গোপন_বিয়ে ৩য়_পর্ব

0
768

#গোপন_বিয়ে
#৩য়_পর্ব
#অনন্য_শফিক



ডাক্তার ইমতিয়াজ বললেন,’যার কেউ নেই তার তো একাই থাকতে হয়!’
আমি অবাক হলাম। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,’কেউ নেই মানে? আপনার ওয়াইফ কোথায়?’
ইমতিয়াজ হা হা করে হাসলেন। তারপর বললেন,’ ছাড়ুন এসব কথা। আপনি ওয়াশুরুমে যান। ওই যে ওই ওয়াশরুম।ফ্রেশ হয়ে আসুন।’
আমি ওয়াশরুমের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম তখন আবার পেছন থেকে ডাকলেন ইমতিয়াজ। আমি দাঁড়ালাম। তিনি বললেন ,’একটু এদিকে আসুন।’ আমি নির্ভয়ে এগিয়ে গেলাম তার সাথে অন্য একটি ঘরে।
ইমতিয়াজ এবার একটা মস্ত আলমারি খুললেন।আর ওখান থেকে বের করে আনলেন তিন রঙা তিনটি শাড়ি।গোলাপী,কলাপাতা রঙা আর গাঢ় নীল। তারপর বললেন,’কোনটা পরবেন বলুন!’
আসলে তিনটা শাড়িই খুব সুন্দর। কিন্তু আমার খুব সংকোচ লাগছিলো যেকোনো একটা নিতেই।আর কার না কার এসব শাড়ি!
আমি এবার জিজ্ঞেস করলাম,’ঘরে মেয়ে মানুষ নাই তো এই শাড়িগুলো কার?’
ইমতিয়াজ বললেন,’আমার বোনের।’
‘বোন! আপনার বোন এখন কোথায়?’
ইমতিয়াজের চোখে জলের রেখা দেখা গেল। তিনি আলগোছে সেই জল বা হাতের পিঠ দিয়ে মুছে নিয়ে বললেন,’এখন নেই!’
ইমতিয়াজ আবার বললেন,’শুনুন আপনার যে শাড়িটা ইচ্ছে হয় সেটাই পরে নিন। আমার বোনের শাড়ি আপনার পরলে কোন অসুবিধা নাই। কারণ আপনাকে আমি বোনই ভাবছি।অন‍্য কিছু না!’
তারপর ডাক্তার ইমতিয়াজ এই ঘর ছেড়ে অন্য ঘরে চলে গেলেন।

আর আমি নীল রঙা শাড়িটা উঠিয়ে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলাম।আর ওখান থেকে ফ্রেশ হয়ে নীল রঙা শাড়ি পরে বের হয়ে এলাম। ইমতিয়াজ যখন আমায় নীল রঙা শাড়ি পরা অবস্থায় দেখলেন তখন তিনি অনেক্ষণ ধরে পলকহীন ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। আমার কেমন লজ্জা লাগছিলো তাই আমি নীচ দিকে তাকিয়ে রইলাম। ইমতিয়াজ তখন স্বর্দি এসে যাওয়া নরম গলায় বললেন,’নাতাশা, আপনাকে যদি আমি তুমি করে ডাকি তবে কী আপনি রাগ করবেন?’
আমি হেসে বললাম,’মোটেও না! আপনি তো আমার বয়সে অনেক বড়। ছোটদের তো তুমি করেই ডাকতে হয়।’
ইমতিয়াজ বললেন,’নাতাশা, বিশ্বাস করো তুমি একেবারে আমার বোন এলিজার মতো।ও ঠিক তোমার মতো ছিল। একেবারে তোমার বয়সী। কিন্তু–!’
‘আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছে এলিজার কথা শুনতে। বলুন না প্লিজ!’
ইমতিয়াজ অনেক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন,’চলুন ছাদে যাই।’

আমি আর না বললাম না। দুজন মিলে রাতেই ছাদে উঠলাম।কী সুন্দর ঝকঝকে ছাদ।ছাদের একপাশে গোলাপ বাগান।অন‍্য পাশে একটা গোল টেবিল পাতা। টেবিলের চারপাশে চারটে চেয়ার। ইমতিয়াজ বললেন,’তোমার কোন দিকে যেতে ইচ্ছে করছে?ওই গোলাপ বনের কাছে না টেবিলের কাছে?’
আমি বললাম,’গোলাপ বনের কাছে।’
ইমতিয়াজ বললেন,’এলিজারও প্রিয় জায়গা ছিল এই গোলাপ বন। সারাটা বিকেল সে এই গোলাপ বনের কাছে বসে বসে কাটিয়ে দিতো।’
আমি এবার জিজ্ঞেস করলাম,’ওর কথা বলুন না প্লিজ!ও এখন কোথায় আছে? দেশের বাইরে কী?’
‘পৃথিবীর বাইরে!’
ইমতিয়াজ সাহেবের কথা শুনে আমি চমকে উঠলাম।
‘পৃথিবীর বাইরে মানে?’
‘এলিজা মরে গেছে!’
কথাটা বলে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন ইমতিয়াজ সাহেব। একজন শক্ত সামর্থ্য যুবকের এমন কান্না দেখে তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দিতে হয় তা আমার জানা নেই। আমি শুধু বললাম,’প্লিজ শান্ত হোন।’
ইমতিয়াজ তার পকেট থেকে সাদা রুমাল বের করে চোখ মুখ মুছে আবার বলতে শুরু করলেন।
‘এলিজা ছিল আমার একমাত্র বোন।বাবা মারা গিয়েছিলেন এলিজাকে ছোট রেখেই। তারপর মাই-ই আমাদের বড় করে তুলেন। আমি তখন সদ্য এমবি বি এস পাশ করেছি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে।আর এলিজা সেবার ভর্তি হয়েছে ইডেন কলেজে।এর মাঝেই তার একটা প্রেম হয়।এলিজার সে প্রেমিক ছিল—-

#চলবে