তার জন্য পর্বঃ০১

0
1248

পর্বঃ০১
গল্গ ঃতার জন্য
লেখিকাঃআফিফা আনতারা হুমায়রা।

বসের ফোনে নিজের প্রাক্তন স্ত্রীর ছবি দেখে কিছুটা অবাক হলো আয়ূশ।
সুন্দর মিষ্টি একটা মেয়েকে কোলে নিয়ে আছে আনতারা আর তার পাশেই আনতারার কাঁধে হাত রেখে দাড়িয়ে আছে গাসসান। দেখে মনে হহচ্ছে সুখি পরিবার।
আয়ূশ:স্যার, এরা কে হয় আপনার(ছবিটা দেখিয়ে)
গাসসান :আমি,আমার নূর আর আমাদের মেয়ে হুমায়রা।
কথাটা শুনে অবাকের উচ্চ শিখরে পৌঁছে যায় আয়ূশ।কারন তার জানা মতে তার স্যারের বিয়ে হবার মাত্র ৬ মাস হয়েছে কিন্তু বাচ্চাটাকে দেখে মনে হয় তার বয়স ১.৫বছর।তাহলে কি বিয়ের আগেই….কিন্তু এটা কখনোই সম্ভব না কারন আনতারা তেমন মেয়েই নয়।

কথাগুলো মনে মনে ভাবছে আয়ূশ।

আয়ূশের ভাবনায় ছেদ পড়ে আধআধ কন্ঠে বলা বাবা ডাকে।দরজার দিকে তাকেয়ে দেখে একটা ছোট পরী।পরীটাকে দেখেই বুঝে য়ায় এটা তার বসের মেয়ে।

ছোট পরীটা বাবা বাবা বলে গাসসানের কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে আর গাসসানও পরম মমতায় ওকে কোলে তুলে নেয়।
আয়ূশ ওদের দিকে তাকিয়ে বাবা মেয়ের খুনশুটি দেখায় ব্যস্ত। এ দৃশ্য দেখে তার অজান্তেই তার চোখ দিয়ে কিছুটা পানি গড়িয়ে পড়ল।সে চাইলেই তার সাথেও এমনটা হতে পারত। তারও একটা ছোট পরী থাকত কিন্তু সে নিজেই তো সবটা শেষ করে দিয়েছে।

আয়ূশ এর আবার ও ভাবনায় ছেদ ঘটে।মিষ্টি একটা কন্ঠে।কন্ঠটা তার বড্ড চেনা।
হু আনতারা এসেছে।
আনতারা:Assalamuyalaikum,,
গাসসান :Wyalaikumussalam,,
আনতারা: বাবা মেয়ে কি করছ…?
এখনও…..
আনতারার চোখ পড়ে আয়ূশ এর দিকে।তাই সে চুপ হয়ে যায়।কারন এতখন পর তার চোখ পড়ে আয়ূশের দিকে।
আয়ূশ পলকহীন আনতারার দিকে তাকিয়ে আছে।

আয়ূশকে দেখে আনতারার চোখ থেকে কয়েক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ল।আনেক দিন পর সে কষ্ট নামের বস্তুটার সাক্ষাৎ পেল।কেউ দেখার আগেই সে পানিটা মুছু নিল।বিশেষ করে গাসসান এর জন্য কারন তার চোখের পানি যে গাসসান সহ্য করতে পারেনা।

গাসসান :মি. আয়ূশ, আপনি এখন যেতে পারেন।
আর আনতারা তুমি এখন ও কেন ওখানে দাড়িয়ে আছ যাও জলদি হাত ধেয়ে এসে আমাদের খাইয়ে দাও।আমার আশু পরীটার খিদে পেয়েছে।
গাসসান এর কথা শুনে আয়ূশ চমকে একবার গাসসান তো একবার আনতারার দিকে তাকায়।সে ভাবে তাহলে কি পরীটা তার….কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয় সে নিজে তার পরীটাকে…. আর ভাবতে পরছে না আয়ূশ।সে আনতারার দিকে তাকিয়ে তার মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছে।কিন্তু আনতারার মুখের উপর বিদ্যমান কালো নেকাবটা তাকে ওর মনোভাব বুঝতে দিতে চাচ্ছে না।
আয়ূশ কেবিন থেকে বেরিয়ে যায় তাড়াতাড়ি। কারন সে এখানে আর কিছুক্ষণ থাকলে ভুল কিছু করে বসবে যা আনতারার জন্য ভালো নাও হতে পারে।সে আর মেয়েটাকে কষ্ট পেতে দিতে চায় না।এককালে মেয়েটাকে সে অনেক কষ্ট দিয়েছে।

আয়ূশ নিজের কেবিনে এসে তার অতীতের কথা চিন্তা করছে।

অতীত,,,,,,,,,,

আয়ূশ আর আনতারার বিয়েটা হয় পারিবারিকভাবে।খুব মিষ্টি একটা মেয়ে।সব সময় হাসি যেন মেয়েটার মুখে লেগে থাকে।সবার সাথে এমনভাবে কথা বলে যে,,যদি কেউ তার সাথে ১ঘন্টা কথা বলে তাহলে তার মনে হবে সে তার খুব কাছের কোন মানুষের সাথে কথা বলছে।
আনতারা খুব ধার্মিক একটা মেয়ে।তার সাথে থেকে আমার ও কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু পুরটা হওয়ার আগেই…….
একদিন আনতারার চাচাত বোন আসে আমাদের বাসায়। সে আনতারার মত ততটা ধার্মিক না কিন্তু সে আনতারার চেয়ে সুন্দরী। আর মেয়েটা খুব মিশুক।সবার সাথে খুব সহজে মিশে যায়।আমার সাথেও কথা বলে।মেয়েটা হাসাতেও জানে।

এর পর মাঝেমাঝে তার সাথে কথা হত।কাজ করতে করতে বিরক্ত হলে তার সাথে কথা বলতাম।
হঠাৎ কোন এক রাতে,,,
আনতারা:তুমি বদলে গেছ আয়ূশ।আমাকে আর আগের মত ভালোবাসনা,,সময় দাওনা,,আমি ফোন দিলে ওয়েটিং দেখায়,,পরে ফোনও করনা।
আয়ূশ আনতারা মুখের দিকে তাকায় ওর বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে।আনতারার কষ্টটা সে স্পস্ট দেখতে পারছে।যে মেয়ের মুখে সব সময় হাসি থাকত সে মেয়ের চোখে পানি।আনতারা অতি সুন্দরী না হলেও খুব মায়াবী। যে তাকাবে তার দিকে সেই মায়ায় পড়ে যাবে।
আয়ূশ ঠিক করল সে আর আনতারাকে কষ্ট পেতে দিবে।এমন কাজ ও করবে না যাতে আনতারা কষ্ট পায়।
এরপর থেকে সে আর আলীশার(আনতারার চাচাত বোন) ফোন ধরে না।কাজের ফাকে সুযোগ পেলে আনতারাকে ফোন দেয়। তাদের সংসার সুখে কাটছিল।
একদিন সকাল বেলা,,,
আয়ূশ:আনতারা, আনতারা…
আনতারা:কি হয়েছে এমন জিরাফে মত চিল্লাচ্ছ কেন..?
আয়ূশ:(আনতারার কথা শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়) কি আমি জিরিফের মত চিল্লাচ্ছি।বলি জিরাফ কে কখন চিল্লাতে দেখেছ।
আনতারা:ফালতু কথা বাদ দাও কাজের কথা বল।
আয়ূশ:কি আমি ফালতু কথা বলতেছি না তুমি….
বলে আনতারার দিকে তাকিয়ে,,,
না না, তুমি না তুমি না, আমি ফালতু কথা বলতেছি।আমি তো ফালতুই।তুমি কত ভালো।
শুন অফিসের কাজে আমি ঢাকার বাইরে যাচ্ছি ওখানে কিছুদিন থাকতে হবে।
আনতারা দিকে চেয়ে দেখি ওর চোখ ছলছল করছে।
আরে পাগলি আমি তো আর চিরদিনের জন্য যাচ্ছি না মাত্র কটাদিন।
দেখ এবার আমি কাজটা ঠিকভাবে করতে পারলে আমাদের জীবনটাই পাল্টে যাবে।

কিন্তু তখন ভাবীনি জীবনটা এভাবে পাল্টে যাবে।