গল্পঃ তুমি_ছারা_আমি_শূন্য পর্বঃ ১+২

0
2146

গল্পঃ তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
পর্বঃ ১+২
লেখকঃ #Mohammad_Asad

“এই যে শুনছেন কয়টা বাজে একটু বলবেন প্লিজ।” কলেজের একটা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলো নিশাত। একটা ছেলে এসে নিশাতকে ডাক দেয়। নিশাত ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বলে।
-এই ছেলে মেয়েদের দেখলেই শুধু মুখ দিয়ে লালা পড়ে তাই না?
-আজব তো এইসব কেন বলছেন? আমি শুধু যানতে চেয়েছি কয়টা বাজে। ঘরিটা বাসায় রেখে চলে এসেছি তাই আপনাকে বললাম কয়টা বাজে। আর আপনি এমন করে বললেন কেন?
-কেন, আপনার ফোন নেই? ফোনে টাইম দেখতে পারেন না। মেয়ে দেখলেই শুধু কথা বলতে ইচ্ছে করে তাই না?
-হ্যাঁ ফোন আছে। তবে আপনার সঙ্গে কথা বলার জন্য আমি আসেনি ওকে।

ছাদিক ফোনটা বের করে নিশাতকে দেখায়।
-এই যে দেখুন আমার ফোন।
-এ্যা মা ভাঙা ফোন।
-হুম ভাঙা ফোন। শুধু কোনোরকমে কথা বলি। তাই আপনার কাছে টাইম জানতে চেয়েছিলাম শুধু। আপনি তো অনেক কথা শুনিয়ে দিলেন।
-ওই পাজি ছেলে। আমি মনে হয় কিছু বুঝিনা তাই না। আমার কাছেই টাইম জানার জন্য আসতে হলো? বাজে ছেলে। আশেপার্শে আর কোনো মানুষ ছিলোনা তাই না।

ছাদিক নিশাতের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে বলে।
-এই মেয়ে আমাকে চেনো তুমি? আমি কে?
নিশাত রেগে দাঁত কটমট করে বলে।
-আপনি যেই হোননা কেন! আমি কাউকে ভয় পাইনা ওকে। টাকার গরম দেখাচ্ছেন তাই তো। আমি মধ্যবিত্ত হতে পারি। তবে করো কাছে মাথা নিচু করিনা ওকে।

ছাদিক এবার ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। মেয়েটার সাথে কথা বলতে আসা ভুল হয়েছে আমার। যাই অফিসে গিয়ে যেনে আসি কোন রুমে ক্লাস নিতে হবে। হায়রে মেয়েরা তোমরাও পারো বটে। শুধু টাইম যানতে চেয়েছিলাম আর এতোকথা শুনিয়ে দিলে।

“ছাদিক এই কলেজে আজ প্রথম এসেছে কাউকে চিনেনা। ছাদিক স্কুলের একজন শিক্ষক। ছাদিকের ভাই রাইসুল আজকে অসুস্থ। তাই ভাইয়ের জায়গায় ছাদিক এসেছে। এসেই ছাদিক পাগল মেয়ের পাল্লায় পরে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। কাউকে চেনেনা ছাদিক। এমনিতেই ছাদিক চাপা স্বভাবের তাই সামনে থাকা মেয়েটিকে দেখতে পেয়ে ছাদিক টাইম যানতে চায়। ছাদিক একজন কিপ্টেলোক বলায় যায়। তানা হলে কোনো ছেলে ভাঙা ফোন নিয়ে কলেজে আসে এই জুগে?

এমনিতেই ছাকিক একটু ভয় পেয়ে আছে।
সবেমাত্র স্কুলের শিক্ষক হয়েছে ছাদিক। একবছরে মতো হয়েছে। এখন আবার ভাইয়ের জন্য কলেজে আসতে হয়েছে। কে যানে ছাত্ররা কি প্রশ্ন করে বসে!!

ছাদিক একটু ভয় পায়। তারপর একটু সাহস নিয়ে অফিসের দিকে পাঁ বারায়। অফিস থেকে যেনে নেয়, কোন রুমে ক্লাস নিতে হবে। ক্লাসে গিয়ে বসে আছে ছাদিক। রুমে কেউ নেই। আসলে এই সময় রুমে কেউ না থাকারি কথা। এখন এক ঘন্টা বাকি আছে ক্লাসে ডুকবে সকলে।
.
.
নিশাত বান্ধবীদের জন্য দাঁড়িয়ে আছে। বান্ধবীরা আসলে সকলে এক সঙ্গে ক্লাসে ডুকার জন্য। নিশাতের বান্ধবী তানিয়া আর আফিয়া নিশাতের কাছে আসে।

তানিয়া বলে উঠে
-নিশাত আজকে আগে আসছিস যে।
নিশাত মুখ পাকিয়ে বলে।
-আগে এসে ভুল করেছি দোস্ত। একটা ছেলে আমার কাছে এসে টাইম যানতে চাইছিলো। তুই তো যানিস আমি ছেলেদের একদম সহয্য করতে পারিনা। মেয়ে দেখলেই মুখ দিয়ে লালা ফেলায় ছেলেরা। আমিও দিয়ে দিয়েছি অনেক বকা।
-ঠিক করেছিস দোস্ত চল এবার ক্লাসে যাই।

নিশাত মেয়েটা অনেক রাগি। আর ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতে একদম ভালোবাসেনা। বলা যায় ছেলে মানুষ নিশাতের জন্য অনেক খারাপ। তাই তো কালো হিজাব পড়ে আসে নিশাত। আজকে কালো হিজাব পরে ছিলো নিশাত। ওই ছেলেটা বাজে না হলে কি নিশাতের কাছে আসতো টাইম জানার জন্য। রাগে ফুঁসতে থাকে নিশাত।

নিশাত বান্ধবীদের সঙ্গে রুমে ডুকতেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। এই ছেলেটা এখানে। নিশাত চুপচাপ নিজের সিটে গিয়ে বসে পরে।

নিশাত মনে মনে বলতে থাকে।
“হায় আল্লাহ কি হবে এখন। ছেলেটা আমার স্যার হয়। আর আমি কিনা ওইসব বললাম ছিঃ”

নিশাত মাথা নিচু করে সিটে বসে আছে।
ছাদিক সকলের পরিচয় নিয়ে ক্লাস নেওয়া শুরু করে। ছাদিক এমন ভাব করে যেন নিশাত ছাদিককে কিছুই বলেনি।
.
.
ছাদিক ক্লাস নিয়ে অন্য রুমে চলে যায়।
দুপুরে কলেজ ছুটি হয়ে গেলে নিশাত ছাদিকের কাছে আসে।
-স্যরি স্যার।
-স্যরি কেন?
-সকালে আপনার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করার জন্য।
-ওহ আচ্ছা সমস্যা নেই। আমি কিছু মনে করিনাই।
-স্যার আপনি কি, এই কলেজে নতুন। মানে,,, বলতে চাইছি কি,,,,
ছাদিক নিশাতের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে বলে।
-না আমি এই কলেজের নতুন টিচার না। আসলে হয়েছেটা কি তোমাদের রাইসুল স্যারকে তোমরা চিনো তাই না?
-হুম রাইসুল স্যারকে চিনি তো। রাইসুল স্যার অনেক ভালো।
-হ্যাঁ আমি যানি তোমাদের রাইসুল স্যার অনেক ভালো। আজকে তোমাদের রাইসুল স্যার অসুস্থ তাই এসেছিলাম ক্লাস নিতে। আমি এই শহরে নতুন। আমি খালার বাসায় থেকে পড়ালেখা করেছি। তবে এটা আমার জন্মস্থান। নওগাঁ। আমি রাজশাহীতে একটা স্কুলে চাকরি করি কয়েকদিন হয়েছে আমি এখানে এসেছি।
-ওহ আচ্ছা। আর কয়দিন থাকবেন স্যার?
-আর দুইদিন থেকে চলে যাবো।
-ওহ আচ্ছা। স্যার তখনকার বাজে ব্যবহারের জন্য অতান্ত দুঃখিত।
-আরে স্যরি চাওয়া কি আছে। আমি কিছু মনে করিনাই। তবে সব ছেলেরা খারাপ না মনে রেখো।
-স্যার একটা কথা বলতাম।
-হুম বলো সমস্যা নেই।
-না মানে আপনি তো আমার স্যার। কথাটা বলি কেমন করে।
-আরে বলে ফেলো। আমার থেকে তুমি কয়েকবছরের ছোট্ট হয়তো। বলে ফেলো।
নিশাত এবার একটু মুখ পাকিয়ে বলে উঠলো।
-স্যার আমি কিন্তু বয়স নিয়ে কথা বলিনাই। আপনি আমার থেকে চার পাঁচ বছরের বড় আমি তা ভালো করে যানি। তবে আপনি তো স্যার। স্যার তো স্যারি হয় তাইনা বলেন।
-আচ্ছা তুমি এতো কথা বলছো কেন বলোতো। কি বলতে চাও বলে ফেলো আমাকে বাসায় যেতে হবে।

নিশাত এবার দীর্ঘশ্বাস ছেরে বলে।
-আমার বন্ধু হবেন স্যার। আমার কিন্তু কোনো ছেলে বন্ধু নেই। আপনাকে আমার বেস্ট ফেন্ড হতে হবে।

নিশাতের প্রশ্ন শুনে ছাদিক মিস্টি হেঁসে বলে।
-“হুম অবশ্যই।
-আচ্ছা স্যার আপনার নামটা কি?
-আমার নাম ছাদিক তোমার?
-আমার নাম নিশাতুল ইসলাম আয়শা। আমাকে নিশাত বলে’ই ডাকে সবাই।
-বাহ্ অনেক সুন্দর নাম তো তোমার।
-আচ্ছা স্যার আপনাকে কি তুমি করে বলতে পারি।
-হুম অবশ্যই। যেহেতু আমরা বন্ধু তুমি করে বলতেই পারো সমস্যা নেই।
-থান্কিউ স্যার।
-আচ্ছা তাহলে আমি আসি।

ছাদিক চলে যাচ্ছিলো। নিশাত পিছন থেকে ডেকে উঠে।
-এই যে মিস্টার একটু আগে আমার বন্ধু হলেন। আর এখন বান্ধবীকে রেখে কোথায় যাচ্ছেন?

নিশাতের কথাগুলো শুনে ছাদিক ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। ” এই মেয়ে বলে কি। আমার কোলে আবার বসতে চায় নাকি?” ছাদিক নিশাতের দিকে তাকিয়ে মিস্টি হেঁসে বলে।
-নিশাত তোমার সঙ্গে অন্যদিন আড্ডা দিবো ওকে।

কথাগুলো বলে ছাদিক বাইকে চড়ে বসে।
নিশাত ছাদিকের কাছে এসে বলে।
-স্যার এইটা কি আপনার বাইক?
-জ্বি না। এটা আমার ভাইয়ার।
-ওহ আচ্ছা ঠিক আছে।
-হুম
-স্যার একটা কথা বলি।
-হুম বলো।
-আপনাকে দারুণ লাগছে আজ। কালো প্যান্ট আর সাদা ধবধবে শার্টে আপনাকে অনেক সুন্দর মানিয়েছে।
ছাদিক মিস্টি হেঁসে নিশাতের দিকে তাকিয়ে বলে। “থান্কিউ।”
-স্যার শুধু থান্কিউ বললেই চলবেনা। আমাকে একটু জায়গা দিবেন পিছনের সিটে?

ছাদিক এবার বড় ধরণের ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। এই মেয়ে বলে কি। হায় আল্লাহ কোন মেয়ের পাল্লায় পরলাম আমি।
-স্যরি নিশাত।
-কেন স্যার,
-মানুষ খারাপ ভাববে।
-আচ্ছা ঠিক আছে স্যরি।
-রাগ করলে?
-নাহ্ রাগ করিনাই, আমি রাগ করার কে?
-আচ্ছা অন্য একদিন ঘুরতে নিয়ে যাবো ওকে।
-সত্যি স্যার।
-হুম সত্যি।

নিশাতের আবার চোখ মুখ শুখিয়ে গেলো।
স্যার আপনি তো কয়েকদিন পর চলে যাবেন রাজসাহী।
-হুম যাবো তো।
-তাহলে কিভাবে। ঘুরতে নিয়ে যাবেন আমাকে?
-আমি আবার ৬মাস পর আসবো। তখন ঘুরতে নিয়ে যাবো কেমন।
-কিহ্। ছয় মাস।
-হ্যাঁ নিশাত।
-তাহলে আমাকে ৬মাস অপেক্ষা করতে হবে?
-হুু
-দরকার নেই আপনার বাইকে চড়বোনা আমি।
-আচ্ছা ঠিক আছে কালকে বিকেলে।
নিশাত অনেক খুশি হয়ে বলে।
-কি বিকেলে?
-ঘুরতে নিয়ে যাবো হয়েছে।
-সত্যিই স্যার।
-হুম সত্যি তবে সত্য আছে।
-জ্বি বলেন স্যার। তোমাকে কালো বোরকা পড়ে থাকতে হবে। কারণ ভাইয়া বা অন্যকেউ দেখে ফেললে আমার মানসম্মান চলে যাবে।
-আচ্ছা ঠিক আছে স্যার।
-আরেকটা কথ্যা, আমাকে স্যার বলা চলবেনা।
-কেন কেন?
-কারণ আমরা তো বন্ধু তাইনা?
-হুম তাই তো?

আসলে নিশাত বাচ্চা টাইপের একটা মেয়ে। ঘুরতে ফিরতে খেতে অনেক ভালোবাসে। আর অনেক বেশি কথা বলতে ভালোবাসে নিশাত। একবার মুখ চলতে থাকলে থামার কোনো নাম নেই। তবে নিশাত কোনোদিন কোনো ছেলের কাছে এইসব আবদার করেনি। আজ প্রথম কোনো ছেলেকে ঘুরতে নিয়ে যেতে বলছে নিশাত।
ছাদিকের ব্যাবহারে নিশাতের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ধির কন্ঠে কথা বলে ছাদিক। ছাদিকের কথাবার্তা দেখে নিশাতের ভালো লেগে যায়। ছাদিকের গুলুমুলু গালটাতে ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করছে খুব নিশাতের। ছাদিক লম্বায় নিশাতের থেকে অনেকটায় বড়।
-আচ্ছা স্যার তাহলে কালকে
-হুম কালকে।

“ছাদিক নিশাতের পাগলামী গুলো দেখে মুচকি হেঁসে উঠে। পাগল মেয়ে একটা।

(চলবে?)

গল্পঃ #তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
পর্বঃ ২
লেখকঃ #Mohammad_Asad

“এই পাজি স্যারটা তো খুব খারাপ। কালকে বললো আজকে আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবে। নম্বরটা না নিয়ে ভুল করেছি। আগে আসুক তারপর দেখাচ্ছি।

“কিছুক্ষণ পর নিশাত তাকিয়ে দেখে ছাদিক চলে এসেছে। উফফ্ যা লাগছেনা দেখতে, হোয়াইট শার্ট, সাদা প্যান্ট আর ব্লু কোট পড়ে এসেছে ছাদিক। ছাদিক নিশাতের কাছে এসে বলে।
-এই যে চলুন।
নিশাত রেগে দাঁত কটমট করে বলে।
-যাহ্ যাবো না আপনার সাথে।
-মা…..মানে?
-এতো লেট করলেন কেন?
-ওহ আচ্ছা এই জন্য রাগ তাহলে!!
-হুম
-আসলে একটা কাজ ছিলো বাসায় তাই একটু লেট হয়ে গেছে স্যরি।
-কি এমন কাজ করছিলেন?
-বেশি কিছুনা।
-আচ্ছা স্যার আপনার বাসায় কে কে আছে?
-পিছনের সিটে বসো তারপর বলছি।
-খারাপ উদ্দেশ্য নেই তো আবার। খারাপ উদেশ্য থাকলে এখনি বলে ফেলুন। আমি আপনার সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাবোনা।
মুখ পাকিয়ে কথা গুলো বলে নিশাত। ছাদিক চোখ বড় বড় করে বলে।
-এই মেয়ে আমাকে দেখে তোমার কি মনে হয় হ্যাঁ। আর আমি কি তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম? তুমি তো বলেছিলে।
-স্যরি।

নিশাত এবার কোনো কথা না বলে। বাইকের পিছনের সিটে বসে আছে। ছাদিক বাইক স্টার্ট করে দিয়েছে।
-স্যার আপনাকে জরীয়ে ধরতে পারি?
-নাহ্
-আমার খুব ভয় করছে। আগে কখনো চড়েনি তো।

ছাদিক এবার রাস্তার এক পার্শে বাইক থামিয়ে নিশাতকে বলে।
-এই মেয়ে নামো বলছি।
-কেন স্যার?
-আমি বলছি তাই।

নিশাত ছাদিকের কথা মতো বাইক থেকে নেমে পরে।
-আমার সামনে এসে দাঁড়াও বলছি।
“নিশাত মুখ পাকিয়ে বলে।”
-আপনার কোনো খারাপ উদেশ্য নেই তো।

ছাদিক নিশাতের মুখের কাছে নিজের মুখ নিয়ে গিয়ে বলে। “এই মেয়ে আমাকে বলছো আপনার খারাপ উদেশ্য আছে কিনা? আমাকে দেখে তোমার কি মনে হয় বলোতো? আমি খুব খারাপ। তুমি বললে,, স্যার আপনাকে কি জরীয়ে ধরতে পারি। এই মেয়ে আমি বুঝতে পাচ্ছি না। আমাকে বলছো তুমি,, আপনার কোনো খারাপ উদেশ্য আছে কিনা। এখন তো মনে হচ্ছে তোমার কোনো খারাপ উদেশ্য আছে।
-এ্যা এ্যা এ্যা।
-নিশাত কান্না করবেনা একদম।
-স্যরি স্যার। আপনাকে এইসব বলার জন্য। স্যরি স্যরি স্যরি স্যরি।
” ছাদিক এবার মিস্টি হেঁসে বলে।”
-হয়েছে হয়েছে আর স্যরি বলতে হবে না। এবার এসো বাইকে চড়ো। ঘুড়তে যাবে।
-হিহিহি থান্কিউ স্যার।
-পাগলী মেয়ে একটা।

ছাদিক বাইক স্টার্ট করে দিয়েছে। ছাদিক মিস্টি হেঁসে বলে।
-আমাকে জরীয়ে ধরতে পারো সমস্যা নেই। তবে একটা সত্য আছে।
-দরকার নেই বাবা জরীয়ে ধরার। আপনি আবার পরে কি করতে বলবেন কে যানে?
-আচ্ছা নিশাত তুমি আমাকে আপনি করে বলছো কেন বলোতো? কালকে তো তুমি আমাকে বললে, তোমাকে তুমি করে বলতে।
-স্যরি স্যার, আস্তে আস্তে তুমি করে বলবো কেমন।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
-হু
-নিশাত একটা কথা বলবো তোমাকে!!
-হুম বলেন,
-আমার মিষ্টি বউ হবে? আমার সাথে দুষ্টুমি করবে ঝগড়া করে। আর আমাকে শাসন করবে।

ছাদিকের কথা শুনে নিশাত চুপ হয়ে যায়। একদম কথা বলছেনা নিশাত। নিশাতের নিরবতা দেখে ছাদিকও চুপ হয়ে থাকে কিছুক্ষণ। অনেকক্ষণ অবদি দুজন দুজনের সঙ্গে কথা বলেনা। ছাদিক মিস্টি কন্ঠে বলে।
-নিশাত চুপ করে আছো যে। তুমি তো সারা রাস্তা বকবক করে এলে। এখন নিরব কেন? আমার ইচ্ছের কথাটা বলেছি তোমায়। তোমার মতামত দিতে পারো। তুমি রিজেক্ট করে দিলে কিছু মনে করবোনা আমি। তবুও কথা বলো প্লিজ চুপ থেকো’না।

নিশাত ছাদিকের কথাগুলো শুনে চুপ করে থাকে কিছু বলেনা। কিছুক্ষণ পর ছাদিককে পিছন থেকে জরীয়ে ধরে নিশাত। ছাদিক বুঝতে পেরে যায়। নিশাত রাজি আছে। মুখে না বলুক তবে জরীয়ে ধরে বুঝে দিয়েছে। ছাদিক মিস্টি হেঁসে বলে।
-তাহলে রাজি আছো তুমি?
“নিশাত ছাদিককে শক্ত করে জরীয়ে ধরে”
-হুম
“ছাদিক এবার হাহাহা হিহি করে হেঁসে উঠে।
-আমার মিস্টি বউটার দেখছি খুব লজ্জা।
“নিশাত এবার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে।”
-হয়েছে হয়েছে আর ডং করতে হবেনা। কে বলেছে আপনার বউ হবো আমি?
-তাহলে জরীয়ে নিলে কেন?
-ইচ্ছে হয়েছে তাই। আপনারা ছেলেরা না অনেক বাজে হয়ে থাকেন। মেয়েদের স্বপ্ন দেখিয়ে ছেরে দেন। আমরা মেয়েরা রাত জেগে কান্না করি শুধু।
“ছাদিক মিস্টি হেঁসে বলে।”
-সব ছেলেরা এক না নিশাত।
-হুম যানি যানি। আমার বান্ধবীর সঙ্গে একটা ছেলে অভিনয় করেছিলো। আর আমার ব্যাচারা বান্ধবীটা কান্না করেছিলো সেদিন?
-আচ্ছা নিশাত তুমি কি আমাকে খুব খারাপ ভাবো?
-না তা না,
-তাহলে বলছো কেন? সব ছেলেরা খারাপ!
-প্রেম করার সময় কোনো মেয়ে বুঝতে পারেনা। ছেলেটা অভিনয় করছে কিনা। কিন্তু পরে, আস্তে আস্তে বুঝতে পেরে যায়।
-তাই
-হুম
“ছাদিক এবার দীর্ঘশ্বাস ছেরে বলে।”
-আমরা চলে এসেছি। নৌকায় চড়বে?
-নাহ্ আমার ভয় করে।
-আমি আছি তো একটুও ভয় করবেনা।
-আচ্ছা ঠিক আছে চলেন।
“ছাদিক দোকানের পার্শে বাইক রেখে চাচাকে বলে।
-চাচা দুই প্লেট ফুসকা দেন তো।

নিশাত বোরকাটা উঠিয়ে রাখে। যেনো ভালোভাবে খেতে পারে। নিশাত ফুসকা পেলে হয়ে গেলো, আর কিছু চাইনা।
চাচা ফুসকা দেওয়া সঙ্গে সঙ্গে নিশাত ফুসকা গুলো কয়েকমিনিটে সাবার করে দেয়। ছাদিক নিশাতের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে। নিশাত ছাদিকের প্লেট থেকে খেতে শুরু করে। ছাদিক গালে হাত দিয়ে নিশাতের দিকে তাকিয়ে আছে। নিশাত হিহিহি করে হেঁসে উঠে। তখন ছাদিকের হুঁস ফিরে।
-স্যার আপনার ভাগেরটাও সাবার করে দিলাম।
-তুমি না খুব পাজি।
-হুম যা ভাবছেন তাই।
-আগে বউ করে নিয়ে আসি ঘরে। তারপর তোমায় দেখাচ্ছি। পাজি একটা।
“নিশাত এবার হিহি হোহো করে হেঁসে হেঁসে বলে”
-স্যার আপনি ভালোভাবে ভেবে দেখেন। আমি আপনার বউ হইলে কিন্তু বারোটা বেজে ছারবো আপনার। “কথাগুলো বলে আবার হিহিহি হোহোহো করে হেঁসে যাচ্ছে নিশাত। ছাদিক শুধু নিশাতের পাগলামী গুলো দেখছে।
-আর হ্যাঁসতে হবেনা। চলো এবার নৌকায় চড়বে।
-আমার ভয় করছে খুব।
-আমি আছি তো। একটুও ভয় করবেনা।
-সত্যি বলছেন তো?
-হুম সত্যি বলছি। আমার উপর বিশ্বাস রাখো।

ছাদিক চাচাকে ফুসকার বিলটা দিয়ে। নিশাতকে নিয়ে নৌকায় চড়ে। নিশাত ভয় পেয়ে ছাদিককে জরীয়ে ধরে আছে। ছাদিক মিস্টি হেঁসে নিশাতকে বলে।
-আরো শক্ত করে ধরো পড়ে যাবে নয়তো। ছাদিক এগুলো দুষ্টুমি করে বলে। আর পাগলী মেয়েটা ভয় পেয়ে ছাদিককে জরীয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে আছে। ছাদিক মাঝি চাচাকে বলে।
-মাঝি চাচা। আপনি অনেক দূরে নিয়ে চলেন তো। এই মেয়েটাকে নদীর মাঝখানে ফেলে দিয়ে আসবো। ” কথাগুলো বলে ছাদিক মিস্টি হেঁসে উঠে। এদিকে নিশাত অনেক ভয় পেয়ে যায়। ছাদিককে ছেরে দিয়ে বলে উঠে।
-স্যার আপনি কি বলছেন এইসব। আমাকে ফেলে দিয়ে আসবেন মানে?
-আরে পাগলী মজা করছিলাম। আমার যদি বউ হও তুমি, তাহলে ফেলে দিয়ে আসবোনা।
“নিশাত এবার অভিমানী সুরে বলে”
-দরকার নেই আপনার বউ হওয়ার আপনি খুব খারাপ। আমাকে শুধু ভয় দেখান।
-আচ্ছা তাই না। মাঝি চাচা এই মেয়েটাকে কি করা যায় বলেন তো।

মাঝি চাচা হেঁসে হেঁসে বলে।
-এই ছেমড়িরে মাঝখানে ফেলে দিয়ে আসি। এখানে রেখে কি করতাম।

নিশাত এবার খুব ভয় পেয়ে ছাদিককে জরীয়ে ধরে।
-স্যার আমাকে এমন করে ভয় দেখাচ্ছেন কেন?
-কই ভয় দেখাচ্ছি। আমাকে জরীয়ে ধরেছো কেন? ‘তোমাকে আরামে পানিতে ফেলে দিয়ে আসি কেমন।
“ছাদিকের কথাগুলো শুনে নিশাত এবার আরো বেশি ভয় পেয়ে যায়। ছাদিককে আরো বেশি শক্ত করে জরীয়ে ধরে। ছাদিক বলে উঠে।
-নিশাত আমাকে ছেরে দেও বলছি।
-না ছেরে দিবোনা। আপনি আমাকে মেরে ফেলবেন।
-আচ্ছা পানিতে ফেলে দিবোনা। তাহলে একবার বলো ভালোবাসি।
-নাহ্ বলবো না। আপনি খুব খারাপ।
-আচ্ছা তাহলে পানিতে ফেলে দিবো।
-না না, বলছি বলছি, ফেলে দিবেননা প্লিজ।
-আচ্ছা তাহলে বলো ভালোবাসি।
-ভালোবাসি।
-কাকে ভালোবাসো?
-আপনাকে ভালোবাসি অনেক।
-আমাদের প্রেম কয়দিনের বলো তো।
-দুইদিনের।
-আর দেখা কয়দিনের?
-দুইদিনের?
-আমার বউ হতে কোনো আপত্তি নেই তো তোমার?
-না নেই।

ছাদিক এবার নিশাতকে ভালোভাবে নিজের সামনে বসিয়ে নেয়। কপালে চুমু দিয়ে বলে।
-ভালোবাসি।
-হুম আমিও, খুব ভালোবাসি।

এদিকে মাঝি চাচা গান গাইতে শুরু করে।
“হায় রে প্রেম আমার সামনে।
আমারো যে ইচ্ছে করে প্রেম করতে”

ছাদিক আর নিশাত চাচার কথা শুনে হিহিহি করে হেঁসে উঠে। ছাদিক চাচাকে বলে।
-চাচা আপনার ঘরে বউ নেই নাকি?
-আছে গো আছে। তবে তোমাগো মতন এতো প্রেম নেই মনে।
.
.
.
.
ছাদিক আর নিশাত নৌকা থেকে নেমে। বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিয়ে দেয়। ছাদিক বাইক ডাইভ করছে।
-নিশাত তোমাকে একটা কথা বলতাম।
-হুম বলুন।
-আমায় মন থেকে ভালোবাসো তো?
-হুম
-আমার জন্য একবছর অপেক্ষা করতে পারবে?
-হুম পারবো।
-কালকে আমি রাজশাহী চলে যাচ্ছি। কোনো ছেলের সঙ্গে কথা বলবেনা কিন্তু।
-কেন কালকে রাজশাহী যাবেন?
-তোমাকে বলেছিলাম না। কালকে আমার ছুটি শেষ। তাই কালকে আমাকে চলে যেতে হবে।
-হুম
-মন খারাপ করোনা। মাঝে মাঝে নওগাঁ আসবো আমি। তখন আমার সঙ্গে দেখা করতে পারবে তুমি।
-হুম
-মন খারাপ?
-নাহ্
-আচ্ছা আমার ফোন নম্বরটা নিয়ে রাখো।
০১৭********, তুলেছো?
-হুম।

নিশাত হিহিহি হোহোহো করে হেঁসে উঠে।
-এই পাজি মেয়ে হাঁসছো কেন?
-আপনার ফোন তো ভাঙা। হিহিহিহি।
-সমস্যা নেই চালিয়ে নিবো?
-স্যার আপনি ফেসবুক ব্যাবহার করেন?
-নাহ্
-ছিঃ আপনি কত্ত বোকা। আবার যখন নওগাঁ আসবেন তখন যেন স্মার্টফোন দেখি আপনার হাতে ওকে।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
-আমার সঙ্গে কিপ্টামি করলে একদম চলবেনা বলে দিলাম।
-হা হা ঠিক আছে।
-স্যার কালকে কখন রাজশাহী যাবেন?
-রাত্রের বাসে।
-ওহ আচ্ছা। তাহলে কালকে সকালে আমার সঙ্গে কলেজের রাস্তায় দেখা করতে আসবেন প্লিজ।
-ওকে আসবো। তবে পরিবারের সঙ্গে কালকে সময় দিতে হবে। তাই তোমাকে দেখেই চলে যাবো বুঝছো।
-হুম বুঝেছি।
-আর শুনো।
-হুম বলেন স্যার।
-আমাকে স্যার স্যার বলছো কেন?
-স্যরি স্যার।
-আবার
-স্যরি স্যরি কলিজা।
-হা হা, এবার একটু ঠিক আছে।

(চলবে?)