প্রিয় অসুখ পর্ব ১৯

0
403

প্রিয় অসুখ
পর্ব ১৯
মিশু মনি
.
প্রিয় অসুখ,
তোমার চিঠি পড়ে কতক্ষণ কেঁদেছি জানিনা। হঠাৎ আয়নায় চোখ পড়তেই দেখি চোখ দুটো ফুলে লাল হয়ে আছে। তখনই বুঝে গেছি তোমার চিঠিটা আমার অন্তরাত্নায় এ কোন নব্যপ্রেমের শিহরণ জাগিয়ে দিয়েছে। পেয়েও না পাওয়া একটা অনুভূতি আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। যার অপেক্ষায় এতগুলো বছর ধরে আছি, যে ডায়েরি হারিয়ে পাগলের মত হয়ে গেছি, তাকে দুচোখ ভরে দেখার বাসনা কিছুতেই কমছে না। কিন্তু আমি যে এখন একদমই দেখা করতে পারবো না। ভয় হচ্ছে, মুখে বসন্তের দাগে বিশ্রী চেহারা হয়ে গেছে আমার। পুরো মুখে কালো কালো গুটি। এই দাগ নিয়ে তোমার সামনে গেলে তোমার রাগ হবে। তারচেয়ে আমরা বরং চিঠিতেই কথা বলি। জানো, তোমাকে আমার একটুও অপরিচিত লাগছে না। কারণ এ যাবত অন্তত দুশো’র বেশি চিঠি আমি তোমাকে লিখেছি। তুমি আমার হাজার বছরের সবচেয়ে চেনা, সবচেয়ে আপন মানুষটা। আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে গিয়েছো যে তুমি চরিত্রটা। আচ্ছা, কেমন আছো বলো? খাওয়াদাওয়া নিশ্চয়ই ঠিকমতো করছো না। গত রাতে স্বপ্নে দেখলাম একটা মেয়েকে কাছে টেনে নিয়ে গভীরভাবে তার চোখের দিকে তাকিয়ে আছো। স্বপ্নেই আমি রেগে তোমাকে মারতে গিয়েছিলাম। অমনি ঘুমটা ভেঙে গেলো। কি অদ্ভুত স্বপ্ন! তুমি কি সত্যিই এসব করে বেড়াচ্ছো? একদম এরকম করবে না বলে দিচ্ছি। তোমাকে, না না তোমাকে না। ওই মেয়েটাকেই একেবারে খুন করে দিবো। তুমি শুধু আমার এটা মনে থাকে যেন। তোমার মুখের মিষ্টি সুবাসটাকে ভীষণ মিস করছি। আমার আর তর সইছে না। এত বছরের স্বপ্নকে কাছে পেয়েও কাছে পাচ্ছি না। এরচেয়ে দুঃখের বোধহয় আর কিচ্ছু হয় না। শীতুল, আমি তোমাকে অসম্ভব পরিমাণে ভালোবাসি। তুমি আমার ডায়েরিতে যতটা না ভালোবাসা পেয়েছো, তারচেয়েও হাজারগুণে বেশি ভালোবাসি। কিন্তু আমি এখন তোমার সামনে যেতে পারবো না যে। আমরা বরং কয়েকদিন চিঠি চিঠি খেলি। তারপর দুম করেই একদিন এসে আমাকে তোমার বক্ষপিঞ্জরে আবদ্ধ করে ফেলো।

তোমার শ্যামলতা

চিঠি পড়ে অনেক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে রইলো শীতুল। শরীরের সমস্ত লোম দাঁড়িয়ে গেছে। এখনো স্বপ্নের মত লাগছে চিঠিটা। উঠে দাঁড়ানোর মত শক্তি পাচ্ছে না। এমন সময় শ্রবণা কথা বলতে বলতে রুমে প্রবেশ করলো। শীতুলকে ঝিম মেরে বসে থাকতে দেখে বললো, ‘কি হয়েছে আপনার?’

শীতুল শ্রবণার দিকে চিঠিটা এগিয়ে দিলো। শ্রবণা অবাক হয়ে বললো, ‘ও মাই গড! এই মেয়ে কিভাবে আপনাকে চিঠি পাঠালো!’

পুরো চিঠিটা পড়ে মন খারাপের ভান করে বললো, ‘আপনি আর কখনো আমার কাছাকাছি আসবেন না। নয়তো কখন আবার এই মেয়ে এসে আমাকে খুন করে ফেলে। আমি আপনার কাছে কোনো করুণা ভিক্ষা চাইনি।’

শীতুলের কোনো ভাবান্তর নেই। ও এখনো ঝিম মেরে বসে আছে। শ্রবণা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে স্বাভাবিক গলায় বললো, ‘ যাইহোক, দুজনের মনের টান দেখে আমি না অবাক। জাস্ট অব্বাক! আপনি একটা মেয়ের কাছাকাছি এসেছেন সে সেটাও বুঝে গেছে? কি ফিলিংস মাইরি। এই প্রেম তো রোমিও জুলিয়েটকেও হার মানাবে।’

শীতুল তবুও স্তব্ধ। কথা বলতে ইচ্ছে করছে না কিংবা শ্রবণার কথাগুলো ওর হৃদয়ে পৌঁছায়নি। ও শুধু অবাক হয়ে শ্যামলতার কথাই ভেবে চলেছে। শ্রবণা এগিয়ে এসে শীতুলের সামনে বসে পড়লো। মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, ‘ এই যে জনাব, কি হলো টা কি?’

শীতুল বাস্তবে ফিরে এসে বললো, ‘কই কিছু না তো।’
– ‘কোথায় হারিয়ে গেছেন শুনি?’

শীতুলের তবুও কোনো সাড়া নেই। শ্রবণা আর কোনো প্রশ্ন করলো না। মনোযোগ দিয়ে আবারও চিঠিটা পড়তে লাগলো। এদিকে শীতুল অবাক হয়ে একটা বিষয়ই ভাবছে, পার্সেলে প্রেরকের কোনো ঠিকানা দেয়া নেই। একটা ছোট ছেলে এসে বললো পার্সেল এসেছে। শ্যামলতা কি তাহলে এই এলাকাতেই থাকে? ভেবে ভেবে প্রশ্নের কোনো উত্তর না পেয়ে ফেসবুকে লগ ইন করলো শীতুল। মেয়েটাকে মেসেজ দিতে গিয়ে দেখলো আইডি ডিএকটিভ। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো। শ্যামলতার হাতের লেখা চিঠি এটা, সেটা একেবারে নিশ্চিত। কিন্তু চিঠির উত্তর কোথায় পাঠাবে ও? এভাবে মানসিক অশান্তি নিয়ে কতক্ষণ থাকা যায়?

শীতুলের মুখের অবস্থা দেখে শ্রবণা দুষ্টুমি করে বললো, ‘কি ভাবছেন বলুন তো? আমি রাগ করেছি কিনা? না না আমি রাগ করিনি।’
– ‘শ্রবণা..’
– ‘হুম।’
– ‘চিঠির উত্তর দিবো কোথায় আমি?’
– ‘কেন? যে ঠিকানা থেকে চিঠিটা এসেছে।’
– ‘ঠিকানা দেয়া নেই। একটা ছেলে এসে দিয়ে গেছে।’
– ‘ও। মেয়েটা এখানকার ঠিকানা জানলো কিভাবে? ‘

শীতুল শ্রবণার দিকে তাকালো। শ্রবণা চোখেমুখে কৌতুহল নিয়ে তাকিয়ে আছে। শীতুল পুরো ঘটনাটা খুলে বললো শ্রবণাকে। সব শুনে শ্রবণা বললো, ‘তাহলে অপেক্ষা করুন। মেয়েটা আবারও চিঠি পাঠাবে। উত্তর লিখে রাখবেন। এবার চিঠি এলে আপনার চিঠিটা ওই ছেলেকে দিয়ে দিবেন।’
– ‘তুমি কিভাবে নিশ্চিত হচ্ছো ও আবার চিঠি পাঠাবে?’

শ্রবণা আমতা আমতা করে বললো, ‘এটা তো স্বাভাবিক বিষয়। আপনি যেহেতু তাকে মিস করছেন তারমানে সেও আপনাকে মিস করছে। এটা তো হুমায়ূন আহমেদ স্যার বলে গেছেন। তাছাড়া শ্যামলতা যখন জেনে গেছে এটা আপনি, তখন সে এই ঠিকানায় আবার চিঠি পাঠাবে।’

শ্রবণার যুক্তি পছন্দ হলো শীতুলের। ওর মুখে হাসি ফুটে উঠলো। হাসিমুখে বললো, ‘এটা ভালো বলেছো। কিন্তু আমরা তো কালই এখান থেকে ঢাকায় চলে যাবো। শ্যামলতার চিঠিটা..’

শ্রবণা একটু ভেবে বললো, ‘টেনশন করবেন না। শ্যামলতা এখানে আপনাকে না পেলে আপনার আইডিতে আবার মেসেজ পাঠাবে। কথাটা মিলিয়ে নিবেন।’

এই যুক্তিটাও পছন্দ হলো শীতুলের। তাই যেন হয়। কিন্তু শ্যামলতা চিঠি পাঠিয়ে অস্থিরতা কমানোর বদলে আরো বাড়িয়ে দিলো। এখনই ওর চিঠির উত্তর দিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে শীতুলের। কি যে করবে! ভাবতে ভাবতে উত্তর লিখতে বসে গেলো।

শ্রবণা দূরে বসে আছে আর দেখছে শীতুল কিভাবে অস্থির হয়ে চিঠি লিখছে। শীতুলের জন্য বড্ড মায়া হচ্ছে শ্রবণার। ইচ্ছে করছে এখনই শীতুলকে জানিয়ে দিতে, সে ই শ্যামলতা। কিন্তু পারছে না। এখন বললে তো শীতুল আরো রেগে যাবে, আসল মজাটাই আর থাকবে না। আরেকটু ধৈর্য ধরতে হবে।

শ্রবণা উঠে বাইরে এলো। শীতুলের মায়ের কাছে এসে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে বললো। মা ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, আমরা তো কাল চলে যাচ্ছি মা।
– ‘আমি বাসায় যাবো। না জানি বাসায় কত ময়লা জমে আছে। পাতিলে তরকারি রেখে এসেছি, গিয়ে আমাকে পাতিলটা ফেলে দিতে হবে।’
– ‘তোকে কে যেতে দিচ্ছে? তুই না আমার মেয়ে? আমার সাথে আমার বাসায় থাকবি তুই।’

শ্রবণা অবাক হয়ে বললো, ‘কি যে বলেন। আমি অনেকদিন ছিলাম তো এখানে।’
– ‘তুই আমাকে এখনো নিজের মা ভাবতে পারলি না রে।’
মায়ের মুখটা অন্ধকার হয়ে গেছে। শ্রবণা এই কথার জবাবে কি বলবে বুঝতে পারলো না। মায়ের মুখের দিকে তাকালে সত্যিই বড় মায়া লাগে। মা মায়াভরা মুখে শ্রবণার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমাকে এখনো এত পর মনেহয় তোর?’

শ্রবণা মাকে জাপটে ধরে বললো, ‘সরি মা, সরি। আর কক্ষনও কষ্ট দেবো না। আমি বুঝতে পারিনি তুমি আমাকে এত ভালোবাসো।’

মা শ্রবণাকে বুকে চেপে ধরলেন। একটা মেয়ের বড্ড অভাব ছিলো ওনার। শ্রবণাকে বুকে চেপে ধরে মেয়ের জায়গাটা পূর্ণ মনে হচ্ছে। শ্রবণা যেন আজীবন এভাবেই থাকে।

২১
রাতে আইডি একটিভ করে শীতুলকে মেসেজ দিলো শ্রবণা- ‘কেমন আছেন?’

মুহুর্তেই শীতুলের রিপ্লাই। যেন মেসেজের আশাতেই চাতক পাখির মত বসে ছিলো এতক্ষণ।
মেসেজ দেখে হাসলো শ্রবণা। শীতুল লিখেছে, ‘এমন কেন তুমি! চিঠি পাঠিয়েছো তোমার ঠিকানা পাঠাওনি। আইডিটাও ডিএকটিভ। আমাকে কি পাগল করে ছাড়বা?’

শ্রবণা অনেক্ষণ মেসেজটার দিকে তাকিয়ে রইলো। কি যে ভালো লাগছে ওর! অনেক্ষণ পর রিপ্লাই দিলো, ‘ঠিকানা দিলে যদি তুমি চলে আসো। তাই দেইনি।’

শীতুল দ্রুত লিখলো, ‘পাগল নাকি তুমি? আমি একশোবার যাবো৷ শোনো,তোমার মুখে দাগ কেন, সর্বাঙ্গে ঘা থাকলেও আমি এখন তোমার কাছে ছুটে চলে যেতাম। তোমার মনটাকে ভালোবেসেছি শ্যামলতা, এ মনটা আজীবন একইরকম থাকলেই হবে। ‘
– ‘সত্যি!’
– ‘হুম সত্যি সত্যি সত্যি।’
– ‘ঠিকাছে। আমি এখন তোমার কাছে আরেকটা চিঠি লিখতে বসবো। আমার খুব কান্না আসছে।’
– ‘এই দাঁড়াও, আমি কাল ঢাকায় চলে যাচ্ছি।’
– ‘তাহলে ঢাকার বাসার ঠিকানাটা দিন।’
– ‘কিন্তু শ্যামলতা, আমি তোমাকে সামনা সামনি দেখতে চাই। এতদিন অপেক্ষা করার পর আবার চিঠির খেলা আমি নিতে পারছি না। পাগল হয়ে যাবো রে।’

শ্রবণার চোখ ভিজে আসতে শুরু করেছে। তবুও ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠেছে হাসি। এ লিখলো, ‘তাহলে তো আরেকটু পাগল করার জন্য চিঠির খেলাটা আমাকে খেলতেই হবে। আর আমাদের ফেসবুকে কথা হবে না। আজ থেকে আইডিতে আসবো না। এখন থেকে শুধুই চিঠি। আগেকার দিনের প্রেমিক প্রেমিকাদের মত চিঠির জন্য অপেক্ষায় থাকবো। কেমন মজা হবে বলোতো?’

শীতুল কিছুক্ষণ চুপ থেকে লিখলো, ‘আমার যে তোমাকে দেখার জন্য আর একটুও অপেক্ষা করতে ইচ্ছে করছে না।’
– ‘আমাকে দেখার জন্য যদি একমাস অপেক্ষা করতে বলি করতে পারবেন?’
– ‘পারবো। কিন্তু একমাস কেন? আমি তো বললাম আমার দাগ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। এটা নিতান্তই তুচ্ছ ব্যাপার।’
– ‘হা হা হা। ঠিকাছে, এতদিন ধৈর্য ধরতে হবে না, তার আগেই দেখা করবো। কিন্তু চিঠির খেলাটা দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইলে কি করতে পারবেন?’
– ‘হুম পারবো। আমি সব করতে পারবো শ্যামলতা।’

শ্রবণা হাসতে হাসতে লিখলো, ‘আমাকে না দেখেই যদি প্রথম দিন এসেই আমাকে বিয়ে করতে বলি, করতে পারবেন?’
– ‘কিহ!’
– ‘হ্যাঁ। এটাকেই বলে বিশ্বাস। আমার ডায়েরি পড়ে আমাকে পুরোটাই জেনেছেন আপনি। আমাকে বিয়ে করার জন্য আর কি কিছু জানার প্রয়োজন আছে?’
– ‘কিন্তু তোমাকে তো দেখিনি আমি।’
– ‘হা হা হা। এজন্যই বললাম। আমাকে দেখার পর বিয়ের ভূত মাথা দেখে দৌড়ে পালাবে।’
– ‘ওকে। আমি রাজি। তুমি যদি কালকেই গিয়ে তোমাকে বিয়ে করে আনতে বলো আমি কালকেই করবো। তোমাকে নিয়ে সারাজীবন থাকার জন্য যতটুকু জেনেছি, এতটুকুই এনাফ।’

শ্রবণা মুগ্ধ হয়ে গেলো কথাটা শুনে। মনে হলো এতদিনের মনের কথা জমিয়ে ডায়েরি লেখাটা সার্থক। কেউ একজন না দেখে, কথা না বলেই এমন অঙ্গীকার করতে পারছে। এরকম অটুট বিশ্বাস কোথ থেকে এসেছে!

শীতুল লিখলো, ‘তোমার কণ্ঠটা শোনার জন্য আর একটুও ধৈর্য ধরতে পারছি না। দেখা নাহয় পরে, প্লিজ কণ্ঠটা অন্তত শুনতে দাও।’

শ্রবণার ও খুব ইচ্ছে করছে শীতুলের সাথে ফোনে কথা বলতে। এত আপন একটা মানুষ, অথচ চাইলেও বুকের ভেতর চেপে ধরা যাচ্ছে না। কি যে অসহ্য দহন হচ্ছে বুকের ভেতর!

শ্রবণা ওর অন্য আরেকটা নম্বর টাইপ করে পাঠালো। এই নাম্বারটা শীতুলের কাছে নেই। নাম্বার পাওয়ামাত্রই কল দিলো শীতুল। শ্রবণা রিসিভ করে কানে ধরে চুপ করে রইলো। শীতুল শ্রবণার নিশ্বাসের শব্দ শুনেই উত্তেজিত হয়ে উঠলো। শীতুলের হাত, পা, বুক সব যেন কাঁপছিলো। ভালোবাসার পরম সুখের উষ্ণতায় ডুবে যাচ্ছিলো শীতুল। ও বললো, ‘শ্যামলতা…’

ওপাশ থেকে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে একজন বললো, ‘হুমমমম..’

হুম শব্দটা শুনেই শীতুলের হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলো। ও ফোনটাকে বুকে চেপে ধরে বললো, ‘দেখা দাও না প্লিজ। একবার একটা মেয়ে শ্যামলতা সেজে আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধোলাই দিয়েছে। বকা দিয়েছিলাম বলে ছেলেপেলে ডেকে মার খাইয়ে নিয়েছে। তবুও আমি তোমাকে বিশ্বাস করছি। কারণ আমি জানি তুমিই শ্যামলতা। তোমার হাতের লেখা, তোমার চিঠির ভাষা সব আমার মুখস্থ। প্লিজ আমাকে আর কষ্ট দিও না। প্লিজ দোহাই লাগে।’

শ্রবণার চোখের জলে মোবাইল ভিজে যাচ্ছে। এত কান্না পাচ্ছে। শীতুল বুঝতে পেরে বললো, ‘কাঁদছো কেন তুমি?’
– ‘আমার এতদিনের জমানো ভালোবাসা আজ সত্যি হলো। আমি কাঁদবো না?’
– ‘জানো শ্যাম, তোমার কণ্ঠ শুনে বুকটা কেঁপে উঠলো। মনে হলো তুমি আমার কত চেনা। এই কণ্ঠ যেন হতে বহুবার শুনেছি আমি।’
– ‘বহুবার তো শুনেছেন, স্বপ্নে, অবচেতনে।’

শীতুল কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো, ‘হুম। তুমি কি করে স্বপ্নে দেখলে আমি একটা মেয়েকে কাছে টানছি? জানো সত্যিই আমার সাথে এরকম কিছু হতে যাচ্ছিলো। একটা বিভ্রান্তিতে পড়ে ভূল করতে যাচ্ছিলাম আমি।’

শ্রবণার ভেজা কণ্ঠ শুনে শীতুল কিছুতেই বুঝতে পারলো না এটা ওর পরিচিত কেউ। তাছাড়া এই মুহুর্তে শ্রবণার চিন্তা তো দূরের কথা, শ্যামলতাকে ছাড়া অন্য কোনোকিছু ভাবতে পারছিল না শীতুল। ও কেমন যেন স্বপ্নের ঘোরে চলে গেছে।

শ্রবণা বললো, ‘তুমি ঢাকায় এলেই দেখা করবো। আমরা কিন্তু তারাতারি বিয়ে করে নেবো। এটা আমার স্বপ্ন। কারণ, এখন তোমার চোখের দিকে তাকালে আমার যে অনুভূতি হবে, বিয়ের পর তাকালেও একই অনুভূতি হবে। কিন্তু এখন তাকালে আমার পাপ হবে, আর বিয়ের পর তাকালে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হবে। তাই আমি বলবো, কাউকে ভালো লাগলে তাকে বিয়ে করে নেয়া উচিৎ।’

শীতুল মুগ্ধ হয়ে বললো, ‘বাহ! খুব সুন্দর করে বললে তো তুমি! তুমি ভেবো না। ঢাকায় গিয়েই দেখা করবো। তুমি চাইলে সেদিনই বিয়ে করে নেবো।’
– ‘চাপা?’
– ‘না। আমি সিরিয়াস। ভালোবাসি যে। বোঝোনা কেন মেয়ে?’

চলবে..