#বেস্টু
#পর্ব_০৭
#Ariyana_Nur
এতক্ষন দারজার বাহির থেকে ভিতরের কাহিনী আমরা দেখছিলাম।নিধি আপু সেই কখন থেকে সবাইকে বলছে সে তাদের চেনে না।আর বিয়ে তো দুরের কথা।আমি দোয়া দুরুদ পরে আস্তে আস্তে করে হেটে এসে নিধি আপুর সামনে দাড়ালাম।আমার দিকে সবাই কেমন ডেব ডেব করে তাকিয়ে আছে। আরে তাকাবেই না কেন আমি তো নিজেই কার্টুন সেজে এসেছি।আমি একটা স্কার্ট পরেছি সাথে একটা ওরনা। মাথার মধ্যে দুই ঝুটি সাথে ছোট ছোট পুতুল ক্লিপ তো আছেই।মাথায় হাতে ব্যান্ডেজ।নিধি আপু কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থেকে আমার কাছে এসে উত্তেজিত হয়ে জিগ্গেস করল….
—কি হয়েছে তোমার???শরীরে এতো ব্যান্ডেজ কেন???কি ভাবে ব্যথা পেলে???
আমি নিধি আপুর কথা শুনে কান্না করতে লাগলাম যাকে বলে মরা কান্না।আমার এমন কাজে সবাই হা করে তাকিয়ে রইল।নিধি আপু আমাকে আলতো করে জরিয়ে ধরে বলল…
—আরে বোকা মেয়ে কি হয়েছে বলবে তো??এভাবে কান্না করছো কেন???
মিসেস রহিমা এবার নিধি আপুকে ধমক দিয়ে বলল…
—নিধি কে এই মেয়ে??কি হয় তোর??
নিধি আপু কিছু বলবে তার আগেই ঐ মহিলাটি বলল…
—কি ব্যপার বউ মা এতক্ষন তো বলছিলে তুমি আমাদের চিনো না??আর এখন এই মেয়েকে দেখে নিজেকে আটকে রাখতে পারলে না।
আপুর মনে হয় তার কথা হজম হলো না।আপু তার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল।আপু কিছু বলবে তার আগেই
এবারো আপুকে কিছু বলতে না দিয়ে আমি কাদো কাদো হয়ে ঠোঁট উল্টে বললাম….
—দেখ ফুপিমা আমার ভাবী মা কে কিছু বলবে না।তাহলে কিন্তু আমি আরো কান্না করবো।আমি আপুকে জরিয়ে ধরে বাচ্চাদের মত করে বললাম…
—ভাবী মা আমি তোমাকে কোথাও যেতে দিব না।তুমি আমাকে ছেড়ে যেওনা প্লিজ…..
আপু আমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল…
—মানহা কেন এমন করছো???আর এভাবেই কান্না করছো কেন??প্লিজ বোন তোমার পাগলামো বন্ধ কর??দেখ সবাই…
আপুকে আর কিছু বলতে না দিয়ে মিসেস রহিমা এবার আমার সামনে এসে আমাকে আপুর থেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বলল….
—এই পাগল মেয়ে কোথার থেকে এসেছো??জানিনা এই পাগল গুলো যে কোথার থেকে আসলো???
আমি আপুকে আরো টাইট করে জরিয়ে ধরে বললাম…
—ভাবী মা আমার এই পাগল নানু আন্টিকে ভয় লাগছে প্লিজ তাকে সরাও।অনেক চেষ্টা করেও তাকে সরাতে পারলাম না।আমি এবার মনে মনে বলতে লাগলাম সোজা আংগুলে ঘৃ না উঠলে পুরো ডিব্বাই উল্টো করে দিতে হয় তেমন এখন আমাকে উল্টো পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।আমি তাকে অনেক কষ্ট করে সরিয়ে এক লাফ দিয়ে চেয়ারে উপর দাড়িয়ে গেলাম।আর কোমরে দু হাত দিয়ে চিৎকার করে বললাম…
—কেউ অসবেনা আমার সামনে।আমি আমার ভাবী মাকে কাউকে নিতে দিবো না।এই বলে এক লাফ দিয়ে চেয়ার থেকে নেমে আরো পাগলামি করতে লাগলাম।একেক জনের সামনে গিয়ে একেক কথা বলতে লাগলাম।আর উল্টোপাল্টা কাজ করতে লাগলাম। কারো শাড়ির আচলে গিট্টু দিচ্ছি কাউকে ধরে নাচছি কাজির টুপি নিয়ে সেটা দিয়ে খেলছি। আবার দুলামিয়ার টুপি খুলে নিয়ে নিজের মাথায় পরছি তো আবার তা দিয়ে খেলছি।আমাকে কেউ থামাতে পারছে না।আমার এবার নিজেরি বিরক্ত লাগছে আরে ভাই এতো কিছু করছি কেউ একজনও বলছে না যে, এই মেয়ের সাথে আমাদের ছেলের বিয়ে দেব না।আরে সিনেমায় তো দেখি একটু কিছু হলেই বিয়ে ভেংগে চলে যায়।কি আর করবো বিয়ে তো আমাদের ভাংতেই হবে।আমি আমার পাগলামি আরো করতে লাগলাম।
মিসেস রহিমা ফুপিমার সামনে গিয়ে বললেন…
—এই পাগল মেয়ে কোথার থেকে নিয়ে এসেছেন??আমাদের জামাই বাবাজি ভালো দেখে আমার মেয়ের বিয়েটা ভেংগে চলে যায় নি।তা না হলে এই অপয়া মেয়েকে কে বিয়ে করতো??
এতক্ষন পর আমাদের দুলামিয়া বলল…
—অনেক করেছেন তামাশা আর করা লাগবে না।মেয়ের এক জায়গায় বিয়ে দিয়ে আবার আরেক জায়গায় বিয়ে দিতে যাচ্ছেন।আপনি তো মা নামের কলংক। এই তোমরা সবাই চলো।
আমি মনে মনে বললাম…
—শালা বুইড়া জামাই, আরো আগে মুখ খুলতে পারলিনা।তাহলে তো আমাকে এতো কস্ট করে পাগলের অভিনয় করতে হতো না।
আরো কিছুক্ষন মেলো ড্রামার পর তারা চলে গেল।তারা সবাইকে নিয়ে চলে যেতেই আমি হাফ ছেরে বাচলাম।
______________________
ফুপিমার বাসায় বসে আছি সবাই।কারো মুখে কোন কথা নেই।নিধি আপু নিরবে কান্না করেই যাচ্ছে।নিধি আপুর সৎ মা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।আমরা তাকে আমাদের সাথে অনেক জোর করে নিয়ে এসেছি।আমি আস্তে করে নিধি আপুর পায়ের সামনে হাটু গেড়ে বসে দু কান ধরে কাপা কাপা গলায় বললাম….
—সরি…আপু আমার জন্য আজ তোমার সাথে এমন হলো।প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও।দেখ তোমার যদি সেখানে বিয়ে হতো তাহলে মনু কোনদিন নিজেকে মাফ করতে পারতো না।ও নিজে সারা জীবন ধুকে ধুকে মরতো।তাই আমি আর জানু মিলে এই বুদ্ধি করি।দেখ তুমি মনে করতে পারো আমি তোমায় সবার সামনে অসম্মান করেছি।
প্লিজ…আমাকে ভুল বুঝো না।এই বলে আমি কাদতে লাগলাম।
আপু আমাকে উঠিয়ে তার পাশে বসালো এবং আমার চোখের জল মুছে দিয়ে বলল…
—কাদছো কেন তুমি!!তোমার মুখে কান্না মানায় না।আর আমি তোমার উপর রাগ করি নি।হয়তো আল্লাহ্ আমার ভাগ্যে এমনই লিখেছেন।তাই এমন হয়েছে।প্লিজ তুমি নিজেকে দোষ দিও না।
আমি নাক টেনে বললাম…
—তুমি আমাকে মাফ করে দিয়েছো তো??
আপু মিস্টি হেসে বলল….
—রাগই তো করি নি তোমার উপর মাফ কি করবো।
আমি আদুরে গলায় বললাম….
—এতে কাজ হবে না।আমার একটা শর্ত আছে যদি তুমি রাজি হও তাহলে ভাববো তুমি আমায় মাফ করে দিয়েছ।
আপু আমার দিকে সন্দেহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল…
—পাজি মেয়ে আবার মাথায় কি ঘুরপাক খাচ্ছে।
আমি একটা মিস্টি হাসি দিয়ে বললাম….
—এই পাজি মেয়ের জালা সারাবছর সজ্য করতে হবে।
—মানে????
—মানে যা বলে তোমার বিয়ে ভেংগেছি সেটা পূর্ণ করতে হবে।
আপু আমার দিকে প্রশ্ন বোধক চাহনিতে তাকিয়ে আছে।আমি মিস্টি হেসে বললাম….
—ভাবী আমার ভাইয়া কিন্তু দেখতে হিরোর মত।কিন্তু একটু…বদ রাগি।কোন ব্যপার না তুমি আর আমি মিলে তাকে সোজা করে ফেলবো।
_____________________
এদিকে যে এতো কিছু হয়ে গেলো তার কিছুই আহাদ জানেনা।কাল রাতে সে রাগ করে বাসা থেকে ঢাকায় চলে এসেছে।তাহিয়া আহাদের বাসায় গিয়ে আহাদ কে সব জানিয়েছে।সব শুনে আহাদ থ’মেরে বসে আছে।আহাদ কি বলবে কিছুই ওর মাথায় আসছে না।শুধু একটা কথাই মাথায় আসছে যে,আজ তাহিয়া আর মানহার জন্য ওর বোনের বিয়েটা ওমন একটা ছেলের সাথে হয় নি।
#চলবে
( ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।ধন্যবাদ)