তুমি যে আমার পর্ব :- ০২

0
3147

গল্প :- তুমি যে আমার
পর্ব :- ০২
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
-:”মেয়েটা কি অদ্ভুত রে বাবা…..
আমার মাত্র ব্রেকআপ হলো কিছুক্ষন আগে, কিন্তু তার মধ্যে এই নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই তার। সে সাজার জন্য পার্লারে চলে গেলো।

এখন তার নাকি স্ট্রেসড ফিল হচ্ছে, এইদিকে আমার মন ভাঙলো রিতীমত মন ভেঙে ছারখার হয়ে যাচ্ছে,, একটা সান্তনা মূলক কথা তো দূরে থাক, কিছুই বললো না।

আসলে মেয়েটা খুব অবুঝ, একদম বাচ্চাদের মত,
আল্লাহই জানে কার সাথে এর বিয়ে হবে? কিন্তু এখন তো মনে হচ্ছে বিয়েটা আমারই করতে হবে। উফ ভালো লাগছে না আর টেনশনে।

এসব ভাবতে ভাবতে কাব্য একটা পার্ক গিয়ে বসলো,
সেখানে তার পুরনো বন্ধু আশফাকের সঙ্গে দেখা হলো, ছোটবেলার বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে সচরাচর সবাই বেশ কিছুক্ষণ কথা বলি, কাব্য ও কথা বলছিলো, কিন্তু কথা বলতে বলতে কখন যে দু তিন ঘন্টা চলে গেলো তার সেদিকে খেয়াল নেই। তখন কি মনে করে ফোনটা বের করে দেখলো মিরা কল দিয়েছে তিনবার। চতুর্থবারের সময় ফোনটা রিসিভ করলো, কারণ কাব্যর ফোন এতক্ষণ সাইলেন্ট ছিলো।

–“কি ব্যাপার আপনি এত ইরেস্পন্সাইবেল কেন? আমি আপনাকে তিন বার ফোন দিলাম। আর আপনি চতুর্থবার এসে রিসিভ করলেন? কেউ চতুর্থবারের সময় ফোন রিসিভ করে এটা কিরকম?

–“আমি খেয়াল করিনি, আপনার কাজ হয়েছে?

–“হ্যাঁ হয়ে গেছে, এখন আপনি আসতে পারেন, আমাকে নিতে।

তারপর কাব্য আশফাককে বিদায় জানিয়ে মিরার পার্লারের দিকে যাচ্ছে। আর মনে মনে ভাবছে বিয়ের আগে থেকেই এরকম এই মেয়ে, আর বিয়ের পরে কি করবে আল্লাহ খোদা একমাত্র ভালো জানেন।

এদিককার…….

–“মিরা আপু, তুমি কিন্তু তোমার বিয়ের সম্পূর্ণ সাজ আমাদের এখান থেকে সাজবে। (পার্লারের মেয়ে)

–“হ্যাঁ তা তো অবশ্যই, তোমাদের এখান থেকে সাজবো..

–“আচ্ছা আপু, আমরা কিন্তু দুলাভাই কে এখনো দেখি নাই। কবে দেখাবা? দুলাভাইয়ের ছবি তো অন্তত দেখাও?

আমি মনে মনে বললাম আমি তো তার দিকে ভালোমতো তাকিয়েই দেখি নাই, তোমাদের কি দেখাবো? এর সাথে কি কোন পিরিতের আলাপ হয় নাকি আমার? খারুস একটা।

তারপরেও হাল্কা হাসি দিয়ে বললাম।
–“তার তো কোন ছবি আমার মোবাইলে নাই, তবে অবশ্য একটু পরে সেই আমাকে পার্লার থেকে পিক করতে আসছে। যখন নিচে আসবে তখন দেখে নিও কেমন?

–“আচ্ছা আপু ঠিক আছে।

প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসলো একটু শীত শীত পড়েছে চারিদিকে, কাব্য নিচে এসে আমায় ফোন দিলো, তারপর আমি নিচে নামলাম সাথে পার্লারের মেয়ে কয়েকটি, সবাই তো কাব্যকে দেখে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, দেখতে নাকি এতই ভালো লাগছে ওদের।

তখন আমিও ভালো মত একটু তাকিয়ে দেখলাম এতদিন তো একটু দুশমন-দুশমন এর নজরে দেখেছি,,
কারণ আমি তো বিয়ে করতে চাই না এখন তার সাথে যদি আমাকে জোরকরে বিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে এক প্রকার দুশমনই মনে হলো আমার। কিন্তু এখন ভালো মত তাকিয়ে দেখলাম..

না ছেলেটা আসলে অনেক সুন্দর উচ্চতা প্রায় ৫”৭ ফুটের কাছাকাছি গায়ের রং ফর্সা চুলগুলো স্পাইক করা ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি রাখা দেখতে বেশ ভালো লাগছে..

তখন আমি তাদের থেকে বিদায় নিয়ে কাব্যর সাথে বের হয়ে গেলাম, বাইরে কনকনে বাতাস বইছে ভালোই লাগছে, গাড়ির গ্লাস টা খুলে দিলাম। হাইওয়ে দিয়ে যাচ্ছি, তেমন কোন কথা কেউই বলছিনা কিছুক্ষণ পরই কাব্য বললো।

–“আপনি তো কিছুই খাননি দুপুর থেকে চলেন খাওয়াদাওয়া করি..

–“হ্যাঁ চলুন, আপনিও তো মনে হয় কিছু খাননি..

–“হুম খাইনি…..

–“হ্যাঁ, তা খাবেন কেন? আর এখনতো ছ্যাকা খেয়েছেন, কিছু দিন কান্নাকাটি করবেন মন মানসিকতা খারাপ থাকবে। দুঃখী দুঃখী ভাব থাকবে, তাই না?

–“আপনি আমাকে পিঞ্চ করছেন?

–“না তো, আমি কোন প্রিঞ্চ করছি না, আমি সত্যি কথা বলছি।

বলেই মনে মনে হাসতে লাগলাম।
ব্রেকআপ হয়েছে এখন কিছুদিন কান্নাকাটি গাঁজাখুরি চলবে।

–“দেখুন আমি আর দশটা ছেলের মত না,

–“তাই? দেখি তো ভালোমতো,

এই বলেই মিরা কাব্যর দিকে ভালো মতো ঝুকে দেখা শুরু করলো, কিন্তু এতে কাব্যর একটু অস্বস্তিকর লাগছে…..

–“আরে আপনি ঠিক হয়ে বসবেন?

–“হ্যাঁ তা তো বসবো….

–“বসুন তবে। আর আমি কেমন তা আপনার অত কিছু জানা লাগবে না,

–“হু যেমন আমি জানার জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছি,

–“কিছু বললেন?

–“না কিছু বলিনি।

তারপর রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম এরপর কাব্য আমায় বাসায় নামিয়ে দিলো গেটের কাছে আসতেই পেছন থেকে ডাক দিলো।

–“এই যে শুনছেন?

–“জ্বী বলুন?

–“আপনার ফোন নাম্বারটা দেয়া যাবে?

–“হ্যাঁ যাবে.. কিন্তু কি দরকার?

–“এক্সকিউজ মি?

–“ইউ আর এক্সকিউজড, জিজ্ঞেস করলাম ফোন নাম্বার কেন দরকার?

–“আপনি এমনভাবে বলছেন যেমন আমি আপনার নাম্বার নিয়ে আপনাকে ডিস্টার্ব করবো..

–“করতেও পারেন কে জানে?

–“আপনি এরকম চোখা চোখা কথা কেন বলেন?

–“আমি এরকমই, চোখা চোখা কথাই বলি..

–“নাম্বারটা এজন্য চাচ্ছিলাম কারণ আপনার আম্মু আব্বু বলেছে কাল সকালে যাতে আপনাকে নিয়ে শপিংয়ে যাই, আর তো বেশি দিন বাকি নেই বিয়ের,
আপনার যদি শপিং টপিং শেষ না করি, তাহলে কি করবেন? বিয়ের দিন পুরনো কাপড় পরে বিয়ে করবেন?

–“তারমানে এখন বিয়ে করতেই হবে?

–“আমার তো শখ নেই, শখ তো আমাদের পরিবারের।

–“আচ্ছা আপনার ফোনটা দিন আমি নাম্বার টুকে দিচ্ছি……

–“ওকে।

তারপর নাম্বার দিয়ে মিরা ভেতরে চলে গেলো।
মিরার এ অদ্ভুত আচরণ কাব্যকে বারবার মিরার কথাই ভাবাচ্ছে, জীবনে এত মেয়ে দেখেছে বাইরে থেকে পড়াশোনা করে এসেছে, সেখানে নানান ধরনের মেয়েরা ছিলো কিন্ত মিরার মত অদ্ভুত ধরনের মেয়ে সে এর আগে কখনো দেখেনি,

এদিকে বাড়িতে যাওয়ার পরে মিরা ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়ে নিলো। এরপরে হেডফোনটা কানে লাগিয়ে গান শুনছে আর ফেইসবুকিং করছে,

ঠিক ওই সময়ে তার হঠাৎ নিজের কানে হাত দিতেই দেখে বা কানের দুল টা নেই,
তখনই মনে পরলো হয়তো কাব্যর গাড়িতে পরে গিয়েছে,

এদিকে কাব্যর মনটা খারাপ লাগছে, কিন্তু মিরার কথাও মনে পরছে, যদিও প্রেম-ভালোবাসার মন-মানসিকতা এখন আর লাগছে না, কিন্তু বারবার সারাদিনের কথা মাথায় আসছে, তার মনে পড়ছে হয়তোবা মিরার অদ্ভুত আচরণ নয়তোবা বাচ্চাদের মতো আচরণ। এইসবই বারবার তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে,

তখন ছোট ভাই রায়হান এক কাপ কফি নিয়ে কাব্যর ঘরে আসলো,

–“ভাইয়া ভাইয়া? কফি নাও (রায়হান)

–“হ্যাঁ, এবার বল..

–“তোমার কি মন খারাপ?

–“না রে, তেমন কিছু না..

–“হ্যাঁ ভাইয়া তোমার মন খারাপ কি হয়েছে বল?

–“আজকে আমার আর নীলার ব্রেকআপ হয়ে গেছে,

–“তাহলে এখন তোমরা বিয়েটা করছো?

–“হ্যাঁ এখন বিয়েটা করতে হবে..

–“মিরা আপু কি বলে? এই ব্যাপারে?

–“তার বিয়ের কোন ইচ্ছা ছিল না, হয়তো বা কাউকে পছন্দ করে বা করে না আমি এসব ব্যাপারে কিছু জানি না। তবে এখন কোন কিছুই করার নেই। আমার দিক থেকে তো বাবা-মার ওপরে না করতে পারছিনা, উনিও না করতে পারছেন না।

–“তবে ভাইয়া একটা কথা বলি। তোমাকে আর মিরা আপুকে অনেক মানায় একসঙ্গে। কেন যেন মনে হয় তোমরা মেইড ফর ইচ আদার।

–“এগুলা বাদ দে এখন ঘুমা….

এভাবে কাব্য আর মিরা না চাইতেও একে অপরের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে, ভাগ্য তাদের কাছে নিয়ে আসছে, এই সম্পর্কের পরিনাম কি হবে তা কেউই জানেনা।
.
.
চলবে………
.
আপনাদের মতামত জানাবেন কেমন লাগছে?