লালগোলাপ❤ Part_38-39

0
1781

লালগোলাপ❤
Part_38-39
Writer_Moon Hossain

[ আল্লাহর রহমতে আর সবার দোয়াতে এখন একটু সুস্থ বোধ করছি]
বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَاۤ اِنۡ نَّسِیۡنَاۤ اَوۡ اَخۡطَاۡنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تَحۡمِلۡ عَلَیۡنَاۤ اِصۡرًا کَمَا حَمَلۡتَہٗ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَۃَ لَنَا بِہٖ ۚ وَ اعۡفُ عَنَّا ٝ وَ اغۡفِرۡ لَنَا ٝ وَ ارۡحَمۡنَا ٝ اَنۡتَ مَوۡلٰىنَا فَانۡصُرۡنَا عَلَی الۡقَوۡمِ الۡکٰفِرِیۡنَ
‘হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না।
হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না।
হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনি আমাদের অভিভাবক।
অতএব কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন’
সূরা আল-বাকারাহ,২৮৬ নং আয়াতের অংশ। শীতল কোরআন তেলওয়াত করছে। সূরা আল-বাকারাহ, পাঠরত অবস্থায় আছে সে।
রাজ তার পিছনে বসে আছে।

শীতলের আচরণে কিছু বোঝা যাচ্ছে না।চুপচাপ থাকলেও এটা সেটা কাজ করছে। মুখে একটুও ক্লান্তির রেশ নেই।
দুঃখী ভাবটাও নেই। একটা ফুরফুরে মেজাজে আছে সে। ভাবটা এমন।
অবশ্য রাজের ধারণা ঝড় আসার আগে যেমন প্রকৃতি নীরব হয়ে যায় তেমনটা শীতলের মাঝেও ঘটেছে।
কখন যে ঝড় শুরু হবে। সংসার টা ঝড়ে তছনছ হয়ে যাবে।
রাজ রুমের এক কোণে অন্ধকারে দাড়িয়ে শীতলকে লক্ষ্য করছে।
শীতল নামাজ পড়া শুরু করেছে। কোরআন তেলওয়াত পড়ছে এখন।
শীতলের কোরআন তেলওয়াত পড়া শেষ হলে রাজ বসলো পড়তে।
রাতে শীতল বেডে ঘুমুচ্ছো। রাজ সাহস পেলো না। সোফায় ঘুমুলো।
ঘুমুলো বললে ভুল হবে।
সে নজরদারি করছে।
শীতলকে এক সেকেন্ডও একা রাখা যাবেনা।
শীতল ঘুম থেকে জেগে উঠলো।
কিছু করবে নাকি? বেলকুনি থেকে লাফ! আজ ধরবে নাকি?
রাজ উঠতেই শীতল ওয়াশরুমে ঢুকলো। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে বসলো।
রাজও অজু করে এলো।
দুজন তাহাজ্জুদ পড়লো।
সকাল হলো।
আজ জুম্মার দিন।
রাজ আজ অন্যদিনের চেয়েও বেশি দরুদপাঠ করলো।
আজ পবিত্র জুম’আর দিন দো’আ কবূলের বিশেষ দিন তাই রাসুল(সাঃ)উপর বেশী বেশী করে দুরুদ পাঠ করা উচিত। !
রাসুল্লাহ (সা) বলেন:
দিনসমূহের মধ্যে জুম্মার দিনই সর্বোৎকৃষ্ট। অতএব তোমরা জুম্মার দিন আমার উপর অধিক দুরুদ (দুরুদে ইব্রাহিম) পাঠ করবে, কেননা তোমাদের দুরুদ আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে। (আবু দাঊদঃ ১০৪৭)

সুতরাং বেশির চেয়ে বেশী দুরুদ পাঠ করব আমরা!!
.
[ আবু দাউদ:১০৪৭, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]
বেশ স্বাভাবিক শীতল।
-রাতে কি খাবেন?
শীতল স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্নটা করলো।
-তুমি যা খাওয়াবে।
শীতল রান্নাঘরে গেলো।
রাজ রান্না ঘরের বাহিরে দাড়িয়ে বার বার ঢোকার চেষ্টা করছে কিন্তু ভেতরে ঢুকতে পাচ্ছেনা।
সাহস হচ্ছে না।
ডক্টর বলেছে শীতল কে যেন তার মতো থাকতে দেওয়া হয়। আঘাত পেয়ে যেমন সবকিছু ভুলে যায় তেমন আঘাত পেলেই সবকিছু আবার মনে পড়ে।
-ভেতরে আসুন?
রাজ ধরা খেয়ে একটু লজ্জিত হলো এমন ভাব করলো।
-তুমি একা একা রান্না করছো তাই হেল্প করতে চলে এলাম।
-অভ্যাস আছে।
হেল্প যখন করবেন তখন বাহিরে থাকার মানে কি!
আপনার বাড়ি, আপনার রান্না ঘর যখন ইচ্ছে তখন ঢুকবেন। বের হবেন।
-আমার না। বলো আমাদের।
বিয়ের পর স্বামীর সবকিছু তে স্ত্রীর অধিকার জন্মে।
পেয়াজ বাদামী রং ধারণ করছে। আরেকটু তেল ঢেলে দেওয়া হলো তাতে।
-তুমি কি খাবে?
-শিং মাছের ঝোল। মেটে আলু দিয়ে।
-ইয়েস। এই সময় শিং মাছের ঝোল উপকারী। তোমার শরীর দূর্বল। খেলে শক্তি পাবে।
কড়াইয়ে পেঁয়াজের সাথে শিং মাছ একসাথে ভাজা হচ্ছে, পরিমাণ মতো মরিচ, হলুদ, ধনেপাতা, নুন দেওয়া হলো।
কড়াইয়ে ঢাকনা দিয়ে শীতল বলল- আরকিছু বলবেন?
-তোমার শিং মাছের ঝোল থেকে একটু আমাকে দেওয়া যাবে?
আমিও খাব।
-কেন?
-তুমি যেটা খাবে সেটা আমারও খেতে ইচ্ছে করে।
শীতল কথার উওর না দিয়ে সিদ্ধ মেটে আলু দিয়ে দিলো কড়াইয়ে।
আগের মতোই স্বাভাবিক ভাবেই রাতের খাবার শেষ করলো শীতল।
রাজ খাওয়ার থেকে বেশি শীতলের দিকে লক্ষ্য করলো।
শীতলকে লক্ষ্য করা জরুরি।
রাতে শীতল রাজের কাছে নিজের ইচ্ছেতেই গেলো।
মাঝ রাত।
রাজকে জরিয়ে ধরে শীতল ঘুমে আছন্ন হয়ে আছে।
শীতল নিজের ইচ্ছেতে যখন কাছে এসেছে তখন পুরনো সবকিছু ভুলে যাচ্ছে শীতল। নতুন করে সংসার সাজাতে চাচ্ছে।
রাজ চিন্তা মুক্ত হলো।
শীতলের কপালে ডীপলি কয়েকটা চুমু দিয়ে নিশ্চিত মনে ঘুমের রাজ্যে ডুব দিলো।
সকালে রাজ শীতলের কপালে চুমু দিয়ে অফিসে গেলো।
এতোদিন না আসায় প্রচুর কাজ জমেছিলো।
দম ফেলারও সুযোগ নেই। রাজ মোটামুটি সব কাজ গুছিয়ে ফেললো।
দুপুরে ড্রাইভার খাবার নিয়ে এলো।
ড্রাইভার খাবার সাজানোর সময় রাজের খুব ইচ্ছে হলো শীতলের গলা শোনার।
শীতল কে দেখতে ইচ্ছে করছে।
ফোনে চ্যাক করেও লাভ নেই। শীতল কখনো ফোনে ছবি উঠায় না।
ছবি তোলা বিষয়টি তার অপছন্দ!
রাজ বিরসতায় খাবার দেখছে।
জানতে ইচ্ছে করছে শীতল খেয়েছে কিনা।
হঠাৎ শীতল ফোন করলো।
রাজ যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলো।
আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানালো।
কথা শেষ হতেই রাজ আনন্দে খেতে বসলো।
বিকেলে তাড়াতাড়ি সে অফিস থেকে বাড়ি ফিরলো।
কোথাও শীতল নেই।
শেষে বাড়ির পেছনের গোলাপ বাগানে পাওয়া গেলো।
হাজার হাজার গোলাপের মাঝে শীতল নিজেও এক গোলাপ।
কোমরে কারও স্পর্শ অনুভব হলো।
ঘাড়ে নাক ঘষে রাজ ফিসফিস করে বলল- চলো না শ্রেয়সী রুমে যায়।
-একটা সারপ্রাইজ!
-আমারও আছে!
-হোয়াট?
-সারপ্রাইজ।
শীতল কে একবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে নিলো রাজ।
গোলাপি একটা সুতির শাড়ি পড়ে আছে সে। গায়ে কোন অলংকার নেই।
অবশ্য তার শ্রেয়সীর যা রুপ তাতে সিম্পল ভাবেই সুন্দর লাগে।
যে সুন্দর সে এমনিতেই সুন্দর।
রাজ শীতলকে কোলে তুলে নিলো।
শীতল রাজের গলা জড়িয়ে রাখলো দুই হাত দিয়ে।
রাজ ফিসফিস করে বলল- এখন তো আমরা দুজন সুস্থ।
চলো না আজ বাসর করে ফেলি!
কি রাজি তো?
তবে চলো বাসরে।
পুরো বেড লাল গোলাপে ছেয়ে আছে।
রুমটা অন্ধকার।
তবে বাহিরের আলো এখনো আছে। ভেন্টিলেটর দিয়ে আলো গুলো জোছনার ফুলের মতো ছাপ ফেলেছে রুমে।
শীতলকে বেডে শুয়ে দিয়ে রাজ গালে একটু নাক ঘষলো।
-জানো, আমি কতটা কষ্টে ছিলাম।
তোমার অসুস্থতা আমাকে কতটা যন্ত্রণা দিয়েছে তা জানো না।
তুমি আমাকে মাফ করতে পাচ্ছিলে না। আমাকে দেখতে পাচ্ছিলেনা। সহ্য হচ্ছিলো না আমার তোমাকে।
সবকিছুর জন্য আমাকে দায়ী করেছিলো।
হ্যাঁ আমি দায়ী সবকিছুর জন্য। আমি অনুতপ্ত। আমি যে পাগল সেটা তো তুমি বুঝো?
যখন তুমি আমাকে হত্যাকারী খুনি বলছিলে তখন কি যে কষ্টের মধ্যে ছিলাম।
সবথেকে কষ্ট লেগেছে তোমার মানসিক ভারসম্য হারানো। তুমি আমার মতো খুব পাগলামি করছিলে। তোমাকে এভাবে পাগল হতে দেখতে সহ্য হচ্ছিলো না।
আমি শুধু আল্লাহর উপর ভরসা করেছিলাম।
-আমি এখন সুস্থ।
নো চিন্তা।
-আমাকে মাফ করেছো?
বলো? বলো একবার মাফ করেছো?
প্রতিদিন তুমি যত নিশ্বাস নাও তার চেয়ে বেশি সুখ দেব তোমাকে।
তোমাকে প্রতিটি সেকেন্ড আদর-যত্নে ভরিয়ে রাখব।
শীতল অপলক দৃষ্টিতে বলল- করেছি মাফ।
দুজনের নিশ্বাস পড়ছে দুজনের উপর।
ঘোরের মধ্যে আছে তারা।
শীতলের গোলাপির পাপড়ির মতো ঠোঁট জোড়া পাখির পালকের মতো তিরতির করে নড়ছে।
রেশমি সুগন্ধি চুল গুলো রাজের মুখে উড়ে যাচ্ছে ঘনঘন নিশ্বাসের হাওয়ায়।
রাজের নেশা লেগে গেলো।
মহান আল্লাহ তায়ালা কি অপরুপ সৌন্দর্য দিয়ে তার স্ত্রী শ্রেয়সী কে ধরণীতে পাঠিয়েছে।
কোটি কোটি বছর যদি একটা মানুষের আয়ু হতো, তাহলে কোটি বছরের আয়ু দিয়ে রাজ শুধু শীতলের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো। একটু বিরক্ত বা এতোটুকুও ভালো লাগা কমতো না শীতলের প্রতি রজের।
-কি দেখছেন?
-আমার অপরুপা শ্রেয়সী কে।
-আচ্ছা অন্য স্ত্রীদের দিকেও এভাবে তাকিয়ে থাকবেন?
-হেয়াট?
-ওদেরও শ্রেয়সী ডাকবেন?
-কি বলছো?
– আমার মতো করে ভালোবাসবেন ওদেরও?
শীতলের উপর থেকে রাজ উঠে বসে পড়লো।
-কিসব যাতা বলছো?
-ইসলামে একের অধিক বিয়ের জায়েজ আছে।
-সো ওয়াট?
-আপনিও বিয়ে করবেন।
-তুমি কি বলতে চাও? কি চলছে তোমার মাথায়?
ফর গড সে?
-আপনি কি আমাকে তালাক দিতে চান?
-হোয়াট ডু ইউ মিন বাই তালাক?
-ইংরেজিতে বলে ডিভোর্স। সেটাই মিন করেছি।
-না। কখনো না।
জীবন থাকতে না।
-আমিও চাইনা।
-তাহলে এসব বলছো কেন?
-ঠিক বলছি।
-তুমি কি সুস্থ আছো?
শরীর গরম নাকি?
কাছে এসো তো?
-আমি একদম সুস্থ।
আজ-ই আমি চলে যাব।
-হয়ার?
-গ্রামের বাড়ি। আমার বাড়ি।
-তোমার বাড়ি তো এটা।
গ্রামে কি মায়ের কাছে বেড়াতে যাবে?
আমিও যাব। একা ছাড়ব না তোমাকে।
দাড়াও রেডি হচ্ছি।
শীতল হাত দিয়ে ইশারা করে রাজকে থামালো।
-আপনি আমার সাথে কোথাও যাচ্ছেন না।
যদি আমার পিছু নিন অথবা আটকানোর চেষ্টা করুন তবে এমন একটি জায়গায় লুকাব কোনদিনও খুঁজে পাবেন না আমায়।
রাজ শীতলের ঠোঁটে আঙুল দিলো।
-হুশশ। রেস্ট নেবে।
কোন কথা নয়।
অসুস্থতার ঘোরে এসব উল্টো পাল্টা বকছো।
-আমি সুস্থ। সোফায় বসুন।
আপনার সব কনফিউশান দূর করছি।
দুজনের মধ্যে নিরবতা কাজ করছে।
রাজ অজানা আতংকে রয়েছে।
শীতল স্বাভাবিক।
নিরবতা ভেঙে শীতল বলল- মন দিয়ে শুনুন!
-শুনছি।বলো?
-আমাকে আপনার মরহুম বাবা এই বাড়ির বউ বানিয়ে নিয়ে এসেছিলো।
সংসারের দায়িত্ব দিয়েছিলো।
আপনার দায়িত্ব দিয়েছিলো।
আপনাকে সুস্থ করে তোলার জন্যই আপনার স্ত্রী হতে হয়েছিলো আমার।
আমি গ্রামের গরীব মেয়ে। আনস্মার্ট, বোরিং, ব্যাকওয়ার্ড ধরনের। অতটা শিক্ষিত না।
আমি সুন্দরী সেটা গ্রামের গেঁয়ো সুন্দরী।
শহরের সাথে আমার সৌন্দর্য যায়না।
আমার বড় হওয়ার পরিবেশ, চালচলন, আদবকায়দা সবকিছু গ্রাম্য।
আমি কখনো পাল্টাবো না।
চিরকাল এমন থাকব।
-নতুন করে এসব বলছো কেন? তোমার জায়গায় তুমি ঠিক। নিজেকে ছোট করো না।
-নিজেকে ছোট করছিনা। নতুন করে বলে মনে করিয়ে দিচ্ছি। তাতে আপনার সুবিধে হবে। আপনি আমাদের বিয়ের সময় অবুঝ ছিলেন।
কিছু বোঝার ক্ষমতা ছিলো না। আপনার গার্ডিয়ান ছিলো মরহুম বাবা।
তিনি আমাকে আপনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
আপনি সুস্থ হওয়ার সাথে সাথে আমার দায়িত্ব শেষ।
এখন আপনি সুস্থ। সবকিছু বোঝার ক্ষমতা আল্লাহ তায়ালা আপনার মধ্যে দিয়েছে।
আমি মুক্ত। দায়িত্ব শেষ।
-হ্যাঁ তুমি মুক্ত। দায়িত্ব শেষ।
তাতে কি হয়েছে?
-আপনি একবার নিজের দিকে লক্ষ্য করুন। আরেকবার আমার দিকে লক্ষ্য করুক।
তাহলে বুঝতে পারবেন আপনার সাথে আমার যাচ্ছে না। আমি বড্ড বেমানান।
-সো ওয়াট?
-সবকিছু ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
– সেটা কি রকম?
-আমাদের একসাথে থাকাটা ঠিক না। আমরা কেউ কারও জন্য না।
প্রত্যেকের উচিৎ নিজের যোগ্য অনুযায়ী কাউকে খুঁজে নেওয়া। অবুঝ ছিলেন তাই নিজের যোগ্যতা দিয়ে খুঁজতে পারেন নি।
আপনাকে সুস্থ করার জন্য আপনার বাবা গ্রাম থেকে একজন সেবাদাসী এনেছিলেন। আপনাকে সুস্থ করার জন্যই যে আপনার জীবনে এসেছিলো।
তা না হলে আমার মতো মেয়ে আপনার মতো সুপুরুষের স্ত্রী হতো না, এই বাড়ির একমাত্র বউ হতো না।
আমি আপনার যোগ্য না।
আল্লাহ তায়ালা আপনার জন্য আরও ভালো কিছু রেখেছেন।
আপনি নিজের পছন্দ মতো যোগ্য অনুযায়ী জীবন সঙ্গী খুঁজে নিন।
আমি আজ চলে যাব এই বাড়ি থেকে,সংসার থেকে। আপনার জীবন থেকে।
আমার দায়িত্বের সাথে সাথে আপনার জীবন থেকে সরে যাওয়ার সময় এসেছে।
আমি আপনার যোগ্য না।
আমরা হাজার চেষ্টা করলেও সংসার করতে পারবো না। একসাথে থাকতে পারব না।
এক সাথে থাকলে তিক্ততা বাড়বে। একসময় তালাক হয়ে যাবে। আপনি না দিলেও আমি দিয়ে দেব।
তালাক সর্বনিকৃষ্ট হালাল।
সংসার ভাঙন আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন না।
তাছাড়া এমন নয় যে প্রথম স্ত্রী কে তালাক দিতেই হবে। তালাক না দিলে ২য় বিয়ে করা যাবেনা। এমনটা নয়।
পুরুষমানুষ যখন হয়েছেন তখন আজ নয় কাল আবার বিয়ে করবেন।
আমাদের বিয়েটা বিয়ে নয়। একটা দায়িত্ব ছিলো। আপনার বিয়ের কথা মনে নেই। কবুল কখন বলেছেন সেটাও মনে নেই।
আমি আপনাকে ২য় বিয়ে করার অনুমতি দিলাম সজ্ঞানে।
আমাদের আল্লাহ তায়ালার কাছে বিচ্ছেদ হবেনা ঠিকই তবে স্বামী স্ত্রী হিসেবে সংসার করাও হবেনা।
তেমন কেউ জানেনা আমাদের বিয়ের কথা। আজ থেকে শুধু আমরা নিজেরা জানবো আমাদের একদিন বিয়ে হয়েছিলো। এখনো স্বামী-স্ত্রী।
২য় বিয়ে করতে পারেন।
ভয় নেই কখনো মত পাল্টাবো না।
অধিকার নিয়ে আসবো না।
আপনি কোন সম্পত্তিতে অধিকার খাটাব না।
বেড সাইডে রাখা স্টেম পেপারে সিগনেচার করে রেখেছি।
প্রয়োজন মতো সুবিধা অনুযায়ী লিখে নেবেন।
কখনো সামনে আসবো না।
আমাদের সংসার এখানেই শেষ।
রাজ এতোক্ষণ ধরে শুনে গেলো সব। একটা কথাও বলেনি।
শীতলের মাথাটা একেবারে নষ্ট। রাজ যদি বুদ্ধিমান পাগল হয় তবে শীতল নির্বোধ পাগল।
এক গ্লাস ঠান্ডা পানি নিজে শীতলের দিকে এগিয়ে দিলো।
-পানিটা খাও।
মাথা ঠান্ডা করো।
গলা শুকিয়েছে নিশ্চয়ই।
পানিটুকু পান করে আবার শুরু করো পাগলামো! কেমন?
শীতল তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো রাজের উপর।
-আমি সুস্থ।
-সে তো দেখায় যাচ্ছে।
-যা বলেছি তা ভেবে চিন্তে বলেছি।
-ওআচ্ছা।
-আমি সিরিয়াস।
-আমিও তো সিরিয়াস।
-আমি আর থাকবো না আপনার সাথে।
-স্বামী-স্ত্রী একসাথে থাকে এটাই নিয়ম। তুমি চাও বা না চাও।
-তালাক হচ্ছে না বলেই আমরা স্বামী স্ত্রী একসাথে থাকবো এটা ভাবার কারণ নেই।
আমি যখন সব অধিকার থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি তখন শুধু শুধু তালাকের কি প্রয়োজন?
স্টেম পেপার দেখিয়ে শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে করবেন।
আমি প্রথম স্ত্রী আপনাকে ২য় বিয়ের অনুমতি দিলাম।
-শুধু ২য় বিয়ে?
-আরও করবেন?
রাজ মাথা চুলকালো।
-ঠিক আছে।৩য়, ৪র্থ, ৫ম ৬ষ্ঠ সব বিয়ের অনুমতি দিলাম।
খুশি?
-একদম।
তবে!
-তবে?
-সবগুলো বিয়ের কণে তুমি যেন হও। তোমাকেই আমি ২য়,৩য়,৪র্থ, ৫ম,৬ষ্ঠ বারেব মতো বিয়ে করে আমার স্ত্রী বানাব।
-আপনি আসলেই একটা পাগল। পাগল বললে কম হবে। পাগলের শশুর।
সাইকো।
-একদম রাইট।
সেটা বুদ্ধিমান সাইকো হবে। তুমি আল্লাহ তায়ালার দয়াতে বুদ্ধিমান সাইকোর ওয়াইফ।
– আল্লাহ তায়ালা আমাকে আসলেই দয়া করেছেন। আমার সৌভাগ্য তিনি আমাকে আপনার মতো সাইকোর বউ বানিয়েছেন।
-আল্লাহ কে থ্যাংকস বলো।

.
❤মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি নামের দুটি নাম (আরবি,বাংলা)
৬৮. ﺍﻟْﻘَﺎﺩِﺭُ আল-ক্বদির সর্বশক্তিমান
৬৯. ﺍﻟْﻤُﻘْﺘَﺪِﺭُ আল-মুক্বতাদির প্রভাবশালী, সিদ্ধান্তগ্রহণকারী
৭০. ﺍﻟْﻤُﻘَﺪِّﻡُ আল-মুক্বদ্দিম অগ্রগতিতে সহায়তা প্রদানকারী❤
.
চলবে……
.
.
#লালগোলাপ❤
Writer-Moon Hossain
Part-39

– আসলে…. । না থাক।
কথা বললেই কথা কাটাকাটি হবে। আপনার সাথে পারবো না।
তারচেয়ে বরং আমি আমার কাজ করি।
রাজ সোফায় বসে আছে।
শীতলের পাগলামি দেখছে।
শীতল তার কিছু জিনিসপত্র গোছাচ্ছে। বেশিকিছু সে বিয়ের সময় আনেনি।
যা এনেছে শুধু তাই নিয়ে যাবে। এক সুতাও বেশি নেবে না।
-আমি কি হেল্প করবো?
-না। ধন্যবাদ।
শীতল চেইন লাগাতে পাচ্ছেনা সুট কেসের।
একবার, দুবার, তিনবার, না হচ্ছে না।
শেষে রাজ এসে লাগালো।
-তুমি রেডি?
-একদম।
শুধু বোরখা পড়ব।
-তারপর তুমি মুক্ত।
তোমার ছুটি?
-জি হ্যাঁ।
শীতল বোরখা খুঁজে পেলো না। রাজাদের পুরো বাড়িতে কোন বোরখারও লেশ মাত্র নেই।
শীতল রেগে রাজের দিকে তাকিয়ে আছে।
রাজ কপাল চুলকাতে চুলকাতে বলল – প্রবলেম হলো বোরখা গুপ্ত স্থানে আছে।
যতদিন তোমার পাগলামি বন্ধ হবেনা ততদিন বোরখা প্রকাশিত হবেনা।
-এর খেসারত গুনতে হবে মিঃ রাজ।
-উফফ, রাজ। নাম ধরে ডাকলে। আবার বলো! আবার বলো?
তোমার মুখে আমার নাম! ভাবা যায়! কি যে মধুর মতো শোনালো।
-ভালো ভালোই বলে দিন।
-পাগল ভেবেছো আমায়? গুপ্তধনের কথা কেউ কাউকে পাগল ছাড়া বুঝি বলে?
শীতল সুটকেস নিয়ে লম্বা ঘোমটা দিয়ে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো।
রাজ এতোক্ষণে জোরে একটা ধমক দিলো শীতল কে।
-তুমি অনেক পাগলামি করেছো। তোমাকে সামলাতে তেরোটা বাজছে আমার।
তোমার মাথা এলোমেলো, মাথায় রাগ উঠেছে।
আমি অন্যায় করেছি। আমাকে মারও, কাটও, ভর্তা বানাও সরিষা তেল দিয়ে।
বাট সেটা আমার কাছে থেকে। দূরে গিয়ে নয়।
যা করার আমার কাছে করবে। কাছে থেকে শাস্তি দাও।
তোমার ট্রিটমেন্ট দরকার। সেটা এই বাড়িতে থেকে হবে।
বুঝেছো?
চলো ঘুমুতে চলো।
আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।
-একদম দূরে থাকবেন।
সহজ কথা বুঝতে পাচ্ছেন না? থাকবো না আপনার সাথে। আপনাকে মেনে নিতে পাচ্ছিনা। মন টানছে না সংসার করতে। কারণ আপনারা সবাই মিলে আমাকে আমার জায়গা দেখিয়েছেন বার বার।
আমি আসলেই কারও যোগ্য না। পারবো না আপনার সাথে থাকতে। মন থেকে আপনার সংসার করতে না পারলে পাপ বাড়বে, অলরেডি বহু পাপ হয়েছে আমার দ্বারা। আর বাড়াতে চাইনা।
মনে এক আর বাহিরে এক। এভাবে সংসার নামের পবিত্র সম্পর্ক নিয়ে খেলা করতে চাইনা আমি।
শীতল অজুর জন্য ওয়াশরুমে গেলো।
কথা বলতে বলতে নামাজের সময় হয়েছে।
নামাজ পড়েই রওনা হবে।

নামাজ পড়া শেষ হতেই রাজ শীতলের হাত ধরে বলল- আল্লাহর ইবাদত করলেই জান্নাতে যাবে ভেবেছো?
– আল্লাহর এবাদত করলেই তো জান্নাতে যেতে পারব।
– ভুল ধারণা তোমার। আমার প্রতি ক্রোধের বসে সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান টুকু হারিয়ে ফেলেছো তুমি।
আল্লাহর রহমত ছাড়া কখনো জান্নাতে যেতে পারবেনা।
আমি একটা সময় পাগল ছিলাম। তাই ভুল করেছি।
আর তুমিও সেই ভুল করছো।
স্বামীকে দূরে ঠেলে দিলে আল্লাহ তায়ালা তোমার উপর সন্তুষ্ট থাকবেনা।
তোমার উপর রহমত বর্ষিত করবে না।
শুধু এবাদত করলেই কেউ জান্নাতে যায়না, আল্লাহ রহমত করলে তবে যাওয়া যায়। আমলে নয়, রহমতে জান্নাত মিলে –
হযরত জিবরাঈল (আঃ) নবী করীম (সাঃ)-এর কাছে এসে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। এক ব্যক্তি পাহাড়ের উচ্চ চূড়ায় পাঁচশ বছর ধরে আল্লাহ পাকের ইবাদতে মশগুল ছিল। ঐ পাহাড়ের চারদিক লবণাক্ত পানি দ্বারা বেষ্টিত ছিল। আল্লাহ তা’আলা তার জন্য পাহাড়ের অভ্যন্তরে সুপেয় পানির ঝর্ণা এবং একটি আনার গাছের সৃষ্টি করেন।
প্রতিদিন সেই ব্যক্তি আনার ফল খেত এবং পানি পান করত। আর পানি দিয়ে অযূ করত। সে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ তা’আলার কাছে এই দু’আ করল- হে আল্লাহ্‌! আমার দেহ থেকে রূহ যেন সেজদারত অবস্থায় কবয করার ব্যবস্থা করা হয়। আল্লাহ্‌ তা’আলা তার এই দু’আ কবুল করেন। হযরত জিবরাঈল (আঃ) বলেন- আমি আসমানে আসা যাওয়ার সময় তাকে সেজদারত দেখতাম। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ তা’আলা তার সম্পর্কে বলবেনঃ আমার এই বান্দাকে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও। ঐ ব্যক্তি বলবে না, বরং আমার আমলের বরকতে।
তখন নির্দেশ আসবে- আমার নিয়ামতের বিপরীতে তার কৃতামল পরিমাপ কর। পরিমাপ করে দেখা যাবে, পাঁচশ বছরের ইবাদাত খতম হয়ে গেছে একটি চোখের নিয়ামতের বিনিময়ে।
তখন আল্লাহ্‌ পাক নির্দেশ দিবেনঃ আমার বান্দাকে জাহান্নামে নিয়ে যাও। ফেরেশতারা তখন তাকে নিয়ে রওয়ানা হবে। কিছুদূর যাওয়ার পর ঐ ব্যক্তি আরয করবে হে আল্লাহ্‌! আমাকে তোমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও। নির্দেশ আসবে তাকে ফিরত নিয়ে আস। আল্লাহ্‌ পাকের নিকট ফিরিয়ে আনার পর তাকে নিচের প্রশ্নগুলো করা হবে আর সে বলবেঃ-
– তোমাকে কে সৃষ্টি করেছেন? – আল্লাহ, আপনি। – এই কাজটা তোমার আমল না আমার রহমতের বরকতে হয়েছে? – আপনার রহমতে। – তোমাকে পাঁচশ বছর ইবাদাত করার শক্তি ও তাওফীক কে দিয়েছে? – হে আল্লাহ্‌! আপনি। – সমুদ্রের মাঝে পাহাড়ের উপর তোমাকে কে পৌঁছিয়েছে? লবণাক্ত পানির মাঝে সুপেয় পানির ব্যবস্থা কে করেছে? আনার গাছ কে সৃষ্টি করেছে? তোমার দরখাস্ত মুতাবেক সেজদার মাঝে কে তোমার রূহ কবয করার ব্যবস্থা করেছে? -হে পরওয়ারদিগার! আপনি। তখন ইরশাদ হবেঃ এই সব কিছু আমার রহমতে হয়েছে এবং আমার রহমতেই তোমাকে জান্নাতে দাখিল করছি।
রিয়াযুস স্বালেহীনঃ ২/৫৩,৫৪।
আমাদের মহানবী রাসূল (সাঃ)বলেন:—
আল্লাহর রহমত ছাড়া কেউ
জান্নাতে যেতে পারবেনা!!!
[মিশকাত-২৩৭২]
শীতল মাথা নিচু করে রইলো।
সত্যি সে ক্রোধে ধর্মীয় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। আল্লাহর কাছে সে মাফ চাইলো।
রাজ শান্ত ভাবে বলল- আমার কি হবে? এটা বলো?
– আজ চলে যাব। কাল আবার বিয়ে করবেন।
নতুন বউের মুখ দেখলেই পুরোনো বউকে ভুলে যাবেন।
তাছাড়া আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত লাল ছোপ ছোপ দাগ রয়েছে। আমি অত্যন্ত কুৎসিত। ভালো তাকালে পোড়া ফোঁসকা দাগ গুলো দেখতে পারবেন।
নতুন বউয়ের রুপ দেখলেই আপনার কুৎসিত গরীব ব্যাকওয়ার্ড বউয়ের কথা মনে থাকবেনা। দরকার পড়লে তিনটা, চারটা, দশটা বিয়ে করবেন।
রাজের হঠাৎ কি যেন হলো সে শীতলের গালে কষে থাপ্পড় দিলো।
শীতল মেঝেতে পড়ে গেলো।
রাজের চোখ থেকে রক্ত আগুন বের হচ্ছে। মনে হচ্ছে আগুনের গোলা।
কেমন সাইকো দের মতো দেখাচ্ছে তাকে।

শীতলকে ফ্লোরেই গলা চেপে ধরে বলল- ২য় বিয়ের কথা এবার বল? আমি না হয় পাগল তাই বলে তোকেও পাগল হতে হবে? আজ তোকে মাডার করব। তারপর আমি নিজে মাডার হবো। দুজনের আজ একসাথে জানাযা হবে।
রাজের থাপ্পড়ে শীতল ফ্লোরে পড়ে ছিলো।
মাথা ফুলে কুমড়ো হয়ে গেলো তার। কিছুক্ষণ আগেই জ্ঞান হারিয়েছে সে।
শীতল নড়াচড়া করছে না দেখে রাজ তাকে ছেড়ে দিলো।
সে এটা কি করলো! এমনিতেই শীতল অসুস্থ। দূর্বল খুব ।
তার উপর এভাবে রাজ প্রহার করলো।
বার বার ২য় বিয়ে করে করে রাজের মাথাটা নষ্ট করে ফেলেছিলো শীতল।
রাজের খুব ভয় লাগতে শুরু করলো।
শীতল বেঁচে আছে নাকি।
মাথা থেকে রক্ত পড়ছে।
কাজের লোকেরা ওদের ঝগড়া শুনছিলো।
ঝগড়া হঠাৎ থেমে যাওয়াই সবাই একটু ভয় পেলো।
রাজের সম্পর্কে তাদের ধারণা আছে।
সে নিজের ক্ষতি করে বসে সব সময়।
নতুন কাজের মেয়েটা উঁকি দিয়ে ফ্লোরে রক্ত পেলো।
শীতল কে পড়ে থাকতেও দেখলো ফ্লোরে।।
পাশে দাড়িয়ে তাদের সাহবেকে মাথায় হাত দিয়ে
ঝিমুতে দেখলো সে।
রাজও শীতলের মতো জ্ঞান হারালো।
কাজের লোকেরা হাসান সব জানালো। হাসান বাড়িতে ডক্টরকে খবর দিলো।
রাজের জ্ঞান ফিরেছে।
-হ্যালো মিঃ রাজ। আর ইউ ওকে?
রাজের মাথা ভারি।
সে ধপ করে উঠে বসলো।
শীতলের কথা মনে পড়ছে।
ফ্লোরে রক্তাক্ত অবস্থায় ওকে লাস্ট দেখেছিলো।
শীতল কোথায়?
রাজ জোরো জোরে ভারি কন্ঠে বলল- আমার ওয়াইফ কোথায়? ডক্টর ওকে আমি আঘাত করেছিলাম।
ওর কপাল থেকে ব্লিডিং পড়ছিলো। এমনিতেই কত দূর্বল ছিলো।
ও তো এবার আমাকে আরও সহ্য করবেনা।
-রিলাক্স। মিঃ রাজ।
ভয়ের কারণ নেই।
শি ইজ নাও আউট অফ ডেন্জার।
বেডের দিকে তাকিয়ে দেখুন।
রাজ সোফায় বসে ছিলো।
বেডের দিকে তাকিয়ে শীতলকে দেখলো।
রাজ দৌড়ে শীতলের কাছে গেলো।
শীতলকে জরিয়ে ধরলো।
চুমু খেলো।
আঘাতের স্থান গুলোতে অজস্র চুমু দিলো।
লেডি ডক্টর বলল- মিঃ রাজ। কিছু কথা ছিলো।
বলা দরকার।
এতে আপনাদের দুজনের জন্য ভালো হবে।
-বলুন!
ওর সাথে থাকার জন্য সবকিছু করতে পারি।
– আপনাদের নতুন ভাবে সংসার করার জন্য কিছুদিন মিসেস রাজ কে আলাদা থাকতে দিতে হবে।
-সম্ভব না।
-আাহা! শুনুন পুরো কথা।
আপনার কষ্ট হবে।
তবুও সারাজীবন একসাথে থাকার জন্য কিছুূিন আলাদা থাকতেই হবে।
আমি আপনাদের বিয়ে থেকে এই পর্যন্ত সকল ঘটনা শুনেছি। নানান তথ্য বের করেছি।
মিসেস রাজ ধার্মিক নারী। এই ধরনের নারীরা আত্মমর্যাদা সম্পন্ন হয়। এরা সব সহ্য করে। গডের উপর এদের অগাধ ট্রাস্ট।
বাট একটা সময় হঠাৎ বেঁকে বসে। যেমনটা উনি এখন করছেন।
আপনার কিছুটা দোষ আছে।
-স্বীকার করছি।
– তবে পুরোপুরি দোষটা কারও নয়।
আপনাকে শক্ত হতে হবে।
আপনারা দুজন দুজনকে ভালোবাসেন প্রচন্ড। এটাই প্রবলেম। যেখানে ভালোবাসা বেশি সেখানে অভিমান বেশি।
আপনি বা আপনার কারণে , জেনে বুঝে হোক বা অজানা ভাবেই হোক উনি দারুণ দুঃখ পেয়েছেন।
উনি আপনার স্টেটাসের মেয়ে নয়। নিজেকে তিনি ছোট ভাবছেন। আপনার অযোগ্য ভাবছেন। আপনি উনাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারেন নি। আপনি মানসিক রোগি ছিলেন। উনাকে বুঝেন নি।
দিনের পর দিন নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে ভুগতে আজ উনি এমন এক রোখা হয়েছেন।
আপনজনদের হারিয়েছেন।
সন্তান হারিয়েছেন৷
এসবকিছু আপনার জন্যও কিছুটা দায়ী।
উনি আপনাকে দোষী না ভাবলেও উনার অবচেতন মন দোষী ভাবছে।
উনি ধার্মিক নারী তাই ভাবছেন মনের বিরুদ্ধে আপনার সাথে সংসার করলে ছলনা হবে। পাপ হবে।
-তাহলে কি একেবারে ওকে ছেড়ে দেব? চেষ্টা করবো না ওর ধারণা গুলো শুধরাবার।
ওকে যতটা দুঃখ, অবহেলা, কষ্ট দিয়েছি ততটা সুখ দেওয়ার?
-অবশ্যই। বাট উনাকে টাইম দিতে হবে।
কিছুদিন একা ছেড়ে দিতে হবে। নিজের মতো জীবন যাপন করার সুযোগ দিতে হবে।
অতি সরল ধার্মিক মানুষ অভিমান করলে তা সহজে দূর হয়না।
উনার বেলাও তাই।
উনি দূরে থাকলেই আপনাকে মিস করবে,মিস করলেই আপনার থেকে দূরে থাকতে পারবেনা। ছুটে আসবে।
সব রাগ, অভিমান বরফের মতো গলে যাবে আপনা-আপনি। উনি আপনাকে মাফ করে দেবেন মন থেকে।
জোর করে কারও কাছ থেকে মাফ আদায় করা যায়না মিঃ রাজ। ভালোবাসাও না।
রাজ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো।
শীতলের দিকে তাকালো।
শীতলকে খুব আদর দিলো।
অজস্র চুমু খেলো।
রাজ পকেটে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে।
তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছে সে শীতলের উপর।
সকালে শীতলের ঘুম ভাঙতেই সে যাওয়ার জন্য অস্হির হয়েছে।
নাশতা না করেই সে বোরখা পড়ে নিলো।
বোরখা গুলো বেডের একপাশে রাখা ছিলো।
রাজের পাশ দিয়ে দরজার ধারে যাওয়ার সময় শীতলের বুক কাঁপতে লাগলো।
রাজ কিছু বলছেনা বলে আরও ভয় কাজ করছে।
হঠাৎ রাজ বলল- শ্রেয়সী!
-জ্বি!
নাশতা খেয়ে নাও।
ঔষধ খাও।
ড্রাইভার তোমাকে পৌঁছে দেবে।
-ধন্যবাদ। আমি ট্রেন দিয়ে যাব।
সময় হয়েছে তাই খেতে পারব না।
-শ্রেয়সী!
-জ্বি।
-আঘাতের জন্য মাফ চাওয়ার মুখ নেই আমার। পারলে মাফ করে দিও।
যদি পারও বিয়ে থেকে আজ পর্যন্ত যা যা করেছি তোমার সাথে সে সব গুলোর জন্য মাফ করে দিও।
-আমার কোন অভিযোগ নেই।
শীতল বাড়ির সব কাজের লোকদের কাছে বিধায় নিলো শুধু রাজ ছাড়া।
রাজ উপর থেকে সবকিছু দেখলো।
শীতল মেইন ডোরে যেতেই রাজ ডাক দিলো।
শীতল ভেবেছে তাকে আটকাবে।
-জ্বি।
-নাথিও। গেট আউট ফর্ম হেয়ার!
নতুন জীবনের জন্য শুভেচ্ছা।
শীতল মাথা নাড়িয়ে চলে এলো রাস্তায়।
পেছন ফিরে তাকালে বা রাজের কাছ থেকে বিধায় নিলে কখনো সে সংসার বা রাজকে ত্যাগ করতে পারবে না।
সিএনজি দিয়ে শীতল সোজা স্টেশনে গেলো।
শীতলের মনে হচ্ছিলো পেছনের সিএনজি তাকে ফলো করছে।
টিকিট নিয়ে সে দেখতে থাকলো। টিকিটটা তার মুক্তির সনদ।
কামরায় বসে আছে।
মনে হচ্ছে এবারও তাকে কেউ লক্ষ্য করছে পাশের কামরা থেকে।
শীতলের মা কিছু বললো না একেবারে চলে আসাতে।
শীতলের মনে হচ্ছে জানালা দিয়ে কেউ তাকে দেখছে।
দুই এক দিনের মধ্যে শীতল অনার্স ফাইনাল এক্সাম দিতে আবার ময়মনসিংহে এলো।
সিট পড়েছে আনন্দমোহন।
শীতল তার হোস্টেলের বান্ধবীর সাথে হোস্টেলে থেকে এক্সাম দিলো।
পড়ার খুব চাপ।
শীতলের মনে হচ্ছিলো জানালা দিয়ে কেউ তাকে দেখছে। ঐ তো ল্যাম্পপোস্টের আলোতে কাউকে দেখা যাচ্ছে। মাঝরাত পর্যন্ত পড়ার পর যখন হোস্টেলের জানালা বন্ধ করতে যায় শীতল তখন কারও ছায়া দেখা যায় জানালার পাশে ল্যাম্পপোস্টের নিচে। প্রতিদিন এই ছায়া দেখা যায়। হলে যাওয়ার সময়ও কাউকে সে অনুভব করে।
রাজকে একদিনও দেখতে পেলো না শীতল। একবারও ফোনও করলো না রাজ।
রাজ যেন ডুব দিয়ে আছে কোথাও। কোথাও চলে গেলো নাকি দেশ ছেড়ে?
এক্সাম শেষ হতেই সে একটা জব পেয়ে গেলো বান্ধবীর সাহায্যে।
ভালো পোস্ট।
হাই ফাই স্যালারি।। দুই বান্ধবী একসাথে প্রথম দিন জয়েন দিতে গেলো অফিসে।
বেশ গোছালো অফিস।।
জয়েনের দিন বসের সাথে পরিচিত হতে হবে একজন একজন করে।
প্রথমে শীতলের বান্ধবী শিশির গেলো দেখা করতে।
সে এসে বলল এমন ভদ্রলোক ২য় দেখেনি।
খুব ধার্মিক। বিনয়ী।
শীতল ভরসা পেলো।
ডোর নক করলো শীতল।
বস ইজিচেয়ারে পেছন ফিরে ফাইল দেখছিলো। তাই বসকে দেখা গেলো না।
হাত দিয়ে ইশারা করলো ঢুকতে।
শীতল ভেতরে ঢুকতেই হাত দিয়ে ইশারা পেলো বসার।
শীতল ইতস্ত করে বসলো।
পেছনে তাকালো।
দরজা খোলা রেখে এসেছে সে।
আধ ঘন্টা হয়েছে। এখনো বস সামনে ফেরেন নি।। একটা কথাও বলেন নি।
শীতল বসে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়লো চেয়ারে টেবিলের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে মাথা রেখে।
বস সামনে ফিরে নতুন কর্মচারীকে ঘুমুন্ত অবস্থায় দেখে হতভম্ব!!!!

.
চলবে………
❤মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি নামের তিনটি নাম (আরবি,বাংলা)

৭১. ﺍﻟْﻤُﺆَﺧِّﺮُ আল-মুআক্ষির বিলম্বকারী
৭২.ﺍﻟْﺄَﻭَّﻝُ আল-আউয়াল সর্বপ্রথম, যার কোন শুরু নাই
৭৩ ﺍﻟْﺂﺧِﺮُ আল-আখির সর্বশেষ,যার কোন শেষ নাই❤
.
চলবে……….