লালগোলাপ? Part-33

0
1984

লালগোলাপ?
Part-33
Writer_Moon Hossain

শীতলের চুল গুলো কানে গুজে কপালে চুমু দিলো রাজ।শীতল হালকা নড়ে উঠলো।
প্রচুর রক্তক্ষরণে শীতলকে ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে।
শীতল ঘুমুচ্ছে।
রাজ শীতলের হাত ধরে বসে আছে৷ কখন জ্ঞান ফেরে সেই আশায়। মাঝে মাঝে শীতলের গলায় মুখ গুজে কাঁদে। পেটে হাত বুলিয়ে দেয়।
-অনেক কষ্ট হচ্ছে তোমার?
খুব ব্যথা পাচ্ছো?
ভালো হয়ে যাবে, আমি আছি তো।
শীতল চোখ মেলে তাকালো।
একদিন পর শীতলের জ্ঞান ফিরলো। এইসময় টুকু শীতলের হাত ধরে বসে ছিলো রাজ। শুধু নামাজের সময়টুকু নামাজ পড়েছে।
-কেমন ফিল করছো?
-?
-কেমন লাগছে?
?
-ব্যথা কমেছে?
ওআচ্ছা, ভুলে গিয়েছি।
ঔষধ না পেলে সারবে কিভাবে? আমি তো ঔষধ খাওয়ায়নি তোমায়।
দাড়াও ঔষধ খাওয়াচ্ছি।
রাজ অজস্র চুমু দিলো শীতলক কে।
-আরও লাগবে?
এবার ঠিক হয়ে যাবে।
শীতল চুপচাপ শুয়ে আছে। সে কোনো কথা বললো না।
রাজ একটু অস্বস্তি ফিল করছে।
মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে বার বার শীতলের সুস্থতার জন্য দোয়া করছে রাজ।
-মিঃ রাজ আপনার ওয়াইফ অধীক শোকে পাথর হয়েছে। উনাকে যে করে হোক কাঁদাতে হবে।
কাঁদলে ভেতরে জমানো কষ্ট সব চলে যাবে।
উনি স্বাভাবিক হয়ে যাবেন।
রাজ নিজেকে শক্ত করে শীতলের কাছে গেলো।
-জানো, আমাদের বেবি কতটা কিউট ছিলো?
দেখতে তোমার মতো কিউট ছিলো। বড় হলে অবশ্য আমার মতো স্মার্ট হতো।
ও যে কেন আমাদের ছেড়ে চলে গেলো।
কেন আল্লাহ তায়ালা বাবা মায়ের বুক খালি করেন!
আমাদের সন্তান তার বাবা মায়ের কোলে খালি করে একাই আল্লাহ তায়ালার কাছে চলে গিয়েছে।
বেঁচে থাকলে আমরা ওকে কত আদর,যত্ন দিয়ে বড় করতাম।
শীতলের ভারী নিশ্বাসের আওয়াজ পেলো রাজ।
শীতল এরমধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছে।
রাজের কোন কথায় তার কানে যায়নি।
শীতল পাঁচ ঘন্টা ঘুমুলো। রাজ পাঁচ ঘন্টায় শীতলের খুব কাছে থেকে পলকহীন ভাবে ওকে দেখেছে।
পাঁচ ঘন্টায় একটা পলকও পড়েনি তার চোখে।
এতোদিন শীতল স্যালাইনে ছিলো। আলাদা খাবারের প্রয়োজন পড়েনি।
এখন নিশ্চয়ই খুব ক্ষিদে পেয়েছে।
-আমার জীবন। আমার আদরের শ্রেয়সী। হা করো।
একটু একটু খেয়ে নাও।
একটু খেয়ে নাও, গায়ে এনার্জি পাবে।
তুমি কতটা দূর্বল তা তো জানো না।
অনেক চেষ্টা করে শীতলকে একটু খাওয়ানো গেলো।
খাওয়ানোর পরেই সে বমি করে দিলো।
রাজও কিছু খেলো না।
শীতল না খেয়ে আছে। কিছুই মুখে দিতে পাচ্ছে না।
যা খাচ্ছে তা সবটাই ও বমি করে ফেলে দিচ্ছে।
রাজের খুব টেনশন হচ্ছে।
আল্লাহর তায়ালার কাছে দোয়া করছে যেন শীতল খেতে পারে।
এভাবে না খেয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে খুব ওর।
এতোটাই দূর্বল যে শোয়া থেকে উঠতেই পাচ্ছেনা।
-মিঃ রাজ।
আপনি অফিসে যান।
অফিসের ঝামেলা মেটান।
-যাব না। অফিস দিয়ে কি হবে? বিজনেস, টাকা-পয়সা দিয়ে কি করবো? নুডলস খাব?
আমার শ্রেয়সী কে ছেড়ে কোথাও যাব না।
ও একা হয়ে যাবে।
-আমরা আছি।একা হবে কেন? দুটো নার্স আর লেডি ডক্টর চব্বিশ ঘন্টা উনার ক্যাবিনে আছেন।
কোন সমস্যা হলে আপনাকে ফোনে জানাবো।
আপনি বরং অফিসে যান।
যাওয়ার সময় রাজ খুব শক্ত করে শীতলকে জরিয়ে ধরলো।
-আমি এখনই আসছি। তুমি একটু ঘুমুনোর চেষ্টা করো। ঘুমু ভেঙেই তোমার রাজ কে দেখতে পাবে, কেমন?
কপালে একটা চুমু দিয়ে রাজ বলল- তোমার কষ্ট দেখে আমার তোমার থেকে শতগুণ বেশি কষ্ট হচ্ছে।
সম্ভব হলে আমি তোমার জায়গায় আমাদের বেবিগুলো গর্ভে ধারণ করতাম।
মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আমার একটাই দোয়া, মেয়েদের জায়গায় যেন ছেলেরা প্রেগন্যান্ট হয়৷
তাহলে আদরের ওয়াইফদের এভাবে কষ্ট পেতে হবেনা।
তোমার এরকম ব্লিডিং হতো না যদি না তোমার জায়গায় আমি প্রেগন্যান্ট হতাম।
.
আল্লাহর রহমতে রাজ বড় অংকের এমাউন্ট একাউন্টে পেয়ে গেলো।
সব মসিবত সমাধান করে ফেললো।
শীতল ওর জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছিলো বলেই রাজের জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছিলো।
শীতল ওর জীবনে ফিরতেই আবার সবকিছু ফিরে পেতে লাগলো। জীবনে সুখ আসতে শুরু করেছে। এবার শীতলকে আগের মতো ফিরে পেলেই হলো।
রাজ মিষ্টি নিয়ে মসজিদে গেলো। ইমাম সাহেব সহ সবাইকে মিষ্টি মুখ করালো নিজ হাতে।
আছরের নামাজ পড়ে মেডিকেলে গেলো।
রাজের প্রতিটি দোয়ায় শুধু শীতল, শীতল, শীতল।
.
শীতলকে নার্স খাওয়াচ্ছো।
শীতল বাঁধা দিচ্ছে না।
চুপচাপ খাচ্ছে।
রাজ খুব খুশি হলো।
শীতল খাচ্ছে এটা তার কাছে মহা মূল্যবান কোন কিছু।
রাজ কে দেখেই শীতল খাওয়া বন্ধ করে দিলো।
রাজ হাসি মুখে একটু মিষ্টি শীতলের মুখে দিলো।
সাথে সাথেই বমি করে দিলো।
রাজ পানি এনে শীতলকে মুছে দিলো।
ফ্লোর ক্লিয়ার করতে বললো নার্সকে।
নার্সের হাত থেকে খাবার নিয়ে শীতলের মুখে দিতে গেলে সে মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
রাজ মুখ ফিরিয়ে জোর করে খাইয়ে দিলো।
– আমার জীবন। তুমি না খেলে আরও অসুস্থ হবে।
বাড়ি যেতে পারবেনা। তোমার কষ্ট হচ্ছে মেডিকেলে থাকতে।
এসো আমি খাইয়ে দিই অল্প করে। তুমি বুঝতেই পারবেনা আমি কখন খাইয়ে দেব৷
কাছে এসো।
-আমি খাব না।
-তুমি কথা বলছো?
বিশ্বাস হচ্ছেনা।
সিস্টার দেখুন, আমার জীবন, আমার শ্রেয়সী, কথা বলছে আমার সাথে।
রাজ খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলো।
-এইতো আরেকটু খাও।
-আপনার হাতে খাব না।
-মানে?
-আপনি থাকলে আমি কিছুই মুখে তুলব না।
-কি বলছো শ্রেয়সী?
-আমি পানিও স্পর্শ করবনা।
লেডি ডক্টর রাজকে বলল- মিঃ রাজ আপনি কেবিন থেকে বের হন।
আমরা উনাকে খাইয়ে দিচ্ছি।
রাজ আরেকবার খাওয়ানোর চেষ্টা করলো।
শীতল খেলো না।
রাজ জোর করে খাওয়াতে গেলে শীতল তা বমি করে ফেলে দিলো।
রাজ বুঝতে পেরেছে শীতল কি বোঝাতে চাচ্ছে।
রাজ যতবার শীতলকে খাওয়াবে ততবার শীতল বমি করে ফেলে দেবে।
নার্স শীতলকে খাওয়াচ্ছো।
শীতল আধশোয়া হয়ে খাচ্ছে।
কোন বাঁধা আা বমি করছে না।
স্বাভাবিক ভাবেই খাচ্ছে।
রাজের হৃদয়ে তোলপাড় শুরু হলো। মনে হচ্ছে হৃদয় বেরিয়ে পড়বে।
শীতল তার হাতে কেন খেলো না। সে তো এখন কিছু করেনি।
কতটা কষ্টে আছে শীতলের জন্য সেটা কি শীতল বুঝতে পাচ্ছেনা?
একটু গলার স্বর শোনার জন্য সে আকুল হয়ে আছে।
নিজ হাতে ভালোবাসার স্ত্রীর যত্ন নেওয়ার জন্য সারাদিন কেবিনে পড়ে থাকে।
রাজ থাকতে নার্স খাওয়াচ্ছে শীতল কে।
এটাও দেখতে হলো রাজকে!
রাজ তবুও খুশি হলো।
শীতল কথা বলেছে।
খাচ্ছে। এটাই আসল বিষয়।
আর কি চায় রাজের?
রাজ কেবিনের জানালার পর্দা দিয়ে চুপচাপ শীতলকে দেখছে।
খুব খুশি লাগছে শীতল খাচ্ছে বলে।
শীতল একটু সুস্থ হয়েছে।
আশংকা নেই। ব্লিডিং এর সমস্যা নেই।।
চেহেরায় আগের মতো জ্যোতি দেখা যাচ্ছে।
রাজ শীতলকে ঔষধ খাওয়াতে গেলে সে বেঁকে বসে।
রাজ জোর করলো না শীতলের অসুস্হতার কথা ভেবে।
সে চুপচাপ নার্সের হাতে ঔষধ দিয়ে চলে গেলো।
একেবারে নয়। পর্দার আড়ালে থেকে শীতলকে দেখে সে।
রাতে শীতলের সাথে ঘুমুতে গেলেও শীতল বেঁকে বসে।
-আমি ঘুমুব না।
-না ঘুমিয়ে কি করবে?
-বেলকুনিতে হাঁটব।
-এই সিচুয়েশনে বেলকুনিতে?
কষ্ট হবে তোমার।
-হোক।
আমি গেলাম।
শীতল এই শরীরে একাই বেড থেকে উঠে দাড়াচ্ছে।
রাজ শীতলকে জরিয়ে ধরে বললো – পাগলামি করোনা।। এই শরীরে বেড রেস্টে থাকতে হবে।
আমি চলে যাচ্ছি।
একেবারে নয়, কেবিনের বাহিরে থাকব।
তুমি উঠো না। ঘুমুতে যাও।
তোমাকে ডিস্টার্ব করবো না।
রাজ সারা রাত কেবিনের বাহিরে দাড়িয়ে থাকে। শীতলকে দেখে।
শীতল চুপচাপ জেগে থাকে। জেগে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়ে।
শীতল রাজকে তার আশেপাশেও সহ্য করছেনা আজকাল।
রাজ শীতলের সামনে আসলেই শীতল বেঁকে বসে।
কিছুই তাকে দিয়ে করানো যায়না৷
শীতলের অসুস্থতার কথা ভেবেই রাজ দূরে সরে আছে।
সুস্থ হলেই সে আঠার মতো লেগে থাকবে।
শীতলের এতো কাছে থেকেও
তাকে দূরে থাকতে হচ্ছে।
শীতল ওকে ঘেঁষতেই দিচ্ছে না।
ফজরের আজানের পর রাজ কেবিনে ঢুকলো।
শীতলকে ঢেকে তুললো।
শীতল চোখ খুললেই রাজ বলল-চলো ফজরের নামাজ পড়বে। কতদিন নামাজ পড়োনা। আমি তোমাকে হেল্প করব।
এর পর ইশরাকের নামাজ পড়ব আমরা। আগে আমি অসুস্থ থাকাকালীন আমাকে তুমি নামাজ পড়তে হেল্প করেছো। স্বামী হিসেবে এখন আমি তোমাকে হেল্প করব। বিভিন্ন নামাজের ফজিলত আমাকে বলতে, এবার আমি বলব।
যে নামাজে হজ্জ ওমরার সওয়াবঃ

দৈনিক মাত্র দশ মিনিট সময়ে আপনি হজ্জ এবং ওমরার সওয়াব অর্জন করতে পারেন। ফজরের নামাজ আদায় করে দু’চার রাকাত নামাজ আদায় করলেই আপনি এ সওয়াব লাভ করতে পারেন।

সূর্যয়ের অনুমানিক বিশ মিনিট পর ০২, ০৪, ০৬, ০৮, ১০ বা ১২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করাকে সালাতুল ইশরাক নামাজ বলে। হাদিশ শরিফে এর অনেক ফজীলত বর্ণিত হয়েছে।

* হযরত আনাস (রা.) বলেন, নবীজি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

– যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করে সূর্যের আলোয় চারদিক আলোকিত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর যিকির তথা, কুরআন শরীফ তেলাওয়াত, বিভিন্ন তাসবিহাত ইত্যাদি আদায়ে মগ্ন থাকে এরপর দু’রাকাত নফল নামাজ আদায় করে সে এক হজ্জ ও এক ওমরার সওয়াব অর্জন করবে।

বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আনাস (রা.) বলেন,

– নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) এ কথা তিনবার বলেছেন যে, পরিপূর্ণ হজ্জ ও ওমরার সওয়াব, পরিপূর্ণ হজ্জ ও ওমরার সওয়াব, পরিপূর্ণ হজ্জ ও ওমরার সওয়াব লাভ করবে সে। (তিরমিযী শরীফ 586)

* হযরত আবু দারদা ও হযরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন,

– হে আদম সন্তান ! তুমি দিনের প্রথম ভাগে আমার জন্য চার রাকাত নামায আদায় কর, আমি তোমার দিনের শেষ পর্যন্ত প্রয়োজন পূরণ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবো। (তিরমিযী শরীফ 475)

ইশরাকের আরো অনেক অনেক ফজীলত বর্ণিত হয়েছে।

ইশরাক নামাজ নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কয় রাকাত আদায় করতেন এ বিষয়ে আম্মাজান হযরত আয়শা (রা.) কে জিগ্যেস করলে তিনি বলেন,

– নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) চার রাকাত আদায় করতেন তবে কখনো বেশিও পড়তেন। (মুসলিম শরীফ 1/249)

আম্মাজান হযরত আয়শা (রা.) এর নিচের এই কথা থেকে ইশরাকের গুরুত্ব ও মূল্য সহজে অনুধাবন করা যায়, তিনি বলেন,

– তিনি আট রাকাত ইশরাক নামাজ আদায় করতেন আর বলতেন, ” যদি আমার পিতার পুনরুজ্জীবনের ওয়াদা করা হয় তবুও আমি এ নামাজ কখনো ছাড়বো না। ” (মুয়াত্তা মালেক 207)

“ ইবনে খায়ের ”
.

-মিঃ রাজ আপনার ওয়াইফ আশংকা মুক্ত।
উনার বেড রেস্ট প্রয়োজন। কেয়ারের প্রয়োজন। তাহলেই উনি মেন্টালি সুস্থ হবেন।
-ইয়েস ডক্টর।
কোনো ত্রুটি হবেনা।
আমি নিজে ওর কেয়ার নেব।
তার জন্য অফিস, বিজনেস সব বন্ধ।
আমি ওকে বাড়িতে আমার কাছে নিয়ে রাখব।
শীতলকে বাড়িতে আনা হলো।
আসার সময় শীতলের পাশে রাজ বসতেই সে গাড়ি থেকে নামা শুরু করলো।
-আমি নেমে পড়ব। তুমি থাক।
শীতলকে নিয়ে রাজের গাড়ি চলে গেলো।
রাজ শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলো।
এভাবে এক সেকেন্ডও দূরে থাকা সম্ভব নয় শীতল থেকে।
আর শীতল কি করছে?
শীতল শুয়ে আছে তাদের বেডরুমে।
শীতল সুস্থ হচ্ছে তাই শরীর ঘেমে একাকার হচ্ছে।
তার গরম লাগছে৷
শাড়ি খুলে সে একটা পাতলা চাদর টেনে শুয়ে আছে।
রাজ এতক্ষণ ড্রয়িংরুমে ছিলো।এখন সে আর শীতলকে ছাড়া থাকতে পাচ্ছেনা৷
শীতল ঘুমিয়েছে দেখে সে একটু শান্তি পেলো।
এই সুযোগ শীতলের কাছে যাওয়া। একটু জরিয়ে ধরা।। একটু ঘুমুনো।
শীতল টের পাবেনা।
রাজ চাদরের টুপ করে ঢুকে সামনে থেকে হালকা ভাবে শীতল কে জরিয়ে ধরলো।
আহা! কি শান্তি!
শীতলের কেমন নিজেকে ভারী ভারী লাগছে।
গরম গরম লাগছে৷
শীতলের শরীর ঘামে চটচটে হয়ে আছে।
কপালে বিন্দু বিন্দু পানি জমেছে। নাকেও জমেছে।
রাজ ঠোঁট দিয়ে মুছে দিলো।
কত কষ্ট পেয়েছে মেয়েটা। তাই একটু একরোখা হয়ে আছে।
রাজ প্রকান্ড ধাক্কা পেলো।
শীতল জেগেছে।
রাজকে নিজের কাছ থেকে সরানোর জন্য ধাক্কা দিচ্ছে।
-কি হয়েছে? আমার জীবন! আমার শ্রেয়সী!
-গরম লাগছে।
-সরি।
এইতো দূর সরে গেলাম।
-আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ঘুমুচ্ছি। অন্যকাউকে অনুমতি দিইনি যে সে আমার সাথে ঘুমুবে।
শীতল চাদরটা সারা গেয়ে টেনে নিলো।
-মানা করেছে কে ঘুমাও তুমি।
কেউ আসবেনা আমাদের বেডরুমে।
-এসেই তো পড়েছে।
ব্যাক্তিগত মানে শুধু নিজে। আমি নিজে একা ঘুমুতে চাই।
-স্বামী-স্ত্রীর আবার ব্যাক্তিগত কি? আমরা তো দুজন একই।
শীতল রাজের কথায় কান না দিয়ে বেড থেকে উঠে পড়লো।
দাঁড়ানো সময় চাদরে প্যাঁচ লেগে পড়ে যেতে থাকলো।
চোখ খুলে রাজ কে দেখতে পেলো।
গায়ে একটুও শক্তি নেই।
তবুও সে দূরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
মানুষকে কতটা অসহ্য লাগলে এই সিচুয়েশনে দূরে যেতে চায়। সরাসরি রাজের সাথে কথাও বলেনা শীতল।
রাজ আরও শক্ত করে শীতলকে জরিয়ে ধরো বুকে।
মাথায় হাত বুলিয়ে বলল- তুমি অসুস্থ। নিজে নিজে দাঁড়াতেও পারোনা। এমন করছো কেন?
কথা বলো আমার সাথে?
-আমাকে ছাড়ুন।
-আহা! কতকাল পর আমার সাথে কথা বললে।
বাট ছাড়তে বলছো কেন?
ছাড়ার জন্য ধরিনি।
-আমাকে ছাড়ুন।
কারও স্পর্শ আমার ভালো লাগেনা।
-কি সব বলছো? আমি কি অন্যকেউ? আমি তোমাকে একশত বার স্পর্শ করবো।
– আমাকে ছাড়ুন।
-ছাড়বনা। ছাড়লে পড়ে যাবে। নিচে পড়ে হাত পা ভাঙবে।
-ছাড়ুন। পড়ে গেলে পড়ে যাব।
তবুও ছাড়ুন।
রাজ দুই হাত দিয়ে শীতলকে জরিয়ে ধরেছিলো।
ছেড়ে দিতেই শীতল টুপ করে নিচে পড়ে গেলো।
উঠে বসার শক্তিও নেই।
শীতল আহ! করে উঠলো।
রাজের চোখে পানি এসে পড়লো।
সেও শীতলের পাশে ফ্লোরে বসলো।
শীতলকে স্পর্শ করতেই সে মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
রাজ এবার একটু রেগে গেলো।
শীতলকে কোলে তুলে নিলো জোর করে।
শীতল হাত পা ছড়াছড়ি করতে লাগলো।
রাজ শীতলকে বিছনায় শুয়ে শীতলের দুই হাত নিজের দুই হাত দিয়ে চেপে ধরলো শীতলের উপর থেকে।
শীতল চোখ বন্ধ করলো।
-চোখ বন্ধ করছো কেন?
-তাকাও আমার দিকে? লজ্জা পাচ্ছো নাকি?
অবশ্য সজ্ঞানে এটাই আমাদের প্রথম কাছে আসা।
লজ্জা পেয়ো না। এখন বাসর করছিনা।
তোমার গায়ে একটুও শক্তি নেই। রোমান্স করে সন্তুষ্টি হবে না। সুস্থ হও তখন না হয়…।
রাজ রোমান্টিক একটা হাসি দিলো।
শীতল চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায় বলল- আমাকে ছাড়ুন। উপর থেকে উঠুন।
-প্রশ্নই আসেনা।
তোমার উপর ভর দিইনি যে কষ্ট পাচ্ছো। তোমার নকড়া বন্ধ না করা পর্যন্ত উঠব না এবং তোমাকেও উঠতে দেব না৷
ছাড়ছি না তোমাকে।
-একবার ছাড়া পেলে এর মাশুল দিতে হবে।
আমি এখান থেকে চলে যাব। অনেক দূরে যাব।
আপনার থেকেও দূরে।
রাজের থেকে দূরে যাওয়ার কথা শুনেই রাজের মস্তিষ্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।
-কি বললে?
-জোরেই বলেছি।
-আবার বলো? চলে যাবে মানে? আমার থেকে দূরে যাবে?
তোমাকে এক সেকেন্ডও না দেখে আমি থাকতে পারিনা।
মনে হয় আজরাইল জান কবজ করতে এসেছে।
রাজ অজস্র চুমু খেলো শীতলকে। শেষে শীতলের ঠোঁটে চুমু খেলো ডীপলি।
– আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তুমি ছাড়া। তোমার দূরে যাওয়া সপ্নেও ভাবতে পারিনা। আর এরকম বলবে না।
-আমাকে আরেকবার চুমু দিলে নিজেকে শেষ করে দেব। ছাড়ুন আমাকে স্পর্শ করবেন না।পাগল কোথাকার।
শীতলের মুখে পাগল কথা শুনে রাজের ভেতর ভেঙে গেলো সবকিছু। শীতল যেন হাজার তীর নিয়ে রাজকে বিধ্বস্ত করেছে।
-পাগল? হ্যাঁ আমি পাগল।
এখনো আমার মাথায় পাগলামি রয়ে গিয়েছে। আমি হলাম চালাক পাগল।
চালাক, চতুর পাগল কি করতে পারে তার আইডিয়া নেই তোমার।
তবে এখন দেখবে।
অসুস্থ বলে অনেক ছাড় দিয়েছি। আর না।
এসব নকড়া বন্ধ করো।
কেন করছো তা বলো?
আর নিতে পাচ্ছি না তোমার ইগনোর।।
আর একবার ইগনোর করলে তোমাকে কাঁচা আস্তো গিলে ফেলব। বলে দিলাম।
আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিও না। খুব বাজে হবে তোমার জন্য।

.
❤মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি নামের তিনটি নাম(আরবি,বাংলা)
.

চলবে….