গ্রামের পিচ্চি বউ পর্ব :- ১৯ + ২০ এবং ২১

0
928

গল্প :- গ্রামের পিচ্চি বউ
পর্ব :- ১৯ + ২০ এবং ২১
লেখিকা :- বাবুনি
.
.
.
-: “আমি আমার পিচ্চি বউ এর এমন কান্ড দেখে হাসছিলাম প্রচুর..
তারপর নিজে রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম..কখন যে দুচোখে ঘুম নেমে এল নিজে ও জানি না..

ঘুম থেকে উঠে গেলাম রুমকির ডাকে..
রুমকি:এরে মিস্টার আপনার কফি রাখাছি ওউ ,খাইন তারাতাড়ি পরে ঠান্ডা হইযাইবো..
আমি: Thanks ,ok আমি খেয়ে নেব ..
রুমকি: আচ্ছা ,(বলে চলে গেল..)
আমি: ঘুম থেকে উঠে কফির কাপ হাতে নিয়ে খেতে শুরু করলাম,একচুমুক দিয়ে ই আমি তো ফিদা হয়ে গেলাম..
আমার পিচ্চি বউ এত ভালো কফি বানাতে পারে , সত্যি অনেক অসাধারণ…
ঘরিতে তাকিয়ে দেখি ৬টা বাজে..
হঠাৎ করে আমার কানে হৃদয়স্পর্শী আরবি শব্দের সুর আসছিলো.. নিশ্চয়ই কেউ কোরআন তেলাওয়াত করছে..
কে হতে পারে ,তা দেখার জন্য ধীরে ধীরে ঐ রুমের দিকে রওনা দিলাম যেদিক থেকে সুর আসছিলো..
গিয়ে যা দেখি তাতে, খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠে আমার মন.. আমার পিচ্চি বউ টা এত মধুর সুরে কোরআন তেলাওয়াত করছিল এতক্ষন ধরে..
সত্যি যতবার ওরে দেখছি ততবারই ওর এক একটা নতুন গুন ও সুন্দর্য আমার চোখে ধরা পড়ছে..
আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি ,আর মনোযোগ সহকারে কোরআন তেলাওয়াত শুনছি..
হঠাৎ রুমকি আমার সামনে এসে দাঁড়ায়,বলে , আপনে এনো কিতা করইন…?
প্রথমে খেয়ালই করিনি ও যে আমার সামনে এসে গেছে কোরআন তেলাওয়াত শেষ করে …
ওর মিষ্টি মধুর সুরে কোরআন তেলাওয়াত শুনে হারিয়ে গিয়েছিলাম সুরের সাথে..
ওর কথায় বাস্তবে ফিরে এলাম ..
না কিছু না এমনি আসছিলাম তুমার কোরআন তেলাওয়াত শুনতে…
রুমকি:ওহ , নামাজ পড়ছইন নি..?
আমি: না ..
রুমকি: নামাজ আদায় করিয়া খাওয়ার টেবিলে আইন.. ওকে..
আমি:আর কোনো কথা না বাড়িয়ে বললাম..ওকে..
রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে নামাজ টা সেরে নিলাম..
তারপর খাবার টেবিলে গেলাম , সবাই একসাথে নাস্তা করলাম..
তারপর সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লো, আমি ও রুমে গেলাম..
কি করবো এভাবে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে থাকতে আমার খুবই খারাপ লাগে..
তাই ভাবলাম আজ ই বাসায় চলে যাবো,রুমকি কে কথা টা জানানো প্রয়োজন..
বাট ও কোথায়..?
পুরো বাড়ি টা ই চেক করে নিলাম ও নেই কোথাও.. হঠাৎ মনে হল ছাদে গিয়ে দেখি একবার..
যা ভেবেছি তাই,ও এখানেই ফুল গাছ গুলিতে পানি দিচ্ছে…
রুমকি তুমি এখানে , আমি তুমাকে পুরো বাড়ি খুঁজেছি…
রুমকি: কেনে কিতা হইছে..?
আমি: কিছু না ,আজ বাসায় চলে যাবো এই টা বলতেই খুঁজছিলাম তুমাকে..
রুমকি:কেমন যেন ত্বমেরে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ.. তারপর বলল,আজ না গেলে হয় না নি…
আমি: না রুমকি , আমার অফিসের অনেক কাজ পরে আছে.. অনেক ক্ষতি হবে যদি আমি অফিসে না যাই..
রুমকি:ওহ আচ্ছা তে আপনে যাইনগিয়া আমি থাকি ..
আমি:(বলে কি..? পিচ্চি টা ,ও কি জানে না ওরে ছেড়ে থাকতে আমার কষ্ট হবে.. পরক্ষনেই মনে হলো ও তো এখন ও পিচ্চি ও এসবের কি বুঝবে..)
না রুমকি তুমাকে ও যেতে হবে…
.
.
#Part :- 20
.
.
-:”আমার দিকে তাকালো তাকিয়ে বলল, কেনে আমি গিয়া কিতা করতাম …?
আমি: (কি বলে পিচ্চি বউ টা,ও গিয়ে কি করবে মানে,, নিজের স্বামীর বাড়িতে মানুষ কেন যায় ও কি তা ও জানে না…)
ঐ তুমি কেন যাবে তুমি যানো না…?
রুমকি:কেনে তে এখন কেনে আমি যাইতাম , আমি আরো কয়েকদিন পরে যাইমু আপনে যাইন গিয়া এখন..
আমি:(এবার রাগে ফেটে যাচ্ছি আমি..) কি বললা তুমি , তুমি এখন যাবা না …তুমাকে যেতেই হবে …
রুমকি:না আমি যাইতাম নায়..
আমি:ঐ চুপ..ব্যাগে কাপড় চোপড় গুছিয়ে নেও কথা না বলে..(একটু ধমক দিয়ে বললাম..)
রুমকি: এবার ভয়ে ভয়ে আবার ও বলল আমি পরে গেলে কিতা হইবো..
আমি: তুমি আর একটা কথা ও বলবা না ok..তুমাকে বলছি রেডি হতে, যাও রেডি হয়ে নাও..আর যদি বেশি কথা বল তাহলে তুমাকে আর কলেজে ভর্তি করে দিবো না ..Mind it…
রুমকি:বলল আচ্ছা আপনে যা কইরা তা ওউ কররাম ,প্লিজ আমারে কলেজে ভর্তি করিয়া দিবা..
আমি:হুমমম ,(মনে মনে বললাম এইতো লাইনে আসছো পিচ্চি বউ আমার..) তাহলে এখন লক্ষী মেয়ের মতো রেডি হয়ে নাও..
রুমকি:এখন ওউ ওইরাম..বলেই ওয়াশ রুমে চলে গেল..
আমি:বসে আছি..

কিছুক্ষণ পর রুমকি ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে আসলো..
নীল একটা গারাউন ড্রেস পরেছে..
নীল ড্রেসে একটা নীল পরীই লাগছে আমার পিচ্চি বউ টা কে..

ও শাড়ি পরতে জানে না আসার সময় আম্মু পড়িয়ে দিয়েছে,আর এখন ও ড্রেস পরেছে শাড়ি তো পড়তে পারে না তাই হয়তো..

আমি হা করে তাকিয়ে আছি দেখে , আমার পিচ্চি বউ টা বলল ..
এলা না চাইয়া গিয়া রেডি হইন..
আমি: একটু লজ্জা পেয়ে গেলাম, পিচ্চি টা সবসময়ই আমাকে এইভাবে লজ্জা দেয়..
তারপর বললাম যাচ্ছি ..ওয়াশ রুমে গিয়ে রেডি হয়ে আসলাম..
তারপর দুপুরের খাবার খেয়ে একটু রেস্ট নিয়ে, সবাই কে বিদায় জানিয়ে গাড়িতে এসে বসলাম..
আমি গাড়ি স্টার্ট দিলাম,,
রুমকি এখন ও কান্না করছে আর বার বার গাড়ির গ্লাস সরিয়ে পিছনে তাকাচ্ছে..
দেখতে দেখতে রুমকিদের বাড়ি অতিক্রম করে এগিয়ে গেলো গাড়ি..
রুমকি এখন ও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে পিছনে..
আমি:ঐ পিচ্চি গাড়ির কাচ নামিয়ে ,গাড়ির ভেতরে মাথা টা এনে ভালো করে বসো..
এখন ও কি দেখো পিছনে ,তুমাদের বাসা তো ফেলে এসেছি..
রুমকি: আমার কথা শুনে গাড়ির গ্লাস নামিয়ে দিল..
আমি: গাড়ি চালানোর দিকে মনোযোগ দিলাম..
ও কখন যে ঘুমিয়ে পরেছে আমার কাঁধে মাথা রেখে খেয়ালই করি নি আমি…
কিছুক্ষণ পর জ্যাম এ আটকা পড়ে গাড়ি..

আমি ও এই ফাঁকে আমার পিচ্চি বউ এর ঘুমন্ত মায়াবী মুখ টা দেখে নিচ্ছি.. ?
নিজের অজান্তেই আমার ভালোবাসার পরশ এঁকে দিলাম ওর ঘুমন্ত মায়াবী কপালে…

তারপর হঠাৎ হর্নের শব্দে আমি ভাবনার জগৎ থেকে বিদায় নিয়ে, আবার গাড়ি চালানো শুরু করলাম…

গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে,আর আমার পিচ্চি বউ টা ও ঘুমিয়ে আছে পরম শান্তিতে আমর কাঁধে মাথা রেখে…
.
.
#Part :- 21
.
.
-:”দেখতে দেখতে বাসায় পৌছে গেলাম..
গাড়ি টা থামালাম ,রুমকি কে ডাক দিলাম..
রুমকি ঘুম ঘুম চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে হা করে..
আমার ভীষণ হাসি পাচ্ছে..
বললাম ঐ পিচ্চি বউ গাড়ি থেকে নামো বাসায় চলে আসছি তো..
তারপর ও নামলো..
ওর হাত ধরে হেঁটে হেঁটে আসছি ,(বলা তো যায় না যদি পরে যায় , বৃষ্টি হয়েছে উঠান টা পিছলে হয়ে গেছে..)এর মধ্যেই আবার বৃষ্টি নামলো আকাশ জুড়ে..
আমি ওর হাত ধরে বললাম ঐ তারাতাড়ি হাঁটো ভিজে যাচ্ছ তো..
তারপর তারাতাড়ি করে বাসায় ঢোকলাম..
কলিং বেল চাপ দিতেই আম্মু দরজা খুলে দিল..
কি রে এ কি অবস্থা হয়েছে, বৃষ্টিতে ভিজে দেখি একদম কাক হয়ে গেছিস..
আমার বউমার ঠান্ডা লাগবে তো..
এই বলে রুমকি কে নিয়ে গেলেন ভিতরে..

আমি মনে মনে বললাম ,হায়রে কপাল আমার.. ছেলের বউ কে পেয়ে মা তার ছেলেকে ই ভুলে গেছেন..
কি আর করা আমি ও রুমে গিয়ে জামা কাপড় চেঞ্জ করে নিলাম..
একটু পর রুমকি আসলো রুমে হাতে কফি নিয়ে..
আমি শুয়ে আছি…
রুমকি:ওউ নেইন আপনার কফি..
আমি: Thank you..
রুমকি:একটা কথা কইতাম আছলাম..
আমি:কফি খেতে খেতে বললাম,হুমমম বল কি বলবা…?
রুমকি:কাইল আমার রিজাল্ট বের হবে..
আমি:ওহ ভালো তো..
রুমকি:হুমমম..বাট আমি কিলা জানমু..
আমি: দূর বোকা ঐ টা কোনো বেপার হলো , আমি বের করে দিবো তুমি তুমার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার টা বলে দিও..
রুমকি: মুখে মিষ্টি একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল , আচ্ছা..
আমি:হুমমম..
তারপর ও চলে গেল কফির কাপ হাতে নিয়ে..
আমি আজ আর বাইরে বের হলাম না ,বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে সন্ধ্যা হয়ে গেছে..
আমি একটু শুয়ে পড়লাম…

রাতে রুমকির ডাকে ঘুম ভেঙ্গে গেল..
এরে হুনরা নি রাত ১০টা বাজে , খাওয়ার টাইম হইগেছে ঘুম থাকি উঠইন..
আমি ওর ডাকে ঘুম থেকে উঠে গেলাম ফোন হাতে নিয়ে দেখি সত্যিই রাত ১০টা হয়েগেছে..এত ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলাম বলতেই পারিনি রাত হয়েগেছে..(সাধারণত আমি বৃষ্টির দিনে ঘুমিয়ে থাকতে পছন্দ করি..)
ঘুম থেকে উঠে ওয়াশ রুমের দিকে রওনা দিলাম..
রুমকি পিছন দিয়ে বলল তারাতাড়ি আইন নিচে সবে ওয়েট কররা ওউ..
আমি:ওকে..
ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে সোজা খাবার টেবিলে গেলাম..
আব্বু আম্মু রুমকি বসে আছে, আম্মু বলল আয় তারাতাড়ি তর জন্য ওয়েট করছি সেই কখন থেকে..
আমি গিয়ে বসলাম …
খাওয়া শেষে একটু গল্প করে সবাই ঘুমের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লাম..
আম্মু আব্বু ওনাদের রুমে চলে গেলেন..
আমি আর রুমকি ও রুমে চলে আসলাম..
আমি রুমকি কে বললাম আজ আমার চুমু কোথায়…?
এই কথা শুনে ওর মুখ কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গেল..
আমি ঐ পিচ্চি বউ কি হলো..
রুমকি কিচ্ছু নায় ,(মনে হয় কান্নাকাটি শুরু করে দিবে..)
আমি:ঐ পিচ্চি লাগবে না চুমু ,আসো ঘুমিয়ে পড়ো..
রুমকি: কোনো কথা না বলে বিছানায় শুইয়ে পরলো ,মুখ টা আমার থেকে উল্টো দিকে ফিরিয়ে রাখলো..
আমি ও ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলাম..
.
.
চলবে…………?