কতোবার বোঝাবো বল পর্ব-৬+৭

0
2017

#কতোবার_বোঝাবো_বল🌿
#ইফা_আমহ্নদ
পর্ব::০৬

সেই কখন থেকে বেঞ্জ এ উপরে দাঁড়িয়ে আছি,, বেঞ্জ টা একটু পর পর দুলছে ,,, সাথে আমিও দুলছি ।। যখন তখন পড়ে যেতে পারি,,,পড়লে নির্ঘাত আমার কোমর ভেঙে যেতে পারে।। ভার্সিটিতে আসার পড়ই সিনিয়র আপিরা আমাকে উঁচু বেঞ্জ এ উপরে দাঁড়িয়ে ডেকোরেশন করার দায়িত্ব টা দিয়ে গেছে।। কোথায় ভেবেছিলাম,,, আজকে একটু মিষ্টি প্রেমিকের সাথে দেখা করবো ,, সেটা আর হলো কই ।। না পারলাম মিট করতে আর না পারলাম লিস্ট থেকে নিজের নামটা বাদ দিতে ।। এই সব কথাগুলো ভাবছি ,,আর কাজ করছি ।
হঠাৎ বেঞ্জ টা খুব জোরে দুলতে শুরু করলো ।। যখন তখন পড়ে যেতে পারে,,তাই নামার জন্য পা বাড়ালাম ।। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না।। আমি চোখ দুটো খিচে বন্ধ করে আছি।। অনেকক্ষন হলো কিন্তু পড়লাম না ,, আর না ব্যাথা পেলাম ।। তাই চোখ দুটো আস্তে আস্তে খুললাম ।। তাকিয়ে দেখলাম ,, আমি আমি আবিরের কোলে ।। হয়তো আমি পড়ে যাওয়ার আগেই ধরেছে তাই ব্যাথা পাই নি।। তিনি আমার দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে।। প্রথম বার এতোকাছে থেকে দেখছি না ,,, কিন্তু মনে হচ্ছে প্রথম বার ই দেখছি ।। ঠিক অদ্ভুত তাকে দেখতে।। এই জন্য হয়তো তাকে ক্রাশ বয় বলে ,হয়তো না ।। হাতে ব্যান্ডেজ করা।। কিন্তু সেদিন তো দেখলাম না,, কি এমন হয়েছে।। থাক জেনে আমার কি ।।

— কি রে তোরা কি কোলে করেই নিজেদের বাকি জীবন পার করে দিবো??( মেঘ)

— দিলেও আমাদের কোনো সমস্যা নেই,, কিন্তু আগে ভার্সিটির কাজ গুলো করে নে তো !!( তাসফি)

ওদের কথায় আমাদের ভাবাবেগ হলো।। সাথে সাথে আবির আমাকে নামিয়ে দিলো।। আমি অন্য দিকে তাকিয়ে রইলাম।।

— যে কাজটা করতে পারো না,,সেটা কেন করতে আসো ,, যদি হাত পা ভেঙ্গে যেতো তাহলে কি হতো ,, কেয়ার ল্যাস একটা।।( অগ্নি দৃষ্টি দিয়ে আবির)

— পড়লে পড়তাম,, আপনার কি?? ( ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে আমি)

— আমার আবার কি ?? এই কাজগুলো কে করতো ।। ( আবির)

— আমার ভুত করতো,, বাই দা ওয়ে,, শুনেছি ফাস্ট ইয়ারের লিস্টটা নাকি আপনার কাছে ।। ওখানে থেকে আমি আমার নামটা রিমভ করবো ,, পিলিস রিমুভ টা করে দিয়েন!!(আমি)

— কেন?? ও আচ্ছা বুঝলাম,, যে মেয়ে ভালোভাবে কথাটাই বলতে পারে না,,সে যে কিভাবে গান গাইবে ,,সেটা আমার আগেই বোঝা উচিত ছিলো!!ওকে আমি রিমুভ করে দিব।।( আবির)

— এই না আপনি রিমুভ করবেন না,,,আমি গান গাইবো !!(আমি)

— কেন ,, এই মাএ না বললে গাইবে না,, এখন আবার কি হলো,,??( আবির)

— যা হওয়ার তা হয়েছে,, আমি দেখিয়ে দেব আমিও গান গাইতে পারি!! ( ভাব দেখিয়ে আমি)

— তা দেখা যাবে !!( আবির)

তারপর আমরা যে যার মত কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলাম।। সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে লান্ধ,, ডিনার একসাথে করে নিলাম।।

🌿🌿

ফাংশনে যাওয়ার জন্য কি পড়বো খুঁজে পাচ্ছি না।। সিনিয়ররা বলেছে শাড়ি পড়তে,,, কিন্তু সমস্যা হলো,, আমি শাড়ি পড়তে পারি না ,,,আর তা সামলাতে পারি না।। তার উপরে আমার আবার কোনো শাড়ি নেই ,,কি করবো বুঝতে পারছি না।। গভীর ধ্যানে মগ্ন আমি।। হঠাৎ একটা মেসেজ আসে আমার ফোনে ।।
সিন করে দেখতে পেলাম,,
“” বেলকেনিতে যাও ,, ছোটো একটা উপহার আছে””

আমিও বেলকেনির দিকে পা বাড়ালাম।। গিয়ে দেখি একটা ,, একটা নীল রঙের শাড়ি।। সাথে নীল রঙের কাঁচের চুড়ি।। শাড়িটা রুমে এনে খুলতেই একটা চিরকুট পেলাম।। যেখানে বড় বড় করে লেখা,,,

“” আমি আমার মিষ্টিকে শাড়িতে দেখতে চাই ,, দেখতে চাই শাড়ি তুমি কতোটা মিষ্টি হতে পারো “”

আমি কখনো শাড়ি পরিনি।। একা একা পরা তো সম্ভবই না ।। তাই আপি আর মাম্মাম আমাকে শাড়ি পড়িয়ে দিলো ।। প্রথমবার শাড়ি পড়াতে ,,,কেমন যেনো কুঁচি গুলো খুলে খুলে যাচ্ছে,, তাই মাম্মাম একটা বেল্ট এনে শাড়ির কুচিগুলো ভালোভাবে আটকে দিয়ে ,, শাড়ি দিয়ে বেল্টটাকে ঢেকে দিলো ।। আমি মাম্মামের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে…
তারপর মাম্মাম বললো ,,এটা নাকি বকুল কথা সিলিয়াল থেকে শিখেছে।। ভাগ্যিস মাম্মাম সিরিয়াল দেখে নাহলে আজ যে আমার কি হতো ।।
তারপরে হাত ভর্তি করে করে নীল রঙের কাঁচের চুড়ি গুলো পড়ে নিলাম।। চোখে মোটা করে কাজল,, ঠোঁটে একটু হালকা গোলাপি রঙের লিপস্টিক।। আর চুলগুলোকে ছেড়ে দিলাম ।। মাম্মাম আমাকে সোনার দুটো ঝমকো পরিয়ে দিলো ।। সাথে হাই হিল ।। আয়নাতে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখলাম,, না খারাপ লাগছে না।।
কলেজ থেকে ভার্সিটির দূরত্ব অনেক বেশি আবার ফিরতে রাত হতে পারে,, তাই স্কুটি নিয়ে নিলাম।। ভার্সিটিতে ঢুকে আমার বন্ধুদের খুঁজতে লাগলাম।। অনেকক্ষন পরে পেলাম তারা আবিরদের সাথে একসাথে আড্ডা দিচ্ছি ।। আমি আস্তে তাদের দিকে এগিয়ে গেলাম।।
সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।। যাতে আমার অস্বস্তি বোধ হচ্ছে।। আমি অন্যদিকে তাকিয়ে বললাম…

— এবার মুখটা অফ কর পিসিজ ,,নাহলে ড্রেনের পানি ঢুকবে!!(আমি)

— ঢুকলে ঢুকুক ,, একদিনই তো ।। মেনেজ করে নিবো ।। ( জয়)

— দোস্ত,, তোকে তো পুরো জোশ লাগছে শাড়িতে ।। কি বলিস তোরা ??( আহাদ)

— কেন রে,,ওকে তো সবসময় জোশ লাগে !!( ঋতু)

— হম,,, লাগে তবে ,,, শাড়িতে একটু বেশি সুন্দর লাগছে।।( তাসফি)

— বলছি কি দোস্ত,,,এখন থেকে তুই প্রতিদিন শাড়ি পরিস কেমন ??( আহাদ)

— তুই পড় শাড়ি ,, একবার পড়ে তো দেখ কতো কষ্ট শাড়ি কন্ট্রোল করতে !!(আমি)

— যাই বলো ,,, তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে!! ( মেঘ)

— ঠিক ,, একদম!!( সবাই)

সবাই আমার এতো প্রশংসা করছে ,,, কিন্তু সামনে থাকা আবির কোনো কিছুই বলছে না।। সে আমার দিকে এখনো তাকিয়ে আছে।।

— সবাই হানির এতো প্রশংসা করছে,, তুই কিছু বলবি না!!( আবিরকে উদ্দেশ্য করে আয়ান)

— এখানে প্রশংসা করার কি আছে ,, ময়দা মাখলে ,, দাঁড় কাক কেও ময়ূর মনে হয়।। তারপর ও সে দাঁড় কাক ই থাকে ।।( আবির)

আবিরের কথায় আমার মোনটা ছোটো হয়ে গেলো ।। আয়ান হয়তো বুঝতে পেরেছে,, তাই আমাকে একটু ভার্সিটি ঘুরিয়ে দেখাতে নিয়ে এলো ।। একে একে অনেক কিছুই দেখলাম ।। এই কয়দিনে ,,ঝামেলাই ছিলো , তাই দেখা হয়ে উঠে নি ।। হঠাৎ আয়ান বলে উঠলো….

— জানো ,, আমি কখনো আবিরকে কারো সাথে এমন রুড বিহেব করতে দেখি নি ।। কিন্তু কেন তোমার সাথে এমন করছে ,,কিছুই বুঝতে পারছি না।। ওর হাতের ব্যান্ডেজ টা দেখতে পেয়েছো ,, ঐটা ও তোমার জন্য করেছে ।। তোমার গায়ে হাত তুলতে গিয়েছিলো ।।( আয়ান)

— ভাই পিলিজ আমি ওর ব্যাপারে কিছু শুনতে চাই না।।(আমি)

তারপরে আমরা হাটা দিলাম স্ট্যাজের দিকে ।। প্রচুর ভীর ।। কিছুদূর এগুতেই কেউ আমার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে গেলো ।। চারপাশে এতো মানুষ ,, কে দিলো ।। সেটাই বুঝতে পারছি না।।আমি এক কোনে গিয়ে চিরকুট টা খুলে দেখলাম।।
“” মুগ্ধ করা সিদ্ধ নয়ন
আমায় ধরেছে ঘিড়ে
একবার যদি দাও সুযোগ আমায়
ভালোবাসায় রাঙিয়ে দেবো তোমায়””
— মিষ্টি প্রেমিক💞

পড়ে আনমনেই মুখে হাসি ফুটে উঠলো ।। কিন্তু নিচে লেখা গুলো পড়তেই চিন্তিত হয়ে গেলাম।।

“”শাড়িটা একটু ঠিক ভাবে পড়ে নাও , তোমার শরীরের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে।। সবাই কেমন বাজে নজরে তাকিয়ে আছে””

আমি শাড়ি দিয়ে টেনে পেটেটাকে ঢেকে নিয়ে ,,চারদিকে আমার ফ্রেন্ডদের খুঁজতে লাগলাম।। কিন্তু ওদের কোথাও দেখা যাচ্ছে না।। এর মধ্যে আমার নাম মাইকে এনাউজ করা হয়েছে। আমি এখন পড়েছি ধিধা ধন্দে।। কি করবো বুঝতে পারছি না।।তাসফি এসে আমাকে টেনে তাড়াতাড়ি স্টেজে পাঠিয়ে দিলো।। আমিও স্টেজে উঠে গেলাম ।। আমি উঠতেই ব্যান্ডদলের ছেলেরা গিটার বাজাতে শুরু করলো।।আমি ওদেরকে থামিয়ে নিজের হাতে গিটার টা নিয়ে ,, বাজাতে শুরু করলাম।।তারপর গান ধরলাম….

🎶যতো দেখি তোমাকে,,,লাগে ততো ভালো ,,
আঁধার ও ভূবনে তুমি ছরিয়েছো আলো !!
ও মনেই গোপন ঘরে ,, হাজার ও বছর ধরে
তোমাকে যতন করে রাখবো ……

এজীবনে নে আমি চাইনা ,, কিছু আর
তোরারি চোখে দেখি এই পৃথিবী আমার🎶🎶

এতো টুকু গেয়ে থামতেই ,, চারদিকে হৈ হুল্লোড় শুনতে পেলাম।। আমার ফ্রেন্ডেরা আমাকে আমার গান ধরতে বলছে ।। সবার মুখে হাসি থাকলেও হাসি নেই আবিরের মুখে।। সে অগ্নি দৃষ্টি দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।। তার এই দৃষ্টির আসল মানেটা কি ,, সে আমার ওজানা ।। তাই তার থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে আবার গাইতে শুরু করলাম……

🎶 ওওবুকেই শহরে প্রতিটি প্রহরে
ছড়াও একি জাদু…
ও সুখের ই দোলাতে ,,রঙেরই মেলাতে
হারিয়ে যাই যে শুধু
ওও চোখে চোখে রেখো ,, পাশাপাশি থেকো
‌‌শুধু তোমাকে দিয়েছি
এই হৃদয় উপহার 🎶

এজীবনে আমি চাই না কিছু আর
তোমারি চোখে দেখি এই পৃথিবী আমার🎶

এইটুকু গাইতেই চোখ গেলো আবিরের দিকে,, সে আরো ভয়ংকর হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।। আমি কি করবো ,, বুঝতে পারছি না।। গলা দিয়ে যেনো একটি স্বরও বের হচ্ছে না।। তাই এখানেই গান অফ করলাম।।

গান শেষ করতেই হাজার হাজার করোতালির আওয়াজ ভেসে আসছে ।। যাতে আমার ঠোঁটের কোণে একটু হাসি ফুটে উঠে ।। আমার মুখ হাসি ফুটলেও আবিরের মুখে কোনো হাসি নেই।। এরেকটুকু সময় যদি আবিরের সামনে থাকি ,, তাহলে মনে হয়।। ওর চোখের আগুনে আমি পুড়ে মরে যাবো ।। তাই সামনের দিকে একটু ঝুঁকে ভাব নিয়ে সবাইকে থেংকিউ বলে স্টেজ থেকে নেমে এলাম।।

নেমে আসতেই আমার ফ্রেন্ডেরা আমাকে জরিয়ে ধরলো,, আমাকে অনেক বাহবা দিলো ।। আমিও ওদের জরিয়ে ধরলাম,, থেংকিউ জানালাম।। তারপরে সবাই একসাথে সামনের দিকে হাঁটা দিলাম।। কিছুদূর হাঁটতেই তাসফি বলে উঠলো….

— দোস্ত,,,আজকে একটা ছেলেকে দেখেছি ,, কি এটিটিউট রে ,,।। ঐ ছেলেটাকে ,, ইমপ্রেস করতে পারবি ??

— কেনো না,, এটাই তো আমার কাজ !! কোন ছেলেটা !!(আমি)

— তুই পারবি না ,, সেইদিন আবিরকেই পারিস নি !!( আহাদ)

— আবিরকে পারি নি তাকে কি,, অন্যছেলেকে পারবো।।(আমি)

— যদি না পারিস ?? ( ঋতু)

— না পারলে জীবনে আর কোনো চ্যালেঞ্জ ধরবো না ,, ডান !!(আমি)

— ডান!!( সবাই)

— ও পারবে ,,ওর মতো মেয়েরা এটাই খুব ভালো পারে !!( আবির)

চলবে….💞💞

#কতোবার_বোঝাবো_বল🌿
#ইফা_আমহ্নদ
পর্ব::০৭

— ও পারবে ,, ওর মতো মেয়েরা এটাই খুব ভালো পারে।। শাড়ি পড়ে শরীরের প্রাইভেট পার্ট বের করে রেখেছো ,, নাকি শরীর দেখাচ্ছো।। নাকি বোঝানোর চেষ্টা করছো,, তোমার ফিগার দেখতে সুন্দর।। তোমার লজ্জা করছে না,, তোমার দিকে সবাই কেমন বাজে দৃষ্টিতে দেখছে ,, নাকি লজ্জাটাও নেই ।। ( আবির)

— ভালো ভাবে,, আর ভদ্রভাবে কথা বলুন।। আপনার লজ্জা করছে না,, একটা মেয়ের সাথে এইভাবে কথা বলতে ।।(আমি)

— লজ্জা কেন করবে ?? যে যেমন তাকে তো তেমনই বলতে হয় ,, তাই না ।। তোমার চরিত্র যেমন নোংরা তেমন নোংরা ভাবেই বলতে হয় ।।( আবির)

— কি করছিস কি আবির,,পিলিস থাম ।। ও ইচ্ছে করে হয়তো কিছু করে নি ।। ভুলে হয়ে গেছে ।। ছেড়ে দে না ।।( আয়ান)

— আমাদেরও তাই মনে হচ্ছে,, চল !!( মেঘ)

— তাই মনে হচ্ছে মানে ,,, ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ।। ভুল হয় কি করে ।। যখন ও স্টেজে গান গাইছিলো জানিস তখন ও কিভাবে বাজে নজরে ছেলেরা দেখছিলো ।। (আবির)

— দেখলে দেখবে ,, তাতে আপনার কি??(আমি)

— হ্যাঁ ,, তুমি তো খুব এনজয় করো তখন,, তাই না।।( আবির)

— আবির ভাই !!( চেঁচিয়ে বললাম আমি)

— এই মেয়ে একদম চুপ।। তোমার মুখ থেকে আমি ভাই ডাক শুনতে চাই না।। বুঝেছো তুমি।।( আবির)

আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না ভ্যা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে দিলাম।

— এই মেয়ে নাকে কান্না অফ করো তো ,, নাহলে দেবো একটা ঠাডিয়ে লাগিয়ে ।।( ধমকিয়ে আবির)

আবিরের ধমকে আমার কান্না থামার বদলে আরো বেড়ে গেল।। জানি এখন আরো বকবে,,তাই কাঁদতে কাঁদতে ভার্সিটি থেকে স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে এলাম আমার প্রিয় জায়গাটায়।।। যেখানে গেল আমার মন ভালো হয়ে যায়।। সেই ছোটো বেলা থেকেই আমি সেখানে যাই ।। অদ্ভুত ভাবে আমার মন ভালো হয়ে যায়।। তাই আজ
এই মন খারাপের দিনে ,, ছুটে চলেছি আমার মন ভালো করার গৌন্তবে।।

পৌঁছাতে পৌঁছাতে ১৫ মিনিট লাগলো ।। ফুল স্পিডে গাড়ি চালানোর কারণে।। তাছাড়া রাস্তা পুরো ফাঁকা ছিলো ।। নাহলে আসতে আসতে মোট ২৫ মিনিট লাগতো ।। রাস্তার উপর স্কুটি টা থামিয়ে পা থেকে হিলটা খুলে নদীর তীরে গেলাম।। হে নদীর তীরই আমার প্রিয় জায়গা।।
নদীর পাড়ে ঘাসের উপর বসে নদীর পানিতে পা ভিজিয়ে দিলাম।। আজকে আকাশে এক ফালি চাঁদ উঠেছে।। তার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে নদীর পানিতে।। অনেক অপরুপ সুন্দর লাগছে।। আমি নদীর পানিতে হাত ভিজিয়ে ,,একা একা পানি ছোড়া ছুড়ি খেলতে লাগলাম।।
খেলতে খেলতে অনেকক্ষন পরে এমনিতেই মনটা ভালো হয়ে গেলো।। তাই বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে এলাম।।

ফেরার পথে কতোগুলো ছেলেদের দেখতে পেলাম।। তারা একটা লোকের কাছ থেকে কিছু একটা নেওয়া চেষ্টা করছে ।। কিন্তু লোকটা দিতে চাইছে না ।। হয়তো কোনো মূল্যবান কিছু।। ঐ ছেলেরা সংখ্যায় অনেক কিন্তু লোকটা একা ।। ছেলেগুলোর হাত অস্ত্রও আছে।।লোকটাকে দেখেও আমি সামনে দিকে এগিয়ে গেলাম।। অনেক দূরে গিয়ে ভাবতে লাগলাম,, যদি লোকটাকে মেরে ফেলে তখন।। তাই আবার ফিরে এলাম লোকটাকে বাচাবো এই আশায়।।
এসে দেখতে পেলাম লোকটাকে ব্যাগটা ছেলেগুলো নিয়ে নিয়েছে।। আমি ওদের সামনে গিয়ে বললাম…..

— আপনারা ওনার ব্যাগটা দিয়ে দিন !! আর যে যার যার নিজেদের বাড়িতে ফিরে যান!!(আমি)

— বাড়ি তো ফিরে যেতেই চেয়েছিলাম,, কিন্তু এখন এই রকম একটা ফুটন্ত ফুল রেখে বাড়ি কিভাবে যাই !!( ছেলেদের মধ্যে একজন)

— ঠিক একটু ফুলের সাথে ফুলসজ্জা তো করতে হবে !!( দ্বিতীয় জন)

— আমিও কিন্তু ফুলের সূবাস নিতে চাই !!( তিতীয় জন)

— হে আমরাও !!( সবাই একসাথে)

— দদেখুন ,, এটা কিন্তু ভালো হচ্ছে,, আপনাদের মতো ছেলেদের কিভাবে জুতো দিয়ে মেরে ঠিক করতে হয় ।। সেটা আমি ভালো করে জানি ।।(আমি)

— কি যে বলো রুপশি !!গোলাপে তো কাঁটা থাকবেই ,,তাই বলে কি গোলাপের সুবাস নিবো না ।। ( আমার হাত ছুঁয়ে)

মুহুর্তের মধ্যে আমার মেজাজটা বিগড়ে গেলো।। আমি পা থেকে হিলটা খুলে ঠাস করে একটা লাগিয়ে দিলাম।। সাথে সাথে ছেলেটা আমার হাতটা পেছনে মুচড়ে ধরে পেছন বাঁকিয়ে ফেললো।।আমি হাত প্রচুর ব্যাথা পেয়েছি ‌। মনে হচ্ছে,,এই বুঝি হাতটা ভেঙ্গে গেছে।। ছেলেটা আমার দিকে নেশাগ্ৰস্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো….

— কি জানো বলছিলিস তুই ,, আমাকে জুতো দিয়ে মারবি ,,, আবার মেরেওছিস ,,, এবার বোঝ মজা ।।

— মা তুমি পিলিজ এখান থেকে চলে যাও ,,, আমার টাকা গেছে যাক,, আমি খেটে তা আবার উপার্জন করতে পারবো ।। কিন্তু তোমার সম্মান গেল তা আর অর্জন করতে পারবে না।।পালাও !!( করুন সুরে লোকটা)

লোকটা কথাগুলো শুনে আমি ছেলেগুলোকে ধাক্কা দিয়ে জোরে দৌড় লাগালাম।। দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁপিয়ে গেছি ,,,তার পরও থামছি না।। পায়ে হিল জুতো যার কারনে একটুতেই প্রচুর ব্যাথা করছে ।। রাস্তার চারপাশে কাউকে দেখতে পাচ্ছি না যে,,,তার কাছ থেকে সাহায্য চাইবো ।। পেছনে তাকিয়ে দেখি,,, ছেলেগুলো আমার দিকে দৌড়ে আসছে ।। ভয়ে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।। মনে হচ্ছে,,জীবনটা যেন এখানেই থমকে যায় ।। আমার দৌড়ানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আমার পায়ের জুতো । জুতোর হিলটা ভেঙ্গে আমি নিচে পড়ে যাই ।। সাথে সাথে ছেলেগুলো আমাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে ।। আমি পড়ে গিয়ে পায়ে অনেক ব্যাথা পাই ।। হাঁটার শক্তি টুকু যেনো হারিয়ে গেছে।। পায়ের হিল দুটো খুলে ফেলে দিয়ে,, উঠৈ দাঁড়ালাম।। উঠে দাঁড়ানোর শক্তি টূকুও নেই ।। তবুও কোমরে হাত দিয়ে উঠে দাঁড়ালাম।। কোমরে মোটা শক্ত কিছু অনুভব করার বুঝতে পারলাম এটা বেল্ট।। যেটা মাম্মাম শাড়ি কন্ট্রোল করার জন্য পরিয়ে দিয়েছে।।এটার কথা আমার মাথা থেকে একদম বেরিয়ে গিয়েছিল।। আমি ওদের হাত থেকে ব্যাগটা টান দিয়ে আমার হাতে এনে একটু বাঁকা হেসে বললাম…..

— তোরা না আমাকে আদর করতে চেয়েছিলি ,,,আজ আমি তোদের আদর দিবো ।। এমন একটা আদর দিবো যে,,, জীবনে কোনো দিন ভুলতে পারবি না।।(আমি)

— সত্যি বলছিস,,,তাহলে আয় কাছে আয়।।( আমার দিকে এগুতে এগুতে)

আমার দিকে এগুনো দেখে আমি তাড়াতাড়ি কোমর থেকে বেল্ট খুলে একের পর এক ঘা মেরে যাচ্ছি ।। একটার পর একটা ছেলের গায়ে ।। হাতে ব্যাথায় আর পারছি ,,, পায়ে ব্যাথায় আর দারিয়ে থাকতে পারছি না।। কিন্তু যদি আমি থেমে যাই তাহলেই আমার জীবনটা এখানেই নষ্ট হয়ে যাবে ,,,এই ভেবে আঘাত করেই চলেছি ।। একসময় ওরা ক্লান্ত হয়ে নিচে শুয়ে পড়ে । আমি অন্য দিকে তাকিয়ে দেখি,, সেই লোকটা আমার দিকে এগিয়ে আসছে ।। আমিও তার দিকে এগিয়ে গিয়ে ব্যাগটা তার হাতে ধরিয়ে দিলাম।। এই ফাঁকে একটা ছেলে এসে আমার মাথায় ইট দিয়ে জোরে আঘাত করে।। সাথে সাথে মাথা ফেটে অঝোরো রক্ত বের হতে থাকে।। আমি এক হাত মাথায় দিয়ে ছেলেটার থেকে ইটটা নিয়ে ওর মাথায় আঘাত করি ।। মারতে মারতে এক পর্যায়ে ছেলেটি রাস্তায় নুইয়ে পড়ে।।
এদিকে আমার চোখের চারপাশে সবকিছু কেমন যেন ঝাপসা হয়ে জেতে থাকে ।। চোখ মেলে রাখার শক্তি যেন হারিয়ে ফেলেছি ।। ঝপসা চোখে চেনা কোনো মানুষকে দেখতে পাই ।। ডাক দেওয়ার শক্তি নেই যে ডাক দিবো ।। ওখানেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম আমি ।। চোখ দুটো বন্ধ হয়ে অন্ধকার ধরা দিলো ।।

চলবে ….💞💞

( ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,,,,, ধন্যবাদ)