ভালোবাসা_কেবল_শুরু পর্ব -০৮

0
1212

ভালোবাসা_কেবল_শুরু
পর্ব -০৮
#লিখা – নীলকন্ঠী
.
বেলকনির ইজি চেয়ারে গা এলিয়ে চোখ বন্ধ করে গিটারে টুং টাং সুর তুলছে রাফান। বাইরে হালকা বৃষ্টির সাথে ঠান্ডা বাতাস বইছে। বাতাসে শরীরে কাপন ধরেছে সেই সাথে চোখ বন্ধ করে প্রেয়সীর মুখটাই কল্পনার রংয়ে আকছে রাফান। জীবন টা অন্যরকম হতে পারতো। এতো ছোট বয়সে বাবা মা কে না হারালে ও পারতো। বিদেশে পড়াশোনা করতে বা কেন গেলো। এই করেই তো রুহি কে হারালো।

রুহি, ছোট বেলা থেকে নিজের সম্পদ মনে করেই এসেছে।অধিকার খাটিয়েছে। কিন্তু কখনো বুঝতে দেয় নি এই বাচ্চা মেয়েটাকে রাফান কতটা ভালোবাসে, কত টা আপন ভাবে।

আদি আর রুহি কে দেখে যা বুঝলো তারা কেউ কাউকে মেনে নিতে পারেনি। তাই রাফান এখনো রুহি কে নিয়ে নতুন করে ভাবছে। এবার যে রুহি কে পেতেই হবে। যেভাবেই হোক রুহিকে তার ভালোবাসার কথা জানাতে হবে।

–কফি খাবে? দুই মগ কফি হাতে রুহি বেলকনিতে এসে দাঁড়ায়। চোখ খুলে রাফান চমকে উঠে। একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে রাফান তাকিয়ে আছে। মেয়েটা করলো কি। রাফানের দেয়া সাদা জামদানি পড়েছে। রাফানের গায়ে কাঁপন ধরে এলো রুহির দিকে তাকিয়ে।

রুহি খুব বিরক্ত দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রেলিং এর উপর কফির মগ দুটো রাখলো। কোকড়ানো লম্বা চুল গুলো হাত খোপা করতে করতে চেয়ার টেনে বসে পড়লো।

–আহা এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো। কফি ঠান্ডা হচ্ছে।
রাফান তখনও হু করে যাচ্ছে। ভাইয়া শোনো, এমন করে তাকাবা না, মনে হচ্ছে তোমার বিদেশী সংগী সাথী রেখে আমার প্রেমে পড়ে যাচ্ছো।

এবার রাফান ম্লান হাসলো। হ্যা রে পড়লে কি হবে!

–কি হবে মানে। পড়া যাবে না। আমি এখন আদির বঊ। তুমি আমার প্রেমে কেনো পড়বা?

এই কথার উত্তর রাফানের জানা নেই। ম্লান হেসে বাইরে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো রাফান। আপাতত রুহির সাথে কথা বাড়াতে ইচ্ছা হচ্ছে না। প্রেমে তো সেই কবেই পড়েছে, কিন্তু এই মুহুর্তে ভীষণ অন্যায় আবদার করতে ইচ্ছা হচ্ছে রাফানের। ইচ্ছা হচ্ছে রুহির খোপা টা খুলে দিতে। ইচ্ছা হচ্ছে রুহির তিল টা ছুঁয়ে দিতে। এমন আরো হাজার টা ইচ্ছা হচ্ছে ওর। কিন্তু রুহি তো সত্যি বলেছে, রুহি এখন আদির ওয়াইফ। মেজাজ টা চড়ে এলো, অন্যদিকে তাকিয়ে ই বলতে থাকলো

–কফি নিয়ে বিদায় হো। তোকে কে বলল আমি কফি খাবো?

–ওমা বলতে হবে কেনো! তুমি তো কফি পছন্দ করো। আর শোন এটা শেষ করেই আমরা ফুচকা খেতে বের হবো কেমন।

–আমার ভালো লাগছে না রুহি। তুই যা তো।

–প্লিজ চলো না । আমি কত্ত দিন ফুচকা খাইনা। আর তুমি তো বলেছিলে আমার ছবি ও তুলে দিবে। আমি কত্তো শখ করে শাড়ি পড়লাম। ও ভাইয়া।

কফির মগ টা তুলে রাফান ছুড়ে মারলো। চিৎকার করে বলল আমি যাবো না মানে যাবো না। সমস্যা কি তোর। আর সারাক্ষন কথার আগে পিছে ভাইয়া ভাইয়া করতে থাকিস। শুধু রাফান ডাকতে পারিস না!

রুহি ভয়ে দুই পা পিছিয়ে গেলো। ভয়ে জমে গেলো একদম। এসব কি হচ্ছে। সবাই শুধু ওকে বকতেই থাকে। ও কি চায় কেউ বোঝে না ।আজ কতদিন পর রুহির মন টা ভীষণ ভালো। কিন্তু না রুহি আগের রুপে ফিরে যেতে চাইলেই সবাই ওকে বুঝিয়ে দেয় এটা ভারি অন্যায়। চুপচাপ নিজের রুমে চলে এলো। সারাটা সন্ধ্যা অন্ধকার রুমে নিজেকে বন্ধী করে রাখলো।

রাত ন’টায় দরজায় রুহির আম্মু কড়া নাড়লো, ডেকে বলল ড্রয়িং রুমে যেতে। এলোমেলো শাড়ি আর অগোছালো চুল নিয়ে ডাইনিং এ এলো রুহি, পানির বোতল হাতে নিয়ে ড্রয়িং রুমে আসলো। আম্মু ডেকেছো বলতেই সামনে তাকিয়ে থ হয়ে যায় রুহি।
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আদি আর আদির আম্মু বসে আছে সোফায়। রুহির অবস্থা দেখে রুহির আম্মু চোখ পাকিয়ে বলল রুমে যাও আর শাড়ি পালটে এসো। রুহি আর একমুহুর্ত ও দেরি করলো না। দ্রুত পায়ে নিজের রুমে আসলো। কিন্তু পিছন পিছন যে আদি ও এসে দাড়িয়েছে তা খেয়াল করেনি। দরজা লাগাতে যেই পিছন ফিরে দেখে আদি দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

–কেমন আছো রুহি। আদির এই শীতল কন্ঠস্বরের সাথে রুহি পরিচিত নয়। এমন ঠান্ডা গলা শুনে রুহির বেশ চঁমকে উঠলো।

–আছি আপনি যেমন চেয়েছেন তেমন ই আছি।
আদি এগিয়ে আসতেই রুহি বিছানায় ধপ করে বসে পড়লো।

–আমি আর আম্মু আজ কেনো এসেছি জানো?
রুহি মাথা নিচু করেই এপাশ ওপাশ করে শব্দ করলো “উহু “সামনের মাসে তোমাকে আমার করে নিয়ে যাবো।
রুহি চমকে মাথা তুলে চাইলো! আমার করে মানে কি? তাহলে কি আদি তাকে ভালোবাসে? বিষ্ময়ের শেষ সীমানায় পৌঁছে রুহি বলে উঠলো,

–আপনার মানে?
আদি এবার বেশ সংকোচ নিয়ে বলতে লাগলো, তোমার তো ঘুরা ঘুরি আড্ডা নিয়ে থাকার অভ্যাস। পড়াশোনা তো কিছু পারো না,, করো ও না। আমার মান সম্মান রক্ষার জন্যই তোমাকে নিয়ে যাবো একেবারে।

রাগে রুহি বিছানার চাদর খাঁমছে ধরলো, ও তাহলে এজন্য নিবেন। তাহলে শুনে রাখুন আমি আমার স্টাডি ঠিক ঠাক ই করি। আমায় নিয়ে ভাবতে হবে না । আর বার বার অপমান খেয়ে বাড়ি থেকে চলে আসা টাও অভ্যাস করতে চাইনা। আশা করি বুঝতে পারছেন।

আদি খুব ধীর পায়ে এসে রুহির সামনে বসে বলল,” তুমি যাবে না মানে? তোমার ঘাড় যবে, না যেতে চাইলেও যেতে হবে। কথা টা মাথায় থাকে যেন “বলে আদি আর এক মুহুর্ত ও দাঁড়ালো না।

চলবে …..