তোমাতেই আমি পর্বঃ০৩

0
1800

তোমাতেই_আমি
#পর্ব_০৩
#Tabassum_Kotha

মীরা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বিছানার উপর বসে ফুপাচ্ছে। পানি দেওয়াতে জ্বালা অনেকটা কমে এসেছে। কিন্তু পুরোপুরি যায় নি। তখন কেউ মীরার পোড়া হাত টা টেনে তার দিকে নিলো। মীরা তার সামনে বসে থাকা মানুষটার দিকে তাকিয়ে আছে। কতো ভালোবেসে আদর দিয়ে সামনে বসে থাকা অর্ণব তার হাতে মলম লাগিয়ে দিচ্ছে। মীরার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে এই মানুষটাই কি কিছুক্ষণ আগে তার হাত পুড়িয়েছিল!!

মীরার হাতে মলম দিয়ে অর্ণব তার সাথে আনা খাবারটা নিয়ে মীরার সামনে বসলো।

— খাবার টা খেয়ে নাও। এরপর মেডিসিন আছে।

— একটু আগে হাত পুড়িয়ে এখন কি দরদ দেখাতে এসেছেন?

— তুমি আমার কে যে তোমাকে দরদ দেখাতে হবে?

অর্ণবের কথায় কেনো যেনো মীরার বুকে চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে। সে জানে সে অর্ণবের কেউ না। তাহলে কেনো এমন লাগবে!

মীরা কিছু না বলে খাবার টা খেয়ে ঔষধ নিয়ে নিলো। অর্ণব অফিসের জন্য তৈরি হয়ে বেরিয়ে যেতে নিলে মীরা পিছন থেকে ডাকে,

— আমি কি এভাবেই অফিসে যাবো?

— এই হাত নিয়ে অফিসে গিয়ে কি ইনফেকশন বানাতে চাও? আমার আরো টাকা লাগাতে চাও তাই না!

মীরা কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেলো। অর্ণব চলে যাওয়ার পর মীরা বাসা থেকে বেরিয়ে তার বাবা আর ছোট বোনের সাথে দেখা করতে যায়। দিনের প্রায় পুরোটা সময় ই মীরা তার বাড়িতে কাটিয়ে আসে।







রাতে বিছানায় পা দুলিয়ে বসে আছে মীরা আর ল্যাপটপে মুখ গুঁজে কাজ করছে অর্ণব। রাত বাড়ার সাথে সাথে মীরার বুকের ধুকপুকানিটাও বাড়ছে। কাল রাতে তো অর্ণব ক্লান্ত ছিল তাই সে রক্ষা পেয়েছে কিন্তু আজ সে কি করবে! আজকে তো তাকে বলির পাঠা হতেই হবে। কিছুক্ষণ এভাবেই বসে থেকে মীরা উঠে কিচেনে চলে গেলো।

একটুপর এক গ্লাস দুধ নিয়ে অর্ণবের কাছে গেলো।

— What!

— দুধ আর বাদাম।

— কেনো?

— আপনার শক্তির জন্য।

মীরার কথা শুনে অর্ণব ভ্রু কুঁচকে তাকালো তার দিকে।

— ওভাবে কি দেখছেন? কালকে না বললেন আপনি ক্লান্ত তাই ভাবলাম আজকে,,

— তার মানে তুমি প্রস্তুত?

— না হয়ে কি উপায় আছে বলুন?

— হুম। দাও দুধ টা।

অর্ণব দুধ টা খেয়ে মীরাকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানার দিকে আগাতে লাগলো। মীরা জোর করে মুখে একটু হাসি ফুটিয়ে অর্ণবের দিকে তাকিয়ে আছে। অর্ণব মীরাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নিজের সমস্ত ভর তার উপর ছেড়ে দেয়। এসি রুম হওয়া সত্ত্বেও মীরার কপাল বেয়ে ঘাম ঝড়ছে । অর্ণব মীরার হাত দুটো চেপে ধরে তার ঘাড়ে মুখ গুঁজে দিয়ে চুমু খাচ্ছে। মীরার অস্বস্তি হচ্ছে প্রচন্ড। চোখে মুখে বিরক্তি ফুঁটে উঠেছে। সে বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। মনে হচ্ছে কোনো কিছুর অপেক্ষা করছে সে।

মীরার ঘাড় থেকে মুখ তোলে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয় অর্ণব। মীরা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে অর্ণবের দিকে। অর্ণব মনের সুখে নিজের কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু মীরার এসব সহ্য হচ্ছে না। সে নিজের হাত দুটো আলগা করে অর্ণবকে ধাক্কা দেওয়ার জন্য। কিন্তু তার ধাক্কা দেওয়ার আগেই অর্ণব নিস্তেজ হয়ে তার বুকের উপর পরে যায়।

মীরা সস্তির একটা নিশ্বাস ফেলে। অর্ণবের জন্য আনা দুধের গ্লাসে সে ঘুমের ঔষধ দিয়েছিল। ঔষধ কাজ করেছে। এখন সে নিশ্চিন্তে ঘুমাবে। মীরা অর্ণবকে নিজের উপর থেকে ঠেলে সরিয়ে শান্তিতে ঘুমিয়ে পরে।

?

সকালে অর্ণবের আগেই মীরার ঘুম ভেঙে যায়। আজকেও অর্ণবের বাহুডোরে ঘুমিয়ে ছিল সে। ঘুমন্ত অর্ণবের মুখপানে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে সে। মীরা আপন মনেই ভেবে যাচ্ছে,

আচ্ছা অর্ণব এমন কেনো? একসময় মনে হয় তার চেয়ে কেয়ারিং দ্বিতীয় কেউ হতে পারে না। আবার পরক্ষণেই সে এমন কিছু করে বসে যা আমার ভিতরটা কাঁপিয়ে দেয়। একটা মানুষ এতো জটিল কিভাবে হতে পারে! তার আমার প্রতি নেওয়া যত্নগুলো দেখলে মনে হয় সে আমাকে ভালোবাসে। আর টর্চার গুলো দেখলে,,,

কেনো এতো কষ্ট দেয় আমাকে এই মানুষটা! তার কি এমন ক্ষতি করেছি আমি! এতো টাকার মালিক সে, ১০ লাখ টাকা তার কাছে কোনো ব্যাপারই না। তাহলে কেনো সে আমাকে এতো টর্চার করছে এই কয়েকটা টাকার জন্য!

কিছুক্ষণ অর্ণবের দিকে তাকিয়ে থেকে মীরা নিজেকে ছাড়িয়ে উঠে গেলো। ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে গিয়ে ইউ টিউব এ কুকিং ভিডিও অন করে বসে পরলো। উদ্দেশ্য বকা খাওয়ার আগেই আজকে অর্ণবের জন্য রান্না করবে। অনেক কষ্টে টানা ২ ঘন্টা যুদ্ধ করে রান্না শেষ করে মীরা। রান্না শেষ এ অর্ণবের জন্য ফ্রেশ ফলের জুস বানালো। জুসটা বানিয়ে কিচেনের দরজার সামনে এসে একবার উঁকি দিয়ে দেখলো আশে পাশে কেউ আছে কি না!

কাউকে দেখতে না পেয়ে কোমড়ে গুঁজে রাখা ছোট পুটলি টা বের করে জুসের গ্লাসে ঢেলে দিলো। ঔষধ টা জুসে গুলিয়ে দিয়ে একটা বিশ্বজয় করা হাসি দিয়ে খাবার টা ট্রেতে উঠিয়ে ঘরে নিয়ে চলে গেলো।

মীরা খুব সাবধানে সিড়ি বেয়ে উঠছে আর কিছু একটা ভেবে দাঁত চেপে হাসছে। ঘরে গিয়ে দেখে অর্ণব উঠে পরেছে। মীরা ট্রেটা সেন্টার টেবিলে রেখে আলমারি থেকে একটা শাড়ি বের করে নিলো। অর্ণব মীরার জন্য বেশকিছু শাড়ি আর প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী কিনেছিল আগেই। যেহেতু আজকে মীরার অফিসে যেতে হবে তাই মীরা তৈরি হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।

অর্ণব শাওয়ার নিয়ে একটা টাওয়াল জরিয়ে বেরিয়ে এলো। অর্ণবকে এই অবস্থায় দেখে মীরার চোখ কপালে উঠে গেছে। মীরা মৃদু একটা চিত্কার দিয়ে চোখ হাত দিয়ে ঢেকে নিলো।

— আর ইউ ইনসেইন? এভাবে চিত্কার চেচামেচি করছো কেনো?

— আপনি কিছু না পরে বাইরে এসেছেন কেনো? আপনি জানেন নে এই ঘরে একটা মেয়েও থাকে!!

— আই থিংক তুমি ভুলে যাচ্ছো তুমি এ বাড়িতে কেনো আছো।

— হাহ আমি ভুলি নি কিন্তু এমন লেংটু পেংটু হয়ে আমার সামনে আসবেন না একদম।

— What! Idiot.

— ইংলিশে বকা দিবি না শাকচুন্নিদের জামাই। একদম চুল ছিড়ে রেখে দেবো।

— কি বললে তুমি!!

— ইশ রে! এটা কি বললাম!! এখন নিশ্চিত আমাকে শাস্তি দেবে!!
আসলে মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। আসলে হয়েছে টা কি এভাবে বার্থডে ড্রেস পরে সামনে এলে তো একটা মেয়ে হিসেবে আমি লজ্জা পাই। তাই বলছিলাম একটু কাপড় পরলে ভালো হয়।

— বি রেডি বেবি। আজকে তোমার বার্থডে ড্রেস টাও দেখা হয়ে যাবে।

অর্ণবের কথায় মনে হচ্ছে কানের কাছে কেউ হাতুরি দিয়ে পেটাচ্ছে। লোকটা কতোবড় লুচি পরোটা। ছিঃ ছিঃ! মুখে একদম লাগাম নেই। চোখে থেকে হাত টা একটু সরিয়ে অর্ণবের মুখের দিকে তাকাতেই দেখলাম বাঁকা হাসি দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এই লোকটার এই হাসি টা খুব ডেঞ্জারাস। যখনই এভাবে হাসি দেয় তখনই উল্টা পাল্টা কিছু করে। যেই ভয় টা পাচ্ছিলাম সেটাই হচ্ছে। অর্ণব ধীর পায়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছেন। আমি উপায়ন্তর না পেয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পরলাম। অর্ণব হয়তো বাইরে দাড়িয়ে হাসছেন কিন্তু আমার রাগ উঠছে। সেই সাথে টেনশন হচ্ছে। আচ্ছা অর্ণব জুস টা খেয়ে নিবেন তো!!

ঝটপট গোসলটা সেড়ে বের হতেই দেখলাম অর্ণব নাস্তা করছেন। আমি ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে আঁড়চোখে তাকে দেখছি। অর্ণব জুসের গ্লাসটা হাতে নিয়ে মুখে লাগাতে লাগাতে আবার নিচে নামিয়ে নিলেন। উফফ ইচ্ছে করছে মুখ চেপে ধরে জুসটা খাইয়ে দেই। অর্ণব আবারো জুসটা মুখের কাছে নিয়েছেন।

জুসে চুমুক দিতে দিতে অর্ণব বলে উঠলো,
— আমি জানি আমি দেখতে ভীষণ হ্যান্ডসাম কিন্তু তাই বলে এভাবে হা করে দেখার কি দরকার!

অর্ণবের কথা শুনে লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে। আমি তো তাকে দেখায় ব্যস্ত ছিলাম না, আমি তো আমার কাজ কতোদূর হয়েছে সেটা দেখতে চেয়েছিলাম। বেটা মক্কেল খালি বেশি বুঝে। মনে মনে এনাকন্ডাটার চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করছি আর তৈরি হচ্ছি। হায়রে এতো কাজ করে আবার এখন অফিসে যেতে হবে।

— তুমি অফিসে যাচ্ছো না। সো রেডি হয়ে লাভ নেই।

— আপনিই না বলেছিলেন অফিসে যেতে হবে।

— হাত টা আগে ঠিক হোক।

— আমি না আপনার PA, যদি আমি না যাই কাজ কিভাবে হবে?

অর্ণব কিছু একটা ভেবে মীরাকে সাথে নিয়ে গেলো।

অফিসের কিছুদূর আগে অর্ণব গাড়ি থামিয়ে দিলো।

— অফিস আরো দূরে তো। এখানে কেনো থামলেন?

— তুমি কি সত্যি ইডিয়ট নাকি বোকা সেজে থাকো?

— মানে!

— তোমাকে সাথে নিয়ে আমি অফিসে যাবো! লাইক সিরিয়সলি! তারপর সবাইকে কানাঘুসার সুযোগ দেবো!

— বুঝতে পেরেছি। নামছি আমি।

আমি গাড়ি থেকে নেমে গেলাম আমি। মেজাজ টা তুঙ্গে উঠে গেছে আমার। এই সাতসকাল কেউ এভাবে হাটায়? তাও আবার অসুস্থ একটা মানুষকে!!




হাত টা ওরনায় ঢেকে অফিসে ঢুকলাম। মোনা আপুর সাথে বসতে গেলে জানতে পারলাম আমার ডেস্ক রাক্ষস বেটা নিজের কেবিনে সেট করেছে। কষ্টে মনে চাচ্ছে নিজের গলা চেপে নিজেই মরে যাই। বাড়িতে সারা রাত তার মুখ দেখে চোখের বারোটা বেজে গেছে। এখন আবার অফিসেও তার মুখের সামনে বসতে হবে। কি কপাল নিয়ে যে আমি এসেছি। ভাবা যায়! যমরাজ টা আমাকে আর শান্তি দিলো না।

অর্ণবের রুমের দরজায় নক করতেই ভিতরে ঢুকার অনুমতি পেলাম।
হায় খোদা আমার ডেস্ক একদম তার সাথে। আমি নিশ্বাস নিলেও হয়তো সে শুনতে পাবে। কি একটা অস্বস্থিকর পরিস্থিতিতে পরেছি। কিছু না বলে কাজ শুরু করে দিলাম। কাজ করার মাঝেই বারবার মনে হচ্ছে স্যার আমাকে দেখছেন। কিন্তু যতোবারই তার দিকে তাকাই দেখি সে নিজের কাজ করছেন। আমার কি হ্যালুসিনেশন হচ্ছে!!

?

সারাদিনের কাজ শেষে বিকেলে ক্লান্ত হয়ে নিজের ডেস্কে উপুর হয়ে আছে মীরা। অর্ণব তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মীরার দিকে। তার ভীষণ ইচ্ছা করছে মীরাকে কিছু একটা শাস্তি দিতে। খুব অস্থির হয়ে আছে সে। এই মুহূর্তে মীরাকে একটু কষ্ট দিতে পারলে হয়তো অনেক শান্তি পেতো সে। কিন্তু এটা অফিস, নিজের বাড়ি হলে এতোক্ষণ অপেক্ষা করতো না সে। কিন্তু যেহেতু এটা অফিস তাই সে কিছু করতে পারছে না। স্ট্রেস বলটাও ফেলে দিয়েছে সে। এই মুহূর্তে স্ট্রেস বলটা ভীষণ রকম প্রয়োজন ছিল তার।

সিগারেটের প্যাকেট টা হাতে নিয়ে অর্ণব হনহন করে অফিস থেকে বেরিয়ে গেলো।

কিছুক্ষণ পর মীরা মাথা উঁচু করে দেখে অফিস প্রায় পুরো খালি। শুধু সে আর দাড়োয়ান আছে।

স্যার আমাকে রেখেই চলে গেছেন! কিন্তু তার বাড়ি তো আমি চিনি না। যাবো কিভাবে! এখন আমি কি করবো!

দাড়োয়ান আঙ্কেল অফিস লক করে ফেলেছেন। সন্ধ্যা শেষে রাত নেমে এসেছে কিন্তু স্যারের কোনো খুঁজ নেই। এখন আমার ভয় হচ্ছে। চারদিকে বখাটে রা কেমন ঘুরঘুর করছে। আকাশে মেঘ ডাকছে। না জানি কখন বৃষ্টি শুরু হয়। আমার কাছে মোবাইলও নেই যে স্যারকে একটা ফোন করবো!!

কিছুক্ষণ পরেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। আমি বৃষ্টির মাঝে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ভিজছি। তখন একটা গাড়ি সজোরে এসে আমার সামনে থামলো।

আমি ভিজে একাকার হয়ে গেছি। গাড়ি থেকে নেমে অর্ণব আমার সামনে এসে হাত ধরে টেনে গাড়িতে বসিয়ে দিলো। লোকটার প্রতি আমার অনেক অভিমান হচ্ছে। না চাইতেও দুচোখ বেয়ে পানি পরছে। আমার অপরাধটা কোথায় যার জন্য সে আমাকে এভাবে শাস্তি দিচ্ছে!!

সারা রাস্তা আমি আর তার দিকে তাকাই নি। হয়তো সে দুয়েকবার আমার দিকে তাকিয়েছিল। কিন্তু সেটা আমি দেখতে চাই না। বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামলে আমি দরজা খুলে নামতে গেলে অর্ণব আমার হাত টেনে ধরলেন।

— ওয়েট। তুমি নামবে না।

— কেনো? এখন কি পা ফেলার আগেও আপনার পারমিশন নিতে হবে?

— অনেকটা তাই। তিন মাসের জন্য তুমি আমার কেনা গোলাম। তোমার নিশ্বাসও আমি কিনে নিয়েছি।

অর্ণবের কথার কোনো উত্তর আমার কাছে নেই। অসহায় দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছি। আর কি কি যে দেখতে হবে কে জানে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গাড়িতেই বসে রইলাম। অর্ণব গাড়ি থেকে নেমে আমার পাশের দরজা খুলে আমাকে পাঁজাকোলে তুলে নিলেন। অর্ণবের এহেম কান্ডে আমি হতভম্ব হয়ে তার মুখের পানে চেয়ে আছি। একটু আগেই তো লোকটা এতো কথা শুনালো আমাকে। আর এখন সে কোলে নিয়ে উপরে নিয়ে যাচ্ছে!

অর্ণব আমাকে ঘরে নিয়ে নামিয়ে দিয়ে আলমারি থেকে শাড়ি বের করে আমার হাতে দিলেন।

— ফ্রেশ হয়ে আসো। শাড়িটা চেঞ্জ করো নয়তো জ্বর এসে পরবে।

— আমার জ্বর এলেও আপনার কোনো ক্ষতি হবে বলে আমি মনে হয় না।

— তোমার জ্বর এলে তুমি অফিস থেকে লিভ নেবে আর ঔষধ খরচ টাও তো আমারই যাবে। I don’t want to waste money.

— আপনি জানেন আপনি কতো বাজে একটা লোক। আমার জ্বর এলে আপনার লস হবে আপনি সেটা চিন্তা করছেন। আমার যে কষ্ট হবে সেটা ভেবে দেখেছেন?

— তোমার কষ্ট দেখে আমার কোনো লাভ আছে কি?

অর্ণবের এমন গা ছাড়া ভাব দেখে আমার ভীষণ কষ্ট হয়। তাই তার সাথে কথা না বাড়িয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলাম। শাড়িটা চেঞ্জ করে বেরুতেই দেখি অর্ণব দুইটা কফি মগ হাতে দাড়িয়ে আছেন। পরনে গ্রে কালারের টি শার্ট আর ব্ল্যাক ট্রাওজার। হ্যান্ডসাম লাগছে খুব এনাকন্ডা টাকে। কিন্তু আমি তো অভিমান করে আছি।

চলবে,,