গোধূলির শেষ আলো পর্ব ১১+১২

0
440

১১+১২
গোধূলির শেষ আলো?
#পর্ব ১১
writer Tanishq Sheikh Tani

“- এই পাগলী কাদছো কেন?

“- আপনি কাদছেন কেন?

“- কই?

“- এই যে কাঁদছেন। খালিদের কাঁধে মাথা রেখে চোখের কোনের জল মুছে দেয়।খালিদ ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে তানির কপালে চুমু দিয়ে চোখ মুছিয়ে দেয়।

“- একটা কথা জিজ্ঞেস করি?

“- একটা কেন একশ টা জিজ্ঞেস করো।অনুমতির কি আছে হুমম?

“- এতো ভালোবাসেন ক্যা আপনি আমারে? আমি তো ওতো সুন্দরীও না।আপনের যোগ্য ও না।

“- (নিশ্চুপ)

“- আপনি রাগ করেছেন তাই না? মাফ করে দেন। আমি আর বলবো না

“- পাগলী বউ একটা! তোমার কথার কি জবাব দেবো তাই তো খুজে পাচ্ছি না।তাই ভাবছি

“- মানে? মুখটা চিকন করে সরে বসে তাকিয়ে থাকে তানি।তা দেখে হো হো হো করে হেসে ওঠে খালিদ।

“- হাসেন কেন?

“- এমনি

“-সত্যি করে বলেন?

“- তানি! ঘৃণার কারণ থাকে কিন্তু ভালোলাগা ভালোবাসার নির্দিষ্ট কোনো কারন থাকে না।কারো চোখ দেখেই কাওকে ভালোবাসে কেউ,এভাবেই কারো হাসি,কারো পার্সোনালিটি,কারো বিদ্যা, বুদ্ধি, দেখেও ভালোলাগা ভালোবাসার সৃষ্টি হয়।আবার অনেকে এসব কিছুই না শুধুমাত্র সঙ্গের মানুষের সান্নিধ্যে পেয়ে তার প্রতি দূর্বলতা অনুভব করে।তার চোখে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে অসুন্দর হলেও সবার কাছে।আবার অনেকে কারন ছাড়াই কাওকে ভালোবেসে ফেলে তাকে দেখেই।তখন স্পেসিফিকলি বলা কঠিন হয়ে দাড়ায় কি দেখে তাকে ভালোলেগেছে? কেনোইবা এতো ভালোবাসতে ইচ্ছা করে? অবচেতন মনে শুধু তার প্রেমের বীণার ঝঙ্কার বাজে। কি? কেন? কোথায় এসব প্রশ্নবোধক চিহ্নের কোনো স্থান হয়না মনে।তবে হ্যাঁ মাঝে মাঝে একটা প্রশ্ন বোধক চিহ্ন খুব টানমারে সেই বীণার তারে।”কি?” মনে একটাই সংশয় কাজ করে।আচ্ছা সে”কি”আমাকে ভালোবাসবে? গ্রহণ করবে আমার পাণি? আমিও তোমাকে অবচেতন মনে ভালোবেসে চেতনা হারিয়েছি তোমার মাঝে।কোথায়, কিভাবে,কেন? আমি নিজেও জানি না।একদিন হুট করেই তোমাকে চোখে হারাতে লাগলাম ক্ষনে ক্ষনে সে টান বাড়তেই লাগলো আমার।

তানি ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে খালিদের দিকে।কি প্রশ্ন করেছিলো সেটাই ভুলে গেছে খালিদের উত্তর শুনে। হাইরে মাস্টোর! মনে মনে বলে তানি ঠোঁট দুটো কুঁচকে কপালে চাপড় দেয়।তা দেখে কপালে ভাঁজ পড়ে খালিদের

“- কি হলো?

“- কিছু না।আচ্ছা আপনি মাস্টার হলেন না কেন?

“- মানে!

“- কি দারুন পাঠ বুঝাতে পারেন আপনি? নির্ঘাৎ সব এ+ পাতো।
খালিদ বুঝতে পারে তানি ওর বড়সড় করে বলা জবাবটা নিয়ে মজা করছে।

“- হুমম। আমার এক ছাত্রী ক্লাস ফাইভে অংকে ডাব্বা মেরেছিল।যার কারনে মাস্টার হওয়ার সাহস করিনি আর।মুচকি হেসে সামনের দিকে তাকিয়ে বলে খালিদ।

তানি মুখ ফুলিয়ে কাঁদো কাঁদো চোখে আরো দূরে সরে বসে।একটুখানি খালিদের দিকে তাকিয়ে কান্নায় করে দেয়।

“- আরে! আরে কাঁদছো কেন? আমি তো মজা করেছি।

“- আমি বাড়ি যাবো।

তানির গম্ভীরমুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে গলা জড়িয়ে কাছে নিয়ে আসে খালিদ।তানির গলা চাদরে ঢেকে দিয়ে আলতো করে গাল টা টেনে দেয় খালিদ।অভিমানে তানি সরে যেতে চাইলে দুবাহুতে শক্ত করেই জড়িয়ে রাখে।

“- উহু

“- কি উঁহু হুমম?

“- আমি তো অঙ্কে ফেল বউ। আমাকে ভালোবাসা লাগবি না যান সরেন।

“- আমার এই অঙ্কে ফেল করা বউটাকেই চাই।ইহকাল পরকাল সবকালেই।তোমাকে ভালোবেসেই তো জীবন আমার এতো মধুর।
রাগ করে না লক্ষিটি!দুষ্টুমি করেছি।

“- করি নেই।মুচকি হেসে জবাব দেয় তানি।

“- তবে কাঁদলে কেন?

“- জানি নে।

“- আমি জানি?

“- কি!

“- আমার বউটা বুঝতে শিখে গেছে তাই স্বামীর ভালোবাসা চাই কটু কথা না।স্বামীর আদরে আহ্লাদে সম্মানিত হতে চাই।আমিও চাই আমার স্ত্রী সম্মানিত হোক আমার চোখে।আমার বাচ্চার আদর্শ মা হয়ে উঠবে তবেই তো?

“- যান! লজ্জায় খালিদের গলায় মুখ লুকায়।

“- আচ্ছা চলো উঠি।অনেক ঠান্ডা বাতাস।অসুখ করবে তোমার।

“- আরেকটু থাকি না?

“- অন্য একদিন।এখন থেকে প্রতিদিন প্রতিরাত যতোদিন তোমার পাশে আছি এভাবেই কাটাবো একে অন্যের দুদন্ড শান্তির পরিপূরক হয়ে।তোমার হাতে হাত রেখে তোমার মাথা কাঁধে রেখে।

“- আপনি না অনেক সাহিত্যিক মার্কা কথা বলেন মাঝে মধ্যে। কিছুই বুঝি না।

“- সময় হলেই এই সাহিত্যিক কথা তোমার জীবনের অংশ হয়ে যাবে।এখন ওঠো! ওঠো
তানিকে উঠিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়।বাড়িতে মেয়ে জ্বামাইকে ঢুকতে দেখেই ফজিলা বেগম কুশলাদি জিজ্ঞেস করে।মেয়ের মুখের হাসিই বুঝিয়ে দিচ্ছে সমস্যার সমাধানের ইঙ্গিত। মনে মনে শোকর গোজার করে আল্লাহ কাছে ফজিলা বেগম।
তানিকে বলে জ্বামাইকে নিয়ে ঘরে যেতে।খাবার পাঠিয়ে দেবে একটু পর।তানি মাকে জানিয়ে দেয় ওরা পুষ্পাদের বাড়ি খেয়ে এসেছে।তাই এখন আর কিছু খাবে না।ফজিলা বেগম তবুও হালকা পাতলা কিছু তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

“- তুমি ঘরে যাও আমি হাত মুখ ধুয়ে আসছি।

“- আমিও যাবো আপনার সাথে।

তানি খালিদের শার্টের পেছন টেনে ধরে।খালিদ ঘুরে মৃদু হেসে তানির মুখটা দুহাতের মাঝে নেয়।তারপর তানির কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে বলে,

“- দরকার নেই।তুমি ঘরে গিয়ে এই কাপড় পাল্টে আরামদায়ক কাপড় পড়ে নাও।আমি আসছি। যাও।

“-আছে দরকার।কলচেপে হাতমুখ ধুতে কষ্ট হবে আপনার।আমি কলচেপে দেবো তারপরে একসাথে যাবো।

“- আমি তো রোজই কলচেপে হাত ধুই।সমস্যা হবে না।তুমি ঘরে যাও লক্ষিটি নয়তো ঠান্ডা লেগে যাবে।

“- রোজ আর আজ কি এক? রোজ কি আপনার বউ সাথে ছিল? আর তাছাড়া আমার একটু প্রয়োজন ছিল।

খালিদ বুঝতে পারে তানি হয়তো টয়লেটে যাবে।বাড়ি থেকে দূরে কলপাড় ও টয়লেট। রাত বলে হয়তো ভয় পাচ্ছে।কিন্তু খালিদ তো জানে না টয়লেট যাবে বলেই শুধু নয় তানির এখন ইচ্ছাই হচ্ছে না খালিদের ছায়া থেকে একচুল সরতে।

“- আচ্ছা আসো।

তানি লজ্জা রাঙা মুখে আস্তে আস্তে কলচেপে দেয় আর খালিদ হাত মুখ ধুয়ে ওজু করে নেয়।ঘুমানোর আগে ওজু করে নেওয়া খালিদের অভ্যাস। ওজু শেষে খালিদ বলে,

“- আমি এখানে দাড়িয়েছি তুমি টয়লেটে যাও।

“- আচ্ছা!

টয়লেট থেকে বের হয়ে খালিদের কথায় হাতমুখ ভালো করে ধুয়ে ওজু করে নেয় তানি।ঘরে গিয়ে খালিদকে গামছা দিতেই খালিদ নিজের ভেজা হাত মুখ না মুছে তানির হাত মুখ মুছিয়ে দেয়।তানি লজ্জায় লাল নীল হয় স্বামী সোহাগ পেয়ে।স্বামীর চাপ দাড়ি বেয়ে পড়া ফোটা ফোটা ওজুর পানির মোহে আচ্ছন্ন হয়ে রয়।সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হয়।হাত মুখ মোছা হলে তানির লজ্জায় অবনত মুখের থুতনি ধরে বলে,

“- তাড়াতাড়ি কাপড় পাল্টে নাও। আমি ততক্ষণ বারান্দায় দাঁড়িয়েছি।বলেই গামছাতে হাত মুখ মুছতে মুছতে দরজা চেপে দিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো খালিদ।
কাপড় পাল্টানোর কথা শুনে ভয় লাগছিলো তানির।একই রুমে কোথায় কাপড় পাল্টাবে সেই চিন্তা ছিল মনে কিন্তু খালিদের ব্যবহারে সত্যি মুগ্ধ হয়ে গেলো তানি।কতোটা স্বস্তি দিচ্ছে খালিদ তানির মনে খালিদ নিজেও হয়তো জানে না? অল্প সময়ের মধ্যেই কাউকে কতোটা আপন করে নেওয়া যায় তানি খালিদের সাহচর্যে এসে শিখছে।দরজাটায় ছিটকিনি লাগাতে গিয়েও লাগালো না কি এক গভীর বিশ্বাস জাগলো খালিদের প্রতি তানির।বাইরে তার বিশ্বস্ত পাহাড়াদার থাকতে কোন সংশয় বা ভয় এসে দাঁড়ালো না তানির।
কাপড় পাল্টে দরজা খুলতেই দেখে খালিদ বুকের উপর হাত ভাজ করে বারান্দার খুটির সাথে হেলান দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।তানি ডাকলো না খালিদকে।খালিদের মতোই অনুকরণ করে দাড়িয়ে রইলো পেছনে।খালিদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত তাকিয়ে মুহুর্তেই শরীরের লোম দাড়িয়ে গেলো।অন্যরকম ফিল হতে লাগলো খালিদকে দেখে আজ।এই মানুষটা আত্নার আত্মীয় হয়ে গেলো মৃদু হেসে নাক কুচকালো আনমনে তানি।লজ্জায় সোজা হয়ে দাড়িয়ে দরজার পেছনে আধো আড়াল হয়ে গলা ঝেড়ে কাশে।

“- ওহ! কাজ শেষ তোমার? আসছি আমি।

খালিদ গিয়ে শার্ট টা খুলে আলনায় রেখে বিছানায় বসলো।তানি দরজা লাগাতে যাবে তখনি ফজিলা এসে ফিসফিস করে মেয়েকে ডেকে নিয়ে গেলো।জোর করে দু গ্লাস দুধ দিতে গেলে তানি এক গ্লাস নিয়ে আসলো সাথে সেদ্ধ ডিম, ডিমের পিঠা,ভাপা পুলি দিয়ে দিল।

তানি বিছানার পাশে রেখে দরজা লাগাতেই কলিজা কাপলো।কি হতে চলছে ভেবেই হৃদস্পনদন জোরে জোরে চলতে লাগলো।দরজা লাগিয়ে আলনায় এটা ওটা গুছাতে লাগলো লজ্জায় ঠোঁট চেপে।

“- এই তানি! এসব এনেছো কেন?এতো কিছু কে খাবে?

“- মা দিল। আমি না করতাম কি করে।উল্টো ঘুরে আলনার কাপড় ধরে বলে।

“- ওহ! তো তুমি ওখানে কি করছো এদিকে আসো।

“- আপনি খেয়ে নেন আমি এটা গুছিয়ে আসছি।দৃষ্টি অবনত করে ঠিক আগের মতোই দাড়িয়ে জবাব দেয়

খালিদ বিছানা ছেড়ে উঠে আসছে বুঝে গলা শুকিয়ে যায়, দ্রুত নিঃশ্বাস ফেলে তানি।চোখ বন্ধ করে ঠোঁটে ঠোট চেপে আলনা শক্ত করে ধরে দাড়িয়ে থাকে।হঠাৎ কাঁধে খালিদের নিঃশ্বাস অনুভূত হতে কাঁপতে থাকে তানি।

“- ভয় পাচ্ছ কেন? যা ভাবছো এমন কিছুই করবো না। চলো! তানির কাঁধে হাত জড়াতেই তানি মুখটা খালিদের বুকে লুকায়।বিছানায় এনে তানিকে বসিয়ে লেপটা পেট অব্দি টেনে খালিদও পাশে বসে তানির হাতটা ধরে মৃদু হেসে বলে,

“- ভয় পেয়ো না আমাকে তানি।আমি তোমার বিশ্বাসে, ভালোবাসায়, সাচ্ছন্দ্যবোধে থাকতে চাই।আমি ঐ দিনের জন্যই অপেক্ষা করবো যেদিন ভয় নয় শুধু লজ্জা শোভা পাবে তোমার চেহারায়।ততদিন আমার বুকে ঘুমাতে ভয় হবে না তো তোমার?

তানি মাথা নাড়ায়।খালিদ মৃদু হেসে বুকে জড়িয়ে দুটো বালিশ এক করে তার উপর মাথা রাখে।দুটো বালিশকে স্তুপ করতে দেখে তানি কিছু ভাবে যা খালিদের দৃষ্টির আড়াল হয় না।

“- তোমার বালিশ প্রয়োজন নেই যতোদিন আমি আছি।আমার বুক আর বাহুই তোমার বালিশ এখন থেকে।এভাবে ঘুমাতে তোমার এখন অসুবিধা হবে কিন্তু আস্তে আস্তে ঠিক অভ্যাস হয়ে যাবে।এখন লক্ষি বউয়ের মতো ঘুমিয়ে পড়ো আসো।

“- মা যে ওসব দিলো খাবেন না? খালিদের বুকে মুখ উচু করে প্রশ্ন করলো তানি

“- উমম! খাবো একটু পর।কিছুক্ষণ এভাবে তোমাকে বুকে রেখে আমার ভেতরের শূন্যতার হাহাকার কমিয়ে নেই তারপর।তানিকে বুকে জড়িয়ে তানির মাথায় থুতনি ঠেকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,
তুমি আমাকে ঠকাবে না তো তানি?তোমাকে ভালোবেসে মরতে রাজি তবুও ঠকতে রাজি না আমি।এতো ভালোবেসে দূরে সরিয়ে দিয়ো না আর।আমি বাইরে দিক দিয়ে যতটাই মজবুত ভেতরে ততটাই দূর্বল আপনজনের দেওয়া আঘাতে আঘাতে।তোমার ভালোবাসা আঁকড়ে বাঁচতে চাই আমি প্লিজ আমাকে মেরে ফেলো না।আমি রেগে গেলে চুপ করে থেকো তবুও ভুল বুঝে চলে যেয়ো না দোহায়।আমি হয়তো আজকের পর পারবো না বাঁচতে তোমাকে ছাড়া।তুমি জেনে রাখো এখন থেকে আমার জীবন বাঁধা তোমার ভেতরে।

খালিদের ঠোট চেপে ধরে গলা জড়িয়ে কাঁদে তানি খালিদের কান্না ভেজা চোখদুটো দেখে।খালিদের কষ্ট আজ হৃদয়বিদির্ণ করছে তানির।

“- কি বলছেন এসব? একদম এসব কথা বলবেন না।আমি আপনার! আজ এই রাত এই চাঁদ ঐ সৃষ্টিকর্তাকে সাক্ষী রাখে ওয়াদা করলাম আমি শুধুই আপনার।এই দেহে, মনে শুধু আপনিই থাকবেন। মরে যাবো আমি যদি এর অন্যথা হয়।তবুও ওয়াদা পালনে একচুল নড়বো না।

গোধূলির শেষ আলো?
#পর্ব ১২
Writer Tanishq Sheikh Tani

আজ একদিন হলো হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে রয়েছে তাজ।ঐদিন লোকজন ডেকে দ্রুত মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় মুমূর্ষু তাজকে তাসলী।একা একটা মেয়ে মানুষ একমাত্র সন্তানের মৃতপ্রায় মুখটা দেখে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। তাজের বাবা রাজনৈতিক কাজে ঢাকা যাওয়ায় অসহাত্ব কাজ করলো ভেতরে ভেতরে তাসলি বেগমের।যেই স্বামীকে তিনি মনে মনে ঘৃণা করতেন আজ সেই স্বামীর ঘাটতি প্রবলভাব অনুভব করলো তাসলী।সারাটা রাত হাসপাতালের বেডের বাইরে জায়নামাজ বিছিয়ে আল্লাহ দরবারে দুহাত তুলে ছেলের আরোগ্য কামনা করেছেন।না খেয়ে চিন্তায় ব্লাড প্রেসার বেড়ে সকালে শয্যাশায়ী হলো তাসলী।মুখে তখনও শুধু তাজ! তাজ।

“- ঐ ডাকতর! আমার ছাওয়াল কনে? হাসপাতালের সিঁড়িদিয়ে উঠতে উঠতে উদভ্রান্ত দৃষ্টিতে পাশ দিয়ে যাওয়া এক ডাক্তার কে ধরে চিৎকার করে বলতে লাগলেন আব্বাস জোয়ার্দার।

“- ছাড়ুন আমাকে।শান্ত হোন আপনি।কত নম্বর ওয়ার্ডে আছে আপনার ছেলে? আর কি হয়েছে তার?নিজের কলার ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে উঠলো ডাক্তার ফারুক।

“- এইডা আমি জানলে কি তোরে কতাম? তুই শালা ডাকতর হলি কি করে? তোর ডাকতরীর লাইসেন্স আমি উড়াইয়ে দেবো।তাড়াতাড়ি ক আমার ছাওয়াল কই?

ডাক্তারের কলার চেপে ধরেছে আব্বাস জোয়ার্দার। এমন পরিস্থিতিতে আশেপাশে লোক জড়ো হওয়া শুরু হচ্ছে। সবাই শুধু উৎসুক চোখে দেখে যাচ্ছে কিন্তু কেউ এগিয়ে এসে কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস বা ইচ্ছা কোনোটাই দেখাচ্ছে না।
ভীর ঠেলে আব্বাস জোয়ার্দারের দুজন চ্যালা ও তাজের দুই জন বন্ধু এসে আব্বাস জোয়ার্দারকে ডাক্তারের কলার ছাড়িয়ে জোর করে নিয়ে গেলো ভেতরে।

বেচারা ডাক্তার বুঝে উঠতে পারলো না লোকটা নরমাল না এবনরমাল।ভীর দেখে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো ডাক্তার ফারুক।কলার ঠিক করে এগিয়ে যেতেই এক ওয়ার্ড বয় এসে ধমকের সুরে ভীর ভঙ্গ করে সবাইকে কাজে যেতে বললো।

“- স্যার আপনে ঠিক আছেন তো?

“- ইয়েস! আ’ম ওকে।বাট হু ইজ হি মিলন? চোখে মুখে দানবের মতো হিংস্রতা লোকটার।সত্যি বলতে কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম লোকটার এবনরমাল বিহেইভিয়ার দেখে।

“- স্যার! আলহামদুলিল্লাহ কন!

“- হুয়াই!

“- আরে স্যার! এই বিটা হলোগে এই জেলার অন্যতম একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। তার নামে এমন কোনো কেস নাই যা নেই।ছিচকা চুরি থেকে মার্ডার সব তার হাতে ঝালমুড়ি।

“- কি বলো? তাহলে তো সত্যি সাংঘাতিক লোকের কবলে পড়েছিলাম।

“- তালি আর কি কলাম স্যার!

“- এই হিংস্র পশুটাকে কে আবার জাগিয়ে দিলো মিলন?

“- এইডাই তো ভাবতেছি। তাও স্যার বজ্জাতটার কলজেই ছুরি মারছে কে যেন?

“- মানে?

“- আরে স্যার! এই লোকটার নাম আব্বাস জোয়ার্দার। সবাই আব্বাস চেয়ারম্যান নামেই চেনে।নিজ গ্রামের চেয়ারম্যান উনি।কেউ ভোট দিক আর না দিক সে ফিক্সড চেয়ারমেনি পুষ্টে বুঝলেন স্যার।বিটার জীবনে বহু হিস্টোরি আছে।আসল কাহিনি শুনেন স্যার এই আব্বাস যুবক বয়সে যত কুকর্ম আছে সব করতো।গ্রামের মানুষ কেউ এরে পছন্দ করতো না।এহনও করে না।
একদিন সৈয়দ বাড়ির ছোট মিয়া হেকমত আলীর বউয়ের রূপ দেখে পাগল হয়ে গেলো।বহু চেষ্টা করেও যখন বউডারে কব্জায় আনতি পারে নাই তহন হেকমত আলিরে খুন করে ফেলে।

“- কি মারাত্মক কথা।তারপর কি তার বউটাকে বিয়ে করে?

“- কি যে কন স্যার? সৈয়দ বাড়ির রক্ত পাক তালি সে বাড়ির বউ কি করে নাপাক হয়?সৈয়দ বাড়ির সম্মান দশগায়ে আছে।আর হেকমত চাচার বউ খাদিজা কাকি। পবিত্র মানুষ কাকিজান।দু ছেলেরে বুকে নিয়ে ৫ বছর বাপের বাড়ি ছিল।বড় ছেলে মাজিদ একটু বড় হলি সৈয়দ বাড়ির বড়কর্তা মোসাদ্দেক আলী যাইয়ে আবার তাগের নিয়া আসে।মোসাদ্দেক মিয়ার প্রভাব ছিল অনেক তিনিও উকিল,পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে গ্রামের লোকের সহযোগিতায় ভাইয়ের খুনের বদলা নিতে প্রথমে আব্বাস জোয়ার্দাররে গ্রামছাড়া করে পরে পুলিশে ধরায় দেয়।শেয়ালের বুদ্ধি হলো মারাত্মক বুঝলেন স্যার!এই আব্বাস হলো ধূর্ত শেয়াল? কয়েক বছর পর গোপনে এক মন্ত্রীর পায়ে ধরে জেল হাজত থেকে বের হয়ে মোসাদ্দেক মিয়ার পা কাটে দেয়।চিরজীবনের জন্য পঙ্গু বানায় দেয়।এরপরই গ্রাম থমথমে হয়ে যায়।কারন আর কেউ ছিল না আব্বাসের সাথে লড়াই করার মতো সাহসী। জোয়ার্দার যখন অনেক চেষ্টা করেও হেকমত মিয়ার বউরে হাসিল করতে পারলো না।তখন ক্ষমতা বাড়াতে পাশের গ্রামের ধনী ব্যক্তির মেয়েরে ফাসিয়ে বের করে এনে পরে বিয়ে করে সংসারি হয়।কিন্তু মনে তার ঐ হেকমতের বউই থাকে।এরপর মেম্বারিতে দাড়ায়।ক্ষমতার জোড়ে পাশও করে ভোটে। বিয়ের পর বছর ঘুরতেই ছেলের জন্ম হয়।সেই ছেলেই এখন এই হাসপাতালে ভর্তি স্যার। কি যে হয় সেই ভয়ই লাগছে এহন।স্যার খুবই খারাপ লোক এই আব্বাস জোয়ার্দার। গ্রামের কুকুরও মনে হয় ওর ছায়া পাড়াতে ভয় পায়।

“- মিলন! ডাক্তার রফিক কে বলো এই পেশেন্ট কে এ্যাট এ্যানি কস্ট সুস্থ করে বিদায় করতে আমি রিস্ক নিতে চাই না এই লোককে নিয়ে

“- জ্বী স্যার। আমি এহনি যাইতেছি।

ডাক্তার কপালের ঘামটা মুছে সামনে হাটা ধরে।কি ভয়ংকর লোকটা? মানুষের রূপে যেন কোন হিংস্র হায়েনা।যার প্রতিটি পদক্ষেপে ধ্বংস শুরু হয়।কার ধ্বংসের সূচনা হয় কে জানে? ডাক্তার ফারুক নির্ঝঞ্ঝাট একজন লোক।তিনি এসব ঝামেলা থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করেন।এই মুহুর্তে লোকটার ভয়ংকর চেহারা ও ইতিহাস ভুলতে চাচ্ছেন তিনি।নয়তো রাতে মাইগ্রেনের ব্যথায় ঘুমাতে পারবেন না।এখনি মাথার ব্যাক সাইডে চিনচিন করছে ব্যথায়। ডাক্তার গতি বাড়ালেন হাটার।

ছেলের কেবিনের সামনে গিয়ে আর্তনাদ করে কেঁদে উঠলেন আব্বাস জোয়ার্দার। এই ছেলের মুখ দেখেই তো না পাওয়া গুলো ভুলে ছিলেন। জীবন যখন যৌনতা আর নেশায় ডুবে ছন্নছাড়া ছিল তখনই স্বাভাবিক জীবনের আলো নিয়ে কোলজুড়ে আসলো তাজ।ছোট ছোট নরম হাতগুলো ছুড়ে যখন খিলখিল করে হাসতো আব্বাস খুশিতে আত্নহারা হয়ে যেত।বাইরের বাজে টানটা আস্তে আস্তে কমে এলো। এই ছেলের কারনেই তো সংসারী হয়েছে আব্বাস। সেই ছেলে আজ ক্ষতবিক্ষত বুকে ব্যান্ডেজের স্তুপ করে নিথর শুয়ে আছে।ছেলের ফ্যাকাসে মুখটা দেখে হুহুহু করে কেঁদে ওঠে আব্বাস জোয়ার্দার। চ্যালা দুটোর সাহস হয় না এগিয়ে চেয়ারম্যান ভাইকে সাহায্য করবে।
তাজের বন্ধু সোহাগ,শিপন এসে চাচার কাঁধে হাত রাখে ভয়ে ভয়ে।

“- কাকা!

“- এই সোহাগ! কার কলজেই এতো পাটা? কোন বান্দীর বাচ্চা কারনে আমার সোনার আব্বার এই দশা? এই আব্বাস জোয়ার্দারের চোখে আজ বহুবছর পর পানি আইছে।আব্বাস জোয়ার্দারের চোখের পানি বান ডেকে আনে সিডা কি সবাই ভুলে গেছে?এই বানের পানির বিষে ঐ বান্দীর বাচ্চার জীবন সাঙ্গ করে দেবো আমি।জাহান্নাম করে দেবো তার জীবন আমি যার আমার ছাওয়ালের এই অবস্থা।

আব্বাস জোয়ার্দারের হুঙ্কারে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে দূরে সরে যায় সোহাগ,শিপন।চোখে মুখে মনে হয় জলন্ত লাভা বের হচ্ছে তার।

“- আপনারা চিৎকার শুরু করেছেন কেন রোগীর বেডে?যান বলছি এখান থেকে।

নার্সের ধমকে বলা কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আব্বাস আগুন জ্বলা চোখে তাকিয়ে শক্তি দিয়ে থাপ্পড় বসিয়ে দেয় নার্সের গালে।সঙ্গে সঙ্গে মাথা ঘুরে নিচে পড়ে যায় নার্সটা।ঘায়েল নেকড়ের মতো গোঙাতে লাগলো ছেলের সারা শরীরে হাত বোলাতে বোলাতে।

আজ তানিকে অনুষ্ঠান করে উঠিয়ে নিয়ে এসেছে খালিদ।সারাদিন মেহমান খাওয়ানো, দেখাশোনা সব করেছে খালিদ সাথে অবশ্য সজিব ছিল।নতুন বউয়ের আগমন উপলক্ষে নতুন বাড়িটাকেও সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।গোধুলী শেষ আলো মুছতেই অন্ধকার নেমে আসলো বাড়ির আশেপাশে। আত্মীয় স্বজন সব চলে গেছে।থাকার মধ্যে আছে খালিদের মামাতো বোন, মামা,আর সজিব। কিছু কাজ বাকি আছে তাই এখনও যায় নাই সজিব।সব কাজ শেষে সজিব বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছিল এমন সময় খালিদের মামাতো বোন লিজাকে বারান্দা ঝাড়ু দিয়ে বারান্দার এলোমেলো জিনিস গোছাতে দেখে এগিয়ে গেলো সেদিক

“-আরে লিজা যে! তা কি খবর তোমার?

“- আসসালামু আলাইকুম সজিব ভাই! জ্বী আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।আপনি?

কোমড়ে প্যাঁচানো ওড়নাটা ঠিক করে অপ্রস্তুত হাসি হেসে ঝাড়ু সরিয়ে দাড়িয়ে রইলো।

“- ভালো আছি।শুনেছ তো নাকি আমি যে বিয়ে করেছি। এসেছিল তো তোমার ভাবি দেখো নেই?

“- জানতাম না তো ভাইয়া।জানলে খোঁজ নিতাম।

“- তোমার চোখ দুটো ফোলা ফোলা কেন? মন খারাপ কোনো কিছু নিয়ে?

“- না তো ভাইয়া! ঝাড়ু দিচ্ছি তো ময়লা লাগা চোখ চুলাকাইছি তাই হয়তো ফুলে গেছে।
সজিব কিছুএকটা বলতে যাবে তখনি খালিদ এসে পাশে দাঁড়ালো। লিজাকে ঝাড়ু হাতে দেখে কিছুটা ধমক দিয়ে ভেতরে পাঠিয়ে দিলো।তারপর দুজন বাড়ির বাইরে পা বাড়ালো।খালিদ খেয়াল করছে সজিব কেমন চিন্তিত হয়ে আছে যেন।

“- সজিব কি হয়েছে? কোন সমস্যা!

“- না!

“- মিথ্যা বলবি না! সত্যি করে বল।

“- খালিদ ভাই তোমাকে একটা বলি রাগ করে না।

“- করবো না রাগ বল!

“- লিজার মন কি সত্যি তুমি বোঝো না! বেচারির মুখের দিকে চাওয়া যাচ্ছে না।মন ভোলাতে এটা ওটা করছে তবুও চোখের পানি আটকে রাখতে পারছে না।তারউপর ধমক টা দেওয়াটা কি ঠিক হলো?

“- দ্যাখ সজিব! যেটা বুঝিস না সেটা নিয়ে এতো ভাবিস না।

“- আমি সবই বুঝি তুমিও বোঝো কিন্তু না বোঝার ভান ধরে থাকো।

“- তো কি করবো? যাকে ছোট বেলায় কোলে পিঠে বড় করেছি তাকে বউ বানাবো? যাকে চোখের সামনে ন্যাংটা হয়ে হাটতে দেখেছি, বড় হতে দেখেছি,বোন বলে ভেবে এসেছি। তাকে বউ ভাববো কি করে? আমি পারবো না আমার মনও পারে না লিজাকে বোন থেকে অন্য কিছু ভাবতে।

“- একটা সত্যি কথা বলি রাগ করো না। তানি তোমাকে কতো ভালো বাসবে জানি না। তবে লিজা তোমাকে অন্ধের মতো ভালোবেসেছে।ওর মতো মেয়ে সত্যি দুটো হয়না আদব লেহাজ,শিক্ষায়।

“- সজিব!আমি জানি লিজার মতো মেয়ে হয় না তাই বলে তুই তানির সাথে ওর কম্পেয়ার করলি কেন?আমি আমার বোন বা স্ত্রী কে কখনোই কম্পেয়ার করি না।তারা স্ব স্ব জায়গায় সম্মানিত আমার কাছে।আর আমার তানি আমার সহধর্মিণী হিসেবে সবচেয়ে উত্তম হবে দেখে নিস।আশা করবো এর পর এই বিষয় নিয়ে তুই আর কোনোদিন কোনো আলোচনা করবি না।

“- রাগ করো না খালিদ ভাই।আসলে ওর কষ্ট দেখে,,,

“- বললাম তো সজিব চুপ কর।আজ অনেক বড় দিন আমার জন্য। এদিনটাই এসব আলোচনা করে দিনটার জৌলুশ নষ্ট করে দিস না।

বাকিটা রাস্তা দুজন চুপচাপ হেটে গেলো।খালিদ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আবার বাড়ি ফিরে আসলো।তানি নতুন বাড়ির নতুন একটা রুমে গোলাপ রজনীগন্ধায় সাজানো বিছানার উপর লাল বেনারসি পড়ে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে।একটু আগে ফুপু অর্থাৎ তানির শ্বাশুড়ি মা এসে খাইয়ে গিয়েছিল নিজ হাতে।মামাতো ননদ টাও খুব যত্ন নিলো।ননদ নামক প্রানীর উপর তানির খুব ভয়।তানির চাচাতো বোন শায়লা ননদের অত্যাচারে স্বামীর ঘর ছেড়ে বাবার বাড়ি এসে পড়েছিল।পরে শায়লা আপার স্বামীর হস্তক্ষেপে ননদ এসে ক্ষমা চাইলে সব মিটমাট হয়।এছাড়াও এমন অনেক ঘটনা শুনেছে তানি যেখানে ননদরা মার ধোরও করে ভাবিদের।তার উপর ছিল বরদের পরকীয়ার ঘটনা।এসব দেখে শুনে বিয়ে নামক সম্পর্ক থেকে মন উঠে যায় তানির।ভয় হয় এসব কথা মনে পড়লে।কিন্তু সেদিক দিয়ে খালিদের পরিবার অনেক আলাদা।খালিদ সম্পূর্ণ ইসলামিক মানসিকতার একজন পুরুষ।কোনো পরনারীর দিকে দুবার ফিরে তাকানো পুরুষ সে নয়।খালিদের মার মতো শ্বাশুড়ি পাওয়া সাত কপাল।মায়ের থেকে বেশি ভালোবেসে এসেছে তিনি তানিকে এতোকাল।আর এখন বউমা হিসেবে মাথায় রাখছেন না উকুনে খাবে মাটিতে রাখছেন না পিপড়া খাবে এমন পরিস্থিতি। খালিদের ঐ মামাতো বোনটাকেও খুব ভালো লাগলো তানির।এ বাড়ি আসার পর থেকে পাশে পাশে আছে।তানির সুবিধা অসুবিধার খেয়াল রাখছে হাসি মুখে।এই ভালোমানুষগুলোর মাঝে হুল ফুটানো বিছা হয়ে আছে খালিদের বড় ভাইয়ের বউ মুন্নি।মুন্নির কথা মনে পড়তেই ঢোক গেলে তানি।আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই মনে মনে ওর শয়তানি থেকে।
দরজা খোলার আওয়াজ হতেই তানি চোখ উঠিয়ে সামনে তাকিয়ে লজ্জায় চোখ নামিয়ে মুচকি হাসে।খালিদ দরজা খুলে ওর দিকেই চেয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসছিল।

“- আসসালামু আলাইকুম বউ

“- ওয়ালাইকুম আসসালাম! মৃদু স্বরে জবাব দিয়ে আবার চোখ তুলে তাকালো তানি।খালিদ সালাম দিয়ে সোজা সামনে রাখা কাঠের দেয়াল আলমারিটার দিকে গেলো।এই ঘরের সব কিছুই নতুন করে বানানো।সুন্দর নকশা করা সেগুন কাঠের খাট যার উপর বউ সেজে বসে আছে তানি।ঘরে ৩২ ইঞ্চির দেয়াল টিভি, তানির সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছে পাশের ড্রেসিং টেবিলটা। কতোদিনের শখ ছিল নিজের ঘরে সুন্দর একটা বড় ড্রেসিং টেবিল হবে। গরিব কৃষকের মেয়ে বলে সে স্বপ্ন তানির বাবা পূরণ করতে পারে নাই।কিন্তু খালিদ বউয়ের সকল ইচ্ছার কথা মাথায় রেখেই ঘর সাজিয়েছে যা দেখে মনটা পরিতৃপ্তিতে ভরে ওঠে তানির।খালিদকে আলমারিতে কি যেন খুঁজতে দেখে জিজ্ঞেস করলো শান্ত গলায়,

“- কি খুজছেন?

“- অপেক্ষা করো জানতে পারবে।মুখে মৃদু হাসির ঝঙ্কার তুলে জবাব দিয়ে কিছুক্ষণ পর দুটো প্যাকেট নিয়ে তানির সামনে বসলো।

“- এগুলো কি?

“- আমার বউয়ের জন্য তার এই অধম স্বামীর পক্ষ থেকে ছোট্ট কিছু ভালোবাসা।তানির মুখটা দুহাতে আকড়ে কিছুক্ষণ দৃষ্টি বিনিময় করে দুজন।”আমি মায়ের সাথে দেখা করে আসছি ততক্ষণে তুমি কাপড় চেঞ্জ করে ফেলো।খালিদ দরজার কাছে যেতেই আবার ফিরে আসে।” আমার বউটা যেন আজ আমার জন্য নিজেকে তৈরি করে! ঠিক আছে?”তানির কপালে চুমু দিয়ে মায়ের ঘরে যায় খালিদ।মৃদু হেসে খালিদের দেওয়া শপিং ব্যাগ খুলতেই তাতে দেখলো একটা কাঁচা হলুদ শাড়ি সাথে লাল টকটকে পিঠ কাটা ফিতে লাগানো ঘটি হাতার ব্লাউজ।”ইশ! লজ্জায় মুখ লাল হয়ে যায় শাড়িটা হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হওয়ার আগে খালিদের বলা কথাটা মনে করে।

চলবে,,,,
চলবে,,,