ভাগ্য ১০ পর্ব

0
2044

#ভাগ্য ১০ পর্ব

হাসিব আমাকে টান মেরে তার বুকের উপর নিয়ে নিলো, বললাম কি করছ দরজা লক করা হয়নি।
হাসিব বলল, তাতে কি আমার বউকে আমি আদর করব, কে আসবে আমার রুমে।
আমি জোর করে ছাড়িয়ে দরজা লক করে আসলাম।

কি করছ আজ এতো রোমান্টিক মুড কেন,

আমার যখন ইচ্ছা আমার বউকে আদর করব, তাতে কি জবাবদিহি করতে হবে,

না না জবাবদিহি করতে তো বলিনি শুধু জানতে চেয়েছি,

কোন কথা বলবে না চুপ থাকো, আমার কাজ আমাকে করতে দাও,

হাসিব আমাকে বুঝিয়েছে স্বামীর আদর ভালোবাসা কি।
আদিবের কাছে নির্যাতিত হতে হতে, স্বামী নামের প্রতি ঘৃনা জন্মে গিয়েছিল, আজ হাসিবকে পেয়ে বুঝেছি স্বামী কেমন হয়।

অনেকদিন হয়ে গেল, বাবার বাড়ি যাইনা, সকালে হাসিব নাস্তা করতে বসছে, আমি তাকে বললাম, একটা কথা বলতে চাই।
হাসিব বলল, একটা কেন মন চাইলে হাজারটা কথা বল, আমার বউয়ের কথা আমি শুনবো না, কি করে হয়।

মা বাবার কথা মনে পড়ছে, তুমি যদি বল কয়েকদিন থেকে আসব।

কয়েকদিন সেটা কি করে সম্ভব, আমি আমার মেয়েকে ছাড়া থাকতে পারব না, বড়জোর দুইদিন থাকতে পারবে, আমিও অফিস ছুটির পর সেখানেই চলে যাবো না হলে নিধিকে ছেড়ে আমার ঘুম আসবে না।

মেয়ে যখন বড় হবে, বিয়ে দিবে কিভাবে,

ঘরজামাই রাখব, তবু অন্য জায়গায় বিয়ে দেবো না, নিধি আমার কলিজা, কলিজা ছাড়া মানুষ বাঁচে না, তেমন নিধিকে ছাড়া আমার দম বন্ধ হয়ে যাবে।

অফিসে যাবার সময় হাসিব আমাকে বলে গেল রেডি হয়ে থাকতে, অফিস থেকে এসে আমাকে বাবার বাড়ি নিয়ে যাবে।
চারটা দশের দিকে হাসিব অফিস থেকে আসল, আমি তাকে খাবার খেতে দিলাম, খাওয়া শেষ করে সে আমাকে বলল, আম্মু আব্বুকে বলে আসো, তুমি তোমার বাসায় যাবে।
আম্মা আব্বাকে বললাম, তারা বলল, তারাতাড়ি চলে আসতে, নিধিকে ছাড়া তাদের ভালো লাগবে না।

যাবার রাস্তায় হাসিব গাড়ি থামিয়ে, গাড়ি থেকে নামলো শপিং করতে।
জানতে চাইলাম এখন শপিং করার কি দরকার, সে বলল, আম্মা আব্বা, আর মিলির জন্য শপিং করবে।
আমি তাকে শপিং করতে দিলাম না, বললাম যখন শ্বশুর বাড়ি যাবে তখনি তোমার শপিং করে নিয়ে যেতে হবে, এটা কেমন কথা।
শপিং করতে না পেরে অনেক গুলো ফল আর মিষ্টি কিনে নিয়ে আসল।

আচ্ছা তুমি কি তোমার শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছো না কি মেয়ের জামাই বাড়ি যাচ্ছো, কেন তোমার এতো কিছু নিয়ে যেতে হবে।
হাসিব বলে, ধর আমি মেয়ের জামাই বাড়িই যাচ্ছি, তবে মেয়ের জামাইটা বুড়ো।
হাসিব হাসছে, আমিও হেসে দিলাম, নিধি বলছে, মাম্মা পাপ্পা হাসছে কেন।
তোমার বুড়ো জামাই বাড়ি যাচ্ছি তো তাই হাসছি, এটা বলে হাসিব আবার হাসতে লাগল।

গাড়ি থেকে নেমে বাড়ি যেতেই মিলি এসে জড়িয়ে ধরলো আমাকে, নিধিকে কোলে নিয়ে হাসিবকে বলল, দুলাভাই কেমন আছেন, হাসিব মিলির সাথে কথা বলছে, আমি মায়ের কাছে গেলাম।

কিরে কতদিন পরে আসলি আমার নানুমনি কই, জামাই আসছে তোর সাথে।

নিধি মিলির কাছে হাসিব বাহিরে মিলির সাথে কথা বলছে, মা এই গুলো নাও।

কি রে এইগুলা, ওমা এতকিছু কেন আনছিস, এত মিষ্টি কে খাবে, ফলও তো অনেক গুলা।

হাসিব এতকিছু নিয়ে এলো, বললাম কম করে কিনো।
জামাইয়ের মনটা অনেক ভালো রে, দেখেই বুঝা যায় সহজ সরল।
হ্যাঁ মা হাসিব অনেক ভালো সৎ চরিত্রবান একজন মানুষ, এ যুগে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুস্কিল।

মা হাসিবকে নাস্তা দিয়েছে সে নিধিকে নিয়ে খাচ্ছে।
মিলি আমাকে ডাক দিয়ে বলল, আপু এইদিকে একটু শুনে যাবি।
কিরে কি বলবি,
আপু প্লিজ তুই দুলাভাইকে বল, আমাকে ল্যাপটপ কিনে দিতে, আমার সব ফ্রেন্ডদের ল্যাপটপ আছে শুধু আমার নেই।
আমি হাসিবকে এই ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না, তুই চেয়ে দেখতে পারিস। মিলি আমাকে অনেক রিকুয়েষ্ট করে কেঁদে ফেলল, কি আর করা ছোট বোন তো।

রাতে খাবার পর হাসিব শুয়ে আছে নিধি হাসিবের বুকের উপর ঘুমাচ্ছে।
জানো মিলি না আমাকে খুব জোর করে ধরছে তোমাকে তার আবদারের কথা বলার জন্য, আমি বলেছিলাম তুই বল, সে তোমাকে বলতে লজ্জা পাচ্ছে।

কি আবদার বল, আমার শালী আমার কাছে আবদার করতেই পারে।
মিলি ল্যাপটপ কিনে দিতে বলছে তোমাকে।
হাসিব বলল, মিলিকে ডাক দাও তার মুখ থেকে শুনতে চাই।
আমি মিলিকে ডাক দিলাম, মিলি হাসিবের সামনে এসে লজ্জায় কাচুমাচু হয়ে যাচ্ছে।

আরে শালী সাহেবা বল তোমার কি চাই, যা চাইবে তাই দেবো, তোমার এই দুলাভাইয়ের কাছে যদি বল এখনি বর চাও তাও এনে হাজির করব।

হাসিবের দুষ্টুমি কথা শুনে মিলি বলল, এখন আমার বরের দরকার নেই, এখন ল্যাপটপ দরকার, সেটা হলেই চলবে।
ঠিক আছে কাল অফিস থেকে আসার সময় ল্যাপটপ নিয়ে আসব, কিন্তু তার বিনিময়ে আমাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিতে হবে।
আমি না আপু দেবে বলেই মিলি চলে গেল।

পরেরদিন হাসিব মিলির জন্য ল্যাপটপ নিয়ে আসছে, অনেক দামী ল্যাপটপ।
আমি তাকে বললাম, ল্যাপটপ কম দামী আছে, তুমি এতো দামী ল্যাপটপ কিনতে গেলে কেন।
শালীকে দেবো দামী তো দিতেই হবে, কেউ যখন জানতে চাইবে তোর দুলাভাই কত টাকা দিয়ে ল্যাপটপ কিনে দিয়েছে, কম দাম শুনে সবাই মনে করবে আমি একজন কৃপণ লোক, তুমি কি চাও তোমার স্বামীকে কেউ কৃপণ ভাবুক।
কি বলল, আমি হাসিবের যুক্তির সাথে পারব না, কিন্তু আমি চাইনা সে অযথা টাকা খরচা করুক।

ভালোই চলছে আমাদের বিবাহিত জীবন, এর মধ্যে একদিন তুহিন আসল, আমি গোসল করে বাথরুম থেকে বের হয়ে দেখি তুহিন আমার ভাসুর আর শ্বশুরের সাথে বলছে, আমার আগে বিয়ে হয়েছিল, আর নিধি হাসিবের সন্তান না, সবকিছু শুনে আমার শ্বশুর আমাকে ডাকছে তুহিনের কথা সত্য কি না প্রমাণ করতে।

আমি হাসিবকে তারাতাড়ি ফোন করে বললাম, তুমি এখনি বাসায় আসো তুহিন এসে সবকিছু বলে দিয়েছে।
হাসিব বলল, আমি এখনি আসছি, তুমি কোনো কিছু স্বীকার করবে না, বলবে নিধি আমার মেয়ে।

শ্বশুর আমার কাছে জানতে চাইলো তুহিন যা বলছে সত্য কি না।
আমি জীবনে কখনো মিথ্যা বলিনি কিন্তু আজ আমাকে মিথ্যা বলতে হবে আমার মেয়ের জন্য।
ভয়ে ভয়ে বললাম, নিধি হাসিবের সন্তান, তুহিন জিদ করে মিথ্যা বলছে, সে আমার সঙ্গে অসভ্য আচরণ করছে চেয়েছিল, তাই হাসিব তাকে মেরেছে সেই প্রতিশোধ নিতে সে এখন এখানে এসে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।

তুহিন তো জোর গলায় বলছে, আমি মিথ্যা বলছি, তুহিন আমার শ্বশুর শাশুড়ীকে বলল, বাংলাদেশে আসার কয়েক মাস আগে হাসিব ইসরাতকে বিয়ে করছে।

হাসিব এসেই তুহিনকে ইচ্ছামত মাইর শুরু করল, তুহিন মাইর খেয়ে দৌড়ে পালালো।
তোমরা অন্য মানুষের কথা শুনে আমার স্ত্রী সন্তানকে সন্দেহ কর, কোথাকার কোন তুহিন এসে বলল, নিধি আমার সন্তান না সেটা বিশ্বাস করে নিলে, হ্যাঁ ইসরাতের বিয়ে হয়েছিল একটা অমানুষের সাথে সে তাকে অনেক অত্যাচার করেছে। আমি তাকে আশ্রয় দেয়, ইসরাত আমার সঙ্গে আড়াই বছর ছিল, আমার সন্তান ইসরাতের পেটে আসে, তাই আমি তাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসছি।
নিধি আমার ঔরসজাত সন্তান, তাকে নিয়ে কেউ কিছু বললে, আমি তা সহ্য করব না।

চলবে,,,

সাদমান হাসিব সাদ