফোন করবো?”
পুলিশের কথা শুনে ঢক ঢক করে গরম কফিটা নিঃশ্বেস করে দিল কালামানিক। তারপর আমি নিশ্চিন্ত হলাম ওকে সুস্থ থাকতে দেখে।কিন্তু ততক্ষণে আমার কফি খাওয়ার ইচ্ছাটা মরে গেল।আমার এই সন্দেহবাতিক অভ্যাসটা শুধু আমার মাঝে নয় আমার প্রতিটা সদস্যদের মাঝে অবস্থিত।এমনকি আমার বাসার কাজের মহিলা আফিয়া খালার মাঝেও সচারচার এই অভ্যাসটা দেখা যায়।আমার দাদীবু থেকে শুরু করে আমার মা,চাচি,আমার ভাই,আমার চাচির ছেলে অর্থ্যাৎ আমার চাচাতো ভাই আর আমার বাবার কথা তো বলবোইনা।পরিবারের মধ্যে মাত্র একজন ব্যক্তি ছাড়া এমন কেউ নেই যার মধ্যে সন্দেহবাতিক রোগটা নেই শুধুমাত্র রাজনীতিবিদ মানুষগুলোর সাথে ওঠাবসা করার জন্য।অবশ্য মন্ত্রী মিনিস্টারের ঘরে জন্ম নেওয়ার জন্য এই ব্যাপারটা আমার কাছে একদম স্বাভাবিক বলেই মনে হয়।কিন্তু সন্দেহবাতিক রোগটা নিয়ে আসল সমস্যা শুরু হলো আজ সন্ধ্যার সময়।টিউশন শেষ করে শাহাবাগ হয়ে আমার বন্ধুদের সঙ্গে হেঁটে হেঁটেই বাসায় ফিরছিলাম।শীতকাল আসলেই রাস্তার পাশে ভাঁপা পিঠা চিতই পিঠা বিক্রি হয়।বাসায় তো আর পিঠা তৈরি হয়না তাই রাস্তা থেকে খেয়েই স্বাধ মিটাই।আজকে এক বুড়িকে দেখলাম রাস্তার পাশে বসে ধনেপাতা বাঁটার সঙ্গে চিতই পিঠা বিক্রি করছে।টুম্পাকে বলে ফেললাম,
“আজকে এই বুড়ির পিঠাই খাবো।রোজ রোজ একজনের কাছ থেকে খেলে পরেরদিন যদি খাবারে কিছু মিশিয়ে দেয়?তাই আজ ওনার কাছ থেকে খাবো।তুই কী খাবি?”
“এই পিঠাটা সত্যি আমার খুব পছন্দ।
তাই আর না বলা সম্ভব নয়, চল।”
দুজনে নিচে প্রায় বসে পরেই খেতে শুরু করলাম।নিলয়,হাসান আর আদনান পাশে দাঁড়িয়ে বাদাম খাচ্ছিল।খাওয়া শেষ করে উঠে দাঁড়াব যখন তখন একটা বাইক আমার ওড়নার ওপর দিয়ে তার বাইক চালিয়ে চলে গেল।আর আমি তখন গলায় টান লেগে ঝোঁক সামলাতে না পেরে প্রায় চিত হয়ে রাস্তায় পরে গেলাম। টুম্পা তো আমাকে দ্রুত টেনে তুলল।কিন্তু
ওদিকে আমার বন্ধুরা সহ পাবলিকরা বাইকটাকে আটকে ধরল।আমি তো ভেবেই ফেলেছি ব্যাটার গলায় আজ মার্ডার কেস ঝুলিয়েই দিব।সবাই বাইকারকে অলমোস্ট বকাঝকা শুরু করে দিয়েছে।আমি গলাটা ঘষতে ঘষতে ভীড়ের মধ্যে ঢুকে গেলাম। লোকটা তখন বলছে,
“আরে ভাই আমি তো আর নিচে তাকিয়ে বাইক চালাবোনা তাইনা?উনি যদি রাস্তার মাঝখানে ওড়না ছড়িয়ে বসে থাকে তাহলে সেটা আমি দেখবো কী করে?দোষটা তো ওনারই।”
আমি তখন এগিয়ে গিয়ে গলা খাঁকাড়ি দিয়ে বললাম,
“আমার দোষ?আমি কী আমার ওড়নার ওপর দিয়ে আপনাকে বাইক চালিয়ে যেতে বলেছি?আর আমি রাস্তার মাঝখানে বসেছিলাম আপনাকে কে বলল?আপনি ইচ্ছে করে আমার ওড়নার ওপর দিয়ে বাইক চালিয়ে গেছেন।আপনি ফুললি প্ল্যানিং করে আমাকে মার্ডার করতে চেয়েছিলেন।আবার আমাকেই দোষ দিয়ে কথা বলছেন।”
এবার লোকটা হেলমেটটা একদম মাথা খুলে ফেলে চোখ রাঙিয়ে আমাকে বলতে শুরু করল,
“এই মেয়ে তো দেখছি আচ্ছা পাগল।আপনি আমার কোন কালের এত বড় শত্রু যে আপনাকে আমি প্ল্যানিং করে মার্ডার করতে চাইব?দোষ তো আপনারই। আপনি এই সন্ধ্যেবেলায় ওড়না ছড়িয়ে রাস্তার পাশে বসে থাকবেন।আর রাস্তার গাড়িগুলো আপনার ওড়নার ওপর দিয়ে লাফিয়ে পার হবে বুঝি?দোষ অবশ্যই আপনার এবং আপনার ওড়নার।”
লোকটার কথা শুনে মনে হয়নি যে এই মানুষটার চেহারা এতটা চমৎকার হতে পারে।সব থেকে সুন্দর ছিল তার সিল্কি সিল্কি ঝাঁকড়া চুলগুলো।চুলগুলোর থেকে আমার নজর চলে গেল তার ফোলা ফোলা গালগুলোর দিকে।টকটকে ফর্সা গালগুলো জোড়ে জোড়ে কথা বলার সময় কেমন কেঁপে কেঁপে উঠছে।আর হৃত্বিকের মত ঘোলাচোখ দুটোর দিকে আমার এতক্ষণে নজর পরল।নাহ্ এই মানুষটার গলায় মার্ডার কেস না আমিই ঝুলে যাব মনে হচ্ছিল।হঠাৎ করে পাশ থেকেই একটা চিকন মেয়েলী কন্ঠ আমাকে ধমকে বলল,
“এই মেয়ে শোনো ভুলটা তোমার। রাস্তার পাশে বসলে যে ওড়না,আঁচল এসব গুটিয়ে বসতে হয় সেটা তোমার জানা উচিত ছিল।আর আপনারা পাবলিকরা সবসময় একরোঁখা হয়ে মেয়েদের সাপোর্ট নিয়ে কথা বলেন কেন? আগে দুপক্ষের কথা শুনে তারপর বিচার করতে আসবেন।আর এত বার বার পুলিশের ভয় দেখাচ্ছেন আমাদের।এখন যদি বলি একজন ডিবি অফিসারের সঙ্গেই আপনারা এমন রুড বিহেভ করছেন তাও আবার একদম অকারণে তাহলে এখন আপনাদের অবস্থা কী হতে পারে বুঝতে পারছেন?”
মেয়েটার কথা শুনে সবাই যে যার কাজে চলে গেল।এমনকি আমার বন্ধুরাও আমাকে বলল,
“দোস্ত আসলে দোষটা তোরই।”
আমি ওদের দিকে চোখ গরম করে তাকালে টুম্পা বলল,
“তোর না ঠিক তোর ওড়নার দোষ।আসলে তুই তো ওড়নাটা ছড়িয়েই পিঠা খেতে বসেছিলি। অসাবধানতার জন্য এমনটা হয়েছে।”
আমি আর কোনো কথা বললাম না। আমার বন্ধুগুলো উল্টে ওদের স্যরি বলে আমাকে টেনে নিয়ে চলে এল।মনটা একটু নরম করেছিলাম ওই ডিবিটাকে দেখে। কিন্তু পেছন সিটে ওই নেকিবাঁদর মেয়েটাকে দেখে আগুনটা আবার ধপ করে জ্বলে উঠল।বাসায় আসার পর থেকে মাথায় আইসব্যাগ ধরে দাঁড়িয়ে আছি। আমার না দাদীবুর মাথায় ধরে দাঁড়িয়ে আছি।এই ঘটনা শোনার পর থেকে সে একশো তে দু’শো ভাগ নিশ্চিত যে এটা প্ল্যানিং করে মার্ডারের চেষ্টা করা হয়েছে। এমনভাবে দাদীবু খাদ্যমন্ত্রী মানে আমার বাবাকে ফোন করে ডেকেছে যে বেচারা পুলিশের গাড়ির মত হুইসেল বাজিয়ে দৌঁড়ে দৌঁড়ে আসছে।চাচ্চুকেও সে একইভাবে ফোন করে আসতে বলেছে।রাত বারোটা অবদি মিটিং ফিটিং করে ওই ডিবি অফিসারের এ্যাড্রেস জোগাড় করতে বলল চাচ্চুকে। চাচ্চু আমায় জিজ্ঞেস করল,
“বাইকের নাম্বারটা বল তো মেঘা।”
“বাইকের নাম্বার কী আমি মুখস্ত রেখেছি?”
“কী আশ্চর্য!তুই এ বাড়ির মেয়ে হয়ে এটুকু বুদ্ধি আজ পর্যন্ত শিখলিনা।ব্যাস তাহলে আর কী।চেহারার বিবরণ দিয়ে দিয়ে আমি এখন প্রতিটা ডিবি অফিসারকে দেখে বেড়াই।”
দাদীবু বলে উঠল,
“হ্যাঁ তাই কর।কোনোভাবেই ওই ছোকড়াকে ছাড়া যাবেনা।হ্যাঁ রে মেঘা ওই ছোকড়ার বয়স কত হতে পারে আনুমানিক?”
“আমার অনুমান এত ভালোনা দাদীবু।”
“আরে বল তো তুই।”
“২৮-৩০ এর ভেতর হবে হয়তো।”
“রুবেল তাহলে তুই এই বয়সের ভেতর খোঁজা শুরু কর।”
চাচ্চু শুধু মাথা ঝাকাল।আমি বললাম,
” একটু তাড়াতাড়ি খুঁজো কেমন?আর খুঁজে আগে আমার কাছে আনবে।”
“তোর কাছে আনব কেন?”
আমি একটু আমতা আমতা করে বললাম,
“স্যরি বলতে বলব তাকে।”
কথা শেষ করে ওপরে আমার ঘরে চলে এলাম।ইশ সবকিছুই তো ঠিক ছিল। পেছনের সিটের ওই বাঁদর মেয়েটায় তো সব ক্যাঁচাল করে দিল।এমন সময় এই সুঘটনাটা ঘটতে হলো?এপ্রিলেই পরীক্ষা। মাথার ভেতর ভোঁ ভোঁ করে শুধু ওই ছোকড়াটার কথাই ঘুরছে।আবার এটাও মনে হচ্ছে যে হয়তো সত্যি সত্যি ছোকড়াটা আমাকে দেখে ইচ্ছা করে অমনটা করেছে।এমন করেই প্রায় পনের দিন পার হয়ে গেল।ডিবি অফিসারটাকে আর খুঁজে পাওয়া গেলনা।এমন চেহারার কোনো ডিবি অফিসারই নেই আমাদের দেশে।কথাটা শুনে মনটা শুকিয়ে একদম আমচুর হয়ে গেল।আর পড়ালেখা তো একদম আঁটি বেঁধে মাচায় উঠিয়ে রেখেছি। এরপর যে কতবার ওই রাস্তাটায় গিয়ে দাঁড়িয়েছি কিন্তু ওই ডিবি অফিসারের দেখা আর মিললোনা।ওই দিনের পর থেকে অবশ্য আমাকে আর গাড়ি ছাড়া বেরোতে দেওয়া হয়না।আমার এই মনমরা ভাবটা চোখে পড়ল একমাত্র আমার সন্দেহবিহীন চাচ্চুর চোখে।চাচ্চুর সাথে আমার সম্পর্কটা একদম মামা ভাগ্নের মত।চাচ্চু এখনো মেয়েদের কাছ থেকে প্রপোজাল পায় সেইসব গল্প চাচ্চু আমার কাছে বলে। বইটার ওপর মাথা রেখে শুয়ে আছি তখন চাচ্চু রুমে ঢুকে আমার মাথায় একটা গাট্টা মেড়ে বলল,
“এবার কী নিউ এক্সপেরিয়েন্স অর্জন করার শখ হয়েছে নাকি?”
“কিসের নিউ এক্সপেরিয়েন্স?”
“ফেইল করার এক্সপেরিয়েন্স।ফেইল করলে চীনে যাওয়ার শখ কিন্তু একদম ঘুচে যাবে।”
আমি কোনো কথা বললাম না।বইয়ের দিকে মুখ কালো করে তাকিয়ে আছি। আপেলে কামড় দিতে দিতে চাচ্চু জিজ্ঞেস করল,
“প্রেম হয়েছিল কবে?”
আমি অবাক চোখে তাকিয়ে বললাম,
“কিসের প্রেম?”
“নাটকটা কম কর।প্রেমটা হলো কবে আর ব্রেকআপই বা কবে হলো?”
“প্রেম আর হওয়ার সুযোগ পেল কই?”
চাচ্চু পাশে বসে বলল,”মুখটা রামছানার মত করে কথা বলিসনা তো।বাজে দেখাই খুব।তো সুযোগ পেলনা কীভাবে শুনি?”
“তোমরাই তো আর খুঁজে বের করতে পারলেনা।”
“জাস্ট অ্যা সেকেন্ড।অবশ্যই তুই ওই ডিবি পুলিশের কথা বলছিস না?”
“ধ্যাত।তোমার মধ্যে সন্দেহ রোগটা নেই বলেই তুমি ধরতে পারলেনা।”
“মেঘা যেহেতু প্রেমে পরেছে তার মানে নিশ্চই ওই ডিবিটা যেমন তেমন দেখতে নয়?”
“তুমি আমার মুখে তার চেহারার বিবরণ শুনেও বুঝোনি?”
“ফর্সা,চোখ ঘোলা,সিল্কি চুল,ফোলা গাল,স্বাস্থ্য মিডিয়াম।এগুলো শুনে কখনো কোনো মানুষের চেহারা বোঝা সম্ভব। আরে এমন তো তোর আফরান নিশোও।”
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে চাচ্চু বলল,
“তোর চাচিকে বিয়ে করেছিলাম তোর পছন্দতেই।কারণ আমি সবসময় দেখেছি তুই পৃথিবীর সবথেকে অনন্য আর সুন্দর জিনিসটাই সবসময় পছন্দ করিস।যেই জিনিসগুলোতে কখনো কোনো খাঁদ থাকেনা।তারমানে আমি এটা ধরে নিচ্ছি না যে ওই ছেলেটাও খাঁটি সোনা।তুই শুৃধু তার চেহারা দেখে তার প্রতি আকর্ষিত হয়েছিস।তার সাথে মিশে নয়।”
“চাচির কোলে বসে তার সাথে একটু কথা বলে আমি তোমাকে বলেছিলাম আমার এই চাচিটাকেই লাগবে।ঠিক তার পরের দিনই তুমি চাচিকে বিয়ে করে বাড়ি নিয়েসেছিলে।তার আগে তুমি তোমার অন্যসব গার্লফ্রেন্ডদের কাছেও আমাকে নিয়ে গেছিলে।”
“হুম এর জন্যই তো এখন আমারো ওই ছেলেটাকেই খুঁজতে হবে।তবে এবার খুঁজতে হবে একদম মন থেকে।তবে এটুকু বলতে পারি যে তোমার ডিবি অফিসারটা মোটেও কোনো ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যুক্ত নয়।”
“মানে তুমি বলতে চাইছো যে ও ডিবি নয়?”
“না।এরজন্যই এখন তাকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল।”
“কেন খুঁজবে?ও তো তাহলে মিথ্যে বলেছিল।”
“মিথ্যা কী ও বলেছিল নাকি ওর পেছনের সিটের মেয়েটা?”
“কিন্তু ও তো আর বলেনি যে ডিবি নয়?”
“পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই তো মিথ্যাকে সাপোর্ট করেছিল।আমি তো ভাবছি এই ঢাকার মধ্যে তাকে না পেলে আর তো তাকে খুঁজে পাওয়াও সম্ভব না।”
কথাটা শুনে মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল।বইয়ের ওপর কাঁত করে মাথা দিয়ে শুতেই চাচ্চু আবার মাথায় গাট্টা মেড়ে বলল,
“পড়াতে আগে প্রেমটা লাগা।তার মধ্যে ভাগ্যে থাকলে আসল প্রেমের মানুষটাও চলে আসবে।”
কী আর করার।আপাতত মাথা থেকে তাকে ঝেড়ে ফেলে ম্যাথ নিয়ে বসলাম। পরেরদিন সকালে ঘুম ভাঙলো বাবা আর দাদীবুর চেঁচামেচিতে।চেঁচামেচির কারণ জানতে পারলাম আমার ভাই মিশুর থেকে।ফুপি দেশে ফিরেছে।এখানে একটা হোটেলে এসে উঠেছে।এ বাড়িতে এসে সে কিছুদিন থাকতে চাইছে।কিন্তু বাবা আর দাদীবু তাতে নারাজ।আমার যখন দু’ বছর বয়স তখন নাকি ফুপি আমার ফুপামশায়ের হাত ধরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল।তার কিছুদিন পরই নাকি ওনার স্বামীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া চলে যায়।আর তার কয়েকবছর পর কার এক্সিডেন্টে ফুপির স্বামী আর তার ভাই ভাবীও মারা যান।সেই থেকেই ফুপি অস্ট্রেলিয়াতে থেকে যায়।এ বাড়িতে ফুপি শুধু চাচ্চুর সঙ্গে যোগাযোগ করে।চাচ্চু ফুপিকে অনেকবার আসতে বলত দেশে কিন্তু ফুপি আসতোনা।এবার নাকি এসেছে তার ছেলে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য।এ বাড়িতেই আসতে চেয়েছিল প্রথম দিনেই।কিন্তু দাদীবু নিষেধ করে দিয়েছিল। আজ আবারো নাকি চাচ্চু বলেছে ফুপির আসার কথা।কিন্তু এবার বাবাও ব্যাগড়া দিচ্ছে।ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে টাওয়াল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে ড্রেসিংটেবিলের সামনে দাঁড়াব তখন চাচ্চু হনহনিয়ে আমার ঘরে ঢুকল।রাগীভাব নিয়ে বলল,
“এই মেঘা রেডি হয়ে নে তো।”
“কেন?”
“অতো প্রশ্ন করিসনা।পাঁচমিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে নিচে আয়।কোনো সাজগোজ করবিনা।”
আমি শধু মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলাম। গোল্ডেন কালারের একটা সেলোয়ার স্যুট পরে নিচে নামলাম।চাচ্চু আমাকে দেখে কোনো কথা না বলে আমার হাত ধরে সোজা বাইরে বেরিয়ে এল।গাড়িতে উঠে জিজ্ঞেস করলাম,
“আমরা কই যাচ্ছি চাচ্চু?”
“বসুন্ধরাতে।”
“হঠাৎ..?”
“এত প্রশ্ন করিস ক্যান?গেলেই দেখতে পাবি।”
বসুন্ধরাতে যাওয়া পর্যন্ত আমি গাড়িতে একদম চুপটি করে বসে থাকলাম।
বসুন্ধরার সামনে আসতেই চাচ্চু আমাকে বলল,
“তুই গাড়িতে বস আমি আসছি।”
কিছুই বুঝতে পারছিনা কী হচ্ছে।চাচ্চু বসুন্ধরার ভেতর ঢুকে গেল।পনেরো মিনিট পর ফোন দিয়ে বলল,”ফিফ্থ ফ্লোরে চলে আয় তো।”
“মানে কী?তুমি আমাকে রেখে ফিফ্থ ফ্লোরে চলে গেলে কেন?”
আসতে বললাম আয়।”
বলেই ফোনটা কেটে দিল চাচ্চু।আমি একরাশ বিরক্ত নিয়ে লিফ্টে ঢুকলাম। লিফ্টের মুখে দাঁড়িয়েই যাকে দেখলাম আমার হৃদপিন্ডতে অলরেডি হাতুড়ি পেটাপিটি শুরু হয়ে গেছে।মুখ দিয়ে শব্দ বের হওয়ার আগেই গলায় ওড়নার টান পরল,
চলবে,,