গ্রামের পিচ্চি বউ পর্ব :- ৩১ + ৩২ এবং ৩৩

0
1145

গল্প :- গ্রামের পিচ্চি বউ
পর্ব :- ৩১ + ৩২ এবং ৩৩
লেখিকা :- বাবুনি
.
.
-:”আমি একটু চোখ বড় করে তাকিয়ে ধমক দিয়ে বললাম ,ঐ চুপ কর একদম কান্নাকাটি করবে না ওকে..
আমার ধমক খেয়ে কান্নার শব্দ থামিয়ে নিরবে কান্না করতে লাগলো..
আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম ঐ মেয়ে নিজেকে কি মনে হয় খুব পেকে গেছ তাই না.. তুমাকে আমি কি বলছিলাম, বললাম তুমি কলেজের বাইরে বের হবে না.. তারপর ও তুমি গেটের সামনে চলে আসলে কেন..?যদি এখন তুমার কিছু হয়ে যেত আমি কি করতাম তখন..
কলেজে খারাপ ছেলেদের অভাব আছে নাকি..
আরোও অনেক কথা শুনলাম ওকে..

আবার পরক্ষনেই মনে হলো ও তো এখন ও অনেক ছোট ,ও এসবের কি বুঝবে..
ও হয়তো গ্রামের মতো ভাবছে শহর টা কে ..
বাট ও তো জানে না এই শহরে অকালে ঝড়ে পড়ে ওর মতো হাজারো নিষ্পাপ মেয়ে, বখাটেদের হাতে হারায় নিজের সর্বস্ব..
যাই হোক আমি ভাবলাম ওকে একটু ভয়ের মধ্যে রাখা দরকার..তাই ইচ্ছে করেই ওর চোখ দুটো মুছে দিলাম না..(মন তো চাইছিল বার বার ওর চোখ দুটো মুছে দেই,বাট ভাবলাম এখন যদি আমি ভালো ব্যবহার করি তাহলে ও আরো ভুল করবে কথা অমান্য করবে..তাই আর দিলাম না..)
গাড়ি চালানোতে মনযোগ দিলাম..
ও কান্না করতে করতে প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে..
বাসায় পৌছে গাড়ি থেকে নেমে ওকে কোলে তুলে নিলাম..
বাসায় ঢুকতেই আম্মু বলে উঠলো কি রে রাফসান রুমকির কি হয়েছে..?
আমি: না আম্মু তেমন কিছু না ও ভালো আছে ,এই গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছে তাই কোলে নিয়ে আসতে হলো..
আম্মু:ওহ আচ্ছা তাহলে ওকে রুমে নিয়ে যা..
আমি :হুমমম ,বলেই রুমে গিয়ে ওকে বিছানায় শুইয়ে দিলাম..
তারপর ওয়াশ রুমে চলে গেলাম..
ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে দেখি যা তাতে আমার চোখ কপালে উঠে গেল..
হায় আল্লাহ এ কি অবস্থা করছে আমার পিচ্চি বউ এর হাত থেকে রক্ত ঝরছে ,ও চোখ বন্ধ করে আছে সুফায় আর রক্ত ঝরে পড়ছে ফ্লোরে..
আমি এইরকম অবস্থা দেখে চিৎকার দিলাম, আম্মু আব্বু আমার চিৎকার শুনে দৌড়ে আসলো..
আমি রুমকির হাত ধরে বসে পড়লাম ফ্লোরে ও অজ্ঞান হয়ে গেছে..
আম্মু আব্বু এসে দেখলো আম্মু আব্বু বলল কি করে হলো এসব ,ও কেন এমন করল..

আমি কিছুই বলতে পারছি না তো মেরে বসে আছি..
আব্বু ডাক্তার কে কল দিলেন ..

আম্মু রুমকি কে বিছানায় নিতে বললেন..
আমি রুমকি কে কোলে তুলে নিয়ে বিছানার উপর রাখলাম..
ডাক্তার আংকেল ও চলে আসলেন ইতিমধ্যে..
ওনি রুমকির হাতে বেন্ডিস করে দিলেন..
আমি পাশেই দাঁড়িয়ে আছি..আর ভাবছি এ সব কিছুর জন্য আমি ই দায়ি .. আমি যদি রুমকিকে এই ভাবে বকা না দিতাম তাহলে হয়তো এরকম হতো না..
ওর তো কোনো দোষ নেই, আমি কেন ওকে এত বকা দিলাম..
চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে অঝোরে আমার..
ডাক্তার আংকেল কিছু ঔষধ লিখে দিলেন,
আর বললেন ওকে রেস্টে রাখতে যাতে ঠিকমত ঘুমায়.. তারপর কি জানি আব্বুর সাথে একটু কথা বলে বিদায় নিলেন..

আম্মু আব্বুর পাশে চলে গেলেন, আমি আমার পিচ্চি বউ টার পাশে বসে রইলাম,
ওর কপালে আলতো করে চুমু দিলাম..
.
.
#Part :- 32
.
.
-:”আমি ওর পাশে বসে আছি চুপ করে,আর নিরবে কান্না করে যাচ্ছি..
নিজেকে খুবই অপরাধী মনে হচ্ছে, আমি কেন এমন করলাম ওর তো কোনো অপরাধ নেই..
এসব ভাবছি আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি ওর জ্ঞান ফিরে আসার জন্য..
আম্মু আব্বু রুমে আসলেন, আব্বু আম্মু আমাকে বললেন ,রাফসান..
আমি তাদের কথা শুনে তারাতাড়ি দু হাতে চোখ মুছে ফেললাম …
আমি:হুমময বল..
আব্বু:কি করে হলো এসব ..? আম্মু ও বললেন কিসের জন্য ও এমন পাগলামি করলো..?বল আমাদের কি হয়েছিল..?
আমি: আম্মু আব্বু তুমরা বসো দুজন, আমি সব খুলে বলছি..

আমি আম্মু আব্বু কে সব বুঝিয়ে বললাম..
ওনারা শুনে দুজনেই চুপচাপ বসে রইলেন কিছুক্ষণ..
তারপর আব্বু বললেন আসলে মেয়েটার বয়েস খুব কম ও এসবের কি বুঝবে..তর ও উচিত হয় নি ওর সাথে এরকম আচরণ করা.. আম্মু ও বললেন..
আমি:( মনে মনে বললাম তুমাদের যা খুশি বল আসলে ই তো আমারই ভুল ,আমি ই তো ভুল করেছি..) তারপর আমি বললাম হুমমম আমি বুঝতে পারছি এখন ..আসলে আমি এভাবে ব্যাপারটা ভাবি নি ,আর আমি তো জানতাম না ও এই সামান্য বিষয় নিয়ে এত কিছু করে বসবে..
আব্বু:কি আর করা বুঝতে পারে নি তর কথায় হয়তো ওর খারাপ লাগছে তাই এমন করছে..
আম্মু:হুমমম, আচ্ছা মেয়েটার জ্ঞান ফিরলে ওকে বুঝিয়ে বলব যাতে এরকম আর না করে..
আব্বু:হুমমম,আর ডাক্তার বলেছে কিছুক্ষণ রেস্ট নিতে..ও ঘুমিয়ে থাকুক , রাফসান আমি আর তর মা আছি ওর পাশে তুই ঔষধ গুলো নিয়ে আয় তো যা..
আমি:ওকে আব্বু যাচ্ছি তুমরা ওর খেয়াল রেখো..
আম্মু : একটু মুচকি হেসে বললেন ,ওকে যা টেনশন করিস না..
আমি চলে গেলাম ঔষধ আনতে..
আম্মু:দেখছো রাফসান এর কত মায়া হয়ে গেছে রুমকির জন্য..
আব্বু:হুমমম , তুমার জন্য আমার মায়া কি কম আছে নাকি ..?যে ছেলের বউ এর জন্য ছেলের মায়া থাকবে না..
আম্মু: হয়েছে হয়েছে আর বুড়ো বয়সে প্রেম দেখাতে হবে না..
এর মধ্যেই রুমকির জ্ঞান ফিরে এলো..
রাফসান বাসায় এসে দেখে তার আম্মু রুমকি কে খাইয়ে দিচ্ছেন..
আর আব্বু ওরে একদম বাচ্চাদের মত বুঝাচ্ছেন..

মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম..
তারপর আম্মুর পাশে ঔষধের পেকেট টা রাখলাম..
রেখে আমি বসলাম..
রুমকি একবারের জন্যও আমার দিকে তাকালো না…
আব্বু আম্মু চলে গেলেন রুমকি কে ঔষধ খাইয়ে..
আর আমাকে বলে গেলেন ইশারায় ওর খেয়াল রাখতে..
আমি ওর পাশে গিয়ে বসলাম, ও মুখ টা ফিরিয়ে নিলো আমার থেকে..
আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম সরি রুমকি রেলি সরি.. আমি বুঝতে পারি নি তুমি এত টা কষ্ট পাবে..আর এরকম করবো না সরি..
ও আমার দিকে তাকিয়ে বলল সত্যি তো ..
আমি বললাম হুমমম প্রমিজ..
তারপর ওর কপালে একটা চুমু দিলাম ও আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো..
আমার ও চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসতে চাইছে বাট আমি তা কন্ট্রোল করে নিলাম ওকে বুঝতে দিলাম না.. তারপর ওকে একটু বুঝিয়ে , জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লাম_
.
.
#Part :- 33
.
.
-:”ঘুম থেকে উঠে দেখি রুমকি আমার পাশে নেই..
এক লাফে উঠে গেলাম ঘুম থেকে..সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজে পেলাম না ওকে..
কোথায় গেল ও আবার ভাবতে ভাবতে বিছানায় বসে পড়লাম ধপাস করে..
কোথায় গেল ও আবার ..
হঠাৎ দেখি ও ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে আসলো..
আমি বিছানা থেকে উঠে ওর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম..
আমার চল চল চোখ দুটোর মধ্যে ও নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে কিছু লুকিয়ে আছে..
ও আমাকে জড়িয়ে ধরে প্রশ্ন করলো..
কি হয়েছে আপনার..?
আমি ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম,এত শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম ওর প্রতিটা নিঃশ্বাস আমি গুনতে পারছি..
ও আবার ও বলল কি হয়েছে এরকম করছেন কেন…?
আমি বললাম কিছু না .. রুমকি একটা কথা বলি..
রুমকি:হুমমম বলেন কি বলবেন..?
আমি:রুমকি আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি ,আই লাভ ইউ..আই রেলি লাভ ইউ..
রুমকি: হঠাৎ করে এরকম কথা বলছেন ,কি হয়েছে আপনার..
আমি: রুমকি আমি তোমাকে কখনো হারাতে চাই না..
রুমকি:হা হা হা.. আমি হারিয়ে যাব কোথায়..?
আমি: জানি না , শুধু জানি তোমাকে ছাড়া আমার বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে যাবে..
রুমকি:দূররর ,কি যে বলেন আপনি .. আমি কোথায় যাবো আর কোথায় হারিয়ে যাবো..
আমি আপনার বুকেই এইভাবে থাকবো সারাটা জীবন..
আমি: সত্যি তো…
রুমকি:হুমমম..
ওর কপালে আলতো করে চুমু দিলাম…
তারপর নাস্তা করে আমি অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম..
অফিসে গিয়ে রুমকির কথা খুব মনে পড়ছিল…
ভাবছিলাম যদি ওর সাথে একটু কথা বলতে পারতাম এখন..
পরক্ষনেই মনে হলো ওর তো কোনো ফোন নেই ,আর বাসার নাম্বারে ফোন দিলে আম্মু আব্বু ধরবে ..
থাক আর কল দেয়ার দরকার নেই..
অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় চলে আসলাম…
এসে দেখি রুমকি টিভি দেখছে সুফায় বসে..
আমি পিছন থেকে ওর চোখ দুটো হাত দিয়ে চেপে ধরলাম..
ও বলল ছাড়েন চোখ , আমি বুঝতে পারছি আপনি এসে গেছেন..
আমি ওর চোখ ছেড়ে দিয়ে ওর পাশে গিয়ে বসলাম..
ওর হাতে ফোনের বক্স টা দিলাম..
ও বলল এটা কি..
আমি বললাম খুলে দেখো…
রুমকি বক্স টা খুলে বলল খুব সুন্দর ফোন এটা কি আমার জন্য আনছেন..
আমি: তুমার জন্য ই তো আনলাম..
রুমকি: ধন্যবাদ..
আমি:হুমমম শুধু ধন্যবাদ দিলে তো হবে না..
রুমকি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল , তাহলে চোখ বন্ধ করেন..
আমি চোখ বন্ধ করে দিলাম, কপালে আলতো করে উষ্ণ ছোঁয়া অনুভব করলাম..
তারপর আমার পিচ্চি বউ টা কে নিয়ে রুমে চলে গেলাম..
ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিলাম এক সাথে..
তারপর রাতে আম্মু আব্বু আমি ও রুমকি মিলে অনেক গল্প করলাম..
তারপর রুমে চলে গেলাম যে যার..
রুমকি আর আমার ঘুম হয় না আর দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে না ঘুমালে..
এটা যেনো একটা অভ্যাস হয়ে উঠেছে দুজনের মধ্যে..
সত্যি আমি খুবই সুখি মানুষ ..
আমার পিচ্চি বউ টা কে বিয়ে করতে পেরে..
ও আমার পৃথিবীর মাঝে আলো …
ও ছাড়া আমার পৃথিবী টা ভীষণ অন্ধকারে ডুবে যাবে…
.
.
চলবে……….