ডিভোর্স পর্বঃ ১৯+২০

0
1003

ডিভোর্স
লেখকঃ আবু সাঈদ সরকার
পর্বঃ ১৯+২০

তোমার স্বীমীকে ডিভোর্স দিতে হবে না হলে কোন দিন তাকে আর জীবিত দেখতে পাবে না….

স্নেহাঃ কথা গুলো শুনার পর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারতেছি না কী করবো আমি এখন এই একটা মাএ রাস্তায় খোলা আছে আমার কাছে…

কিন্তু আমি ওনাকে কীভাবে ডিভোর্স দিবো আমি মরে গেলেও ওনাকে ডিভোর্স দিতে পারবো না আর যদি ডিভোর্স না দিয় তাহলে ওরা ওনাকে মেরে ফেলবে…



হাজার চিন্তা ভাবনা করে দেখলাম না এবার মনে হচ্ছে সত্যি সত্যি ওনাকে ডিভোর্স দিতে হবে তার পর এক রাত ওই শয়তান জানোয়ার মানুষদের সঙ্গে কাটাতে হবে এতে যদি ওনি সুস্থ ভাবে ফিরে আসতে পারেন তাহলে ওনার জন্য আমি খুশি খুশি মরতেও রাজি….


ওই জানোয়ার দের যেখানে টাকা দেওয়ার কথা হইছিলো সেখানেই আমাকে যেতে বলছে কিন্তু যাওয়ার মতো একটা টাকাও নেই আমার কাছে হাঠতে হাঠতে প্রায় চলে এসেছি সামনে সেই ভয়ানক জঙ্গল ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছিলো তবুও বুকের মাঝে সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলাম…


জঙ্গলে ডুকার সময় হঠাৎ মনে হলো পিছনের ঝোপঝাড়ে কিছু পড়ে রয়েছে কিন্তু কী সেটা…

যাই থাক তাতে আমার কী…

একটু সামনে এগোতেই মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো ওদের সব কথা মেনে নেওয়ার পরও ওরা যদি ওনাকে না ছেড়ে দেয় তখন কী হবে…

এক পা এগোচ্ছি তো তিন পা পিছনে যাচ্ছি..

না আমি থাকতে ওনার কিছু হতে দিবো না হটাতে হটাতে হঠাৎ গাছের শিকরের সাথে ধাক্কা খেয়ে একটা রক্তাক্ত জিনিসের উপর এসে পড়লাম…

চোখ খুলে তাকাতেই……

হাত পা গুলো ঠান্ডা হয়ে আসছিলো নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না ওনি আমার সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন জানোয়ার গুলো কী অবস্থা করেছেন ওনার আমি তো ওদের সব সত্য মেনে নিয়েছিলাম তাহলে কেনো করলো ওরা এমন…

এই মুহূর্তে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না নিজেকে শক্ত করতে হবে…

চোখর পানি গুলো মুছে ওনাকে তুলার চেষ্টা করলাম কিন্তু বার বার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছি ওনার শরীর টা ভীষণ ভারি…

আমার পক্ষে তুলা সম্ভব না কিন্তু তাই বলে আমি হার মেনে নিতে পারবো না রবার্ট ব্রুস সাত বার যুদ্ধে হেরে গিয়েও আশা ছাড়েন নি তাহলে আমি কেনো আশা ছাড়বো শত চেষ্টা করার পর কোনো ভাবে ওনাকে তুলতে পারছি….

ওনাকে উঠিয়ে কোনো ভাবে জঙ্গলের রাস্তায় নিয়ে আসলাম এই রাস্তা দিয়ে সব সময় কোনো না কোনো গাড়ি যায়..

ওনাকে একটা গাছের সাথে হেলান দিয়ে বসিয়ে দিয়ে রাস্তায় গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু কোনো গাড়ি আটকাচ্ছে না হঠাৎ একটা অটোরিকশা থামলো কিন্তু সে পৌঁছে দিতে নাকি এক হাজার টাকা নিবে আমি এই মুহূর্তে এক হাজার কেনো এক কোটি টাকা দিতেও রাজি ওনার জন্য এক হাজার টাকা আমার কাছে কিছু না অটো ওয়ালা দাদাকে নিয়ে ওনাকে তুলে অটোতে বসলাম তার পর বাসায় নিয়ে আসলাম ওনাকে…


ওনাকে রুমে এনে শুয়েই দেওয়ার পর…

অটোওয়ালাঃ মেডাম আমার টাকা টা…

স্নেহাঃ এক হাজার টাকা এখন কোথায় পাবো তাই নিজের হাতের মোবাইলটা দিয়ে দেখেন দাদা এই মুহূর্তে আমার কাছে কোনো টাকা নেই আপনি এই ফোনটা রাখেন বিক্রি করে অনেক টাকা পাবেন..

অটোওয়ালাঃ অনেক আশা ছিলো একটা টার্চ ফোন নিবো তাহলে উপর ওয়ালা আমার মনের ইচ্ছে পুরণ করছে…

খুশি মনে মোবাইলটা নিয়ে চলে আসলাম…


স্নেহাঃ অটো ওয়ালা চলে যাওয়ার পর ..

বাড়ির সমস্ত জানালা দরজা ভিতর থেকে ভালোভাবে বন্ধ করে দিলাম…

তার পর রুমে এসে ওনার শার্ট টা খুলে ফেললাম রক্তে ওনার সাদা শার্ট টা লাল হয়ে গেছে ভিজে কাপড় দিয়ে সারা শরীর টা মুছে দেওয়ার পর বাসায় কিছু ব্যান্ডেজ ছিলো সে গুলো কেটে যাওয়া জায়গায় লাগিয়ে দিলাম..

কী অবস্থা করেছে ওই জানোয়ার গুলো এনার হাতের মধ্যে এখনো দাড়ি দিয়ে বেধে রাখার দাগ গুলো রয়েছে…

কিন্তু কারা ওরা এনার সঙ্গে ওদের কীসের শএুতা কেনো ওরা এনার পিছনে ওঠে পড়ে লেগেছে….


এনার তো হাত পা গুলো ঠান্ডা হয়ে আসতেছে নিচে দৌড়ে গিয়ে সরষের তেলে বোতলটা নিয়ে এসে ওনার হাত পায়ে সরষের তেল ঘষতে লাগলাম…

কিন্তু এতেও কাজ হচ্ছে শরীর টা আরো ঠান্ডা হয়ে আসতেছে…

আলমারী থেকে সমস্ত কম্বল গুলো বের করে ওনার শরীর এর ডেকে দিলাম এবার মনে হচ্ছে কিছু টা হলেও ওনার শরীর টা গরম হচ্ছে…


এদিকে সময় যত যাচ্ছে রাত ততই গভীর হয়ে আসছে কিন্তু ওনার জ্ঞান তো এখনো ফিরে আসছে না কী করবো আমি এখন…



অপর দিকে…


রুম থেকে এত রক্ত বেরোচ্ছে কেনো রে…


জানি না বস..

গিয়ে দেখতো বেপার টা কী…

জ্বী বস…

রুমের দরজাটা খুলতেই বস..সসসসসস


কী রে হাতির মতো চেচাচ্ছি কেন হ্যা ?

বস এদিকে এসে একবার দেখে যান ছেলেটা পালিয়েছে আর আমাদের দলের দুজনকে মেরে বেটা ভোগার পার…


কী বলসি দৌরে এসে সত্যি তো এবার কী হবে……

বস আমি বলি কী এই ছেলে হয়তো পালিয়ে বেশি দুরে যেতে পারে নি এই জঙ্গলে কোথায় চুপ করে গা লুকিয়ে বসে আছে ..

ঠিক বলছিস সবাইকে খুজতে লাগিয়ে দেয় আর ছোলেটার বউ কোথায়…


বস আমরা অনেক খন অপেক্ষা করলাম কিন্তু আসে নি…

ও তার মানে এইভাবে কাজ হবে না ফোন লাগা আর বল ওর স্বামীকে আমরা মেরে ফেলতে যাচ্ছি আর হ্যা এটা যেনো না বুঝতে পারে ওর স্বামী পালিয়েছে…

দেখবি পাখি নিজে এসে ধরা দিবে..



জ্বী বস দুইবার ফোনে ট্রাই করার পর…

বস ফোন তো বন্ধ এখন…


রাস্তা একটাই ছেলেটাকে খুজে টুকরো টুকরো করে কেটে ওর বউ এর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া তাহলে বুঝতে পারবে আমাদের কথা না শুনার ফল কতটা ভয়ানক…

যত লোক আছে কাজে লাগিয়ে দেয় দরকার হলে আরো ভাড়া করে লোক নিয়ে আয়….





স্নেহাঃ কী করবো কিছুই বুঝতে পারছি না তবে এটা স্পষ্ট বুঝতে পারছি ওনাকে নিয়ে এখানে থাকাটা ঠিক হবে না ওরা ঠিকি আমাদের খুজতে খুজতে এখানে আসবে…

ওই লোক গুলো আসার আগে আমাকে কিছু তো একটা করতেই হবে….

কিন্তু কী করবো সেটাই তো মাথায় আসছে না…

আচ্ছা আমি যদি এনাকে নিয়ে গ্রামে চলে যাই তাহলে ওই লোক গুলো আমাদের খুঁজে পাবে না .

তার ওর ওনি যখন সুস্থ হয়ে যাবেন তখন ওনাকে নিয়ে দুরে কোথায় চলে যাবো…

সুটকেস এ করে ওনার সমস্ত কাপড় গুলো ডুকতে শুরু করলাম আজ রাতেই ওনাকে নিয়ে গ্রামে চলে যাবো…

কাপড় গুলো ডুকাচ্ছিলাম ঠিক তখনি…


সাঈদঃ চোখ গুলো খুলতে প্রচুর কষ্ট হচ্ছে আর মুখ থেকে একটাই আওয়াজ বের হচ্ছে পানি পানি…

স্নেহাঃ হঠাৎ ওনার কন্ঠ শুনে দৌড়ে গিয়ে ওনাকে জরিয়ে ধরলাম ওনার জ্ঞান ফিরে এসেছে কিন্তু ওনি কী বলতেছেন…

সাঈদঃ পানি পানি…

স্নেহাঃ কথা গুলো স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারছি না তবে পানি কথাটা একবার শুনতে পাইছি নিচ এসে দৌড়ে ওনার জন্য এক গ্লাস পানি নিয়ে আসলাম…

আস্তে করে ওনাকে খাইয়ে দিলাম…


সাঈদঃ পানিটা খাওয়ার পর কিছু টা শান্তি পেলাম কিন্তু আমি এখন কোথায় আমি কী এখনো বেচে আছি নাকি মরে গেছি…

চোখ খুলতে কষ্ট হলেও জোর করে চোখ খুলে তাকাতেই সামনে স্নেহাকে দেখতে পেলাম…

এটা স্বপ্ন নাকি আমি ভুল দেখতেছি…


স্নেহাঃ তোমার জ্ঞান ফিরে আসছে জানো আমি লত টেনশনে ছিলাম…

আমি তোমাকে নিয়ে আর এক মুহুতও এই শহর থাকবো না…

এই শহরে মানুষের চাইতে মানুষ রুপি জানোয়ার এর কোনো অভাব নেই…


সাঈদঃ স্নেহা কী বলতেছে কিছুই বুঝতে পারছি না কান গুলো শন শন করছে মাথাটা ঘুরতেছে মনে হচ্ছে বিছানাটা নড়তেছে কিছু বলার শক্তি টুকুও নেই..

স্নেহাঃ ওনার শরীর থেকে এখনো রক্ত বেরোচ্ছে কিন্তু আমি কী করে এই রক্ত পড়া বন্ধ করবো কিছুই মাথায় আসছে না বাসায় ব্যান্ডেজ ও শেষ….


ঠিক সে সময় হঠাৎ…


চলবে..

im back ☺☺☺☺☺☺☺☺☺?☺