রঙিন বর্ষা ৭ম পর্ব

0
1225

#রঙিন_বর্ষা
লেখা: নীলাদ্রিকা নীলা
৭ম পর্ব
.
ড্রাইভার বললো,স্যার জোরে বাজ পরছে গাড়িতে উঠে পড়ুন । নিয়নকে ভিজতে দেখে গাড়ির ড্রাইভার ছাতা নিয়ে গাড়ি থেকে বের হলো। হঠাৎ শোভা নিয়নকে ছেড়ে দিয়ে দূরে সরে যায়। নিয়ন শোভার চোখের দিকে তাকিয়ে রাগান্বিত ভাবে বলছে, কে তুমি?
শোভা চোখ নিচের দিকে নামিয়ে নিলো।
নিয়ন আবারো ধমক দিয়ে বলে উঠলো, এই মেয়ে কে তুমি!
শোভা এবার চোখ তুলে নিয়নের দিকে তাকাতেই ভয় পেয়ে গেল। নিয়ন চোখ বড় বড় করে শোভার দিকে তাকিয়ে আছে। ভয়ে শোভা পা পিছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নিয়ন শোভার হাত ধরে ফেললো। ভয়ে শোভা কাঁপতে থাকে। নিয়ন শোভার দিকে তাকিয়ে থেকেই বললো, হু আর উ?
শোভা আস্তে করে বললো, আমি শ্রাবণ ভাইয়ার চাচাতো বোন শোভা।
,
তখন আবারও জোরে বাজ পরায় শোভা এগিয়ে এসে আবার নিয়নকে জাপটে ধরলো। কিছুক্ষণ পর শোভা একই কাজ করেছে এটা বুঝতে পেরে সাথে সাথে নিয়নকে ছেড়ে দেয়। ছেড়ে দিয়েই মাথা উপরের দিকে তুলে নিয়নের দিকে তাকায়। নিয়ন ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ভয়ে আর লজ্জায় শোভা চোখ নিচের দিকে নামিয়ে নিলো। নিয়ন তাকিয়ে আছে ভেবে শোভা খেয়াল করলো তার বুকে ওড়না নেই।
সাথে সাথে বুকটা ধক করে ওঠায় শোভা আবার নিয়নের দিকে তাকালো। নিয়ন শোভার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। কোনো মেয়ে নিয়নকে কখনো এভাবে জরিয়ে ধরে নি। নিয়নের চোখ এবার কিছুটা সাভাবিক আর শান্ত হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে শার্ট প্যান্ট আর পুরো শরীর। মাথার চুল বেয়ে পানি মুখে পরছে। ড্রাইভার নিয়নের মাথার ওপর ছাতা ধরলো। শোভা এবার আর দাঁড়িয়ে না থেকে এক দৌড়ে বাসার ভিতর চলে গেল।
,
শাওয়ার নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথার ভেজা চুল গুলো মুছতে গিয়ে ঝুমুর খেয়াল করলো তার হাতের বালা দুটো। কাল রাতে শ্রাবণের দাদি তাকে এই দুটো পরিয়ে দিয়েছিলো। ঝুমুর ওগুলো হাত থেকে খুলে রাখলো।
ঝুমুর বাসায় ফিরে আসার সাথেই ঝুমুরের বাড়ির লোকজনের কৌতুহলের শেষ নেই। তারা একে একে সবাই ঝুমুরকে প্রশ্ন করার জন্য ঘিরে ধরেছিলো। ঝুমুর তাদের বলে দিয়েছে, শ্রাবণের সাথে তার বিয়েটা হয়েছে কিন্তু সে এই বিয়ে মানে না।
,
শ্রাবণের ডায়েরিটা ঝুমুর বাসায় নিয়ে এসেছে। এখানো সেটা খুলে দেখা হয় নি। ওড়না আর নুপুর শ্রাবণের কাছে কেন এই প্রশ্নের উত্তর ঝুমুর কিছুতেই মেলাতে পারছে না। এখন এতকিছু ভাবতে ভাবতে মাথাটাও ধরে আসছে। তখনকার মতো বিছানায় শুয়ে গা এলিয়ে দিতেই ঝুমুর ঘুমিয়ে গেল।
,
একটা লম্বা ঘুমের পর ফ্রেশ হয়ে বিকেল বেলা চা হাতে বেলকুনিতে গিয়ে বসলো ঝুমুর। এবার শ্রাবণের ডায়েরিটা পরতে হবে। কি এমন লিখেছে ডাইয়েরিতে যার জন্য এত যত্ন করে ডাইয়েরিটা সাজিয়ে রেখেছিল। ঝুমুর ডায়েরির পাতা ওল্টাতে থাকে। অনেক গুলো কবিতা আর অনুগল্প লেখা তাতে। সেসব না পড়ে আবারো পাতা ওল্টাতে শুরু করে ঝুমুর। এবার একটা পৃষ্টাতে গিয়ে আটকে যায়। পৃষ্ঠার মাঝখানের ভাজে গোলাপ ফুলের দুটো শুকনো পাঁপড়ি। আর পৃষ্ঠাটায় লেখা আছে,
” আজ আমি এমন একজন কন্যাকে দেখেছি যার রুপের বর্ননা আমি দিতে পারবো না। এক কথায় সে যেন স্বর্গ থেকে আসা কোনো অপ্সরা!
যেন সে আকাশ থেকে নামা কোনো পরী
যেন সে কোনো রাজ্যর রাজকন্যা!
নিজেকে শুধু বোঝালাম,
না না শেষ রক্ষা হয় নি, পারিনি নিজেকে সামলাতে,
বারংবার মনে হতে লাগলো
“সেই যেন আমার মনের রাজ্যর রাজরানী”!
আজ আমার মনের রানীর ফাকা সিংহাসনটা দখল করে নিলো।
,
এইটুকু পড়ে ঝুমুর এবার ডায়েরির পৃষ্ঠার ওপর থেকে চোখ সরিয়ে উপরের দিকে তাকালো।
– ইহ” রানী! ঢং দেখে আর বাঁচি না। মনের রানীর ফাকা সিংহাসন দখল করে নিলো! যত্তসব।
,
ঝুমুর আবার ডায়েরির পৃষ্টায় চোখ রাখলো। পরের পৃষ্টা ওল্টাতেই আবার গোলাপ ফুলের দুটো শুকনো পাঁপড়ি পাওয়া গেল। এখানেও কিছু লেখা আছে৷ ঝুমুর আবার পড়তে শুরু করে,
” রানীটি আমার খুব কাছেই রয়েছে”
প্রতিদিন তাকে দেখতে পাবো এটা ভেবেই মন আনন্দে নেচে উঠল ”
আজ আমার ভার্সিটি লাইফের প্রথম ক্লাস ছিলো। প্রথম দিন ক্লাস করতে এসেই অপ্সরাকে দেখে ক্রাশ খেয়ে মনের ভিতর জেগে ওঠা প্রেমের হরিন দৌড়াতে শুরু করবে তা কল্পনা, স্বপ্ন আর বাস্তব কোনোটাতেই ভাবতে পারিনি। কিন্তু সেটাই হয়েছে তার সৌন্দর্য দেখে শুধু ক্রাশ খাওয়া হলেও মন প্রাণ ভরে যেত। কিন্তু সে তো আমায় তীব্র শক্তি দিয়ে চুম্বকীয় আকর্ষনে টানছে। তাকে নিজের রানী ভাবতে শুরু করলাম।
,
এটা পড়ে ঝুমুরের এবার রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে।
– ও,,,,এই জন্যই সে আজকে সকালে রানী পরী এসব বলছিলো। কিন্তু আমাদের ক্যাম্পাসের কে সেই সুন্দরী! যার সৌন্দর্য আমার থেকে বেশি? তাকে নিয়ে আবার এভাবে ডায়েরিতে লিখেছে৷ সৌন্দর্য নিয়ে লিখলে তো আমার কথা লেখা উচিত ছিল।
রাগে ঝুমুর ডায়েরি পরা বন্ধ করে দিলো।
,
সন্ধ্যার সময় শ্রাবণের ঘুম ভাঙে। দুপুরে শ্রাবণের জ্ঞান আসার পর ডাক্তার ওকে কিছু মেডিসিন দিয়ে গিয়েছিল। এখন মাথায় ব্যান্ডেজ করা৷ হাত পায়ের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা ৷ শ্রাবণ উঠে বসার চেষ্টা করলে ওর মা ওকে উঠতে বারণ করে। শ্রাবণ বললো, তাহলে মা শোভাকে একবার এই রুমে ডেকে দাও।
– এই অবস্থায় এখন আবার কোন কাহিনী করবি!
– আহা মা দাও না।
শ্রাবণের মা আচ্ছা বলে বাহিরে চলে গেলেন।
,
শোভা রুমে এসে দেখলো শ্রাবণ চোখ বন্ধ করে আছে। শোভা বললো, ভাইয়া এখন কেমন লাগছে?
শ্রাবণ চোখ খুলে বললো, এখন ভালো। বস এখানে। যেই জন্য ডেকেছি, আমার একটা কাজ করে দিতে হবে।
– কি কাজ!
– ঝুমুরের বাড়িতে একটা ফোন করতে হবে। ওর সাথে আমার কিছু কথা আছে। জানি না এখন ওর কাছে ফোন আছে কিনা। তাই ওর বাড়ির নাম্বারে কল করছি। যে রিভিস করবে তুই তাকে বলবি, তুই ওর বান্ধুবী। তারপর ঝুমুরের কাছে ফোন নিয়ে গেলে আমি কথা বলবো।
– ঠিকাছে।
,
শ্রাবণ ঝুমুরের বাড়ির টেলিফোন নাম্বারে কল করলো। ওপাশে রিভিস করলো ঝুমুরের বাড়ির একজন সেক্রেটারি।
– হ্যালো কে বলছেন?
শ্রাবণ শোভাকে ফোনটা দিল। শোভা ফোনে বললো, আমি ঝুমুরের বান্ধুবী। ওর সাথে কথা বলবো বাট ওর ফোন বন্ধ।
– ইয়েস ম্যাম। আমি এখনি ঝুমুর ম্যাডামের কাছে যাচ্ছি। একটু ওয়েট করুন।
,
ঝুমুর রুমের ভিতর বসে টেনশন করা শুরু করে দিয়েছে। কে সে যে শ্রাবণের চোখে ওর চেয়ে বেশি সুন্দরী! শ্রাবণ কেন ওকে নিয়ে ডায়েরিতে লিখলো না। ওর সৌন্দর্য তো আর কম নয়। পুরো ক্যাম্পাস জানে ঝুমুর রুপের রানী। সেই সময় সেক্রেটারি ঝুমুরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলছে, ম্যাডাম আপনার এক বান্ধুবী ফোন করেছে। আপনার সাথে কথা বলবে।
ঝুমুর রুমের ভিতর থেকে চেচিয়ে উঠল, আরে ধ্যাত্তেরিকা এখন যাও তো ডিস্টার্ব করো না! পরে কথা বলবো।
ঝুমুর আবারও ভাবতে থাকে,
– শ্রাবণ ওর মনের রানী কথা লিখেছে, সে নাকি আকাশ থেকে নামা পরীকে দেখেছে তাহলে ওই পরীকে রেখে আমায় বিয়ে করতে রাজি হলো কেন? আবার আমাকে বউ বউ বলে আমার সাথে লুতুপুতু করার চেষ্টাও করছিল। বুঝেছি আসলে এই ঝুমুর সুন্দরীকে দেখে তখন মাথা ঠিক ছিল না। কিন্তু ক্যাম্পাসের কে সেই পরী! আর শ্রাবণের কাছে আমার ওড়না আর নুপুর কিভাবে গেল? ধ্যাত কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।
এসব ভাবতে ভাবতে ঝুমুর গভীর চিন্তায় পরে গেল।
,
সেক্রেটারি ফোন হাতে নিয়ে সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলছে, সরি ম্যাম! ঝুমুর ম্যাডাম এখন কথা বলতে চাইছেন না। আপনি বরং পরে আরেকবার ফোন করুন।
শোভা বললো,আপনি প্লিজ বলুন না ঝুমুরকে৷ আমার ওর সাথে খুব জরুরি কথা আছে। এক্ষুনি ওকে বলতে হবে।
– সরি ম্যাম। ঝুমুর ম্যাডামের মেজাজ এখন ভালো নেই। এখন আমি আবার কিছু বলতে গেলেই আমার চাকুরী চলে যাবে।
,
ড্রইংরুমে শোফায় তখন নিয়ন বসে ছিল। সেক্রেটারিকে ফোনে কথা বলতে দেখে বলে উঠল, কে ফোন করেছে, এদিকে নিয়ে এসো। আমায় দাও!
সেক্রেটারি নিয়নকে ফোন দিয়ে চলে গেল। নিয়ন বললো, হ্যালো কে? হ্যালো…?
কন্ঠটা শুনে শোভা চমকে উঠল৷
– হ্যালো.. কথা বলছেন না কেন? হু আর উ??
,
গলার আওয়াজটা চেনা চেনা লাগছে শোভার। তখনই সকালের ঘটনাটা মনে পরে গেল। শোভার বুক ধুকপুক করা শুরু করেছে। এটা তাহলে সকালের ওই ছেলেটা। শোভা কিছু না বলে চুপ করে আছে। কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না।
– কি হলো কথা বলছেন না কেন? হ্যালো… আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন?
শোভা এখনো চুপ করে আছে।
– হ্যালো…হোয়াট ননসেন্স!
রাগ করে নিয়ন এবার ফোন রেখে দিয়ে রুমে চলে গেল ।
,
নিয়ন ফোন রাখার পর শোভা শ্রাবণের কাছে ফোনটা দিয়ে বলছে,অন্যকেউ ফোন রিসিভ করেছিলো। ভাবিকে পাওয়া যায় নি। আমি এখন আসি ভাইয়া।
শোভা আর কিছু না বলে অন্য রুমে চলে গেল৷ শ্রাবণ কিছুই বুঝতে পারলো না ঘটনা কি৷
,
পরদিন ক্লাস টাইমে ঝুমুর ক্লাসে গিয়ে শ্রাবণকে দেখতে পেলো না। ঝুমুরের কৌতুহল বেড়ে গেছে শ্রাবণের সেই পরীকে দেখার জন্য। তাই শ্রাবণের কাছে এটা জানার জন্য ক্লাস শেষে শ্রাবণের বন্ধুদের কাছে গিয়ে জানতে চাইলো, শ্রাবণ আসে নি?
রাব্বি বললো, কেন ওকে আবার কি দরকার। তুমি তো এটাই চেয়েছিলে শ্রাবণ যেন আর ক্যাম্পাসে না আসতে পারে। ওকে মেরে অসুস্থ করে দিয়ে এখন আবার জানতে চাইছো! সত্যি আচ্ছা মানুষ তোমরা! কি চেয়েছিলো ও তোমার থেকে! শুধু একটু ভালো ব্যবহার আর বন্ধুত্ব আশা করেছিলো। এই চল এদের মতো অহংকারিদের সাথে কথা বলার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই।
শ্রাবণের বন্ধুরা সবাই রাগ করে ওখান থেকে চলে গেল।
,
বাসায় এসে ঝুমুর আরও অস্থির হয়ে ওঠে। সারাক্ষণ শ্রাবণের ওই ভাবনা গুলো মাথায় এসে জট পাকছে। এক মুহুর্তের জন্য শ্রাবণের ব্যপারটা মাথা থেকে সরাতে পারছে না।
এভাবে কয়েকদিন যাওয়ার পর কৌতুহলের বশে ঝুমুর আবার শ্রাবণের ডায়েরিটা খুলে বসে। ডায়েরির সর্বশেষ যেখানটায় পড়েছিলো ওই পৃষ্ঠাটা আবারও বের করলো। ঝুমুর পড়তে শুরু করে, “আমি রানী নাম জানতে পারলাম। তার সাথে বন্ধুত্বও করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হলো না। আমার রানীর নাম ঝুমুর। জানতে পারলাম সে তার সৌন্দর্যের অহংকারে এতটাই মত্ত যে এসব বন্ধুত্বের সম্পর্ক তার কাছে মূল্যহীন। ”
নিজের নামটা এখানে লেখা দেখে ঝুমুর যতটা খুশি হয়েছিলো এবার ঠিক একইভাবে পরের লাইনটা পড়ার সাথেই হাসি মুখটা আবারও বন্ধ হয়ে গেল।
,
অস্থিরতা আরও বেড়ে যাওয়ায় ঝুমুর তারাতারি পরের পৃষ্ঠা ওল্টালো। সেখানেও কিছু লেখা রয়েছে। ঝুমুর পড়তে শুরু করলো।
” তার সাথে বন্ধুত্ব করার বাসনা আমার মনেই রয়ে গেল। তাকে দেখার জন্য পিছনে পিছনে হেটে যেতে লাগলাম। পথে আমি আরও একবার তার মায়ায় পরে গেলাম। গোলাপ গাছের সাথে তার রেখে যাওয়া গোলাপি ওড়নাটা উদ্ধার করে নিজের কাছে রেখে দিলাম। তাকে গোলাপ দেওয়ার সাহস আমার নেই তাই গাছের একটা গোলাপ নিয়ে গোলাপের পাঁপড়ি গুলো এই ডায়েরির ভাজেই রেখে দিচ্ছি ”
পরীকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে আমার মন রঙিন হয়ে উঠল। তার মায়াজালে আটকে গেলাম আমি। আমিও দূর থেকে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে তাকে দেখছি। সব কিছু কেমন রঙিন মনে হতে লাগলো। শপথ নিলাম এই পরীকে আমার নিজের করবো । কোনো এক রঙিন বর্ষায় দুইজন একসাথে বৃষ্টিতে ভিজবো। ”
,
ঝুমুর এবার ডায়েরিটা বন্ধ করে ফেললো। নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে সে এবার ভাবতে থাকে। তার জীবনটা হবে খুব রঙিন। ভালোবাসাই তো জীবনকে রঙিন করে তোলে। তার বৃষ্টি খুব প্রিয়। বৃষ্টি হলে কিছু সময় খুব বিষন্ন লাগে। মন কেমন যেন করে ওঠে আবার কিছু সময় খুব ভালো লাগে। বিষন্নতায় খারাপ লাগার সময়ে হয়তো খুব কাছের মানুষের থেকে শুনতে ইচ্ছে করে ভালোবাসি শব্দটি। হঠাৎ ঝুমুরের ভেতর থেকে ঠেলে কান্না বেরিয়ে এলো। সারারাত আর ভালো ভাবে ঘুম হলো না ঝুমুরের। বার বার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো।
,
সকাল হতেই রেডি হয়ে ক্যাম্পাসে চলে যায় ঝুমুর। ঝুমুরের চোখ আজ শুধু শ্রাবণকে খুঁজছে। ভেবে নিলো আজও যদি শ্রাবণ ক্যাম্পাসে না আসে ওর বাড়িতে চলে যাবে ওকে দেখতে। ক্লাস শুরু হতে এখনো আধা ঘন্টা দেড়ি। স্যার আজ লেট করে আসবেন। সবাই মাঠে ও বারান্দায় এবং আরও বিভিন্ন জায়গায় বসে এই সময়টায় আড্ডা দিচ্ছে। হঠাৎ ঝুমুর রাস্তার দিকে তাকাতেই দেখলো শ্রাবণ হেটে আসছে। শ্রাবণকে দেখে ঝুমুর বারান্দা থেকে একটা দৌড় দিয়ে ওদিকে ছুটে যাচ্ছে। প্রিয়াসহ ঝুমুরের বন্ধুরা অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে আছে।
,
দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে ঝুমুর শ্রাবণের সামনে এসে দাঁড়ালো। শ্রাবণ ঝুমুরকে দেখে অনেক অবাক হয়। ঝুমুর হাফাতে হাফাতে বলছে, তোমার সাথে আমার কথা আছে,
শ্রাবণ ঝুমুরকে পাশ কাটিয়ে আবারো হাটতে শুরু করে। ঝুমুর আবারও দৌঁড়ে শ্রাবণের সামনে এসে দাঁড়ায়। শ্রাবণ আবার ওকে ইগনোর করে চলে আসছিল তখন ঝুমুর আবারও ওর সামনে এসে দাঁড়ালো।
ঝুমুর কান্না করে দিয়ে বলছে, তুমি এখন আমায় কষ্ট দেবে তাই না! শোধ নেবে আমার ওপর! তোমার ওপর অনেক অন্যায় করেছি আমি। তাই এখন অনেক কষ্ট দেবে তাই না! শ্রাবণ তুমি কি আমায় ভালোবাসো? আমি জানি তুমি আমায় ভালোবাসো।
,
শ্রাবণ অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। মাঠ বসে রাব্বি, তুষার, প্রিয়ম আর বারান্দা থেকে ঝুমুরের বন্ধুরা সবাই এই দৃশ্য দেখছে। শ্রাবণ কিছু না বলে আবার পাশ কাটিয়ে চলে আসছিলো। তখনই ঝুমুর শ্রাবণের হাত ধরে ফেললো। ঝুমুর ফুপিয়ে কান্না করা শুরু করে দিয়েছে। চোখ দুটো টলটলে হয়ে চোখের পানি গুলো গাল বেয়ে পরছে।
ঝুমুর বললো, শ্রাবণ বলো তুমি আমায় ভালোবাসো! কি হলো শ্রাবণ বলো!!
,
ঝুমুর এবার আরো একটু কাছে এগিয়ে এলো। আর কিছু বুঝে ওঠার আগেই সরাসরি শ্রাবণের কাধে দুইহাত রেখে শ্রাবণের ঠোঁটে চুমু দিতে শুরু করলো।
ঝুমুরের বন্ধুরা এবং শ্রাবণের বন্ধু রাব্বি, তুষার প্রিয়ম ও ক্যাম্পাসের আরও বাকি সব স্টুডেন্টরা যে যেখানে ছিলো ওখান থেকেই এই দৃশ্য দেখে সবার চোখ গুলো বড় বড় হয়ে যাচ্ছে। রাস্তার মধ্যে এভাবে ওপেনলি লিপ কিস।
ঝুমুর শ্রাবণের ঠোঁটে চুমু দিয়েই যাচ্ছে। ছাড়ার কোনো লক্ষনই নেই। উল্টে শ্রাবণকে আরও ভালো ভাবে দুই হাত দিয়ে জাপটে ধরলো। চারশো চল্লিশ ভোল্টের শকড খেয়ে রাব্বি আর তুষার হা হয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। প্রিয়া বড় একটা হা করে ঝুমুর আর শ্রাবণকে দেখছে।
,
চলবে….