লালগোলাপ❤ Part-41-42

0
2009

লালগোলাপ❤
Part-41-42
Writer-Moon Hossain

রাজ এক মনে আল্লাহর এবাদত করে যাচ্ছে। সে ভরসা হারায়নি। স্ত্রী অভিমান করেছে। স্বামী হিসেবে ভালোবেসে সে অভিমান ভাঙিয়ে যাবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।
এছাড়া আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়ত সে দোয়া করে যাচ্ছে। যেন শীতল তাকে মাফ করে আবার তার জীবনে নূরের ঝলকানি নিয়ে আসে। রাজ দোয়া কবুলের সব ওয়াক্ত ও স্থানে দোয়া করতেই থাকে। তার ক্লান্তি নেই।
দোয়া কবুল হওয়ার জন্য সহীহ হাদিসে অনেকগুলো স্থান ও সময় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিচে এমন কিছু স্থান ও সময়ের কথা উল্লেখ করা হলো-

(১) লাইলাতুল কদর রজনীতে। (সুনান আত-তিরমিযী /৩৫১৩)
(২) প্রতি রাতের শেষ প্রহরে। (সহীহ বুখারী: ১১৪৫)
(৩) ফরজ সালাতের শেষে। (তিরমিজি হাদিস নং 3499) উল্লেখ্য সালাতের শেষে দ্বারা উদ্দেশ্য হল সালাতের শেষ অংশে সালাম ফেরানোর আগ মুহূর্তে। (যাদুল মাআদ ১/৩০৫, শাইখ মোহাম্মদ আল হামদ রচিত কিতাবুদ দোয়া/৫৪)

(৪) আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়। (আবু দাউদ হাদিস নং 521, তিরমিজি হাদিস নং 202, সহীহুল জামে’ 2408)

(৫) সালাতের জন্য আজানের সময় আর জেহাদের জন্য মুজাহিদদের কাতারবন্দী হওয়ার সময়। (সহীহুল জামিঃ 3079)

(৬) বৃষ্টি বর্ষণের সময়। (সহীহুল জামিঃ 3078)

(৭) রাতের একটি নির্দিষ্ট সময়। (সহিঃ মুসলিম 757)
(৮) শুক্রবার খুতবার শুরু থেকে সালাতের শেষ পর্যন্ত মতান্তরে আসরের সালাত পর্যন্ত সময়ের মাঝখানে যে কোন এক সময়। (সহি বুখারি হাদিস নং 935, সহিঃ মুসলিম হাদিস নং 852)

(৯) জমজমের পানি পান করার সময়। (সহীহুল জামে’ 5502 নং হাদিস)

(১০) সালাতের সাজদার সময়। (সহিঃ মুসলিম 482)

(১১) মোরগের ডাক এর সময়। (সহি বুখারি হাদিস নং 2304, সহিঃ মুসলিম হাদিস নং 2729)

(১২) ইউনুস আলাইহিস সালামের মাছের পেটে পঠিত দোয়া বলার পর দোয়া করলে সে দোয়া অবশ্যই কবুল হয়।
অর্থাৎ লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন-এটা বলে দোয়া করলে সে দোয়া অবশ্যই কবুল হয়। (সহীহুল জামিঃ 3383)

(১৩) বিপদাপদের সময় ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন আল্লাহুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি ওয়াখলুফ লী খাইরাম মিনহা- এই দোয়া বলে তারপর দোয়া করলে সে দোয়া অবশ্যই কবুল হয়। (সহিঃ মুসলিম হাদিস নং 918)

(১৪) কোন ব্যক্তির রূহ কবজ এর সময় দোয়া কবুল হয়। (সহিঃ মুসলিম হাদিস নং 2732)

(১৫) অসুস্থতার সময় দোয়া কবুল হয়। (সহিঃ মুসলিম 919)
(১৬) মাজলুম অবস্থায় দোয়া। (সহি বুখারি হাদিস নং 469 সহীহ মুসলিম হাদীস নং 19)

(১৭) সন্তানের জন্য পিতা মাতার দোয়া। (সহীহুল জামে 2032, তিরমিজি হাদিস নং 1905)

(১৮) পিতামাতার জন্য সৎ সন্তানের দোয়া। (সহিঃ মুসলিম হাদিস নং 1631)

(১৯) মধ্যাহ্নের পর সূর্য যখন পশ্চিমাকাশে ঢলে যায় সেই সময়ের দোয়া কবুল হয়। (মেশকাত ১/৩৩৭)

(২০) ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর নিম্নোক্ত দোয়াটি বলার পর যদি দোয়া করা হয়েছে দোয়া অবশ্যই কবুল করা হবে। (সহীহুল বুখারী/ 1154)

ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর দোয়া টি হল-

لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، الحَمْدُ لِلَّهِ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ،
এরপর যদি বলে-
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي،
আল্লাহুম্মাগফিরলী অর্থ হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিন। অথবা অন্য কোন দোয়া করে তার দোয়া কবুল করা হবে। আর যদি সে অজু করে সালাত আদায় করে তাহলে তার সালাত কবুল করা হবে।
সেই কখন থেকে দাড়িয়ে আছে শীতলরা। কোন টেক্সি, অটো, সিএনজি, রিকশার নাম গন্ধ নেই।
সকাল সাতটা থেকে এই এক সমস্যা ময়মনসিংহে। অফিস টাইমে কিছুটি পাওয়া যাবেনা।
-শিশির জোরে হাট!
-উফফ, হাঁটছি তো।
এর থেকে জোরে হবেনা।
আমরা স্পিডবোট না।
তাদের সামনে হঠাৎ একটা কালো গাড়ি এসে দাঁড়ালো।
ঝকঝকে কাচ খুলতেই রাজকে দেখা গেলো।
– আসসালামু আলাইকুম ইয়াং লেডিস।
-ওয়ালাইকুম আসসালাম স্যার।
শীতল কিছু বললো না।
শিশির জানালার কাছে গেলো।
– সালামের উওর দেওয়া মুসলিম হিসেবে কর্তব্য। অনেকের এতো অহংকার যে কথা বলতে হবে বিধায় সালামের জবাব টুকুও দেয়না।। হাশরে এর জবাব দিতে হবে।
শিশির শীতলকে ধাক্কা দিলো কনুই দিয়ে।
-কি হচ্ছে টা কি?
-কি?
-সালামের উওর দে।
-ওয়ালাইকুম আসসালাম!
-কিছু মনে করবেন না স্যার।
ও একটু অন্যমনস্ক। এমনিতে মনটা খুব ভালো। নরম।
রাজ কিছু না বলে কাচ উঠালো।
ড্রাইভার দরজা খুলে দিলো।
রাজ বের হলো কোর্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে।
সানগ্লাস খুলে রাজ বলল- অন্যমনস্ক কিনা সেটা আমরা না হয় বুঝব। আল্লাহ কি বুঝবে। সালামের উওর দিতেই হবে।
-মাইক নিয়ে নিশ্চয়ই গলা ফাটিয়ে সালামের উওর দিতে হবেনা। মনে মনেও দেওয়া যায়।।
শিশির নরম স্বরে বলল- হচ্ছে টা কি? উনি বস।
-সো ওয়াট? সবকিছু উনার ইচ্ছে মতো চলবে?
রাজ বলল- বাই দ্যা ওয়ে।
আমি অফিসে যাচ্ছি। আপনারও অফিসে যাচ্ছেন নিশ্চয়ই?
-ইয়েস স্যার। বাট গাড়ি পাচ্ছি না।
-নো প্রবলেম।
আমার সাথে চলুন।
যদি প্রবলেম না হয়।
আফটার অল মানুষ মানুষকে সাহায্য করবে।
শিশির কিছু বলবে, অমনি শীতল বলল- নো থ্যাংকস। ইউ গো। আপনি আসতে পারেন।
শিশির রেগে গলার স্বর নিচু করে বলল- চাকরি কি হারাতে হবে নাকি?
না খেয়ে মরার ইচ্ছে তোর?
স্যারের সাথে এমন ব্যবহার না করলেই নয়।
রাজ হাত দিয়ে শীতলদের টা টা দিয়ে মুচকি হেসে ড্রাইভারের পাশে গিয়ে বসলো।
শীতল গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে।
একি শিশির গিয়ে রাজের গাড়ির পেছনের ছিটে উঠে বসেছে।
গাড়ি স্টার্ট দেওয়া হচ্ছে বার বার।
শীতল বাধ্য হয়ে রাজের গাড়িতে বসলো।
রাজ বলল- সিট বেল্ট বাধুন।
শীতল তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো রাজের উপর।। রাজ পাল্টা জবাবে হাসলো।
শীতল নিজের ডেস্কে কাহ করছে। শিশির অন্যপাশের ডেস্কে আছে।
রাজের একটাই কাজ শীতলকে দেখা। সে সেটাই করছে।
মুখোশের বাহির থেকে সে শীতলের চেহেরাটা কল্পনা করে নিচ্ছে। শীতল টা এতো চালাক রাজের জানা ছিলো না।
প্রত্যেক জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। ওয়াশরুমের দরজার সামনেও আছে। শীতল সেখানে গিয় হাত মোজা খুলে হাত ধুয়ে নেয় তবুও নেকাব খুলে মুখ ধোয়না। রাজ বারবার ফুটেজ দেখে, কোথাও এক সেকেন্ডের জন্য শীতল যদি নেকাব খুলে থাকে। শীতল সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে মাঝে মধ্যে হাত নাড়িয়ে রাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এতে রাজ আরও রেগে যায়। শীতল সবকিছু জেনে বুঝে করছে। রাগে রাজ ফায়ার হয়ে যায়।
আহা! কতদিন ধরে বেচারে রাজ তার শ্রেয়সী কে দেখেনা। এতো চালাক কেন মেয়েটা।
– ম্যাডাম আসসালামু আলাইকুম!
-ওয়ালাইকুম আসসালাম।
– স্যার আপনাকে স্বরণ করেছে।
-আসছি।
শীতল কমপ্লিট হওয়া ফাইল নিয়ে রাজের কেবিনে গেলো।
দরজা নক করলো।
-ইয়েস কামিন।
রাজ ইজিচেয়ারে পেছন থেকে সামনে ঘুরলো।
সানগ্লাসটা খুলে বলল- তারপর কেমন আছেন?
রাজের প্রশ্ন সম্পূর্ণ আগ্রাহ করে শীতল বলল- ফাইল রেডি। আপনাকে দেখাচ্ছি। দেখে সাইন করে দিন। আমরা ডিল টা একসেপ্ট করব।
রাজ অন্য দিকে তাকিয়ে বলল -সিট ডাউন।
শীতল বসে রাজকে বসের মতো ভেবে সবকিছু বুঝিয়ে দিলো। এর আগে ম্যানেজার সাহেব ফাইল দেখে বলেছেন – চমৎকার। মাশাআল্লাহ! ফাইলটা খুব সুন্দর ভাবে গুছিয়ে রেডি করেছেন, কোম্পানির লাভ লোকসান সব ক্লিয়ার বোঝা যাচ্ছে।
রাজ বেজার মুখে রোমান্টিক কথার বদলে ডিলের রসকষহীন কথা শুনছে, এজন্য সে শীতলকে চাকুরী দিয়েছিলো! কোম্পানির লাভ লোকসান দিয়ে সে কি করবে, কি হবে এতো লাভ দিয়ে।
ওয়াইফ থেকেও নেই, সে কারণে বেবিও নেই। রাজের মতো আর লক্ষ্য লক্ষ্য রাজ কাজ না করেই বসে বসে খেয়ে খেয়ে আল্লাহর ইবাদত করে, দান ক্ষয়রাত করে জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারবে। আল্লাহর রহমতে যা আছে তাই অনেক! রাজ হাই তুলছে বার বার।
– নিন স্যার সাইন করে নিন।
কিসের কি রাজ ঘুমুচ্ছো। নাক ঢেকে। যেন অফিসে সে ঘুমুতে আসে।
শীতল হতভম্ব।
শীতল দুপুরে লাঞ্চ করতে ক্যানটিনে গেলো।
রাজের ড্রাইভার এসে বলল – আসসালামু আলাইকুম ম্যাডাম। স্যার আপনাকে উনার কেবিনে ডেকেছে।
আপনার সাথে দুপুরে খানা খাবেন।
-আসুন, আসুন।
খাবার সার্ভ করুন।
একসাথে খাব।
-আমি একজন অফিস স্টাফ।
এগুলো পার্সোনাল কাজ।
আপনার ওয়াইফ কে বলুন সার্ভ করে দিতে।
রাজ হাসলো।
শীতল ওয়াইফের কথাটা তুলে অস্বস্তিতে পড়লো।
-এই পেপারের শর্ত গুলো দেখুন। দেখে কথা বলুন।
শীতল এগ্রিমেন্ট পেপারটায় চোখ বুলিয়ে চোখ বড় বড় করলো।
পেপারে বিস্তারিত সব শর্ত আছে চাকুরীর। যতদিন সে রাজেী চাকরি করবে ততদিন সব জায়গায় রাজের হুকুম চলবে। তার কথা শুনে চলতে হবে।
– এটা কোন এগ্রিমেন্ট পেপার হতে পারেনা অফিসের।
অফিস স্টাফ নয়, আমাকে চাকরানী বানানোর পেপার এটা।
– এসব বলে লাভ নেই। সাইন করার আগে দেখোনি।
হাই ফাই চাকরি পেয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে সবকিছু না দেখে সাইন করার মজা বুঝ এবার৷
– অনেক বড় শিক্ষা হয়েছে। আমার মধ্যে লোভ কাজ করছিলো।কিছু না দেখে সাইন করে ফেলেছি।
-তবে ঠেলা সামলাও এবার।
চুপচাপ সার্ভ করো।
আমাকে খাওয়াও, নিজেও খাও। কাছে এসো?
– পাগল কোথাকার!
– তোমার প্রেমে পাগল।
শীতল মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
-তাকাও এদিকে?
-কি খুব রাগ হচ্ছে?
খুব রাগ?
আমাকে আদর করতে ইচ্ছে করছে বুঝি?
-চুপ করুন। পাগল লোক!
-আমাকে একটু আদর করে দেখুন সব রাগ চলে যাবে। পাগলের বউ নিন আমাকে খাইয়ে দিন।

অফিস কেবিনের সোফায় রাজ বসে বসে শীতলকে দেখছে। শীতল খাবার সার্ভ করছে। এখন তো মুখ খুলতেই হবে।
রাজের মাথায় কেউ যেন হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দিলো।
শীতল স্কার্ফের নিচ দিয়ে নেকাব না খুলেই খাওয়ার কাজ সারছে।
রাজের প্ল্যান বৃথা যেতে দেবেনা মহান আল্লাহ তায়ালা।
রাজ একটানে স্কার্ফ খুলে ফেললো পুরো।
পিন গুলো নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
শীতল আকস্মিক কিছু বুঝলো বা।
যতক্ষণ বুঝতে পারলো ততক্ষণে রাজ শীতলের পাশে গা ঘেঁষে বসে আষ্টেপৃষ্টে জরিয়ে গালে গাল ঘষছে।
রাজের বড্ড সাহস বেড়েছে।
শীতলের ইচ্ছে করছে গলা টিপে ধরতে রাজের।
– তোমাকে দেখলেই ছুঁতে ইচ্ছে করে।
ছোঁয়া হলেই আদর করতে ইচ্ছে করে।
কি করব বলো? অন্য কিছু খাব না।
আজ দুপুরে লাঞ্চ হবে স্পেশাল। তোমাকে খাব শ্রেয়সী!
রাজি থাক বা না থাক।
আকস্মিক ভাবে রাজ অবাক হলো। শীতল তার চিরল চিরল দাঁত বসিয়ে দিলো রাজে গলায়৷
-আমিও খাব। স্পেশাল লাঞ্চ। আপনার ঘাড়ের গোশত।
এভাবে দূরে যাচ্ছেন কেন?
ক্ষুধার্ত মানুষের ক্ষুধা মিটাবেন না? খুব তো সোওয়াবের কথা বলুন।
– আল্লাহ তায়ালা এটা কি বউ না রাক্ষসী! আমাকে বাচাও!
– আপনার আল্লাহ কে ডাকুন।
লাভ নেই। আপনাকে আমার হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবেনা।
আজ খাব আপনাকে! কাছে আসুন।
চুপচাপ বুসুন।
রাজ সত্যি সত্যি ভেবেছে শীতল তাকে কামড় দিয়ে দিয়ে খেয়ে ফেলবে খানিকটা।
শীতলকে জ্বীন ধরলো নাকি। হতে পারে! শীতলের মতো সুস্থ সবল মানুষ তো স্বামী খাওয়ার কথা বলবে না। হুজুর কে খবর দিতে হবে অফিসে।
ভাবা যায়!

– এই স্যার কি সিঙ্গেল?
-কেন?
-বল না রে।
-দেখ শিশির। প্রচুর কাজ আছে। মাথা খাবি না।
তুই নিজে করছিস না ভালো কথা। আল্লাহ তোর হেদায়েত দিক। আমাকে করতে দে।
যা সরে যা সামনে থেকে।
-পারলে সরিয়ে দেখা।
আমার কথা না বলা পর্যন্ত যাচ্ছিনা। তোকে কাজ করতেও দেব না।
-“হে আল্লাহ তায়ালা। বাচাও এর পাগলামির হাত থেকে।
হ্যাঁ সিঙ্গেল।
-ওয়াও গ্রেট। আল্লাহ তায়ালা তোমার কোটি কোটি ধন্যবাদ।
– কি হলো? বুঝলাম না।
-না মানে একবার ট্রাই করা যেত।
শীতল চোখ গরম করে শিশিরের দিকে তাকালো।
-কিসের ট্রাই? স্যার কি গাড়ি? না না কোন ব্যবহারের বস্তু?
-তোর ব্যপার কি রে? সবকিছুর নেগেটিভ বের করিস কেন?
আমি একজন ধার্মিক মেয়ে, স্যার একজন ধার্মিক ছেলে। আমাদের সম্পর্ক হতে পারেনা? ইসলামে ছেলে মেয়ে পছন্দ করে বিয়ে করা জায়েজ।
-জায়েজ বুঝলাম৷ এখানে সম্পর্ক এলো কখন? বিয়ে এলো কখন?
-আসেনি, আসবে।
ঠিক করেছি স্যারকে আমি প্রপোজ করব।
– কি করবি?
-প্রপোজ।
-কিসের?
-বিয়ের। স্যার কে আমি বিয়ে করব ঠিক করেছি।এমন ধার্মিক সুপুরুষ কে জীবন সঙ্গী হিসেবে পাওয়া মানে সৌভাগ্য। আমি সৌভাগ্য হারাতে চাইনা।
আমার কোন গার্ডিয়ান নেই তুই ছাড়া।
-তোর মাথা নষ্ট। এই শিশির তুই ঠিক আছিস?
-আমি ঠিক। শোন, আসল কথা। আমার গার্ডিয়ান তো তুই৷ সো!
-সো?
-সো, তুই গার্ডিয়ানের কাজ কর। আমাদের মিলিয়ে দে।
আমার হয়ে একটু কথা বল।
-কিসব যাতা বলছিস?
– দয়া কর, দয়া কর। তুই ছাড়া আমার কেউ নেই। আমার গার্ডিয়ান তুই।
আমিও ধার্মিক। স্যার নিশ্চয়ই আমাকে পছন্দ করবে।
-শিশির!
-শোন, এখন না হয় বিয়ের কথা ফাইনাল করলি, আকদ করে রাখব। এরপর সময় সুযোগ বুঝে বিয়েটা করে ফেলব। তোকে সবার আগে কার্ড দেব। তবুও তুই রাজি হো।
স্যারের বাসার ঠিকানা জোগাড় করেছি। মিষ্টি কিনে নিয়ে যাবি। প্রথমবার জামাই বাড়ি যাওয়া বলে কথা।
শীতল আহত চোখে চনচলা শিশিরের দিকে তাকালো।
.
ফোনের রিংটোন বাজছে।
শীতল শাওয়ার নিচ্ছে।
শিশির ল্যাপটপ অফ করে বলল- শীতল তোর ফোন বাজছে।
শীতল কোন রকম শাড়ি পেচিয়ে এসে ফোন রিসিভ করলো।
-আসসালামু আলাইকুম।
বলছি!
-ওয়ালাইকুম আসসালাম।
রওশন এরশাদের পিএ বলছেন?
– জ্বি না।
– কি বলছেন? আমাকে এই নাম্বার দেওয়া হলো যে, ।
– রং নাম্বার।
-এটা কি সুতিয়াখালি?
-কেওয়াটখালি।
-আপনি মিথ্যা বলছেন। আপনি রওশন এরশাদের পি এ।
– আমি উনাকে চিনিনা। আমি মিথ্যা বলিনা।
কাকে চাচ্ছেন দয়া করে স্পষ্ট ভাবে বলুন। কিছু বুঝতে বা চিনতে পাচ্ছিনা আমি।
– মাই গড। ময়মনসিংহের মেয়ে হয়ে আরেক ময়মনসিংহের মেয়েকে চিনতে পাচ্ছেন না?
ময়মনসিংহ নামের কলংক।
শীতল ফোন কেটে দিলো।
দিনটাই তার খারাপ যাচ্ছে।
আবার ফোন বাজছে।
-আসসালামু আলাইকুম! এটা কি সত্যি রওশন এরশাদের পিএয়ের নাম্বা নয়।
-ওয়ালাইকুম আসসালাম। জ্বি না।
-মিসেস শীতলের ফোন নাম্বার নিশ্চয়ই এটা।
মিসেস শীতলকে দেওয়া যাবে?
-আপনি কি পাগল?
-জ্বি হ্যাঁ।
-চেহেরা খুব সুন্দর। নাটকে নাম লেখাতে পারেন।
-জ্বি চেষ্টা চলছে।
কেমন আছেন?
– ভালো হচ্ছে না কিন্তু।
-খেয়েছেন?
-আমি কিন্তু..
– কখন ঘুমুবেন? স্বামী ছাড়া বুঝি ঘুম আসছেনা?
শীতল বিরক্ত হয়ে ফোন রেখে দিলো।
ফোন বাজছে। রিসিভ না করা পর্যন্ত ফোন বেজেই যাবে।।
-কি সমস্যা?
-কথা হবে সারা রাত।। তোমার সাথে কথা বলব।
-মগের মুল্লুক? আমি ঘুমব।।
-ঘুমাও।
তুমি ঘুমাও, আমি তোমার কানেকানে ফোনের মাধ্যমে সূরা বলছি। দেখবে স্বামী সোহাগে কত ভালো ঘুমু হয় তোমার।
-দরকার নেই। নিজের চরকায় তেল দিন।
রাখলাম।
-নো, নো। পেপারের কথা মনে করো।
আমার কথা শুনতে বাধ্য তুমি।
সারা রাত ফোনে কথা হবে।
আমি ফোনে সংসার চালাব।লোকে তো প্রেম করে।
– আপনি একটা উন্মাদ। আপনাকে ছেড়ে রাখা ভুল হয়েছে। আপনার জায়গায় পাগলা গারদে।
-একদম ঠিক। তোমার মনের পাগলা গারদে আমি চির বন্দি।
একবার বলো না ভালোবাসি।
-কখনো না। পাগল লোক।
-ঠিক আছে আমি হোস্টেলে আসছি।
-একদম না।
রাজ ফোন বন্ধ করেছে। শীতল তাকে ফোনে পাচ্ছে না।
রাজের মতো পাগল নির্ঘাত গার্লস হোস্টেল হানা দেবে এতো রাতে৷
.
❤মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি নামের তিনটি নাম (আরবি,বাংলা)
৭৭. ﺍﻟْﻤُﺘَﻌَﺎﻟِﻲ আল-মুতা’আলী সর্বোচ্চ মহিমান্বিত, সুউচ্চ
৭৮. ﺍﻟْﺒَﺮُّ আল-বার্র কল্যাণকারী
৭৯. ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺏُ আত-তাওয়াব বিনম্র, সর্বদা আবর্তিতমান ❤
.
চলবে……………
.
.
.
#লালগোলাপ❤
Writer-Moon Hossain
Part-42
” হে মহান আল্লাহ তায়ালা।
“হে পরম দয়ালু, রক্ষা করো।
শীতল আর শিশিরকে বের করে দেওয়া হয়েছে হোস্টেল থেকে।
– রাত বলে কেউ একটু দয়াও করেনি।
দেখবি কালকের মধ্যেই ভূমিকম্পে হোস্টেল ভেঙে পড়েছে এমন খবর ছাপা হবে খবরের কাগজে।
নাশতা খেতে খেতে গরম গরম খবর পড়ব মজা হবে।
-শিশির চুপ কর।
এসব বলেনা।
পরের ক্ষতি চাইলে নিজের ক্ষতি হয়।
ভাবতে দে।
-ভাব, ভাব। তাড়াতাড়ি ভাব।
-তুই চুপ করলে তো ভাবব।
-মাফ কর। নে ভাবা শুরু কর।
রাজ গাড়ি নিয়ে আড়ালে দাড়িয়ে আছে।
রাজের জন্য ওদের বের করে দিয়েছে। রাজ গার্লস হোস্টেলে গিয়ে শীতলের নাম বলে চেচামেচি করেছে।
এতোরাতে কারও সাথে দেখা করতে বাঁধা দিয়েছে দারোয়ান। ভদ্রভাবে বলেছেন – রাতে মেয়েদের ডিস্টার্ব করা ঠিক না।সকালে আসুন।
-আমার বউয়ের সাথে এখুনি দেখা করব। তুমি কে হ্যাঁ? স্বামী-স্ত্রীর মিলন আটকানোর। তুমি জানো আমি কে?
-স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প হলেও ঢুকতে দেব না। সকালে আসবেন। আউট।
রাজ রাতে ঔষধ খাওয়ার পর হালকা ডোজের ঘুমের ঔষধ খায়। মাথার আরামের জন্য।
ঘুমের ঘোরে কি সব যে দারোয়ান কে বলেছে।দারোয়ানের সাথে হাতাহাতিও হয়েছে তার।
দারোয়ান শেষে হোস্টেলের আপা কে জানিয়েছেন।
আপা রুমে এসো বলল- শীতল, শিশির?
শীতল বলল- কোন সমস্যা আপা?
শিশির বলল- আপনার একা থাকতে ভয় করছে?. নো প্রবলেম। শীতলের সাথে ঘুমুতে আসুন।
জায়গা আছে। আমি আমার বিছানা কারও সাথে শেয়ার করিনা। মাফ করবেন।
আপা বিরস মুখে বলল- গেট আউট ফর্ম হেয়ার।
-জ্বি আপা!
– এখুনি যা আছে তা নিয়ে বের হও তোমরা।
একটা কথা বলার সুযোগও দিলো না আপা।
সোজা ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার মতো বের করে রাস্তায় নামিয়ে দিলো।

শীতল বলল- সব হয়ে ঐ লোকটার জন্য।
পাগল কোথাকার।
-সাবধানে কথা বলবি।
তোর হবু দুলাভাই।
-হবু দুলাভাই কে?
শিশির লজ্জা পেয়ে বলল- নাম নিতে পারবো না। বস।
-তোর বস একটা পাগল। তুইও একটা পাগল।
হঠাৎ কালো রংয়ের একটা গাড়ি এসে তাদের সামনে দাড়ালো।
শীতলদের কিডন্যাপ করে নেওয়া হলো।
গাড়ি থেকে নেমে বিশাল একটা বাংলো দেখতে পেলো তারা।
শীতলের সপ্নের মতো বাংলা।
শিশির আহলাদে আটখানা হলো।
শীতলের ফোনে ম্যাসেজ আসলো।
” বাংলো পছন্দ হয়েছে? একটা সিম্পল গিফট।
আজ থেকে এখানে থাকবে।
সবকিছু সাজানো গোছানো আছে। অফিস থেকে কাছে হবে।
যদি বাংলো থেকে যাওয়ার কথা মাথায় এনেছে তবে তোমাকে আমি…….।ভয় পেয়ো না। কিছু করবনা। আদর করব।।
খাবার রেডি আছে। সকালে কাজের লোক আসবে।
খেয়েদেয়ে ঘুমাও। সকালে অফিসে মেলা কাজ। রাজ কাজে ফাঁকি পছন্দ করেনা। বেতন দিয়ে স্টাফ রেখেছি ফাঁকি দেওয়ায় জন্য না।
রাজেট টাকা এতো সস্তা না।
শুভরাত্রি।
-এই এটা কিসের চিরকুট?
-কিছুনা। যা খেতে বস।
রাজ টা আসলেই একটা বদ্ধ উন্মাদ উন্মুক্ত পাগল!
.
শীতল অফিসে গিয়ে দেখলো রাজের কেবিনের দরজায় বিশাল লাইন।
সবার হাতে ফাইল।
শীতল বলল- কি হয়েছে এখানে? ভয় করছে। কোনো সমস্যা?
একজন বলল- দেখুন না ম্যডাম একটু পর মিটিং।
ফাইল গুলোতে স্যারের সাইন লাগবে।
অযথচ স্যার ঘুমুচ্ছেন।
এই দেখুন দারোয়ানও গার্ড দিচ্ছে। স্যার বলেছেন কেউ যেন তাকে ডিস্টার্ব না করি।
এটা কি কোন কথা হলো?
বোর্ড মিটিং!
শীতল সবার হাত থেকে ফাইল নিয়ে বলল- আপনারা মিটিংয়ের জন্য তৈরি হন। আমি স্যারকে দেখছি।
অনেক চাপাচাপিতে দারোয়ান ভেতরে ঢুকতে দিলো শীতলকে।
রাজ টেবিলে নেই। চেয়ার খালি। কোথায় গেলো।
শীতলের চোখ পড়লো সোফায়।
রাজ জুতো নিয়ে সোফায় গা এলিয়ে শুয়ে আছে। গায়ে লাল টুকটুকে একটা কম্বল জড়ানো।
ফুল স্পীডে এসি অন করা। শীতলের মনে হচ্ছে এটা সুইজারল্যান্ড।
সবার ঘুম কেড়ে নিয়ে ঘুমুনো।
রাতের ঘটনা শীতল ভুলে যায়নি।
কম্বলটা একটানে রাজের কাছ থেকে নিয়ে নিলো।
রাজ কাঁপতে কাঁপতে চোখ খুলে বলল- গুড মর্নিং শ্রেয়সী।
হাড় কাঁপানো শীত। আচ্ছা এটা কি সুইজারল্যান্ড?
– জ্বি না।
নাটক বন্ধ করুন। এখুনি তৈরি হন। মিটিংয়ে যেতে হবে।
রাজ ঘুমের ঘোরে শীতলের হাত ধরে নিজের কাছে নিয়ে বলল- শীতে মরে গেলাম। আমার কম্বল কোথায়?
-ছাড়ুন আমাকে।
রাজ শীতলকে শক্ত করে সোফায় জরিয়ে ধরে শুয়ে পড়লো।
– ছাড়ুন। আমাকে ছাড়ুন। পাগল লোক। এটা অফিস। হাতে অনেক কাজ।
-আপাতত এই কেবিনে কেউ নেই। আমার অনুমতি ছাড়া কেউ ঢুকবেনা এখানে।
কাল রাতে আমারও ঘুম হয়নি। তোমারও হয়নি।
কি হবে এতো কাজ করে? বড় জোর আরেকটু বেশি টাকা হবে। তাতে কি!
সারাদিন এতো কাজ ভালো লাগেনা।
তারচেয়ে এসো কম্বল গায়ে দুজন মিলে ঘুমিয়ে পড়ি।
শীতল রাজের সাথে না পেড়ে সাপের মতো ফণা তুলেছে।
রাজের গলা চেপে ধরেছে।
রাজ জিহ্বা বার করে মরার মতো একটা ভাব করলো।
-মরে যাব তবুও তোমাকে ছাড়বো না। আমরা এখন ঘুমুব। গুড নাইট।
রাজ কম্বল নিয়ে সোজা সোফায় শীতলকে বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।
-অফিসের নিরীহ মেয়েদের সাথে এই ব্যবহার?
আপনাকে দেখে নেব।
– আচ্ছা দেখ।
শার্ট কি খুলব? দেখবে যখন ভালো করে দেখ।
– চুপ করুন পাগল।
আমি চিৎকার করব। লোক জড়ো করব৷ খবর আছে আপনার।
-ওকে। চিৎকার করো।
কটার খবরে আমাকে দেখাবে বলো? আগে থেকে ফিটফাট থাকতে হবে তো।আমি যা হ্যান্ডসাম। তোমার তাকানো দেখে বুঝি।
– মজা করছেন আমার সাথে?
-নো, আই এম সিরিয়াস।
-আমি সত্যি সত্যি চিৎকার করব।
-তোমার কাজ সহজ করে দিচ্ছি। আমি তোমার জায়গায় চিৎকার দিচ্ছি।
কে আছো? বাচাও আমাকে! অফিসের শীতল নামের স্টাফ আমার সর্বনাশ করে ফেললো। আমার ঘুমের সুযোগ নিয়েছে, আমার মতো নিরীহ ছেলের সাড়ে সর্বনাশ করলো। আমি মুখ কিভাবে দেখাব? আমি শেষ…..।শীতল রাজের মুখ চেপে ধরলো।
-চুপ করুন। মান সম্মান শেষ করে দিলেন।
পাগল লোক কোথাকার!
রাজ শীতলের গলায় মুখ গুজে বলল- একদম চুপ। আর কোন কথা নয়।
সুযোগ পেয়েছি।
কতদিন এতো কাছে তোমাকে পাইনি। স্পর্শ করিনি। তোমার
গায়ের সুগন্ধি নিইনি।
তোমার মুখশ্রী দেখিনি।
আজ দেখতে দাও, স্পর্শ করতে দাও, আদর করতে দাও।
-চুপ করুন। পাগল লোক কি বলছেন? এটা অফিস।
– আজ আমি বলব, তুমি শুনবে। আজ আমি দেখব, তুমি চোখ বন্ধ করে থাকবে। আজ আমি স্পর্শ করব, তুমি শুধু শিহরিত হবে।
অফিস দেখেই সুযোগ পেলাম। ঠেলা সামলাও এবার। আজ তোমাকে হাতেনাতে পেয়েছি।
-হে মহান আল্লাহ তায়ালা। এটা কোন জায়গায় কার কাছে পৌছালাম।
আমাকে রক্ষা করো।
রাজ হাসলো।
শীতলকে আরও শক্ত করে জরিয়ে ধরলো। শীতলের ঠোঁট গুলো অসম্ভব কাঁপছে রাজের ঠোঁটের মতো।
রাজ শীতলের ঠোঁটে আঙুল দিয়ে শীতলের চোখে তার তৃষ্ণার্থ চোখ রাখলো।
এখন কটা বাজে শীতলের খেয়াল নেই।
সে কম্বল গায়ে সোফায় একা শুয়ে আছে।
পরনে বোরখা, হিজাব নেই।
কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলো তার খেয়াল নেই। আজ দারুণ ঘুমিয়েছে সে।
রাজ তৈরি হয়ে দুই হাত পেকেটে দিয়ে দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।
-গুড মর্নিং। ঘুম ভেঙেছে?
কি খাবেন চা বা কফি?
ক্ষিদে পেয়েছে নিশ্চয়ই।
শীতল অবাক হয়ে তাকালো রাজের দিকে।
তার এতো দুঃখ কেন?
এসব তার সাথেই হয় কেন?
– আমার সাথে কি হয়েছে?
কিভাবে আমি ঘুমালাম?
আমার বোরখা, হিজাব, মোজা কোথায়?
-ধুর, এসব বলতে নেই।
তোমার লজ্জা লাগবে।
রাজ ইশারা দিয়ে টেবিলের উপর বোরখা দেখালো।
– আমি কেইস করব! মামলা ঠুকব।
-কাঁচকলা।
আমার ভয়ে থানা কাপে। পাগল কে সবাই ভয় পায়।
তাছাড়া তোমার কাছে কি প্রমাণ আছে?
কিছু করতে পারবেনা তুমি আমার।
বরং সুযোগ সময়ে আমি তোমার সুযোগ নেব।
রেডি থেকো।
-গরীব নিরীহ মেয়ে বলে তার কোন সম্মান নেই? কথার কোন দাম নেই। প্রমাণ আমি নিজেই।
– আমার নানে যত মামলা করার করো।
ক্ষিদে লেগেছে।
তোমারও নিশ্চয়ই লেগেছে।
আমাকে খাওয়াও, তারপর নিজে খাও।
এরপর বাসায় গিয়ে গোসল করো। তোমার গায়ে বিকট দুর্গন্ধ।
আমাকে খাইয়ে, এসব বোরখা টোরখা নিয়ে বিধেয় হও। আমার কাজ আছে।
কাজে ফাঁকি একদম পছন্দ না।
রাজের ব্যবহারে শীতল স্তব্ধ।
-একে চুরি তার উপর শিনাজুড়ি।
-চুরি না। ডাকাতি। ডাকাতি করেছি একটা বলতে পারও।
ফর গড সে আমি বিজি। তুমি বিধেয় হও। গেট আউট ফর্ম হেয়ার৷
শীতল করুন স্বরে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে দিলো রাজের রুঢ ব্যবহারে।
বাংলোটা বেশ গোছালো। সামনেই একটা ঘাট বাঁধানো পকুর আছে। পুকুরে পদ্মফুল আছে। পুরো বাংলোটা সবুজ গাছগাছালি দিয়ে ভরা।
চারদিকে নির্মল বাতাস। ছাদে দাড়িয়ে অনেক দূর দুরান্তের দৃশ্য দেখা যায়।
কি যে শান্তি!
কিন্তু শীতলের মনটা খারাপ হলো। সে রাজের বাড়ি থাকবে না। চলে যাবে।
রাজ ফাইলে সাইন করতে করতে বলল- কিছু বলবে?
-আপনার বাংলোতে আমি থাকব না।
-আমার বাংলো?
তোমার কোন কিছু না?
যা কিছু আছে সবকিছুর অর্ধেক মালিকানা তোমার।
বরং তারচেয়ে বেশি। তুমি চাইলে সব জায়গা থেকে ঘাড় ধরে আমাকে বের করে দিতে পারও। বাবা এমন উইল করেছেন।
-এসব আমার বাবার নয়। আপনার বাবার।
-আমার বাবা কি তোমার বাবা নয়?
শীতল মাথা নিচু করে রইলো।
রাজ বলল- তুমি একটা ধার্মিক মেয়ে। সবকিছু জানো। স্বামী হয়ে এটা আমার কর্তব্য তোমার ভরণপোষণে দায়িত্ব নেওয়া। তুমি অভিমান করেছো তাই বলে কি স্বামীর দায়িত্ব পালন করব না। চাকুরী করার ইচ্ছে হয়েছে তা করছো বাট আমার তো একটা দায়িত্ব আছে নাকি?
প্রশ্নঃ রাসূলুল্লাহ(সা.) এর স্ত্রী বা তার মেয়েদের কি কোন উপার্জন ছিল? মানে তারা কি কোন উপার্জন করত?
.
উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আমার জানা মতে তাদের নিজস্ব কোন উপার্জন ছিল না। তবে মনে রাখতে হবে স্ত্রী ধনী হোক গরীব হোক তার ভরন-পোষনের দায়িত্ব স্বামীর। বিদায় হজ্জের ভাষনে
রাসূলুল্লাহ [ ﷺ ] বলেছেন,
ﻭَﺍﺳْﺘَﺤْﻠَﻠْﺖُﻡْ ﻓُﺮُﻭﺟَﻬُﻦَّ ﺑِﻜَﻠِﻤَﺔِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻟَﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻦَّ ﺃَﻥْ ﻻَ
ﻳُﻮﻃِﺌْﻦَ ﻓُﺮُﺷَﻜُﻢْ ﺃَﺣَﺪًﺍ ﺗَﻜْﺮَﻫُﻮﻧَﻪُ . ﻓَﺈِﻥْ ﻓَﻌَﻠْﻦَ ﺫَﻟِﻚَ
ﻓَﺎﺿْﺮِﺑُﻮﻫُﻦَّ ﺿَﺮْﺑًﺎ ﻏَﻴْﺮَ ﻣُﺒَﺮِّﺡٍ ﻭَﻟَﻬُﻦَّ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺭِﺯْﻗُﻬُﻦَّ
ﻭَﻛِﺴْﻮَﺗُﻬُﻦَّ ﺑِﺎﻟْﻤَﻌْﺮُﻭﻑِ
“আর তোমরা তাদের লজ্জাস্থানকে হালাল করেছো আল্লাহর কালিমা দ্বারা…তাদের
খাবার-দাবার ও পোশাকের দায়িত্ব তোমাদের ওপর”।
[মুসলিমঃ হা/৩০০৯; আবূ দাঊদঃ হা/১৯০৭]
আলেমদের এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষন করেছেন যে, স্ত্রীর ভরন-পোষনের দায়িত্ব স্বামীর।
আলমাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল
কুয়েতিয়্যাহ, ৪১/৩৫।
সুতরাং মহিলাদের উপার্জন না থাকাটা লজ্জার নয়, অপমানের নয়। মহিলাদের দায়িত্ব হলো ঘর সামলানো আর পুরুষের দায়িত্ব হলো পরিবারের আর্থিক দিকটি
সামলানো। এর বাইরে গেলে পৃথীবির স্বাভাবিক ভারসম্য নষ্ট হয়।আমরা দেখছি ইউরোপ-আমেরিকাতে মহিলারা বাইরে
কাজ করে এমন পর্যায় গিয়েছে যে,
অনেকেই পরিবার গঠন করতে,সন্তান নিতে রাজী নয়। ফলসরূপ জনসংখ্যা কমে যাচ্ছে। স্বাভাবিক ভারসম্য নষ্ট হচ্ছে আর সেখানে
পুরুষরা মহিলাদের কোন দায়িত্ব নিতেও রাজী নয়। আমাদের দেশের অনেক মহিলা বিদেশে গিয়ে রান্নাবান্না ও ঘর গোছানের কাজ করে। যখন তারা বিদেশে গিয়ে
এটা করে তখন সবাই সেটাকে বিশেষ কাজ মনে করে আর ঐ একই কাজ যখন নিজের বাড়িতে করে তখন সেটাকে তারা কাজ মনে করে না। এটার কারণ আমাদের মাথা
পঁচে গিয়েছে। সুস্থ চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। উপার্জনের নামে মহিলাদের
বাইরে বের হওয়ার অবাধ সুযোগ
দিয়ে জাতিকে দিন দিন ধ্বংসের
দিকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে
মনে হয়।
তাই প্রত্যেক্যের দায়িত্বের প্রতি লক্ষ্য রেখে নিজ নিজ মর্যাদা নিয়ে থাকতে হবে। আল্লাহ
আমাদের তাওফীক দিন
উত্তর প্রদানেঃ
ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
(রহিমাহুল্লাহ)
পি-এইচ. ডি. (রিয়াদ),Ki ni bu cm
রাজ ফাইলে সাইন করতে করতে বলল- তোমার স্যালারি থেকে ভাড়া কেটে নেওয়া হবে। টেনশন করোনা। আমি তোমাকে দয়া করছি এটা ভাবার কারণ নেই।

অফিস ইতিমধ্যে সবাই শীতলকে নিয়ে কানাঘুষা করছে।
একটা মেয়ে স্টাফ শীতলের মুখ কোন ভাবে দেখেছিলো।
ব্যাস সে সবাইকে বলেছে।
সবাই বলেছে, নতুন জয়েন করা মেয়ে দুটো মাশাআল্লাহ। তারমধ্যে শীতল নামের মেয়েটা নাকি হুর। যেমন রুপ তেমন গুন, তেমনি অহংকার।
কাজ ছাড়া কারও সাথে কথা বলেনা। গল্প করেনা। কোন ছেলে স্টাফদের সাথে কথা একদম বলেনা।
অফিসের সবচেয়ে ইয়াও হ্যান্ডসাম স্টাফ মাহবুবুর রহমান মাহবুব পরিচিত হতে গিয়েছিলো শীতলের সাথে।
শীতল না তাকিয়ে বলল- ছেলে মেয়েদের একান্তে কথা থাকতে পারেনা জরুরি কাজ ছাড়া।
-এটা জরুরি কাজ। উই আর ফ্রেন্ড? আমরা বন্ধু হতে পারি?
-না। ছেলে মেয়েরা কখনো বন্ধু হতে পারেনা। এটা ঠিক না। ছেলে মেয়েদের মাঝখানে থাকে শয়তান।
এটা কাজের জায়গা। কাজ করতে এসেছি।
আসতে পারুন। আর হ্যাঁ নেক্সট টাইম কাজ নিয়ে আসবেন এবং দরজা খোলা রেখে ভেতরে নক করে সালাম জানিয়ে ঢুকবেন।
আল্লাহ হাফেজ।
মাহবুব প্রথমে শীতলের বিরুদ্ধে খুব রাগ করেছিলো।
তার অহংকারে লেগেছে।
কত স্মার্ট মেয়েরা তার সাথে পরিচিত হতে আসে।
আর সে নিজে এসেছিলো শীতলের কাছে।
লিখিত একটা অভিযোগ মাহবুব রাজের কাছে নিয়ে যায় শীতলের বিরুদ্ধে।
রাজ চেয়ারে বসে পেপারটা না দেখেই একটানে ছিঁড়ে কুচিকুচি করে হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলো।
গেট আউট ফর্ম হেয়ার।
মাহবুব কিছুদিন গেলো কেমন অন্যমনস্ক হয়ে আছে।
শীতল তার একটা ভুল ফাইল ঠিক করে দিয়েছিলো অজান্তেই।
এই ফাইলের উপর তার চাকুরী নির্ভর করছিলো।
মাহবুব নতুন স্টাফ শীতলের প্রেমে পড়েছে এমন একটা ভাসা ভাসা খবর অফিসের সবাই জানে। মাহবুব দারুণ স্মার্ট। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে এসেছে। বেশ ভালো ফ্যামিলির।
– আসসালামু আলাইকুম।
স্যার আপনাকে স্বরণ করেছেন।
-ওয়ালাইকুম আসসালাম।
রাজ বলল- বসের আদেশ।
এখানে আমার সামনে কাজ করো।
তুমি বড্ড ফাঁকিবাজ।
কাঁড়ি কাড়ি টাকার বেতন দিয়ে তোমাকে এমনি এমনি পুষছিনা৷
শীতল বিরক্তি নিয়ে রাজের সামনের চেয়ারে বসলো।
রাজ এক পলকও ফেলছে না।
শীতলের দিকে তাকিয়ে আছে তো আছেই।।
হঠাৎ দুটো টিকিট শীতলের সামনে দিলো রাজ।
– কিসের টিকিট?
-মূর্খ নও নিশ্চয়ই। পড়ার যোগ্যতা আছে নিশ্চয়ই।
– কক্সবাজারের টিকিট।
তিন দিনের।
কে কে যাচ্ছে?
– কে কে না। তুমি এবং আমি।
ভেবোনা হানিমুনের টিকিট।
ভালো ভাবে বাসর হলো না আবার হানিমুন।
ওখানে আমাদের বিজনেস নিয়ে কথা হবে চায়না ক্লাইন্টদের নিয়ে।
-কথা বার্তা সাবধানে। মুখে লাগাম দিন।
আমি যাব না। অন্য কাউকে নিয়ে যান।
-তুমি যাবেনা। তোমার ঘাড় যাবে। আহারে! যেই শুনেছো হানিমুন না অমনি যেতে ইচ্ছে করছে না। বুঝি, বুঝি। সব বুঝি। হাসব্যান্ড বলে কথা!

.
❤মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি নামের তিনটি নাম (আরবি, বাংলা)
৮০. ﺍﻟْﻤُﻨْﺘَﻘِﻢُ আল-মুন্তাক্বিম প্রতিফল প্রদানকারী
৮১. ﺍﻟْﻌَﻔُﻮُّ আল-’আফুউ শাস্তি মউকুফকারী, গুনাহ ক্ষমাকারী
৮২. ﺍﻟﺮَّﺀُﻭﻑُ আর-র’ওফ সদয়, সমবেদনা প্রকাশকারী❤
.
.
চলবে…….