কতোবার বোঝাবো বল পর্ব-২+৩

0
2511

#কতোবার_বোঝাবো_বল🌿
#ইফা_আমহ্নদ
পর্ব:০২

একপায়ে কানে ধরে শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে আছি,, আর ঐ আবিরের পুরো গোষ্ঠী কে বোকে উদ্ধার করছি।।এক ঘন্টার মধ্যে ৫০ মিনিট হয়ে গেছে,,,আর মাএ ১০ মিনিট বাকি আছে।।আমি করুন দৃষ্টিতে আমার ফ্রেন্ড দের দিকে তাকিয়ে আছি,, ওরা দাঁত কেলিয়ে হাসছে,,যা দেখে আমার মেজাজ গরম হয়ে যাচ্ছে।।
( আমি , জয় , আহাদ, তাসফি , ঋতু ।। ছোটো থেকেই বেষ্ট ফ্রেন্ড।। আমাদের জীবন একসাথে শুরু হয়েছে।। আমরা এক সাথে ,, এক স্কুলে পড়াশোনা করেছি।। তাই একই ভার্সিটিতে এডমিশন নিয়েছি।।)

আর করুন অবস্থার মাঝে আবির আর তার ফ্রেন্ডদের আগমন ।। আমি বুঝে গেছি,, এতোক্ষণে আবির তার ফ্রেন্ডদের আমার ব্যাপারে সব বলে দিয়েছি,, তাই এখন আমাকে এই অবস্থা এরা নিশ্চয়ই বিদ্যুপ করতে এসেছে।।কি কষ্ট তাই না ।।
( আবির আদ্রিয়ান এবার অনার্স ফাইনাল ইয়ার ।। এখানে সবার ক্রাশ বয় + রাজনীতি বিদ ।। তারা ৫ ফ্রেন্ড সব সময় একসাথে থাকে ।। আবির , মেঘ , আয়ান , সাজিল ,, আর মেয়েদের মধ্যে হাফ লেডিস হিসেবে তনু ।। )

— আরে খুকুমণি ,, তুমি নাকি আবিরকে ভালোবাসো ।। তাহলে চলো না তোমাদের বিয়ে করিয়ে দেই??( প্রিন্ট করে মেঘ)

— আরে এরে তুই খুকুমণি কেন বলছিস ,, ভাবি বলে না ,, হা হা হা!!( আয়ান )

— না খুকুমণি না ,,ঝাঝ লবঙ্গ ,, ( তনু)

— তোরা চুপ করতো ,, এই মেয়ে তোমার নাম কি হে ….?? ( আবির)

— হানি !!!( অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে আমি)

— কি মধুর মা নাকি ,, দোস্ত জানোস আমার না জীবনে একটাই শক”” বলোনা তুমি আমার “” ফ্লিমটা দেখে আমারও কাউকে মধুর মা বলে ডাকতে ইচ্ছে জেগেছিল।। দেখ গড আমার ইচ্ছা পূরণ করে দিয়েছে ।।( দাঁত কেলিয়ে মেঘ)

চারদিকে তাকিয়ে দেখি আমার জানের দোস্ত গুলো সব দূরে দৃরে দাঁড়িয়ে আছে।। এখন আমার একটু ওদের প্রয়োজন আর ওরা আমাকে একা ফেলে পালিয়েছে।।
যার কারনে আমার একটু ভয় ভয় করছে।। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি,, সব এখনো সেখানেই থমকে গেছে।। আজ এই ঘরিটাও আমার শত্রু হয়ে গেলো ।।তাই একটু চোখ বন্ধ করে সাহস সঞ্চয় করে বললাম….

— দেখুন আমার নাম না মধু না মধুরিমা ।। না এখানে কোনো ফ্লিম চলছে ।। তাই এইসব আজেবাজে কথা বলা অফ করুন।। ( ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আমি)

— ওকে বাদ দিলাম,, আগে বলো তোমাকে নাম কেন হানি রেখেছে ।। জন্মের পর হানি দিতে ভুলে গেছি তিত করলা দিয়েছিলো নাকি ?? ( ৩২ পাটি বের করে আবির)

— সেম ডিয়ার আমারো তাই মনে হচ্ছে।।( তনি)

টিক টিক শব্দে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি,, পুরো এক ঘন্টা কম্পিলিট ।। তাই পা নামিয়ে কান ছেরে দিয়ে জয়ের কাছে গিয়ে ব্যাগটা নিয়ে স্কুটি নিয়ে সোজা বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে এলাম।।

লাইফে প্রথম বার আমার নাম নিয়ে এতো কিছু বলছে সবাই ।। শুধু নতুন তা সব কিছু চুপ করে শুনেছি ,,নাহলে ঐখানে কি করতাম নিজের ও জানি না।।
বাড়িতে এসে একটার পর একটা জিনিস ভাঙ্গছি।। কিছুতেই রাগ কমছে না ।। কিছু ভাঙ্গার শব্দে সবাই এসে আমার রুমে হাজির হয়।।

— কি রে হানি ,, কি হয়েছে তোর ,, ভাঙ্গছিস কেন?? ( হানির হাত থেকে ফুলদানি টা নিয়ে রাইসা)

( রাইসা তমোনা — আমার মা।। )

— আরে ঠান্ডা হ ,, তার পর বল কি হয়েছে ,, আমার সোনা মা তুই ,, এমন করে না ।।( হানির মাথায় হাত দিয়ে তানজিম)

( তানজিম আহমেদ আমার বাবা )

— এই দেখ তোর জন্য কতো গুলো চকলেট এনেছি,, তুই যদি এমন রেগে যাস তাহলে কিন্তু একটাও দেবো না ।। বুঝলি ??! ( পকেট থেকে কিছু চকলেট বের করে হিয়ান)

( হিয়ান আমার বড় ভাই,, আর হিয়া আমার ও আমার বড় বোন।। পাপা মাম্মাম একসাথে মিলিয়ে এদের নাম রেখেছে ।। যাতে এদের মধ্যে মিল থাকে ।। কিন্তু এখন আমি এসে গেছি তাই এদের ভেতরে আমার চেয়ে বেশি মিল নেই ।। কথায় আছে না পরিবারের ছোটো মেয়েরা আদুরে আদুরে বাদর হয় ।। আমার ঠিক তেমনি অবস্থা। আমার জন্য সবাই সব কিছু করতে পারে।। )

— আমি বুঝতে পারছি,, তোর কি হয়েছে ।। দেখ মাএ ২ দিন হয়েছে তুই ভার্সিটিতে গিয়েছিস।। প্রথম প্রথম এমন একটু হয় পড়ে সব ঠিক হয়ে যাবে।। এখন বুঝলাম তুই কালকে এতো কি চিন্তা করছিস ।।( হিয়া )

আপি সবাইকে রুম থেকে চলে যেতে বললো ।। সবাই চলেও গেল।। তারপর আমার পাশের বসে জানতে চাইলো কি হয়েছে ।। আমি কালকে থেকে সব আপিকে বললাম ।। আপি আমার কথা শুনে হা আছে ।। হয়তো ভাবতেই পারে নি,, প্রথম দিন ভার্সিটিতে গিয়েই এমন কিছু একটা করে বলবো ।।
আপি আমাকে ভালো ভাবে বুঝিয়ে গেছে যাতে আমি ঐ আবিরকে সরি বলি ।। ঐ আবির নাকি আপির ২ ক্লাস জুনিয়র।। আপিকে একদিন নাকি রাস্তায় বাজে ছেলেদের পাল্লায় পড়েছিলো ।। সেদিন নাকি ঐ আবির তাকে বাঁচিয়েছিল।। তাই এখন নাকি আমাকে সরি বলতে হবে ।। নাহলে আপি আমার সাথে কথা বলবে না।।
লাইফে কখনো কারো সরি তো দূরের কথা ,, মাথা নত ও করি নি ।। আর সেই আমাকেই কাউকে সরি বলতে হবে ।। আর কোনো চিন্তা না করে সোজা ঘুমিয়ে পড়লাম।।

🌿🌿

চারদিকে রোদের ছড়াছড়ি।। পুরো রুমে রোদে ছেয়ে গেছে।। সূর্যের আলো চোখে পড়তেই ঘুমটা উধাও হয়ে গেছে।। তাড়াতাড়ি ওঠে ফ্রেশ হয়ে আগে ব্রেক ফাস্ট করে নিলাম।। তারপর রুমে এসে বাচ্চাদের মতো সেজে নিলাম ।। চুলগুলো দুই পাশে নিয়ে দুটো‌ বাচ্চাদের মতো বেনি করে নিলাম।। তারপর সামনে থাকা ছোছো ছোটো চুলগুলো এনে দিলাম।। তারপর বাচ্চাদের মতো একটা ড্রেস পড়ে বেরিয়ে এলাম।।আজকে লিপস্টিক দিলাম এমন ভাবে যেটা ঠোঁটের অনেকটা বাহিরে চলে গেছে ।। আজকে ভাইয়া ড্রাভ করে দিলো তাই আর বাইক নিয়ে এলাম না।।
গাড়ি থেকে নেমে ভাইয়াকে বিদায় দিয়ে সোজা ভার্সিটির ভেতরে প্রবেশ করে চারদিকে আবিকে খুঁজতে লাগলাম।। জানি সবাই একটু অদ্ভুত ভাবে আমাকে দেখছে ।। কিন্তু তাতে আমার কি ।।শুনেছি বাচ্চাদের ওপর কেউ রেগে থাকতে পারে না ।। তাই তো এমন অদ্ভুত সাজ ।।এর মধ্যে আমার ফ্রেন্ডেদের সাথে দেখা হয়েছে,, ওরা আমার সাথে কথা বলতে এসেছিলো,, আমি দেখেও না দেখার ভান করে চলে এসেছি।।
অনেকক্ষন পরে একটা গাছের নিচে আবির আর তার ফ্রেন্ডদের দেখতে পেলাম ।। হাতে কিছু এসাইনমেন্ট আছে দূর থেকে দেখে বোঝা যাচ্ছে।। আমি সোজা তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।। ওরা আমাকে এভাবে দেখে হয়ত ভুত দেখার মত চমকে উঠেছেন । কিন্তু সেদিকে তোয়াক্বা না করে একটা টেডি স্মাইল দিয়ে ইনোসেন্স ফেইস করে ,, ছলছল চোখে ওদের সরি বললাম ।।
কিন্তু কেউ কোনো রিশেকশন করছে না।।তাই আমি আবার জোরে বললাম…..

— সরি ,, তো ।। দেখুন প্রথম দিন এসে আমার ওমন করা একদম ঠিক হয়নি ।। পিলিস কিছু মনে করবেন না ।।( করুন সুরে আমি)

— সরি এক্সেপ্ট করতে পারি একটা শর্তে !!( ভাব নিয়ে আবির)

— ককি শর্ত ?? ( আমি)

— এই যে এসাইনমেন্ট গুলো দেখতে পাচ্ছো ,, এগুলো সব তোমাকে করতে হবে।।( আবির)

— দদেখুন,, আমি কখনো এসাইনমেন্ট করি নি ,,, তার উপর এতো গুলো আমি কিভাবে করবো।।।

— আমি জানি না ,, তুমি কিভাবে কবে !!নাহলে সরি এক্সেপ্ট করবো না।।(আবির)

— আপনার এক্সেপ্ট আপনার কাছে রাখেন,,আর আমার সরি আমার কাছে থাক।।

— ভালো ভাবে বলছিলাম যখন শুনলে না ,, তো আমার কিছু করার নেই ,, এইটা দেখো ।। ( একটা ভিডিও অন করে আমার হাতে তার ফোনটা এগিয়ে দিলেন ।।)

আমি ফোনটা হাতে নিয়ে ভিডিও টা দেখতে লাগলাম।। আমি তো পুরাই অবাক ।। ছলছল চোখে তার দিকে তাকিয়ে বললাম…..

— এই ভিডিও টা আপনি কখন করলেন??

— সেটা যেনে তুমি কি করবে ,, আগে বলো এসাইনমেন্ট গুলো কম্পিলিট করবে কি না।। ( আবির)

— যদি না করি ,, ( ভেংচি কেটে অন্যদিকে তাকিয়ে আমি)

— বেশি কিছু না ,, এইটা ফেইসবুকে আপলোড করে দিবো ,, ভেবে দেখো ,, এখন কি করবে ।।‌ যদি তুমি নাও করো,, তাহলে আমার সমস্যা নেই আমার পোস্ট এ কতো রিয়েক্ট উঠবে ,, ভেবে দেখো ।।( আবির)

এটা আরো কোনো কিছু না ,, এটা হচ্ছে সেই ভিডিও ,,যেটা ……..

চলবে ….💞💞

#কতোবার_বোঝাবো_বল 🌿
#ইফা_আমহ্নদ
পর্ব::০৩

— বেশি কিছু না,,এই ভিডিও টা ফেইসবুকে আপলোড করবো,,ভেবে দেখো এখন কি করবে ।। যদি তুমি না করো,,তাহলে আমার কোনো সমস্যা নেই।। আমার পোস্ট এ কতো রিয়েক্ট উঠবে,, ভেবে ই কুল পাচ্ছি না।।

এটা আর কোনো কিছু না,,এটা সেই ভিডিও যেটায় আমি কান ধরে এক পা তুলে শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।। কিন্তু আমি ভেবেই পাচ্ছি না,,এটা কখন ভিডিও করলো ।। শালার ইতোর ,, জীবনেও তোকে ভুলবো না।। মনে মনে আবিরের পুরো গোষ্ঠী কে বোকে উদ্ধার করছি।।তখনি কারো ডাকে আমার ধ্যান ভাঙে ।। সেটা আর কেউ না আবির ।।

— কি ভাবছো বেইবি ,, তুমি কি এসাইনমেন্ট গুলো কম্পিলিট করবে,, না কি সারা ইন্টারনেট বাসি তোমাকে দেখবে ।। তুমি কিন্তু অনেক পরিচিতি পাবে ।। ( ইনোসেন্স ফেইস করে আবির)

একদিকে তার বলা কথাগুলো এসে তীরের মতো বিঁধছে আমার শরীরে তো অন্যদিকে তার ডং করা ইনোসেন্স মার্কা ফেইসটা কাটা জায়গায় লবনের মতো কাজ করছে।। মেজাজটা মুহূর্তের মধ্যে ই বিগরে গেল।।

— দেখুন ,,আমাকে দেখে কি আপনার ছোটো বাচ্চা বলে মনে হচ্ছে,,যে সব সময় বেইবি ,,বেইবি করছেন।। এইসব ফাউল নামে আমাকে একদম ডাকবেন না।। ( চোখ রাঙিয়ে আমি)

— ও মাগো ,,আমি ভয় পাইছি ,, দোস্ত তোরা আমাকে ধর।।( আবির)

— দোস্ত আমরাও ভয় পাইছি ।।এমন গরুর মতো চোখ রাঙানোতে ।। তোরে যদি আমরা যদি ,, তাহলে আমাদের কে ধরবে ।। ( ডং করে আয়ান)

— ঠিক বলেছোস তোরা ,,, একেই তো বাচ্চা মেয়ে তার ওপর আবার এমন ইনোসেন্স সাজ ,, হার্ট অ্যাটাক করবো । ( প্রিন্ট করে মেঘ)

— এক দম ঠিক ।।( তাল মিলিয়ে সবাই ।।)

— স্টোপ, আপনাদের কি আমাকে বাচ্চা মনে হচ্ছে।।(আমি)

— তোমাকে বাচ্চাদের মতো একদম মিষ্টি লাগছে।।( আবির)

— বাচ্চাদের সবসময় মিষ্টি লাগে ,, কিন্তু আপনি আমাকে মিষ্টি বলে ডাকবেন না।।(কড়া ডকড়া গলায় আমি)

— কেন তোমার মনে হচ্ছে না,, তুমি মিষ্টি দেখতে।। ওয়েট তোমাকে ,, দেখাচ্ছি,, ।।( আবির)

বলেই নিজের ফোন নিয়ে কয়েকটা ছবি তুলে আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন।। ছবিটা দেখে এতোক্ষণে আমার মনে পড়ছে যে আমি আজকে বাচ্চার দের মতো সেজেছি।। জানি এখন একটা কথা বললে আরো ১০ টা কথা শুনিয়ে দিবে ।। তাই একদম চুপ করে আছি ,,, যদি পাশে সেলোটিপ থাকতো ,,তাহলে তাই দিয়ে রাখতাম ।। চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি,,ওরা আমাকে নিয়ে অনেক কথা বলে একটা একটা করে মোট ১০ টা এসাইনমেন্ট ধরিয়ে দিয়ে গেছে । যে আমি একটা এসাইনমেন্ট করি নি,,সেই আমি কিনা ১০ করবো ।। দিয়ে গেছে আর বলে গেছে যেন কালকের মধ্যে রিটার্নস করি ।। সেটা পড়ে দেখা যাবে ।। তাই চুপচাপ ক্লাসের ভেতরে পা রাখলাম।।
অনেকক্ষন ধরে স্যার ক্লাসে কি জানো বোঝাচ্ছে ,, কিন্তু আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না।। আমি এসাইনমেন্ট এর গভীর চিন্তায় মগ্ন।। ভালো লাগে না ক্লাস করতে ।। তাই ক্লাসের চারপাশে পর্যবেক্ষণ করছি।। হঠাৎ চোখ গেলো আমার ফ্রেন্ডদের দিকে ,,ওরা আমার দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।। ইশারায় সরি বলছে ।। আমি একটু ভ্রু কুঁচকে বাঁকা হাসি দিয়ে ওদের ইশারায় বোঝালাম বাহিরে আয় কথা আছে ।।।
ওরা বাহিরে আসতেই ,, ওদের হাতে ৪ টা এসাইনমেন্ট ধরিয়ে দিয়ে,, কিভাবে করতে হবে বুঝিয়ে দিয়ে এলাম।।।। আর বলে এলাম যদি এগুলো কালকের মধ্যে কম্পিলিট না করে তাহলে আর ওদের সাথে কথা বলবো না।। বেচারারা এখন পড়েছে মহামুসকিলে ।। কেন সেদিন যেচে আমাকে বাঘের গুহায় পাঠিয়েছিলো ।।
🌿🌿

বাড়িতে ফিরে আগে আপিকে আর ভাইয়াকে ২ টা এসাইনমেন্ট ধরিয়ে দিয়ে রুমে এসে শাওয়াল নিয়ে লান্ধ করে নিলাম। তারপর রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।।

ঘুমটা এতোটাই গভীর ছিলো যে,, সন্ধ্যার পরে ভাঙ্গে।। ঘুম থেকে জেগে ফ্রেশ হয়ে এককাপ কফি নিয়ে বেলকেনিতে আসি ।। এটা আমার রোজকার দিনের হবি ।। আমার খুব ভালো লাগে হাতে এক কাপ কফি নিয়ে বেলকেনি কিংবা ছাদে বসে রাতের মিটমিটে তাঁরা ভরা আকাশ দেখতে।। সবাই বলে আমার হাতে ম্যাজিক আছে ‌, আমার হাতের কফি নাকি খুব ভালো হয় ।। তাই তো কেউ আমার উপর রেগে গেলে ,,আমি তাকে কফি খাওয়াই ।।
চোখ বন্ধ করে রাতের হাওয়া উপভোগ করছি আর কফির কাপে চুমুক দিচ্ছি।। হঠাৎ কেউ আমার চোখ দুটো চেপে ধরে ।। আমি চোখ বন্ধ অবস্থায় তার হাত ছুঁয়ে উপলব্ধি করার চেষ্টা করছি কে।। আমার বুঝতে বাকি রইলো কে ।। আমি হাতটা নামিয়ে চোখ বন্ধ অবস্থায় বললাম……

— জান ,, তোমার এখন আসার সময় হলো ।। ( অভিমানী সুরে আমি)

— তুই আমাকে না দেখে চিনছি কিভাবে,,মিষ্টিজান ।।( জানভি)

( জানভি আমার ফুফাতো ভাই,, সবাই বলে সবাই বলে আমরা নাকি বেষ্ট জুটি ।। কিন্তু আমি সবসময় একে আমার ভায়ের চোখে দেখি।। সবাই ওকে ছোটোরাজ বলে ডাকে ,, এবং খুব ভালোবাসে।। আমার সব বিপদে ও এসে সব ঠিক করে দেয়।। তাই শুধু আমি ওকে জান বলে ডাকি।। আর ও আমাকে মিষ্টি জান বলে ডাকে।।)

— তোমাকে চিনতে আবার আমার তোমাকে দেখতে হবে কেন ?? তুমি তো আমার জান ,,তাহলে কেন নিজের জানকে চিনতে চোখ খুলতে হবে।। বাই দা ওয়ে,, কখন এলে বলো ।।।(আমি)

— আরো অনেক আগেই এসেছি ,, তুই তখন ঘুমানো অবস্থায় ছিলি ,, তখন তোকে খুব মায়াবী লাগছিলো তাই ডাক দেই নি।।( জানভি)

— ও আচ্ছা,, একটা হেল্প করো না পিস…..( করুন সুরে আমি)

— কি হেল্প বল।।

তারপর আমি জানভিকে ২ টা এসাইনমেন্ট করতে দিলাম।। সে রাজিও হয়ে গেলো।। পরে আমরা একসাথে ডিনার করে নিলাম।।

ডিনার করে রুমে এসে ভাবছি ,, ১০ টা মধ্যে অলরেডি ৮ টার চিন্তা বাধ।। মাএ ২ টা আছে ।। এখন এই ২ টা আমাকে করতে হবে ।। তাই আর কোনো চিন্তা না করেই ১ কম্পিলিট করতে বসলাম।। একটু করতেই চোখে ঘুম এসে ধরা দিলো।। ওখানেই ঘুমিয়ে পড়লাম।।

ঘুমের মধ্যে মনে হচ্ছে কেউ আমাকে যেনো আমাকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।। কিন্তু তাতে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।। চোখ খুলে দেখার ঘুম নষ্ট করে তা দেখার ইচ্ছা আমার নেই।। তাই ঘুমেই আ আমি বেস্ত।। হঠাৎ মনে হচ্ছে,, আমি হাওয়ায় ভাসছি ।। আমার অনেক ইচ্ছা ছিলো আমি হাওয়ায় ভাসবো ,, কিন্তু তা সম্ভব নয়,, স্বপ্নের মধ্যে ভাসছি ,, তাই চোখ খুলে সেই ইচ্ছেটা আপাতত নষ্ট করতে চাইছি না।।
ঘুমের মধ্যে মনে হচ্ছে কেউ আমার থুতনিতে চুমু খাচ্ছে,, তার নিশ্বাস আর মুখে আঁচরে পড়ছে ।। কিন্তু তাতে ও আমার আক্ষেপ নেই।। হঠাৎ মনে হলো কেউ আমার গলায় জোরে কামড় বসিয়ে দিল।। একটা চিৎকার দিয়ে উঠে বসলাম ,, চারদিকে ডিম লাইটের আলোতে সব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে,, কিন্তু কাউকে দেখা যাচ্ছে না।। উঠে চারপাশে কাউকে খুঁজতে লাগলাম কিন্তু কাউকে পেলাম না।। দরজা জানালা সব ভেতর থেকে বন্ধ ।। তাহলে কে আসবে ।। হয়তো এটা আমার
দেখা কোনো স্বপ্ন হবে এই ভেবে ঘুমিয়ে পড়লাম।।

সকালে ঘুম ভাঙতেই গলায় প্রচুর ব্যাথা অনুভব করলাম।। কালকে রাতের ঘটনা গুলো অনুসরণ করতে লাগলাম।। দরজার দিকে তাকিয়ে দেখি দরজাটা খোলা,, কিন্তু যখন রাতে আপি দেখেছিলাম তখন তো বন্ধ ছিলো।। আর বেডে কিকরে আসলাম,,আমি রাতে এসাইনমেন্ট করছিলাম।। তাড়াতাড়ি উঠে এসাইনমেন্ট এর কাছে গিয়ে দেখলাম সবটা শেষ ,, কিন্তু আমি তো শেষ করি নি ।। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখতে পেলাম গলায় তিলটার কাছে কালো দাগ পড়ে আছে।। তার মানে কি কেউ আমার রুমে এসেছিলো,, কিংবা কালকের ঘটা ঘটনাগুলো কি সত্যি।। আমি তো ভয়ে মরে যাচ্ছি।।

তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে গলায় ভালো করে ওরনাটাকে পেঁচিয়ে সব এসাইনমেন্ট গুলো কালেক্ট করে ভার্সিটির উদ্দেশ্য বেরিয়ে এলাম।।

সারা ভার্সিটিতে খুঁজে কোথাও আবিরের দেখা পাচ্ছি না।। কোথায় গেলো কে জানি ।। হঠাৎ কোথা থেকে জোরে ডাক দিলো ।।।।

— এই যে মিষ্টি আমাকে খুজছিলে বুঝি,,, ??( আবির)

— আপনাকে আমি কেন খুজবো,, আমি তো শুধু আপনার এসাইনমেন্ট এর জন্য।। ( ভাব নিয়ে আমি)

— সে যাই হোক ,, খুজছিলে তো মিষ্টি,,?( আবির)

— ঠিক সে যাই হোক,, বাই দা ওয়ে,, আমি আপনাকে মিষ্টি বলে ডাকতে বারন করেছিলাম ,, ভুলে গেছিন না কি??( একটু রেগে আমি)

— এখন থেকে তোমাকে মিষ্টি বলেই ডাকবো ,, আচ্ছা যাই হোক ,, সব গুলো তুমি করেছো ??( কৌতূহল নিয়ে আবির)

— না … আমি একটাও করি নি।।। তাছাড়া সব গুলো করা হয় নি।। একটা বাকি আছে।। সেটা কালকে করে দিবো ।।(আমি)

— না,, সেটা আজকেই লাগবে !!!

— ঠিক আছে ,, পড়ে করে দিবো ।।

— না এখন ,,আমার সামনে করবে!!

বলেই আবির আমার হাত ধরে একটা ফাঁকা ক্লাস রুমে নিয়ে গেলো ।। তারপর আমাকে একটা লো বেঞ্জ এ বসিয়ে তিনি হাই বেঞ্জ এ আমার মুখোমুখি বসলেন।।

আমি সেই কখন থেকে এসাইনমেন্ট করছি আর সেই মহারাজ গালে হাত দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।। একদিকে গলার দাগটা তো অন্যদিকে প্রচুর গরম।। তার উপরে সামনে থাকা লোকটার অদ্ভুত চাওনি ,, সাথে সামনে থাকা ছোটো ছোটো চুলগুলো।। চুলগুলো বারবার সামনে পড়ছে আর আমি তা কানের পেছনে গুজছি।। সবই বিরক্তিকর লাগছে।। শুরু শ্রেষ্ঠটাকে ডাকছি ,, যেনো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়।।
আবার চুলগুলো সামনে পড়তে এবার আর হাত দিয়ে সরালাম না ,, ফু দিয়ে উরিয়ে দিলাম ।।
সামনে তাকিয়ে দেখলাম আমার কিছু চুল তার মুখে পড়েছে আর তিনি চোখ বন্ধ করে আছে,,আর কি যেনো একটা উপভোগ করার চেষ্টা করছে।।

চলবে ….💞💞

( ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,,,, ধন্যবাদ)