লালগোলাপ❤ Part-44

0
1796

লালগোলাপ❤
Part-44
Writer-Moon Hossain

শীতল কারও স্পর্শ পেলো।
খুব চেনা সেই স্পর্শ। স্পর্শে অন্য ধরনের মাদকতা আছে।
-ভয় পেয়ে ছিলে?
ভেবেছো মারা গিয়েছি?
শীতল রাজের ঠোঁটে আঙুল দিলো।
শীতলের অবস্থা দেখার মতো ছিলো।
রাজকে বুকে সে ঝাপিয়ে পড়লো।
শ্লেষ্মা মাখানো কন্ঠে শীতল শুধু বার বার বলছে – আপনার কোথাও লাগেনি তো? দেখি দেখি কোথায় লেগেছে? কেন আপনি রাস্তার মাঝে দাড়িয়ে ছিলেন? ওখান দিয়ে কত কত লোড ভরা ট্রাক যায় তার ধারণা আছে?
গ্রামে তো একবার কি ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছিলো।
হাড় ভেঙে গিয়েছিলো। এখনো নিশ্চয়ই ব্যথা আছে ।
কি ভয়াবহ একটা ঘটনা ঘটতো আপনার সাথে এখন। কতটা যন্ত্রণা হতো, কষ্ট হতো আপনার। এগুলো আমি ভাবতেই পাচ্ছিনা।।
রাজ হাসলো।
– এটা কি হাসির কথা? এখন কিছু একটা হয়ে গেলে কতটা যন্ত্রণা হতো ভেবেছেন? যদি ভালো মন্দ কিছু হয়ে যেত তখন?
রাজ হেসে বলল- কি আর হতো। মারা যেতাম। ট্রাকের নিচে আলু ভর্তা হয়ে যেত আমার শরীর৷ হ্যাঁ খুব যন্ত্রণা হতো। খুব কষ্ট পেয়ে মৃত্যু বরণ করতাম। তাতে কি? সব মৃত্যু ভয়ংকর হয়।
– এভাবে কথা বলছেন কেন? মৃত্যুকে ভয় লাগেনা আপনার? আলু হবেন মানে কি? কতটা যন্ত্রণা পেতেন। কি সব ভয়ংকর বাজে কথা! আমার কষ্ট হয় আপনার মুখে মৃত্যুর কথা শুনে।
আসলেই আপনি পাগল একটা!
রাজ শীতলের চোখের পানি রুমাল দিয়ে মুছে বলল- আরে একদিন তো মরতে হবেই। আল্লাহ তায়ালা যদি অধীক যন্ত্রণা দিয়ে মৃত্যু লিখে থাকে তাহলে তো যন্ত্রণা পেয়েই মরবো।
– চুপ করুন দয়া করে।
আর এসব কথা বলবেন না? দয়া করে।
-নিজের দিকে তাকিয়ে দেখ কি সিচুয়েশন হয়েছে তোমার।
আমার প্রতি তোমার দরদ আছে এখনো দেখে মনে শান্তি পেলাম। ট্রাক কে শত শত ধন্যবাদ।
শীতল রাজের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।
রাজ বলল- মানুষের জন্ম যখন হয়েছে তখন মৃত্যু হবেই। মৃত্যু সব সময় যন্ত্রণা দায়ক হয়। মৃত্যু মানেই যন্ত্রণা। সকল মৃত্যুতেই আছে যন্ত্রণা। এটাই স্বাভাবিক।
আমাদের মহানবী (সাঃ) এর মৃত্যু খুব যন্ত্রণা দায়ক ছিলো।
মৃত্যু কালীন কষ্ট তিনিও সহ্য করেছিলেন।
আল্লাহ তা’আলা বলেন,মৃত্যু যন্ত্রণা অবশ্যই আসবে।এই মৃত্যুর ব্যাপারে তুমি টালবাহানা করতে'(ক্বাফ১৯)অত্র আয়াত হতে প্রমানিত হয় যে,মানুষ মরন হতে বাচার জন্য যতই চেষ্টা করুক না কেন,মরন তাকে গ্রাস করবেই।
আল্লাহ তা’আলা অন্যত্র আরো বলেন,
যদি আপনি দেখতে পেতেন, যখন যালিমরা মৃত্যু যন্ত্রনায় থাকবে এবং ফিরিশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলবে, ‘তোমাদের প্রাণ বের কর। আজ তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি দেয়া হবে, কারণ তোমারা আল্লাহ্‌র উপর অসত্য বলতে এবং তাঁর আয়াতসমূহ সম্পর্কে অহংকার করতে।’(সূরা আন’আম ৯৩)।অত্র আয়াত দ্বারা প্রমানিত হয় যে,মানুষ মরনের সময় মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর হবে এবং অপরাধীদের আত্মা শাস্তি দিয়ে বের করবে।
আয়েশা (রাঃ)বলেন,আমি রাসূল(সাঃ)এর চেয়ে মৃত্যু যন্ত্রণা কারোও বেশি দেখিনি(বুখারী,মুসলিম, মিশকাত হা/১৫৩৯)।আয়েশা(রাঃ)বলেন,আমার বুক ও চিবুকের মধ্যস্থলে মাথা রেখে রাসূল(সাঃ)ইন্তেকাল করলেন।আমি রাসূল(সাঃ) এর মৃত্যুর পর আর কারও মৃত্যুকষ্ট খারাপ মনে করতাম না(বুখারী, মিশকাত হা/১৪৫৪)।হাদীসের মর্ম-আয়েশা (রাঃ)বলেন,আমি রাসূল(সাঃ)এর মৃত্যুযন্ত্রনা দেখেছি,তারপর আর মৃত্যুযন্ত্রণা খারাপ মনে করি না।কারন সর্বশ্রেষ্ট ব্যক্তি যখন মৃত্যু যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাইনি,তখন কোন মানুষই মৃত্যুকষ্ট হতে রক্ষা পাবে না।তাই কারও মৃত্যু যন্ত্রণা দেখে খারাপ মনে করা ঠিক নয়।
আয়েশা (রাঃ)বলেন,আমি রাসূল(সাঃ)এট মৃত্যু দেখার পর অন্য কারো মৃত্যু যন্ত্রণার সুখ কামনা করতাম না(তিরমিজি হা/৯৭৮)।
আয়েশা(রাঃ)বলেন,রাসূল(সাঃ)-এর মরনের সময় তার সামনে একটি পানির পাত্র ছিল।তিনি সেই পানির পাত্রে হাত ঢুকিয়ে তা দ্বারা মুখ মুছে নিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন(,আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, নিশ্চয়ই মরনে কষ্ট রয়েছে)। তারপর তিনি হাত উঠিয়ে বলতে লাগলেন,(হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা কর,আমার প্রতি দয়া কর এবং আমাকে মহান বন্ধুর সাথে মিলিয়ে দাও।তারপর তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন এবং তার হাত ঢুলে পড়লো।(বুখারী,রিক্বাক,অধ্যায়,মরনের কষ্ট অনু)উল্লেখিত হাদীস সমূহ দ্বারা প্রমানিত হয় যে,মরনের সময় শরীর উত্তপ্ত হয়ে উঠে কঠিন যন্ত্রণার মুখামুখি হতে হয় ।এমন সময় বলা ভাল।আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই। নিশ্চয় মরনে কষ্ট রয়েছে।
শীতল কিছু বললো না। সে জানে সকল মৃত্যু যন্ত্রণার হয়। তাই বলে ট্রাকের নিচে আলু ভর্তা হবে।এসব কি ধরনের কথা! মনে হতেই শীতলের আত্মা কেঁপে উঠেছে। রাজ কেন এসব কথা বলে? মৃত্যু নিয়ে কেন ভয় নেই উনার।
আসলেই উনি পাগল। তার প্রমাণ উনি নিজেই বার বার করেন। পাগল একটা! অফিসে টাইম শেষ হতেই পিয়ন এসে দরজায় নক দিলেন।
-আসসালামু আলাইকুম ম্যাডাম। স্যার আপনাকে স্বরণ করেছেন।
-ওয়ালাইকুম আসসালাম।
শীতল রাজকে ফাইল গুলো বুঝিয়ে দিচ্ছে।
রাজ আহত চোখে শীতলের দিকে তাকিয়ে আছে।
মুখ তো দেখা যাচ্ছে না। নেকাবের দিকেই তাকিয়ে রইলো সে।
– কখনো ভেবেছিলাম রোমান্টিক কথা জায়গায় ফাইলের রসকষহীন কথা তুমি বলবে?
কখনো ভাবিনি আদরের জায়গায় অফিসের কাজ নিয়ে তোমার সাথে আমার মিটিং করতে হবে।
– আমি আপনার স্টাফ। আপনি আমার বস। এটা অফিস। কথাটা ভুলে গেলেন?
-ভুলিনি।
বাট মাঝে মাঝে আপনাকে দেখে আমার বউয়ের কথা মনে পড়ে যায়।
-কেন স্যার? আপনার বউ কি ইন্তেকাল করেছে?
তাই সব মেয়ে দেখলেই বউ বউ লাগে? আই এম ইউর স্টাফ। কথাটা মাথায় ঢুকিয়ে নিন।
রাজ হাসলো।
– আপনি এরকম কাঁটা কাঁটা কথা কোথা থেকে শিখলেন?
বসের সাথে একটু মিষ্টি করে কথা বললে তো প্রমোশন পেয়ে যেতেন।
– দরকার নেই প্রমোশনের।
আপনাদের মতো লোভী সুবিধাজনক বসরা আমাদের মতো নিরীহ মেয়েদের প্রমোশনের লোভ দেখিয়ে তাদের চরম সর্বনাশ করে।
আপনাদের মতো বসদের কিভাবে টাইট দিতে দিতে হয় তা এই শীতল ভালো করেই জানে।
রাজ হেসে বলল- তুমি নিরীহ?
-অবশ্যই নিরীহ।
-তুমি নিরীহ হলে আমি কে?
শীতল চোখ বড় বড় করে তাকালো রাজের দিকে।
রাজ ভয় পেয়েছে এমন একটা ভাব করে বলল- এভাবে তাকাবেন না।
খুব ভয় লাগে। আফটার অল আমি একজন নিরীহ স্বামী।
– আপনি যদি নিরীহ হন তাহলে নিরীহ লোকেরা লজ্জা পাবে।
– কে নিরীহ সেটা মহা আল্লাহ তায়লা জানে। আমি নিরীহ স্বামী না হলে তুমি আমার স্ত্রী হয়ে এভাবে আমাকে ছেড়ে, আমার সংসার ছেড়ে চলে আসতে পারতেনা। দূরে থেকে কষ্ট দিতে না৷ চোখের সামনে থেকেও তোমার মুখ দেখার জন্য এতোটা আকুলতা হতো না আমার।
শীতল মাথানিচু করে চুপ করে আছে। রাজ কথা গুলো বলতে চায়নি। শীতলকে এভাবে কথা গুলো বলা উচিৎ হয়নি। কথা ঘুরিয়ে রাজ বলল- আমার আজ অফিসে কাজ আছে। রাতে অফিসে থাকতে হবে।
আমার মতো পাগলের রাতে একা অফিসে থাকা ঠিক হবে না। তুমি আমার সাথে থাকলে ভালো হতো। অনেক কাজ আছে। তুমি কাছে থাকলে আমি সব কাজ সামলে নিতে পারব।
– সরি। অন্যকাউকে বলুন। অফিসে অনেক স্টাফ আছে।
– আছে। বাট সবাই আমার বউ না। সবার সঙ্গ আমার ভালো লাগবে না।
আমার বউ আমার কাছে বসে থাকলে আমি তার মুখ দেখব আর কাজ করব।
– সো সরি। আমি বাসায় যাব। এতোই বউয়ের সাথে থাকার শখ তাহলে আরেকটা বিয়ে করে বউ বানিয়ে নিন। তারপর বউকে সারাদিন আমার সাথে বেধে রেখে যত খুশি মুখ দেখে দেখে কাজ করুন। ইসলামে তো আছেই একের অধিক বিয়ে করার জায়েজ।
আমাদের মহানবী (সাঃ) এর অনেক গুলো স্ত্রী ছিলো।
শীতলের মুখে আবার বিয়ে করার কথা শুনলে প্রচন্ড রাগ লাগে রাজের। মনে হয় কোটি কোটি তীর কেউ তার বুকে বিধস্ত করেছে।
রাজ শান্ত ভাবে শীতলের দিকে তাকালো।

-দেখি ফাইলটা।
-আরে আরে। কি করছেন কি? পাগল হলেন?
– পাগল তো পাগলের কাজ করবে। তুমি জানো না? ওয়াট এ জোক্স!
-ফাইলটা এভাবে নষ্ট করার মানে কি?
-আমার ইচ্ছে হয়েছে করেছি।
নতুন করে তৈরী করো আবার।।
-পারব না। মগের মুল্লুক!
-তোমার ঘাড় পারবে।
দিস ইজ মাই অর্ডার।
আবার গিয়ে ফাইল ঠিক করো।
– আপনার অর্ডার মানতে আমি বাধ্য নই। আমাকে আপনি কিনে ফেলেছেন? আপনার যখন যা খুশি তাই করবেন?
– অবশ্যই কিনেছি। তুমি আমার বেতন ভুক্ত কর্মচারী। আমি যা বলব তাই করবে।
– নতুন করে ফাইল তৈরি করতে সময় লাগবে।
অফিস টাইম শেষ। কাল করব। বাসায় যাব ।
-আগে কাজ তারপর বাসা।
লেখাপড়ার যেমন বয়স নেই ঠিক তেমনি কাজ করারও সময় বলে কিছু নেই।
সব সময় খালি বাসায় যাব, বাসায় যাব করো। কাজে ফাঁকি দেওয়ার ধান্দা?
রাত বারোটা বাজলেও ফাইল রেডি করে তারপর তোমার ছুটি। যাও গিয়ে কাজ করো। বাসায় যাওয়ার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো। মোটা অংকের স্যালারি দিয়ে তোমাকে পুষেছি বাসায় যাওয়ার জন্য?
-আপনার মতো লোক আমি আমার ইহকালে দেখিনি।
কতটা পাগল আপনি। সব সময় আমাকে ফাঁকি বলা, স্যালারির টাকার খোঁটা দেওয়া।
শিশির একাই চলে গেলো। অফিসের সবাই চলে যাচ্ছে।
মাহবুব শীতলের কেবিনে আলো দেখে নক করলো দরজায়৷
– কখন যাবেন?
– যখন সময় হবে।
– আমি ওয়েট করছি।
-অনেক সময় লাগবে।
-আমি আছি।
-আজ থেকেও যেতে পারি।
অফিসে অনেক কাজ।
আপনি যেতে পারেন।
-বুঝতে পারলাম না৷
-জ্বি!
-এতো লোক থাকতে স্যার কেন আপনাকে রেখে দিলো।
-সেটা আপনাদের স্যার কে জিজ্ঞেস করুন।
-অবশ্যই জিজ্ঞেস করব।
আমি না করলে কে করবে! আপনার সব দায়িত্ব এখন থেকে আমার।
শীতল অবাক হয়ে বলল- জ্বি কিছু বললেন?
– নাতো।
আচ্ছা আমি স্যারের সাথে দেখা করে আসছি।
রাজ মাহবুবের কথা শুনে দাড়িয়ে পড়লো পকেটে হাত দিয়ে।
– স্যার কিছু বলুন?
কোন লেডি কে এতো রাত পর্যন্ত অফিসে রাখা ঠিক নয়।
কাল আমি সব ফাইল ঠিক করে দেব। উনাকে ছুটি দিন।
এমনিতেই সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। আমি উনাকে আমার গাড়িতে ড্রপ করে দেব।
-মোঃ মাহবুবুর রহমান মাহবুব!
-জ্বি স্যার!
রাজ মাহবুবের টাই হাত দিলো। টাই ঠিক করতে করতে বলল- মিঃ মাহবুব লাইফ চলাকালীন আশেপাশে কি হচ্ছে তার দিকে নজর না দেওয়া ভালো। নিজের চরকায় তেল দিলেই ভালো।
সব সময় ভুল জায়গায় এন্ট্রি নিতে নেই।
-আই কান্ট আন্ডারস্ট্যান্ড স্যার।
রাজ মাহবুবের টাই শক্ত করে বেঁধে বলল- ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যান। আমার লেডি স্টাফের সুবিধে অসুবিধে আমি আছি তো দেখার জন্য।
– বাট স্যার মেয়ে মানুষ একা….
-গেট আউট ফর্ম হেয়ার।
মাহবুব শীতলকে বিধায় জানিয়ে চলে গেলো।
শীতল নতুন করে ফাইল তৈরি করছে। পুরো অফিস খালি।
পিয়ন লাইট অফ করে দেওয়াতে সবকিছু অন্ধকারে আছন্ন হয়ে আছে।
কেমন একটা গা ঝমঝম ভাব এসে পড়েছে অফিসের ফ্লোর টা। শীতলের কেবিনে আলো জ্বলছে।।
শীতল কাজ করতে করতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে।
বিকট আওয়াজে শীতলের ঘুম ভাঙে।
শীতল চমকে চারপাশে চোখ বুলালো।
কেউ তো নেই। আওয়াজ কোথা থেকে এলো।
কেমন যেন ধম বন্ধ বন্ধ লাগছে৷ শীতল নেকাব টা খুলে ফেললো।
কেবিনের জানালা খুলে দিলো। বাহির থেকে প্রাকৃতিক বাতাস আসছে। এখন কিছুটা ভালো লাগছে।
শীতলের মনে হলো এক জোড়া চোখ তাকে দেখছে।
এদিক ওদিক তাকালো শীতল।
রাজ ল্যাপটপে শীতলকে দেখছে। শীতলের অগোচরে রাজ ছোট একটা ক্যামেরা কেবিনে বসিয়ে রেখেছে।
শীতল কি করছে না করছে তা সব রাজ দেখতে পায়।
শীতল বাহিরে কারও পায়ের আওয়াজ পেলো।
কেউ হাঁটছে।
চেয়ার থেকে উঠে সে আওয়াজটা কোথা থেকে আসছে সেটার পেছনে গেলো।
সবকিছু অন্ধকার হওয়াতে হরর হরর লাগছে অফিস।
পেছন থেকে কেউ একটা সরে গেলো।
পেছনে তাকাতেই সামনে দিকে কেউ দাড়ালো এমন মনে হলো।
শীতলের একটু ভয় করছে। জ্বীনের উপদ্রব হলো নাকি অফিসে।
পাশের কলিগ বলেছিলো আগে যে অফিসে কাজ করতো সেখানে নাকি জ্বীনের উপদ্রব ছিলো। কি একটা আওয়াজ হলো শীতল চোখ বন্ধ করে এক দৌড়ে চলে যেত লাগলো। কারও সাথে ধাক্কা খেলো শীতল।
ধাক্কা খেয়ে যার স্পর্শ পেয়েছে তাকেই ঝাপটে ধরলো।
– অফিসের বস আজ হ্যান্ডসাম বলে তাকে জরিয়ে ধরতে হবে! অন্ধকারে সুযোগ নিতে হবে! আমার মতো নিরীহ ছেলেকে জরিয়ে এভাবে শক্ত করে কেউ জরিয়ে ধরবে ভাবিনি!
শীতল হাপিয়ে হাপিয়ে বলল- চুপ করুন। আওয়াজ করবেন না। উনারা আছেন।
রাজ ফিসফিস করে বলল- উনারা কারা?
শীতল ফিসফিস করে বলল- নাম নিতে ভয় করছে। তবুও বলছি জ্বীন।
রাজ হাসলো।
-আপনি হাসছেন?
সত্যি বলছি।
-কতটুকু সত্যি তা জানি।
আমি সব বুঝি। অন্ধকারে ডেসিং বসকে জরিয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে সেটাই বলো। খামোখা নিরীহ জ্বীনদের দোষ দিচ্ছোা কেন?
শীতল এতোক্ষণে বুঝলো রাজকে সে জরিয়ে ধরেছে।
শীতল একটু সরে আসতেই রাজ শীতলকে আরও কাছে টেনে নিলো।
-সাপের মতো মোচড় দেবে নাতো। নিজের ইচ্ছেই জরিয়ে ধরেছো, এতো কাছে এসেছো। এখন দূরে যাবে আমার ইচ্ছেতে।
তোমাকে ছাড়ছি না।
– পাগল লোক ছাড়ুন আমাকে। যেতে দিন।
– এটা কি? আরে ওটা কি?
শীতল ভয়ে বলল – কি? কি?
-লম্বা লম্বা কি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে আসছে।
শীতল চিৎকার করে রাজকে আরও শক্ত করে জরিয়ে ধরে চোখ বন্ধ করলো।
আশ্চর্য বিষয় হলো শীতলের এখন ভয় লাগছেনা রাজের বুকে মাথা রেখে। অনেক নিরাপদ আর শান্তি লাগছে।
শীতল রাজের কেবিনে কাজ করছে। একটু আগের কথা মনে হতেই তার লজ্জা লাগছে। অন্ধকারে সে রাজের সাথে কি করলো! যেচে যেচে কিভাবে করতে পারলো।
রাজের সামনে পড়তেই খুব লজ্জা লাগছে। রাজ তো এখন আরও পেয়ে বসবে শীতলকে। কথা শুনাবে।
বলতে বলতে রাজ এসে হাজির। ধুম করে দরজা বন্ধ করে দিলো।
শীতল উঠে দাড়ালো।
-দরজা বন্ধ করলেন কেন?
-দরজার কাজ হলো খোলা থাকা এন্ড বন্ধ থাকা।
বন্ধ করার সময় এসেছে তাই বন্ধ করলাম।
রাজ লাইট অফ করলো।
-লাইট অফ করলেন কেন?
-দরজার মতো লাইটের ক্ষেত্রেও একই প্রথা প্রযোজ্য।
যদিও কেবিনের লাইট অফ তবুও জানালা দিয়ে চাঁদের আলোতে কেবিনটা ফকফকা হয়ে আছে।
রাজ শীতলের কাছে আসতেই শীতল চলে যেতে লাগলো।
রাজ শীতলকে একটানে সোফায় ফেলে দিলো।
শীতল কিছু বুঝে উঠার আগেই রাজ কাছে এসে তার এক হাত দিয়ে শীতলের দুই হাত শক্ত করে ধরলো।
অন্য হাত দিয়ে নেকাব খুলে দিলো।
-আমাকে স্পর্শ করবেন না। খবরদার। আমাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নেই কিন্তু।
আমি কিন্তু কেইস করব আপনার নামে। মামলা করব।
– আমার কাজ হলে ছাড়ছি।
এখন থেকে যেতে পারলে তো মামলা মোকদ্দমা করবে।
রাজ শীতলের গালে চুমু খেয়ে বলল- তখন কি যেন বলেছিলে?
শীতল কাঁদো কাঁদো গলায় বলল- আমি তো সব সময় বলি।
-আবার বিয়ের কথা বলেছিলে। মনে পড়েছে।
আচ্ছা হাদিস কি তুমি জানো একা? আমি জানিনা?
হ্যাঁ আমরা অধিক বিয়ে করতে পারি। এটা জায়েয। তবে পুরোটা তুমি বলোনি।
আল কোরআনে স্পষ্ট বলা আছে, যদি ন্যায়বিচারের আশংকা না থাকে তবে অধিক বিয়ে করতে। সকলকে সম ভাবে দেখতে পারলেই বিয়ে করা জায়েজ। যদি এর আশংকাও থাকে তাহলে আবার বিয়ে প্রযোজ্য নয়৷ আমাদের মহানবী (সাঃ) উনার সকল বিবিগণ কে ভালোবাসতেন। উনার মতো বড় মনের মানুষ পৃথিবীতে ২য় বার জন্মাবে না। আমি তেমাকে ছাড়া অন্য কারো কথা ভাবতেই পারিনা। সেই আমি কিনা আবার বিয়ে করব? আমার তো আশংকা আর আশংকা। ধরো আমি বিয়ে করলাম। দেখা যাবে অন্য বউদের দিকে আমি ফিরেও তাকাবো না। আমি তোমার দিকে তাকিয়ে থাকব। ওদের প্রতি ন্যায়বিচার হবেনা। তখন আমার কি পরিমাণ পাপ জমা হবে সেটার আইডিয়া নিশ্চয়ই আছে তোমার? আমি পাপ করি সেটা চাও তুমি?
শীতল না সূচক মাথা নাড়ালো।
– আর কখনো যদি অর্ধেক হাদিস বা আল কোরআনের কথা বলো তোমার খবর আছে। এখুনি তওবা করে নেবে। আবার বিয়ের কথা যদি তোমার মুখে শুনি তো তোমার মাথার ঘিলু-টিলু বের করে ফ্রাই হিসেবে রেস্টুরেন্টে সাপ্লাই দিয়ে নতুন বিজনেস শুরু করব ।
চাকুরী চাকুরী করে কোরআন তেলওয়াত বাদ দিয়েছো মেবি। কাল থেকে আমি তেলওয়াত শুনতে চাই।
মনে থাকবে কি বললাম এতোক্ষণ?মাথায় ঢুকেছে?
শীতল মাথা হ্যাঁ সূচক নাড়ালো।
-এই তো গুড গার্ল।
এখন এসো সোফা শেয়ার করি ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে তো অফিসেই অফিস আছে। মেলা কাজ। কাজে নো ফাঁকি। গুড নাইট।
রাজ গাড়ি নিয়ে দাড়িয়ে আছে বাংলোর সামনে।
শীতল শিশিরকে নিয়ে রাজের সামনে দিয়ে অটো করে চলে গেলো।
রাজের রাগ চরম পর্যায়ে উঠলো।
প্রতিদিন রাজ গাড়ি নিয়ে আসে বাংলোর সামনে। শীতল একদিনও উঠে না।
ড্যাং ড্যাং করে সে অটো সিএনজি দিয়ে অফিসে যায়।
অফিসে সবাই আজকাল কি নিয়ে যেন কথা বলছে।
শীতলকে দেখেই সবাই চুপ হয়ে যায়।
শীতল অনুমান করছে সে রাজের স্ত্রী এটা কি সবাই জেনে গিয়েছে।
শিশির কে শীতল জিজ্ঞেস করতেই শিশির চুপ করে রইলো।
শীতলের চাপাচাপিতে মাহবুবের ঘটনা সে বলল।
শীতল চেয়ারে বসে পড়লো।
তাহলে এগুলো কথায় হচ্ছে অফিসে! মাহবুব শীতলের পেছনে পড়েছে কোন আশায় সেটাও ক্লিয়ার হলো।
দুপুরে শীতলকে লাঞ্চ করার জন্য ক্যান্টিনে গেলো।
– আপনার পাশে বসতে পারি?
– নো।
– আপনার পাশে দাড়াতে পারি?
-নো।
দেখুন মাহবুব সাহেব আপনার একটা বিষয়ে ক্লিয়ার থাকা দরকার।
– আপনার সব বিষয়ে আমি মনের দিক থেকে ক্লিয়ার।
আপনার কোন স্পটে আমার কিছু যায় আসেনা।
-আমার মনে হয় সরাসরি আপনাকে কিছু কথা বলা দরকার।
– জ্বি। আপনার কথা শোনার জন্য ওয়েটে আছি।
– আমি বিবাহিতা।
-ওয়াট?
– আমি ম্যারিড ইংরেজিতে।
মাহবুব কিছুক্ষণ চুপ থেকে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।
যেন শীতল মজার কিছু বলেছে। শীতলের টেনশন হচ্ছে রাজকে নিয়ে। রাজের কানে এসব গেলে খবর আছে। রাজের যে পাগলাটে স্বভাব তাতে মাহবুবকে ঢ্যাঁড়স ভর্তা বানাবে সিদ্ধ করে।
– ওয়েট ওয়েট ওয়েট। একটু হেঁসে নিই। সুন্দরী ভালো মেয়েরা অলওয়েজ নিজেকে ম্যারিড বলে সব জায়গায় পরিচিতি দিয়ে থাকে।
মিস শীতল ট্রাস্ট মি! আমি তোমাকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি। আজ তোমার বিহেভিয়ার আমি আরও বেশি ভালোবেসে ফেলেছি। অনেকেই আমার উন্নতি দেখে আমাকে বিয়ের প্রপোজাল দেয় আর তুমি কিনা আমাকে রিফিউজ করলে।
আমি মুগ্ধ!
শীতল কিছু বলার আগে রাজকে দেখতে পেলো।
মাহবুবের পেছনে পকেটে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে। খুব শান্ত দেখাচ্ছে। ভেতরে বিশাল টর্নেডো বয়ে যাচ্ছে তা শীতল জানে।
শীতল কেবিনে বসে আছে।
পিয়ন এসে বলল- আসসালামু আলাইকুম ম্যাডাম। স্যার আপনাকে স্বরণ করেছে।
-ওয়ালাইকুম আসসালাম।
শীতল রাজের কেবিনে দোয়া-দরুদ পড়ে নক করলো।
-ইয়েস, কামিং।
রাজ কেবিনে হাটাহাটি করছে পকেটে হাত দিয়ে। চোখে সানগ্লাস পড়ে।
শীতলকে সোফায় বসিয়ে রাখা হয়েছে।
শীতল এই পর্যন্ত ছয় গ্লাস পানি খেলো। ভয়ে বার বার তার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।
রাজ এখন যদি আগের পাগলের মতো শীতলকে কামড়ে দেয় তাতেও শীতল অবাক হবে না।শীতল রাজের দিকে লুকিয়ে তাকাচ্ছে, বোঝার চেষ্টা করছে রাজের মধ্যে পাগলামি ভাব কতটা ফুটেছে। মাহবুব রাজের প্রাণ প্রিয় স্ত্রীকে প্রপোজ দিয়েছে তাও বিয়ের প্রপোজাল দিয়েছে সেটা সে কিভাবে নেবে।এটা দেখার বিষয়! কিভাবে রিয়েক্ট করবে বুদ্ধিমান পাগল রাজ!

.
❤মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি নামের তিনটি নাম (আরবি,বাংলা)
৮৬. ﺍﻟْﺠَﺎﻣِﻊُ আল-জামি’ একত্র আনয়নকারী, ঐক্য সাধনকারী
৮৭. ﺍﻟْﻐَﻨِﻲُّ আল-গ’নিই ঐশ্বর্যবান, স্বতন্ত্র
৮৮. ﺍﻟْﻤُﻐْﻨِﻲ আল-মুগ’নি সমৃদ্ধকারী, উদ্ধারকারী❤
.
চলবে…….