মিস্টার ভিলেন পর্ব-১২+১৩

0
1265

পর্ব ১২+১৩
#মিস্টার ভিলেন
পর্বঃ১২
?সামিরা পপি?
_______________________________
_______________________________

নাবিল তানির দিকে তাকিয়ে একটা জোরপূর্বক হাসি দিল।আর বলল,

–“কিছু বলবে?”

তানি নাবিলের সামনে এসে বলল,

–“হ্যাঁ আসলে….তুমি কি কোথাও যাচ্ছ?”

–“হ্যাঁ।সামিরাকে নিয়ে যাচ্ছি।ও না’কি কোথায় যাবে।”

তানি ভ্রু কুঁচকে একবার সামিরার দিকে তাকাল।সামিরা তানিকে এক চোখ টিপ দিল।তা দেখে তানির রাগ উঠল।কিন্তু কিছু বলল না।নাবিলের দিকে তাকিয়ে বলল,

–“ওহ।কিন্তু ও তোমার সাথে কেন?আর তুমি তো এত দিন পাত্তায় দাওনি আজ কি হলো হঠাৎ একে নিয়ে বাহিরে যাচ্ছ?”

নাবিল বিরক্তিবোধ করল কিন্তু তা প্রকাশ করল না।বলল,

–“হ্যাঁ এতদিন পাত্তা দেয়নি। কিন্তু কি করব বলো?পাত্তা না দিয়ে কি উপায় আছে?যে বিচ্ছু মেয়ে।আমাকে শান্তিই দিচ্ছে না।প্রতিদিনের মত আজও জোর করছে দেখেছ।”

বলেই নাবিল সামিরার দিকে তাকাল।তাকিয়েই একটা হাসি দিল।আর সামিরা নাবিলের দিকে তাকিয়ে আছে হা করে।তানি নাবিলের কথা শুনে খুশি হলো মনে মনে।

–“ওহ আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে যাও তোমরা।”

–“কিন্তু তুমি যে বললে কি বলতে এসেছ?”

তানির প্রতি নাবিলের এমন দরদ দেখে সামিরা ফুঁসে উঠল।,

–“সমস্যা কি আপনার?ও যখন যেতে বলেছে তখন চলেন।এত ঢং কেন করছেন?আর আপনি মিথ্যা কথায় বা কেন বলছেন যে আমি আজকেও জোর করেছি আপনাকে?আপনি সত্যি করে বলেন যে আজকে আপনি আমাকে মেনে নেন নি?”

ব্যস সামিরার কথায় তানির মেজাজ বিগড়ে গেল।নাবিলের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।নাবিল আমতাআমতা করে বলল,

–“ওহ ওই আরকি।কিন্তু আমি তো….”

সামিরা কপাট রাগ দেখিয়ে বলল,

–“আপনি কি যাবেন নাকি আমি চলে যাব?আর আপনি এও জানেন যে আমি কোন মেয়েকে আপনার সাথে সহ্য করতে পারিনা।আর এই মেয়েকে তো মোটেও না।আর আপনি কি’না….?ওকে ফাইন।আপনি থাকেন আপনার তানিকে নিয়ে।আমি চললাম।”

—“আরে আরে সামিরা ওকে একে চলো আর কথা বলছি না।তোমার সাথেই যাচ্ছি।”

–“হুহ্”

নাবিল সামিরাকে নিয়ে বাইক স্টার্ট দিল।সামিরা বাইকে বসে তানির দিকে তাকিয়ে এক চোখ টিপ দিল আর বাম হাতের কয়েকটা আঙুল নাড়িয়ে বাই বাই বলল।এইদিকে তানি রাগে ফুঁসতে লাগল।নাবিল যে সত্যি সত্যিই সামিরাকে মেনে নিবে তা ভাবেনি।তানি ত সামিরাকে এই চ্যালেঞ্জ এই জন্যই করেছিল সে জানত নাবিল একসেপ্ট করবে না।আর তখন সামিরা তানির কাছে হেরে যাবে।কিন্তু না এই মেয়ে এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে ফেলেছে।এই মূহুর্তে তানির মন চাচ্ছে নিজের চুল নিজে চিড়তে। রাগে দুঃখে থাকতে না পেরে থমথম করে ধপাধপ পা ফেলে চলে গেল।

বাইক চালাচ্ছে নাবিল।আর সামিরা পেছনে বসে নাবিলের কাঁধে এক হাত রাখল।সামিরার কাছে এই মূহুর্তটা অসাধারন লাগছে।নাবিলের মধ্যেও এক অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে।নাবিল সামিরাকে বলল,

–“আমরা যাচ্ছি কোথায় কিছুই বলছ না।কোথায় যাবে বলো?”

–“উম্ম অনন্যা চলেন।সেখানে এখন অনেক সুন্দর সুন্দর কাশফুল আছে।ঝাও গাছও অনেক।ওইখানেই চলেন।”

–“আচ্ছা।”

কিছুক্ষন পর তারা অনন্যায় চলে আসল। বাইক থামানোর সাথে সাথে সামিরা নেমে দৌঁড়ে চলে গেল কাশ ফুলের ভেতরে।নাবিল বাইক এক সাইডে রেখে সামিরার পেছনে গেল। গিয়ে দেখল সামিরা বাচ্ছাদের মত দৌঁড়া দৌঁড়ি করছে।আর লাফাচ্ছে।এই মুহুর্তে সামিরাকে দেখে মনে হচ্ছে সেই এক মাত্র বাচ্ছা।নাবিল সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে সামিরার বাচ্চামি দেখছে।কিছুক্ষন পর সামিরা আইস্ক্রিমের গাড়ি দেখে একটা কিউট হাসি দিল।নাবিলের হাতে ধরে তাকে টেনে নিয়ে আইস্ক্রিমের গাঁড়ির সামনে নিয়ে গেল।সামিরা বলল,

–“এই মিস্টার ভিলেন।আমাকে আইস্ক্রিম কিনে দেন।আমি আইস্ক্রিম খাবো।”

–“এখন আইস্ক্রিম খাবে?এখন তো লাঞ্চ করার সময়।চলো আমরা লাঞ্চ করি।”

–“উফফ বড্ড বেশি কথা বলেন।আপনি কি আইস্ক্রিম কিনে দিবেন না’কি না?”

–“ওকে ওকে দিচ্ছি রাগ করো না।এখন বলো কি আইস্ক্রিম খাবে?”

–“অভিয়েস্লি কোণ আইস্ক্রিম খাব।আর হ্যাঁ এইটা সব সময় মনে রাখবেন সামিরার এই আইস্ক্রিম প্রিয়।একে?”

–“ওকে মেডাম।”

বিকেল পাঁচটা বাজে নাবিল বাড়ি ফিরে আসল।তারা অনন্যা থেকে ঘুরে কিছুক্ষন আগেই এসেছে।নাবিল সামিরাকে তাদের বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে এখন নিজের বাড়ি আসল।এসে দরজার সামনে দাঁড়িয়েই হা হয়ে গেল।আর ঘরের দিকে পা বাড়াল না।বিরবির করে বলল,

–“এই পাগল/পাগলী দুইটা কোন দিন ঠিক হবেনা।কোথায় এসেছে বেড়াতে সেখানেও জগড়া শুরু।”

মেঘলা আর আকাশ দুইজনে এতক্ষন তুমুল ঝগড়া কর ছিল।হঠাৎ মেঘলা খেয়াল করল দরজার সামনে নাবিলকে।তাই দৌঁড়ে এসে জড়িয়ে ধরল।এমন হওয়ায় নাবিল ব্যালেন্স হারিয়ে কয়েক কদম পিছিয়ে গেল।

মেঘলার এমন কান্ডে আকাশও হতবাগ হয়ে তাকিয়ে আছে।পরে দেখল যে মেডাম নাবিলকে দেখেই দৌঁড় দিয়েছে।আকাশ একটা জোরে নিশ্বাস ফেলে নাবিলের দিকে এগিয়ে গেল।নাবিল মেঘলার এমন করে ঝাপ্টে ধরাতে যেন নিশ্বাস অ ফেলতে পারছে না।তাই বলল,

–“মেঘলা ছাড়।কি করছিস কি?যেভাবে ধরেছিস মনে হচ্ছে আজারাইল আমার জান কবজ করছে।”

নাবিলের কথা শুনে মেঘলা ঝট করে নাবিলকে ছেড়ে দিল।তারপর ন্যাকা কান্না করে বলল,

–“দেখেছিস কেউ আমাকে ভালবাসে না?না তুই আর না এই হনুমান আকাশ।থাকব না আমি চলে যাব এক্ষুনি।আর কখনও আসবো না।”

নাবিল বিরক্ত হয়ে বলল,

–“আহ্ মেঘলা চুপ কর।কি তখন থেকে বকবক করছিস
আমি জানি তুই কত ভাল ভালো।এখন সর ভেতরে যেতে দে।তারপর না’হয় কথা বলি।”

আকাশ নাবিলের সামনে এসে বলল,

–“কিরে কেমন আছিস?”

নাবিল বলল,

–“ভালো আছি।তুই কেমন আছিস?আর কখন এসেছিস তোরা?”

–“এইতো ঘন্টা খানেক আগে।এসে আর শান্তি কই।তোর যে বোন।আমার জীবনটা ত্যানা ফাটা বানাই দিছে।”

মেঘলা অপর পাশ থেকে রেগে বলল,

–“একদম মিথ্যা কথা বলবি না ভাইয়া।আমি না বরং তুই নিজেই আমার জীবন ত্যানা ফাঁটা বানিয়ে দিয়েছিস।যেদিকে যাই সেদিকে যেতে বাঁধা দিস।যাই করি না কেন তোর চোখে সব খারাপ।হনুমান একটা হুহ্।”

–“তো বাঁধা দিব না কি করবো হ্যাঁ?তুই তো সব কাজই করিস উল্টা।কোনদিন কি আমার কোন কথা শান্তি মত শুনেছিস?আর শুনবি বা কি করে?তুই অর্ধেক কথা শুনেই নাচানাচি শুরু করিস।”

–“এই এই মিথ্যা বলবি না।সবাই জানে কে কি করে আর কে কেমন।”

–“হ্যাঁ সে’তো সবাই জানে।তাই না নাবিল?”

নাবিল,

–“হ্যাঁ।আচ্ছা এইবার তো তোরা চুপ যা।কোথায় এসেছিস সুন্দর করে গল্প করব খাব।ইঞ্জয় করব তা না?তোরা নিজেরাও দাঁড়িয়ে আছিস আর আমাকেও দাঁড় করিয়ে রেখেছিস।”

আকাশ বলল,

–“আচ্ছা চল।”

পর্বঃ১৩
?সামিরা পপি?
______________________________
______________________________

নাবিল,মেঘলা ও আকাশ গিয়ে সোফায় বসে।নাবিল মেঘলাকে উদ্দেশ্য করে বলে,

–“মেঘলা বাহির থেকে এসেছি আমাকে একটু পানি দে।প্রচুর তৃষ্ণা পেয়েছে।”

মেঘলা মুখ বাঁকিয়ে বলল,

–“ইশ শখ কত?আমি পারবো না দিতে।তোদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছি আমি।আর তুই বলছিস কাজ করতে?আমি পারবো না কোন কাজ করতে নিজের পানি নিজে নিয়ে খা।”

আকাশ আর নাবিল মেঘলার কথা শোনে মেঘলার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে তা দেখে মেঘলাও ভ্রু কুঁচকে নিয়ে বলল,

–“কি হয়েছে?তোরা দুই হনুমান আমার দিকে এইভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?মনে হচ্ছে আমি কোন ভিন্ন গ্রহ থেকে নেমে আসা এলিয়েন।”

মেঘলার কথায় আকাশ বিরক্ত হয়ে বলল,

–“তুই এত কথা কেমনে বলতে পারিস মেঘলা?সামান্য পানিই তো চেয়েছে নাবিল।আর তা দিতে পারবি না সোজা বলেই দিলি।বাহ্।নাবিল তো তোরেই ভাই।আর এইখানে বেড়াতে এসেছিস মানে কি হ্যাঁ?তোকে বেড়াতে নয় আমি দিয়ে যেতে এসেছি।তোকে আর ওই বাড়িতে নিচ্ছি না।এখন থেকে এইখানেই থাকবি।”

মেঘলা ও নাবিল অবাক হয়ে তাকাল আকাশের দিকে।বলে কি এই ছেলে?মেঘলাকে দিয়ে যেতে এসেছে?মেঘলা অবাক হয়ে বলল,

–“মানে কি ভাইয়া?তুই আমাকে দিয়ে যেতে এসেছিস মানে কি?আমি এইখানে থাকব না। আমি তোর সাথেই যাব আর তোর কাছেই থাকব।”

–“জ্বী না।তোকে আর ওই বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না।যতদিন বিয়ে না হচ্ছে ততদিন তুই এই বাড়িতেই থাকবি।আর হ্যাঁ ঘরের সমস্ত কাজ করাও শিখে নিবি আন্টির থেকে।যাতে ওই বাড়িতে গিয়ে বিয়ের পর কোন কথা শুনতে না হয় কারো কাছে।”

–“কিন্তু ভাইয়া….!”

মেঘলার কথা কেঁটে নাবিল বলল,

–“মেঘলা!আমার মনে হয় আকাশ ঠিক বলছে।দেখ বিয়ের আগে এইভাবে ওখানে থাকাটা বাহিরের মানুষ ঠিক চোখে দেখবে না।তাছাড়া এইকথা সেদিন আম্মুও বলেছিল।আর আকাশ এখন যা বলছে তা নিশ্চয় তোর ভালোর জন্য বলছে।আর আকাশেরও একটা মান সম্মান আছে সোসাইটিতে।আমি জানি তুই যতই পাগলামী আর বাচ্চামী করিস না কেন কিন্তু সত্যি কারের আকাশকে ভালবাসিস।আর তুই নিশ্চয়ই এইটা চাস না যে তোর কোন কারনে আকাশ অসম্মান হোক।আর তোদের ভালবাসা অসম্মানহোক।”

নাবিলের কথা শুনে আর মেঘলা কিছু বলতে পারল না।কারন সে বুঝেছে যে নাবিল যা বলেছে ঠিকি বলেছে।কিন্তু আকাশ?আকাশকে ছাড়া মেঘলা থাকবে কি করে?
মেঘলা মাথা নিচু করে বলল,।

–“আচ্ছা ঠিক আছে।আচ্ছা তোরা কথা বল আমি পানি নিয়ে আসছি।”

বলেই মেঘলা চলে গেল।মেঘলা যে ব্যাপারটা এত সহজে মেনে নিয়েছে তা দেখে নাবিল আর আকাশ বেশ অবাক হল।কিন্তু কিছু বলল না।তারা অনেক্ষন আড্ডা দিল।রাতের খাবার খেয়ে আকাশ মেঘলাকে রেখে চলে যাই।যদিও কষ্ট হচ্ছিল একা রেখে যেতে কিন্তু কিছুই করার নেই।সামান্য এই কষ্টের ফলটা যদি মিষ্টি হয় এই আশায়।

কেঁটে গেছে আরো পাঁচদিন এই পাঁচদিনে নাবিল সামিরার প্রতি আরো বেশিই উইক হয়ে পড়েছে।সামিরার বাচ্ছামি,দুষ্টুমী,পাগলামী,কেয়ারিং,ভালবাসা এইসব দেখে নাবিল ভাল না বেসে পারল না।তাদের দিন গুলোও বেশ ভালোই যেতে লাগল।কলেজে এসে দেখা করা, কলেজ শেষে ঘুরে বেড়ানো এইসব তো আছেই।তাদের এত ভালবাসা দেখে অন্যরা খুশি হলেও খুশি হতে পারল না অন্য দুইটা মানুষ।এই দুইটা মানুষের মধ্যে একটা হলো তানি।তানির মাথায় বেশ জেদ চেপে বসেছে।সে আজ কলেজে আসার আগেই প্ল্যান করে এসেছে যে আজ সামিরাকে নাবিলের কাছে কালার করবেই।তাদের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটাবেই।যেই ভাবা সেই কাজ।তানি কলেজে এসে দেখল সামিরা ও নাবিল একটা গাছের ছায়ার নিচে বসে আছে।দুজনে কি নিয়ে বেশ হাসাহাসি করছে।সামিরা মাঝে মাঝে নাবিলের চুল গুলো এলোমেলো করে দিচ্ছে।আবার গাল দু”টো টেনে দিচ্ছে।এইসব দেখে তানি যেন আরো ক্রুদ্ধ হয়ে উঠল।

–“বাহ্ দেখ কি প্রেম?যত্তসব ন্যাকামো।কই প্রোপোজ তো আমিও করেছিলাম।আমাকে রিজেক্ট করে দিয়েছিল।আর কিনা এই মেয়েকে মেনে নিল?এই মেয়ের মিধ্যে এমন কি আছে যেটা আমার মধ্যে নেই?”

এইসব কিছু মনে মনে আওড়াতে আওড়াতে গিয়ে নাবিল ও সামিরার সামনে দাঁড়াল তানি।তানিকে দেখে নাবিল বিরক্ত হলো আর সামিরার রাগ হলো।তারপর উঠে দাঁড়াল।নাবিল বলল,

–“কেমন আছো তানি?”

তানি একটা হাসি দিয়ে বলল,

–“হুম ভালো আছি।তোমরা কেমন আছো?”

–“এইতো বেশ ভালো আছি।”

–“হুম তা দেখতেই পাচ্ছি।কিন্তু এখন যতটা ভালো আছো আমার কথা শোনার পর হয়তো আর ততটা ভালো থাকবে না।”

নাবিল জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

–“মানে?ঠিক বুঝলাম না।”

–“ওকে শোন তাহলে।কিন্তু শোনার পর নিজেকে ঠিক রাখতে পারবে তো?”

তানির কথা শুনে নাবিল বেশ অবাক হলো।কি এমন কথা যেটা শোনে নাবিল ঠিক থাকতে পারবে না?আর এইদিকে সামিরা হয়তো কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে।কারন তানির দৃষ্টি আজ ক্রুদ্ধ।সামিরা বেশ ভয় পাচ্ছে।নাবিল তাকে ভূল বুঝবে না’তো?

নাবিল চিন্তিত স্বরে বলিল,

–“বলো শুনে দেখি কি এমন কথা।”

তানি সামিরার দিকে তাকিয়ে একটা শয়তানি হাসি দিল।যা দেখে সামিরার বুক ধুকপুক কিরে উঠল।আর গলাও কেমন শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছে।

–“তুমি যে এই মেয়ের সাথে রিলেশনে জড়িয়েছ।তুমি কি জানো এই মেয়ে তোমাকে সত্যিই ভালোবাসে কি’না?”

নাবিল সামিরার দিকে তাকিয়ে আবার তানির দিকে তাকাল।বলল,

–“মানে কি?ও যে আমাকে সত্যি ভালবাসে তা তো ও প্রমাণ দিয়েছে।”

তানি তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলিল,

–“আমি ভাবতাম তুমি বেশ চালাক।এখন দেখছি তুমি অনেক বোকা”

–“মানে?”

–“মানে হলো এই মেয়ে তোমাকে সত্যিকারের ভালবাসে না।ও বাজি ধরে তোমার সাথে রিলেশনে জড়িয়েছে।”

কথাটা শোনার সাথে সাথে যেন নাবিলের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল।ভয়ে ভয়ে সামিরার দিকে তাকাল।যেন সামিরা বলে তানি সব মিথ্যা বলছে।সামিরাও নাবিলের দিকে ভয়ে ভয়ে তাকাল।নাবিল আবার তানির দিকে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,

–“না না এইটা কি করে হতে পারে?তুমি নিশ্চয় মিথ্যা বলছ।তাই না?আমার বিশ্বাস সামিরা এমনটা করতেই পারেনা।”

–“ওকে তুমি আমার কথা বিশ্বাস কিরছ না’তো?ওকে ফাইন তাহলে তুমি নিজেই ওকে জিজ্ঞেস করো?”

নাবিল সামিরার দিকে তাকিয়ে বলল,

–“সামিরা তানি কি সত্যি বলছে?প্লিজ সত্যিটা বলো।”

সামিরার শুকনো ঠোঁট জোড়া জিব্বাহ দিয়ে ভিজিয়ে নিয়ে বলল,

–“আসলে মিস্টার ভিলেন….”

নাবিল কাঠ কাঠ গলায় বলল,

–“ও যা বলছে তা কি সত্যি?হ্যাঁ বা না উত্তর দাও।”

–“নাবিল আপনি আমার কথা তো শুনুন।”

নাবিল প্রচন্ড রেগে বলিল,

–“হ্যাঁ না’কি না?”

নাবিলের প্রচন্ড রেগে চেঁচিয়ে বলা কথায় সামিরা কেঁপে উঠল।চোখ থেকে দু’ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।আর বলিল,

–“হ্যাঁ।”

ব্যাস সামিরার এই “হ্যাঁ” শব্দটা শুনেই নাবিল শান্ত হয়ে গেল।আর কিছুই বলল না সোজা চলে গেল স্থান ত্যাগ করে।আর সামিরাও পেছন পেছন যেতে যেতে বলল,

–“নাবিল নাবিল আপনি প্লিজ আমার কথা শুনুন।আমি আপনাকে সসম্পূর্ন কথা বলতে চাই।প্লিজ নাবিল…”

না নাবিল শুনল না।সোজা চলে গেল।একবারের জন্য পেছনেও ফিরে তাকাল না।সামিরা কলেজের মাঠেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।এতদিন মনে মনে এইটার ভয় পেয়েছিল।আর আজ ভয় বাস্তবে রুপান্তর হয়ে গেল।এইদিকে তানি আগের স্থানেই দাঁড়িয়ে একটা পৈশাচিক হাসি দিল।আর বলল,

–“ব্যস আমার রাস্তা ক্লিয়ার। এইবার নাবিল আর এই মেয়েকে মেনে নিবেনা।সে সুযোগে আমি কয়দিন ইন্ডিয়ায় থেকে আসি।এসেই নাবিলকে যে করেই হোক আমার করে নিব।”

চলবে….