সি আইডি অফিসারের ভালোবাসা পর্ব-০৭

0
927

গল্প: সি আইডি অফিসারের ভালোবাসা
পর্ব-7
#Raihan
.
.

.

যাতে ওরা বুঝতে না পারে আমরা মাত্র চার জন আসছি।
ওদেরকে বুঝাতে হবে যে আমরা এখানে অনেক জন আছি।
যদি কোনো সময় ওরা টের পায় আমরা এখানে মাত্র চারজন আর ওরা যদি থাকে সংখ্যায় অধিক
তাহলে আমরা এখান থেকে আর নাও ফিরে যেতে পারি।
এবার আল্লাহর নাম নিয়ে যা গিয়ে নিরাপত্তা বুঝে লুকিয়ে যা।
আর ফোনের লোকেশন অন রাখবি।{আমি}
_ওকে।
_ধন্যবাদ
এখন যার যার মত যা{আমি}
ওদেরকে কথাগুলো বলে আমরা সবাই যার যার মত লুকিয়ে গেলাম।
কিন্ত আধঘন্টার মত হয়ে গেলো কিন্তু কোনো কিছুর সাড়া শব্দ পাচ্ছি না।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরে সামন্য একটু শব্দ শুনে আকাশে তাকাতেই আমি পুরো অবাক হয়ে গেলাম।….
_আরে এটা আবার কি এদিকে উড়ে আসছে?
মাসুদ,সবুজ,রেজা আরে কোথায় তরা এদিকে আয়।
দেখে যা এই দিকে এটা কি আসছে।
ফিসফিসিয়ে ওদেরকে ডাক দিলাম।
আর আমার ডাকে ওরা দৌড়ে এদিকে চলে আসে।
হঠাৎ আকাশের দিকে তাকিয়ে ওরাও অবাক হয়ে যায়।
_আরে শাকিল ওটা তো দেখছি এদিকেই আসছে….? {মাসুদ}
_হুমম।
সেটাই তো দেখছি।
কিন্তু এটা কি হতে পারে?
কিছুই তো বুঝা যাচ্ছে না….?{আমি}
_নিশ্চয় এটা ছোট পোলাপাইনের খেলনা বিমান বা হেলিকপ্টার অইতে পারে।
হয়ত রাতে এইটারে ঘরে তোলতে মনে আছিলো না
আর এই সুযোগে খেলনাটা নিজে থেকেই চুরি করে পলায়া আইছে…..?
হায়রে বেচারা পোলাপান,
না জানি সকালে ওইঠা না পায়া খেলনাটার জন্য কত
কান্দন কানবো…?{রেজা}
হঠাৎ রেজার কথা শোনে মাসুদ আর সবুজ ওর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।….?
আর আমার মনে কইতাছে হালারে কাধে তুইল্লা একটা আছাড় মারি….?
একদিকে ভেবে পাচ্ছি না কিভাবে মিশনটা কমপ্লিট করবো।
যত তাড়াতাড়ি কাজটা শেষ করবো তত ই মঙ্গল।
আর তা না করে হালা আছে কোন না কোন পালাপাইনর খেলনার চিন্তা নিয়ে।
_মামো তুমি কি মিশনে আইছো নাকি
শ্বশুর বাড়ি ঘুরতে আইছো….?{সবুজ}
_কেন মিশনেই তো আইছি।
কেন তর কি মনে অইতাছে শ্বশুড় বাড়ি আইছি…? ?
_এই যে হালা দেখ তরে কিন্তু ঘাড়ে তুইল্লা আছাড় দিমো….?
চুপ থাক।
যত্তসব আজাইরা পেচাল…..?{আমি}
_ইহ খালি আমারে সবাই বকা দেস….
আমারে খালি তরা বকা দেস কেন ?
বেশি বকলে এখনি কিন্তু কাইন্দা দিমো ?
কানমো কি…..?{রেজা}
_আচ্ছা বাদ দে দোস্ত।
জানছি তো এমনিতেই রেজা হালাডা খুব ইমোশনাল।
সত্যি সত্যি কাইন্দা দিতে পারে।
পরে আবার মিশনের বারোটা বাজবো।{সবুজ}
_কাইন্দা দিলাম কিন্তু ?{রেজা}
_ভাই! ভাই আমার সোনা ভাই!
একটু আগে রেস্টুরেন্টে সবাই মিলে আমারে বাঁশ খাওয়াইয়া নিয়া আসলি।
এমনিতে চাদনী মেয়েটার থাপ্পরটাও ভুলতে পারতাছি না।
বার বার থাপ্পরটা মনে পড়তাছে।
এহন আমার মেজাজ কিন্তু 420 হয়া আছে।
কখন যে তরে থাপ্পর শুরু করমো নিজেও কিন্তু জানি না।….?{আমি}
আমার কথা শোনে রেজা ভয় পেয়ে চুপ হয়ে যায়।
আর ততক্ষণে আকাশের ঐ জিনিসটাও মাটিতে নেমে আসে।
_শাকিল দেখে আসবো জিনিসটা কি?{মাসুদ}
_আরে তরা পাগল নাকি?
এখনি ঐটার সামনে গেলে বিপদ হতে পারে।
আগে ভালোভাবে দেখ জিনিসটা কি।
আর তার পরই না হয় দেখা যাবে।
_হুম।
ঠিক ই বলছিস।
আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আমরা জিনিসটার কাছে গেলাম।
গিয়ে দেখি ছোট্ট খানিকটা দেখতে ফ্যানের মত একটা যন্ত্র।
এর সাথে একটা পাখা লাগানো আছে।
যার সাহায্যে যন্ত্রটা উড়ে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে পারে।
কিন্তু জিনিসটা দেখার সাথে সাথেই আমি অবাক হয়ে যায়।
_আরে এটা আবার এখানে এলো কিভাবে…?{আমি}
_মানে?
এটা আবার কি জিনিস?
আমি তো এটা আগে কখনো দেখি নি।
তুই এই জিনিসটা চিনিস নাকি?{মাসুদ}
_হুম।
অবশ্যয় চিনি।
এটার নাম হলো ড্রোন।
_হঠাৎ আমার মুখে ড্রোনের কথা শোনে সবাই অবাক হয়ে যায়।
_আরে ড্রোন!
তাহলে এটা আবার কেমন ড্রোন?
আগে তো কখনো দেখি নি।
তাছাড়া আমি তো উড়োজাহাজ সাইজের পাইলট বিহীন ড্রৌনের কথা শোনেছি এমন কি দেখেছি।
যা বোমা মারার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
কিন্তু এটা তো দেখছি ছোট্ট একটা যন্ত্র।
এর সাথে তো আমার দেখা ড্রোনের চিত্র মিলছে না।{মাসুদ}
_হুম মিলবেই না।
কারণ এটা বাংলাদেশে ব্যবহার হয় না।
কারণ বাংলাদেশে এর জন্য আলাদা নেটওয়ার্ক নেই।{আমি}
_এটা কি বলিস।
বাংলাদেশে ব্যবহার হয় না তো আমরা কি এখন বিদেশে দাড়িয়ে ড্রোনটা দেখছি নাকি?…?{সবুজ}
_নিশ্চয় শাকিল চাদনীর থাপ্পরে পাগলা অয়া গেছে রে।
যার লাইগ্গা ভার্সিটির সামনে দাড়ায়া বিদেশ চলে গেছে…?{রেজা}
_ঐ তুই থামবি নাকি লাত্তি দিয়া এহান থাইক্কা বাইর করমো…..?{আমি}
_আমারে আবার বকা দিতাছছ কিন্তু হুম…?
এহন চিৎকার লাগামো।
আর কিন্তু থামমো না….?{রেজা}
_ওকে রাগ করিছ না দোস্ত ঐ ছাগলে যা মনে আসে তাই বলুক।
আগে বল এই ড্রোনটা কি তাহলে বাংলাদেশে ব্যবহারের জন্য না?{সবুজ}
_হুম।
এই ড্রোনটি হলো ক্রাইম কাজ সম্পন্ন করার জন্য অপরাধীদের তৈরী।
আর এর সাহায্যে অপরাধীরা তাদের নিজেদের অপরাধ রাজ্যে বসে এর সাহায্যে অপরাধ মুলক কাজ করছে।
যার কারণে তারা বাইরে বেরিয়ে না এসেও এটা দিয়ে বাইরের কাজটি সম্পন্ন করছে।
এটার মধ্যে কোন জায়গায় এ যন্ত্রটি যাবে
আবার ঠিক কতক্ষণের মধ্যে পুণরায় ফিরে আসবে সব লোকেশন দেওয়া থাকে।
এই যন্ত্রটি অত্যান্ত ছোট হওয়ায় সহজে মানুষের চোখে পড়ে না।
যার কারণে ধরা খাওয়ার সম্ভাবণা খুব ই কম।
আর এর জন্যই অপরাধ রাজ্যটা হয়ে ওঠছে আস্তে আস্ত অনেক শক্তিশালী।
_মানে?
এই ছোট্ট জিনিসটা দিয়ে আবার কিই বা কাজ করা যায়?
যার জন্য কি না অপরাধ রাজ্যটাই শক্তিশালি হয়ে ওঠছে….??{রেজা}
_অসাধারণ একটা প্রশ্ন করছছ!
তাহলে শোন!
এটা একটা ছোট্ট যন্ত্র।
কিন্তু কাজটা নিত্তান্তই বড়।
কথায় আছে না ছোট মরিচের ঝাল বেশি?
ঠিক এটাও তাই।
কারণ এর সাহায্যে খবর বার্তা পাঠানো হয়।
আর যা অপরাধ মুলক কাজ করার জন্য খুবই দরকার।{আমি}
কিন্তু মোবাইল বা অন্যান্য যোগাযোগের যন্ত্র থাকতে অপরাধীরা এই পথ বেছে নিয়েছে কেন?
কেন ই বা মোবাইল ব্যবহার না করে এই ড্রোন ব্যবহার করে…?
এটা অপরাধীদের কোনো এক্সট্রা চালাকি নইতো…?{মাসুদ}
_exgatly.
ঠিক ধরতে পারছিস।।
হুম এটাও ওদের একটা চালাকি।
কারণ সরকার কর্তৃক যেকোনো সিম চালুর আগে বা কিনার আগে এটাকে অবশ্য ই রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হয়।
আর এর জন্য দরকার রেজিষ্ট্রেশন কারীর ছবি এবং পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
আর সেই ছবি আর পরিচয় পত্রের ফটোকপি জমা থাকে সিম কোম্পানিতে।
আর সিম রেজিষ্টেশন করা এটা সরকারের একটা দারুণ বুদ্ধির মত্তা পরিচয়।
কারণ রেজিস্টেশন সিমের সব তথ্য সিম কোম্পানিতে জমা থাকে এমনি এর ব্যবহারকারীর কল/মেসেজ ইত্যাদি ও রেকর্ড করা থাকে।
যার কারণে অপরাধীরা মোবাইলে এ কাজগুলো করে না।
আর কোনো অপরাধীকে যদি গ্রেপ্তার করা হয়
তাহলে শুধু তার মোবাইলটা নিয়ে নিতে পারলেই আস্তে আস্তে সব অপরাধীদেরকে শণাক্ত করা যায়।
আর এই কাজে বাংলাদেশ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্তরিকভাবে রেকর্ডকৃত তথ্য দিয়ে সহায়তা করে সিম কোম্পানী।
আর যার কারণে অপরাধীরা কোনো প্রকার মোবাইলের ঝামেলায় না গিয়ে এই ড্রোনের সাহায্যে খুব সহজেই অপরাধ করে বেড়াচ্ছে।
_তাহলে কি অপরাধীরা কখনোই মোবাইল ব্যবহার করে না…?{মাসুদ}
_আরে মোবাইল ব্যবহার করবে না কেন?
সিম কোম্পানীরা একটা ফোনের লোকেশন কোথায় এমন কি কৌন টাওয়ারের কাছে ফোনটা আছে সেটাই বলতে পারে।
আর তাই অপরাধীরা রাস্তা বা পাবলিক প্লেসে থাকা সেলফোন দিয়ে একজন আরেক জনের সাথে যোগাযোগ করে থাকে।
যার জন্য তাদেরকে সহজে শণাক্ত করা যায় না।

যেমন কোনো বড় ধরণের অপরাধী যখন পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হয়।
তখন সেই অপরাধীর কাছে কোনো যোগাযোগের যন্ত্র এমন কি পড়ার জন্য তিনটে কাপড় ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হয় না।
আর ফোন চালাতে দেওয়া তো অসম্ভব।
আর তাই জেলের ভেতরের অপরাধীর সাথে যোগাযোগ রাখতে এই যন্ত্র অত্যান্ত গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
_ সেটা কিভাবে?{রেজা}

_Very simple.
কারণ যন্ত্রটি ছোট হলেও শক্তি কিন্তু অনেক বেশি।
2 থেকে 3টা মোবাইল ফোন এমন কি অনেক চিঠি পত্র অনায়েসেই বহন করতে পারে।
আর এটা জেলের ভেতরে বন্দি থাকা অপরাধীদের সাথে বাইরের অপরাধীদের তথ্য সরবরাহ করে থাকে।
ঠিক তেমনি এক সময় ফ্রান্সে এই ক্রাইমের ব্যপক প্রসার ঘটে।
হঠাৎ করে এই ড্রোনটি আবিষ্কৃত হওয়ায় প্রথম দিকে অপরাধীরা এটা প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করতে থাকে।
এমন কি সেখানে জেলখানা গুলোতেও অপরাধীরা এক জন আরেক জনের সাথে অনায়েসেই যোগাযোগ করতে থাকে
কিন্তু সে দেশের ডিপার্টমেন্ট কিছুতেই বুঝতে পারছিলো না যে অপরাধীরা কিভাবে জেলে থেকে বাইরের খবর জানতে পারছে।
হঠাৎ একদিন ফ্রান্স পুলিশের এক কনস্টেবল একজন জেল বন্দিকে খাবার দিতে এসে দেখে লোকটির সামনে একটা ড্রোন আর সেই ড্রোন থেকে লোকটি মোবাইল বের করছে।
আর সাথে সাথেই কণস্টেবলটি জেলারকে জানাই
আর জেলার তৎক্ষণাক হেড কোয়ার্টারকে জানাই।
আর তখন থেকেই এই ড্রোন ব্যবহারটি সাইবার অপরাধের মত অপরাধ হিসাবে ধরা হয়।{আমি}
_তাহলে কি এই ড্রোনটার মধ্যেও অপরাধীদের কোনো তথ্য থাকতে পারে?

_অবশ্যয় থাকতে পারে।
এই ড্রোনটির জন্য যেহেতু এক্সট্রা নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে নেই।
তা এটা যেখান থেকে পাঠানো হয় এবং যেখানে পাঠানো হয় দু জায়গায় দুটো এ্যান্টেনা থাকে।
আর যেহেতু এই ভার্সিটিতে কয়েকদিন ধরে হত্যাকান্ড গঠতে চলেছে
তাহলে এই ড্রোনটাতে অবশ্যয় কোনো তথ্য থাকতে পারে।
মাসুদ প্রথমে ড্রোনের ব্যাটারীর লাইনটা কেটে দে।
আর ড্রোনটাতে দেখতো কিছু আছে নাকি? {আমি}
_আচ্ছা দেখতেছি।{মাসুদ}
_ঐ মাসুইদ্দা ব্যাটারীটা আমারে দিয়া আলা একটা লাইট বানামো….?
রাইতে একলা মুতপার উঠলে আমি ডরাই… ?{রেজা}
হঠাৎ রেজার কথা শোনে আমরা সবাই ফিক করে হেসে দেই।
ঠিক তখনি ভার্সিটির গেইট খোলার আওয়াজ আসে।
আর সাথে সাথেই আমরা…….
#to_be_continue
.
.
.
.