বৃষ্টিতে ভেজা সেই রাত পর্ব-২৩

0
1125

বৃষ্টিতে ভেজা সেই রাত
লেখকঃ আবু সাঈদ সরকার
পর্বঃ 23

—-> গল্পের নতুন মোড় <--- আপনি আপনার প্রথম বিবাহিত বউ তুলি আর আপনি আমাকেই ভুলে গেলেন... । । সাঈদঃ what are you crazy.. । মেয়েটাঃ আমি পুরানো হয়ে গেছি বলে আরেকটা বিয়ে করছেন লজ্জা লাগলো না আপনার... । সাঈদঃ মেয়েটার কথা গুলো শুনে মেজাজটা গরম হয়ে গেলো গিয়ে দিলাম গালে একটা ঠাসস করে থাপ্পড়... । বেহায়া মেয়ে লজ্জা করে না এসব কথা বলতে.. । মেয়েটাঃ এই মেয়েটার জন্য আপনি আমার গায়ে হাত তুলেন এই ছিলো আপনার মনে আমার ভালোবাসা.. । সাঈদঃ মেয়েটার কথা গুলো শুনে মেজাজটা আরো বেশি গরম হয়ে যাচ্ছিলো কীসব যা তা বলে যাচ্ছে আমি ওর মতো একটা চরিত্র হীন মেয়েকে বিয়ে করতে যাবো... ৷ । মেয়েটাঃ জানি না তুমি কে কিন্তু আমার সাথে যা হয়েছে তা তোমারো সাথে হবে যখন তোমার শরীরটাকে ভোগ করা হয়ে যাবে তখন নিজের থেকে আস্তে আস্তে করে দুরে সরিয়ে দিবে ঠিক আমার মতো ( আদ্রিতা কে উদ্দেশ্য করে ) । আদ্রিতাঃ আপনি যাই বলুন কেনো ওনি এমন কাজ করতেই পারেন না কারণ ওনি আমাকেই ভালোবাসেন আর কাউকে না আর কারো কথা কখনো ভাবতেই পারে না... । আপনি এসব মিথ্যা কথা ---বলতেছেন ওনার আর আমার মাঝের সম্পর্কটা নষ্ট করার জন্য... । । মেয়েটাঃ good very good এত বুঝার পরেও যখন বুঝলা না তখন আমি যখন এনাকে পাই নি তাই আমিও এনাকে ওনো কারো হতে দিবো না... । সাঈদঃ হাতে একটা পিস্তল নিয়ে কী পুরো দুনিয়াটা নিজের মনে করে নিচ্ছো নাকি... । মেয়েটাঃ পুরো দুনিয়াটা না হলেও এখন আপনাকে এই দুনিয়া ছাড়তে হবে বলেই গুলি চালিয়ে দিলাম.. । এটা কী হলো গুলি বেড় হলো না কেনো.. । সাঈদঃ কী হলে চালাও গুলি দেখি কত বড় সাহস আপনার....( থাপ্পড় টা দেওয়ার সময় বন্দুকের গুলি গুলো কয়দা করে বেড় করে নিচ্ছিলাম..) । । মেয়েটাঃ পিস্তল টা জাম লেগে গেলো নাকি... । নিচে তাকাতেই যা দেখলাম তা দেখে অবাক হয়ে গেলাম গুলি গুলো কোথায় গেলো... । । সাঈদঃ কী হলো গুলি খুজছেন নাকি এই যে আমার হাতে গুলি গুলো.. । মেয়েটাঃ সুযোগ বুঝে এখান থেকে কেটে পড়তে হবে. আস্তে আস্তে করে পিছনে এগিয়ে দৌড়াতে শুরু করলাম... । । সাঈদঃ মেয়েটা দৌড়ে পালাচ্ছিলো তাই মেয়েটাকে ধরতে তার পিছু নিলাম কিন্তু রাস্তার ওলি গলিতে যে কোথায় হারিয়ে গেলো আর খুঁজে পেলাম না .. । আদ্রিতাঃ এই মেয়েটাকেই তো মনে হয় আজ সকাল বেলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলা তার মানে ওটা স্বপ্ন ছিলো না... । আদ্রিতাঃ এই মেয়েটার এসব করে কী লাভ তা মাথায় আসছে না আর ওনি এমন কাজ কখনো করতেই পারেন না... । পৃথিবীর সবাই যদি এই এক কথাই বলে তবুও আমার এক ফোটাও বিশ্বাস হবে না... । । সাঈদঃ আরেকটু হলে ধরে ফেলতাম কে এই মেয়েটা কেনোই বা এসব করতেছে না এখন থেকে সাবধানে থাকতে হবে.... । এর পর আদ্রিতাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম... । আদ্রিতাঃ বাসায় এসে মনটা কেমন যানি ছটফট করতেছে একবার ওনাকে কী জিজ্ঞাসা করবো মেয়েটাকে ওনি চিনেন কী না.. থাক বললে হয়তো ওনি ভাবেন আমি ওনাকে একটু বিশ্বাস করি না বরং সন্দেহ করি... । । সাঈদঃ কেনো আমার সঙ্গে এসব হচ্ছে একটা দিনিও শান্তিতে থাকতে পারছি না.. । একটা বিপদে যেতে না যেতেই আরেকটা বিপদ এসে হাজির হয়ে যাচ্ছে... । আদ্রিতাঃ আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন আর এসব নিয়ে একদমি ভাববেন না কে কী বললো তাতে আমার কিছু যায় আসে না কারণ আমি জানি আপনি এসব করতেই পারেন না.... । । । বিকেল বেলা । নদীর পাশে একা একা হাঠতে ছিলাম তখনি পিছন থেকে চেনা কণ্ঠ থেকে.. । এই সাঈদ একটু দাড়াও.. । সাঈদঃ পিছনে তাকাতেই দেখলাম স্নেহা আমার ক্লাস মেট ছিলো আর আমার ভালো বন্ধুও.. । স্নেহাঃ কেমন আছিস... । সাঈদঃ আছি আরকি তা তোর খবর কী... । স্নেহাঃ ভালো তা একা একা কই যাওয়া হচ্ছে.. । সাঈদঃ এমনি হাঠতে ছিলাম তা কবে আসা হলো বাংলাদেশ । স্নেহাঃ কালি এসেছি... । সাঈদঃ ও তা তোর স্বামী আসে নি বুঝি.. । স্নেহাঃ না ও কাজে প্রচুর ব্যস্ত তাই আসতে পারে নি... । সাঈদঃ ও তা এতো মেটো দেখাচ্ছে কেনো স্বামী মনে হয় আদরটা একটু বেশিই করে । । স্নেহাঃ যা এসব কেউ বলে তা বিয়ে করিস নি তুই... । সাঈদঃ হুম করেছি এই ধর ছয় সাত মাস হলো... । স্নেহাঃ তবুও তো বললি না... । সাঈদঃ তোর সাথে যোগাযোগ এর রাস্তায়ই ছিলো না তা চল না আমাদের বাসায়... । স্নেহাঃ আজ না ওন্য দিন এই ধরো আমার নাম্বারটা 017xxxxxxxxx সময় হলে একটু আধ টু কল করিস... । সাঈদঃ আচ্ছা এখন তাহলে আসি রে বাসায় তোর ভাবি আবার একা আছে দেরি হলে ভয় করবে... । বলেই চলে আসতে লাগলাম... । । আদ্রিতাঃ ওনি যে আবার কোথায় একা একা চলে গেলেন কে জানে.. এত কর বারণ করলাম কোথায় একা একা না যেতে তবুও চলে গেলেন আজ আসুক মজা দেখাবো... । ততক্ষণে বরং রুমটা সাজিয়ে নিয় কেমন যানি অগোছালো হয়ে রয়েছে.. । রুমটা সাজানো শেষে হঠাৎ বিছানার নিচে একটা সুটকেস দেখতে পেলাম এটা তো আগে কখনো দেখি নি এখানে । ধুর ছিলো হয়তো আমিই দেখি নি.. । দেখি তো কী রয়েছে এর মধ্যে । নিচ থেকে বেড় করে খুলে দেখলাম কয়েকটা কাপড় আর তার মধ্যে থেকে কয়েকটা ছবি বেড়িয়ে আসলো... । । ছবি গুলো দেখতেই মাথাটা ঘুরতে শুরু করলো নিজের অজান্তেই চোখ বেয়ে পানি পড়তে শুরু করলো ওনি এত বড় কথাটা আমার কাছ থেকে লুকতো পারলো কীভাবে । আজ সকাল বেলা যে মেয়েটা এসেছিলো সে তাহলে সব সত্যি কথাই বলেছে যে ওই মেয়েটা ওনার প্রথম বিবাহিত বউ... । আর এই ছবি গুলোতে ওনি আর ওই মেয়েটার কয়েকটা ফটো রয়েছে তাও আবার বিয়ের দিনের ওনি এমনটা করতে পারলো কীভাবে । । চলবে