চাঁদের আলো অন্তিম পর্ব ( ০৪)

0
2889

চাঁদের আলো
অন্তিম পর্ব ( ০৪)
Writer Tanishq Sheikh

“মা! মা!”
” বলো আব্বা!”
” পারুল খালা আইছে।”ছেলের মুখে বান্ধবীর আগমনের কথা শুনে বাগান থেকে ছুটে আসে জরিনে।পারুল জরিনেকে দেখে গলা জরিয়ে ধরে খুশিতে।
” এতোদিন পরে আসলি ক্যা?যা তোর সাথে কথা নাই।”
” আরে রাগ করতাছোস কেন?তোর দুলাভাইয়ের ছুটি হয় না।তাইতো আইতে পারি নাই।ঈদের ছুটি পাইল সেই সুযোগে চলে আসলাম।আইসায় দেখ তোরে দেকতে আইছি।”
” চল! ঘরে যাইয়া বসি।আব্বা তুমি তোমার বাবারে বলো মা ডাকছে।”
” আচ্ছা মা!” জরিনে ছেলের ছুটে যাওয়ার পথে মমতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।ঠোঁটে হাসি টেনে পারুলকে নিয়ে ঘরে এসে বসে জরিনে।পারুল ঘরটা ঘুরে ঘুরে দেখে বলে,
” ভালোই তো সাজাইছিস ঘরটা।”
” আরে আমি কই সাজাইছি। সব তিনিই করছেন।মেয়েটা জন্মের পর সে কি আনন্দ তার।আকিকা করবে বলে ছাগলও কিনে রাখছে।মেয়ে বলতে অজ্ঞান তিনি।”
” আর তুই ছেলে বলতে তাইনা?”পারুলের সাথে সমস্বরে হাসে জরিনে।জরিনের মুখের হাসি দেখে পারুল বিমুগ্ধ নয়নে চেয়ে থাকে।পারুলকে ওভাবে চাইতে দেখে জরিনে অস্বস্তি বোধ করে।উঠতে গেলেই পারুল হাত ধরে ফেলে।
“তোর জন্য আমার খুব চিন্তা হইতো রে জরি!কতো খারাপ দিনই না তুই দেখছিস।ঐদিন হামজা ভাই না থাকলে আজ তুই আমার সামনে থাকতি না।” পারুলের চোখ ভিজে হাসে অতীত স্মৃতিচারনে।জরিনে থমথমে মুখে নিচে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে বলে,
” বাঁচার আশা তো ছাইড়ায় দিয়েছিলাম।গলা অব্দি ডুবিয়ে দিয়েছিলাম নদীর জলে।তখনই একটা হাত টেনে হেঁচড়ে ডাঙায় তুলে আনলো।শরীরে আমার এক রত্তি শক্তি ছিল না।তার বুকে লুটিয়ে পড়লাম।সকাল হতেই চেয়ারম্যান কাকার বাড়ি নিজেরে পাইলাম।বেঁচে থাকায় সেদিন আক্ষেপ ছিল মনে।থাকবই বা না ক্যা! অপমান,লাঞ্ছনার জীবন নিয়ে কে বাঁচতে চাই বল?একটা বছর আমার গেছে শোক কাটতে।এই যে হাসি খুশি পরিপূর্ণ জীবন সব তিনার কারনেই। তিনি আমার হাতটা না ধরলে আজ হয়তো জলের তলে কঙ্কাল হয়ে থাকতাম।”জরিনের চোখে জল গড়িয়ে পড়ে।পারুল জরিনেকে স্বান্তনা দেয়।দু’বান্ধবী এটা সে’টা নিয়ে গল্পে মেতে ওঠে।হামজা এর মধ্যে মেয়েকে কোলে নিয়ে ঘরে ঢোকে।পারুল হামজাকে দেখে সালাম জানায়।হামজা উত্তর দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করে।হামজা জরিনেকে লক্ষ্য করে বলে,
“আম্মাজানকে আমি গোসল করাতে নিয়ে গেলাম।”
” কলের পানি ঠান্ডা গরম পানি মিশিয়ে গোসল করাতে হবে।আপনি ওদের নিয়ে যান আমি আসছি।
” ঠিক আছে।” হামজা ছেলেকে আদুরে গলায় কাছে ঢেকে কলপাড়ে যায়।সন্তানদের সাথে খুনসুটি শুরু করে কল পাড়ে বসে।
দুপুরে জোর করে পারুলের পরিবারকে খাওয়ার জন্য অনুরোধ করে জরিনে।পারুল বান্ধবীর আবদার রক্ষা করে দুপুরটা এখানেই কাটায় স্বামী সন্তান নিয়ে।বিকেলের দিকে বাড়ি যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ায়।হামজা জরিনে ওদের বিদায় দিতে এগিয়ে যায় কিছুদূর। হামজা সন্তানদের নিয়ে পারুলের স্বামীর সাথে গল্প করতে করতে সামনে এগোতে থাকে।জরিনের কেন যেন মনে হয়, পারুল কিছু বলার জন্য উশখুশ করছে কিন্তু সংকোচে বলতে পারছে না।জরিনে বান্ধবীর কাঁধ হাত রেখে মিষ্টি হেসে বলে,
“কিছু বলবি পারু?”
” না মানে! কথাটা বলা সমীচীন হবে কিনা সে’ডায় ভাবছি।”
” তুই না আমার প্রিয় ও কাছের বান্ধবী! তাইলে কিসের এতো সংকোচ? বল!”
” জরিনে ঢাকা আমরা যে এলাকায় ভাড়া থাকি সে এলাকায় মিন্টুও থাকে।”
” তো!” জরিনের কন্ঠে বিরক্তি।
” রাগ করিস না।আমি তোর মন খারাপ করতে চাইনা তবুও কথাডা তোরে বলা উচিত তাই বলতে চাচ্ছিলাম। ”
” আমি ওসব লোকের কথায় মন খারাপ করি না।আমার মনে ওর জন্য কোনো জায়গা নেই।তুই বল।”
” একটা রোড এক্সিডেন্টের কারনে মিন্টুর এক পা কাইটা ফেলা হইছে।ফুটপাতে এইটা ওইটা বেঁচে কিনে চলে।ওর বউয়ের দীর্ঘদিন সন্তান হতো না।শেষকালে যাও একটা হলো সেডাও প্রতিবন্ধী।চলতে ফিরতে পারে না।মিন্টুর বউয়ের সাথে দেখা হইলে সে খুব কাঁনতাছিল।বললো তোর সাথে দেখা হইলে যেন তার স্বামীর জন্য ক্ষমা চাইয়া নেই।”জরিনে পারুলের কথা শুনে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাসল।নিঃশব্দ সে হাসি।পারুল অবাক চোখে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
” তোদের কি ধারনা আমি মিন্টুকে অভিশাপ দিয়েছি? না রে এমন খারাপ আমি না।ও যেদিন ছেড়েছে আমারে সেদিন থেইকা আমিও ওরে নিয়ে সকল কিছু ভাবনা ছেড়ে দিছি।শুধু নিজের কর্ম নিয়ে ভাবতাম।বাপ মায়ের মনে কষ্ট দিয়েছিলাম যার ফল আমি খুব ভালোমতোই পেয়েছিলাম।মিন্টুর উপর কোনো আক্ষেপ নেই বরং এক দিক দিয়ে কৃতজ্ঞ ওর কাছে আমি।ওর কারনেই আমি হাসানের বাবাকে পেয়েছি,হাসানকে পেয়েছি এই সোনার সংসার পেয়েছি।যার ধোঁকায় এতোকিছু পেলাম তারে কি করে অভিশাপ দেই বল।তবে একটা কথা কি পারু!পাপ করলে তার ফল ভোগ করতে হয়।মিন্টুর জন্য আমি আমার কপালে কলঙ্ক লাগিয়েছি।চেয়ারম্যান, ওর ভাই সবাই আমার নামে মিথ্যা সাক্ষী দিল।তারা কি ভালো আছে বল? যদি থেকেও থাকে পরকালে থাকবে না।আল্লাহ ন্যায়বিচারক।আমার মাসুম সন্তানটাকে ওরা জারজ বলেছে।ওদের কারনে অনাদরে,অনাহারে মরেছে আমার মেয়েটা।আমার জন্য আমি কাউকে অভিশাপ দেই না দেবোও না কিন্তু এক মা তার মাতৃত্বে কলঙ্ক লাগার অপমান ভুলতে পারে না।কোনোদিনও পারবে না।তবুও তোর কথা শুনে সেই মা’ও আজ ক্ষমা করে দিল আরেক অসহায় মায়ের স্বামীকে।”জরিনের কথা শুনে পারল জরিনের গলা জরিয়ে শব্দ করে কেঁদে দেয়।
“তুই অনেক ভালো রে।আল্লাহ ভালো মানুষদের পরীক্ষা নেয়। তোরও নিছিল।একসন্তান নিয়ে দুটো ফিরায়ে দিছে।মনটা এমনই রাখিস।নাপাক লাগাতে দিস না।”
পারু চলে যেতেই জরিনে বারান্দায় এসে বসে।চোখের কোনে জল চিকচিক করে।পুরোনো স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে।ঐরাতে হামজা জরিনেকে বাঁচিয়ে চেয়ারম্যান বাড়ি রেখে আসে।পরদিন
বিকালে আবার শালিস বসে।পুরো গ্রামের মানুষের সামনে মিন্টু জরিনের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে।জরিনেকে সে কিছুতেই ঘরে তুলবে না।জরিনে দাওয়ায় পা ছড়িয়ে বসে থাকে শোকাচ্ছন্ন হয়ে।হামজার বড় মায়া হয় তা দেখে।সে মিন্টুকে শক্ত স্বরে বলে,
” ইসলামে কিন্তু এসব বিষয়ে চারজন সাক্ষী আনার নিয়ম আছে।আছে তোমার চারজন সাক্ষী। দেখছে জরিনেকে তারা খারাপ কাজ করতে?চারজন সাক্ষী না আনলে কিন্তু তোমার উল্টো শাস্তি হবে মিন্টু। ”
মিন্টু ঢোক গিলে ভাইদের দিকে তাকায়।মিন্টুর ভাইয়েরা থমথমে গলায় আমতা আমতা করে বলে,
” হ আছে সাক্ষী। আমরাই তো সাক্ষী।আমরা দুই ভাই,মাতুব্বর খালু,মিনারা।কি কও মিনারা?”
মিনারা থতমত খেয়ে যায়।গলা ঝেড়ে ঘোমটার আড়াল থেকে বলে।
” হ দেখছি তো।”
” মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে একটা নিরপরাধ মেয়েকে দোষী সাব্যস্ত করছো তোমরা।তোমাদের উপরওয়ালা কোনোদিন ক্ষমা করবে না দেখো।”হামজা আর কিছু বলে না।চুপচাপ বসে পড়ে সে।মাতুব্বর যেন তাতে সাহস পায়।শরীর ঝেঁড়ে বলে,
” তাইলে সেই কথায় রইল।মিন্টু তার প্রথম বউরে তালাক দিব।আজই দিব।”মেম্বার তখন জরিনের কি গতি হবে সে’কথা জিজ্ঞেস করে।মাতুব্বর কেঁশে দাঁত বের করে জবাব দেয়,
” জরিনেরে আমি রাখুম।আমার বউয়ের বান্দীর দরকার ছিল।তাই ভাবলাম ওরে নিয়ে যামু।আমারও থুক্কু আমার বউয়েরও কাম হইবো ওরও একটা ব্যবস্থা হইবো। ঠিক কইছি না?”কথাটা বলে হারান জরিনের দিকে লালসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসে।সে হাসি কারো নজরে না পড়লেও হামজার নজরে পড়ে।রাগে শরীর জ্বলে ওঠে হামজার।বিদ্যুৎ বেগে দাঁড়িয়ে পড়ে।রাগী গলায় সবাইকে উদ্দেশ্যে করে বলে,
“মিন্টুর তালাকের পর জরিনেরে আমি বিয়ে করব।কারও বাড়ি বান্দীগিরী করা লাগবে না ওর।” উপস্থিত সবাই বিস্ফোরিত চোখে হামজার দিকে তাকিয়ে থাকে।চেয়ারম্যান বুঝাতে গিয়ে হামজার রক্ত চক্ষু দেখে কিছু বলার সাহস পায় না।অবশেষে তালাক হয় মিন্টু জরিনের।তালাকের ইদ্দত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত জরিনে চেয়ারম্যান বাড়ি থাকে।ইদ্দত শেষ হতেই হামজা জরিনের বিয়ের সম্পন্ন হয়।হামজা মাস্টারের বোকামি দেখে গ্রামের মানুষ আফসোস করে।শুধু খুশি হয় হামজার মা আর পারুল।খুশি মনে বরণ করে পুত্রবধূকে।বাসর ঘরে শোকে পাথর হয়ে বসে থাকে জরিনে।হামজা মাস্টারের ছেলেটার ৪মাস পূর্ণ হলো।মায়ের কোল ছাড়া শিশুটা যেন নেতিয়ে গেছে কাঁদতে কাঁদতে।এখনও কেঁদেই চলেছে।শরীর শুকিয়ে হাড্ডি জেগে উঠেছে।হামজা বসার ঘরে কপালে হাত রেখে বসেছিল।ছেলের কান্নার তোড়ে চোয়াল শক্ত করে মায়ের সামনে আসে।ছোঁ মেরে ছেলেটাকে মায়ের কোল থেকে নিয়ে নিজের ঘরে ঢোকে।হামজার মাও পিছু পিছু যায় হন্তদন্ত হয়ে।জরিনে জানালা দিয়ে তখনও শূন্য আসমানে চেয়েছিল।দু’চোখ ভিজে গেছে তার চোখের জলে।হামজা তীক্ষ্ণ চোখে সেদিকে তাকিয়ে সন্তানকে জরিনের কোলে শুইয়ে দেয়।শিশুটিকে কোলে পেয়ে জরিনে নড়েচড়ে বসে।বিস্মিত চাহনীতে তাকায় মাস্টারের দিকে।হামজা কিছুটা রাগমিশ্রিত কন্ঠে বলে,
“রেখে গেলাম ওকে।ওর মা হতে পারলে ভালো নয়তো গলা টিপে মেরে ফেলো।তারপর তোমার যা মন চাই করো।”
” স্যার!”
হামজা জরিনের কথার জবাব না দিয়ে মাকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।হামজার মা থমথমে গলায় বলে,
” এইটা কি করলি?”
” যা করেছি ঠিকই করেছি।আর নিতে পারছি না আমি মা।একটু শান্তি চাই!শান্তি। “হামজা হনহন করে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসল।স্ত্রীর কবরের সামনে এসে হাঁটু মুড়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে।হামজার মা চিন্তা মাথায় হাত দিয়ে বসেছিল।হঠাৎ নাতির কান্নার শব্দ থেমে যেতেই কান খাঁড়া করে সোজা হয়ে বসে।না আর আসছে না কান্নার শব্দ। ছুটে যায় হামজার ঘরে।গিয়ে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখে তাতে তার চোখে আনন্দের অশ্রু ঝরে।জরিনে পরম মমতায় শিশুটিকে নিজের বুকে টেনে নিয়েছে।শ্বাশুড়িকে দেখে ফুঁপিয়ে ওঠে জরিনে।হামজার মা বুকের টেনে স্বান্তনা দেয় নতুন পুত্রবধূকে।
এরপর দেখতে দেখতে কেটে গেলো চারটা বছর।ঋতুবদল হয়।শীতের পাতা ঝরা মৌসুম শেষে বসন্তের ছোঁয়া লাগে প্রকৃতিতে। গাছে গাছে নতুন কুঁড়ি জন্মায়।শাঁখে শাঁখে ফুলেরা আলপনা তৈরি করে।সন্ধ্যা হতেই দখিনা মৃদু মন্দ বাতাসে দেহমনে প্রশান্তি আনে।জরিনের রুক্ষ শুষ্ক জীবনের কানায় কানায় আজ পূর্ণ। হামজার ভালোবাসার স্পর্শে ধন্য তার জীবন।শ্বাশুড়ি গত হয়েছে আজ একবছর।এই ঘর এই সংসার সবটায় এখন জরিনের ছোঁয়ায় জীবন্ত।জরিনেকে ছাড়া সব যেন অচল অথর্ব হয়ে পড়ে।খাবারের পর্ব চুকিয়ে টেবিল মুছতে মুছতে বাইরের আকাশে চোখ পড়ল জরিনের।মেঘের আড়ালে চাঁদ উঁকি দিচ্ছে। কালো মেঘগুলো কিছুতেই যেন চাঁদের আলোকে ঢাকতে পারছে না।সে স্বমহিমায় জ্বলছে।আঁধার ভেঙে আলো ছড়াচ্ছে। এ যে চিরন্তন সত্য তা বুঝিয়ে দিতে চাইছে।
” মা! মা!”জরিনের ছেলেটা মায়ের আঁচল টেনে ধরে।ছেলেকে কোলে তুলে দু’গালে চুম্বন দেয়।
” বলো আব্বা! ”
” আমার ভাঙা ঘরে গান টা গাও না।”জরিনে ছেলের কথা শুনে হাসে।দৃষ্টি সরাতেই দেখে হামজা ২বছরের ছোট্ট মেয়েটাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়েছে পেছনে।জরিনে স্বামীর ঠোঁটের কোনের হাসি দেখে লজ্জায় দৃষ্টি নত করে মুচকি হাসে।হামজা এগিয়ে এসে পাশে দাঁড়ায়। জরিনে হামজার কাঁধে মাথা রেখে পরম শান্তির নিঃশ্বাস নেয়। গলা ঝেড়ে সুর তুলে গায়,,,
বন্ধু আমার চাঁন্দের আলো
তাহার ছোঁয়ায় আন্ধার গেল।
তাহার চরনেতে আমার, সবই দিলাম সঁপে
আমার ভাঙা ঘরে,
চাঁন্দের আলো জ্বলে।
সেই আলোর পরশে,
আন্ধার ডুইবা মরে।

???সমাপ্তি ???