লালগোলাপ❤ Part-43

0
1823

লালগোলাপ❤
Part-43
Writer-Moon Hossain

রাজ হাসতে হাসতে ভেঙে পড়েছে। গড়াগড়ি করছে।
শীতল ভেবে পেলো না সে হাসির কি বলেছে।
-পাগলের মতো হাসির কি হলো?
-পাগল তো পাগলের মতোই হাসবে। সেন্স অফ হিউমার।
-কি এমন বললাম?
শুধু বলেছি এই সময় কোথাও যাওয়া ঠিক না। চারদিকে ভাইরাসের ছড়াছড়ি। আমার ভয় করছে। কক্সবাজারে নানা দেশ থেকে পর্যটক আসে।
কার গায়ের উছিলায় ভাইরাস আক্রমণ করবে কে জানে।
– তোমার মৃত্যুতে এতো ভয়?
কিছু মনে করোনা। আমি আরেকটু হাসবো।
– শুনুন মৃত্যুর থেকে ভয়ানক আরকিছু নেই। তো আমরা কি মৃত্যুর মতো ভয়ংকর কিছুর থেকে বাঁচার চেষ্টা করব না? আশ্চর্য!!
– শোন, প্রতিটি প্রাণীর মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে।
মানুষ তকদির নিয়ে পৃথিবীতে আসে। সো কার কখন মৃত্যু হবে সেটা আল্লাহ তায়ালা ঠিক করবে। তারজন্য কাজ কর্ম ফেলে মৃত্যুর ভয়ে ঘরে লুকিয়ে থাকব?
আমাদের মৃত্যু যেভাবে আছে সেভাবে হবে। আমরা আটকাতে পারব না। আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখ। তিনি যদি তোমার জন্য মৃত্যু ঠিক করে রাখেন তো মৃত্যু অবধারিত। আর যদি অনেক বছর বাচিয়ে রাখতে চান তাহলে সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকবে।
তোমাকে একটা ঘটনা বলছি। মন দিয়ে শোন।
এক.
সাহাবীদের সময়ে একবার মহামারি প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সেই প্লেগে আক্রান্ত হয়ে শাহাদাতবরণ করেন অনেক সাহাবী। তার মধ্যে একজন ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী।
.
৬৩৯ খ্রিস্টাব্দ। তখন খলিফা ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। প্লেগ দেখা দিয়েছিলো সিরিয়ায়-প্যালেস্টাইনে। ইতিহাসে যা ‘আম্মাউস প্লেগ’ নামে পরিচিত। উমর (রাঃ) সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন। ‘সারগ’ নামক জায়গায় পৌছার পর সেনাপতি আবু উবাইদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খলিফাকে জানালেন, সিরিয়ায় তো প্লেগ দেখা দিয়েছে।
.
উমর (রাঃ) প্রবীণ সাহাবীদেরকে পরামর্শের জন্য ডাকলেন। এখন কী করবো? সিরিয়ায় যাবো নাকি যাবো না? সাহাবীদের মধ্য থেকে দুটো মত আসলো। একদল বললেন, “আপনি যে উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, সে উদ্দেশ্যে যান”। আরেকদল বললেন, “আপনার না যাওয়া উচিত”।
.
তারপর আনসার এবং মুহাজিরদের ডাকলেন পরামর্শ দেবার জন্য। তারাও মতপার্থক্য করলেন। সবশেষে বয়স্ক কুরাইশদের ডাকলেন। তারা এবার মতানৈক্য করলেন না। সবাই মত দিলেন- “আপনার প্রত্যাবর্তন করা উচিত। আপনার সঙ্গীদের প্লেগের দিকে ঠেলে দিবেন না।”
.
উমর (রাঃ) তাঁদের মত গ্রহণ করলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, মদীনায় ফিরে যাবেন। খলিফাকে মদীনায় ফিরে যেতে দেখে সেনাপতি আবু উবাইদাহ (রাঃ) বললেন, “আপনি কি আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীর থেকে পালানোর জন্য ফিরে যাচ্ছেন?”
.
আবু উবাইদাহর (রাঃ) কথা শুনে উমর (রাঃ) কষ্ট পেলেন। আবু উবাইদাহ (রাঃ) ছিলেন তাঁর এতো পছন্দের যে, আবু উবাইদাহ (রাঃ) এমন কথা বলতে পারেন উমর (রাঃ) সেটা ভাবেননি।
.
উমর (রাঃ) বললেন, “ও আবু উবাইদাহ! যদি তুমি ব্যতীত অন্য কেউ কথাটি বলতো! আর হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর এক তাকদীর থেকে আরেক তাকদীরের দিকে ফিরে যাচ্ছি।”
.
আল্লাহর এক তাকদীর থেকে আরেক তাকদীরের দিকে ফিরে যাওয়ার মানে কী? উমর (রাঃ) সেটা আবু উবাইদাহকে (রাঃ) বুঝিয়ে বলেন, “তুমি বলতো, তোমার কিছু উটকে তুমি এমন কোনো উপত্যকায় নিয়ে গেলে যেখানে দুটো মাঠ আছে। মাঠ দুটোর মধ্যে একটি মাঠ সবুজ শ্যামল, আরেক মাঠ শুষ্ক ও ধূসর। এবার বলো, ব্যাপারটি কি এমন নয় যে, তুমি সবুজ মাঠে উট চরাও তাহলে তা আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ী চরিয়েছো। আর যদি শুষ্ক মাঠে চরাও, তা-ও আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ী চরিয়েছো।”
.
অর্থাৎ, উমর (রাঃ) বলতে চাচ্ছেন, হাতে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভালোটা গ্রহণ করা মানে এই না যে আল্লাহর তাকদীর থেকে পালিয়ে যাওয়া।
.
কিছুক্ষণ পর আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আসলেন। তিনি এতক্ষণ অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি এসে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি হাদীস শুনালেন।
.
“তোমরা যখন কোনো এলাকায় প্লেগের বিস্তারের কথা শুনো, তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি কোনো এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব নেমে আসে, আর তোমরা সেখানে থাকো, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে যেও না।” [সহীহ বুখারীঃ ৫৭২৯]
.
রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদীসটি সমস্যার সমাধান করে দিলো। উমর (রাঃ) হাদীসটি শুনে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন।
.
মদীনায় ফিরে উমর (রাঃ) আবু উবাইদাহকে (রাঃ) চিঠি লিখলেন। “আপনাকে আমার খুব প্রয়োজন। আমার এই চিঠিটি যদি রাতের বেলা আপনার কাছে পৌঁছে, তাহলে সকাল হবার পূর্বেই আপনি রওয়ানা দিবেন। আর চিঠিটি যদি সকাল বেলা পৌঁছে, তাহলে সন্ধ্যা হবার পূর্বের আপনি রওয়ানা দিবেন।”
.
চিঠিটা পড়ে আবু উবাইদাহ (রাঃ) বুঝতে পারলেন। খলিফা চাচ্ছেন তিনি যেন প্লেগে আক্রান্ত না হন। অথচ একই অভিযোগ তো তিনি উমরকে (রাঃ) করেছিলেন।
.
প্রতিউত্তরে আবু উবাইদাহ (রাঃ) লিখেন- “আমিরুল মুমিনিন! আমি তো আপনার প্রয়োজনটা বুঝতে পেরেছি। আমি তো মুসলিম মুজাহিদদের মধ্যে অবস্থান করছি। তাদের মধ্যে যে মুসিবত আপতিত হয়েছে, তা থেকে আমি নিজেকে বাঁচানোর প্রত্যাশী নই। আমি তাদেরকে ছেড়ে যেতে চাইনা, যতোক্ষণ না আল্লাহ আমার ও তাদের মাঝে চূড়ান্ত ফয়সালা করে দেন। আমার চিঠিটি পাওয়ামাত্র আপনার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন এবং আমাকে এখানে অবস্থানের অনুমতি দিন।”
.
চিঠিটি পড়ে উমর (রাঃ) ব্যাকুলভাবে কান্না করেন। তাঁর কান্না দেখে মুসলিমরা জিজ্ঞেস করলো, “আমিরুল মুমিনিন! আবু উবাইদাহ কি ইন্তেকাল করেছেন?” উমর (রাঃ) বললেন, “না, তবে তিনি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে।” [আসহাবে রাসূলের জীবনকথা, আব্দুল মা’বুদ, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৩-৯৪]

.
কিছুদিন পর আবু উবাইদাহ (রাঃ) প্লেগে আক্রান্ত হন। আক্রান্ত হবার অল্পদিনের মধ্যেই শাহাদাতবরণ করেন।
.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “(প্লেগ) মহামারীতে মৃত্যু হওয়া প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শাহাদাত।” [সহীহ বুখারীঃ ২৮৩০]
.
আবু উবাইদাহ (রাঃ) ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী। আশারায়ে মুবাশশারার একজন। রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকালের পর খলিফা নির্বাচনের প্রসঙ্গ উঠলে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু উবাইদাহকে (রাঃ) প্রস্তাব করেন। উমর (রাঃ) ইন্তেকালের আগে কে পরবর্তী খলিফা হবেন এই প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, “যদি আবু উবাইদাহ বেঁচে থাকতেন, তাহলে কোনো কিছু না ভেবে তাঁকেই খলিফা বানাতাম।”
.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্লেগ সম্পর্কে বলেন, “এটা হচ্ছে একটা আজাব। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের উপর ইচ্ছা তাদের উপর তা প্রেরণ করেন। তবে, আল্লাহ মুমিনদের জন্য তা রহমতস্বরূপ করে দিয়েছেন। কোনো ব্যক্তি যদি প্লেগে আক্রান্ত জায়গায় সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধরে অবস্থান করে এবং তার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, আল্লাহ তাকদীরে যা লিখে রেখেছেন তাই হবে, তাহলে সে একজন শহীদের সওয়াব পাবে।” [সহীহ বুখারীঃ ৩৪৭৪]
.
আবু উবাইদাহর (রাঃ) ইন্তেকালের পর সেনাপতি হন রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরেক প্রিয় সাহাবী মু’আজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। সবাই তখন প্লেগের আতঙ্কে ভীত-সন্ত্রস্ত। নতুন সেনাপতি হবার পর মু’আজ (রাঃ) একটা ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বলেনঃ
.
“এই প্লেগ আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো মুসিবত নয় বরং তাঁর রহমত এবং নবীর দু’আ। হে আল্লাহ! এই রহমত আমার ঘরেও পাঠাও এবং আমাকেও এর যথেষ্ট অংশ দান করুন।” [হায়াতুস সাহাবাঃ ২/৫৮২]
.
দু’আ শেষে এসে দেখলেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয়পুত্র আব্দুর রহমান প্লেগাক্রান্ত হয়ে গেছেন। ছেলে বাবাকে সান্ত্বনা দিয়ে কুর’আনের ভাষায় বলেনঃ “আল-হাক্কু মির রাব্বিকা ফালা তাকুনান্না মিনাল মুমতারিন- সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে। সুতরাং, তুমি কখনো সন্দেহ পোষণকারীর অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।” [সূরা বাকারাঃ ২:১৪৭]
.
পুত্রের সান্ত্বনার জবাব পিতাও দেন কুর’আনের ভাষায়ঃ “সাতাজিদুনী ইন শা আল্লাহু মিনাস সাবিরীন- ইন শা আল্লাহ তুমি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবে।” [সূরা আস-সাফফাতঃ ৩৭:১০২]
.
কিছুদিনের মধ্যে তাঁর প্রিয়পত্র প্লেগে আক্রান্ত হয়ে শহীদ হন, তাঁর দুই স্ত্রী শহীদ হন। অবশেষে তাঁর হাতের একটা আঙ্গুলে ফোঁড়া বের হয়। এটা দেখে মু’আজ (রাঃ) প্রচন্দ খুশি হন। আনন্দে বলেন, “দুনিয়ার সকল সম্পদ এর তুলনায় মূল্যহীন।” অল্পদিনের মধ্যে তিনিও প্লেগে আক্রান্ত হয়ে শহীদ হন। [আসহাবে রাসূলের জীবনকথা, ৩/১৫১-১৫২]
.
.
❒ দুই.
.
করোনা ভাইরাস অনেক জায়গায় মহামারি আকার ধারণ করেছে। সারাবিশ্বে এখন আলোচিত টপিক হলো করোনা ভাইরাস। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এর থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজতে ব্যস্ত। বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর, স্টেশনগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কা’বা ঘরের তাওয়াফ সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে (এখন খুলে দেওয়া হয়েছে)। সবমিলিয়ে পুরো বিশ্ব একটা আতঙ্কের মধ্যে আছে।
.
ঠিক এই মুহূর্তে প্রশ্ন উঠছে- করোনা ভাইরাস কি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আজাব?
.
বিগত কয়েক মাসের চীন সরকারের মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব এবং মুসলিমদের উপর নির্যাতনের ফলে অনেকেই মনে করছেন, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব। চীন সরকার উইঘুরের মুসলিমদের যেমনভাবে নির্যাতন করেছে, মুসলিম আইডেন্টিটির জন্য তাদেরকে যেভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, চীন সরকারের এই ‘অ্যাকশন’ এর জন্য একটা ‘রিঅ্যাকশনারি’ অবস্থান থেকে মুসলিমরা কেউ কেউ করোনা ভাইরাসকে আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব বলে অভিহিত করছেন।
.
রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদীস থেকে দেখতে পাই, প্লেগকে তিনি বলেছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব, আবার বলেছেন এটা মুমিনদের জন্য শর্তসাপেক্ষে রহমত। একই মহামারি ভাইরাস কারো জন্য হতে পারে আজাব, আবার কারো জন্য হতে পারে রহমত। তাই বলে, একে ঢালাওভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব কিংবা ঢালাওভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত বলার সুযোগ নেই।
.
মহামারি ভাইরাস যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব হয়ে থাকে, তাহলে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী আল্লাহর আজাবে ইন্তেকাল করেছেন? সাহাবীদের বেলায় আল্লাহ সাধারণভাবে ঘোষণা করেছেন- আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি। তাহলে সুহাইল ইবনে আমর, মু’আজ ইবনে জাবাল, ফদল ইবনে আব্বাস, ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ান, আবু মালিক আশ’আরী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সাহাবীগণ আল্লাহর আজাবে নিপতিত হয়েছেন?
.
উত্তর হচ্ছে- না। রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদীস অনুযায়ী ঐ মহামারিকে তারা রহমত হিশেবে নিয়েছিলেন। মহামারিতে মৃত্যুবরণ করাকে তারা শাহাদাত হিশেবে দেখেছেন। যার ফলে মু’আজ ইননে জাবাল (রাঃ) সেই রহমত পাবার জন্য দু’আ পর্যন্ত করেন।
.
.
❒ তিন.
.
মহামারি থেকে বাঁচার জন্য আমরা আল্লাহর কাছে দু’আ করবো, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী চলবো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্লেগের ব্যাপারে প্রথমে সতর্ক করেন- যেসব জায়গায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, সেসব জায়গায় যাবে না। তারপর বলেছেন, যেখানে আছো সেখানে প্লেগ দেখা দিলে অন্যত্র যাবে না।
.
রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদীস, উমরের (রাঃ) আমল থেকে দেখতে পাই- মহামারির বেলায় প্রতিরক্ষার দিকে সতর্ক হবার শিক্ষা।
.
আবার অন্যন্য সাহাবীরা যখন প্লেগে আক্রান্ত হয়েছেন, তখন ধৈর্যধারণ করে, রহমত মনে করে আল্লাহর ফয়সালাকে মেনে নিয়েছেন। যার প্রতিদানস্বরূপ রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদীস অনুযায়ী তাঁদের মৃত্যু হলো- শাহাদাতবরণ।
.
আমরাও করোনার ব্যাপারে যথাযথ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো, আল্লাহর কাছে দু’আ করবো। তারপরও যদি করোনা-আক্রান্ত হই তাহলে ধৈর্য ধরবো, আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট হবো এবং শাহাদাতের পেয়ালাপানে উন্মুখ থাকবো। ‘ভালো মন্দ যা কিছু ঘটুক, মেনে নেবো এ আমার ঈদ।
.
লেখাঃ আরিফুল ইসলাম (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)
রাজ শীতলের হাত ধরে চুমু দিয়ে বলল- একসাথে বাঁচতে যখন পারব না তখন না হয় আল্লাহর রহমত বা আজাবে একসাথে মৃত্যু বরণ করলাম। কি রাজি তো আমার সাথে মৃত্যু বরণ করতে?
রাজ শীতলকে নিয়ে খুব সাবধানে প্লেনে করে কক্সবাজার পৌঁছালো।
এই প্রথম তারা দুজন এতো দূরে এসেছে।
সমুদ্রের মতো বিশাল তাদের প্রেম।
আল্লাহর অপরুপ সৃষ্টি সুন্দর ধরণী। অপরুপ অপার সৌন্দর্যের একটা হচ্ছে সমুদ্র।
বিশাল সমুদ্রের দিকে এক পানে চেয়ে থাকলো শীতল।
শীতলের ইচ্ছে করছে সমুদ্রের পানিতে পা ডুবিয়ে বসে থাকতে।
কি যে ভালো লাগছে তার সমুদ্রের নির্মল হাওয়াতে।
সমুদ্রের মাঝে আলাদা একটা গন্ধ আছে। সবাই কি সেটা জানে?
শীতল মন ভরে সমুদ্রের ঘ্রাণ নিচ্ছে।
কেউ কানে কানে বলল- কি সমুদ্রে নামবে?
সমুদ্রের পানিতে পা ভেজাতে ইচ্ছে করছে?
রাজ মুচকি মুচকি হাসছে।
রাজ সমুদ্রের পাড়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সাথে খেলায় মেতে উঠেছে। রাজকে শীতলের কাছে মনে হচ্ছে সেই আগের অবুঝ রাজ। যার কোন কিছুতেই সে রাগ করেনা। পরম মমতায় আগলে রেখেছিলো যাকে।

সে যেন শিশুদের মতো শিশু হয়ছে। রাজের কোর্ট শীতলের হাতে।
অনেক ক্ষণ পর রাজ ফিরলো ক্লান্ত হয়ে।
এসেই শীতলে জরিয়ে ধরলো।
শরীরের সব ভর ছেড়ে দিলো শীতলের উপর।
রাজ হাঁপাচ্ছে।
– হোটেলে চলুন। একটু জিরিয়ে নেবেন। শিশুদের মতো শিশু হলেন নাকি?
আজব!
শীতল হোটেলে গিয়ে জানতে পারলো একটা রুম বুকিং হয়েছে।
চোখ বড় বড় করে রাজের দিকে তাকালো সে।
– কি? বড় চোখ গুলো এতো বড় করছো কেন?
– একটা রুম কেন?
-আমাকে টাকার গাছ পেয়েছো? দুটো রুম বুকিংয়ের দরকার কি? এতো অপচয় আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেনা।
তাছাড়া তোমার পেছনে প্রচুর খরচ হচ্ছে। মোটা অংকের বেতন দিতে হচ্ছে। দুটো রুম বুকিং করে ডাবল খরচের দরকার কি? একটা রুমে চালাতে হবে।
আর না। রাজের টাকা এতো সস্তা না। টাকা ইনকাম করতে কতটা বেগ পেতে হয় তা তো জানো ?
– দুটো রুম নিতে বলেছি বলে অমনি আপনার টাকা সর্ট পড়ে গেলো? আগে তো কত খরচ করতেন।
তাহলে এখন এতো কথা বলছেন যে?
-আগের কথা বাদ দাও। এখন থেকে আমি হিসেবি হব।
-আমার বেলাতেই যত হিসেব আছে তা বের হয়।
-ধুর না।
-আচ্ছা অন্য মেয়ে নিয়ে আসলে কি খরচের ভয়ে একটা রুম বুকিং নিতেন?
রাজ হাসলো।
– নিতেন না।
-জানো যখন বলছো কেন?
চলো রেস্ট নেব।
এসো।
-হাত ছাড়ুন। আমি রুম চিনে নিতে পারব। পাগল কোথাকার।
রাজ বেডে উপুড় হয়ে ঘুমুচ্ছে।
শীতল সোফায় শুয়ে আছে।
একসাথে থাকা অসম্ভব।
রাজের সাথে এক বিছানায় থাকা মানেই খাল কেটে কুমির আনা।
ঘুম ভালো হয়েছে। গভীর ঘুমে শীতল।
ঘুমের মধ্যে সে কাউকে আষ্টেপৃষ্টে জরিয়ে ধরেছে বুঝতে পেরেছে। কারও গরম নিশ্বাস তার নিশ্বাসে মিশে রয়েছে। কারও স্পর্শ তার সারা শরীরের সাথে মিশে রয়েছে। ঘুমের মধ্যেই সে শিহরিত হচ্ছে।
ঘুম ভাঙতেই রাজ বলল- গুড মর্নিং ম্যাডাম।
চা না কফি?
শীতল রাজকে জরিয়ে ধরে তার বুকে শুয়ে আছে।
শীতল চটপট উঠে পড়লো।
সন্দেহ ভরা দৃষ্টিতে রাজের দিকে তাকালো।
রাজ অসহায়ের মতো বলল- তুমি ঘুমের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে সোজা বেডে চলে এলে। তারপর আমাকে জরিয়ে ধরলে।
আমার সর্বনাশ করলে।
এখন আমি মুখ দেখাব কিভাবে? সমাজ আমাকে মেনে নেবে কি?
-চুপ করুন। পাগল কোথাকার।
আমি এখানে কিভাবে এলাম?
– বললাম তো।
– আমি ঘুমের মধ্যে হাঁটি?
-হাঁটলে হাঁটতেও পারো।
-একারণেই কক্সবাজারে আমাকে নিয়ে এসেছিলেন? একটা রুম বুক করলেন?
আপনার মতলব আমি বুঝিনা মনে করেছেন।
রাজ হেসে শীতলকে কাছে টেনে বলল- হুশশ, এতো মানে মানে করো কেন সব সময়?
আমি কি অন্য কেউ?
আমি তোমার স্বামী।
দুপুরে নামাজ পড়ে রাজ শীতলকে নিয়ে ক্লাইন্টের সাথে মিট করতে গেলো।
রাজ খুব স্বাভাবিক ভাবেই শীতলকে পরিচয় করিয়ে দিলো ওয়াইফ হিসেবে।
-দিজ ইজ মাই অনলি ওয়াইফ।
-এভাবে সবার সামনে ওয়াইফ বলে পরিচয় না দিলেই নয়।
-সরি, মাই মিস্টেক। হ্যালো এভরিবডি দিজ ইজ মাই গার্লফ্রেন্ড।
-নো।
– রুমমেট?
-নো।
-বেড-পাটনার।
-আই উইল কিল ইউ। আপনাকে মেরে ফেলব।
-আরে আরে করছো কি?
তুমি তো বললে ওয়াইফ হিসেবে পরিচয়ের মানে কি?
তাই তো অন্য ভাবে পরিচয় দিচ্ছি।
তোমার তো কোন কথায় শুনিনা তাই এই কথা শুনলাম।
শীতল রাজের মুখ চেপে ধরলো। দুই হাত দিয়ে ঠোঁটে চাপ দিয়ে বলল- শুধু দুষ্টুমি?
আর একটাও উল্টো পাল্টা কথা বললে ঠোঁট দুটো নখ দিয়ে ছিঁড়ে কুচিকুচি করব।
রাজ হাসলো।
বিকেল থেকে প্রচুর কাজ করতে হলো রাজ আর শীতলের।
শুধু নামাজের টাইমে একটু ব্রেক নিয়ে হোটেলে শীতলকে নিয়ে নামাজ পড়তে গেলো রাজ।
রাতে ডিনারের জন্য রেস্টুরেন্ট দুজন বসে আছে।
আজ প্রচুর ধকল গেলো রাজের।
শীতল বলল- ময়মনসিংহ ছাড়া আমার কিছু ভালো লাগেনা। কোন শহর আমাকে কাছে টানতে পারেনা নিজের শহর ছাড়া। নিজের শহরে থাকার শান্তি আলাদা।
-ঠিক বলেছো।
চলে যাব। আমারও নিজের শহর ছাড়া ভালো লাগেনা কিছু তবে তুমি সাথে থাকলে সবকিছু মানিয়ে নিতে পারি।
এসেছি যখন তখন আমাদের হানিমুন সেরে ফেলি।
কি বলো?
শীতল রাজের গলা চেপে ধররলো।
-একদম মেরে ফেলব।
-অনেক আগেই তো মেরে ফেলেছো আমায়। তবুও প্রস্তুত তোমার হাতে মরতে।
তোমার প্রেমে বার বার মরব।
পরদিন সারাদিন মিটিংয়ে বসে থাকতে হলো শীতলকে। মিটিংয়ে শীতলের কোন কাজ নেই। রাজ একাই সব কাজ করছে। শীতল একটা জিনিস লক্ষ্য করলো। ময়মনসিংহের অফিসে রাজ শুধু ঘুমায়। যাবতীয় কাজ শীতলকে দিয়ে করিয়ে নেয়। আর এখন রাজ সব কাজ করছে শীতলকে বসিয়ে রেখে। এসব রাজের একটা খেলা।
রাজ শীতলকে নিয়ে ডিনার করতে রেস্টুরেন্টে গেলো।
মেনু কার্ড শীতলের হাতে দিলো।
শীতল বলল- আমি কিছু খাব না। ক্ষিদে নেই।
রাজ বলল- আমার ক্ষিদে লেগেছে। আমি খাচ্ছি।
পুরো টেবিল সাজানো হয়েছে।
একটুও ফাঁক নেই টেবিল।
শীতল বড় বড় চোখ আরও বড় করে বলল- এতো খাবার কেন?
মিনিমাম বিশ জনের খাবার।।
– আমার ক্ষিদে লেগেছে।
আমি সব খাব।
তুমি আবার এখন বলোনা তোমার ক্ষিদে লেগেছে। সরি, খাবার শেয়ার করতে পারব না।
– আপনি নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। শেয়ার করতে হবেনা।
শীতল অনেক ক্ষণ যাবৎ পাশের টেবিলের ফুটফুটে শিশুটি কে দেখছে।
বাবা মায়ের মাঝখানে বসে হাসছে দাঁত বের করে।
শিশুটির বাবা মা দুজন অল্প অল্প করে খাবার তার মুখে দিচ্ছে।
সুখী পরিবার।
শীতল বিরবির করে বলল- আজ ছেলেটা বেঁচে থাকলে তাকে কোলে নিয়ে কত খাওয়াতাম। তার হাসি দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যেত। সকল কষ্ট চলে যেত৷
রাজ শীতলের চোখের পানি মুছে দিলো।
একটা টিস্যু নিয়ে নিজের চোখের পানিও মুছলো।
চামিচে গরম স্যুপে ফু দিয়ে শীতলের মুখের সামনে ধরলো সে।
শীতল মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
রাজ শীতলের মুখ হাত দিয়ে সামনে এনে স্যুপ মুখে পুড়ে দিলো।
-আমি খাব না। ক্ষিদে নেই।
-তুমি খাবে। এবং তোমার ক্ষিদেও লেগেছে।
-রুমে যাব। ভালো লাগছে না কিছু।
-যাবে। তার আগে খেতে হবে। তুমি কি খাচ্ছো না খাচ্ছো তা তো জানিনা আজকাল।
এখন সুযোগ পেয়েছি। তোমাকে খাওয়াব। হা করো প্লিজ। হা করো।
শীতলকে বাধ্য হয়ে খেতে হলো রাজের ইচ্ছে মতো।।
শীতল হোটেলে ফিরে ওয়াশরুমে দরজা বন্ধ করে কাঁদছে এসেছে থেকে।
রাজ হাটাহাটি করছে।
শীতলকে কয়েকবার ডাকলো।
তার সারা শব্দ নেই।শুধু গুনগুন করে কাঁদবার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।
অস্বস্তিকর একটা পরিবেশ।। খুব কষ্ট হচ্ছে রাজের৷
সবচেয়ে বেশি কষ্ট শীতলের কষ্ট দেখে হচ্ছে।
রেস্টুরেন্টের শিশুটির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখেছে শীতলকে রাজ।
শীতল এমন ভাবে তাকিয়ে ছিলো যা দেখে রাজের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠেছিলো।
-দরজা খোল? প্লিজ দরজা খোল? এতো কষ্ট সহ্য হচ্ছে না। আমার কাছে এসো? তোমার সব কষ্ট দূর করে দেব। দরজা খোলে কাছে এসো আমার৷
শীতলের কোন সাড়া নেই।
রাজ এবার জোরে জোরে দরজা ধাক্কা দিচ্ছে।
– আমি দরজা ভেঙে ফেলব। ভয়ংকর কান্ড ঘটাবো।
প্লিজ দরজা খোল।
এভাবে দরজা বন্ধ করে তোমার অসহায়ের মতো কান্নাকাটি আমাকে কষ্ট দিচ্ছে।
শীতলের কোন সাড়া নেই দেখে রাজের কলিজা শুকিয়ে গেলো। ভয় হচ্ছে।
রাজ লেট না করে কয়েকটা লাথি দিয়ে দরজা খোলে ফেললো।
শীতল নিচে বসে হাঁটুতে মুখ গুজে এক মনে কাঁদছে।। রাজ যতটা রেগে ছিলো শীতলকে এভাবে দেখে শান্ত হয়ে গেলো।
শীতলকে কিছু না বলে কোলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো।
চোখের পানি মুছ দিলো।
বুকের মধ্যে জরিয়ে রেখে বলল- আমাদের বেবির জন্য কম কষ্ট হচ্ছে আমার? তোমার মতোই কষ্ট হচ্ছে। আমি তো ওর বাবা তাইনা?
মাথায় হাত বুলিয়ে রাজ বলল- আর কেঁদো না।
প্লিজ শান্ত হও।
ও তো ভালো আছে যেখানে আছে।
শীতল কান্না থামালো।। রাজের থেকে একটু সরে গেলো।
রাজ কাছে এসে শীতলের চুল গুলো কানে গুজে দিলো।
ফিসফিস করে বলল- তুমি চাইলে আমাদের আরেকটা সন্তান হতে পারে।
তুমি যদি চাও তাহলে! আমার চাওয়া না এটা। আমি তোমাকে জোর করছিনা কিন্তু।
আবার মা হলেই সব দুঃখ ভুলে যাবে। তোমার কোল জুড়ে আমাদের সন্তান থাকবে। ওকে দেখলেই আমাদের সব কষ্ট দূর হবে। আমরা সুখী ফ্যামিলি হব।
কথা দিচ্ছি তোমাকে এবার থেকে আমি তোমার মনের মতো হব। কখনো তোমাকে আমার জন্য এতোটুকুও দুঃখ পেতে হবে না।
অনেক ভালোবাসব তোমাকে।
শীতল রাজের দিকে চোখ মেলে তাকালো।
রাজ বলল- সব ঠিক করে দেব আমি। আরেকবার সুযোগ দাও? পৃথিবীর সব সুখ তোমার কাছে এনে দেব। বলো কি চাও তুমি?
শীতল শান্ত স্বরে বলল- আমার ছেলে কে এনে দিন?
দিতে পারবেন এনে?
কি হলো কথা বলছেন না কেন? রাজ শোয়া থেকে উঠে বসলো।
– এটা কি বলছো? জন্ম মৃত্যু কি মানুষের হাতে?
তুমি তো সব বুঝো তাইনা?
আগে যা হয়েছে তা তো ফিরিয়ে দিতে পারবনা। তবে আবার তো চেষ্টা করতে পারি আমরা। নতুন একটি প্রাণের অস্তিত্ব আনতে পারি তাইনা?
শীতল বিছানা থেকে উঠে বালিশ নিয়ে ফ্লোরে চলে গেলো। বালিশ রেখে ঠান্ডা মেঝেতে শুয়ে পড়লো রাজকে অবাক করে দিয়ে।
একটু পরেই শীতল কারও স্পর্শ পেলো।
রাজও ফ্লোরে শুয়েছে শীতলের সাথে।
শীতলের পিঠ ভেজা ভেজা লাগছে। রাজ কি কাঁদছে?
একাবার কি ফিরে তাকাবে!
শীতলের অস্বস্তি লাগছে।
শীতল ফিরে তাকাতেই রাজ শীতলকে বুকের মধ্যে শক্ত করে চেপে ধরলো।
অন্ধকার রুমে দুজনের নিশ্বাসের আর হৃদয়ের স্পন্দনের আওয়াজ শুধু শোনা যাচ্ছে।

-আমাদের অফিসের মিটিং কেমন হলো? ডিলটা কি ফাইনাল হয়েছে?
– জ্বি।
-আপনি কি স্যারের সাথে একা গিয়েছিলেন?
শীতল মাহবুবের দিকে তাকালো।
– না। মানে কৌতুহল বশত জিজ্ঞেস করলাম।
বাই দ্যা আপনার বাসার রোড দিয়ে আমি যাতায়াত করি।
চাইলে আমার সাথে আপনারা যেতে পারেন। আমি ড্রপ করে দেব।
শীতল কাজে মনোযোগ দিলো।
অফিস টাইম শেষে কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।
হঠাৎ মাহবুব এলো তার নতুন গাড়ি নিয়ে।
শিশির বলার পর পর উঠে বসে রইলো।
শীতলও বাধ্য হয়ে উঠলো।
সারা রাস্তা মাহবুব নিজের সম্পর্কে অনেক কিছুই বলল- শীতলকেও নানান কিছু জিজ্ঞেস করলো।
এদিকে রাজ পুরো বিষয়টি লক্ষ্য করেছে।
মাহবুবের শীতলদের লিফট দেওয়া।
আজ অনেক দিন ধরেই রাজ লক্ষ্য করছে মাহবুব শীতলের প্রতি একটি দূর্বল। শীতলের পেছনে লেগে থাকে মাহবুব।
শীতল যেখানে মাহবুবও সেখানে।
অফিসে আজ সবার যোগ্যতা অনুযায়ী প্রমোশন পেয়েছে। শিশির পেয়েছে। শীতল প্রমোশন পাবে এটা সবার জানা কথা। সবাই বেশ অবাক হলো যখন শীতল প্রমোশন পেলো না। শীতলের মতো একটিভ গার্ল কেন প্রমোশন পেলো না সে বিষয়ে সবার কৌতুহল। শীতলকে সবাই সান্ত্বনা দিচ্ছে। শীতল মন খারাপ করেনি। সে সবাইকে হাসি মুখে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে প্রমোশনের জন্য। মাহবুবও প্রমোশন পেয়েছে।
সেই উপলক্ষে জোর করে শিশির সহ অনেক কে রেস্টুরেন্টে ডিনারের ইনভাইট করেছে। শীতলকেও করা হলো।
শীতল বার বার না করা সত্বেও শিশির জোর করে নিয়ে গেলো। সবাই বেশ আয়োজন করে খাওয়ায় মেতে আছে।
মাহবুব, শিশির, শীতল আছে এক টেবিলে।
-কিছু খাচ্ছেন না কেন?
শিশির বলল- আমরা নেকাব খুলতে পারব না।
মাহবুব প্রথমে কিছু বুঝতে পারলো না।
তারপর বলল- আপনারা খান। আমি আসছি।
শীতল হালকা কিছু মুখে দিয়ে আর খেলো না।
বেশ রাত হয়ে৷ শীতলের অস্হির লাগছে। রাতে কখনো সে বাহিরে থাকেনা।। মাহবুব তাদের বাংলোতে নামিয়ে দিলো।
শীতল বাংলো তে পা রাখতেই ঝোপের কাছে রাজের গাড়ি দেখতে পেলো।
চাদের আলো তে বেশ বোঝা যাচ্ছে রাজকে।
রাজ রাতে বাসায় ফিরে দুই ঘন্টা যাবৎ শাওয়ার নিলো।
পরদিন সকালে অফিসে মাহবুব সবাইকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছে। রাজ কেবিনে এসে মিষ্টি দেখতে পেলো।
মাহবুব সবাইকে জানিয়েছে সে বিয়ে করবে।
রাজ একটা মিষ্টি মুখে দিতে দিতে বলল- কিসের মিষ্টি?
– বিয়ে করব ঠিক করেছি।
-ওআচ্ছা। পাত্রি ঠিক আছে?
– ইয়েস স্যার। এই অফিসের।
-তাই নাকি?
-আপনি তাকে চেনেন।
-হু ইজ শি?
– হার নেইম ইজ শীতল।
আমাদের নতুন কলিগ।
রাজের গলায় মিষ্টি আঁটকে পড়লো।
অফিস ছুটির পর রাজকে কেউ অফিসে দেখতে পেলো না।
শীতল শিশিরকে বাংলোয় পাঠিয়ে নিজে বাজার করছে।
বাজার করার সময় কারও ছায়া দেখতে পেলো।
কেউ ফলো করছে।
শীতল যেখান থেকে টমেটো কিনছে সেখান থেকে রাজও টমেটো কিনছে।
রাজ বলল- এভাবে বড় বড় চোখ করে তাকানোর কিছু নেই। তোমার যেমন বাজার করে রান্না করে খেতে হয় তেমনি আমার বাজার করে রান্না করে খেতে হয়। আমি তো রোবট না মানুষ। আমাকেও খাওয়া দাওয়া করতে হয়।
কি করব বউ তো থেকেও নেই। থাকলে তো রান্না করে খাওয়াতো।
শীতল কতগুলো টমেটো নিয়ে রাজের মাথায় মারলো।
রাস্তা পার হওয়ার সময় শীতল অপর পাশে রাজকে দেখতে পেলো।
রাজ হাত নাড়িয়ে শীতলকে টা টা দিলো।
হঠাৎ শীতল দেখলো একটা ট্রাক রাজের দিকে আসছে।
শীতল ভয়ে চিৎকার করে উঠলো। হাত থেকে বাজারের ব্যাগ পড়ে গেলো নিচে৷ আতংকে সে দুই হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখলো।
.
❤মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি নামের তিনটি নাম(আরবি,বাংলা)
৮৩. ﻣَﺎﻟِﻚُ ﺍﻟْﻤُﻠْﻚِ মালিকুল মুলক্ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী
৮৪. ﺫُﻭ ﺍﻟْﺠَﻠَﺎﻝِ ﻭَﺍﻟْﺈِﻛْﺮَﺍﻡِ জ়়ুল জালালি ওয়াল ইকরম মর্যাদা ও ঔদার্যের প্রভু
৮৫. ﺍﻟْﻤُﻘْﺴِﻂُ আল-মুক্বসিত় ন্যায়পরায়ণ, প্রতিদানকারী❤
.
চলবে…………