পিচ্চি বউ পর্বঃ০৯

0
2339

পিচ্চি বউ।
পর্বঃ০৯

লেখাঃ.রাইসার আব্বু।

“কথা আমি তোমাকে ভালবাসি, বড্ড বেশি ভালবাসি। আমি আমার ভুল বুঝতে পেয়েছি, প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও! তোমাকে ছাড়া সত্যি বাঁচবো না। প্লিজ ছেড়ে যেয়ো না আমায়। প্লিজ আমার বুক থেকে তোমাকে কেউ আর কেড়ে নিতে পারবে না “( কান্না করে দিয়ে, কথাগুলো বললাম। চোখ থেকে টুপ-টাপ করে পানি পড়ছে। নিজের অজান্তে কথার হাতটা ধরে ফেললাম!

.

ঠাস, ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলো, কথা আমার গালে, হঠাৎ কি যেন পড়ায় শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। ফ্লরের দিকে চেয়ে দেখি, বুক থেকে কথার ছবিটা পড়ে ভেঙে গিয়েছে। গলাটা শুকিয়ে গেছে, টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি খেয়ে, এসে বিছানায় ধপ করে বসে পড়লাম।

.

আমি বুঝতে পারলাম, আমি কথাকে নিয়ে বাজে স্বপ্ন দেখেছি! কথার মুখটা বার বার ভেসে ওঠছে।

.

কয়েক দিন পর , স্কুলে গিয়ে দেখি, রফিক সাহেব বসে আছে।
.

আপনাকে আজ আপনাদের বাড়িতে দাওয়াত। সন্ধ্যায় আসবেন। আজ আমাদের রাইসার পঞ্চম জন্ম বার্ষিকী! ( রফিক সাহেব কথাটা বলে বাড়ির ঠিকানা দিয়ে চলে গেল)

.

এদিকে সন্ধ্যায় ঠিকানা দেওয়া বাসায় গিয়ে নর্ক দিলাম। একটা কাজের মেয়ে, দরজাটা খুলে দিল! বাসাটা খুব সুন্দর করে সাজানো। রাইসা দৌঁড়ে এসে আমায় জড়িয়ে ধরল!

.

খুব সুন্দর লাগছে। মেয়েটাকে কোলে নিয়ে গালে মুখে চুমু দিয়ে বুকে জড়িয়ে নিলাম। অজানা এক প্রশান্তি মনে হচ্ছে ছুঁয়ে গেল!

.
বাড়িতে প্রায় আমাদের স্কুলের সব টিচারদের দাওয়াত করা হয়েছে।

.

হঠাৎ, সিঁড়ি দিয়ে কাউকে নামতে দেখে থমকে গেলাম! নীল রঙের চশমাটা খুলে মুছে আবার চোখে পড়লাম। বুকের স্পর্দন বেড়ে যাচ্ছে। কারণ এ তো অন্য কেউ না কথা। এটা কিভাবে সম্ভব যাকে নিজ হাতে দাফন করেছি। যার চাঁদমুখটা এখনো ভেসে ওঠে। কিন্তু কথা আবার বেচে আছে। কথার দিকে তাকিয়ে পলক ফেলতে পারছি না। নিজের অজান্তেই কথা নাম ধরে ডাকতে গিয়েই গলাট কেমন যেন ধরে এলো অন্যদিকে,

.

পাশ থেকে কে যেন বলে ওঠল” তানিয়া ” তোমার সাজতে এতো লেট হয় কেন? কখন থেকে সবাই অপেক্ষা করছি!

.

আমি কিছু ভাবতে পারছি না, এদিকে রফিক সাহেব কথার হাত ধরে নামাচ্ছে। কথার সাথে কয়েকবার চোখাচোখি হয়েছে, কিন্তু কোন কথা হয়নি।

.

এদিকে রাইসার জন্মদিনের কেক কাটার পর, কাধে কারো হাতের স্পর্শ পেলাম। পিছন দিকে তাকাতেই দেখি কথা!

.

আসসালামু আলাইকুম! আমি তানিয়া রেজওয়ান রফিক।

.

ওয়ালাইকুম সালাম! কেমন আছেন?.

.

জ্বি ভালো, আপনার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ, আপনি আমাদের কলিজার টুকরাটাকে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছেন! রাইসার আব্বুর কাছে আপনার কথা শুনেছি। আপনি কি বিয়ে করেছেন? একদিন ম্যাডামকে নিয়ে বেড়াতে আসবেন!

.

আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না, এটা আমার কথা নয়, কিন্তু মনে হচ্ছে এটাই আমার ভালবাসার মানুষ। আমার স্ত্রী! কিছুু ভাবতে পারছিনা। বুকটা ফেঁটে যাচ্ছে।

.

আসার সময় বাড়ির গেট পর্যন্ত রাইসা আর তার মা এগিয়ে দিয়ে গেল!

.

বাসায় এসে কথার স্মৃতিগুলো ভাবতে লাগলাম। আমি জানি এটা কথা নয়, কিন্তু কেন যেন বার বার আমার মন বলছে এটাই কথা। এটাই আমার পিচ্চি বউ কথা। এখন প্রায় প্রায় তাদের বাসার নিঁচে দাঁড়িয়ে থাকি

.

প্রতিদিন কোথায় যেন যায়, তানিয়া। যাকে আমার মন বলে এটা তানিয়া নয় কথা।

.

পরে খবর নিয়ে জানতে পারি অফিসে যায়। নিজের অফিস আছে।

.

একদিন অফিসে যাওয়ার পথে, কথার গাড়ি আগলে দাড়ালাম।

.

গাড়ি দাঁড়া করাতেই বললাম, যদি কিছু না মনে করেন, পার্কে গিয়ে বসতে পারি? আপনার সাথে কিছু কথা আছে!

.

আচ্ছা চলেন! একটা পার্কে নিয়ে গাড়ি দাঁড় করালো।

.

কিছু বলবেন? আমার যেতে হবে।

.

একটা সত্যি কথা বলবেন?

.
হুমম, বলেন কি বলতে চান?

.

আমার মন বলছে, তুমি তানিয়া না আমার কথা।, আমার মন বলছে। প্লিজ মিথ্যা বলো না।

.

আপনি কি ঠিক আছেন মিঃ রাজ, আমি তানিয়া রেজওয়ান রফিক। আপনার কথা কি বলছেন এসব। আপনি এসব বলতে এখানে এনেছেন আমার ছিঃ লজ্জা করেনা?

.

আমি মিথ্যা বলছি না, এর পর কথার সাথে ঘটে যাওয়া সব কিছু বললাম।

.

কি, আশ্চর্য অাপনি কি, আমাকে নাটকের স্ত্রীট শুনাচ্ছেন???

.

প্লিজ আমি জানি তুমি আমার কথা, তুমি আমার সাথে মিথ্যা বলছো।

.

কি আশ্চর্য আমার বিয়ে হয়েছে বাচ্চাও আছে দুটা!

.

প্লিজ কথা তুমি আমার কথা বলো তুমি মিথ্যা বলছো? আমার মন কখনো মিথ্যা বলেনা। কথাটা বলে কথার হাত টা ধরে ফেললাম!

.
কথা হাতটা ছাড়িয়ে, ঠাস ঠাস করে চড় বসিয়ে বলতে লাগল! আপনাকে ভালো ভেবেছিলাম, কিন্তু আপনার যে চরিএ খারাপ তা বুঝার বাকি রইলো না! লজ্জা করে না, অন্যের স্ত্রীর হাত ধরতে, আপনার কি বউ নেই, জানেননই আমার স্বামী আর দুইটা মেয়ে আছে। তারপর আমাকে কেন বিরক্ত করেন। নির্ঘাত আমার মেয়ের জীবন বাঁচানোর জন্য আজ আপনাকে লোক ডেকে অপমান করলাম না! নইলে আজ আপনাকে পুলিশে দিতাম! ছোটলোক, নারীদের সম্মান করতে শেখেননি! জন্মের দোষ রয়েছে আপনার। ( কথাটা বলে জিবে কামড় দিল)

.

এদিকে তানিয়া, যাকে কথা ভেবে নিজের অজান্তেই হাতটা ধরে ফেলেছিলাম, কিন্তু সে তো আমার কথা না।

নিজের প্রতি আজ প্রচন্ড ঘৃণা হচ্ছে! আজ আমার জন্য মা- বাবা কথা শুনলো!

.
সরি আমি ঠিক এমনটি বলতে চায়নি!(তানিয়া)

.
না, ঠিক আছে বলবেন না কেন? আমি যে হতভাগা নিজের স্ত্রীকে কত কষ্ট দিয়েছি, এতটা ভালবাসা সত্ত্বেও তাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তবে জানেন এখনো মাঝরাতে উঠে তার জন্য কান্না করি! তার ছবিটা বুকে নিয়ে ঘুমায়, তার ডাইয়িটা বুকে নিয়ে প্রতিরাতে কাঁদি। পাঁচবছর পাগল হয়ে পাবনা ছিলাম। জানিনা আর কত কষ্ট পাবো, আল্লাহ আরো আমাকে কষ্ট দেন যেন। জানেন যেদিন আপনাকে দেখছি, সেদিন আমার মন বলছে আপনিই আমার কথা, আমার কলিজার টুকরার মতো, কিন্তু না সেটা আমারি ভুল কারো মতো, দেখতে বা কথা বলতে পারলেই সে যে আপন কেউ হবে তা তো কথা নয়। ক্ষমা করে দিবেন, ভালো থাকবেন। এই যে ডাইরিটা,এখানে সব লেখা আছে।

.

আবারো বলছি, আপনাকে আমার স্ত্রী ভেবে দৃষ্টাব্দ করার জন্য!খুব বাজে তো আমি তাই, আচ্ছা আসি!

.

চোখদিয়ে অঝরে পানি পড়ছে, আর বাঁচার ইচ্ছা করছে না, বুকটা ফেটে যাচ্ছে, । বারবার কথার চাঁদমুখটা ভেসে ওঠছে। এদিকে কখন যে মাঝরাস্তায় এসে পড়েছি জানি না! পিছন থেকে কে যেন ডাকছে, পিছন দিকে চেয়েই দেখি, তানিয়া হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে সরে যেতে বলছে। আমি মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছি। এদিকে তানিয়া দৌড়ে আসছে, কি সুন্দর লাগছে, মনে হচ্ছে আমার কলিজার টুকরা কথা দৌড়ে আসছে আমাকে ভালবাসার পরম শিহরণে জড়িয়ে নেওয়ার জন্য। হঠাৎ কি যেন ধাক্বা দিয়ে শূন্যে উড়িয়ে ফেলে দিল! পাশদিয়ে একটা বাস চলে গেল, আমি ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় একপাশে গড়িয়ে পড়লাম! চোখদুটি রক্তে বন্ধ হয়ে আসছে, নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে! অনুভব করতে পারছি, কেউ বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে আমায় আর বলছে, ক্ষমা করে দাও আমায় আমি তোমার কথা, তোমার কিছুই হবে না! আমাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারো না।

চলবে””””””””””

বিঃদ্রঃ ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন!