তুই হবি আমার পর্ব-০৩

0
1889

#তুই_হবি_আমার??
#DîYã_MôÑî
#পর্ব__০৩

রোজ চলে যেতেই মেঘ নিজের গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে গেলো,, পেছন থেকে আরাভের ডাক শোনা যাচ্ছে তবুও গাড়ি থামালো না মেঘ। মেঘ চায়না রোজকে কষ্টে দেখতে। কেন চায়না? সেটা নিজেও জানে না আবার হয়তো জানে।


ক্লাসে ঢোকার আগে রোজের সাথে দেখা হলো আলিজা আর কলির। ওরা আজ হাফ টাইম ক্লাস করেই চলে যাবে। তাই রোজের সাথে দেখা করতে এসেছে। নিভি রোজকে রেখে নিজের ক্লাসে চলে গেলো।

কলি : রোজ আজ আমাকে ছেলেপক্ষ দেখতে আসবে। তুই থাকবি না আমার সাথে.? প্লিজ বাড়ি চল কেউ তোর সাথে ঝামেলা করবে না। আমি প্রমিস করছি সবটা আমি দেখে নিবো। তাছাড়া ভাইয়াও তো আছে। না করিস না বোন।

রোজ : আমার মতো অপয়া মেয়েকে কোনো শুভ অনুষ্ঠানে থাকতে হয়না আপিপু। আমি বাচাল, বেয়াদব। আমি গেলে তোমার যদি কোনো সমস্যা হয় তাহলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না।

কলি : রোজজজজজ। এমন বলিস না বোন। দেখ তোকে তো আমরা ভাইবোনেরা অনেক ভালোবাসি বাড়ির বড়রা যা বলে বলুক। তবুও চল।

রোজ : ছেলে কি করে.? দেখেছো ছেলেকে.? নাকি প্রেম করতে আগে ?
কলির মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেলো। তা দেখে রোজ জোরে জোরে হেসে দিলো।

আলিজা : সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ার। দেখতে মাশাআল্লাহ। তাই তো আমাদের কলি বেবি লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে। শত হলেও হবু বর।

রোজ : বিয়ের পর ছবি পাঠিয়ে দিও আমাকে।
কলি : মানে.? তুই আমার বিয়েতেও আসবি না.? দেখ রোজ বেশি বাড়াবাড়ি হচ্ছে এবার। তুই আমাদের সবার ছোট আর সবচেয়ে আদরের বোন। তোকে ছাড়া কোনো কাজই সম্পূর্ন হবে না

রোজ : যার মা বাবাই তাকে পছন্দ করে না সেখানে অন্যের মতামতে কিভাবে বিশ্বাস করবে সে.? যাই হোক আপিলা তোমার কি খবর.? কলেজে আসলে কারোর ওপর ক্রাশ ট্রাশ খাওনি.?

আলিজা : কথা এড়িয়ে যাচ্ছিস.? ঠিক আছে। তোকে কখনো জোর করিনি আমি। তবে আমার জীবনের কোনো শুভ মুহূর্ত তোকে ছাড়া আমি কাটাবো না। আমার লাইফের সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট মানুষ টা তুই,, আমার ছোট বোন। আররর

রোজ : উফ আপিলা তুমি সারাধন বোনদের মতো এতো ইমোশনালি ব্লাকমেল করো কেন.? আর শুভ মুহূর্ত আমাকে ছাড়া কাটাবে না মানে.? বাসর ককি আমি সহ করবা.? আচ্ছা যাও তোমার বাচ্চার নামকরনে থেকে যাবো। আর কোনো কথা না। বাড়ি যাও আমারও ক্লাস আছে। টাটা। আর আপিপু বিয়ের অগ্রিম শুভেচ্ছা নিও। যদিও প্রেমটা আমাকে না জানিয়েই করেছো তবে কোনো অভিযোগ নেই আমার।

রোজ হাটতে হাটতে ক্লাসের দিকে এগোচ্ছে।
রোজ : ( সত্যিই কোনো অভিযোগ নেই আমার। কার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকবে.? আর কার কাছেই বা অভিযোগ করবো.? একমাত্র রওশন ছাড়া কেউ তো বোঝে না আমায়। প্লিজ রওশন কাম ব্যাক টু বাংলাদেশ কাম ব্যাক টু ইউর লাভ। ডোন্ট ইউ মিসিং আস.? কেন রাগ করে চলে গেলে.? কি ভুল ছিলো কিচ্ছু জানি না শুধু জানি তুমি ফিরবে। তোমাকে ফিরতেই হবে। নাহলে যে একা হয়ে যাবো আমি। অপরাধবোধ কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে আমায়। ) মনে মনে।


#LonDoN

#R_I ইনাড্রাসটিজের ওনার চেয়ারে বসে একটা ছবির ফ্রেম হাতে নিয়ে কফি খাচ্ছে। ঠিক সেসময় ভীষম লাগলো তার,, কফি রেখে উঠে দাড়ালেন তিনি। তারপর জানালার কাছে দাড়িয়ে গ্রিলে হাত রেখে বললেন
— কেন এমন হলো.? কেন চলে আসতে হলো আমাকে.? কেন করলে এমন.? কি ভুল করেছিলাম আমি যে তুমি আমার ভালোবাসার দাম দিলে না। ফিরিয়ে দিলে আমাকে। কেন রোজ কেন সেদিন তুই ওকে আটকালি না.? কেন সহ্য করলি সবটা.? কেন? সবকিছুর উত্তর চাই আমার আর সেসব #BD তেই পাবো। হ্যা আসবো আমি। এসে সব উত্তর নিবো। আমি আসছি রোজ। আসছি তোমাদের কাছে।


ক্লাস শেষ করে রোজ হোস্টেলের দিকে হাটছে ঠিক তখন পেছন থেকে ডাক দিলো মেঘ

মেঘ : রোজ দাড়াও।
পেছনে ঘুরে তাকালো রোজ। মেঘ দৌড়াতে দৌড়াতে আসছে।

মেঘ : সরি রোজ তোমার জন্য আমি কিছু করতে পারলাম না।
রোজ : ইট্স অকে মেঘরোদ্দুর।

রোজের মুখে সেই পুরোনো “মেঘরোদ্দুর” ডাকটা শুনে হার্টবিট বেড়ে গেলো মেঘের। ওর অবাধ্য মন বারবার চাচ্ছে ছোটবেলার মতো রোজকে জরিয়ে ধরে গাল দুটো টানতে। কিন্তু সেটা যে আর সম্ভব না।

মেঘ : কোথায় যাচ্ছো.?
রোজ : উফ ফর্মালিটি মেইন্টেইন করতে করতে শেষ হয়ে যাচ্ছি আমি । দেখো এখন থেকে নো তুমি নো আপনি। তুমি আমাকে আগে যেমন তুই করে বলতে তেমন বলবে। আর আমি তুমি। অকে.?

মেঘ : পার্সোনালিটি চেন্জ করলেও কিছুটা মেন্টালিটি আগের মতো বাচ্চা টাইপের আছে। তো কোথায় যাচ্ছিস সেটা তো বল।

রোজ : হোস্টেলে। বাই দ্যা মেইন ওয়ে তোমার গ্যাং কোথায়..? ওদের তো দেখতে পাচ্ছি না। লুকিয়ে লুকিয়ে আসছো নাকি.?

মেঘ রোজের দিকে চোখ ছোটছোট করে তাকালো,, রোজ চোখ বুজে হাসতে লাগলো। সেই হাসি যেটা দেখে মেঘ প্রথম রোজের কাছে গেছিলো। ওর সাথে প্রথম দেখা আর কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলো। সেগুলো এখন শুধু স্বৃতি খাতায় জমা অনুভুতি হয়ে জমে আছে। হয়তো রোজ মেঘকে নিয়ে কিছুই ভাবে না।

মেঘ : তুমি আলিজাদের সাথে বাড়ি যাওনি.? একটু পর তো সৌরভরা যাবে তোমাদের বাড়ি।

রোজ : কে সৌরভ.?
মেঘ : আমার কাজিন। কলির উডবি তুমি জানো না? আজ কলিকে দেখতে যাচ্ছে মামিমনি। বিয়ের ডেটও ফিক্সড করে আসবে। আমিও তো এখন যাচ্ছি চলো একসাথে যাই।

রোজ : আপনি যান। আমার একটু কাজ আছে। একজনের কাছ থেকে কিছু পেপার নিতে হবে। তাছাড়া আমার অন্য বাড়িতেও যেতে হবে সেখানে সবাই মিস করছে আমাকে।

বলেই হোস্টেলের দিকে পা বাড়ালো রোজ। মেঘ রোজের কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করছে,, কিছু না পারলেও রোজকে একটু হলেও বুঝতে পারে। রোজ যে মিথ্যা বলছে সেটাও বুঝতে পারছে ও। কিন্তু কেন.?

চৌধুরি প্যালেস,,,
মেঘ সৌরভ পাশাপাশি বসে আছে। ওদের পাশেই সৌরভের আম্মু, কাকি আর দাদি। আলিজা কলিকে রেডি করে সিড়ি দিয়ে নিচে নামছে ঠিক তখনই মেঘকে দেখে দাড়িয়ে গেলো।

আলিজা : কলি দেখ জিজুর পাশে ওই আরাভের দলের ছেলেটা। ও এখানে কি করছে.? ছেলেটাকে বড্ড চেনা চেনা লাগছে আগেও দেখেছি হয়তো।

কলি : তুই সিউর ওদের সাথে মেঘ ভাইয়া ছিলো.?
আলিজা : ১০০%. এই ছেলেটাই ছিলো। ওর নাম মেঘ ?

কলি : হ্যা সৌরভের ফুপাতো ভাই,, তোর বাপির বিজনেস পার্টনার মৃন্ময় আহমেদের একমাত্র ছেলে একবার তোর বার্থডে তে আসছিলো তারপর আমার বার্থডে তে। মনে নেই তোর.?

আলিজা : হ্যা হ্যা মনে আছে,, রোজের সাথে দেখেছিলাম। রোজ ওকে মেঘরোদ্দুর না কি যেন বলে ডাকতো। ওর সাথে রোজের বেশ ভাব ছিলো। শুধু ওদের দুজনের সাথেই তো রোজ মিশতো,,

কলি : রওশন ভাইয়া ব্যাক করছে। জানি না ওদের দুজনের মিল হবে কিনা। শুধু চাইবো ওদের ভালোবাসা যেন পূর্নতা পায়।

আলিজা : হুম।নে এবার চল। নাহলে ওরা বলবে মেয়ে কচ্ছপের মতো হাটে। পরে বিয়েটাই ক্যন্সেল হয়ে যাবে। বেচারা সৌরভটা তখন বৈরাগী হয়ে যাবে।

আলিজাকে সোফায় বসিয়ে আলিজাও বসলো,, ওদের পাশে কুশান, নিশান (কলির বাবা), কবিতা (কলির মা), রুশানি (আলিজার মা ) দাড়িয়ে আছেন।

সৌরভের মা যথারীতি কলির হাতে আংটি,বালা পড়িয়ে দিলেন। বিয়ের তারিখ ঠিক করলেন।


#In_Airport কানে ব্লুটুথ গুজে, রাগে চিল্লাচ্ছে রওশন। ঠিক সে সময় তার পি.এ এসে তাকে খবর দিলো যে রোজ #MR কলেজের হোস্টেলে আছে। আর বাড়িতে কলির এন্গেইজ্মেন্ট হচ্ছে। রওশন এক রহস্যময় হাসি দিয়ে গাড়িতে উঠলো।

রওশন : রেড রোজ NgO তে চলো।

রাত ৮টা,, রোজ NgO এর বাচ্চাদের সাথে খেলা করছে,, ঠিক তখন কিছু বাচ্চা এসে রোজের চোখ হাত দিয়ে ঢেকে দিলো।

রোজ : একি কি করছো তোমরা.?? চোখ থেকে হাত সরাও।
বাচ্চাগুলো হাত সরাতেই লাফিয়ে উঠলো রোজ। সামনে রওশন এক বক্স চকলেট নিয়ে হাটুগেড়ে বসে আসে। রোজের চোখ পানিতে টলমল করছে। হাত পা অবশ হয়ে আসছে। ৫বছর পর নিজের প্রিয় মানুষটাকে কাছ থেকে দেখছে। আনন্দের সব সীমা অতিক্রম করতে ব্যস্ত। রওশন এগিয়ে এসে রোজকে আলতো করে জরিয়ে ধরলো।

রওশন : কেমন আছিস?
রোজ এবার রওশনের জ্যাকেট খামচে ধরলো তারপর ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো। রোজ কখনো কাঁদে না তবে রওশনের সামনে আসলে অপরাধ বোধ থেকে বারবার কেঁদে ওঠে।

রওশন : কাঁদছিস কেন…? চলে এসেছি তো। পার্মানেন্টের জন্য। ওদেশের সব ঝামেলা চুকিয়ে এসেছি। এখন থেকে তোর কাছে থাকবো তোদের কাছে থাকবো। দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।

রোজ : কেন চলে গেলে সেদিন.? আমার কথাটা একবার ভাবলেও না.? তোমার কাছে শুধু নিজের দামই বেশি। আমার কোনো দাম নেই তোমার কাছে। তোমরা শুধু আমাকে একা ফেলে চলে যাও। শুধু কষ্ট দাও। কেন? কেন করো এমন.?

রওশন : আবার কাঁদছিস.? তুই জানিস না তোর কান্না আমি সহ্য করতে পারিনা। তবুও কেন কাঁদিস.? যেন আমি কষ্ট পাই.?

রোজ : উহু। তুমিই ঠিক বলেছো সব ঠিক হয়ে যাবে। সব ঠিক করে দিবো আমি।

রওশন : নিজের কথা ভেবেছিস.?
রোজ : বাদ দাও অনেক বছর পর ফিরেছো বাড়ি গেছো.? নাকি সোজা এখানে চলে এসেছো..?

রওশন :না মানে,,,
রোজ : হুম বুঝেছি। তুমি এখুনি বাড়ি যাবে। চলো আমাকে হোস্টেলে নামিয়ে দাও।

বাচ্চাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলো রোজ রওশন। রওশন রোজকে নামিয়ে দিয়ে ইয়ারাভ ম্যানশনের দিকে গাড়ি ঘোরালো। তারপর গাড়িটা আবার থামিয়ে সাইড করে, গাড়ি থেকে নেমে রোজের কপালে ভালোবাসার পরশ এঁকে দিয়ে বললো “সাবধানে থাকিস পিচ্চি কাল দেখা হবে ” মেঘ চলে যেতেই রোজ ধীরে ধীরে নিজের রুমের দিকে এগোতে লাগলো। নিজেকে অনেক হালকা লাগছে আজ,, গাড়িতে বসে এতোদিনের সব কথা জানিয়েছে রোজ, রওশনকে।


ওদিকে একজন হোস্টেলের সামনের রোডের সিসিটিভির ফুটেজ দেখছে আর রাগে, হিংসায় জ্বলছে,,, মানুষটা রেগে ল্যাপটপ উচু করে ফ্লোরে ছুড়ে মারলো,, তারপর কাঁচের টেবিলে ঘুসি দিলো। সাথে সাথে কাঁচ ভেঙ্গে হাতে ঢুকে গেলো।
— তুই শুধু আমার রোজ। আর কারোর না। তোর পাশে আমি অন্য কাউকে সহ্য করতে পারবো না। তোর জন্য আমি নিজের নিজেকে ভুলেছি। একদিন পুতুল খেলার ছলে বলেছিলাম তুই আমার হবি,, আমার কাছে থাকবি,, আমার জন্য বউ সাজবি,, শুধু আমাকে নিয়ে ভাববি। কিন্তু না আজ বলছি তুই শুধু আমার হবি। এটা জীবনের খেলা। আর এই খেলায় #তুই_হবি_আমার। শুধুমাত্র আমার।

চলবে,,