তুই আমার কাব্য পর্ব-০১

0
988

#তুই_আমার_কাব্য 🍂

#Writer: Anha Ahmed 🍂
#Part: 1
.
🍁
.
ভালোবাসলে নাকি মাটিতে দাড়িয়েই আকাশ ছোঁয়া যায়! ঘাসফুলের মাঝেও এতো সৌন্দর্য কাজ করে যা নাকি গোলাপের মতো ফুলের রাণীকেও হার মানিয়ে দেয়। খাতার খালি সাদা পাতাগুলোতে ঢেউ খেলে হাজার রংয়ের ছবি আর আমরা যে একা একা বিষন্ন প্রাণহীন সময় কাটাই তখন সেই সময়ও ভালোবাসার মুক্ত হাওয়ায় হয়ে ওঠে মধুর ও রঙ্গিন। ভালোবাসায় প্রাপ্ত বেদনাতেও নাকি সুখ নিহিত আছে। সে তো যেনো সুখ নয় মনের অসুখ। সকালের মিষ্টি শুভ্র নির্মল আবহাওয়ায় অনেকের মনে আমার কথায় ভালোবাসা জানালার উঁকি দিচ্ছে। আর প্রতিদিনের মতো আজও ভালোবাসার এমন শিহরণ জাগানো কথা, গান ও আড্ডা নিয়ে আমি আছি আর জে আয়ুষ্মান কাব্য আর আপনারা শুনছেন আপনাদের ফেবারিট শো ‘ চায়ের কাপে তুমি’। আর যাদের মনে ভালোবাসা জানালা দিয়ে উঁকি দিচ্ছে আশা করি
তাদের ভালোবাসা এবার জানালা ভেদ করে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেবে এই গানের মাধ্যমে..

বেদনা মধুর হয়ে যায় তুমি যদি দাও ♪♪
মুখের কথাই হয় যে গান তুমি যদি গাও ♪♪

বেদনা মধুর হযে যায় তুমি যদি দাও..

কুয়াশায় রাত হয় ভোর
কেঁটে যায আঁধারের ঘোর ♪♪
চোখের তারায় নামে স্বর্গ তুমি যদি চাও ♪♪

বেদনা মধুর হয়ে যায় তুমি যদি দাও ♪♪

যেদিন জেনেছে এই মন তুমি যে আমার
সেই থেকে যা পেয়েছে সে সবই যে তোমার ♪♪
দুঃখ হয় প্রীতিঅর্ঘ যদি দিয়ে যাও ♪♪

বেদনা মধুর হয়ে যায় তুমি যদি দাও ♪♪

– হে লিসেনারস কেমন লাগলো এই গান। আশা করছি খুব ভালো লেগেছে। আপনাদের পছন্দের গান শুনতে আমাকে মেসেজ করুন।

শো শেষে কাব্য রেডিও স্টুডিও থেকে বেড়োতেই ফ্রেন্ডরা চেপে ধরলো কাব্যকে । বেচারা কাব্য পরে গেলো ভেজালে। প্রায়ই তাকে এই সময় বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় কিন্তু আজ তো একজন দুজন নয় এ তো পুরো গ্যাং চলে এসেছে।

– কি ব্যপার বল তো কাব্য ? তোর মনে এতো প্রেম আসে কই থেকে? প্রেম ট্রেম করছিস নাকি? নাকি কারো প্রেমে পরেছিস? ( অনি)

– কাম অন অনি এটা আবার প্রশ্ন করার মতো কিছু? ওর বিহেভিয়ারে বুঝতে পারছিস না? ( তুলি)

– একদম ঠিক দেখছিস না কেমন যেনো কাব্যিক কথা বলা শুরু করেছে? আবার দেখ দিন দিন হ্যান্ডসামও হচ্ছে। মানুষ কখন সুন্দর হয়? ( রাহুল)

– প্রেমে পরলে ( সবাই একসাথে হেঁসে দিয়ে)

– ইটস্ নট ফেয়ার! কাব্য তুই আমার প্রেমে ছাড়া আর কারো প্রেমে পরতে পারিস না। (নাক ফুলিয়ে বলল রাহি)

– নেকা শষ্ঠি। এই তোর প্রেমেই পরতে হবে তার কোনো আইন লেখা আছে নাকি? সারাক্ষণ তো মুখে আটা ময়দা মেখে চলেছিস। তোর চেহারাই দেখা যায় কই যে কেউ তোর প্রেমে পরবে। ( অনি)

– অনি তুই কিন্তু আমাকে ইনসাল্ট করছিস। (রাহি)

– স্টপ ইট গাইস। কি শুরু করলি তোরা এইখানে এগুলা? এইটা কাজের জায়গা তোদের এসব ফালতু কথা বলার জায়গা না। সো নাও প্লিজ স্টপ ইট। (চিৎকার করে কাব্য )

– অঅঅঅ ফালতু?? মানুষকে তো খুব বড় বড় কথা শুনিয়ে আসলি কেবল ভালোবাসা নিয়ে আর এখান তোর কাছে ফালতু মনে হচ্ছে? ( তুলি)

– আমি ভালোবাসাকে ফালতু বলি নি বলেছি তোদের ননসেন্স কথাগুলোকে। এখন কাইন্ডলি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখ কয়টা বাজে। ভার্সিটিতে জাবি না নাকি কেউ? আর তোদের তো কারো এখন শো নাই। তাহলে এখন এখানে কি করছিস তোরা? ( কাব্য )

– তোকে দেখতে আসছি। ( রাহি)

– রাহি আমার মনে হচ্ছে তোর মনে প্রেমটা একটু বেশিই হয়ে গেছে। যে কোনো সময় ওভারফ্লো হতে পারে। (অনি)

– আচ্ছা ছাড় না অনি। আসলে কাব্য আমরা আসছি তোকে পিক আপ করতে। কলেজেই যাচ্ছিলাম বাট ভাবলাম তোকে পিক করে নিয়ে যাই। ( রাহুল)

– এতো তাড়াতাড়ি? কেবল তো সাড়ে আটটা বাজে ( কাব্য)

– তুই তো কেবলই বললি, তাড়া দিচ্ছিলি আমাদের আর এখন নিজেই বলছিস এতো তাড়াতাড়ি? ( তুলি)

– আমি তো ভাবলাম তোরা এখান থেকে বাসায় যাবি তারপর ভার্সিটিতে যাবি তাই। ( কাব্য )

– পাগল হয়ে গেছিস কাব্য তুই?? তুই কি ভুলে গেছিস আমাদের আজ কলেজে তাড়াতাড়ি যেতে হবে। আজ ফ্রেসার এন্ট্রি ভার্সিটিতে। সো তাদের অর্ভ্যথনা তো আমাদেরই দিতে হবে আর আমাদের ওপর অনেক দায়িত্ব। (অনি)

– শিট ইয়ার আমি একদম ভুলে গেছি। মাথা থেকেই বেড়িয়ে গেছে। চল আর দেরি করা চলবে না।
.
.
.
আজ মেঘলার ভার্সিটির প্রথম দিন। ভাবতেই মনের মধ্যে এক অন্যরকম ভালোলাগা আর অজানা ভয় কাজ করছে ওর। কেনো হচ্ছে এমন ফিলিংস বুঝতে পারছে না। গত কাল সারারাত ভালো মতো ঘুমোতেই পারে নি এতো এক্সাইটমেন্ট কাজ করছিল আর এখন রিকশার চাকা যতো এগোচ্ছে ততো নারভাসনেস কাজ করছে। রিকশা ভার্সিটির গেটের সামনে এসে থেমেছে। পা তো এক ফোটা নরছে না। যেনো কেউ আটকে দিয়েছে রিকশার সাথে। মেঘলা এক মনে তাকিয়েই আছে গেইটের দিকে আর ভাবছে তার স্বপ্নের পথ চলা শুরু হওয়ার দরজা তার সামনে। রিকশাওয়ালার কথায় ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে এলাম।

– আফা নামেন, আইসা পরছি। ভেতরে যাওন যাইবো না।

রিকশাওয়ালার কথায় নেমে পরলো মেঘলা। টাকা দিয়ে চলে আসছে তখন আবারো রিকশাওয়ালা ডাক দিলেন।

– আফা টাকাটা বদলায়ে দেন। ছেড়া টাকা এইটা।

টাকাটা নিয়ে অন্য টাকা দেয়ার জন্য ব্যাগ খুলে দেখে বিশ টাকার নোট আর নাই। উপায় না পেয়ে একশ টাকার নোটটাই দিলো। তার কাছে নাকি সকাল সকাল একশো টাকার ভাংটি নাই। এ আবার কেমন কথা? একশ টাকার ভাংটি তাই নাকি রিকশাওয়ালার কাছে নেই। ভারি মুসকিলে পরে গেলো মেঘলা। এখন কি করবে? আজই কি এমন পরিস্থিতিতে পরতে হলো? আশে পাশে তাকাতেই দেখে এক মহিলা এক চুরির ঝুড়ি নিয়ে বসে আসে। তাকে দেখেই চিন্তা মুক্ত হয়ে দুই মুঠ চুড়ি কিনে নিলো। আর যাই হোক চুড়ি কিনা কখনো বৃথা যাবে না মেঘলার । বাকি টাকা থেকে রিকমাওয়ালাকে টাকা দিয়ে বিদায় দিলো। আর কেনা চুড়ি থেকে অর্ধেকটা হাতে দিলাম। বেশ মানিয়েছে চুড়িগুলো। এবার গুটি গুটি পায়ে পা রাখলো ভার্সিটির ভেতরে। বেশ হইচই পরিবেশ। নতুনত্বের আগমন বলে কথা। যতই এগিয়ে যাচ্ছে ততই হার্ডবিট ফাস্ট হয়ে যাচ্ছে। এই মূহুর্তে ইচ্ছা করছে হাত দিয়ে হার্ডের ওপর চাপা দিয়ে রাখতে যেনো এতো দ্রুত বিট করতে না পারে। এমন সময় আরো একধাপ বুক কাপিয়ে দিল ফোনের রিংটন। ফোনের স্ক্রীনে তাকিয়ে দেখে একরকম রাগের কথা মনে পরে গেল। তনুকে গত এক সপ্তাহ থেকে বলে আসছে একসাথে ভার্সিটির গেইটে ডুকবে কিন্তু না সে আজকেও লেইট। এই সময় তার মেঘলার পাশে থাকার কথা ছিল কিন্তু তার দেখা নাই। সে এখন ফোনের বিপরীত পাশে। ফোন রিসিভ করো কি করবো না সেই দোটানায় থাকতে থাকতে এক পর্যায়ে রিসিভ করেই নিলো।

– হ্যালো

– হ্যালো মেঘ!

– নাহ্ বৃষ্টি।

– বৃষ্টি মানে?

– তোর মুন্ডু। এতোক্ষণ তোর আমার কথা স্মরন হলো? যাক আমি ধন্য হয়ে গেলাম। বলুন আপনার কি সেবা আমি করতে পারি?

– বুঝতে পেরেছি তুই অনেক রেগে আছিস তাই না? দোস্ত বিশ্বাস কর অনেক জ্যাম ছিল। তাই আসতে পারি নি।

-ওহ্ আচ্ছা তাই? জ্যাম তোকে বড্ড ভালোবাসে রে তাই? তোকেই আটকে নিল নিজের মধ্যে।

– প্লিজ দোস্ত রাগ করিস না। কোথায় তুই বল না।

– ভার্সিটির ভেতরে ক্যাম্পা….

কিছু বলতে যাবে তার আগেই কোথা থেকে গিটারের সুর ভেসে এলো। ফোনটা রেখে পা বাড়ালো সেই সুরের সন্ধানে। গিটারের প্রতি বরাবরই একটু বললে ভুল হবে বেশ অনেকটাই আকর্ষণ রয়েছে। কিছুক্ষণ আগেও মেঘলার মাঝে এক নার্ভাসনেস কাজ করছিল কিন্তু এই সুরের সন্ধানে তা নিমেষেই গায়েব হয়ে গেলো আর তার পরিবর্তে কাজ করছে তীব্র আগ্রহ কোথা থেকে আসছে এবং কে বাজাচ্ছে এ গিটার। হাঁটতে হাঁটতে পা জোরা এসে থামলো এক কক্ষের পাশে। হ্যা এই কক্ষ থেকেই আসছে এই সুর। তবে দরজা লাগানো। তবু সাহস নিয়ে এগিয়ে গেলো। আবারো পা লেগে আসছে, হার্ডবিট প্রচুর ফাস্ট হয়ে যাচ্ছে, রিতিমতো কাঁপছে হাত পা। তবুও কাঁপা কাঁপা হাতে দরজায় ধাক্কা দিতেই খুলে গেলো দরজা। এ যেনো মনে হলো জীবনের একটা নতুন দরজা, নতুন অধ্যায় খোলে গেলো।

চলবে…❤