সাইকো বস পর্ব-০৯

0
1615

#সাইকো বস
#নাহিদা ইসলাম
পর্ব ৯

তোর বউ এর গুষ্টি কিলাই। কোনো একটা সুযোগ পাইলে ই আমি চলে যাবো দূরে কোথাও, তুই পাবি না।

—আচ্ছা এতো ভাবতে হবে না আমি যাচ্ছি বাহিরে বেশিক্ষণ থাকতে পারবো না কিন্তু তোমাকে ছাড়া।

— ঢং দেখো নি আমাকে ছাড়া কী আফ্রিকা যাচ্ছেন এমন ভাবে বলছেন যে।

— না বউ ছাড়া থাকতে পারবো না এইটা বুঝালাম তোমাকে। আচ্ছা যাই আমি দ্রুত শাড়ি টা পড়ে নেও।

চলে গেলো শুভ্র বাহিরে ইচ্ছে না থাকা সর্তে ও শাড়িটা কোনো রকম পড়লাম। শাড়ি পড়েছি বললে ভুল হবে গায়ে পাচালাম মাএ।

আমি তো শাড়ি পড়তে পারি না সব সময় আম্মু পড়িয়ে দিতো। শুভ্র কে রুমে আসতে বললাম। আমাকে দেখি হা হয়ে তাকি আছে।

—এটা তুমি কী করেছো এটাকে শাড়ি পড়া বলে নাকি। দেও আমি ঠিক করে দেই।

— এই না না আপনি আমাকে ছোঁবেন না। আমি নিজে ই তো ঠিক করে নিতে পারবো। আর আপনি ই শাড়ি পড়ানো পাড়বেন কী করে কখনো কী কউকে পড়িয়ে দিয়েছেন নাকি।

— নাহ তোমাকে পড়িয়ে দিবো বলে ইউটিউব দেখে দেখে শিখেছি। আসো কাছে ঠিকে করে দেই।

না না এটা হবে না। এটা বলে আমি সারা রুম একপ্রকার দৌড়াচ্ছি উনি যেন আমাকে ধরতে না পারে। উনি ও আমার পিছনে লেগে আছে।

শাড়ি পড়ে তো হাটা ই যায় না দৌড়ানো তো অসম্ভব তা ও যেটুকু পারছি করছি। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না শাড়ির মধ্যে পা লেগে বিছানায় পড়ে যাই। উনি ও আমার উপরে এসে পড়ে,

— এখন কী করবা কলিজা।

—আমি উনার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি, আজ অন্য রকম লাগছে, কেনো জানি প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করছে, কিন্তু আমি তো চাই না আমার এমন অনুভূতি হক।

উনি আমার পেটে সাইড করে কুঁচির ভেতরে হাত দিয়ে বলে এখন শাড়ি খুলে ফেলি এতোক্ষণ যে আমাকে কষ্ট দিলে এটার পানিশমেন্ট।
শুভ্র স্পর্শে আমি কেপে উঠলাম। শুভ্র আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে উঠে বসলাম। শুভ্র বেডের সাইডে পিছনে বালিশ দিয়ে আধশোয়া হয়ে বসে আছে আমাকে টেনে শুভ্র বুকের মধ্যে নিয়ে যায় বলতে শুরু করে..

জানো অহনা সকালে যখন মাহিম কে তোমাকে ঐ ভাবে দেখেছি তখন তোমাকে অনেক কিছু বলেছি মাথা ঠিক ছিলো না। ঐ টাইমে বিয়েটা ছাড়া আমার হাতে অন্য কোনো অপশন ছিলো না। পাগলের মতো লাগছিলো তোমাকো ঐভাবে দেখে। আমি জানি তুমি এমন না তা ও রাগে অনেক কথা শোনিয়েছি, সরি অহনা ভুল হয়ে গেছে আমার। সবাই তোমাকে অনেক কথা শোনিয়েছে এটা আমি জানি।

তুমি আমার না এটা আমি কল্পনা ও করতে পারি না। তোমাকে আমার থেকে দূরে রাখতে কষ্ট হয়, যত দ্রুত সম্ভব তোমাকে আমার কাছে নিয়ে আসবো, বুঝলা।

এই অহনা কিছু বলো, এতোগুলো কথা বললাম।

শুভ্র তাকিয়ে দেখে অহনা ঘুমিয়ে পড়েছে। তাহলে কী অহনা কথাগুলো শোনে নাই। ঘুমন্ত অহানার মিষ্টি মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে আজকে ই প্রথম দেখা হলো তাদের।

রাত প্রায় চারটা,

অহনার নড়তে অসুবিধে হচ্ছে তাই ঘুম ভেঙ্গে গেলো। উঠে দেখে শুভ্র এখনো তাকিয়ে আছে।

— আপনি ঘুমান নাই আর এতোক্ষণ কী আপনি আমাকে এভাবে বুকে জরিয়ে রেখেছেন।

—হুম জান পাখি, আমি মন ভরে তোমাকে দেখলাম এভাবে তোমার দিকে অনন্ত কাল চেয়ে থাকতে পারবো।

— রোমান্টিক আলাপ বাদ দিয়ে আমাকে বাসায় দিয়ে আসেন। বাসায় যাবো আমি।

— আচ্ছা চলো।

এই বলে কুলে তুলে নিয়ে গাড়িতে বসালো। বাসার সামনে যাওয়ার পর আমি গাড়ি থেকে নেমে চলে যেতে লাগলাম। শুভ্র আমার দুই হাত গাড়ির সাথে চেপে ধরে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে আলতো করে কপালে চুমু দেয়।

—ছাড়ুন তো বাসায় যাবো।

— হুম যাও, আমাকে কল দিয়ো বাসায় গিয়ে। না হলে দেখবা কী অবস্থা করি।

আমি পিছনের দিকে না তাকিয়ে চুপ করে বাসায় ডুকলাম। আম্মু রুমে গিয়ে দেখলাম আম্মু উঠলো নাকি।

নাহ্ সব ঠিক ই আছে, রুমে যেয়ে শাড়িটা চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম।

সকালে আম্মু ডাকতেছে,

—- কী হয়েছে তোর আজকে এতো বেলা করে ঘুমাচ্ছিস।

ঘুম থেকে উঠে দেখলাম অফিসের সময় হয়ে গেছে,

—-আরে আম্মু কিছু হয় নাই।

—উঠে দেখ অনেক বেলা হইছে। অফিসে যাবি না আজকে।

— যাবো মা আর একটু ঘুমাতে দেও।

— আজকে মনে হয় আর যাওয়া হবে না তোর।

ধপ করে উঠে বসলাম ঘড়ির দিকে তাকিয়ে

দ্রুত রেডি হয়ে অফিসে চলে গেলাম, অফিসে গিয়ে তো আমি থ হয়ে দাড়িয়ে আছি। সবাই ম্যাম বলে ডাকতেছে, সবাই শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। কিছু ই বুঝলাম না হনুমান টা কী সবাইকে বলে দিলো নাকি তাহলে আজকে খবর আছে বজ্জাত শুভ্রটার।

— কী রে অহনা বিয়ে করলি আমাদের বললি না কেনো।

— রিনি তুই কোথা থেকে শোনলি, আমি যে বিয়ে করলাম এটা তো আমি বিয়ের আগে জানতাম না তোকে কি বলবো রে।

— কী বলিস এগুলো তুই জানতি না মানে কী।

আরে কিছু না এটা বলে চলে আসলাম কেবিনে,

কেবিনে ডুকে দেখলাম শুভ্র কেবিনে নাই। কোথায় গেলো শুভ্র এমন সময় তো কোথাও যায় না আমাকে বলে ও গেলো না। হঠাৎ কেবিনে দেখলাম শুভ্রর আগমন ঘটলো।

—- এই আপনি কোথায় চলে গেলেন আমাকে না বলে।

—- কোথাও যাই নাই, কালকে রাতে ঘুমাই নাই তো তাই লেইট হয়ে গেলো আমাকে মিস করছিলে নাকি।

চলবে