লালগোলাপ❤ Part_17 +18

0
2468

লালগোলাপ❤
Part_17 +18
Writer_Moon Hossain

-ভাবি দরজা খোল?
-বৌমা দরজা খোল?
শীতল আঁচলে মুখ গুজে শুয়ে আছে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ রেখে। রাজের এমন কান্ড সহ্য করার মতো না।
-ভাবি আল্লাহর দোহায় দরজা খোল। ভাইয়ার হাত জ্বলছে তবুও মলম লাগাতে দিচ্ছে না। কোন কথাও বলছেনা। তুমি ছাড়া কারও হাতে মলম লাগাবে না বলেছে। ভাইয়ার উপর রাগ করোনা ভাবি।
শীতল রাজের কথা শুনে দরজা খুলেছে।
“রাজ! আমাদের ডেসিং, হ্যান্ডসাম রাজ। আমার কথা তো শুনবে তো?
চাঁচি বলল-ভাইজান, দেখবেন শাকিলার কথা রাজ বাবা শুনবে। আমার শাকিলা রাজ বাবার সকল দায়িত্ব হাতে নিলে আজ এই দিন দেখতে হতো না। স্বামি কে বলে ভালোবাসেনা। মেয়েটা পাগল বলে স্বামীকে গুরুত্ব দিচ্ছেনা।
শীতলের শশুর বলল- তুমি চুপ করো। এসব কিছু নয়। ছেলেটা ভুল করে ফেলেছে। বৌমার দোষ নেই।
রাফা বলল-ভাবি আসছে।
-আমার সাথে ছোট বেলায় খেলার জন্য তুলকালাম কান্ড ঘটাতে মনে আছে?
তোমার হাতে ঔষধ লাগাতে দিলে তোমাকে খেলায় নেব আমি। রাফা, রাফিয়া, শীতল কাউকে নেব না। শুধু তুমি আর আমি খেলব। ঔষধ লাগিয়ে আমার হাতে খাবে তো, গুড বয়?
-মোটেও না। আমি তোমার সাথে খেলতে চাইতাম না। তুই আমার সাথে খেলতে চাইতিস। খেলায় না নিলে তুই আমার চকলেট চুরি করতিস। রাফা, রাফিয়া, শ্রেয়সী সবাই কে খেলায় নেব শুধু তোকেই নেব না।
আমার বউ আছে, আমি বউয়ের হাতে খাব? তুই কি আমার বউ?
শীতল ততক্ষণে এসে ড্রয়িংরুমে দাঁড়িয়েছে রাজের পাশে।
শাকিলার হাত থেকে মলম নিয়ে রাজের সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো সে।
শাকিলা উঠে দাড়িয়ে সোজা নিজের রুমে চলে এলো।
-হাত টা দেখি?
রাজ অন্যদিকে তাকিয়ে রইলো।
-দেখি হাতটা?
শীতল রাজের হাত শক্ত করে ধরে নিজের কোলে রেখে মলম লাগিয়ে দিচ্ছে।
শীতলের চোখের ফোটা ফোটা পানি রাজের হাতে পড়ছে।
-তুমি কাঁদছো?
-হু।
-আমারও কান্না পাচ্ছে তোমার কান্না দেখে।
এই তুমি কাঁদছো কেন?
আর কেঁদো না প্লিজ।
কথা কেন বলছো না শ্রেয়সী?
-ছোট আপা উনার জন্য প্লেটে রাখা খাবার নিয়ে আসবে?
-জ্বি ভাবি।
শীতল গরম ভাতে ঘি ঢেলে আলু ভাজা মেখে রাজকে খাইয়ে দিচ্ছে।
রাজ খাচ্ছে আর চোখ মুচ্ছে।
-আমার সাথে কথা বলো না কেন শ্রেয়সী? কথা বলো?
আমার ভালো লাগছে না কিছু।
শীতল চুপচাপ খাইয়ে দিচ্ছে রাজকে।
-গলা দিয়ে ভাত নামছেনা আমার। কথা বলো?
খাওয়ানো শেষ হলে রাজের হাত ধরে রাজকে কামরায় নিয়ে এলো।
রাজকে ঔষধ খাইয়ে মাথায় তেল মালিশ করে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার আগে পর্যন্ত শীতল একটা কথাও বলেনি।
-একটু কথা বলো?
প্লিজ কথা বলো?
একটু কথা বললে কি হয়?
শীতল রাজের ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বলল।
রাজের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে রাজ ঘুমিয়ে পড়লো।
রাজের আঙুল গুলো লাল হয়ে রয়েছে গরম তেলে।
হাত গুলোতে কিছুক্ষণ নিজের মুখ রেখে কপালে একটা চুমু দিলো শীতল রাজের। গোলাপ গাছ গুলো বেয়ে বেয়ে বেলকুনিতে উঠে পড়েছে। লাল, সাদা,হলুদ, গোলাপি, রাণী গোলাপি, কালো, অসংখ্য রংয়ের গোলাপে ছেয়ে আছে বেলকুনি সহ পুরো বাড়ি।
সব গুলো গোলাপ গাছ রাজ আর শীতল মিলে লাগিয়েছে।
ওদের ভালোবাসার প্রতীক যেন ছেয়ে আছে চারপাশে।
সব জায়গায় রাজ আর শীতলের বিচরণ।
শীতল বিকেলে বসে আছে বেলকুনির চেয়ারে। খুব গরম পড়েছে। গরমের দিনে বেলকুনিতে বিকেলে বসে থাকতে খুব ভালো লাগে তার। ময়মনসিংহের নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে শীতলদের দুতলা দুটো বাড়ি আছে। একটা তাদের আর অন্যটা ছোট চাচার। এক ম্যালেরিয়ায় চাচার পুরো সংসার মারা যায়। ছোট ছোট দুটো চাচাতো ভাই-বোন ছিলো শীতলদের। তারাও মারা যায়। চাচার তখনো বিয়ে করার মতো বয়স ছিলো কিন্তু বিয়ে না করে মালয়েশিয়া চলে যান। সেখানকার ইউনিভার্সিটিতে প্রফেসর হিসেবে স্যাটেল হয়ে থেকে যান তিনি। চাচা কারও সাথে যোগাযোগ রাখেন না, এমনকি ফোনেও কথা বলেন না শুধু কোমল আর শীতলের সাথে চিঠিপত্র আদান-প্রদান করেন ডিজিটাল যুগেও। কিছুদিন আগেই শীতলের কাছে টেলিগ্রাম এসেছে চাচার। শীতলের রেজাল্ট বের হয়েছিলো অনার্স ১ম বর্ষের, সে ফাস্ট ক্লাস পেয়ে টপ করেছে কলেজে। কেউ জানেনা সেটা। আচ্ছা রাজ কি শীতলের টপ করা খুশির অনুভূতি কি বুঝবে?
চাচা সবসময় শীতলদের পড়াশোনার খোঁজ রাখেন এবং রেজাল্টের পরেই একটা করে চিঠি পাঠান।
এবার একটা পার্সেলও এসেছে, শীতলের বিয়ের উপহার হিসেবে নীলার একটা অতি আকর্ষণীয় নেকলেস পাঠিয়েছেন। কিছু ডলারও পাঠিয়েন সাথে। পরিক্ষার রেজাল্ট দিলেই চাচা কচকচে কিছু ডলার পাঠান সাথে কয়েক লাইনের চিরকুট।
শীতল চিরকুট টা খুলতেই রাজ ঘুম ঘুম চোখে বেলকুনিতে এলো।
আজ জুম্মার দিন। শীতলের শশুর এই দিনেও অফিসের কিছু কাজে বের হওয়ার জন্য রেডি হয়েছে।
শীতল তার শশুর কে বাঁধা দিলো।
-মা আজ নামাজ পড়া যাবেনা। পড়ে কাযা পড়ে নেব। খুব ইম্পর্ট্যান্ট মিটিং। লন্ডন থেকে ক্লাইন্ট এসেছে।
-সেটা বললে তো হবেনা। জুম্মার দিন সব বন্ধ।
-মুমিনগণ,জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর ৷ এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ ৷

অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও ৷

{সূরাঃআল-জুমুআ,আয়াত:- ৯-১০}
রাজ নিজে নিজেই অজু করলো। সেও এখন অভিমান করেছে শীতলের উপর।
-ডান হাত ধৌত করতে ভুলে গেছেন।
-আমি তো ভুল মানুষ। তাই ভুল করি।
অজু শেষে দেখা গেলো পানিতে জামাকাপড় ভিজে জপজপ হয়ে আছে।
-একটা কথা বলি? আজ নামাজ না পড়লে হয়না?
শীতল একটা হাদিস শুনিয়ে দিলো – হে মানবমন্ডলী,তোমরা তোমাদের রবের
ইবাদত কর,যিনি তোমাদেরকে ও
তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আশা করা যায় তোমরা মুত্তাকী হতে পারবে

[সুরা বাকারাহ’ আয়াত ঃ২১]
রাজ নিজেই পাঞ্জাবি পড়েছে উল্টো, বোতাম গুলো ভেতর থেকে উল্টো লাগানোর চেষ্টা চলছে। টুপিও উল্টো পড়ায় বার বার মাথা থেকে পড়ে যাচ্ছে। পাজামার দড়িও খুলে পড়ে আছে নিচে। সে এক হাত দিয়ে পাজামা ধরে অন্য হাত দিয়ে মাথায় টুপি ধরে রেখেছে। মাঝে মাঝে চোখের পানি পাঞ্জাবির হাতা দিয়ে মুছবার চেষ্টা চালাচ্ছে। চোখের পানি মুছবার সাথে সাথেই আবার চোখ পানিতে ভরে যাচ্ছে।
রাজ অসহায়ের মতো শীতলের দিকে তাকালো।
শীতল সোফায় বসে চুল চিরুনি করছে মনোযোগ দিয়ে। একবার ফিরেও তাকাচ্ছে না।
-বাবা আসসালামু আলাইকুম!
-ওয়ালাইকুম আসসালাম।
রাজের বাবা পেপার রেখে ছেলের দিকে তাকালেন। -একটু হেল্প করবে?
– তোমার একি দূর্দশা? তোমাকে নিয়ে জুম্মায় যাব কিভাবে?
ছেলের সিচুয়েশন দেখে বাবা ছেলের কাছে এলেন।
-বাবা মসজিদে যাব। পাজামার দড়িটা লাগিয়ে দেবে?
শুধু পাজামার দড়ি লাগিয়ে রাজ রুমে এসে শীতলের সামনে দাড়ালো।
শীতল রাজের দিকে ভ্র কুঁচকে তাকালো।
রাজ একটা চুমু দিলো শীতলের কপালে।
-আল্লাহ তায়ালা খুশি হবে বউকে চুমু দিলে, তাহলে তো আমি বাবা হতে পারব। এজন্য দিয়েছি।
চুমু দেওয়া তো আলদা বিষয়, আমার সাথে কথা না বলার মধ্যে পড়েনা তাইনা?
শীতল মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
রাজ ভেবেছিলো যদি একটু কথা বলে শীতল। শীতলের মুখ ঘোরানোর ফলে যেটুকু আশা ছিলো তাও চলে গেলো।
-আসসালামু আলাইকুম রাগী শ্রেয়সী। আমি মসজিদে গেলাম। তুমিও অজু করে নামাজ পড়বে, দোয়া করবে যেন আমি বাবা হতে পারি। আমার সাথে কথা না বলায়, আমার বাবা হওয়ার দোয়া করার সাথে কোন সম্পর্ক নেই তাইনা? তুমি প্লিজ দোয়া করোও। বাবলু, হাবলুরা আমাকে মসজিদে চিমটি দিলে আমিও ওদের কামড়ে দিয়ে মারামারি করব। তারপর আমাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে যাবে ধরে।
.
.
রাজ আজ দোয়ার সময় বলল যেন তার শ্রেয়সী তার সাথে কথা বলে। রোজগার মতো বাবা হওয়ার দোয়া করলো না।
শীতল নামাজ পড়ে দাড়িয়েছে বেলকুনিতে রাজ আসছে কিনা সেটা দেখার জন্য। রাজ কি আজ মারামারি করলো নাকি?
এজন্য দেরি করছে। শীতলের অস্হিরতা লাগছে। বুক ধড়ফড় করছে।
একবার সে কি গিয়ে দেখবে?
শীতল তাড়াতাড়ি বোরখা পড়ে নিলো।
রাফাকে নিয়ে মসজিদের একপাশে আড়ালে দাঁড়ালো।
ঐ তো সাদা টুপিওয়ালা, উল্টো করে সবুজ পাঞ্জাবি পড়া রাজকে দেখা যাচ্ছে।
মসজিদ থেকে একটু দূরে একটা জিলিপীর দোকানে দাড়িয়ে আছে। শীতল জিলিপী খেতে পছন্দ করে এই দোকানের। রাজ কাগজে করে গরম গরম জিলিপী কিনলো। টাকা ছিলোনা তার কাছে। বাবলুর থেকে ধার করে কিনেছে।
-জিলিপী-ওয়ালা সাহেব গোলাপ ফুলের মতো বানান, আমার জিলিপী গুলোতে বেশি বেশি মিষ্টি দেবেন।একদম কয়লার মতো মুচমুচে ভাজবেন।অনেক রস যেন থাকে। ও মিষ্টি মিষ্টি মুচমুচে জিলিপী খেতে ভালোবাসে।
-চিন্তা করবেন না ভাইজান। এমন জিলিপী বানাব, ভাবি খেলে ফিদা হয়ে যাবে আপনার উপর।
ইমাম সাহেব রাজকে উদ্দেশ্য করে বলল- বাবা রাজ তুমি এখানে? বাসায় যাচ্ছো না কেন? বৌমা চিন্তা করবে তো।
ঘরের বউকে চিন্তায় ফেলা আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন না।
-এখনই যাচ্ছি ইমাম সাহেব।
-জিলিপী খাচ্ছো নাকি?
-জ্বি না।
-হাতে তো জিলিপী দেখা যাচ্ছে।
-আপনার বৌমার জন্য কিনেছি। ও এই দোকানের জিলিপী খেতে ভালোবাসো।
– বেশ বাবা বেশ, বউয়ের পছন্দ অপছন্দের কদর করা আল্লাহ তায়ালা খুশি হন।
– ইমাম সাহেব ও আমার উপর রাগ করেছে। কথা বলে না। আপনি একটু দোয়া করবেন যেন আমি তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাই, ভালো হলে ও আর রাগ করবে না।
-করব বাবা করব। জিলিপী নিয়ে বৌমাকে খাওয়াও, দেখবে সব ভুলে গেছে, তোমাদের মাঝে মোহাব্বত তৈরি হবে।
-আসসালামু আলাইকুম। যাই ইমাম সাহেব।
রাজের কথা আড়াল থেকে শুনে শীতলের চোখ থেকে পানি পড়ে গেলো। এমন একটা লোকের সাথে কি রাগ করা যায়? আল্লাহ তায়ালা কখনো শীতল কে ক্ষমা করবে না এভাবে অবুঝ ভালোবাসার স্বামীর উপর রাগ করেছে দেখে। শীতলের বড্ড ভুল হয়েছে।
-কি ভাবি?আরও রাগ করোও কেমন? তাহলে স্পেশাল জিলিপী খেতে পারবে।
-আমি আরও বেশি বেশি অভিমান করব। তাহলে তোমার ভাই আমাকে আরও বেশি বেশি ভালোবাসবে।
-তোমাদের ভালোবাসার জিলিপী দিও একটু আমাকে।
-আমার স্বামীর ভালোবাসার এক সুতোও দেব না,মুচমুচে, রসালো জিলিপী তো দূরে থাক।
-জিলিপী খাওয়ার সাথে কিন্তু কথা না বলার সম্পর্ক নেই।
আমার উপর রাগ করো, জিলিপীর উপর রাগ করোনা।
-হু।
রাজ ঠোঙ্গা থেকে জিলিপী বের করে ফুঁ দিয়ে দিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে শীতলকে খাইয়ে দিচ্ছে।
-উফফ, আমার জিহ্বা জ্বলসে গেলো গরম জিলিপী খেয়ে। আল্লাহ কেমন স্বামী দিলে তুমি আমায়? গরম জিলিপী খাইয়ে মেরে ফেললো।
-আমাকে একটু জিলিপী খাইয়ে দেবে?
একটু জিলিপী খাইয়ে দিলো রাজকে শীতল।
-জিলিপী তো ঠান্ডা। গরম তো লাগছেনা।
-এতো বড় অপবাদ? আমি কি মিথ্যে বলি?
-নাতো। আমার মুখে প্রবলেম তাইতো জিলিপী ঠান্ডা লাগছে।
শীতল হঠাৎ করে রাজকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
হু হু করে কেঁদে উঠলো রাজের ভালোবাসা দেখে শীতল।
-কেঁদো না প্লিজ। গরম জিলিপী এবার থেকে ঠান্ডা করে দেব।
রাজের ঠোঁটে আঙুল দিলো শীতল।
-একদম চুপ। কোনো কথা নয়।
রাজ মুখে আঙুল দিলো।
-আমাকে এতো ভালোবাসেন কেন?
রাজ মাথা নাড়ালো।
-কি হলো বলুন?
রাজ আবার মাথা নাড়ালো।
-আমি কিন্তু আবার কথা বলা বন্ধ করে দেব।
-না না। তুমি-ই তো চুপ থাকতে বললে।
-ভুল হয়েছে। মাফ করে দিন।
রাজের কপালে কপাল ঠেকিয়ে কথাটা বলল শীতল।
-তুমিও আমাকে মাফ করে দাও শ্রেয়সী!
-আপনার কোন দোষ নেই। সব দোষ আমার। কিন্তু আপনি তখন এমন করলেন কেন?
-কখন?
-গরম তেলে হাত দিলেন কেন?
-তুমি আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছো তাই।
-কি করেছি?
-শাকিলা আমাকে মুভি দেখিয়েছিলো।
সেখানে একটা মেয়েকে একটা ছেলে প্রত্যাখান করে। তারপর ছেলেটা মেয়েটার রান্না করা তেলে হাত ডুবিয়ে দেয়।
-মুভি দেখে এটা করেছেন?
-হু। মেয়েরা প্রত্যাখ্যান করলে ছেলেরা এমন করে।
-যার জন্য এমন করলেন সেটা বুঝেন তো? প্রত্যাখ্যান কি বুঝেন তো?
-হু। একটা মেয়েকে একটা ছেলে আই লাভ ইউ বললে যদি মেয়েটা একসেপ্ট না করে সেটা প্রত্যাখ্যান।
শীতল রাজের হাত ধরে গালে নিয়ে বলল- ভালোবাসি মুখে বলতে হয়না, সেটার জন্য অনেক পদ্ধতি আছে। আমার ভালোবাসা বোঝার ক্ষমতা হবেনা আপনার।
আপনার গরম তেলে হাত দেওয়া আমার জন্য মৃত্যুর সমান ছিলো। এটাও বুঝবেন না আপনি।
-তুমি কি এখন থেকে আমার সাথে কথা বলবে?
-আমার মনে কথা লুকিয়ে আছে সেটা আপনি জানেন না। অনেক লুকানো, জমানো কথা আপনার সাথে সারা ক্ষণ বলতে ইচ্ছে করে আমার।
-গরম তেলে আবার হাত দেব যদি আমার সাথে কথা বলার বন্ধ করো।
-আপনি এমন করলে আমি গরম তেল আমার মুখে ডুবিয়ে দেব।
-না না। তোমার মুখ পুড়ে যাবে। তুমি ব্যাথা পাবে।
-আপনিও তো ব্যাথা পেয়েছেন। এখনো ব্যাথায় পাচ্ছেন। কি ব্যাথা করছে?
-করবেনা? তুমি কি চুমু দিয়েছো আমার ব্যথায়? তুমি চুমু দিলে তো ব্যাথা ভালো হয়ে যায় আমার, সেটা কি জানোনা?
শীতল কান ধরে বলল- অনেক বড় ভুল করেছি, অন্যায় করেছি। মাফ করে দিন।
-দেখেছো, এখনো চুমু দিলে না তুমি। কত ব্যথা করছে জানো?
শীতল রাজের হাতের আঙুল গুলোতে অজস্র চুমু দিলো।
-আরও লাগবে?
-আরেকু লাগবে।
শীতল আরও চুমু দিলো।
-আরও?
-এক্সট্রা দিলে ভালো হতো।
-ওরে দুষ্টু ছেলে।
শীতলের নাকে নাক ঘষে দিলো রাজ।
রাজ শীতলের দিকে তাকিয়ে পাগল করা শরীর দুলিয়ে হাসি দিলো। শীতলের হ্রদয় রাজের হাসিতে বিধস্ত হয়ে গেলো।
-আমারও একটা কাজ আছে।
-কি?
রাজ শীতলের মুখে অজস্র চুমু দিলো। শীতল একটু রাগী লুক নিয়ে প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকালো।
রাজ বলল- অগ্রীম আদর দিলাম যখন গরম তেলে তোমার মুখ পুড়ে যাবে তখনকার জন্য। তোমার মুখে গরম তেল পড়বে বাট ব্যথা লাগবেনা। আগে থেকেই তো আদর গুলো করে দিলাম এজন্য। তোমার স্বামীর কি বুদ্ধি শ্রেয়সী?
শীতল হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পাচ্ছেনা। এখন কাঁদা কি ঠিক হবে সেটাই ভাবছে সে। শীতল জাস্ট হতভম্ব!!!!
.
❤আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি নামের দুটি নাম(আরবি,বাংলা)
১৯. ﺍﻟْﻌَﻠِﻴﻢُ আল-’আলীম সর্বজ্ঞানী, সর্বদর্শী
২০. ﺍﻟْﻘَﺎﺑِﺾُ আল-ক্ববিদ় নিয়ন্ত্রণকারী, সরলপথ প্রদর্শনকারী ❤

চলবে……..

#লালগোলাপ❤
Writer-Moon Hossain
Part_18
ঘুমন্ত সকালের নির্জন রাস্তায় চারপাশে পাখিরা কিচিরমিচির শব্দ করছে। হরেক রকমের পাখি। পরিবেশটা এমন যে মনে দোলা দিয়ে যায়।
শীতল রাফিয়ার প্লেটে তিনটে চিংড়ি মাছ তুলে দিলো।
-ব্যাস ভাবি।
-আরও নিন আপা। আপনার তো চিংড়ি পছন্দ।
-পছন্দ হলেই সে জিনিস নিতে হবে এটার কোন মানে নেই। মানুষের তো অনেক কিছুই পছন্দ কিন্তু সেগুলো কে নিজের করতে পারে কজন?
-চেষ্টা করলে কি ক্ষতি? আল্লাহ তায়ালা চাইলে মনের সব আশা পূরণ হবে।
রাফা আর রাজ ওদের আলোচনায় মাথা নাড়ালো। কিছু বুঝুক আর মা বুঝুক।
খোসা ছাড়িয়ে চিংড়ি খাইয়ে দিতে হচ্ছে রাজ আর রাফা ।
রাফা রাজের সাথে চুপিচুপি কিছু আলাপ করছে। রাজ বুদ্ধিমানের মতো মাথা নাড়াচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে দুই ভাই-বোন গুরুত্বপূর্ণ কোন আলোচনা চালাচ্ছে। রাজ একটু পর পর মাথা নাড়াচ্ছে আর রাফা ফিসফিস করছে।
-দুই ভাই বোন কে খাইয়ে দিচ্ছো তাহলে নিজে কখন খাবে?
-আপা আর ইউ জেলার্স? তোমাকে ভাবি খাইয়ে দিচ্ছে না বলে হিংসে হচ্ছে?
-মোটেও না। ভাবি আমার বন্ধু। বন্ধুর সুবিধা অসুবিধা দেখতে হবেনা? ভাবির সুবিধা মতো আমাকে খাইয়ে দিলেই চলবে।
-ভাবি আমার মায়ের মতো।
মায়ের মতোও না। ভাবি আমার মা। মায়ের সন্তানকে লালন পালন করতে আবার সুবিধা অসুবিধা কি? আমার যখন ক্ষিদে পাবে তখনই ভাবির হাতে খাব। খাওয়াতে না চাইলেও জোর করে খাব।
-ছোট আপা। আজ আমি আল্লাহর কাছ থেকে আসল পুরষ্কার পেলাম।
আমার মতো সুখী এই পৃথিবীতে একটিও নেই।
রাজ বলল- রাফা, শ্রেয়সী তোমার মা হলে আমি তো তোমার বাবা। তাহলে তুমি কি আমাকে বাবা বলবে?
সবাই রাজের দিকে তাকালো।
-সবাই আমাকে দেখছো কেন? লজিক তো তাই বলে।
টেবিলে হাসির রোল পড়লো। শীতলের রেজাল্টের খবর ইতিমধ্যে সবাইকে জানানো হয়েছে।
শীতল তার চাচার ডলার থেকে কিছু ডলার ভাঙিয়ে সবাইকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে এসেছে। শীতলের শশুর আসার কথা অফিস থেকে।
শীতল বার বার রেস্টুরেন্টে দরজার দিকে তাকাচ্ছে।
বাবা কি আজও আসবেনা। গত শুক্রবারেও তিনি বিজি ছিলেন। আবার আজ শুক্রবারেও বিজি।
শীতলের শশুর রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্য বের হচ্ছিলো বাট
পি-এ মেয়েটা জানায় ক্লাইন্টের সাথে জরুরি মিটিং করতে হবে।
অন্য একটা টেবিলে হাসান একা বসে আছে। সামনে নানা ধরনের খাবার। যা হাসানের সাধ্যের বাহিরে। অবশ্য বন্ধুবান্ধের সাথে রেস্টুরেন্ট খেতে আসা হয় কিন্তু সেটা সারিন্দা। এই রেস্টুরেন্টের মতো নামি-দামি রেস্টুরেন্টে আশা কল্পনাও করা যায়না।
শীতল বাড়ির সবার সামনে হাসানকেও বলেছে আসতে।
হাসান কখনো রাফিয়ার সাথে কোথাও বেড়াতে যেতে পারেনি। এই সুযোগ।
গাড়িতে ড্রাইভারের পাশে জায়গা ছিলো। বিশাল মাইকো কারে হাসানের জায়গায় হলো না। রাফিয়া বলল- আমি একা যাব ভাবি।
-কেন আপা?
আমরা সবাই মিলে যাব এটাও তো মজা।
কোথাও গেলে শুধু সেটাই মজা না, সেখানে যাওয়া এবং আসা সেটাও খুব মজাদার হয়।
-আমার মজা লাগবেনা। আমি রেস্টুরেন্টে যাব না। শুক্রবারের দিন আমি কোথাও যাইনা।
হাসান বলল- ভাবি আমার একটা কাজ আছে। আমি একটু পরে রেস্টুরেন্টে জয়েন দিচ্ছি। আপনারা যান।
ড্রাইভার চাচা সাবধানে নিয়ে যাবেন, কেমন?
হাসান নেমে গেলো মাইকো থেকে।
তখন রাফিয়া যেতে রাজি হলো।
হাসান ঘন্টা-খানিক হাটাহাটি করে অটো দিয়ে রেস্টুরেন্টে এসেছে।
শীতল কে জিজ্ঞেস করা হয়নি কোন রেস্টুরেন্ট। রাফিয়ার ফোনে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলো নামটা।
গলা শুনেই রাফিয়া ফোন অফ করে রাখে।
শীতলের নাম্বার নেই, রাফাকে ফোন ব্যবহার করতে দেয়না শীতল।
ড্রাইভারের নাম্বার ছিলো ভাগ্যিস।
হাসানের প্রিয় চিংড়ি দেখেও খেতে ইচ্ছে করছেনা। খাবার গলা দিয়ে নামছেনা।
সে গরীব বলে কি সবাই এমন করে? সে তো কাউকে ডিস্টার্বও করেনা।
.
.
শীতল আসার সময় একজন কে দেখে থমকে গিয়েছিলো।
এটা কি কাদির ভাই?
লম্বা মতন ফর্সা, দাড়িওয়ালা। মাথায় টুপি, পরনে পাজামা-পাঞ্জাবি। হ্যাঁ এটাই তো কাদির ভাই। ছেঁড়া কাপড় চোপরে চেনা যাচ্ছিলো না। কাদির ভাইকে কেউ কখনো দেখেনি শীতলের বিয়ের পর থেকে। কি অবস্থা হয়েছে নূরানী চেহেরাটার।
এখানে কি করছে? কাদির ভাই কি শীতলকে ফলো করে এসেছে এতোদিন?
-কি হয়েছে তোমার?
-কিছুনা।
-আমি ঘুমুব।
-আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। ঘুমিয়ে পড়ুন।
সোফাতেই রাজ শীতলের কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লো।
শীতল বাসায় এসে একটা কথাও বলেনি, সোজা রুমে এসে সোফায় বসেছিলো।
শীতল ওয়াশরুমে জোরে জোরে কান্না শুরু করে দিলো।
কাদির ভাইকে ঠিক পাগলের মতো দেখাচ্ছিলো।
এসব কি শীতলের জন্য?
শীতল আয়নায় নিজের চেহেরা দেখে বলল- কাদির ভাই আমার আপনাকে একটি বারও মনে হয়নি। স্বামি সংসার নিয়ে সুখে দিন কাটাচ্ছি, আর আপনি আমাকে মনে রেখে রাস্তায় রাস্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
শীতল ওয়াশরুমে বসে শাওয়ার ছেড়ে জোরে জোরে কাঁদছে।
হাসান রাস্তার নির্জন পরিবেশে বসে আছে রেস্টুরেন্ট থেকে আসার পর থেকে। চোখ দিয়ে টপাটপ পানি পড়ছে। গরীরদের কি কোন মন নেই? ওরা কি মানুষ না? বারবার এতো অপমান কেন হয় হাসান?
হাসানের কোন অভিযোগ নেই। অবুঝ মন একটু ভালোবাসা পওয়ার জন্য ছটফট করে।
রাফা বলল- আপা তোমার চোখ ফোলা কেন?
-কোথায়?
-মুখ এরকম লাল হয়েছে কেন? কেঁদেছো নাকি?
-রাফা যা এখান থেকে।
রাফিয়া রাফাকে বলে নিজেই ছাদে চলে এলো। আঁচলে মুখ গুজে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে রাফিয়া।
ইচ্ছে করছে একটা লাফ দিতে রাফিয়ার।
এ-সব কিছুর মধ্যে রাফা খিলখিল করে হাসছে উপন্যাস পড়ে। ইসলামিক এক উপন্যাস। একটা হুজুর মাথানিচু করে গার্লস কলেজের সামনে দিয়ে যায় আর মেয়েরা হাসাহাসি করে। কখনো প্রপোজও করে।
হুজুরটা লজ্জায় এখন গার্লস কলেজের রাস্তা দিয়ে দৌড়ে মসজিদে যায়। বেচারা হুজুরের সিচুয়েশন দেখে রাফার কি যে হাসি।
শীতলের শশুর ফাঁকা ক্যাবিন অন্ধকার করে বসে আছে।
আজ তার চোখেও বর্ষা নেমেছে। খুব মনে পড়ছে তার কিশোরী বউয়ের কথা। কি ঝলমলে ছিলো তার সাথে সংসার করার দিন গুলো।
শাওয়ার শেষে শীতল বিছানায় গা এলিয়ে দিলো।
.
চোখ মুখ ফুলে একাকার তার।
হঠাৎ পেছন থেকে কারও গায়ের স্পর্শ পেলো সে।
রাজ শীতলের পিঠে নাক ঘষতে ঘষতে বলল- আমি তোমার সাথে ঘুমুব।
-হু।
-আমি খাব।
-হু।
-তোমার হাতে।
-হু।
শীতলকে নিজের দিকে ফিরিয়ে রাজ গালে হাত দিয়ে বলল- তুমি কি আবার রাগ করেছো? আমার সাথে আর কথা বলবেনা?
শীতল রাজকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলো।
রাজ বলল- আমি আর দুষ্টুমি করবনা। কেঁদো না তুমি।
আমারও কান্না পাচ্ছে। বলতে বলতে রাজও কেঁদে দিলো। শীতলের শাড়ির আঁচল দিয়ে রাজ নিজের চোখ মুচ্ছে আর কাঁদছে।
-আমি তোমাকে একটু আদর করে দেব, দেখবে আর কাঁদবে না। রাজ শীতলের অশ্রু ভরা চোখ জোড়ায় ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো। চোখের পানির মুক্তোদানা গুলো গাল বেয়ে পড়ছে শীতলের। রাজ গালেও ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো।
-এবার দেখবে আর চোখ দিয়ে পানি বের হবেনা।
.
আজ শুক্রবার। জুম্মার দিন। মুসলিমদের জন্য জুম্মার দিনটি ঈদের মতো আনন্দদায়ক। এই দিন মানেই ছেলেরা মসজিদে নামাজ পড়তে যাবে, পুরোনো মানুষদের সাথে দেখা হলে কুশল বিনিময় করবে।
মেয়েরা বাড়িতে ভালোমন্দ রান্না করবেই এই জুম্মার দিনে। রাজকে পাঞ্জাবি পরাতে পরাতে শীতল আমাদের জুম্মার দিনটি সম্পর্কে বলছে। রাজ মুখে আঙুল দিয়ে চুপচাপ শুনছে আর ভাবছে আজ মসজিদে নিশ্চয়ই জিলিপী খাওয়াবে। রাজ না খেয়ে লুকিয়ে তার শ্রেয়সীর জন্য আনবে সেটা তার লক্ষ্য।
-ভালো করে শুনুন,কি বলছি। শুক্রবারে ইবাদতের ফযিলতও অনেক।
“জুমার দিনে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করণীয় ও ফযিলত** ১) দুয়া করা: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: يَوْمُ الْجُمُعَةِ اثْنَتَا عَشْرَةَ سَاعَةً ، لَا يُوجَدُ فِيهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا آتَاهُ إِيَّاهُ فَالْتَمِسُوهَا آخِرَ سَاعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ “জুমার দিনে ১২টি ঘণ্টা রয়েছে। এর মধ্যে এমন একটি ঘণ্টা রয়েছে যেখানে এমন কোন মুসলিম নাই যে, সে যদি তখন আল্লাহর নিকট কিছু চায় আল্লাহ তাকে দিবেন না। আর তোমরা আসরের পরে (মাগরিবের আগের) শেষ ঘণ্টায় সে সময়টা অনুসন্ধান করো।” [সুনান আবু দাউদ, অনুচ্ছেদ: জুমার দিন দুয়া কবুল হওয়ার সময় কোনটি? শাইখ আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।] উল্লেখ্য যে, অন্য একটি যঈফ বা দুর্বল হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, উক্ত সময়টা হল: حِينَ تُقَامُ الصَّلَاةُ إِلَى الِانْصِرَافِ مِنْهَا “জুমার সালাতের একামত হওয়া থেকে নিয়ে শুরু করে সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত।” [তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ। কিন্তু শাইখ আলবানী বলেছেন এটি ضعيف جدا খুব দুর্বল।] অধিকাংশ সালাফের মত হল, তা আসরের পর থেকে মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত সময়টি। আল্লাহ ভালো জানেন। ২) সূরা কাহাফ পাঠ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: مَن قَرَأَ سورةَ الكَهفِ يومَ الجُمُعةِ أضاءَ له من النورِ ما بَينَ الجُمُعتينِ “যে ব্যক্তি জুমআর দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য পরবর্তী জুমা পর্যন্ত আলোকময় হবে (অর্থাৎ সে হেদায়েতের আলোর উপর পরিচালিত হবে ইন-শা-আল্লাহ)। [দেখুনঃ সহিহ তারগিব ওয়াত্ তারহিব, হাদিস নং- ৭৩৬, ইবনে হাজার আসকালানী এটিকে হাসান বলেছেন। তিনি আরও বলেন, এ হাদিসটি সূরা কাহাফ প্রসঙ্গে বর্ণিত সবচেয়ে শক্তিশালী হাদিস, {ফায়যুল কাদির ৬/১৯৮}] উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত (জুমার রাত) থেকে শুরু করে শুক্রবার সূর্য ডুবার পূর্ব পর্যন্ত যে কোন সময় (এক বৈঠকে অথবা একাধিক বৈঠকে) সূরা কাহাফ পুরোটা পড়ে শেষ করতে হবে। তাহলে উক্ত মর্যাদা লাভ করা যাবে ইন-শা-আল্লাহ। ৩) অধিক পরিমানে দরূদ পাঠ: আউস বিন আউস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ عَلَيْهِ السَّلَام ، وَفِيهِ قُبِضَ ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنْ الصَّلَاةِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ -أَيْ يَقُولُونَ قَدْ بَلِيتَ- قَالَ : إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمْ السَّلام “তোমাদের দিন সমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে মৃত্যু দেওয়া হয়েছে, এই দিনে সিংগায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং মহা বিপর্যয়ও (ক্বিয়ামত) ঘটবে এই দিনেই। তাই এই দিনে তোমরা বেশি বেশি আমার উপর দরুদ পাঠ করবে; কেননা তোমাদের দরুদ আমার উপর পেশ করা হয় জুমার দিনে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কবরে গলে শেষ হওয়ার পরেও কিভাবে আপনার উপর দরুদ পেশ করা হয়? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা মাটির জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন। [আবু দাউদ,নাসাঈ,ইবনু মাজা প্রমুখের বরাতে সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব,মিশকাত আলবানী হা/১৩৬১]
লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল দাঈ, জুবাঈল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব ❤
বাগানে স্বামী-স্ত্রী মিলে পানি দিচ্ছে ফুল গাছে।
রাজ একটা খুন্তি হাতে লতা পরিষ্কার করছে। রাজকে মালির মতো লাগছে।
আর শীতল পানি দিচ্ছে গাছে।
শীতলকে মালির মতো দেখাচ্ছে। রাজ মাটি কোপাচ্ছে আর শীতলের দিকে তাকিয়ে আছে। শত শত গোলাপের মাঝে শীতলকে গোলাপের মতোই লাগছে। গোলাপ কে সুন্দর বলা মেয়েটা জানেনা সে নিজেও একটা গোলাপ। গোলাপের মতোই তার সৌন্দর্য। গোলাপের সুবাসের মতোই মেয়েদের গায়ের সুভাস।
শীতল ইশারা করে বলল -কি দেখা হচ্ছে?
সাবধানে গুল্মলতা গুলো কাটুন। রাজ একটা গুল্মলতা কাটে আর শীতলের দিকে তাকিয়ে থাকে। কোমরে আঁচল গুজে কি লম্বা বিনুনি গেঁথে পানি দিচ্ছে শীতল, সে নিজেও গাছ গুলোর মতো ভিজে সপসপে হয়ে আছে।
রাজ বলল- আমি এক নাম্বার করব।
শীতল গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভার কে দিয়ে রাজকে পাঠালো পাবলিক টয়লেটে।
গাড়ির কাঁচে কেউ একজন টোকা দিলো।
শীতল কাকে দেখছে?
শীতল গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ালো কাদির ভাইয়ের সামনে।
কাদির ভাইকে কেমন উন্মাদের মতো দেখাচ্ছে।
-আসসালামু আলাইকুম!
শীতল উওর স্বরুপ মাথা নাড়ালো।
কারও মধ্যে কোন কথা হচ্ছেনা।
রাজ টয়লেট থেকে বেরিয়ে দেখলো শীতল একটা লোকের সাথে দাড়িয়ে আছে। রাজ এক দৌড়ে সেখানে এলো।
-তুমি এই লোকের সাথে কি করছো?
-গাড়িতে বসুন। বাসায় যাব।
-আগে বলো ?
কাদির বলল- ভাইজান ওর কোন দোষ নেই। রাস্তায় মেয়েদের বকাবকি করতে নেই। লোকজন দেখছে।
রাজের হঠাৎ কি যেন হলো সে কাদির কে মারতে শুরু করলো। কাদির অসুস্থ বলে খুব সহজেই কাতর হয়ে গেলো। গায়ের অনেকাংশ কেটে রক্ত পড়ছে।কি থেকে কি হয়ে গেলো। শীতল রাজকে থামানোর চেষ্টা করছে। আচমকায় দস্তা দোস্তিতে রাজের ধাক্কাতে শীতল নিচে পড়ে গেলো। পাশেই নিচে ভাঙা ভাঙা ইট ছিলো, মাথায় আঘাত লেগে রক্তক্ষরণ হচ্ছে শীতলের। ইটের ভাঙা বেশ বড় টুকরো দিয়ে কাদিরের মাথায় আঘাত করতে যাচ্ছিলো রাজ। ভুলক্রমে শীতল সামনে আসায় শীতলের মাথায় আঘাত করলো রাজ। তৎক্ষনাৎ শীতলের মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে লাগলো। শীতল শুধু রাজের দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নিচে পড়ে গেলো। এক নিমিষেই কি থেকে কি হয়ে গেলো সেটা আশেপাশের লোকজনরা বলা শুরু করেছে। শীতলের মাথা ফেটেছে দেখে রাজ থামলো। শীতলের রক্তে রাজের পোষাক ভরে উঠলো। লাল টকটকে রক্ত। মাথা থেকে টাটকা রক্ত ঝরছে । রাজ শীতলের মাথা কোলে নিয়ে চুপচাপ রাস্তায় বসে পড়লো।
.
❤মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি নামের দুটি নাম (আরবি,বাংলা)
. ২১. ﺍﻟْﺒَﺎﺳِﻂُ আল-বাসিত প্রসারণকারী
২২.ﺍﻟْﺨَﺎﻓِﺾُ আল-খ়¯ফিদ় (অবিশ্বাসীদের)অপমানকারী❤
চলবে…..